সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : হামিদুর রহমান আযাদ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’ আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আজ ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের দুটি বড় দলের ক্ষেত্রে প্রটোকল প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা করি, কমিশন দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করবে।’

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরাসরি উদ্যোগ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে, যা তাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
সরকারের অর্থায়নে নির্বাচন কমিশনকেই এসংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরো বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ করছেন, যা ভোটারদের প্রভাবিত ও প্রতারিত করছে। এর ফলে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এই তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছি।
কমিশন বিষয়টি নোট নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের জানিয়েছে।’

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করার ঘটনায় দ্বৈত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়। এ ধরনের আচরণ কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে প্রতিনিধিদল মত প্রকাশ করে।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থানে অবিচার করে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা। নির্বাচন নিয়ে সরকার সুন্দর বক্তব্য দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি আরো বলেন, ‘সহযোগী শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এ ক্ষেত্রে পাশে থাকবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।

সংবিধান থেকে একাত্তর মুছে যাবে, বিসমিল্লাহ থাকবে না—এসব সঠিক নয় : আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে জুলাই সনদ পাস হলে সংবিধান থেকে ১৯৭১ মুছে যাবে, বিসমিল্লাহ থাকবে না—এসব কথা ঠিক নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দেশে কী যে নিপীড়নমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী আপনারা। গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অন্যায়ভাবে মামলার শিকার হওয়া এসব কিছুরই আপনারা কেবল সাক্ষী নন, ভুক্তভোগীও বটে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে, কেউ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। আমরা যেন সেটা ভুলে না যাই।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ মানুষ তরুণ, তারা কোনো দিন গণভোট দেখেনি।
এবারকার গণভোট তাদের জন্য প্রথমবার। রাষ্ট্রের ভিত্তি কেমন হবে বা কী থাকবে এরই দলিল হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ এবং সেই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতেই এ গণভোট।’

তিনি ইমামদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যেহেতু সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, আপনাদের কাছে অনেকেই প্রশ্ন করবে গণভোট কী? তাদের বলবেন, গণভোট হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট। প্রশ্ন আসে কিসের ‘হ্যাঁ’, কিসের ‘না’? ‘হ্যাঁ’ হচ্ছে আপনি বাংলাদেশের একটা ব্যবস্থাকে বদলে ভবিষ্যতে নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনার সমর্থন জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “কিছু ভিন্নমতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামতসংবলিত জুলাই সনদ ১৩ কোটি ভোটারের সামনে হাজির করা হচ্ছে। ভোটাররা সম্মতি দিলে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। গণভোটে প্রশ্ন করা হয়েছে আপনি পরিবর্তন চান কি না। জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সমর্থন জানালে পরবর্তী সরকার এ সনদ বাস্তবায়ন করবে। ‘না’ জিতলে আবার ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে পারে।
সমাজের অভিভাবক হিসেবে আপনাদের এ বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে যে তাদের সমর্থনে ভবিষ্যতে কেউ যেন অতীতের মতো ফ্যাসিস্ট হতে না পারে।”

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অথিতির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, ইসলামী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম, ইমামদের পক্ষে মুফতি হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

রূপায়ণ গ্রুপের অ্যানুয়াল বিজনেস প্ল্যান-এবিপি ২০২৬ হস্তান্তর

আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের অ্যানুয়াল বিজনেস প্ল্যান (এবিপি)-২০২৬ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের হাতে সব কম্পানির পক্ষে অ্যানুয়াল বিজনেস প্ল্যান-২০২৬ হস্তান্তর করেন রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ও এবিপি কমিটি ২০২৬-এর চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন পিজে উল্লাহ (অব.)।

এতে রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, ভাইস চেয়ারম্যান নওরিন জাহান মিতুল, সাবরিনা রশিদ নোভা, সাইফ আলী খান অতুল, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানের মা ফরিদা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে সাফল্যের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

নতুন বছরে লক্ষ্য পূরণে সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রুপায়ন গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল বলেন, নতুন বছর নানাভাবে চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যেও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

টিমওয়ার্কের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সাফল্য অনিবার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এতে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা সাদাত হোসাইন সেলিম, রূপায়ণ গ্রুপের সিইও সাব্বীর হোসেন খান, রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কালাম আজাদ (অব.), আব্দুল গাফফার, এ এস এম সাইখুল ইসলাম, দেশ রূপান্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজসহ সংশ্লিষ্ট কম্পানি প্রধানগণ।

সংবাদ সম্মেলন ডাকল ইসলামী আন্দোলন

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সার্বিক বিষয়ে অবস্থান জানাতে আগামীকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে রাতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩ আসনের সমঝোতা ঘোষণা দেয় ১১ দলীয় জোট।
তবে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এতে অংশ নেয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি ১০ দলের নেতাদের নিয়ে জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় জোটের আজকের বৈঠকে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। কোন দল কত আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে, তা চূড়ান্ত হয়েছে।
আজকে রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এমপিওভুক্তি নিয়ে সতর্ক করল মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ অথবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ এ তথ্য জানান।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে, এখানে ম্যানুয়ালি মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে গত ৭ জানুয়ারি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

‘এমপিও নীতিমালা- ২০২৫’ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অনলাইনে আবেদনকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ওই মানদণ্ডের ভিত্তিতেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেডিং করে তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন রুমিন ফারহানা

ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের পাহারাদার হিসেবে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার আলীনগর গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কানে এসেছে সরাইলের কিছু সেন্টারে আগের রাতেই সিল মেরে রাখার চিন্তা করছে।
যদি কোথাও সিল দেওয়ার চেষ্টা করে, জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে আপনারা পাহারাদার হিসেবে থাকবেন। মিডিয়ার ভাইদের প্রতি অনুরোধ আপনারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সেভাবে আমাকে সহযোগিতা করে যাবেন।’

এ সময় তিনি একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়নে গ্যাস সংযোগসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আশ্বাস দেন।

হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে করা আপিল চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায়

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্যে যে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়, তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা আপিল চেম্বার আদালতের শুনানির কার্যতালিকায় এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় মামলাটি ৫৮ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এই আপিলটি করার পর গত ১৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে দুটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। একটি আমৃত্যু কারাদণ্ড, আরেকটি মৃত্যুদণ্ড। আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আজ আপিল করা হয়েছে।

আপিলে তারা আটটি গ্রাউন্ড (যুক্তি) দিয়েছেন।

চব্বিশের জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন।

এছাড়া শুনানিতে প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

এছাড়া রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বোমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এক পর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।

এখন দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে সব অভিযোগের বিচার চলছে।

এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) গোপন তথ্য চুরি ও অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারীসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনের কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার এবং এনআইডিতে ভুয়া তথ্য সংযোজনের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন এবং ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে বিভিন্ন পক্ষের কাছে বিক্রি করে আসছিল। এই কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে তারা প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে আসছিল। এই চক্রের সঙ্গে ইসির আরও কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আরও জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই জালিয়াতির গভীরতা এবং এর মাধ্যমে কতজন নাগরিকের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে এনআইডি সংশোধন ও ভুয়া তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের আর্থিক বা রাষ্ট্রীয় জালিয়াতির পথ সুগম করছিল কি না, সেটিও সিআইডির গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। এই জালিয়াতি প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো নিয়েও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এবং তাদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হবে।

সিআইডি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের ফলে এনআইডি জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের একটি বড় নেটওয়ার্ক সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলায় সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ এবং দেশটির তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তেল বিক্রি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রিও হয়ে গেছে।

গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের তিন দিন পর ৭ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনার ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রথম চালান হিসেবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল (এক ব্যারেল=১৫৯ লিটার) জ্বালানি তেল আসছে দেশটি থেকে।

সেই প্রথম চালানের তেল বিক্রি হয়েছে ৫০ কোটি ডলারে। এদিকে গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন মার্কিন তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অচিরেই অন্তত ১০০ ডলারের বিনিয়োগ আসছে।

এই ঘোষণার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি প্রত্যাশা করছেন যে মার্কিন কোম্পানিগুলো যেন ভেনেজুয়েলার তেলখাতে বিনিয়োগ করে। তবে অধিকাংশ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সেই প্রত্যাশায় কার্যত পানি ঢেলে দিয়েছেন।

মার্কিন তেল কোম্পানি অ্যাক্সন মোবিলের শীর্ষ নির্বাহী ড্যারেন উডস এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এটা বিনিময়ের অযোগ্য। কারণ, এখানে অনেক আইনগত এবং বাণিজ্যক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। একমাত্র তাহলেই আমরা বুঝতে পারব যে সেখানে বিনিয়োগের রিটার্ন হিসেবে আমরা কী পাবো।”

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে মজুত আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুত আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলায়।

তবে এত বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক তেলের উৎপাদন খুবই কম। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে ভেনেজুয়েলা। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আসে, তার মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।

ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের গঠন ভারী ও ঘন। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধনের ক্ষেত্রে অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি যত্নশীল হতে হয়।

তবে এ ধরনের তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, কারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি, অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিসহ আরও অনেক ধরনের জ্বলানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব।

ইসলামী আন্দোলন নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য না করার আহবান জামায়াত আমিরের

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য ও লেখালেখি থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ আহবান জানান তিনি।

সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন মন্তব্য ও লেখালেখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ রাখতে চাই—সত্যিই যদি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সকল কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।’