সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

ঐতিহাসিক মুহূর্তে এনসিপির ‘বিচক্ষণতার অভাব’ হয়েছে

জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, আজকে তার আরেকটা নিদর্শন দেখা গেল যে জাতির প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দলগুলো সব এক হয়ে কাজ করতে পারে।’

যেসব দল এতে স্বাক্ষর করেনি, তারা আরো কথা বলে স্বাক্ষর করতে পারবে বলে আশাবাদ জানান তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যাদের জুলাই ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাদের না থাকাকে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

‘আমাদের সঙ্গে আলোচনায়, ঐকমত্য কমিশনে যে আলোচনা হয়েছে, তারা প্রায় সব ব্যাপারে পজিটিভ ছিল। যে ব্যাপারটায় সমস্যা আছে, সেটা আলোচনার মাধ্যমে…পরেও তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারত…সেটা নিয়ে আমরা পরে আরো বসতে পারতাম, কথা বলতে পারতাম। আমি মনে করি, এটা বিচক্ষণতার অভাব হয়েছে তাদের, না হলে তারা অবশ্যই এটা সই করত আজকে।’ তবে এটাকে বিভক্তি বলে মনে করছেন না বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘তারা ভুল বুঝতে পারবে এবং তারা সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছবে।’

তবে বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিতর্কের জায়গা রয়ে গেল কি না—সে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা কখনো কোনো দেশেই, কোনো কালেই কখনো কিছু ছাড়বে না। আর দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের স্বভাব হচ্ছে যে আমরা বিতর্ক করতে খুব পছন্দ করি।’

তবে সব কিছুর মধ্যেই যা হয়েছে, তাকে ‘গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট’ বা বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামনে আরো আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জুলাই সনদ তত দিন জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে থাকবে। আজকের এই দিনটি শহীদদের আত্মত্যাগ, রক্তদান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সামনে আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে, সব কিছুর সূচনা আজ থেকেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে পারব। সেই কাঠামোর ভিত্তিতেই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে, রাষ্ট্রের সব অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ অন্যটির ওপর কর্তৃত্ব করতে পারবে না। সবাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। যাঁরা এখনো স্বাক্ষর করেননি, আশা করি ভবিষ্যতে তাঁরাও করবেন। এই প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কিভাবে হবে, তা সংবিধানেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২ উপধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। তাই এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। এর পরও যদি প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে চান, বিএনপি তাতে বসতে প্রস্তুত।

শেষ মুহূর্তে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কারো না আসাটা ডিস্টার্বের অংশ : মির্জা আব্বাস

এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়াটা ডিস্টার্বের অংশ বলে বলে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, কিছু দল স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠানকে ব্যাহত করছে। এটি নতুন কিছু নয়, তারা সব সময়ই এমন আচরণ করে। জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা আশা করছি, দেশ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এটি বড় অগ্রগতি। কিছু কিছু দল ডিস্টার্ব করছে, অনুষ্ঠানে আসেনি। তারা সব সময়ই ডিস্টার্ব করবে। আমরা লক্ষ রাখছি। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদ তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কারো না আসাটা ডিস্টার্বের অংশ।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

ফের কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ১০

পাকিস্তান শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ খবর এএফপির কাছে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। এক সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি দেওয়া হয়েছিল। উভয় পক্ষের বহু সেনা এবং বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটে ওই সংঘর্ষে।

একজন শীর্ষ তালেবান কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে পকতিকা প্রদেশের তিনটি জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তান এর প্রতিশোধ নেবে।’ এক প্রাদেশিক হাসপাতালের কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, পাকিস্তানি হামলায় ১০ জন বেসামরিক নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু।
এই সীমান্ত সংঘর্ষ শনিবার থেকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে ঐতিহাসিক সফরে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের দীর্ঘকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।

এরপর তালেবান পাকিস্তানের দক্ষিণ সীমান্তে আক্রমণ শুরু করলে, ইসলামাবাদও শক্ত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে।
গত বুধবার এ যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, ৪৮ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি চলবে। তবে কাবুল জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না পাকিস্তান এটিকে লঙ্ঘন করে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা মুহাম্মদ আসিফ কাবুলকে ‘ভারতের প্রোক্সি’ এবং ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী’ বলে অভিযুক্ত করেছেন।

এদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, তাদের বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী প্রথমে আক্রমণ না করলে আক্রমণ না করার জন্য। তিনি আফগান টেলিভিশন চ্যানেল অ্যারিয়ানাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যদি তারা আক্রমণ করে, তবে আপনি আপনার দেশকে রক্ষা করতে বাধ্য।

সুরক্ষা ইস্যু উদ্বেগের মূল কারণ। পাকিস্তান আফগানিস্তানকে পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছে, যা কাবুল অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান শুক্রবার এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান বারবার তার উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে, আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো কার্যক্রম চালাচ্ছে।’

যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে, পাকিস্তানের নর্থ ওয়াজিরিস্তান জেলায় একটি সামরিক ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন পাকিস্তানি আধাসামরিক সেনা নিহত হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে টিটিপির একটি গোষ্ঠী।

শুক্রবার আফগান সীমান্ত শহর স্পিন বোলডাকের বাসিন্দারা বলেছেন, সব স্বাভাবিক ছিল। ৩৫ বছর বয়সী নানি এএফপিকে বলেছেন, ‘সব কিছু ঠিক আছে, সব কিছু খোলা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি ভীত নই, তবে সবাই আলাদাভাবে চিন্তা করে। কেউ বলে তারা তাদের সন্তানদের অন্যত্র পাঠাবে। কারণ পরিস্থিতি ভালো নয়, তবে আমি মনে করি কিছু হবে না।’

জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ৩৭ জন নিহত এবং ৪২৫ জন আহত হয়েছে এবং উভয় পক্ষের প্রতি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তারা বৃহস্পতিবার কয়েক শ লোককে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখেছেন। এর মধ্যে শিশুদের মরদেহও ছিল।

৪২ বছর বয়সী নিমাতুল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি। তারা ভয় পাচ্ছে, যুদ্ধ আবার শুরু হবে। তবুও তাদের ঘর ছেড়ে ব্যবসা করার জন্য বের হতে হবে।’

সূত্র : আল-অ্যারাবিয়া

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় ১১ ফিলিস্তিনি আহত

অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কমপক্ষে ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু সংবাদ সংস্থা।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক বিবৃতিতে জানায়, জেরুজালেমের উত্তরে কাফর আকাব শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে দুই ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের টিম দুইজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়েছে— একজন হাঁটুর নিচে এবং অপরজন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।
সে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফাকে জানান, ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনারা শহরটিতে অভিযান চালায়, কয়েকজন যুবককে ধাওয়া করে এবং গুলি ও স্টান গ্রেনেড ছুড়ে।

তারা আরো জানান, অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী শহরের বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

এই অভিযানটি ঘটে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় জেনিনের দক্ষিণে কাবাতিয়া শহরে এক ফিলিস্তিনি পুরুষকে গুলি করে হত্যা করে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার হেবরনের দক্ষিণে আর-রিহিয়া গ্রামে ফুটবল খেলতে থাকা এক ফিলিস্তিনি শিশুকেও ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করে।

আরো এক ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস

গাজা উপত্যকায় উদ্ধার করা আরো এক বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। একই সঙ্গে তারা মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে যাতে তারা ইসরায়েলকে সীমান্ত ক্রসিংগুলো খুলে দিতে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে চাপ প্রয়োগ করে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের যোদ্ধারা স্থানীয় সময় রাত ১১টায় (গ্রিনউইচ মান সময় ২০:০০) মরদেহটি হস্তান্তর করেছে। তবে মরদেহটি কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

গোষ্ঠীটি জানায়, কিছুদিন আগে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল এবং এটি এক ‘দখলদার বন্দির’ — অর্থাৎ মরদেহটি একজন ইসরায়েলির বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামাসের হাতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বন্দি হওয়া কোনো নাগরিকদের নয়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর কিছুক্ষণ পর নিশ্চিত করে যে, হামাস গাজায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে এক বন্দির কফিন হস্তান্তর করেছে এবং তা ইসরায়েল গ্রহণ করেছে।

কফিনটি এখন ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জাতীয় ফরেনসিক মেডিসিন কেন্দ্রে নেওয়া হবে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারকে জানানো হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে জাতির সঙ্গে গাদ্দারি : জামায়াত নেতা তাহের

জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে তা জাতির সঙ্গে গাদ্দারি হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার আগেই জামায়াত স্বাক্ষর করল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতদিন যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে আমরা একমত। এজন্য আমরা স্বাক্ষর করেছি।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা যেন এই সরকার বাস্তবায়ন করে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থা রেখেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি উনিও উনার কথা ঠিক রাখবেন এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো সংকট তৈরির ক্ষেত্রে উনারা যেন কোনো ধরনের হেজিমনি (কর্তৃত্ব) তৈরি না করেন।

আজকের দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মাইলফলক : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে জাতীয় সনদ হয়েছে, তার বাস্তবায়ন দ্রুততার সঙ্গে ঘটবে। আজকের এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব এবং অনন্য সময় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, একটি ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি হচ্ছে আমাদের দীর্ঘপথের যাত্রার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।’

তিনি বলেছেন, ‘আমরা মনে করি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আমাদের যে চেষ্টা, সবার যে চেষ্টা, সে চেষ্টা একদিনে সাফল্য অর্জন করবে না।
একটি দলিল কেবলমাত্র সেটা নিশ্চয়তা দেবে না। আমরা আশা করি, এই যে জাতীয় দলিল তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন ঘটবে। দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন ঘটবে। নাগরিকদের মতামতের মধ্য দিয়ে এই দিক নির্দেশক, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে পরিচালনা করবে।
কিন্তু আমাদের অনেকটা পথ যেতে হবে।’

আজ শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সইয়ের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সংবলিত জুলাই সনদ আজ বিকাল ৫টায় স্বাক্ষরিত হয়।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের মতের পার্থক্য থাকবে, রাজনীতিতে মতপার্থক্য না থাকলে তা গণতান্ত্রিক হয় না।
মতের পার্থক্য থাকবে, পথের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, বহু স্রোত যেন মোহনায় এসে মেলে; যেন আমরা বলতে পারি যে—আমাদের অনেক স্রোত, মোহনা একটি; সেটি হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করা।’

‘আমাদের বহু স্রোত, আমরা সকলে এক জায়গায় যে—আমরা যেকোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই দাঁড়িয়ে থাকব। সেই স্বপ্ন, সেই প্রত্যাশা, সেই চেষ্টার স্মারক যতটুকু আমরা অর্জন করেছি, এটি প্রথম পদক্ষেপ।’

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, ‘আত্মদানের মধ্য দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শকে ধারণ করে যে রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, গত ৫৩ বছর ধরে যা বারবার হোঁচট খেয়েছে।

‘বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের প্রাণপণ লড়াই করে গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিমূলক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে প্রয়াস চালিয়েছেন, যার অনন্য উদাহরণ হচ্ছে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৮ সালে আমরা দেখতে পেয়েছি কোটাবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন, আমরা দেখতে পেয়েছি নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সর্বোপরি ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের যে গণ-অভ্যুত্থান।’

তিনি বলেন, ‘সেই চেষ্টা, সেই সাহস, সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা এই জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। আমাদের যে স্বপ্ন, বাংলাদেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা—তাকে ধারণ করে, তাকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবার জন্য একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা; তাতে একটি দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় এক বছর ধরে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এই জাতীয় সনদে উপনীত হয়েছেন।’

‘সবার আন্তরিকতা সবার প্রচেষ্টা প্রত্যেকটি পদে পদে তাদের অংশগ্রহণের জন্য আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কমিশনের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। কিন্তু কেবলমাত্র কমিশন নয়, কেবলমাত্র রাজনৈতিক দল নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন।’

সনদ রাষ্ট্রের একটি সামাজিক চুক্তি মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই জাতীয় সনদ কেবলমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি নয়, এ হচ্ছে নাগরিকের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং রাষ্ট্রের একটি সামাজিক চুক্তি। এই সামাজিক চুক্তি, এই যে প্রত্যাশা—এর প্রত্যেকটি বিষয়ের মধ্যে জড়িত আছে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের, তাদের কষ্টের, তাদের প্রচেষ্টার প্রত্যেকটি বিন্দু যুক্ত আছে।’

‘গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন; যারা আজকেও আহত আছেন, জুলাইযোদ্ধারা আজকেও সামগ্রিকভাবে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন। তাদের প্রত্যেকের অবদানের মধ্য দিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছে। কেননা জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলন।’

সনদের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন যারা, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, ‘এই অগ্রসরে নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের মানুষদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সেই মতপার্থক্য সত্ত্বেও তারা এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

‘সেই দিক থেকে আজকের এই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এই অনুষ্ঠান ঐতিহাসিক। আমরা যে দীর্ঘ পথ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সূচনা হয়েছে, তারই একটি পর্যায়ে এটি আমাদের অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে যে দিকনির্দেশনা, যে পথ নির্দেশ আমরা পাই; তাকে অগ্রসর করে নিয়ে গিয়েই আমরা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘যা সাম্য মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রতিষ্ঠা করে, সেই প্রচেষ্টায় আমরা সকলে এক, আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ। কেননা সেখানে আমি-আপনি-তুমি-সে, এইভাবে আমরা বিভক্ত নই; আমরা সকলে এক, সেই প্রচেষ্টা, সেই সংগ্রাম সেই প্রয়াস, সেই পথযাত্রা অব্যাহত থাকবে। সেই প্রত্যাশা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের, সেই প্রত্যাশা আমাদের সবার।’

ফিটনেস ধরে রাখতে ভাত খান না অমিতাভ বচ্চন

অমিতাভ বচ্চনের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-এর ১৭তম আসরের জুনিয়রস সপ্তাহ চলছে এখন। সম্প্রতি হটসিটে এক ছোট ‘বেয়াদপ’ বাচ্চার মুখোমুখি হয়ে কয়েকদিন ধরে বেশ চর্চায় বিগ বি। তা নিয়ে কেউ কেউ ওই ছোট্ট প্রতিযোগীর বাবা-মাকে দুষছেন, কেউ আবার অমিতাভের ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন।

অমিতাভ বচ্চনের সামনে ছিলেন স্প্রুহা তুষার শিনখেড়ে নামে এক প্রতিযোগী।
খুদের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিগ বি এবং তার প্রশংসাও করেছিলেন। তখন প্রতিযোগীর মা জানান, মেয়ে এমনিতে অলরাউন্ডার হলেও খাবারে খুব কাঁচা।

এ বিষয়ে অমিতাভ বচ্চন জানান, তিনি কী খান আর কোন খাবার পছন্দ হলেও শতহস্ত দূরে থাকেন।

এরপর প্রতিযোগীর মা অমিতাভ বচ্চনকে বলেছিলেন যে তার মেয়ে আস্তে আস্তে খায় এবং অন্যান্য জিনিসেও আলাদা থাকে।
এ বিষয়ে স্প্রুহা বিগ বি-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি যেমন আস্তে আস্তে খাই, তেমনি আপনার খাদ্যাভ্যাস কেমন?

এর উত্তরে অমিতাভ জানান, ফিটনেস ধরে রাখতে তিনি ভাত খান না। বললেন, আমি ভাত, কেক, পেস্ট্রি খাই না। জিলাপি পছন্দ করি কিন্তু খেতে পারি না। কিন্তু আমি যা পাই তাই খাই।

এরপর অমিতাভ বচ্চন আরো বলেন, আমি একটি রুটিন মেনে চলি। কারণ, আমাকে তাড়াতাড়ি সেটে আসতে হয়, অন্যথায় এই লোকেরা চাকরি থেকে বরখাস্ত করবে। আমি রাত ১টায় বাড়ি ফিরি। আপনাদের কাছ থেকে আমি যে ভালোবাসা পাই তা আমাকে পূর্ণ করে রাখে।

৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চন ফিট এবং সক্রিয়।
এর আগে কেবিসি-র এক পর্বে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি কুমড়ো, করলা ও কাঁঠালের মতো খাবার খান না। এগুলোর নাম শুনলেই তার মনে হয় এগুলো খাওয়ার মতো কিছু নয়।

আরো ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে চেলসি তারকা

চেলসির জন্য বড় ধাক্কা! দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কোল পালমারকে আরো অন্তত ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। কুঁচকির চোটের কারণে ইতিমধ্যেই দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ২৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ তারকা। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা।

মারেস্কা বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম পালমারকে নটিংহাম ফরেস্ট ম্যাচে পাওয়া যাবে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।
দুর্ভাগ্যবশত, তাকে আরো ছয় সপ্তাহ বাইরে থাকতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি তাকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে যেন পুরোপুরি ফিট অবস্থায় ফিরে আসে। চিকিৎসকরা জাদুকর নন, তাই সময়টা নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না, ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে মাত্র ২০ মিনিট খেলার পরই মাঠ ছাড়তে হয় পালমারকে। এরপর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে। তবে চোটের জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন কোচ।

মারেস্কা আরো যোগ করেন, ‘সে এখন বেশ ভালো আছে, সব ধরনের থেরাপি নিচ্ছে।
দেখতে বেশ শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী লাগছে।’

তবে চেলসি শিবিরে আরো কিছু ইনজুরির দুশ্চিন্তা রয়েছে। মইসেস কাইসেদো, এনজো ফার্নান্দেজ ও পেদ্রো নেতো নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনিশ্চিত।

অন্যদিকে রক্ষণভাগে কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। তোসিন আদারাবিওয়ো ও ওয়েসলি ফোফানা ফিরেছেন দলে, সঙ্গে তরুণ মিডফিল্ডার আন্দ্রে সান্তোসও অনুশীলনে ফিরেছেন।

মারেস্কা বলেন, ‘মইসেস, এনজো ও পেদ্রো গতকাল অনুশীলনে অংশ নেয়নি। আজ যদি তারা ট্রেনিংয়ে নামতে পারে, তাহলে দেখব কী করা যায়। না হলে তারা আগামীকালের ম্যাচে থাকবে না। তবে রিস জেমস এখন পুরোপুরি ফিট।’

চেলসি আগামীকাল শনিবার নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে খেলবে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’তে সীমান্তে হাজারো সেনা মোতায়েন ভেনিজুয়েলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার ও ধারাবাহিক নৌ হামলার জবাবে ভেনিজুয়েলা বৃহস্পতিবার কলম্বিয়া সীমান্তে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অভিযানে অন্তত ২৭ জনকে হত্যা করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সামরিক তৎপরতার পেছনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে কারাকাসে আশঙ্কা বাড়ছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল মিশেল ভালাদারেস জানান, কলম্বিয়া সীমান্তবর্তী তাচিরা প্রদেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেখানে বৃহৎ সামরিক মহড়া চলছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জানান, তিনি ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে গোপন সিআইএ অভিযান অনুমোদন করেছেন এবং ‘প্রয়োজনে স্থল অভিযানে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সমুদ্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি, এখন স্থলভাগের দিকেও নজর দিচ্ছি।

এর একদিন পরই মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ আমেরিকা অভিযানের প্রধান অ্যাডমিরাল অ্যালভিন হোলসি হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক নেতৃত্বে একের পর এক পরিবর্তনের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সিআইএ-নির্দেশিত এই অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।’

বিয়ের পরিকল্পনার মাঝেই ভেঙে গেল টম ক্রুজ-আরামাসের প্রেম

কিছুদিন আগে অর্থাৎ চলতি মাসের শুরুর দিকে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে হলিউডে গুঞ্জন উঠেছিল, মহাকাশে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন টম ক্রুজ ও আনা ডে আরমাস।

সেই গুঞ্জনের মাস খানেকও পার হয়নি, তার আগেই এল বিচ্ছেদের খবর। ভেঙে গেছে টম ক্রুজ ও আনা ডে আরমাসের প্রেমের সম্পর্ক। নয় মাসের সম্পর্কের পর তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সান।

এ দুই তারকার এক ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য সানকে জানিয়েছে, ‘টম ও আনা একসঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছেন, তবে তাদের সম্পর্ক এখন শেষ হয়েছে। তাঁরা আর প্রেমের সম্পর্কে নেই। তবে তারা ভালো বন্ধু হিসেবেই থাকতে চান। তারা বুঝতে পেরেছেন, সম্পর্কটা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার নয়, তাই বন্ধু হিসেবে থাকাই ভালো।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, টম ক্রুজ আর আনা ডের মধ্যে আগের মতো উন্মাদনা আর নেই, কিন্তু পরস্পরের সঙ্গ এখনো তাঁরা উপভোগ করছেন।

বিচ্ছেদের খবরটি এমন সময়েই সামনে এলো, যখন তাদের দুজনের একসঙ্গে একটি সিনেমায় কাজ করার কথা ছিল। ‘ডিপার’ নামে একটি থ্রিলার ছবিতে কাজ করার পরিকল্পনা করছিলেন টম ক্রুজ ও আনা ডে আরমাস।

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তনের কারণে ছবিটি স্থগিত করা হয়েছে।
তবে সেই গুজব উড়িয়ে দিয়ে সূত্রটি জানিয়েছে, ‘আনাকে ইতিমধ্যেই তার পরের ছবিতে কাস্ট করা হয়েছে, তাই তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।’

ভারমন্টে হাতে হাত ধরে ঘোরার সময় টম ক্রুজ ও আনা ডে আরমাসের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। এ ছাড়া তারা মাদ্রিদ ও লন্ডনে রোমান্টিক ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। টম ক্রুজের চালানো হেলিকপ্টার রাইডের সময় তাদের রোমান্স বেশ নজর কেড়েছিল।

এর আগে ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ‘নক আউট’, ‘নো টাইম টু ডাই’ ও অ্যাকশন মুভি ‘ব্যালেরিনার’ খ্যাত অভিনেত্রী আনা ডে আরমাস।
সেই সম্পর্ক ভাঙার পর অভিনেতা পল বুকেডাকিসের সঙ্গে প্রেম হয় আরমাসের, তবে সেই সম্পর্কও টেকেনি।

অন্যদিকে ২০১২ সালে কেটি হোমসের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনেকের সঙ্গেই টমের প্রেমের কথা শোনা গেছে। কোনো সম্পর্কেই থিতু হননি ‘মিশন: ইমপসিবল’ তারকা।