বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

তারেক রহমানের আগমনে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে : প্রেসসচিব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমনে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

বড়দিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়কালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানী গির্জায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেসসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কিছু রাজনৈতিক শূন্যতা আছে।
তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে।’

তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলের নেতা। তার দেশে আসার প্রভাব হবে খুবই ইতিবাচক।’

সামনে বড় নির্বাচন—এ কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, “দেশ একটা ‘ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনে’ (গণতান্ত্রিক উত্তরণে) আছে।
তারেক রহমানের দেশে আসার পর এই ট্রানজিশন আরো স্মুথ হবে।”

তারেক রহমানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রেসসচিব বলেন, ‘তার নিরাপত্তা বিএনপি দেখছে। বিএনপি যে ধরনের সহযোগিতা সরকারের কাছে চাচ্ছে, সব সহযোগিতাই করা হচ্ছে।’

খোদা বকশ চৌধুরী কেন পদত্যাগ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা গতকাল রাত ১২টার দিকের ঘটনা।
তিনি এখনো কারণ জানতে পারেননি।’

আজ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সিলেটে আসে বিমানটি। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বহুদলীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে : হাসনাত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত লিখেছেন, ‘প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন ভেঙে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ব্যক্তিগত কিংবা সাংগঠনিক অর্জনে সীমাবদ্ধ করতে নয়, বরং বাংলাদেশের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবেই মূল্যায়ন করতে চাই। জনাব তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারকে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাধ্যমেও ঠেকিয়ে রাখা যায় না।
স্বৈরাচার যত শক্তিশালীই হোক, জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তিকে চিরতরে দমিয়ে রাখতে পারে না।’

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আরো লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে জনাব তারেক রহমান ও তার পরিবার যেভাবে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দীর্ঘ নির্বাসনে বাধ্য হয়েছেন, তা গত দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের এক উন্মুক্ত দলিল। তবে মনে রাখা জরুরি, এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে হাজারো শহীদের রক্ত, অসংখ্য আহতের ত্যাগ এবং গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে। এই বাস্তবতা ক্ষমতার নয়, বরং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত লড়াইয়ে প্রাপ্ত বাস্তবতা।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে হাসনাত লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভিন্নমত কোনো অপরাধ নয় বরং অধিকার, যেখানে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কাউকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হতে হবে না, বরং রাষ্ট্রই তার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকবে না, বরং গণতন্ত্র হয়ে উঠবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করার সংজ্ঞা।

বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিসর ভেঙে আজ আমরা যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লড়াই। এই লড়াই যেন কোনো ব্যক্তি বা দলের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব যেন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়; সেটা নিশ্চিত করাও প্রত্যেকটি রাজনীতিবিদের দায়িত্ব।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো লিখেছেন, ‘জনাব তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরো শক্তিশালী করবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। তবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো লিখেছেন, ‘স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকারী জনাব তারেক রহমানকে স্বাগত জানাই। বেগম জিয়া যেন দ্রুতই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অসম্পূর্ণ লড়াই পূর্ণ করার দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, সেই দোয়া করি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে তারেক রহমানের এই অংশগ্রহণ জনগণের প্রত্যাশা ও ইতিহাসের দায় পূরণে ভূমিকা রাখবেন, এই কামনা করি।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’

‘দলকে আগেই জানিয়েছিলাম’

মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আগেই বিএনপির হাইকমান্ডকে জানিয়ে রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার একটি রেস্তোরাঁয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার শক্তি ও সাহসের উৎস এই এলাকার মানুষ, ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকেরা। তাই তাদের ইচ্ছাই আমার সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমি সবার সঙ্গে বসেছি এবং জানিয়েছি—আপনারা যা বলবেন আমি সেটাই করব। তারা আমাকে বলেছেন, আমি নির্বাচন না করলে তারা অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়বেন। সেখান থেকেই আমার নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি আমার নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও বলেন, দল থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার বিষয়টি তিনি আগেই দলকে জানিয়েছিলেন। তাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত লুকোচুরি বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত- এ রকম নয়। মূলত তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি আমার দলকেও এটা জানিয়ে দিয়েছি। দল দলের মতো করে তাদের সিদ্ধান্ত নেবে, আমি আমার সিদ্ধান্ত আমার মতো করে নেব।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বুধবার দুপুরে রুমিন ফারহানার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন। রুমিন ফারহানার প্রত্যাশিত এ আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান

চিকিৎসাধীন মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ ছাড়েন তিনি। এরপর সেখান থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।

এদিকে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকাল থেকেই হাসপাতালের গেটে অবস্থান নেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তারেক রহমানকে বহন করা গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার সময় কর্মী-সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় দলীয় পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল।

এর আগে, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

তার আগে, দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি।

এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে প্রথমে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন করেন। এ ছাড়া উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন জামায়াত আমির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ করে।

ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঢাকা-১৩ এবং ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এদিন জামায়াত আমিরের পক্ষে ঢাকা-১৫ আসনের মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা কিংবা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর গত ১১ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ অন্তত ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে একই দিনে ঢাকা-১৩ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫—এই দুই আসন থেকে মোট ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কার্যালয়।

আই হ্যাভ এ প্ল্যান: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং একসময় বলেছিলেন, “আই হ্যাভ এ ড্রিম”।

সেই ধারাবাহিকতায় তিনি নিজেও ঘোষণা দেন—“আই হ্যাভ এ প্ল্যান”। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আজকের এই আয়োজনের মঞ্চে দেশের বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত আছেন। দলের নেতাকর্মী, দেশবাসী এবং সমমনা শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৩

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তিন নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে টেকপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মরজাল এলাকার বাসিন্দা কমলা বেগম (৫৫), তার নাতনি অনাদি আক্তার (১৩) এবং অনাদির প্রতিবেশী মোবারক হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (২৪)। অনাদি আক্তার কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওয়ালেরটেক এলাকার বাবু মিয়ার মেয়ে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকেল পাঁচটার দিকে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করছিল। এ সময় নানী, নাতনি ও তাদের প্রতিবেশী একসঙ্গে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় অসাবধানতায় ট্রেনের নিচে পড়ে যান।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কমলা বেগম ও সাদিয়া বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অনাদি আক্তারকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলোর সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ক্ষমতা ও সম্মানের মালিক আল্লাহ: তারেক রহমান

দেশের মাটিতে পা রেখেই ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি।

বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটে ফেরার পথে উচ্ছ্বসিত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঠিক সেই সময়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের অর্থ শেয়ার করেছেন তিনি। সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্‌! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’

আনন্দ-উৎসবে ‘বড়দিন’ উদযাপন

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’ উদযাপিত হয়েছে।

বড়দিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সারাদেশে সরকারি ছুটি উদযাপিত হয়েছে। খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীরা সকাল থেকেই গির্জায় বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন এবং পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলো আলোকসজ্জা, ফুল, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। ক্রিসমাস ট্রি, শান্তা ক্লজ ও আলোকসজ্জায় সাজে বিভিন্ন স্থাপনা।

গির্জাগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় করা হয় বিশেষ প্রার্থনা। কেক কাটা, বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেন যিশুভক্তরা। গির্জায় গির্জায় শিশু থেকে বয়স্ক পরিবারের সবাইকেই ভিড় করতে দেখা যায়।

রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। কাকরাইলসহ কয়েকটি গির্জায় ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সোনারগাঁও হোটেল, রেডিসনসহ নামিদামি তারকা হোটেলগুলোতে আনন্দমুখর পরিবেশ দেখা যায়। কাকরাইলের রমনা সেইন্ট ম্যারিস ক্যাথিড্রাল চার্চ ও মোহাম্মদপুরের সেইন্ট ক্রিস্টিনা গির্জার ভেতরে ও বাইরে নানা রঙের বেলুন, নকশা করা ককশিট, রঙিন কাগজ, জরি ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে।

পরমাণু সাবমেরিনের ছবি প্রকাশ করল উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের নতুন কিছু ছবি প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, বিশাল আকৃতির এই সাবমেরিনটি পরিদর্শন করেছেন সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

প্রায় ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের এই জলযানটি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘ভার্জিনিয়া ক্লাস’ অ্যাটাক সাবমেরিনের সমতুল্য বলে দাবি করা হচ্ছে।

একটি ইনডোর নির্মাণ কেন্দ্রে সাবমেরিনটি পরিদর্শনের সময় কিমের সঙ্গে তার কন্যা কিম জু আয়ে-কেও দেখা গেছে।

নির্মাণাধীন এই সাবমেরিনটির পাশেই দাঁড়িয়ে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার কড়া সমালোচনা করেন।

তিনি সিউলের নিজস্ব পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং একটি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা নীতি এখন শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে।

২০২১ সালের সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া এখন হাইপারসনিক মিসাইল ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাশাপাশি নৌ-বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাবমেরিনটি উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি বড় কৌশলগত অর্জন।

সাধারণ সাবমেরিনগুলোকে ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপর উঠে আসতে হলেও পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনগুলো বছরের পর বছর পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম।

বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং ভারতের কাছে এই প্রযুক্তি রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষক হং মিন জানিয়েছেন, সাবমেরিনটিতে সম্ভবত ইতোমধ্যেই নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যেই এটি পরীক্ষার জন্য সাগরে ভাসানো হতে পারে।