মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

আবরার ফাহাদের শাহাদাত দিবসে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস’ পালনের আহ্বান ডাকসুর

জাতির আত্মমর্যাদা, স্বাধীন চিন্তা ও প্রতিরোধের প্রতীক শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাত দিবস উপলক্ষে ৭ অক্টোবরকে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আবরার ফাহাদের শাহাদাত শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতীক। আমরা সবাই মিলে তার আত্মত্যাগকে ধারণ করে আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলব, যেন প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে ওঠে।

তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করতে এবং তরুণদের মধ্যে শপথ জাগ্রত করার আহ্বান জানান যে, কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য, প্রভাব বা অন্যায়ের কাছে আমরা কখনো মাথানত করব না।

শহীদ আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও প্রেরণার বাতিঘর উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানীকে কুপিয়ে হত্যার মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে ছাত্র খুন পুনরায় শুরু করে৷ দীর্ঘ নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিবাদের পর শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাত গোটা জাতিকে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।

বিরোধী মতাদর্শ লালন করলেই হত্যা করার যে বৈধতা আওয়ামী লীগ উৎপাদন করেছিল, তা ক্রমে প্রতিরোধের মুখে পড়ে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একই সঙ্গে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধিপত্যবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে চলমান এ লড়াই এক নতুন মাত্রা পায়। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী এই লড়াইয়ের পূর্ণতা আসে ২০২৪ সালে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবে; শহীদ আবু সাঈদ, শান্ত, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আলী রায়হান, তাহির, রিয়া গোপ ও নাসিমাদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে।

প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন সাংবাদিকরা : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নেওয়ার বিধান কোনো বাধা নয়, এটি কেবল আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের নিয়ত পরিষ্কার। এটা শুধু আরপিও’র লিগ্যাল রিকোয়্যারমেন্ট। আইনটাকে অনার করার জন্য করা হয়েছে। ভুল বুঝবেন না—আমরা মিডিয়াকে অ্যাক্সেস দিতে চাই।”

সোমবার নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের এসব কথা বলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংলাপে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সিইসি সকলের আলোচনা শেষে বলেন, অনেক মূল্যবান পরামর্শ এসেছে। আমরা যতটুকু পারি আপনাদের পরামর্শ বিবেচনা করব। আপনাদেরকে আমরা সত্যিকারের পার্টনার হিসেবে পেতে চাই। জনগণের কাছে আমাদের বার্তা একমাত্র মিডিয়াই পৌঁছাবে। আপনারা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা মিডিয়াকে অ্যাক্সেস দিতে চাই। আমাদের নিয়তের মধ্যে কোনো গলদ নেই। নিয়ত একদম পরিষ্কার। মিডিয়ার জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা।

তিনি বলেন, “বিশ্বাস করেন আমাদের মিডিয়ার এন্ট্রি রেস্ট্রিকশন করার কোনো উদ্দেশ্য কাজ করে নাই। একটা লিগ্যাল রিকোয়্যারমেন্ট আছে। আমাকে একটা দেশের অ্যাম্বাসেডর চিঠি লিখেছিলেন যে, অবজারভারের (পর্যবেক্ষক) জন্য কেন আবার প্রিজাইডিং অফিসারের পারমিশন লাগবে। একই কথা আপনারা বলছেন। ইট ইজ আ লিগ্যাল রিকোয়্যারমেন্ট অফ আরপিও। কারণ ওইদিনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার সর্বেসর্বা। আমার নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কিন্তু উনার কাছে অর্পিত। প্রিজাইডিং অফিসারই ডিসিশন মেকার। দেখেন ভোটের রুমটা অনেক ছোট। এখানে প্রিজাইডিং অফিসার, ল’ এনফোর্সমেন্টের লোক থাকে, পোলিং অফিসার, এজেন্ট থাকে, অবজারভার থাকে, সাংবাদিকরা থাকে। এখন সবাই যখন একটা রুমে লাইভ করার জন্য ঢুকে পড়ে তাহলে স্পেসের একটা সমস্যা হতে পারে। এই ম্যানেজমেন্টটাই প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ন্যাস্ত আছে। তাই এটা কোনো পারমিশন না, এটাকে ইনফর্ম করার মতো মনে করেন।”

ডিবিসি টেলিভিশনের সম্পাদক লোটন একরাম বলেন, “সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভাবলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অনিয়ম হলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কমিশনকে গুরুত্ব দিতে হবে, নইলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।” তিনি বলেন, প্রশাসনের দায়সারা মনোভাব বন্ধ করে তফসিল ঘোষণার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এটিএন নিউজের শহিদুল আজম বলেন, “অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, বিলম্বিত তথ্য কাম্য নয়। উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।” তিনি যোগ করেন, নিবন্ধিত গণমাধ্যম কঠোর নিয়ম মেনে চলে, কিন্তু ইউটিউব বা ফেসবুকে ছড়ানো খবর আটকানো কঠিন—এ কারণে দ্রুত তথ্য সরবরাহ জরুরি।

স্টার নিউজের ওয়ালিউর রহমান মিরাজ বলেন, “২০০৮ সালের পর থেকে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান ইসি এখনো আনটেস্টেড—তাদের ওপর জনআস্থা কতটা আছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।” তিনি বলেন, প্রশাসন ও পুলিশের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হলে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির মোস্তফা আকমল বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করবে। ইসিকে এখন থেকেই এআই ও গুজব মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে।”

গ্লোবাল টিভির ফেরদৌস মামুন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এখনো আস্থা নেই। দ্রুত ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ না হলে গুজব বাড়বে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা, স্টার নিউজের হেড অফ নিউজ ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, মাছরাঙ্গা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি নিয়াজ মোর্শেদ, আনন্দ টিভির নিউজ ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন, এটিএন বাংলার চিফ রিপোর্টার একরামুল হক সায়েম সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আইসেস্কো মহাপরিচালকের বৈঠকপ্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আইসেস্কো মহাপরিচালকের বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসেস্কো) মহাপরিচালক ড. সালিম এম. আল মালিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকে ড. আল মালিক বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস ও তাঁর বিশ্বব্যাপী প্রভাববিস্তারকারী উদ্যোগগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন চিকিৎসাশাস্ত্রের ছাত্র, স্নাতক শেষের পথে, তখনই প্রথম আপনার ও গ্রামীণ ব্যাংকের কথা শুনেছিলাম। আপনার থ্রি জিরো তত্ত্ব তখন ব্যাংকিং থেকে খেলাধুলা, এমনকি পরিবেশ বৈঠক পর্যন্ত সর্বত্র আলোচিত ছিল।
সেটি ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে আইসেস্কো মহাপরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পর আমি বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছি এবং সংস্কার কর্মসূচি সম্পর্কে জেনেছি। আপনাদের উদ্যোগের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

ড. আল মালিক বৈঠকে প্রফেসর ইউনূসের ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—আইসেস্কোর শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও পরিবেশুবিষয়ক কৌশলগত পরিকল্পনায় যুক্ত করার অনুমতি চান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার তত্ত্বটিকে আমাদের মূল কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণের অনুমতি চাইতে এসেছি। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মিশনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

আইসেস্কোর চলমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোকে খাদ্য অপচয় ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহায়তা করছে। ‘ব্রুনেই, আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে আমাদের সহায়তায় উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে সামাজিক ব্যবসা মডেলে রূপান্তর করেছে,’ বলেন তিনি।

প্রতিক্রিয়ায় প্রফেসর ইউনূস আইসেস্কোর শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়নমূলক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে তরুণদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর সি. আর. আবরার উপস্থিত ছিলেন।

হংকংকে হারাতে সমর্থকদের সমর্থন চান হামজা

ঘরের মাঠ জাতীয় স্টেডিয়ামে হংকং, চায়নাকে আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ। আগামী ৯ অক্টোবর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামতেই আজ দেশে ফিরেছেন হামজা চৌধুরী।

ইংল্যান্ড থেকে আজ সকালে ঢাকা বিমানবন্দরে নামেন হামজা। নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর জয়ের ব্যাপারেও আশা ব্যক্ত করেছেন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার।
তিনি বলেছেন, ‘নিরাপদেই এসেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব। ৯ অক্টোবর জাতীয় স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিপক্ষে আমরা খেলব। ইনশাআল্লাহ, আপনারা আমাদের সমর্থন দেবেন।

জয়ের ব্যাপারে গতকাল আশার কথা শুনিয়েছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও। হংকং চায়নার বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পেতে হামজার কাছে দুই ভূমিকাতেই দারুণ কিছু আশা করছেন বাংলাদেশের কোচ। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, বর্তমান পজিশনে হামজা খুবই ভালো করছে। এমনকি সবশেষ ম্যাচে অনেক সময় সে উপরে উঠে খেলেছে, যেটার জন্য তাকে আমাদের সমর্থন দিতে হবে।
রক্ষণে তার উপস্থিতির যে ভারসাম্য আমাদের কেবল সেটাই নয়, পেছন থেকে, দ্বিতীয় লাইন থেকে আমাদের জন্য তার সুযোগ তৈরি করে দেওয়াটাও প্রয়োজনীয়। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোলের খুবই ভালো সুযোগ সে পেয়েছিল। আমি মনে করি, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এবং আক্রমণভাগে মিশ্র ভূমিকা রাখার সামর্থ্য তার আছে।’

হামজা ফিরলেও শমিত সোম আগামীকাল দেশে আসবেন। দুজনের কাছেই দারুণ কিছু আশা করছেন কোচ।
কাবরেরা বলেছেন, ‘হংকং ম্যাচে আমরা সবার কাছে খুবই ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করি। ঘরের মাঠে তিন পাওয়ার জন্য এবং বাছাই পেরুনোর দাবিদারদের একজন হওয়ার জন্য এটা আমাদের জন্য আরেকটি বড় সুযোগ। আমরা শেষ পর্যন্ত এর জন্য লড়তে চাই। এটাই সবার লক্ষ্য। হামজা এবং শোমিত-তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ভালো একটা প্রভাব তারা রাখবে। হামজা আগামীকাল সকালে আসবে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সে তিনটা ট্রেনিং সেশন পাবে।

আর শোমিত, তার জন্য বিষয়গুলো একটু কঠিন হবে। কেননা, সে আগামী পরশু সন্ধ্যায় পৌঁছাবে, যেটা তার জন্য একটু নেতিবাচক। সে পৌঁছালে তার সঙ্গে আমরা কথা বলব এবং সে কেমনটা অনুভব করছে, সে অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেব।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে ভূমিকা রাখবেন : তারেক রহমান

গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যে জনপ্রত্যাশিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, শারীরিক সক্ষমতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাতে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভূমিকায় থাকবেন কি না, বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্ন করা হয় তারেক রহমানকে।

জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত বা পুনরুদ্ধার করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘এবারও আপনাদের সবার চোখের সামনেই ঘটেছে যে কীভাবে স্বৈরাচারের সময় তার ওপর অত্যাচারের খড়্গহস্ত নেমে আসে। কিন্তু তিনি আপস করেননি। এ রকম একজন ব্যক্তি আজ অসুস্থ। কেন, কীভাবে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেন? মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হলো।
আমরা দেখেছিলাম একজন সুস্থ মানুষ গিয়েছেন, কিন্তু যখন বেরিয়ে এসেছেন একজন অসুস্থ মানুষ বেরিয়ে এসেছেন। তাকে চিকিৎসার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। তারপরও যে মানুষটির এত বড় অবদান রয়েছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার, আমি সেই দলের একজন কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি বা বিশ্বাস করতে চাই যে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যে জনপ্রত্যাশিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, শারীরিক সক্ষমতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাতে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।’

আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য বিবিসি বাংলা তারেক রহমানের কাছে জানতে চায়, সেটা নির্বাচনে অংশগ্রহণ হতে পারে কি না? এর উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আমি এখনো বলতে পারছি না।
তার শারীরিক এবিলিটির (সক্ষমতা) ওপর বিষয়টি কিছুটা হলেও নির্ভর করছে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর একপর্যায়ে দলের দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। তিনি চার দশক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন কার্যত বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।
তার কাছে বিবিসি বাংলার প্রশ্ন ছিল, বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে পরিবারের প্রভাব কতটা থাকবে? এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন, বিষয়টিকে আমি একটু তাহলে অন্যভাবে উপস্থাপন করি। সব রকম ও সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি বলতে চাইছি। দেখুন, একজন চিকিৎসকের সন্তান যখন চিকিৎসক হয়, তখন সে ভালোও করে, খারাপও করে। একজন আইনজীবীর সন্তানও দেখা যায় যে অনেক সময় মা–বাবার মতো ভালো আইনজীবী হয় অথবা হয় না। রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে অনেকের সন্তান রাজনীতিতে এসেছে। সবাই কি ভালো করেছে? সবাই ভালো করেনি। কেউ কেউ করেছে, কেউ কেউ করতে পারেনি ভালো।’

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি যদি আমাকে ইঙ্গিত করে থাকেন, তাহলে এভাবে আমি বলব যে দেখুন বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনীতি যাঁরা করেন, বিগত ১৭ বছরে যেমন দেখা গেছে, তার আগেও দেখা গেছে, রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হ্যারাসমেন্টের (হয়রানির শিকার হন। মিথ্যা মামলার শিকার হন। আমাদের বহু নেতা-কর্মী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জেল-জুলুম খেটেছে, ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যে কয়টা উদাহরণ দিলাম আমি মাত্র, আপনি কি বলতে পারবেন এর কোনোটার মধ্যে দিয়ে আমি যাইনি? এর প্রতিটার ভেতর দিয়ে আমি গিয়েছি। প্রতিটি স্তর পার করে এসেছি আমি। আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। যে নির্যাতনের চিহ্ন এখনো কখনো কখনো আমাকে সহ্য করতে হয়। জেল–জুলুম খেটেছি আমি। বিভিন্নভাবে মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হয়েছি আমি। সবকিছুর ভেতর দিয়েই আমি পেরিয়ে এসেছি।’

এরপর এসব কথা বলার কারণ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ জন্য এ কথাগুলো আমি বললাম যে রাজনীতি পরিবারকরণ হয় না। এটি সমর্থনের ভিত্তিতে হয়। কাজেই যে অর্গানাইজ (সংগঠিত) করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে, সে এগিয়ে যেতে পারবে। কেউ যদি এগিয়ে যেতে না পারে, তাহলে সে এগিয়ে যেতে পারবে না। সময়, পরিস্থিতি সবকিছু প্রমাণ করে দেবে।’

তারেক রহমানের স্ত্রী, কন্যা বা পরিবারের অন্য কেউ রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা আছে কি না বা তারা রজনীতিতে আসতে আগ্রহী কি না, এই প্রশ্নও করেছিল বিবিসি বাংলা। জবাবে তারেক রহমান বলেছেন, বিষয়টি সময় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই প্রথম কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তারেক রহমান। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে পরিবারের প্রভাব কতটা থাকবে, এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সদ্যবিদায়ী হাইকমিশনার শামীম আহসানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) তিনি নতুন হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

নতুন হাইকমিশনার ১৭তম বিসিএস (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) ক্যাডারের কর্মকর্তা মঞ্জুরুল করিম ১৯৯৮ সালে কূটনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি মায়ানমার, ইরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
মঞ্জুরুল করিম ইস্তাম্বুল, লন্ডন, রোম ও বন্দর সেরি বেগাওয়ান মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

সিলেট হবিগঞ্জের সন্তান প্রকৌশল পড়াশোনা শেষ করে রোমের ইউনিভার্সিটি লা সাপিয়েনজা থেকে ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন—যা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, নতুন হাইকমিশনার তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসীদের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।

নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্থবির হয়ে থাকা এসব ইস্যুতে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান বের করা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি উন্নয়নে হাইকমিশনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম কৌশলগত পার্টনার। পাম তেল আমদানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ—দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হয়েছে। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশের পণ্য বাজারজাতকরণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবেন।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক শুধু শ্রম ও অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়, এর রয়েছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক গুরুত্বও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র মালয়েশিয়া অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), আসিয়ান এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। রোহিঙ্গা সংকটসহ মানবাধিকার ইস্যুতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। নতুন হাইকমিশনারের কাছে তাদের প্রত্যাশা— দূতাবাস হবে প্রবাসীদের প্রকৃত সহায়স্থল এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন।

মাদককাণ্ড নিয়ে আবারও শাহরুখপুত্রকে খোঁচা সমীরের!

গেল মাসে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে শাহরুখপুত্র আরিয়ান খান পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’। মুক্তির পর সিরিজের একটি চরিত্রের সঙ্গে দর্শক মিল পেয়েছে প্রাক্তন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ের। চরিত্রটির মাধ্যমে সমীর ওয়াংখেড়েকে নাকি খোঁচা দিয়েছেন আরিয়ান খান!

এমন অভিযোগ তুলে কিছুদিন আগে আরিয়ান ও শাহরুখের বিরুদ্ধে দুই কোটি রুপির মানহানির মামলাও করেন সমীর। যদিও দিল্লি হাই কোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দেয়।

২০২১ সালে মাদককাণ্ডে আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার করেছিলেন সমীর। যদিও আরিয়ানের কাছ থেকে কোন মাদক পাওয়া যায়নি। সেই সময় অনেকেই বলেছিলেন, ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে আরিয়ানকে। সেই ঘটনার পর আবারও আরিয়ানকে নিয়ে মুখ খুললেন সমীর।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে সমীর বলেন, ‘‘মাদক না পাওয়া গেলে সে নিরাপরাধ, এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। আর যদি কারও কাছে মাদক মেলে তবে সেটা তৈরি হয়েছে কোথায়, কারা এটা বিক্রি করেছে এই গোটা চেইনটা ধরতে হয়। এই সবটাই তদন্তের অঙ্গ। তাই আইন মেনেই সেই মামলায় সবটা করা হয়েছিল।
তাই কাউকেই বলির পাঁঠা করা হয়নি।’’

আরিয়ানের পরিচালিত ওয়েব সিরিজটি দর্শকমহলের অনেকেই পছন্দ করেছেন। এক বিশেষ বিবৃতিতে আরিয়ান জানিয়েছেন, জীবনে কোনো সমস্যা বা খারাপ কিছু হলেই তিনি একটি সংলাপের কথা মনে রাখার চেষ্টা করেন। তার সিরিজেই রজত বেদীর মুখে রয়েছে সেই সংলাপ।

সংলাপটি হলো, “যে হেরে যায় আর যে হার মেনে নেয়, তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
” এই কথাটি তাকে সব সময় এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয় বলে জানান আরিয়ান।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

জাতীয় বদলে যাচ্ছে ডিসি-ইউএনও পদের নাম, আসছে আরো যেসব পরিবর্তন

জনপ্রশাসনের সাংগঠনিক কাঠামোয় আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদের নাম পরিবর্তনসহ সংস্কার কমিশনের ১০টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে গত জুলাইয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আমূল বদলে যাবে জনপ্রশাসনের প্রশাসনিক কাঠামো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গঠন করা হচ্ছে সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস)। বিভিন্ন ক্যাডার থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এই সার্ভিসে যোগ দেওয়া যাবে। এসইএসের অধীনে থাকবে উপসচিব থেকে সচিবের সব পদ।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ডিসির পদবি পরিবর্তন করে ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কমিশনার’ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদবি পরিবর্তন করে ‘উপজেলা কমিশনার’ করার পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিকে (নিকার) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই এসব বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, সব সার্ভিস থেকে অধিকতর মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদগুলোর জন্য সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস) গঠনের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। সব সার্ভিস থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এসইএসে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে মেধার প্রাধান্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তঃসার্ভিস অসমতা দূর হবে বলে মত সংস্কার কমিশনের। অন্তত ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যেকোনো সার্ভিসের সিনিয়র স্কেলপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসইএসের উপসচিব পদের জন্য আবেদন করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

পাবলিক সার্ভিস কমিশন এই পরীক্ষা নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদের জন্য প্রতিবছর একবার করে আলাদাভাবে এই পরীক্ষা হবে। এই পরীক্ষায় কেউ একবার উত্তীর্ণ হতে না পারলে পরের ব্যাচে আরেকবার পরীক্ষা দিতে পারবেন। কোনো কর্মকর্তা এসইএসে প্রবেশের পরীক্ষায় পর পর দুইবার অকৃতকার্য হলে তিনি আর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। এসইএসে প্রবেশের পর কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সম্মিলিত পরীক্ষার মেধাক্রম অনুসারে। কোনো বিশেষায়িত সার্ভিসের কোনো কর্মকর্তা একবার এসইএসে প্রবেশের পর তিনি আর তাঁর আগের সার্ভিসে ফেরত যেতে পারবেন না। এসইএস পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সব সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।

বর্তমানে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে থাকা কর্মকর্তাদের সবাই এসইএস গঠনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সচিব, মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদসচিবও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসইএসের সদস্য হবেন। আর একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি অতিরিক্ত সচিবদের মধ্য থেকে বাছাই করে সচিব এবং সচিবদের মধ্য থেকে মুখ্য সচিব পদে পদোন্নতির জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে।

এসইএস গঠন হলে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার বা উপজেলা কমিশনার, জেলা কমিশনার (বর্তমানে জেলা প্রশাসক), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনার পদে পদায়িত হবেন। জেলা কমিশনার পদটি এসইএসের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সেখানেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়নের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। এ ক্ষেত্রে একই পদে তিনি এসইএস কর্মকর্তার সমমান পাবেন না। এ ছাড়া ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)’ পদবি পরিবর্তন করে ‘অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ভূমি ব্যবস্থাপনা) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দক্ষ, জনমুখী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে জনপ্রশাসনের নানা ক্ষেত্রে দুই শতাধিক সংস্কার প্রস্তাবের সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

বর্তমানে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলোকে সরকারের পদ বলা হয়। প্রশাসন ক্যাডারের ৭৫ শতাংশ এবং অন্য সব ক্যাডারের ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। যদিও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত শতভাগ পদে পদোন্নতির দাবি জানিয়ে আসছেন। আর প্রশাসন ক্যাডার বাদে অন্য সব ক্যাডারের কর্মকর্তারা পরীক্ষা নিয়ে উপসচিবের শতভাগ পদে পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন।

ভারতকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের নিচেই কবর দেওয়া হবে : পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভারতের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তা আরও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আবার সংঘাতে জড়ালে ভারতের কবর তাদের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের নিচেই হবে।’

আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, গত মে মাসে তীব্র সংঘাতের পর নিজেদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এখন ‘আত্মসম্মান রক্ষার প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছে।

আসিফের এমন মন্তব্য আসল ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্যের পর।
পাকিস্তান সীমান্তে সৈন্যদের উদ্দেশে শুক্রবার দ্বিবেদী বলেন, ইসলামাবাদ যদি ‘বিশ্বের মানচিত্রে থাকতে চায়’, তবে তাকে ‘সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘মে মাসের যুদ্ধে ভারতের যে সংযম ছিল, এবার তা থাকবে না।’

ভারতের সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, মে ২০২৫-এর সংঘাতে পাকিস্তানের ভেতরে নয়টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়।

মে মাসের ওই সংঘাত ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ।
চার দিন ধরে দুই দেশ একে অপরের উপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ বলেন, ‘ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য তাদের ব্যর্থতার প্রমাণ। ০–৬ ব্যবধানে এমন পরাজয়ের পর যদি তারা আবার চেষ্টা করে, আল্লাহ চাহে তো এবার ফল আরও ভয়াবহ হবে।
এবার ভারত নিজস্ব যুদ্ধবিমানের ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়বে।’

পাকিস্তান দাবি করেছে, মে মাসের যুদ্ধে তারা ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি রাফালও রয়েছে। তবে ভারত এই দাবি অস্বীকার করেছে। ভারতের বিমানবাহিনীর দাবি, তারাই পাকিস্তানের এফ–১৬ ও জেএফ–১৭ মডেলের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।

কাশ্মীর ইস্যু ঘিরে দুই দেশের টানাপোড়েন আরো বেড়েছে।
বাণিজ্য, ভ্রমণ থেকে শুরু করে ক্রীড়া পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, ভারতের সেনাপ্রধানের বক্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও। এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ‘ভারতের এমন বিভ্রান্তিকর ও যুদ্ধবাজ বক্তব্য কেবল উসকানিমূলক নয়, বিপজ্জনকও। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনবে, এবং পাকিস্তান এবার কোনো সংযম দেখাবে না।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যারা নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চায়, তাদের জানা উচিত—পাকিস্তানও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা হবে দ্রুত এবং ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলে সেই পরিণতি হবে পারস্পরিক।’

এটা নেতানিয়াহুরই বিজয় : ট্রাম্প

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুরই বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে তার গাজা যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনাকে সমর্থন করার জন্য ‘কোনো বিকল্প’ দেননি।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, এটা তোমারই বিজয়ের সুযোগ। সে এতে সম্মত ছিল।
শুক্রবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে (নেতানিয়াহু) বলেছি, এটা মানতেই হবে। আমার সঙ্গে থাকলে, তোমাকে এটা মানতেই হবে।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘বিবি গাজার ব্যাপারটা অনেক দূর নিয়ে গেছে এবং ইসরায়েল বিশ্বের অনেক সমর্থন হারিয়েছে। এখন আমি সেই সমর্থন আবার ফিরিয়ে আনব।

এই মন্তব্য হোয়াইট হাউসের ‘র‌্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা হয়, যখন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি জনগণের সামনে পরিকল্পনাটির পক্ষে বক্তব্য দেন।

নিজের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এবং ট্রাম্প একসঙ্গে এমন একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ তৈরি করেছেন যা পরিস্থিতিকে পাল্টে দিয়েছে। এই পরিকল্পনার ফলে ইসরায়েল একা হয়ে পড়ার বদলে হামাস একা হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানেরও প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এরদোয়ান অনেক সাহায্য করেছেন। তিনি শক্ত মানুষ, তবে তিনি আমার বন্ধু এবং তিনি দারুণ কাজ করেছেন।’