সংবিধান থেকে একাত্তর মুছে যাবে, বিসমিল্লাহ থাকবে না—এসব সঠিক নয় : আলী রীয়াজ

SHARE

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে জুলাই সনদ পাস হলে সংবিধান থেকে ১৯৭১ মুছে যাবে, বিসমিল্লাহ থাকবে না—এসব কথা ঠিক নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দেশে কী যে নিপীড়নমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী আপনারা। গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অন্যায়ভাবে মামলার শিকার হওয়া এসব কিছুরই আপনারা কেবল সাক্ষী নন, ভুক্তভোগীও বটে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে, কেউ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। আমরা যেন সেটা ভুলে না যাই।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ মানুষ তরুণ, তারা কোনো দিন গণভোট দেখেনি।
এবারকার গণভোট তাদের জন্য প্রথমবার। রাষ্ট্রের ভিত্তি কেমন হবে বা কী থাকবে এরই দলিল হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ এবং সেই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতেই এ গণভোট।’

তিনি ইমামদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যেহেতু সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, আপনাদের কাছে অনেকেই প্রশ্ন করবে গণভোট কী? তাদের বলবেন, গণভোট হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট। প্রশ্ন আসে কিসের ‘হ্যাঁ’, কিসের ‘না’? ‘হ্যাঁ’ হচ্ছে আপনি বাংলাদেশের একটা ব্যবস্থাকে বদলে ভবিষ্যতে নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনার সমর্থন জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “কিছু ভিন্নমতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামতসংবলিত জুলাই সনদ ১৩ কোটি ভোটারের সামনে হাজির করা হচ্ছে। ভোটাররা সম্মতি দিলে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। গণভোটে প্রশ্ন করা হয়েছে আপনি পরিবর্তন চান কি না। জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সমর্থন জানালে পরবর্তী সরকার এ সনদ বাস্তবায়ন করবে। ‘না’ জিতলে আবার ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে পারে।
সমাজের অভিভাবক হিসেবে আপনাদের এ বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে যে তাদের সমর্থনে ভবিষ্যতে কেউ যেন অতীতের মতো ফ্যাসিস্ট হতে না পারে।”

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অথিতির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, ইসলামী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম, ইমামদের পক্ষে মুফতি হুমায়ুন কবির প্রমুখ।