সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

এশিয়ান কাপে খেলতে যে সমীকরণে বাংলাদেশ

এশিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের অনেকদিন হতাশায় রাখবে। হংকংয়ের বিপক্ষে শেষ সময়ের রোমাঞ্চে ৪-৩ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল হামজা চৌধুরীদের। সেই ম্যাচের একটা পয়েন্ট এশিয়ান কাপে খেলার সমীকরণ অনেকটাই সহজ করতে পারতো বাংলাদেশের জন্য।

অবশ্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার আশা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।
এখনো হিসাবের খাতায় বেঁচে আছে বাংলাদেশের স্বপ্ন।

‘সি’ গ্রুপে এখন তলানিতে বাংলাদেশ, পয়েন্ট মাত্র ১। সামনে তিনটি ম্যাচ—আর তিনটিতেই জিততে হবে, তাহলেই ১০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকবে দলের অবস্থান। কিন্তু তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না।
কারণ, তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকেও।

আপাতত ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে হংকং। মূল পর্বের টিকিট পেতে হলে বাংলাদেশকে শুধু নিজেদের ম্যাচ জেতাই নয়, প্রার্থনা করতে হবে হংকংয়ের ব্যর্থতারও। সিঙ্গাপুর ও ভারতের বিপক্ষে যেন জয় না পায় হংকং এটাই এখন বাংলাদেশ সমর্থকদের প্রার্থনা।

অন্যদিকে, ভারতকে হারানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। সেই ম্যাচে জয় পেলে অনেকটাই পরিষ্কার হবে হিসাবের খাতা। তবে সিঙ্গাপুরও হয়ে উঠতে পারে বড় বাধা—তাদের যেন ১০ পয়েন্ট ছোঁয়া না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে পথটা স্পষ্ট—বাকি তিন ম্যাচেই জিততে হবে, সঙ্গে হংকং ও সিঙ্গাপুরের হোঁচট খাওয়ার প্রার্থনা করতে হবে। সমীকরণ কঠিন, কিন্তু ফুটবলে কিছুই অসম্ভব নয়।

আপনি সত্যিই সুন্দরী : ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্প

মিসরের শারম এল-শেইখে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিরসনে অগ্রগতি অর্জনের পর বিশ্বনেতারা একত্রিত হন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে সুন্দরী বলে মন্তব্য করেন।

সিএনএন ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মিসরের গাজা সম্মেলনে সোমবার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একমাত্র নারী নেতা, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তাকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি সুন্দরী।

৭৯ বছর বয়সী তিনবার বিবাহিত ট্রাম্প স্বীকার করেন যে এমন মন্তব্যের কারণে তাকে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগের মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে আসলে এটা বলা উচিত নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নারীকে ‘সুন্দরী’ বলা মানে আপনার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানা— কিন্তু আমি ঝুঁকি নিতে রাজি।”

এরপর ৪৮ বছর বয়সী মেলোনির দিকে ফিরে ট্রাম্প যোগ করেন, ‘আপনাকে সুন্দরী বলা হলে আপত্তি করবেন না, তাই তো? কারণ, আপনি সত্যিই সুন্দরী।’

ট্রাম্পের পেছনে মেলোনি দাঁড়িয়ে থাকায় ক্যামেরায় তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

ট্রাম্প পরে মেলোনিকে প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি অবিশ্বাস্য একজন ভালো মানুষ। ইতালিতে তাকে সত্যিই অনেক সম্মান করা হয়। তিনি একজন অত্যন্ত সফল রাজনীতিক।’

প্রায় ৩০ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা মেলোনি ছিলেন একমাত্র নারী।
ওই নেতারা একসঙ্গে গাজার জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।

গাজা সম্মেলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ, স্বাক্ষর করেছে ৪ দেশ

হোয়াইট হাউস সোমবার মিসরের শার্ম আল শেখে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনের ফলাফল হিসেবে প্রণীত পূর্ণাঙ্গ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে। এই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন চার দেশের শীর্ষ নেতা।

ঘোষণাপত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাম্প ডিক্লারেশন ফর এন্ডিউরিং পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ বা ‘টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প ঘোষণা’। মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে করা হয়েছে এটি।
এতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত সম্পূর্ণ অংশটি নীচে দেওয়া হল।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে—আমরা স্বাক্ষরকারীরা ট্রাম্প শান্তি চুক্তির সকল পক্ষের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এই চুক্তি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গভীর দুর্ভোগ ও ক্ষতির অবসান ঘটিয়ে আশা, নিরাপত্তা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির এক যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সংজ্ঞায়িত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

আমরা গাজায় যুদ্ধের অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই এবং তার পাশে আছি। আমরা একসঙ্গে এই চুক্তি এমনভাবে বাস্তবায়ন করব, যাতে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় অঞ্চলের সকল মানুষের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত হয়।

ঘোষণাপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা বুঝতে পারছি স্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব হবে, যখন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত রেখে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে সমৃদ্ধির পথে আগাতে পারবে। আমরা বিশ্বাস করি, অর্থবহ অগ্রগতি শুধুমাত্র সহযোগিতা ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
জাতি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাতে বলা হয়েছে, আমরা এই অঞ্চলের গভীর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব স্বীকার করি—যেখানে খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ও ইহুদি ধর্মসহ বিভিন্ন বিশ্বাসের শিকড় গভীরভাবে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা এই পবিত্র সম্পর্কগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাব এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষাকে সর্বাগ্রে রাখব।

এ ছাড়া বলা হয়েছে, আমরা সব ধরনের উগ্রবাদ ও চরমপন্থা নির্মূলের প্রতিশ্রুতিতে ঐক্যবদ্ধ। কোনো সমাজই বিকশিত হতে পারে না, যদি সহিংসতা ও বর্ণবাদকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়, অথবা উগ্র মতাদর্শ নাগরিক জীবনের ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলে।
আমরা উগ্রবাদের জন্ম দেয় এমন সব পরিস্থিতি মোকাবিলার অঙ্গীকার করছি এবং শিক্ষা, সুযোগ সৃষ্টি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আমরা ঘোষণা করছি যে, ভবিষ্যতের যেকোনো বিরোধ আমরা বলপ্রয়োগ বা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব। আমরা স্বীকার করি, মধ্যপ্রাচ্য আর দীর্ঘ যুদ্ধ, স্থগিত আলোচনা বা অসম্পূর্ণ শান্তিচুক্তির পুনরাবৃত্তি সহ্য করতে পারে না। গত দুই বছরের ট্র্যাজেডিগুলো আমাদের জন্য একটি কঠোর শিক্ষা— ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অতীতের ব্যর্থতার চেয়ে আরো ভালো ভবিষ্যতের দাবিদার।

আমরা সহনশীলতা, মর্যাদা ও প্রতিটি মানুষের জন্য সমান সুযোগ কামনা করি, যাতে এই অঞ্চলটি এমন এক জায়গায় পরিণত হয়, যেখানে জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ নিয়তির নীতির ভিত্তিতে এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও যৌথ সমৃদ্ধির একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছি।

আরো বলা হয়েছে, এই চেতনা থেকেই আমরা গাজা উপত্যকায় ব্যাপক ও টেকসই শান্তি ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং ইসরায়েল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পারস্পরিকভাবে উপকারী সম্পর্কের বিকাশকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা এই অর্জন বাস্তবায়ন ও টিকিয়ে রাখতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করছি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তিতে একসঙ্গে উন্নতি করতে পারে এমন এক দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়। আমরা স্থায়ী শান্তির ভবিষ্যতের প্রতি নিজেদের সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ করছি।

সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।

শিক্ষকদের দাবির পক্ষে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

শহীদ মিনারে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে হাসনাত বলেন, ‘দেশ গড়ার কারিগর আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের দাবি মেনে নিন।’

এদিকে আজ দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ফোন করে এখনই লং মার্চ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষক নেতা অজিজী বলেন, ‘এনসিপির নেতা, আমাদের পাশে সবসময় যিনি থেকেছেন, সেই হাসনাত আবদুল্লাহ আমাকে মোবাইলে কল করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সচিবালয়ে শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে একটা মিটিং চলছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত লং মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচিতে না যেতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আমরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে তা দেখে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আজ দুপুর ১২টায় ‘লং মার্চ সচিবালয়’ কর্মসূচি ছিল শিক্ষকদের। তারা সময় পরিবর্তন করে সেটি বিকেল ৪টায় করার ঘোষণা দিয়েছেন।

অগ্নিদুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে একটি পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। আমরা এই শোকের সময়ে তাদের পরিবারের পাশে আছি।

প্রধান উপদেষ্টা অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন।

আবারও হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে আগামী শুক্রবার ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার তাই মনে হচ্ছে।’

এর আগে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার গাজা যুদ্ধবিরতিকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনও শেষ করতে পারবেন।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাতে পরিণত হয়।

এই যুদ্ধে দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত, আর ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্প এর আগেও দাবি করেছিলেন, তিনি ‘মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন’, তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

রাশিয়া এখনো যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কঠোর শর্ত দিয়েছে—যা মূলত কিয়েভের আত্মসমর্পণ দাবি করে।

সম্প্রতি ট্রাম্প পুতিনের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি ‘ইউক্রেনের দখলকৃত প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার হতে দেখতে চান।

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। যার মধ্যে ২০১৪ সালে দখল ও সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে।

আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ ও শপথ সম্পন্ন

চট্টগ্রামের আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আর্টিলারি সেন্টারের শহীদ মেজর নজমুল হক প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচে এক হাজার ২৩৭ জন সৈনিক কুচকাওয়াজ শেষে শপথ নিয়েছেন।

সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ অনুষ্ঠানে জিওসিকে স্বাগত জানান আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ. ফ মো. আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলের সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সৈনিকবৃন্দ, নবীন সৈনিকদের পরিবারবর্গ এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান রেজিমেন্ট অব আর্টিলারির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় রেজিমেন্ট অব আর্টিলারির অবদানের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য রেজিমেন্ট অব আর্টিলারি এবং আর্মি এয়ার ডিফেন্স কোরের সকল নবীন সৈনিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের সব বিষয়ে সেরা সৈনিক নির্বাচিত হন মো. মুছাব্বির হোসেন, শরীর চর্চায় সেরা নবীন সৈনিক মো. সাব্বির খন্দকার, কুচকাওয়াজ সেরা কায়েছুর রহমান রিয়াদ এবং অস্ত্র প্রশিক্ষণে সেরা হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান। সব শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নবীন সৈনিকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এই মাতৃভূমিতে আমার জন্ম, এখানে কবর হবে সেফ এক্সিটের দরকার নাই : ধর্ম উপদেষ্টা

বাংলাদেশে জন্ম, এখানেই কবর হবে আর দুর্নীতিবাজরা সেফ এক্সিটের কথা ভাববে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রথম এমডিসি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সেফ এক্সিট কোথায় নেব? বিদেশে গিয়ে কী করব? এ দেশ আমার, এই মাতৃভূমিতে আমার জন্ম, এখানে আমার কবর হবে। যারা দুর্নীতি করে তাদের সেফ এক্সিট লাগে, আমাদের সেফ এক্সিটের দরকার নাই।

এ সময় মুসলিম এবং হিন্দুসহ সব ধর্মের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমি কোনো এক ধর্মের উপদেষ্টা নই, হিন্দু-মুসলিম সবার। আমি মসজিদে যাই ইবাদত করতে আর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য।

একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়েও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য দূর হয়নি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দেশের প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিস্টের দোসররা বসে আছে। এখন পর্যন্ত কালচারাল ফ্যাসিস্টরাও বহাল তবিয়তে আছে, মিডিয়াতেও ফ্যাসিস্টের দোসররা ভালো অবস্থানে আছে।

মারা গেছেন প্রখ্যাত ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা

প্রখ্যাত ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসের তাঘভাই আর নেই। মঙ্গলবার ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিচালকের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মারজিয়া ভাফামের।

এক আবেগঘন বার্তায় ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘নাসের তাঘভাই, এমন এক শিল্পী যিনি স্বাধীনভাবে বাঁচার কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন, অবশেষে তিনি মুক্তি পেলেন।

১৯৪১ সালের ১৩ জুলাই ইরানের আবাদান শহরে জন্মগ্রহণ করেন তাঘভাই। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘ট্রানক্যুইলিটি ইন দ্য প্রেজেন্স অব আদারস’ (অন্যদের উপস্থিতিতে শান্তি) তাকে এনে দেয় বিশেষ খ্যাতি। এই ছবিতে তিনি দেখিয়েছিলেন ইরানি সমাজে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংঘাত—যা তাকে এক ভিন্নধারার নির্মাতা হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

এ ছাড়া তিনি সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগে ও পরে—দুই সময়েই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তাঘভাই। ২০১৩ সালে ইরানে চলচ্চিত্র ও সাহিত্য জগতে ‘ভয়াবহ সেন্সরশিপ’-এর নিন্দা করে তিনি ঘোষণা করেন, আর কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন না।

তাঘভাইয়ের জনপ্রিয় কাজের মধ্যে অন্যতম তার ব্যঙ্গাত্মক টিভি সিরিজ ‘মাই আংকেল নেপোলিয়ন’, যেখানে এক প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তার পতনকে তীক্ষ্ণ রসবোধে তুলে ধরা হয়। কর্মজীবনে তিনি ছয়টি চলচ্চিত্র, একটি টেলিভিশন সিরিজ এবং বেশ কয়েকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন।

তাগভাই অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ১৯৮৮ সালে ‘ক্যাপ্টেন খুরশিদ’ ছবির জন্য তিনি লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ব্রোঞ্জ লোপার্দ পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া ২০০২ সালে, তিনি ইরানের সরকার পরিচালিত ফজর চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

সূত্র: আল আরবিয়া

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও ফল রপ্তানিতে সহায়তার আশ্বাস এফএওর

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কু দোংইউ বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ শিল্পের উন্নয়ন ও কৃষিজাত পণ্য—বিশেষ করে ফল রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

ইতালির রোমে এফএও সদর দপ্তরে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম এবং সংস্থাটির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সময় সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এফএও মহাপরিচালক এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশকে ‘উচ্চ সাফল্য অর্জনকারী দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এফএও মহাপরিচালক বলেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, উদ্ভাবন এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এফএও।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এফএওর দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনটি নতুন ক্ষেত্রে সহায়তা চান।
এগুলো হলো গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে সক্ষমতা বাড়ানো, ফল রপ্তানি বাড়াতে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ উন্নয়ন এবং ফসল সংগ্রহ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, যার মধ্যে সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনও রয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের পুরো সমুদ্র রয়েছে; কিন্তু আমরা মাছ ধরি অগভীর পানিতে। কখনোই সামুদ্রিক সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি আমরা। বিদেশি ট্রলারগুলো আমাদের জলসীমায় মাছ ধরে।
অথচ আমরা পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নই।’

জবাবে এফএও মহাপরিচালক পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ যেন চীনের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়ে গভীর সমুদ্রের মাছের মজুদ নিরূপণ ও টেকসই আহরণ কৌশল প্রণয়নে সহায়তা নেয়।

বাংলাদেশের ফল রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি ছোট কৃষকদের ফসল সংগ্রহ পরবর্তী ক্ষতি কমাতে ভ্রাম্যমাণ কোল্ড স্টোরেজ নকশার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

কু দোংইউ বলেন, উচ্চমূল্যের নগদ ফল উৎপাদন কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে জাপানে ফল রপ্তানির মাধ্যমে চীন কৃষি উন্নয়নে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।