রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।

ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে দুই পক্ষ আসন্ন নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদিত শ্রম আইন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা করে।

প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতিগুলো তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে আসিয়ানে সদস্যপদ লাভের জন্য ঢাকার উদ্যোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান মঞ্চ হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা।

ড. ইউনূস বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিনিধি পাঠাবেন বলে এসময় আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ড. ইউসূস বলেন, ‘এটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে এবং ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা শুভ কিছুর প্রত্যাশা করি।’ এর প্রতিক্রিয়ায় চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে আসা রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তাদের সঙ্গে তিনি কাজ করার প্রত্যাশা রাখছেন।

মার্কিন দূত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং গত ১৮ মাসে ড. ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ছাড়া ক্রিস্টেনসেন নতুন প্রবর্তিত শ্রম আইনের প্রশংসা করেন। ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ওপর শুল্ক কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনা শুল্ক আরও হ্রাসের দিকে নিয়ে যাবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতির প্রশংসা করে জোর দিয়ে বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনার অন্যতম ভিত্তি হলো কৃষি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্যাম্পে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ঢাকা আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে আগ্রহী এবং এরই মধ্যে এই আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ এবং অর্থনীতিকে কাছাকাছি আনতে গত ১৮ মাস ধরে তিনি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সরকার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বৈঠকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

দুই দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর দ্বিতীয় দিনে দুই দিনের সফরে আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই সফরে তিনি মোট আটটি জেলায় নির্বাচনি সভায় অংশ নেবেন।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সফরের প্রথম দিনে শুক্রবার পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি সভা করবেন জামায়াত আমির।

পরদিন শনিবার রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে একটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন ডা. শফিকুর রহমান। এরপর একই দিনে তিনি গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় পৃথক সভায় অংশ নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন।

জামায়াত জোটের অবশিষ্ট ৪৭টি আসন সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আজ আমাদের নির্বাচনী কমিটির বৈঠক চলছে। আশা করছি বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারব।

প্রসঙ্গত, আগামী রোববার দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা-৫, ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ আসনে প্রচারণা চালাবেন জামায়াত আমির।

“কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, আমার রিয়্যাক্ট করার বয়স চলে গেছে”: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্যে মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, “শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, আমার বয়স ও অবস্থান থেকে তার প্রত্যুত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। ওরা যা বলুক, এতে আমার কোনো ক্ষতি নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে রিয়্যাক্ট করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, আমার রিয়্যাক্ট করার বয়স চলে গেছে।”

তিনি বলেন, “আমি প্রমাণ করতে পারব সরকারের একটি মহল কিছু কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করছে। একজন রাষ্ট্রের প্রধান যখন নির্দিষ্ট কাউকে ইঙ্গিত করে বলেন—জয়ী হয়ে আসবে, তখন বোঝা যায় তাদের জয়ী করতেই চেষ্টা করা হবে।”

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনে রাজধানীর শান্তিবাগ স্কুল ও পুরাতন রমনা থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, “শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, আমার বয়স ও অবস্থান থেকে তার প্রত্যুত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। ওরা যা বলুক, এতে আমার কোনো ক্ষতি নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে রিয়্যাক্ট করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, আমার রিয়্যাক্ট করার বয়স চলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “ও আমার ছেলের চেয়েও ছোট। আমার ছেলে যেমন বাসায় দুষ্টুমি করে, আমি এটাকেও তেমনই ধরে নিয়েছি।”

ভোটের ফলাফল নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, “জয়ের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে কেউ কাজ করে না। আমিও আশাবাদী। অতীতে প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়েছি। এবারও যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, ইনশাআল্লাহ জয়লাভ করবো।”

তবে নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ভয় পাচ্ছি। সরকারের একটি মহল বিশেষ কিছু প্রার্থীকে পরাজিত করার চেষ্টা করতে পারে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো কিনা জানি না, তবে চেষ্টা যে হবে তা নিশ্চিত।”

সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “তারপরও আমাদের নেতাকর্মীদের যে মনোবল দেখছি, তাতে বিশ্বাস করি সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ।”

প্রচারণার প্রথম দিনে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিটি নাগরিকের জানমাল রক্ষা করা এখন অত্যন্ত জরুরি: মির্জা ফখরুল

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে এনে প্রতিটি নাগরিকের জানমাল রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে এনে প্রতিটি নাগরিকের জানমাল রক্ষা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে গুলি করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ও বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা ভরে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত সব দুষ্কৃতকারীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

‘এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা দেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, ইনশাআল্লাহ’, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

গণভোট একটি ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা: জিএম কাদের

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে নতুন সরকারকে আজ্ঞাবহ হিসেবে থাকতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

‎বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর লক্ষ্যে রংপুরে জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আরও দেখুন
কম্বল
হাসিনাকে
ঢাকার

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, গণভোট একটি ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা। দেশের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি এটি বানচাল করুন। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে দেশের শাসন ব্যবস্থা থাকবে না। বড় বড় রাজনৈতিক দল এখনও বুঝতে পারছে না। জনগণ ভোট দিক বা না দিক যেভাবে সরকার ও তাদের নিয়োগদাতারা মাঠে নেমেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে হলেও তারা হ্যাঁ ভোটকে জয়ী করে বিপ্লবী সরকার গঠন করবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে নতুন সরকারকে আজ্ঞাবহ হিসেবে থাকতে হবে। আমরা সংস্কারের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু সংস্কার হতে হবে মানুষের মতামতের ভিত্তিতে।

‎জিএম কাদের বলেন, গণ-অভ্যুত্থানকে অন্তর্বর্তী সরকার মেটিকুলাস ডিজাইন বলেছিল। সমন্বয়করা বর্তমান সরকারের নিয়োগদাতা ও সরকার বর্তমান তাদের অভিভাবক। জামায়াতের একটি অঙ্গসংগঠন এনসিপি ও বাকি কিছু দল। সরকারের নিয়োগদাতাদের নিয়োগদাতা হলো জামায়াত। তিনজন মিলে এখন সরকারি দল। সরকারি দল দেশে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

জাপা চেয়ারম্যান দাবি করে বলেন, চাকরি জীবনে ও মন্ত্রী থাকাকালীন আমি ব্যাপক সংস্কার করেছি। হুসেইন মুহম্মদ দেশের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হিসেবে রয়েছেন। সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই, আমরা মনে করছি, যে প্রক্রিয়ায় সংস্কার এগিয়ে নেয়া হচ্ছে– এর ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার চাপিয়ে দেয়া এবং যে প্রক্রিয়ায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ তা কিছুই বুঝছে না। সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, লোভ-লালসা দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে আপনি হ্যাঁ- এর পক্ষে জয়ী হলে সব কিছু পেয়ে যাবেন। এসব কথা সত্য নয়, অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে।

‘হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে দেশে প্যারালাল ফোর্স দাঁড়িয়ে যাবে। আমি আশঙ্কা করছি, বিপ্লবী সরকার গঠন করে তারা বলবে হ্যাঁ ভোটে জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। সংসদকে আমাদের কথা মতো চলতে হবে। সংস্কার মেনে চলতে হবে। সংসদ ও নতুন সরকারকে বাধ্য করা হবে তাদের কথা মতো চলতে। সংসদ ও নতুন সরকার কার্যকরভাবে তাদের কাজ করতে পারবে না। এরপর জুলাই সনদ পাশ করানোর নামে তারা বছরের পর বছর বিপ্লবী সরকার ক্ষমতায় থেকে যাবে। সংসদ হবে শুধু হুকুম মানার সংসদ’, যোগ করেন জিএম কাদের।

তিনি আরও বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক দল বা প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের বিলীন করার জন্য গণহত্যা চালানো হচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি, আগামী দিনে বিচারের নামে প্রহসন করে আরেক দফা দেশে গণহত্যা চালানো হতে পারে। এগুলোর ব্যাপারে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুসহ অন্যরা।

 

আর কোনো মব সহ্য করা হবে না: ছাত্রদল সভাপতি

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, একটি গোষ্ঠী বারবার ইসলাম ধর্মের নামে মব সৃষ্টি করেছে। আমরা এতদিন মুখ বুঝে সহ্য করেছি। কিন্তু এখন থেকে বাংলাদেশে আর কোনো মব সহ্য করা হবে না। ধর্মের নামে ভণ্ডামিও সহ্য করবো না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আয়োজিত এক জনসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, একটি গোষ্ঠী সন্তানের মাথায় কসম কাটিয়ে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তাদের প্রতিরোধ করতে হবে এবং আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। যদি আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সামাজিকভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওদের কোনো ভিশন নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই। তাদের ১২ তারিখে জবাব দিতে হবে। তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতো পরিকল্পনা আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। আমাদের কোনো বিকল্প নেই।

এ সময় তিনি মুনাফেক ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ককে দৃঢ় করতে দুই দেশকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ বর্তমানে এই সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই।’

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিবিসিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাইলে—দুই পক্ষকেই আগে সেটি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একের পর এক পদক্ষেপে সম্পর্ক যদি নিচের দিকে নামানো হয়, তাহলে সেটাই হবে।’

এদিকে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ আরো চারটি মিশনে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারকে প্রত্যাহারের পরামর্শ দেয় ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা মিশন ও পোস্টের কর্মকর্তাদের ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দিয়েছি।’ তবে একই সঙ্গে বলা হয়, ভারতীয় মিশনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালু রাখবে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ব্যর্থ—এর কোনো প্রমাণ নেই। তবে আমরা কিছুই বদলাতে পারব না। তারা যদি মনে করে এখানে নিরাপদ নয়, তাহলে সে সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে। এটি দুঃখজনক হলেও আমরা তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারি না।

গত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মনে হয়েছে ভারত কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তিনি আরো সংযত প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ককে দৃঢ় করতে দুই দেশকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ বর্তমানে এই সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। আমাদের আরো বেশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া থাকা উচিত ছিল, এবং আমি সেটাই দেখতে চাই।’

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং সেখানে আশ্রয় পেয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, তিনি সেখানে অবস্থানকালে এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে বা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আগের সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ করা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু থাকলেও দেশটি স্বাভাবিক সম্পর্কই চেয়েছে এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই, কারণ পাকিস্তান বাংলাদেশের আরেকটি প্রতিবেশী দেশ।

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের একটি বৈধ রাজনৈতিক দল এবং তাদের একটি সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।

ভারতের বিজেপির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একসময় বিজেপি মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল, পরে সেই দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

তার ভাষ্য, রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকেই, তাই কারো অপছন্দ হলেও জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল এবং তাদের নিজস্ব মতাদর্শ রয়েছে।

বয়স্ক নারীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেন কিয়ারা!

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও মিষ্টি স্বভাবের অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত কিয়ারা আদভানি। কিন্তু সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের করা একটি দাবি ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে নেটদুনিয়ায়। তার অভিযোগ, মাঝ আকাশে বিমানে বসার জায়গা নিয়ে ওই ব্যক্তির মায়ের সঙ্গে অত্যন্ত রুক্ষ এবং অসংবেদনশীল আচরণ করেছেন অভিনেত্রী।

একটি ভাইরাল পোস্টে ওই ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেছেন, সম্প্রতি একটি বিমানযাত্রার সময় ভুলবশত তার মা কিয়ারা আদভানির সিটে বসে পড়েছিলেন।

বিষয়টি খেয়াল করার পর তার মা দ্রুত ক্ষমা চেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, কিয়ারা বিষয়টি সহজভাবে নেননি। বরং তিনি নাকি ওই বয়স্ক নারী  ওপর যথেষ্ট বিরক্ত হন এবং তার সঙ্গে বেশ রূঢ় ভাষায় কথা বলেন।ওই ব্যক্তির মতে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে কিয়ারা আরও একটু ধৈর্য ও ভদ্রতা দেখাতে পারতেন।

এই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই কিয়ারার অনুরাগীদের একাংশ এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, পর্দার বাইরের কিয়ারা অত্যন্ত বিনয়ী এবং কোনও চাক্ষুষ প্রমাণ বা ভিডিও ছাড়া এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। 

অস্ট্রেলিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ৩

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে এক ছোট শহরে গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চতুর্থ একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে গুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জনগণকে ঘটনাস্থল এড়াতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদ অনুযায়ী, বন্দুকধারী এখনো পলাতক। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াকার স্ট্রিটের কাছে ইয়েলকিন স্ট্রিটে গুলির খবর পাওয়ার পর জরুরি সেবা ডাকা হয়। নিহতরা হলেন দুই নারী এবং একজন পুরুষ।
 

সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, এই ঘটনা সম্ভবত ঘরোয়া সহিংসতার আক্রমণ। তারা আরো জানিয়েছে, পুলিশ বন্দুকধারীকে খুঁজছে এবং ভারি অস্ত্রধারী বিশেষ ট্যাকটিক্যাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেভেন নিউজ রিপোর্ট করেছে, বন্দুকধারী স্থানীয় কাউন্সিলের একটি গাড়ি ব্যবহার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে।

লেক কারজেলিগো নিউ সাউথ ওয়েলসের কেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত এবং এখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ বসবাস করে।

গত মাসেই সিডনির বন্ডাই সৈকতে এক নির্বিচারে গুলির ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছিল। 

সূত্র : বিবিসি

অনন্ত আম্বানিকে শ্রদ্ধা জানাতে ১.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশেষ ঘড়ি ‘ভান্তারা ওয়াচ’

আমেরিকান বিলাসবহুল গয়না ও ঘড়ি প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ‘জ্যাকব অ্যান্ড কোং’ একটি বিশেষ ঘড়ি উন্মোচন করেছে। ঘড়িটির দাম প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার। ঘড়িটি তৈরি করা হয়েছে অনন্ত আম্বানি এবং তার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প ‘ভান্তারা গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ অ্যান্ড কনজারভেশন সেন্টার’কে শ্রদ্ধা জানাতে।

‘ভান্তারা’ হলো, ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র।

এটি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত এবং অনন্ত আম্বানির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই বিশাল কেন্দ্রটি আহত, নির্যাতিত এবং বিপন্ন প্রাণীদের উদ্ধার করে চিকিৎসা ও সুরক্ষা প্রদান করে। প্রায় ৩ হাজার একর জমির ওপর বিস্তৃত। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার প্রাণী রয়েছে, যার লক্ষ্য একটি স্বনির্ভর মডেল তৈরি করা।
 

নতুন উন্মোচিত ঘড়ির নাম ‘ভান্তারা ওয়াচ’। এটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি উন্মোচিত করা হয়। ঘড়িটির ডায়ালের কেন্দ্রে রয়েছে হাতে আঁকা অনন্ত আম্বানির মূর্তি, যা তার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রতি প্রতিশ্রুতি দেখায়। অনন্ত আম্বানির চারপাশে রয়েছে সিংহ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি, যা ভান্তারা অভয়ারণ্যে রক্ষিত।

পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড সবুজ রঙের। 

ঘড়িটিতে ৩৯৭টি রত্নপাথর ব্যবহার করা হয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ২২ ক্যারেট। এতে আরো রয়েছে ডেম্যানটয়েড গারনেট, সাভোরাইট, সবুজ নীলকান্তমণি এবং সাদা হীরা। প্রতিটি পাথর সৌন্দর্য যোগ করার জন্য সাবধানে বসানো হয়েছে।

কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বলেছেন, নকশার কারণে সময় দেখা একটু কঠিন।

তবে ঘড়ি সংগ্রাহকরা এটিকে একটি বিরল শিল্পকর্ম হিসেবে প্রশংসা করেছেন। ভান্তারা ওয়াচ অনন্ত আম্বানির বিরল ঘড়ির সংগ্রহে নতুন সংযোজন। 

সূত্র : গালফ নিউজ।