বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

হাদি হত্যা : একসময় নাটকে অভিনয় করতেন অভিযুক্ত ফয়সাল

জুলাইযোদ্ধা বিপ্লবী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ। তাকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এবার জানা গেল শোবিজ অঙ্গনেও বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন শ্যুটার ফয়সাল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নাটকে ফয়সালের অভিনয়ের বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের ‘কিলার’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন ফয়সাল।

এদিকে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব লেনদেন বিশ্লেষণে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব।

বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে সিআইডি এই অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী ফয়সালসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থপাচার সংক্রান্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বলেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনো গ্রেপ্তার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। গ্রেপ্তার অভিযানের সময় উদ্ধার বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের তথ্য সিআইডি গুরুত্ব নিয়ে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু করে।

এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু চেকবইয়ে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থের কথা উল্লেখ রয়েছে।
চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব রেকর্ডের সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

তবে সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংক্রান্ত অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব আরো জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে সিআইডি মানি লন্ডারিং বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুততম সময়ে যেনো বাজেয়াপ্ত করা যায় সেজন্যও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিআইডি।

পাশাপাশি এসব অর্থের মূল সরবরাহকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার জন্য সিআইডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না সে বিষয়েও সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।

অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি মূলহোতাকে গ্রেপ্তার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।

পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে) দাফন করা হয়।

তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অনুমতি পেল বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পেয়েছে দলটি।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে।

রোববার রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে এ সংক্রান্ত অনুমতিপত্র পাঠিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

শায়রুল কবির আরও বলেন, চিঠিটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্টাফ জাহিদ হোসেন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছে দেন। সেটি গ্রহণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দফতর দায়িত্বে) সাত্তার পাটোয়ারী।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক কে হচ্ছেন?

বিপ্লবী শরিফ ওসমান বিন হাদির চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অনেকের মতে, দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে হাদির মৃত্যুর পর কে এটির হাল ধরবেন, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

রোববার এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, হাদিকে বুকে ধারণ করেই তারা এগোচ্ছেন।

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হাদি সংগঠনটির আহ্বায়ক ছিলেন। তার চলে যাওয়ার পর এখনো কেন জানি মনে হচ্ছে-তিনি (হাদি) এখনো সংগঠনের আহ্বায়ক। তাকে যেন তারা প্রতিমুহূর্তেই পাচ্ছেন। তার দেখানো পথেই সংগঠনটি এগিয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাধারণ মানুষ তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে-কে হচ্ছেন শহীদ হাদির গড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।

শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি সামাজিক প্ল্যাটফর্মে লেখা হচ্ছে-শহীদ হাদির শূন্যস্থান কখনো পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তার গড়া ইনকিলাব মঞ্চকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

শহীদ হাদি ও ইনকিলাব মঞ্চের প্রতি বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে হবে। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইনকিলাব মঞ্চ যেন বাতিঘরে পরিণত হয়-এমন কথাও লেখেন কেউ কেউ।

ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেত্রী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, আমরা আমাদের ভাইয়ের সংগ্রামী জীবনকে আঁকড়ে ধরে, বুকে ধারণ করেই এগোচ্ছি।

সংগঠনের আহ্বায়ক কে হবেন, এটি নিয়ে আমরা এখন কিছু ভাবছি না। এখনো সংগঠনের আহ্বায়ক আমাদের হাদি ভাই। আমরা শোকাহত।

তবে এর মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ভাইয়ের পারিবারিক কিছু ব্যাপারও আছে। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব। সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা প্রেস ব্রিফ করে জানাব।

জুমা আরও বলেন, বীর শহীদ হাদি ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা, আমরা তাকে সর্বদা মিস করছি। তার দেখানো আদর্শেই ইনকিলাব মঞ্চ চলবে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক পদ নিয়ে কী করব-এখনো বিস্তারিত বলতে পারছি না। হাদি ভাইয়ের সৃষ্টি ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ দু-একদিনের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সেন্টারটির সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইনকিলাব মঞ্চের প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম আবদুল্লাহ বলেন, কমিটিতে কে আসবেন, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা সবাই শোকাহত, ব্যস্ত।

মঙ্গল-বুধবারের মধ্যে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চ থেকে দ্রতই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনায় বসব।

শনিবার হাদির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর শাহবাগে সমাবেশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধরা।

বিকালে শহীদ হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে (আলটিমেটাম) শাহবাগের সমাবেশ শেষ করেন মঞ্চের শীর্ষ নেতারা।

এ সময়ের মধ্যে জবাব দিতে না পারলে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

রোববার ইনকিলাব মঞ্চ থেকে দুই দফায় কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে ‘ইনকিলাব মঞ্চের দুই দফা’ শিরোনামে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং সিভিল-মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে থাকা দোসরদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি, পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী, আশ্রয়দাতাসহ পুরো চক্রকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে বলে প্রথম দাবি জানায় ইনকিলাব মঞ্চ।

রোববার রাত ৯টায় ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, আজ সোমবার বেলা ১২টায় শাহবাগ শহীদ হাদি চত্বরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পেজে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহ-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত ২৪ ঘণ্টা আলটিমেটামের মধ্যে দুই দফা দাবি মেনে নেননি এবং সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ব্যাখ্যা দেননি।

বন্দুকযুদ্ধের কোন নাটক দেখতে চাই না: ইনকিলাব মঞ্চ

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত জীবিত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

সংগঠনটি বলেছে, খুনিকে দ্রুত জীবিত গ্রেফতার চাই। বন্দুকযুদ্ধের কোনো নাটক দেখতে চাই না।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানানো হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচার চালাচ্ছিলেন।

১২ ডিসেম্বর দুপুরে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেল থেকে তার মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

শুটারদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (রাহুল) এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আবু তালেব বলেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল গ্রেফতার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের সময় উদ্ধার বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের তথ্য সিআইডি গুরুত্ব নিয়ে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু করে।

এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেশকিছু চেক বইয়ে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থের কথা উল্লেখ রয়েছে। চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব রেকর্ডের সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে সিআইডি পেয়েছে, অভিযুক্ত এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। যা মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংক্রান্ত অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে সিআইডি মানি লন্ডারিং বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুততম সময়ে যেন বাজেয়াপ্ত করা যায় সেজন্যও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিআইডি।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।

শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে: ইসি

দেশে খুব দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা একেবারে স্পষ্ট কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা নাশকতামূলক তৎপরতা সহ্য করা হবে না।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যারা সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড বা নির্বাচনী বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মানবিকতার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আবেগকে পুঁজি করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে আবারও যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মতে, এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার মাত্রা আরও বাড়বে।

দিল্লির বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনায় ভারত সরকারের বিবৃতি

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোনো সময় নিরাপত্তা বেষ্টনী বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো চেষ্টা করা হয়নি বলে দাবি করেছে দিল্লি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে দিল্লির বাংলাদেশ মিশনে ভারতীয়দের হামলার ঘটনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

দিল্লির বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলা নিয়ে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ করা গেছে।
প্রকৃতপক্ষে ২০ ডিসেম্বর (শনিবার) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ২০-২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্লোগান দেয় এবং বাংলাদেশে সব সংখ্যালঘুর সুরক্ষার দাবি তোলে।’

হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে বাংলাদেশ মিশনে ভারতীয় নাগরিকদের প্রবেশের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই দলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

আন্তর্জাতিক প্রটোকল ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, নিজ ভূখণ্ডে অবস্থিত বিদেশি মিশন ও পোস্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান রণধীর জয়সওয়াল।

বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ভারত দীপু চন্দ্র দাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়।’

শহীদ হাদির সমাধিস্থলের ভাইরাল ছবিটি বানোয়াট : ডিএমপি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সমাধিস্থলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

তালেবুর রহমান জানান, হাদির সমাধিস্থল নিয়ে যে ছবি প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া। সমাধিস্থলটি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ লাখো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীতে ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন ওয়ারলেস মোড় এলাকায় একটি বাসা থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলো আফরিদা চৌধুরী (১০) ও তার এক বছর বয়সী ভাই ইলহাম চৌধুরী।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, খাবার বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে আফরিদাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার ভাই ইলহামও অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। একই খাবার খেয়ে বাবা-মাও অসুস্থ হলেও তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পেছাল

আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়ে আগামী মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

এর মধ্যে তোফায়েল, কামরুল ও মশিউর জুয়েলের পক্ষে শুনানির আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি আদেশের জন্য আরও একটি তারিখ নির্ধারণের আর্জি জানান। পরে ট্রাইব্যুনাল দুদিন পিছিয়ে ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। তবে আসামিপক্ষের এ আবেদনে আপত্তি জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারকাজ বিলম্বিত করতেই আসামিদের আইনজীবীরা এ ধরনের আবেদন করছেন এবং আদালতকে বিব্রত করতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

গত ১৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং সাতজনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন তাবারক হোসেন। এ ছাড়া আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম, তিনজনের পক্ষে সুজাদ মিয়া এবং শেখ হাসিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন। শুনানিতে প্রত্যেক আইনজীবীই পৃথক পৃথক গ্রাউন্ড উপস্থাপন করে তাদের মক্কেলের অব্যাহতি প্রার্থনা করেন। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরুর আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, ৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি টিএফআই সেলের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন এবং বলেন, গুমের অন্ধকার পেরিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি নতুন বাংলাদেশের উদ্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য সাধারণত দুইভাবে নির্ধারিত হতো- ভাগ্য ভালো হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো, আর অন্য ক্ষেত্রে সাত-আট বছর গুমে রাখার পর অজ্ঞাত কোনো স্থানে ফেলে দেওয়া হতো।

চলতি বছরের ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন। এর আগে, ৮ অক্টোবর এ মামলায় প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১৭ জনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।