উপকূলীয় অঞ্চলকে বনায়ন ও কৃষির জন্য সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, উপকূলীয় এলাকার সমস্যাগুলো দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষিজমি বিনষ্ট হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং বাড়ছে দারিদ্র্য ও পানি সংকট। এতে জলবায়ু উদ্বাস্তু, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং কার্বন শোষণ হ্রাসের মতো সংকট তীব্র হচ্ছে।
তাই এসব সংকট মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী জাতীয় উপকূল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় উপকূল সম্মেলনের আহ্বায়ক গওহার নঈম ওয়ারার সভাপতিত্বে ও উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রাণ’র প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির, ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ডিপাক এলমার, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী, একশন এইডের অমিত রঞ্জন দে, লিডার্সের মোহন কুমার মণ্ডল, ক্লিনের হাসান মেহেদী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাস্তব রূপ নিলে এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্টে একটি আলাদা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। পানিসম্পদ, নদী রক্ষা, পরিবহন ও কৃষি, সব খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।’
সেন্ট মার্টিনসহ বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন অবকাঠামো, স্থানীয় নৌযান চলাচলে বাধা এবং জীবিকানির্ভর মানুষের আয় হারানোর বিষয়টি তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা এসব খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা জরুরি। সে লক্ষ্যে কোস্ট, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিকল্প জীবিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও বিবেচনায় রয়েছে।




