বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

বিএনপি ও বিশুদ্ধ নদী-নালার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি আর বৃক্ষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিএনপি এবং বিশুদ্ধ নদীনালার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার রাজধানীর ধোলাইখাল পুকুর (সাদেক হোসেন খোকা মাঠ সংলগ্ন) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

রিজভী বলেন, বিএনপি পরিবেশবান্ধব দল। বৃক্ষরোপণ, নদী-নালা ও জলাশয় রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দলটি কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আগে পুরান ঢাকা অপরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, নদী-নালা ও জলাশয়ের কারণে ভীতিকর মনে হতো। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পুকুর, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার করায় পরিবেশের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাছ, মাছ, নদী, পুকুর, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে মানুষের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ। আগে শরৎকালে বিল ও ঝিলের পাশে কাশফুল দেখা যেত। জলাশয় ভরাটের কারণে এখন সেই দৃশ্য কমে গেছে। তাই পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ছয় মাসে আড়াই কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে প্রায় তিন কোটির বেশি গাছ লাগানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় মামলা, হামলা ও নিপীড়নের মধ্যেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা বৃক্ষরোপণ ও নদী-নালা পরিষ্কারের কর্মসূচি পালন করেছেন। করোনার সময়ও ঝুঁকি নিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও গতবারের তুলনায় তা কম। পুকুর, বিল, ঝিল ও নালা পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার প্রজনন কমানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা করছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা টার্মিনাল মেরামতের কাজও চলছে। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সংকট অনেকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিটি করপোরেশনের অর্থসংকটের বিষয়ে রিজভী বলেন, আগের সরকারের সময় ব্যাংকের টাকা লোপাট ও পাচারের কারণে আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে সিটি করপোরেশন প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করতে পারছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উন্নয়নকাজ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বিএনপি জনস্বার্থের দল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। জনগণের কল্যাণে দলটি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। এখন তারেক রহমান মেয়েদের বিএ ও অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার কথা বলেছেন।

রিজভী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শহরে যেখানে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানেই বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো আবদুস সালাম, ঢাকা ৬ আসনে সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ সহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও বঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: সিরাজগঞ্জে করতোয়া নদীর নৌকাবাইচ স্থগিত

পড়তে পারেন

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

১০ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশ

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ / মারুফার দারুণ স্পেলের পরও শেষ ওভারে হারল বাংলাদেশ

৮ ঘণ্টা আগে

ক্রিকেট

বরিশালের প্রধান ২ হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসে-যায়, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

ইরানে আরও কতদিন যুদ্ধ চালাবেন ট্রাম্প, জানালেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: সিরাজগঞ্জে করতোয়া নদীর নৌকাবাইচ স্থগিত

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট:

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

করতোয়া নদীর কলিগঞ্জ ঘাটে নৌকা বাইচ আয়োজন করা হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীর কলিগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

একইস্থানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পাল্টাপাল্টি নৌকাবাইচের আয়োজনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

আজ শনিবার উল্লাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করতোয়া নদীতে প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম ৪-৫ সেপ্টেম্বর কলিগঞ্জ ঘাটে নৌকা বাইচের আয়োজন করেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বার সেলিম রেজা একই স্থানে ৭-৯ সেপ্টেম্বর পৃথক নৌকা বাইচের ঘোষণা দেন।

জামায়াত নেতা জহুরুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয়রা যৌথভাবে রামকান্তপুর ঘাটে নৌকা বাইচের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপি সমর্থকরা সেই আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের সরে যাওয়ার পর আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর কলিগঞ্জ ঘাটে নৌকা বাইচের আয়োজন করি। এতে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানকে প্রধান অতিথি করা হয়।'

'কিন্তু আমাদের আয়োজনের বিরোধিতা করে বিএনপি থেকে প্রশাসনকে অভিযোগ করা হয় এবং একইস্থানে ৭-৯ সেপ্টেম্বর পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাই প্রশাসন শুক্রবার আমাদের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। পরে আমরাও তাদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি,' বলেন তিনি।

অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত আয়োজক সেলিম রেজা বলেন, 'আমরা আগেই ৭-৯ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচের দিন নির্ধারণ করেছিলাম। আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি পণ্ড করতেই জামায়াত নেতারা হঠাৎ করে ৪-৫ সেপ্টেম্বর আলাদা নৌকা বাইচের ডাক দেন।'

ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, 'উভয়পক্ষের কেউই স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে আগাম কোনো অনুমতি নেননি। একইস্থানে দুই রাজনৈতিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি আয়োজনে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে দুটি অনুষ্ঠানই স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।'

নৌকাবাইচ

বিএনপি-জামায়াত

উল্লাপাড়া

সিরাজগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ নৌকাবাইচ, পুরস্কার সোনার হরিণ-রুপার ময়ূর

৪৯ বছরে পা রাখল বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনও দলের পথনির্দেশক

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনি সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে : বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী

ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ ও বিএনপির বিরুদ্ধে : মঈন খান

রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন : রিজভী

সংসদে ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে যা বললেন মির্জা আব্বাস

৪৯ বছরে পা রাখল বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনও দলের পথনির্দেশক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছবি : বাসস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের প্রবীণ নেতারা ১৯৭৮ সালে দলের আত্মপ্রকাশের সময় এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচির কথা স্মরণ করছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও নিরবচ্ছিন্ন প্রাসঙ্গিকতার কারণে এই ১৯ দফা এখনও বিএনপির মূল পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও প্রাসঙ্গিকতার কারণে ১৯ দফা এখনও বিএনপির পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

রাজনৈতিক নথিপত্রে দেখা যায়, আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য ছিল ১৯ দফার মূল লক্ষ্য। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এগুলো বিএনপির আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক নীতি-কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক নথি অনুযায়ী, ১৯ দফার প্রথম দফায় যেকোনো মূল্যে দেশের ‘সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার কথা বলা হয়।

দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে চারটি সাংবিধানিক মূলনীতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র উল্লেখ করা হয়। এখানে সমাজতন্ত্র বলতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রশাসনের সব স্তর এবং উন্নয়ন কর্মসূচিতে ‘আত্মনির্ভরতা’ ও ‘জনগণের অংশগ্রহণ’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের ওপরও ১৯ দফায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের ‘কৃষির উন্নয়ন’ এবং বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিম্নভূমির বদ্বীপাঞ্চলে যথাযথ ‘পানি ব্যবস্থাপনার’ প্রয়োজনীয়তাও ১৯ দফায় জোরালোভাবে স্বীকৃত হয়।

এরপর শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং এ খাতে উৎপাদন সর্বাধিক করার লক্ষ্যে শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরবর্তী দফায় সব নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার মাধ্যমে জনগণের ‘মৌলিক চাহিদা’ পূরণের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়।

১৯ দফায় ‘গ্রামীণ উন্নয়ন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পায়। নগর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ’ নীতির আওতায় দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরবর্তী দফাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতে প্রণোদনা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নারীর ‘অধিকার’ সমুন্নত রাখার পাশাপাশি উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ততা এবং তাদের মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও ১৯ দফায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও এতে বলা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তার সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি এবং দিকনির্দেশক কর্মসূচি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ দফা গ্রহণ করেন।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ঐতিহাসিক ১৯ দফা ঘোষণা করার পর ৪৯ বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে এসে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে একই ভিশন অনুসরণ করছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন।

বিএনপি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শহীদ জিয়াউর রহমান

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: বিএনপি

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের শুভেচ্ছা

বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা | আমার দেশ

ইজতেমা মাঠ। ফাইল ছবি

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতেই ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর যুক্তিসংগত সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজন করতে চায় সাদপন্থীরা। এ বিষয়ে অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সরকার সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অতীতে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাদপন্থীদের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীরা প্রস্তাবিত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করতে চান। অন্যদিকে সাদপন্থীরা রমজানের আগে, ওই দুই পর্বের পর মধ্যবর্তী কোনো সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া নভেম্বরের শেষ দিকে, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শুরুর আগেও তারা ইজতেমা আয়োজন করতে চান।

এর আগে সাদপন্থীদের অন্য কোনো স্থানে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছিল। তবে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অন্য কোথাও ইজতেমা করতে সম্মত হননি। সরকার দুই পক্ষকেই একসঙ্গে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয় হিসেবে মাওলানা সাদের আগমনের বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। ভিসানীতি অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ ও আয়োজন নিয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশাল অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসেন। বিদেশ থেকেও বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।

ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানে মুসল্লিদের থাকা, খাবার, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিনোদন সাংবাদিক ও তারকার অনুষ্ঠান ‘রঙিন পাতা’

ফিচার ডেস্ক

চিকিৎসার মাঝেই কী বার্তা দিলেন তানিয়া বৃষ্টি

‘শিল্প কোনো পাপ নয়’, হঠাৎ কেন এমন কথা বললেন প্রভা?

বিয়ের গুঞ্জনে এবার মুখ খুললেন প্রভা, জানালেন আসল সত্য

এনটিভিতে আসছে ‘সিক্রেট বিউটি এক্সপার্ট’ সিজন ৩

টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের নতুন কমিটি ঘোষণা

বিনোদন সাংবাদিক ও তারকার অনুষ্ঠান ‘রঙিন পাতা’

‘রঙিন পাতা’ অনুষ্ঠানের শুটিংয়ের ফাঁকে তাহসান খান, আদর ও শ্রাবণ্য। ছবি : সাইফুল সুমন

“সাদা-কালোর যুগে পত্রিকার একটি পাতা সব সময় রঙিন ছিল। সেটা হলো পত্রিকার বিনোদন পাতা। এই চিন্তা থেকে অনুষ্ঠানটির নাম আমরা দিয়েছি ‘রঙিন পাতা’।” কথাগুলো এনটিভি অনলাইনকে বলেছেন অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনাকারী ও প্রযোজক কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা।

এনটিভিতে আগামী রোববার থেকে শুরু হচ্ছে বিনোদনমূলক ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘রঙিন পাতা’। প্রতি সপ্তাহের রোববার রাত ৯টা ৫ মিনিটে এনটিভিতে অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে। যেখানে একজন তারকা বিনোদন সাংবাদিক ও বিভিন্ন অঙ্গনের একজন তারকা শিল্পী অতিথি হয়ে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করবেন শ্রাবণ্য তৌহিদা। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও গবেষণা করেছেন নাইস নূর।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উপস্থিত থাকবেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান ও সাংবাদিক আদর রহমান।

অনুষ্ঠানটি প্রসঙ্গে কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের খবরের কাগজগুলোতে একটি পাতা বরাদ্দ থাকে বিনোদন জগতের খবরাখবরের জন্য। এই পাতাটিকে বিনোদন পাতা বলা হয়ে থাকে। বিনোদন পাতাটিকে ঘিরে বিনোদন জগতের বাইরেও সাধারণ পাঠকের রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। পত্রিকার সেই বিনোদন পাতাকে নিয়েই অনুষ্ঠানটি মূলত সাজানো হয়েছে। কাজ ও কাজের বাইরে সাংবাদিকের সঙ্গে শিল্পীদের সম্পর্ক কেমন, সেই বিষয়গুলো অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে সাংবাদিক ও তারকা শিল্পীদের আড্ডার মধ্য দিয়ে মিডিয়া জগতের অনেক জানা ও অজানার গল্প জানতে পারবেন দর্শক। এ ছাড়া একজন সাংবাদিক কীভাবে খবর সংগ্রহ করেন, কবে তাঁর সাংবাদিকতা শুরু হয় এই বিষয়গুলো জানা যাবে। অন্যদিকে, একজন শিল্পীর তারকা হওয়ার পেছনে পত্রিকার বিনোদন পাতার গুরুত্ব কতখানি থাকে, সেগুলো অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হবে।’

প্রথম পর্বের অতিথি তাহসান খান অনুষ্ঠানে জানাবেন, পত্রিকায় তাঁর প্রথম ছবি ও সাক্ষাৎকার কবে ছাপানো হয়েছে, সেই দিনের অনূভুতিসহ আরো অনেক অজানা গল্প।

এদিকে, আদর রহমান তাঁর সাংবাদিকতার শুরুর গল্প ও তাহসান খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার নানা গল্প অনুষ্ঠানে জানাবেন।

সর্বাধিক পঠিত

আমিরকে কেন ‘ভালো প্রাক্তন স্বামী’ বলা হয়?

প্রথম দিনেই আয় ২৬ কোটি, সিনেমা হলেও দাপট দেখালো ‘মির্জাপুর’

আমিরকে ১৭ বার চড় মেরেছিলেন অক্ষয় খান্না, কিন্তু কেন?

দুর্ঘটনার এক মাস পর গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ অভিনেত্রীর

ভারতের বিখ্যাত শিল্পীর জন্য নাম বদলে গিয়েছিল সাবিনা ইয়াসমিনের

সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনামূল্যে দেখানো হবে তিন সিনেমা

সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনামূল্যে দেখানো হবে তিন সিনেমা

X

সালমান শাহ। ছবি: সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিনামূল্যে তার অভিনীত তিনটি সিনেমা প্রদর্শনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। সিনেমাপ্রেমী দর্শক ও প্রয়াত এই নায়কের ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য বিশেষ এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত।

বিএফডিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিএফডিসি প্রাঙ্গণের ভিআইপি প্রজেকশন হলে অনুষ্ঠিত হবে এ বিশেষ সিনেমা প্রদর্শনী। আগামীকাল (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় দর্শকদের জন্য পর্দায় দেখানো হবে সালমান শাহ অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা।

সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠ নিয়ে যা বললেন কনকচাঁপা

আয়োজনের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর প্রদর্শিত হবে সালমান শাহ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। সিনেমাটির মাধ্যমে দর্শকরা আবারও বড় পর্দায় দেখতে পাবেন নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই নায়ককে।

দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় দেখানো হবে সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সালমান শাহর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত কাজ। এ সিনেমার মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।

আয়োজনের শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর একই সময়ে প্রদর্শিত হবে সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ‘তোমাকে চাই’। জনপ্রিয় এই জুটির সিনেমাটি নব্বইয়ের দশকে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান সালমান শাহ। তার অকালমৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। মৃত্যুর তিন দশক পরও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয় এই নায়ক।

সাবিনা ইয়াসমীনের যে গান শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি লতা মঙ্গেশকর

প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় সালমান শাহকে। এবার তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএফডিসির এই আয়োজনের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রিয় নায়কের তিনটি জনপ্রিয় সিনেমা উপভোগের সুযোগ পাবেন দর্শকরা।

এমএমএফ

সালমান-শাহ

চলচ্চিত্র

ঢাকাই-ছবি

এফডিসি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

‘এখনই গান বন্ধ করে দাও’, নতুন প্রজন্মকে কেন বললেন জেমস

একটি নিষিদ্ধ জানাজার গল্প থেকে ‘কালযাত্রা’

প্রকাশ্যে গান গাওয়াই কি অপরাধ? পাকিস্তানে নারী শিল্পীকে গুলি করে হত্যা

জাগো নিউজে সর্বশেষ

টিভিতে আজকের খেলা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খেলাধুলা

উখিয়ায় ১৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ

দেশজুড়ে

প্রত্যাশার ‘ফাঁদে’ পুঁজিবাজার, তীব্র হচ্ছে আস্থা সংকট

বাবা-মার ভরণপোষণের আইন নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

জাতীয়

বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার নেওয়ার সুযোগ | বাণিজ্য

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বছরে বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বসবাসরত একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশ ভ্রমণের জন্য একটি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিতে পারবেন। অনুমোদিত ডিলার বা ব্যাংকগুলো এই বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি সার্কুলার অনুযায়ী, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার নেওয়ার সুযোগ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় বার্ষিক এই সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার সীমা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সীমার ৫০ শতাংশই থাকবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্ধারিত বার্ষিক সীমার মধ্যে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার নগদ ডলার হিসেবে নিতে পারবেন। এর বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নগদ ডলার আকারে ছাড় করা যাবে না।

বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অবহিত করতে অনুমোদিত ডিলারদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কুবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তবুও প্রশাসনিক ভবনে ছাত্রদলের কর্মশালা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের রাজনৈতিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় নেতৃত্বের বিকাশ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী সচেতনতা নিয়ে আলোচনা হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায়ও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে ছাত্রদলের এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন। এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। আমরা যে প্রোগ্রাম করব, সেটিও সবাই জানে।

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে আছে কি না, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।

রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। শুধু আমরা নয়, সবারই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

অনুমতির বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, আমরা যে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম আমরা মানব না। বর্তমান উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, এটি একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে। আর এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমি এই প্রোগ্রামের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, প্রশাসনিক ভবনে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে। প্রশাসনিক ভবনের কোনো কক্ষ বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এআরবি

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

নামিবিয়া ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ৪৮ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। উইন্ডহুকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমে ব্যাট করে জর্ডান হারম্যানের নিয়ন্ত্রিত অর্ধশতকে ২০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় প্রোটিয়ারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্পিনার বিয়র্ন ফরচুইন ও ডুয়ান জানসেনের দুর্দান্ত বোলিং তোপে ১৮ ওভারে ১৫৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ব্রাড ইভান্স ৫৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে যান। দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৪ রান। ওপেনার জর্ডান হারম্যান মাত্র ২৯ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৩ রান করেন। অন্য ওপেনার উইকেটরক্ষক কনর এস্টারহুইজেন করেন ২৩ বলে ৩২ রান।

বিজ্ঞাপন

মিডল অর্ডারে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২৩ বলে ৩২) এবং রুবিন হারম্যান (১৬ বলে ২৭) রানের গতি সচল রাখেন। শেষ দিকে ডুয়ান জানসেনের ১৪ বলে ২৩ রান করলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৫ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্র্যাড ইভানস ৩৬ রানে ২টি এবং নিউম্যান নিয়ামহুরি ৫১ রানে ২টি উইকেট নেন।

২০৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। ইথান বসের বোলিং তোপে প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন ওপেনার বেন কারান। পাওয়ারপ্লেতে দলীয় চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। দলপতি সিকান্দার রাজা আউট হন ১৬ রান করে।

এক প্রান্ত আগলে শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের ব্যবধান কমানোর লড়াই চালান ব্র্যাড ইভানস। তিনি ৩১ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৬* রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তবে অপর প্রান্তে উইকেটের পতন থমকে না থাকায় ১৮ ওভারে ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার ও অধিনায়ক বিয়র্ন ফরচুইন ২৪ রানে ৩টি এবং পেসার ডুয়ান জানসেন ৩৮ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০৫/৫, ২০ ওভার (জর্ডান ৫৩, এস্টারহুইজেন ৩২, ব্রেভিস ৩২, রুবিন ২৭, ডুয়ান ২৩*; ইভানস ২/৩৬, নিয়ামহুরি: ২/৫১)।

জিম্বাবুয়ে: ১৫৭/১০, ১৮ ওভার (ইভানস ৫৬, মাটিগিমু ১৯, রাজা ১৬, বার্ল ১৩; ফরচুইন ৩/২৪, ডুয়ান ৩/৩৮ ও বস ২/২২-২)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৮ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন।

ম্যাচসেরা: জর্ডান হারম্যান।

সিরিজ সেরা: ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

শনিবার ভেনিসে ইতিহাসের অপেক্ষায় এই বাংলাদেশি সিনেমা!

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উৎসবের অরিজোন্তি প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ভেনিস উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে নির্বাচিত বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। ইতালির লিডো দি ভেনেজিয়ায় ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবারের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নতুন চলচ্চিত্রের ভাষা, উদীয়মান ধারা ও নির্মাণের উদ্ভাবনী পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া অরিজোন্তি বিভাগে এবার নির্বাচিত হয়েছে ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ৮৮ মিনিটের সিনেমাটি উৎসবে মোট আটবার প্রদর্শিত হবে। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় উৎসবের মূল ভেন্যু পালাৎসো দেল সিনেমার সালা ক্যাসিনো থিয়েটারে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী হবে। বাংলাদেশ সময় তখন রাত ১১টা। একই রাতে স্থানীয় সময় ১০টায় সালা ভলপি থিয়েটারেও ছবিটির আরেকটি প্রদর্শনী রয়েছে। প্রথম দিকের এসব প্রদর্শনী মূলত ব্যাজধারী দর্শক ও উৎসবসংশ্লিষ্টদের জন্য। পরবর্তী প্রদর্শনীগুলোর কয়েকটিতে সাধারণ দর্শকরাও টিকিট কেটে সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন। ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনা থিয়েটারে এবং ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অ্যাস্ট্রা-২ ও বিকেল ৫টায় অ্যাস্ট্রা-১ থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী বিউটি পারলারকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটির গল্প। বিয়ের আগে পরিবারের পক্ষ থেকে একের পর এক সাজসজ্জা ও পরিবর্তনের আয়োজন চলতে থাকে এক হবু কনেকে ঘিরে। কিন্তু সেই চাপ ও প্রত্যাশার বিরুদ্ধে একসময় তার শরীরেই যেন প্রতিরোধের জন্ম নেয়। নারীর শরীর, সামাজিক প্রত্যাশা এবং নিজের অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের গল্পই সিনেমাটির কেন্দ্রে। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল, আজমেরী হক বাঁধন, দামের খান, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী। সিনেমাটির চিত্রনাট্যও লিখেছেন রুবাইয়াত হোসেন। আন্তর্জাতিক সহায়তাও পেয়েছে সিনেমাটি। কাউন্সিল অব ইউরোপের ইউরিমাজ, ফ্রান্সের সিএনসি, পর্তুগালের ইনস্টিটুতো দু সিনেমা এ দু অডিওভিজুয়াল, ইতালির ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ড, নরওয়ের সোরফন্ড এবং জার্মানির ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্রটির নির্মাণে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ডের প্রথম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রকল্পের মধ্য থেকে মাত্র ১৪টি চলচ্চিত্র সহায়তার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছিল সেই তালিকায় পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে সহায়তা পাওয়া একমাত্র চলচ্চিত্র। ইএভিই প্রডিউসার্স ওয়ার্কশপ, বার্লিনালে কো-প্রোডাকশন মার্কেট এবং লেজ আর্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস’ বিভাগেও অংশ নিয়েছে সিনেমাটি। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও কলাকুশলীরা মিলিতভাবে কাজ করেছেন এতে। সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের চার নারী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ কামালও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর নারীপ্রধান নির্মাণ দল। কম্পোজার ছাড়া সিনেমাটির প্রতিটি বিভাগের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন নারী সদস্যরা। চিত্রগ্রহণ করেছেন পর্তুগালের লিওনর তেলেস, সম্পাদনায় রাফায়েল মার্তা-হোলগার এবং প্রোডাকশন ডিজাইন ও কস্টিউমের দায়িত্বে ছিলেন জোনাকি ভট্টাচার্য। সিনেমাটির সংগীতের সঙ্গে যুক্ত আছেন ব্রিটিশ কম্পোজার জিম উইলিয়ামস। তার কাজের মধ্যে জুলিয়া দুকুরনোর ‘র’ ও স্বর্ণপামজয়ী ‘তিতান’-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্র রয়েছে।