শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

আমার নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বিগ্ন : প্রেসসচিব

স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোন আমার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের আগে তারা আমাকে আরো সতর্ক হতে বলেছেন, তারা ভীত। কিন্তু সত্যি বলতে আমি নই—এমনটা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, ‘আজ আমার এ দায়িত্বের ১৬ মাস পূর্ণ হলো। লেখার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু গতকালের নৃশংস গুলিবর্ষণের পর থেকে ওসমান হাদি আমার ভাবনায়, আমার দোয়ায়।’

পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের নানা প্রান্তে ঘুরি।
যেখানে যাই, সেখানে লাখ লাখ হাদিকে দেখি। হাসিনা আর আসাদুজ্জামান খান কামাল—বাংলার কসাইরা আর কতজনকে মারতে পারবে? এ দেশের রাজনীতির হাল ধরেছে এক নতুন প্রজন্ম। তারা এক স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, কিন্তু তাদের মিশন এখনো শেষ হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রজন্মের কোটি কোটি হাদি যতক্ষণ তাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকার করবে, ততক্ষণ ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখি না।
আশা হারানোরও কোনো কারণ দেখি না। আনাসের মতো যিনি শহীদ হওয়ার আগে মায়ের কাছে হৃদয়বিদারক একটি চিঠি লিখেছিলেন—এ তরুণরা তাদের পরিবারের কাছে অঙ্গীকার করেছে, দেশটা ঠিক না করা পর্যন্ত থামবে না তারা।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। সামনে ধাক্কা থাকবে। শক্তিশালী বিদেশি ও দেশীয় শক্তি সাময়িকভাবে ইঞ্জিন বিকল করার চেষ্টা করবে।
কিন্তু এ তরুণরা ভয় পায় না। তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই ও আগস্টে আমরা হারিয়েছি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আনাস, আহনাফ, ফাইয়াজ, দীপ্ত দে, নাইমা ও রিয়া গোপকে। বিদেশি চাপিয়ে দেওয়া এক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা হারিয়েছি আবরার ফাইয়াজকেও। তবু চারদিকে ছড়িয়ে আছে লাখ লাখ হাদি ও নাবিলা। তারা ভয় পায় না। আমিও না।’

দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও রিটার্নিং অফিসারসহ দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন পরিচালনা শাখা থেকে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্টদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণা করেছেন।
তফসিল ঘোষণার পরদিনই ঢাকায় একজন সম্ভাব্য প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং লক্ষ্মীপুর নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিল সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসির উপ-সচিব জানান, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবের ‘পুলিশ এসকর্ট’ বাড়ানো; ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার রিটার্নিং অফিসারদের জন্য ‘গানম্যান’ নিয়োগ ও অন্য রিটার্নিং অফিসারদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সারাদেশের নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গতকালের ঘটনা (হাদির ওপর হামলা) এবং লক্ষ্মীপুর, মঠবাড়িয়ায় দুটি নির্বাচন অফিসে অগ্নিকাণ্ড ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসি সচিব।

সিইসি, কমিশনারসহ সচিবের বিশেষ নিরাপত্তা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে এতে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং সিনিয়র সচিবের বিশেষ নিরাপত্তা বিধান প্রয়োজন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাঁচ শতাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
এরমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার; ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ৬৪ জেলা প্রশাসক রয়েছেন, যারা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকদের স্থানীয়ভাবে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রয়েছেন তিনজন; তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বলা হয়েছে।

দেশের সব নির্বাচন অফিসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা

আইজিপির কাছে পাঠানো ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিস ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, জেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচনি সরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে।

সরঞ্জামসহ আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা দিয়েছে।

যেকোনো মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে : তারেক রহমান

যেকোনো মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের কল্যাণে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
ষড়যন্ত্র থামানো যাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে, তাই যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হতে হবে।’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর যে দুষ্কৃতকারীদের হামলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি, এই হামলার পেছনে কারো কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি না ভেবে দেখতে হবে।’

এ সময় তিনি কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে বিএনপির এক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘এসব ঘটনা ঘটিয়ে কেউ হয়তো ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।’

অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী স্বৈরাচার যেভাবে দেশ পরিচালিত করেছে, আমরা সেভাবে দেশ পরিচালিত করব না।
আমরা তার পরিবর্তন আনব, কল্যাণ করব। সে জন্য এই দেশ গড়ার পরিকল্পনা আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা নির্বাচিত হলে বাস্তবায়ন করব।’

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের কাছে আমাদের যেতে হবে।
একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনারা মানুষের সঙ্গে মেশেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের বসে থাকলে চলবে না।’

বিএনপির দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের এখন বড় দায়িত্ব হলো বিএনপির প্রত্যেকটি পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিএনপির একজন নেতা হিসেবে, একজন কর্মী হিসেবে আমাদের পরিকল্পনাগুলো জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। শুধু জনগণের দোরগোড়ায় নিলে হবে না, এই কাজের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।

সিইসির জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চাইল ইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের জন্য বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা (এসকর্ট) চেয়েছে ইসি।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি জারি করা হয়েছে। এ সূত্রে সিইসি ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং সিনিয়র সচিবের বিশেষ নিরাপত্তা বিধান প্রয়োজন।

বর্তমানে সিইসির জন্য গাড়িসহ পুলিশি এসকর্ট বিদ্যমান থাকলেও নির্বাচনকালীন তার জন্য অতিরিক্ত আরো একটি গাড়িসহ পুলিশি এসকর্ট দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, চার কমিশনার ও ইসি সচিবের ঢাকার বাসভবন ও অফিসে যাতায়াতসহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য গাড়িসহ পুলিশি এসকর্ট চাওয়া হয়।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, আরেক চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার পুলিশ কমিশনারদের এই তিন শহরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় গানম্যান নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর আরেকটি চিঠিতে দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাতের ষড়যন্ত্র ‍রুখতে ঐক্যের ডাক রাজনৈতিক দলগুলোর

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সব প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।

শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়।
এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।’

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে।’

এ সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব? সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।’

এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টক শোতে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে।’

‘আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমরা এটা নেব না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই টানাপড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয় হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।’

‘নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায় রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে,’ বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে।’

রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শুধু দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।’

এমপি প্রার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : ডিএমপি কমিশনার

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী। আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের নিরাপত্তায় আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাইম সাসপেক্টকে খুঁজতেছি।
হোপফুলি আমরা হিট করতে পারব। আমরা জনগণের সহযোগিতা চাইছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখনো ২৪ ঘণ্টা পার হয়নি, শিগগিরই হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই শনাক্তকারীর নাম বলছি না।’

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে নেওয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলছে।

হাদির হামলাকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টায় জড়িতকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এমন তথ্য জানান।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জন্য দোয়া চেয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘তাকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
সবার দোয়ায় তিনি আমাদের মধ্যে আবার ফিরে আসতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান আছে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় খুব তাড়াতাড়ি তাকে ধরতে পারব।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
এতদিন শুধু সরকারি কর্মচারীদেরই হাতিয়ার দেওয়া হতো। এখন যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তারাও যদি হাতিয়ার চান, তাহলে তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে। তাদের কোনো হাতিয়ার আমাদের কাছে জমা থাকলে ফেরত দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।
সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ৪ স্তরের নিরাপত্তা, প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থেকে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দিবসটিকে সামনে রেখে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে রং-তুলির আলপনার পাশাপাশি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে ফুল দিয়ে।

১৬ ডিসেম্বর ভোরে ভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময়ও সাধারণ জনগণের প্রবেশ সীমিত থাকবে। মহান বিজয় দিবস পালনে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ধোয়ামোছাসহ চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

জনগণের জান-মালের নিরাপত্তাসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাঁদের স্মরণে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পোশাকে এবং সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
তারা জনগণের জান-মাল রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

রেজাউল করিম আরো বলেন, জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের যা যা করণীয়, আমরা সব ব্যবস্থা করেছি। আজ ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাদা পোশাকে এবং পোশাকে ফোর্স মোতায়েন থাকবে, যা ১৬ ডিসেম্বর শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ জনগণ যতক্ষণ থাকবে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততক্ষণ থাকবে।

সরেজমিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধের পাকা অংশে ধোয়ামোছার কাজ চলছে, ইটগুলো ঘষে-মেজে খয়েরি ও সাদা রং ব্যবহার করা হচ্ছে।
লেক সংস্কার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, এলইডি লাইট স্থাপন, ফুলের গাছ দিয়ে সাজসজ্জার পাশাপাশি স্মৃতিসৌধের আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এলাকাটিকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ আনোয়ার খান আনু বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টামণ্ডলীসহ লাখ লাখ জনতা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেই উপলক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার, পরিপাটি করা, লেক সংস্কার কাজ, সিসিটিভি স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ আনুষঙ্গিক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য গত ৬ নভেম্বর থেকে পালাক্রমে আমাদের প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে।

এদিকে তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো যাবে না।
ওইদিন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের কোনোরকম ক্ষতি না করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত : মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদির ওপরে হামলা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।
যারা এই আঘাত করেছে তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।’

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দুপুর দুইটায় হাদি গুলিবিদ্ধ হলেন, তার আধাঘণ্টা পরই একটি দল উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া শুরু করে। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পেলাম সবই পরিকল্পিত।
আমি ঢাকার ছেলে। দীর্ঘ ৫০ বছর ঢাকায় রাজনীতি করি। আমি শান্ত ছিলাম। আমার নির্দেশনা পেলে তোমাদের তুলাধুনো করত।
হাসপাতালে যারা এগুলো করেছে, তারা হাদির সমর্থক নয়, তারা অন্য একটি দলের। আমরা শান্ত না থাকলে হাদির চিকিৎসা ব্যাহত হতো। তারা চেয়েছিল হাদির চিকিৎসা যাতে ব্যাহত হয় এবং সে মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘একটি দলের ষড়যন্ত্র আমরা ৭১, ৮৬সহ অনেক দেখেছি। এদের মূল শক্তিই ষড়যন্ত্র।
এরা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রকে সব সময়ই অস্থিতিশীল রাখতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটি লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে, সে যেই হোক তার মৃত্যু কামনা করি না। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এক-দেড় শ লোক ফেসবুকে দেশে মব সৃষ্টির জন্য উসকানি দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তারা সকলেই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের। ৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি। কারো সাথে মারামারি হয়নি। একসাথে প্রার্থীরা কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। মারামারি করে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচনসহ রাষ্ট্রকে অস্থির করে সেই বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। আমরা চাই হাদীর ওপর হামলাকারী গ্রেপ্তার ফতার হোক এবং বিশেষ দলের মুখোশ উম্মোচিত হোক।’

তিনি বলেন, ‘হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাবো সেই প্রত্যাশা করি।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, শেখ রবিউল আলম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল কবির পল প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর ফকিরাপুল মোড় ঘুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

উপকূল বাঁচাতে বনায়ন ও কৃষি সংরক্ষণ জরুরি : রিজওয়ানা হাসান

উপকূলীয় অঞ্চলকে বনায়ন ও কৃষির জন্য সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, উপকূলীয় এলাকার সমস্যাগুলো দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষিজমি বিনষ্ট হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং বাড়ছে দারিদ্র্য ও পানি সংকট। এতে জলবায়ু উদ্বাস্তু, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং কার্বন শোষণ হ্রাসের মতো সংকট তীব্র হচ্ছে।
তাই এসব সংকট মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী জাতীয় উপকূল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয় উপকূল সম্মেলনের আহ্বায়ক গওহার নঈম ওয়ারার সভাপতিত্বে ও উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রাণ’র প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির, ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ডিপাক এলমার, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী, একশন এইডের অমিত রঞ্জন দে, লিডার্সের মোহন কুমার মণ্ডল, ক্লিনের হাসান মেহেদী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাস্তব রূপ নিলে এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্টে একটি আলাদা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। পানিসম্পদ, নদী রক্ষা, পরিবহন ও কৃষি, সব খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।’

সেন্ট মার্টিনসহ বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন অবকাঠামো, স্থানীয় নৌযান চলাচলে বাধা এবং জীবিকানির্ভর মানুষের আয় হারানোর বিষয়টি তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা এসব খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা জরুরি। সে লক্ষ্যে কোস্ট, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিকল্প জীবিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও বিবেচনায় রয়েছে।