সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধরী। তিনি বলেছেন, শুধু দেশের জনগণই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশে এবার একটি সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। ভোটের তিন মাস আগে নয়, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এখন থেকেই ইসিকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের বিষয়ে দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিদেশিদের কাছে নালিশের কিছু নেই, বাংলাদেশে কী হবে তা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেহেতু চলে এসেছে, তিন মাসের জন্য অপেক্ষা না করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বা অবগত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আমীর খসরু বলেন, দেশের মানুষই যে শুধু ভোটের অপেক্ষায় আছে তা নয়, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরাও বাংলাদেশের দ্রুত গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়। নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা অবজারভার দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা থাকবে— এমনটাই তারা প্রত্যাশা করছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায়।
পাশাপাশি তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে, সংসদকে আরো কার্যকর করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা জোরদারে সহযোগিতা করতে চায়।

বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসন ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপারসন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যারিবিয়ান টেস্ট ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান লারার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের টেস্ট ক্রিকেটে উত্সাহ ও প্রতিশ্রুতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিইএট ক্রিকেট রেটিং অ্যাওয়ার্ডসে বক্তব্য রাখার সময় লারা বলেছেন, ‘পরিবর্তন আনতে কৌশল বা অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড়দের মনোভাব ও নিষ্ঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোস্টন চেজ এবং অন্যান্যদের আমি বলতে চাই—আপনাদের কি সত্যিই ক্রিকেট হৃদয়ে আছে? আপনি কি সত্যিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য খেলতে চান? এবং এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ সত্যিই ইচ্ছা থাকলে আপনি একটি উপায় খুঁজে বের করবেন।’

লারা অতীত ও বর্তমানের পার্থক্যও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘৩০-৪০ বছর আগে আমাদের সুবিধা ছিল কম। ভিভ রিচার্ডসও ভালো প্র্যাকটিস পিচে খেলেননি। তবু উত্সাহ আলাদা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলার উত্সাহের জায়গা অন্য রকম ছিল।

ছোট ক্রিকেটিং দেশগুলোর জন্য টেস্ট ক্রিকেটের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জও লারা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বড় তিনটি দেশের ম্যাচ—যেমন ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ, অথবা ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড—দেখলে মনে হয় এর চেয়ে বড় ক্রিকেট আর নেই। লর্ডসে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ দেখেছি, এবং তুলনা করার মতো কিছুই নেই। আমি আশা করি টেস্ট মরবে না, তবে ছোট দেশগুলোর জন্য এটি চালানো সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।

শেষে তিনি বলেন, ‘আমি সমস্যার সমাধান খুঁজতে চাই, হাল ছেড়ে দিতে চাই না। খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ জাগানোই টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে পারে।’

নতুন চলচ্চিত্রে মিষ্টি জান্নাত

১১ বছর আগে ‘লাভ স্টেশন’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় মিষ্টি জান্নাতের। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় থাকেন। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির আলোচিত এ অভিনেত্রী সামাজিক মাধ্যমে মাঝে মধ্যেই আলোচনায় আসেন। শাকিব খানের সঙ্গে প্রেম-বিয়ের নিয়ে গুঞ্জন ছাড়াও দুবাইয়ে ব্যবসা নিয়ে আলোচনায় থাকেন অভিনেত্রী।

এবার নতুন সিনেমায় নাম লেখালেন মিষ্টি জান্নাত। সামাজিক মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেখানে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। স্ট্যাটাসে মিষ্টি জান্নাত লিখেছেন—একটি নতুন সিনেমা করতে যাচ্ছি, নাম হচ্ছে— ‘বিবর’।
পরিচালক হচ্ছেন সাইমন তারিক ও টিম।

অভিনেত্রী আরও লিখেছেন— আরও তিনটি সিনেমার কাজ অতিদ্রুত শুরু হবে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আমি। তাই গত মাসে শুটিং শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করতে পারিনি।

রাউজানে গুলিতে নিহত হাকিম বিএনপির কেউ নয় : রিজভী

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত আবদুল হাকিম বিএনপি রাজনীতিতে জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ কথা জানান।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতিকারীদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনায় মো. আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন। এই সহিংস ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির একটি বড় ধরনের নজির।
এই রক্তাক্ত ঘটনা ওই এলাকার জনমনে উদ্বেগ ও ভীতির সঞ্চার করেছে। বর্তমানে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, চারিদিকে অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা ও হতাশা বিরাজমান, যা এই বর্তমান সরকারের কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশা করে না। জনপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণেই দুষ্কৃতিকারীরা অপকর্মে মেতে উঠেছে। সমাজের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসন নিষ্ক্রিয়, সেই কারণে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
জনগণ এই অরাজক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান দেখতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পূর্ণরূপে সমাজবিরোধী কিছু দুর্বৃত্ত চক্রের পরিকল্পিত হিংস্র কর্মকাণ্ড। এর সঙ্গে রাজনীতি বা বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। নিহত ব্যক্তি ও দুষ্কৃতিকারীদের কেউই বিএনপির নেতাকর্মী নন।
কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহত ব্যক্তিকে বিএনপির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন।’

বিএনপি রাউজানের সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং অবিলম্বে এলাকায় আধিপত্যকামী দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান পরবর্তী কর্মজীবনে প্রয়োগ করতে : ডিআইজি আশফাকুল আলম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ডিআইজি মুহাম্মদ আশফাকুল আলম বলেছেন, ‘প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান পরবর্তী কর্মজীবনে প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্বায়নের প্রভাব ও প্রযুক্তির বহারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপরাধের প্রকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে আর পুলিশকে মোকাবেলা করতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জং

আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের প্যারেড মাঠে বিভাগীয় ক্যাডেট এসআইদের (নিরস্ত্র) বাধ্যতামূলক ইন সার্ভিস প্রশিক্ষণ কোর্স (ডিসি কোর্স) ২২তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। এর আগে প্রধান অতিথি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

মুহাম্মদ আশফাকুল আলম বলেন, ‘যেকোনো অপরাধের রহস্য উদঘাটন, অপরাধী সনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একজন সফল তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ও প্রকার রক্ষার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্রতী।

এ সময় ট্রেনিং সেন্টারের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (কারিকুলাম), পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) পিটিসি, টাঙ্গাইলসহ বাংলাদেশ বিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও আমন্ত্রিত অথিবর্গ, সাংবাদিকগণ, প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথি অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করেন। দীর্ঘ ছয় মাস সক্রিয় অংশগ্রহণের এম বিভাগীয় ক্যাডেট এসআইদের (নিরস্ত্র) ২২তম ব্যাচের ২৭৬ জন বিভাগীয় এসআই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। এ সময় প্রধান অতিথি সবার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন।

জুবিনের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য, এবার পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ভারতের প্রখ্যাত গায়ক জুবিন গার্গের সিঙ্গাপুরে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার বড়সড় মোড়। অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন প্রয়াত গায়কের জ্ঞাতিভাই এবং অসম পুলিশ সার্ভিসের (এপিএস) কর্মকর্তা সন্দীপন গার্গ। এই পুলিশ কর্মকর্তা গায়কের মৃত্যুর সময় তার সঙ্গে ইয়ট পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুবিন গার্গ যখন সিঙ্গাপুরের একটি দ্বীপের কাছে সাঁতার কাটার সময় মারা যান, তখন এই সন্দীপন গার্গও সেই ইয়ট পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবে অংশ নিতেই ৫২ বছর বয়সী গায়ক জুবিন গার্গ সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সেখানেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন জুবিন গার্গ। মৃত্যুর পর থেকেই তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলতে থাকে।
ঠিক সেই সময় থেকেই তদন্তে নামে অসম ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সন্দীপন গার্গকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। আজ (৮ অক্টোবর) তাকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

এর আগে একই মামলায় আরো চারজনকে আটক করা হয়েছিল—গায়কের ব্যান্ডমেট শেখর জ্যোতি গোস্বামী, ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট অর্গানাইজার শ্যামকানু মহন্ত এবং সংগীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্ত।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এপিএস কর্মকর্তা সন্দীপনের গ্রেপ্তারির মধ্য দিয়ে এই মামলার তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। কারণ গায়কের মৃত্যুর সময় ইয়টে তার উপস্থিতি এবং পার্টির ঘটনাপ্রবাহ এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।

জুবিন গার্গের মৃত্যু শুধু সংগীতজগত নয়, সমগ্র ভারতের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তার মৃত্যু ঘিরে চলা এই নাটকীয় তদন্তে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজকের গ্রেপ্তারির মধ্য দিয়ে।

ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুললেন গ্রেটা থুনবার্গ

গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহরের সঙ্গে আটক হওয়ার পর ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সুইডেনের অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। দেশে ফিরে মঙ্গলবার স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আটক অবস্থায় তাকে এবং তার সহকর্মীদের বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হয়নি, এমনকি যাদের ওষুধ প্রয়োজন ছিল, তাদেরও তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

থুনবার্গ বলেন, আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ব্যক্তিগতভাবে জানাতে চাই না। কারণ, আমি চাই না যে শিরোনাম হোক— ‘গ্রেটাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
’ আসল গল্প সেটি নয়। গাযার লোকদের প্রতিদিন যে পরিমাণ নির্যাতন সহ্য করতে হয় তার তুলনায় এগুলো কিছুই না।

ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের নৌবহরের সঙ্গে থুনবার্গসহ আরও ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়। নৌবহরটি গাজায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিল এবং অবরুদ্ধ ওই অঞ্চলের মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিল।
সোমবার থুনবার্গকে সুইডেনে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটক ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক মুখপাত্র দাবি করেন, ‘সব আটক ব্যক্তিকে পানি, খাবার ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সব আইনি অধিকারও রক্ষা করা হয়েছে।

তবে সুইডিশ মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, আটক অবস্থায় থুনবার্গকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে ইসরায়েলের পতাকা পরতে বাধ্য করা হয়। যদিও এ বিষয়ে থুনবার্গ নিজে সংবাদ সম্মেলনে কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, গাজায় দুর্ভিক্ষ বা খাদ্যসংকটের খবর অতিরঞ্জিত। তাদের মতে, ফ্লোটিলার এমন অভিযান আসলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সুবিধা দেয়।

এ ঘটনার পর সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, গাজায় ভ্রমণ না করার জন্য তারা বারবার সতর্ক করেছিল।
তবুও আটক নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলকে যথাযথ আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুনেও গাজা অভিমুখে নৌবহরে যোগ দিয়ে একইভাবে আটক হয়েছিলেন থুনবার্গ। গাজায় ২২ লাখেরও বেশি মানুষ এখন গৃহহীন ও মারাত্মক খাদ্যসংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

রোহিতকে ‘সম্মান থাকতে অবসর নেওয়ার’ পরামর্শ তিওয়ারির

ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিসিসিআই) সম্প্রতি রোহিত শর্মাকে ভারতের ওয়ানডে অধিনায়ক থেকে সরিয়ে শুভমান গিলকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রোহিতের অধিনায়কত্বের যাত্রা এখানেই শেষ হলো।

রোহিত তার অধিনায়কত্বের সময়ে তিনটি আইসিসি ফাইনালে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার মধ্যে দুটি জয়ী হয়েছেন। তবে তাকে অধিনায়ক থেকে সরানোর এই সিদ্ধান্ত তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে।
তবে তার প্রাক্তন সতীর্থ ও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি রোহিতকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘সম্মান থাকতে’ অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে।

এক সাক্ষাৎকারে তিওয়ারি বলেন, ‘আমি মনে করি না, তিনি (রোহিত) এখন আর তাদের (নির্বাচকদের) পরিকল্পনার অংশ। এখন সবকিছু তার পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করছে। আমি যদি রোহিত শর্মা হতাম, তবে এ পরিস্থিতির পরে আমি অবসর নেওয়ার কথা ভাবতাম।

তিনি আরো যোগ করেন, ‘এমন একজন খেলোয়াড় এই ধরনের অপমানের যোগ্য নয়। রোহিতের অধিনায়কত্বের ফলাফল তাকে এইভাবে সরিয়ে দেওয়ার কথা হয়। তিনি কেবল একটি আইসিসি ট্রফি জিতেননি, তিনি দুটি জিতেছেন। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
এবং তার পাঁচটি আইপিএল ট্রফিও আছে। এর পরেও এমনভাবে আচরণ করা মোটেও ঠিক নয়। ব্যক্তিগতভাবে, আমি মনে করি তিনি এমন অপমানের পর আর চালিয়ে যাওয়া উচিত নয় ‘

‘আমার মতে, তাকে বের করে দেওয়ার আগে নিজেই যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে অন্তত সেভাবে তিনি সন্মান বজায় রেখে বিদায় নিতে পারবেন,’— বলেন তিনি।

রোহিত শর্মার ভারতের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ডও বেশ ভালো। তার ৭৫ শতাং জয়ও যেকোনো ভারতীয় ওয়ানডে অধিনায়কের মধ্যে সর্বোচ্চ, যারা ১০টির বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রোহিতের অধীনে ভারত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অপরাজিত থেথে ফাইনালে উঠেছিল এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও অপরাজিত থেকে জিতেছে।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ ও প্রাতরাশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন এবং পরিপূর্ণ আরোগ্য কামনা করেন রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি হেড অব মিশন ফেডরিকো জামপারেল্লি।

জামায়াত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও ইতালির বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি ইতালির দৃঢ় সমর্থন থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে-ইতালির বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আথারটনের মন্তব্যের জবাব দিল বিসিসিআই

ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের মন্তব্যের জবাব দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আথারটনের প্রস্তাবের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এমন প্রস্তাব দেওয়া সহজ হলেও বাস্তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসররা এমন সূচি মেনে নেবে না যেখানে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হবে না।

বিসিসিআই কর্মকর্তার ভাষায়, ‘এইসব বলা সহজ, কিন্তু স্পনসর ও সম্প্রচারকরা কি এতে রাজি হবে? বর্তমান সময়ে যদি কোনো বড় দল, শুধু ভারত নয়, কোনো টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে স্পনসর পাওয়া খুব কঠিন হবে।’

উল্লেখ্য, আথারটনের মন্তব্য এসেছে সম্প্রতি শেষ হওয়া এশিয়া কাপের পরিপ্রেক্ষিতে।
ওই টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান তিনবার মুখোমুখি হয়, যার মধ্যে একটি ছিল ফাইনাল। পুরো আসর জুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও অস্পোর্টসম্যান আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এমনকি ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আঘার সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানান।

এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নারী ক্রিকেটেও।
কলম্বোতে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে দুই দলের অধিনায়ক ফাতিমা সানা ও হরমনপ্রীত কৌরও একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য টাইমসের এর কলামে অ্যাথারটন লিখেছেন, আইসিসি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সূচি তৈরি করে থাকে — যার পেছনে মূল কারণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত সবগুলো ১১টি আইসিসি টুর্নামেন্টেই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে গ্রুপ পর্বে।

আথারটনের ভাষায়, ‘এই ম্যাচের বিশাল অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
এ কারণেই ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য আইসিসি টুর্নামেন্টের সম্প্রচার অধিকার প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে।’

তিনি আরো লেখেন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো অর্থনৈতিকভাবে আগের মতো মূল্যবান না থাকায় আইসিসি ইভেন্টগুলোর গুরুত্ব বেড়েছে, আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সেসব ইভেন্টে সম্প্রচারক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

তবে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মনে করেন, এই ম্যাচ এখন ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে রাজনৈতিক ও আবেগীয় প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। আথারটন বলেন, ‘একসময় ক্রিকেট কূটনৈতিক সেতুবন্ধনের মাধ্যম ছিল, এখন তা স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রচারণা ও উত্তেজনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র আর্থিক লাভের জন্য বড় টুর্নামেন্টের সূচি এমনভাবে সাজানো কোনো গম্ভীর খেলাধুলার মানদণ্ড হতে পারে না।

তিনি আরো যোগ করেন, ‘যেভাবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাণিজ্যিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে, তা বন্ধ করার এখনই সময়।’

৫৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেট বিশ্লেষক শেষ করেন এই আহ্বান জানিয়ে যে ‘পরবর্তী সম্প্রচার চুক্তি থেকে শুরু করে টুর্নামেন্ট ড্র যেন স্বচ্ছভাবে হয়। ভারত ও পাকিস্তান যদি প্রতিবার মুখোমুখি না-ও হয়, তাতেও কোনো সমস্যা নেই।’