শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

তফসিল ঘোষণার পর আসিফ-মাহফুজের পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে : প্রেসসচিব

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের পদত্যাগপত্র প্রধান উপদেষ্টা গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাদের পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে।

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রেসসচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

শফিকুল আলম বলেন, ‘উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ আজ বিকেল ৫টা নাগাদ প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। তাদের পদত্যাগপত্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।’

শফিকুল আলম জানান, পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই তফসিল ঘোষণা করবেন।

আগামী নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ : প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী আগামী নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দানকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ এসময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি।
বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে—এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।

আগামী নির্বাচন ও গণভোট দুটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য ‘ গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশটাকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।’

সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।’ তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন—‘হ্যাঁ’-তে দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।’ তিনি কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীরা যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কিভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।’

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরবে : গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে জনগণের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকালে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল শক্তি হলো জনগণ। তারা জেগে উঠলে কোনো শক্তিই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করতে পারে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দেবে।

তিনি আরো বলেন, গত ১৭ বছর ধরে জনগণ আওয়ামী সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে ছিল।
এ সময়ে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। যদি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ বিএনপিকে আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেবে।

আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে ধানের শীষের সালাম পৌঁছে দিতে হবে। তারেক রহমানের সালাম, খালেদা জিয়ার সালাম।
ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

গণসংযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মস্কোর কাছে বিধ্বস্ত রুশ সামরিক কার্গো বিমান, নিহত ৭

রাজধানী মস্কোর কাছে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি মালবাহী (কার্গো) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাইলটসহ ওই বিমানটিতে থাকা ৭ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার মস্কোর নিকটবর্তী ইভানোভো ঘটেছে এই ঘটনা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণায় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এএন-২২ মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট এয়াক্রাফট সিরিজের একটি উড়োজাহাজ। রুশ সামরিক বাহিনীতে এ সিরিজের উড়োজাহাজগুলো কার্গো বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিমানটির ইঞ্জিনে কিছু সমস্যা দেখা গিয়েছিল। সেই ত্রুটি মেরামতের পর পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো (টেস্ট ফ্লাইট) হয়েছিল বিমানটিকে। এ সময় বিমানটিতে পাইলটসহ ৭ জন যাত্রী ছিলেন।

সামরিক বিমানবন্দর থেকে টেক অফ করার কিছুক্ষণ পরই সেটি ইভানোভো জেলার একটি এলাকায় আছড়ে পড়ে। রাজধানী মস্কো থেকে ইভানোভোর দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার।

“উড়োজাহাজটি একটি বিরান, জনশূন্য এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে পাইলট ও যাত্রীরা ছাড়া আর কারো নিহত বা আহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই”, বলা হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে। আরও বলা হয়েছে, বিমান বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। সেই কমিটি ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে।

সূত্র : তাস

সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ, অপেক্ষা তফসিলের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপলক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনের সকল প্রস্তুতি শেষ হওয়ায় এখন সকলের দৃষ্টি তফসিল ঘোষণার দিকে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক থাকলে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে বুধবার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ভাষণ রেকর্ড করতে বলা হয়েছে। সিইসির এই ভাষণেই আগামী সংসদ ভোটের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে বলতে ৫, ৮ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সবচেয়ে বেশি সম্ভবনা রয়েছে। তফসিল ও ভোটগ্রহণের দিন নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। তবে বিকল্প দিন হিসেবে কমিশন চাইলে ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারিকেও বেছে নিতে পারে।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদের তফসিল চলতি সপ্তাহে হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আজ (মঙ্গলবার) তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তফসিল ঘোষণার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে ইসি। আসন বিন্যাস, আইন অনুযাযী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদেন প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে। সেখানে মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইন-শৃঙ্খলার সেল গঠন এগুলোর ফরমেটগুলো রেডি রয়েছে।

একই দিন দুপুরের দিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির দায়িত্ব নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আসবে তফসিল ঘোষণার পর। চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না।

তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। বুধবার রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত শেষে সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা হবে। এতে রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামীকাল দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করতে যাবে নির্বাচন কমিশন।

ইসির এক কর্মকর্তা জানান, ভোটগ্রহণের পর রোজার আগে অন্তত সপ্তাহখানেক সময় হাতে রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন। কারণ, ভোটের দিন অনিয়ম, মারামারি বা হানাহানির কারণে যেসব কেন্দ্রে বা আসনে ভোট বন্ধ অথবা স্থগিত করা হবে, সেসব কেন্দ্র বা আসনে এক সপ্তাহের মধ্যে ভোট শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। সেটা যেন রমজানে গিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। এ ছাড়া নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পাবে তাদের সরকার গঠন করতেও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। সেটাও যেন রমজানের আগে সম্ভব হয় সে সুযোগও রাখতে চায় ইসি।

আগামী বছর পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন যদি সপ্তাহখানেক সময় হাতে রাখতে চায় তাহলে ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে ভোট নিতে হবে। এদিকে শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি।
সরকার অন্তত এর আগে নির্বাচন দেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই শবে বরাতের পর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের (১৫ তারিখ) মধ্যেই ভোট দিতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি ৫ তারিখ বৃহস্পতিবার শবে বরাতের বন্ধ পড়ে যায় তাহলে এর পরের সপ্তাহের যেকোনো দিন (৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট নিতে হবে।

এর আগে দেশে ১২টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার ও জাতীয় পার্টি ২ বার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ প্রথম, সপ্তম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে; বিএনপি দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে। জাতীয় পার্টি তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। তবে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ তাদের মেয়াদকাল পূরণ করেছে।

বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল। এ নির্বাচনে মোট ৮৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল। ওই নির্বাচনে মাত্র ২৬.৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছিল।

জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডেকেছেন উপদেষ্টা আসিফ, পদত্যাগের গুঞ্জন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডেকেছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য উপদেষ্টার পদ থেকে তার পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে।

মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় থেকে জরুরি প্রেস ব্রিফিং ব্রিফিংয়ের কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে, আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে। সেজন্য ইতোমধ্যে এই আসনের ভোটারও হয়েছেন তিনি।

‘সমসাময়িক বিষয় নিয়ে’ এই প্রেস ব্রিফিংয়ের কথা বলা হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: সালাউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন কি না সেটি আমার জানা নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বা সরকারের অন্য যে কোনো পদে থেকে কেউ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সরকারের উপদেষ্টা বা অন্য যে কোনো পদে থেকে কেউ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তারা নিজেরা যেমন নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবেন না, এমনকি কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না।

আনোয়ারুল আরও বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারের পদে থেকে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়া যাবে না। প্রচার করা না গেলে তো প্রার্থীও হতে পারবেন না। কাজেই সরকারের কোনো পদে থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণায় সিইসির ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে।

উপদেষ্টা পদে থেকে যেহেতু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই সেজন্য এই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

পদে থেকে কোনো উপদেষ্টা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি আনোয়ারুল

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো উপদেষ্টা পদে থেকে বা সরকারের অন্য যেকোনো পদে থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না৷ এমনকি ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না।

এই নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তফসিল ঘোষণা জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে ইসি। আসন বিন্যাস, আইন অনুযাযী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদেন প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে। সেখানে মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইন শৃঙ্খলার সেল গঠন এগুলোর ফরমেটগুলো রেডি রযেছে। তফসিল ঘোষণার পরপর সেগুলো ধারাবাহিকভাবে আমরা জারি করবো।

ইসি আনোয়ারুল বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী সরকারের পদে থেকে নির্বাচনী প্রচার করা যাবে না। প্রচার করা না গেলে তো প্রার্থীও হতে পারবেন না। কাজেই সরকারের কোনো পদে থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রাহমানেল মাছউদ বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির দায়িত্ব নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আসবে তফসিল ঘোষণার পর। চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত শেষে সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা হবে। এতে রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামীকাল দুপুরে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করতে যাবে নির্বাচন কমিশন।

সিদ্ধিরগঞ্জে ১০ হাজার ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাইনাদী নতুন মহল্লার শাপলা চত্বর সংলগ্ন মায়া টি-স্টোরের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন জিহাদুল ইসলামকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেক ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা জিহাদুল ইসলাম। সে পাইনাদী নতুন মহল্লার পিএমএ মোড়ে বসবাস করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, জিহাদুলকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

ইশতেহার তৈরিতে অনলাইনে মতামত নেওয়া হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহার তৈরিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মতামত নেবে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ লক্ষ্যে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আসছে বলেও পোস্টে জানান তিনি।

পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ‘আপনার একটি সুন্দর পরামর্শ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের আগামী।
তাই আপনার মতামত সঙ্গে নিয়েই তৈরি হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার, ইনশাআল্লাহ।’

কথার ফুলঝুরিতে রাষ্ট্র চলে না, পরিকল্পনা লাগে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিশদ পরিকল্পনা শুধু বিএনপির আছে, আর কোনো দলের নেই। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্র্যাক রেকর্ড আমরা অতীতে দেখেছি। তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা নেই। কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাষ্ট্র চলে না।
জনগণের খাবার ও অর্থের সংস্থান হয় না। এসব কিছুর জন্য পরিকল্পনা লাগে। জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কীভাবে আমরা দেশ পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করব। পুরো পরিকল্পনা জনগণ আমাদের কাছে দেখতে চায়।
দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিশদ পরিকল্পনা শুধু বিএনপিরই আছে, আর কোনো দলের নেই।

গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।

এ সময় দেশের দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নারীশিক্ষার বিস্তার, ক্রীড়ার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব দূর, তরুণদের প্রশিক্ষণ, শিল্প খাতের প্রসার, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিএনপির পরিকল্পনাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে নেতা-কর্মীদের তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অধিকার রক্ষায় (যেমন তালপট্টির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পানির ন্যায্য হিস্সা আদায়) বিএনপির সুস্পষ্ট ও সফল ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবনবাজি রেখে ভারতকে তাড়িয়ে বাংলাদেশেরই অংশ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। পানির ন্যায্য হিসাব পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়েছে একমাত্র বিএনপি। তারও আগে ১৯৭৫ সালে সিপাহি জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান শাসনভার গ্রহণ না করলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেত।

বিএনপি দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বারবার মুক্ত করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির আমলে দুর্নীতির সূচক কমতে থাকে। প্রতিবার বিএনপির সরকার দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে কাজ করেছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার ২০০১-২০০৬ সালের শাসনামলে ধীরে ধীরে দেশকে দুর্নীতির ‘তকমা’ থেকে বের করে আনা হয়। তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করেছিলেন। তখন সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে অনুমতি লাগত না। অথচ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সেই আইন পাল্টে ফেলে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এসব নিয়ম পাল্টে ফেলা হবে। দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মূল জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের কেন ঘরের মধ্যে রেখে দেব? বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রায় চার কোটি পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ। যে পারিবারের প্রধান নারী রয়েছেন, তাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সমাজের দুস্থ কিংবা পিছিয়ে পড়া নারীরা আগে এই কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী মা হিসেবে নারীরা নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অন্যায় যে করে, সে কোনো দলের হতে পারে না, সে অন্যায়কারী। অতীতে দলের কেউ অন্যায় করলে বিএনপি দলীয়ভাবে নয়, আইন দিয়ে বিচার করেছে। ভবিষ্যতেও সেটাই করবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তি বড় নয়, যেহেতু এটা দলীয় কর্মসূচি, তাই সবার আগে দলকে নিয়ে আসতে হবে। দল যদি টিকে থাকে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন যদি এই দলের পক্ষে থাকে তাহলেই আমরা দেশ গড়ার কর্মসূচিগুলো সফল করতে পারব।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের সমর্থন পেতে হলে, যার যার এলাকায় টিম করে দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো লিফলেট আকারে যে যত কপি পারেন ছাপিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের আজকে প্রতিজ্ঞা, আমাদের আজকের কর্মপন্থা হলো এই পরিকল্পনাগুলোর সঙ্গেই আমরা দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করব। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মানুষের কাছে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বলতে হবে আমার দল বিএনপি অতীতে দুর্নীতি দমন, দেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান তৈরি ও ইন্টারনেট সুবিধা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বেগম খালেদা জিয়ার করা। কাজেই দেশের কল্যাণে যদি কিছু করতেই হয়, তবে বিএনপিই করতে পারবে। মানুষকে বলতে হবে, ভবিষ্যতে যদি আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকে তবে বিএনপি আপনাদের কল্যাণে কাজ করবে। বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলোর প্রতিটি বাক্য জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। মা বোন, তরুণ প্রজন্ম, ইমাম, মুয়াজ্জিন সবাইকে জানাতে হবে। আমাদের হাতে কোনো জাদু নেই, জনগণ সেটা জানে। জনগণ দেখতে চায় বিএনপি করতে চায় কি না, করবে কি না। দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো যদি ৪০ ভাগও আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। জনগণ আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে। কাজেই আর বসে থাকার সময় নেই।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতা-কর্মী মনে রাখবেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সবকিছু নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। আমারা যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। দেশকে আমরা ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে পারব। যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, এ দেশের অস্তিত্ব নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন দেখা দেবে। কাজেই ঘরে বসে থাকার বিন্দুমাত্র সময় নেই। সবাইকে সজাগ হতে হবে। মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এটাই হোক আমাদের দেশ গড়ার শপথ।’ ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কখনো থামা উচিত নয় : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কখনো থেমে থাকা উচিত নয়। ন্যায়সংগত প্রতিবাদের বিজয় অনিবার্য। তারেক রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল এক পোস্টে বলেন, ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এই বছরের প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক অধিকার হারানো নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোথাও যেন ভবিষ্যতে আর কেউ মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশ দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালো অধ্যায় পার করেছে। তখন মানবাধিকার সমাধি, গণতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নেওয়া হয়েছিল হাতের মুঠোয়। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছিলেন তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক কিংবা সাধারণ মানুষ যেই হোন না কেন, মিথ্যা মামলা, কারাবাস, শারীরিক নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন তারেক রহমান : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত শতাধিক সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক ছিলেন।

বৈঠকে সামরিক বাহিনীর ১০১ জন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভা পরিচালনা করেন মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর।

তিনি বলেন, নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে যারা নির্দয় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নির্মম নিপীড়নে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। যারা এখনো নির্যাতিত ও নিপীড়িত, তাদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সহমর্মিতা।

আজ আমরা এক নতুন যাত্রায় আছি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকারের সুরক্ষার যাত্রা। আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা এমন হতে হবে, যেখানে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, দারিদ্র্য আজ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর মানবাধিকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দারিদ্র্য দূরীকরণ একটি অর্জনযোগ্য লক্ষ্য।

তারেক রহমান বলেন, মানবাধিকার কোনো বিশেষ দিনের বিষয় নয়, এটি প্রতিদিনের মানবাধিকার হরণের প্রতি লক্ষ্য রাখা ও প্রতিকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আপামর জনগণের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাবন্দি ও মিথ্যা মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে যে নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, তা এক চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই অধ্যায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কখনো থেমে থাকা উচিত নয়। ন্যায়সংগত প্রতিবাদের বিজয় অনিবার্য। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনা করছি। তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে দেশের মানুষ মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ। মানবাধিকার সুরক্ষিত রেখে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এ যাত্রায় সবার এগিয়ে আসতে হবে, জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার দিবসে এটাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।