মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে কটাক্ষের শিকার, ইয়াশের পাশে দাঁড়ালেন তারকারা

ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান। সিনেমা বা নাটক সবখানেই মুগ্ধ করেছেন দর্শককে। সম্প্রতি অভিনেতার একটি পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমির দিন কপালে সিঁদুর তিলক কেটে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
পোস্টের ক্যাপশনে ইয়াশ লেখেন, ‘শুভ বিজয়া’।

ইয়াশের ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এরপর নেটিজেনদের একাংশ পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অভিনেতার ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিদ্রুপ ভাষায় নানা মন্তব্যে করেন। কটাক্ষ করেন ধর্ম নিয়ে।
যা উঠে আসে আলোচনায়। এসব তির্যক মন্তব্য মোটেও ভালোভাবে নেননি বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। তারা জানিয়েছেন প্রতিবাদ।

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কারো পোস্টে বাজে মন্তব্য করা বা ভুয়া প্রোফাইল থেকে স্ল্যাং ব্যবহার করা সাহসের পরিচয় নয়।
বরং তা আপনার নীচ মানসিকতাকেই প্রকাশ করে। এত ঘৃণা নিয়ে মানুষ কিভাবে রাতের ঘুম হারাম করে না, সেটাই আশ্চর্য!’

অভিনেতা আরশ খান লিখেছেন, ‘ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের একজন। তার পরিচয় ধর্ম বা অঞ্চল দিয়ে নয়, বরং তার শিল্পীসত্তা দিয়েই তিনি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ধর্ম যার যার, দেশ সবার।’

এ ছাড়া অভিনেতা রওনক হাসান, সুনেরাহ বিনতে কামাল এবং নির্মাতা শিহাব শাহীনসহ অনেকেই ইয়াশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ভক্তরাও অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘কমেন্টগুলো পড়ে আমি সত্যিই স্তব্ধ। মানুষকে ধর্ম দিয়ে নয়, কর্ম আর মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এসব মন্তব্যে দয়া করে কষ্ট পাবেন না ভাই। আমরা চাই, মানুষকে কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করা হোক, ধর্ম দিয়ে নয়।’

দল হিসেবে আমরা শেষ দুই ম্যাচে দারুণ খেলেছি : জাকের আলী

শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দারুণ লড়াই শেষে দুই উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল টাইগাররা।

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বারবার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও নুরুল হাসান সোহানের অপরাজিত ২১ বলে ৩১ রানের ইনিংস এবং শরিফুল ইসলামের শেষ মুহূর্তের ঝলক জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২ রান, শরিফুল প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জাকের আলী বোলারদের কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, ‘ভালো লাগছে। দল হিসেবে আমরা শেষ দুই ম্যাচে দারুণ খেলেছি এবং আজকের ম্যাচে আরো বেশি পরিপূর্ণ ছিলাম। বোলাররা শুরুটা ভালো করে দিয়েছে, উইকেট আগের দিনের চেয়ে ভালো ছিল, আর আমরা দারুণ চরিত্র দেখিয়েছি।’

এর আগে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান তোলে।
শরিফুল ইসলাম বল হাতে ছিলেন অসাধারণ, ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

বাংলাদেশের রান তাড়ায় শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। ২৪ রানের মধ্যেই তিন ব্যাটার ফিরলে চাপে পড়ে যায় দল। তবে শামীম হোসেন (৩৩) ও জাকের আলী (৩২) জুটিতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে ওমরজাই ও রশিদের আঘাতে আবারও ধস নামে, তবে সোহান-শরিফুল মিলে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের করে নেন।

এই জয়ের ফলে সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় নামিয়ে আনল টাইগাররা।

গাজা পরিকল্পনায় হামাসের ইতিবাচক সাড়া, কিন্তু রয়ে গেছে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রতি হামাস তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলটি গাজার প্রশাসন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট বা বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করতে এবং সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি তাদের নিরস্ত্রীকরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কিছু জানায়নি।

তারা বলেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ‘অবিলম্বে শান্তি আলোচনায় প্রবেশ’ করতে ইচ্ছুক।
হামাসের বিবৃতির পর এক ভিডিও ভাষণে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বলেছেন, অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটেছে। আবার সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত কথাটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন— হামাস ‘স্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত’। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে একটি পোস্টে ইসরায়েলকে ‘অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে গাজার চিকিৎসা সূত্র অনুসারে, ট্রাম্প হামলা বন্ধ করতে বললেও ইসরায়েল গাজায় তাদের মারাত্মক বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শুক্রবার গাজা উপত্যকাজুড়ে কমপক্ষে ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এই বিবৃতি এমন একসময় এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামাসকে রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রস্তাবে সম্মতি না জানালে ‘গাজায় নরক নেমে আসবে’ বলে শেষ আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তাই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন, তা অনুমান করাই যায়।
বিশেষ করে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেছেন, যা সংশয় আরো বাড়িয়েছে।

গাজায় বোমাবর্ষণ করা নিয়ে বিবৃতির শেষে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হামাস ভবিষ্যতে গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। এই বিষয়টি ইসরায়েলের কাছে অপছন্দনীয় হতে পারে। তবুও হামাসের এই বিবৃতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘আজ একটি বড় দিন’।
এ ছাড়া তিনি ধন্যবাদ জানান একাধিক দেশকে, যারা এই পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে শান্তি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর আগে এখনো বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট নিজেও স্বীকার করেছেন, এখনো কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি।

ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখা যাক। আমাদের এখন সব কিছু লিখিত এবং নিশ্চিত করতে হবে।’ এদিকে হামাস অবশিষ্ট জিম্মি মুক্তি দিতে সম্মত হলেও, তা আলোচনার মাধ্যমে এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। তবে এ খবর ইসরায়েলি জিম্মি পরিবারের জন্য আশা জাগাচ্ছে, যারা অনেক দিন ধরে এ রকম একটি খবরের অপেক্ষায় ছিলেন।

মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় হামাস তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে উল্লিখিত বিনিময় কাঠামো অনুযায়ী জীবিত এবং মৃত সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে রাজি, যদি মাঠপর্যায়ের বাস্তব শর্তগুলো পূরণ হয়।’

ট্রাম্প এই সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসে যেভাবে এই বিনিময়কাঠামো ব্যাখ্যা করেন, তাতে বলা হয়েছে তৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসের হাতে বন্দি থাকা জীবিত সব ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি। এ ছাড়া হামাস মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইসরায়েল শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, হামাস এখনো গাজায় ৪৮ জন জিম্মিকে আটক করে রেখেছে, যাদের মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত আছেন।

হামাস মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, গাজার শাসনভার নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই দীর্ঘ ২০ দফা পরিকল্পনার আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো অনুপস্থিত রয়ে গেছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় অনুপস্থিত বিষয়টি হলো— হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করার দাবি।

এখন ইসরায়েলি সরকার হামাসের বিবৃতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে, যেন প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা যায়। তাদের সিদ্ধান্ত নেবে—এটি প্রকৃত সদিচ্ছার প্রকাশ কি না, নাকি শুধু সময়ক্ষেপণ করে পুনরায় দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার দরজা খোলার কৌশল।

সূত্র : বিবিসি

শোয়েব মালিকের তৃতীয় সংসারও ভাঙনের গুঞ্জন!

ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার সাবেক স্বামী ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শোয়েব মালিক ফের শিরোনামে। পাকিস্তানি গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন, মালিকের তৃতীয় সংসারও ভাঙনের পথে। তার স্ত্রী, অভিনেত্রী সানা জাবেদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না বলে দাবি করছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে বিয়ে করেন মালিক ও সানা।
কিন্তু মাত্র দেড় বছরের মাথায় তাদের সংসারে নাকি তৈরি হয়েছে বড়সড় টানাপড়েন। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ গুঞ্জন আরো বেড়েছে। সেখানে দেখা যায়, এক অনুষ্ঠানে ভক্তদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন শোয়েব মালিক, আর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা সানা জাবেদ তাকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলছেন। বিষয়টি দেখেই অনেকে মন্তব্য করেছেন, তাদের সম্পর্কে মারাত্মক অশান্তি চলছে।
আবার কেউ কেউ বলছেন— এটি সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ারই অংশ। তবে এখনো এ নিয়ে মালিক বা সানা জাবেদ কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি।

শোয়েব মালিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল আয়েশা সিদ্দিকীর সঙ্গে। সেই সম্পর্ক টিকেছিল আট বছর।
এরপর ২০১০ সালে মালিক ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে, ইজহান মির্জা মালিক। তবে দীর্ঘ দিন গুঞ্জনের পর ২০২৪ সালে বিচ্ছেদ হয় এ তারকা দম্পতির। সানিয়ার পরিবার সেই সময় জানিয়েছিল, ‘সানিয়া সবসময় ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে চেয়েছেন। তিনি শোয়েবের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।

৪৩ বছর বয়সী শোয়েব মালিক পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে। জাতীয় দলের হয়ে মালিক খেলেছেন ৩৫ টেস্ট, ২৮৭ ওয়ানডে ও ১২৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ব্যাট হাতে করেছেন ১,৮৯৮ টেস্ট রান, ৭,৫৩৪ ওয়ানডে রান ও ২,৪৩৫ টি-টোয়েন্টি রান। পাশাপাশি বোলিংয়েও রেখেছেন অবদান— টেস্টে ৩২, ওয়ানডেতে ১৫৮ ও টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মালিকের শেষ ম্যাচ ছিল ২০২১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সর্বশেষ ২০২৫ পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলেছেন তিনি।

গাজায় সেনাদের অভিযান সীমিত করার নির্দেশ ইসরায়েলের

ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে গাজা দখলের অভিযান সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্মি রেডিও। আর্মি রেডিও ওইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অর্থায়নপ্রাপ্ত একটি রেডিও নেটওয়ার্ক।

আর্মি রেডিওর সামরিক সংবাদদাতা দোরন কাদোশ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে গাজায় কার্যক্রম ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে’ এবং শুধু ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

তিনি লিখেছেন, এর বাস্তব অর্থ হলো—গাজা সিটি দখলের অভিযান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল এয়াল জামির শুক্রবার রাতে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনাসভা করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে সেনাপ্রধান জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা ফাঁকফোকরে ঠাসা : মিসর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় ‘অসংখ্য ফাঁকফোকর’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব, তবে হামাস রাজি না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।

প্যারিসে ফরাসি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনে এক আলোচনায় মিসরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি বলেন, ‘আমরা কাতারের ভাইদের সঙ্গে এবং তুরস্কের সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করছি, যেন হামাসকে এই পরিকল্পনায় ইতিবাচক সাড়া দিতে রাজি করানো যায়।

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বহু ফাঁক রয়েছে, যা পূরণ করা দরকার।’ গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সময়ে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেই অংশে আরো আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন আবদেলাত্তি।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছি এবং হামাসের প্রতিক্রিয়া বুঝতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তবে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হামাস যদি এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠবে এবং উত্তেজনা আরো বাড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই মিসর গাজার জনগণের বাস্তুচ্যুতি মেনে নেবে না।

অন্যদিকে মিসরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবৌলি জানান, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে, যা সব সময় মিসরের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এই নীতিগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের কোনো বাস্তুচ্যুতি নয়, গাজা বা পশ্চিম তীর দখল নয়, যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা, দুই পক্ষের বন্দিদের মুক্তি এবং গাজা পুনর্গঠনের মতো বিষয়ও রয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস গাজার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, পরবর্তী পুনর্গঠন কর্মসূচি এবং গাজার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

হামাসের জবাবের পর ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুত ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার জবাবে হামাসের প্রতিক্রিয়ার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, সব জিম্মির তাৎক্ষণিক মুক্তির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ইসরায়েল এখন প্রস্তুত।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে প্রেসিডেন্ট ও তার দলের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ করব।

তবে বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই আহ্বানের কোনো উল্লেখ ছিল না, যেখানে তিনি ইসরায়েলকে গাজার ওপর প্রাণঘাতী বোমাবর্ষণ ‘অবিলম্বে বন্ধ’ করার কথা বলেছিলেন। ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলি বন্দিদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ জরুরি।

এর আগে গাজা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার কিছু শর্তে সম্মত হতে রাজি হয়েছে হামাস। এর মধ্যে বন্দিমুক্তির বিষয়টিও রয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণের মতো জটিল বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এ নিয়ে আরো আলোচনা চালানো হবে।

সূত্র : আলজাজিরা

‘হামাসের অধিকাংশ যোদ্ধা সামরিক ফাঁদে, শুধু নির্দেশের অপেক্ষা’

হামাসকে গাজা শান্তিচুক্তি গ্রহণ করতে শুক্রবার আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন সময় রবিবার সন্ধ্যা ৬টার (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৪টা) মধ্যে শান্তিচুক্তি গ্রহণ না করলে হামাসের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুমকি দেন তিনি।

ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যদি এই শেষ সুযোগের সমঝোতা সম্পন্ন না হয়, তাহলে হামাসের বিরুদ্ধে এমন নরক নামবে, যা আগে কখনো কেউ দেখেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্দোষ ফিলিস্তিনিদের’ একটি অনির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, কারণ সেখানে হামাসের অবশিষ্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘হামাসের অধিকাংশ যোদ্ধা বর্তমানে চারদিক থেকে ঘেরাও ও সামরিকভাবে ফাঁদে পড়েছে, শুধু আমার ‘গো’ নির্দেশের অপেক্ষায়। এক মুহূর্তেই তাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে। যারা বাকি আছে, তাদেরও আমরা চিনি—তাদের শিকার করা হবে ও হত্যা করা হবে।’

তিনি দাবি করেন, ‘আমি চাই, নির্দোষ সব ফিলিস্তিনি অবিলম্বে সম্ভাব্য ভয়াবহ মৃত্যুর জায়গা ছেড়ে গাজার নিরাপদ অংশে চলে যাক।
যারা সাহায্য করার জন্য অপেক্ষা করছে, তারা সবাইকে সঠিকভাবে যত্ন নেবে। তবে হামাসের জন্য এখনো একটি শেষ সুযোগ রয়ে গেছে।’

প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলার পর ট্রাম্পের এই শান্তিচুক্তি প্রস্তাব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমর্থন করলেও, হামাস এখনো তা গ্রহণ করেনি।

শান্তিচুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের পর একটি যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং ট্রাম্প।

তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার ‘স্থানত্যাগের নির্দেশ’ সুনির্দিষ্টভাবে কী বোঝাচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়।

বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্রে স্থল ও আকাশ হামলা চালাচ্ছে, সেখান থেকে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জাতিসংঘ শুক্রবার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে গাজায় ‘কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়’ এবং ইসরায়েলের নির্ধারিত দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলো আসলে ‘মৃত্যুর স্থান’ হয়ে উঠেছে।

বক্স অফিসে জমেনি ‘ওয়ার ২’, প্রথমবার মুখ খুললেন হৃত্বিক

চলতি বছরের শুরুতে যশ রাজ ফিল্মসের ইউনিভার্সের সিনেমা ‘ওয়ার ২’ নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন হৃত্বিক রোশন। ছবিটি ঘিরে দর্শক আগ্রহ তুঙ্গে থাকলেও মুক্তির পর সেভাবে দর্শকের মন কাড়তে পারেনি। আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশি হয়েছে। বক্স অফিস আয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।

সিনেমাটি মুক্তির পর তা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি এর অভিনেতা হৃত্বিক রোশনকে। অবশেষে ছবিটি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে ছবির শুটিংয়ের বেশ কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে একটি পোস্ট করেন হৃত্বিক রোশন। অভিনেতা লিখেছেন, ‘কবির চরিত্রে অভিনয় করাটা ভীষণই আনন্দের অভিজ্ঞতা ছিল।
চরিত্রটাকে খুব ভালো করে চিনতে পেরেছি। অবশেষে এমন একটা সিনেমা করতে পারলাম যা অন্য অনেক সিনেমার মতো। সহজভাবে অভিনয় করতে পেরেছি। অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করো।
নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করো এবং বাড়ি ফিরে এসো। ঠিক সেটাই হয়েছিল।’

এরপর পরিচালকের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘পরিচালকও আমার খুব ভালো যত্ন নিয়েছিলেন। সেটে তিনি একেবারে অন্যরকম। সবকিছুই খুব নিখুঁত মনে হয়েছে।
যেন এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। বার বার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য কোনো চিন্তা নেই। শুধু আমার নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। অবশ্যই আমিও সেটাই চেষ্টা করেছি।’

যদিও বক্স অফিসে ছবির আয় নিয়ে কোনো কথা বলেননি হৃত্বিক। তবে তার পোস্ট বলছে বিষয়টিকে অত্যন্ত সহজভাবেই নিয়েছেন অভিনেতা। সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি ছবিই যন্ত্রণা, ট্রমা এবং সত্যের জন্য অনুসন্ধান করলে হবে না। আপনারাও শান্ত থাকুন।’

উল্লেখ্য, অয়ন মুখার্জি পরিচালিত ‘ওয়ার ২’ সিনেমাতে হৃত্বিক রোশন ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন জুনিয়র এনটিআর, কিয়ারা আদভানি প্রমুখ।

‘ব্যাডস অব বলিউড’-এর সাফল্য নিয়ে মুখ খুললেন আরিয়ান

নিজের প্রথম সিরিজ দিয়েই বিশ্বব্যাপী রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শাহরুখপুত্র আরিয়ান খান। মুক্তির পর অন্তর্জালজুড়ে নেটিজেনরা তার নির্মিত ‘ব্যাডস অব বলিউড’ নিয়ে মত্ত।

মুক্তির পর সিরিজটি নিয়ে তুমুল আলোচনা হলেও চুপ ছিলেন আরিয়ান। এবার নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সিরিজটি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরিয়ান খান বলেন, “‘যখনই জিনিসগুলো কঠিন হয়ে যেত, আমি জয়রাজের (সিরিজের একটি চরিত্র) কণ্ঠ শোনার মতো মনে করতাম, ‘হারতে আর হার মেনে নিতে অনেক ফারাক আছে’। প্রথমে মনে হয়েছিল এটি অনুপ্রেরণা, কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম এটি কেবল ঘুমের অভাব এবং ক্লান্তি। তবু সেই দর্শনই আমাকে চালিয়ে যেতে সাহায্য করত, আর এখন দেখছি আমার কাজ মানুষকে আনন্দ দিয়েছে, এটি আমার জন্য আবেগপ্রবণ মুহূর্ত।
ঠিক এ কারণেই গল্প বলার প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।”

মুক্তির পর থেকেই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী দর্শকদের ভালোবাসা অসাধারণ ছিল।
সিরিজটি বিভিন্ন দেশে ট্রেন্ডিংয়ে আছে, রিলস, মিম তৈরি হয়েছে। ভক্তরা নানা রকম ফ্যান থিওরি তৈরি করেছেন। যা আমার গল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন দর্শকদের হয়ে গেছে। নেটফ্লিক্সের কারণে গল্পটি বিশ্বজুড়ে ঘরে ঘরে পৌঁছেছে।’

গৌরী খান প্রযোজিত ‘ব্যাডস অব বলিউড’ সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, মোনা সিং, মনোজ পাহওয়া, লক্ষ, অন্যা সিং, শাহের বম্বা, গৌতমী কাপুর, রাঘব জুয়ালসহ অনেকে।
বিশেষ ক্যামিও চরিত্রে দেখা গেছে শাহরুখ খান, আমির খান, সালমান খান, এসএস রাজামৌলী, ইমরান হাশমি, আরশাদ ওয়ারসি প্রমুখকে।