রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

আমি সর্বপ্রথম চাঁদাবাজি বন্ধ করব: বিএনপি প্রার্থী আলতাফ

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, সরকার গঠন করতে পারলে সর্বপ্রথম চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে নিজ বাসভবনে পটুয়াখালী নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিএনপির পক্ষে ভোট কামনা করে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আপনারা যদি ভোট দেন, আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, আর আল্লাহ যদি কপালে লিখে রাখেন, যদি ভালো জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়, তাহলে সর্বপ্রথম যে কাজটি আমি করব, সেটি হলো চাঁদাবাজি বন্ধ করা, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও কাজ করেছি। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিএনপির মাধ্যমে আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম। বিএনপি কখনো প্রার্থী দিতে ভুল করেনি, আর আপনারাও ভোট দিতে ভুল করেননি।

দলের অভিমানী নেতাকর্মীদের বিষয়ে আলতাফ হোসেন বলেন, পটুয়াখালীর নেতারা যতই অভিমান করুক না কেন, আমি তাদের ডেকে নিয়ে একটা সন্দেশ, একটা মিষ্টি হাতে ধরিয়ে দিই—যেন খেতে খেতে ঘরে ফিরে যায়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমত আছে বলেই আমি এখনো বেঁচে আছি। না হলে হয়ত বেঁচে থাকারই কথা ছিল না। পটুয়াখালীর মতো জায়গায় চাঁদাবাজি না করে যদি কেউ বাঁচতে পারে, তাহলে সে দেশের যে কোনো জায়গায় বাঁচতে পারবে।

বিখ্যাত সম্রাট আলেকজান্ডারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ মারা গেলে কিছুই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। আমিও কিছুই নিতে পারব না। আপনারা জানেন, আলেকজান্ডার মৃত্যুর আগে নসিহত করে গিয়েছিলেন—তার কফিন থেকে যেন দুই হাত বাইরে বের করে রাখা হয়, যাতে মানুষ দেখে বুঝতে পারে, এত বড় শক্তিশালী সম্রাটও মৃত্যুর পর খালি হাতেই চলে গেছে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াতসহ ১০ দল তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। ওই ১০ দলের সমর্থনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল ওহাব মিনার।

কুমারখালীতে ট্রাকচাপায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিহত, আহত ১

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে আলুবোঝাই মিনি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রাজ্জাক বাদশা (৪৮)। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে। বাদশা কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকার ‘আল-মদিনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে’র স্বত্বাধিকারী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জগন্নাথপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা কর্মী মুফতি খাইরুল বাশার আহত হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মোটরসাইকেলযোগে আব্দুর রাজ্জাক বাদশা তার এক কর্মীকে নিয়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আনোয়ার খাঁনের বাসভবন খোকসার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফুলতলা এলাকায় একটি আলুবোঝাই মিনি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে তারা সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এসময় দ্রুতগামী ট্রাকটি বাদশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার খাঁন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই বাদশার সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। তিনি দেখা করে কিছু জরুরি কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পথেই যে এমন বিপর্যয় ঘটবে তা কল্পনাও করিনি।’

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। যেহেতু মরদেহটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল, তাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেটি হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং হাইওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আমরা ইরান-পাকিস্তান নয়, গর্বের বাংলাদেশ বানাতে চাই: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‌‘ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ধর্ম অন্তরের আবেগের বিষয়। আমরা বাংলাদেশকে ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। অনেকে বলে কেমন হবে বাংলাদেশ। বলতে চাই, আমরা দেশকে ইরান, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান বানাতে চাই না। আমরা গর্বের বাংলাদেশ বানাতে চাই।’

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, বেকারের কারখানা বানাতে চাই না। বেকারত্ব ঘোঁচাতে চাই। তাই বেকার ভাতার পরিবর্তে মর্যাদাসম্পন্ন কাজ দিতে চাই। যোগ্যদের যোগ্যমতে কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিলে কথা রাখি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর কথা দিয়েছিলাম, আমরা মামলা বাণিজ্য করব না। আমার হাজার হাজার মামলা করি নাই। আমরা চাঁদাবাজি করি নাই। আমরা বলি নাই, তোমার নামটা ভুলে মামলায় ঢুকে গেছে, বের করতে হলে কিছু খাজনা দিতে হবে। আমরা কোনো নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষকে জেলের ভাত খাওয়াতে চাই না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘রংপুরের মানুষ এত ভালো যে, নিজেদের দাবিটাও ভালোভাবে বলতে পারে না। তাই বলে আমরা সৎ ভাইয়ের আচরণ করতে পারি না। রংপুর তথা উত্তরাঞ্চল শষ্যভান্ডার। তাই এগ্রোভিত্তিক কলকারখানা তৈরি করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের বিপ্লব ঘটানো হবে। উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি বিপ্লবের রাজধানী। এজন্য কৃষি ভিত্তিক ভার্সিটি করা হবে, কলকারখানা করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগ হবে। আমরা চাই না উত্তরবঙ্গ আর বঞ্চিত হোক।’

তিনি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করতে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা ক্ষমতায় এসে প্রথমে ওখানেই কোদালের কোপ বসাতে চাই। তিস্তাকে সজিব করা হবে। তিস্তা সজিব হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ সজিব হবে। আমরা কথা রাখতে চাই। আমরা রাজনীতির জন্য কথা বলতে চাই না। উত্তরবঙ্গকে নতুন করে সাজানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকার পরিচালনায় দক্ষ, তা ইতিপূর্বে প্রমাণ দিয়েছি। আমাদের তিন ভাই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই। তারা সততার সঙ্গে ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় মহানগর জামায়াতের সভাপতি এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, জেলা জামায়াতের আমির ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগতুল্লাহ সিগবাসহ অন্যান্য নেতবৃন্দ।

এসময় ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীকে ভোট চান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

ভেনেজুয়েলার রদ্রিগেসের দাবি: আমেরিকা তাঁকে ১৫ মিনিট দিয়েছিল সিদ্ধান্ত নিতে-কথামতো চলো, নয়তো মরবে

নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব পাওয়া অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে জনমত ও বার্তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, সেটা একটি ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে বলে জানাচ্ছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন।

ভিডিওতে দেখা যায়, দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী সরকারপন্থী ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে এক সমাবেশে বসেছেন, এবং সেখানে মাইক্রোফোনের সামনে মোবাইল ফোন ধরে রেখেছেন। ফোনটি স্পিকার মোডে ছিল। ওপাশে ছিলেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলচি রদ্রিগেস।

রদ্রিগেসকে সেখানে বলতে শোনা যায়, মার্কিন বাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর তাঁকে (দেলচি) ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছিল বলে দাবি রদ্রিগেসের। কী সিদ্ধান্ত? হয় ওয়াশিংটনের কথা মতো চলতে হবে, নতুবা, রদ্রিগেসের ভাষায়, ‘ওরা আমাদের মেরে ফেলত।’

দেলচি রদ্রিগেস আগে, অর্থাৎ মাদুরোর সরকারে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনি ক্ষমতা নেন। কদিন আগে রদ্রিগেসের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, রদ্রিগেস তাঁর সব দাবি মেনে চলছেন।

দেলচি রদ্রিগেস বলেন, ‘হুমকি আর ব্ল্যাকমেইল সব সময়ই ছিল’ বলে তিনি এসব করছেন। স্বীকার করেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল যেকোনোভাবে ‘রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা।’

এই মন্তব্যগুলো উঠে এসেছে প্রায় দুই ঘণ্টার একটি বৈঠকের ফাঁস হওয়া অডিও–ভিডিওতে। বৈঠকটি হয়েছে মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাত দিন পর। স্থানীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘লা ওরা দে বেনেসুয়েলা’ প্রথম ভিডিওটির খবর প্রকাশ করে।

এই ভিডিও একদিক থেকে ‘বিরল’ জানিয়ে দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, এটি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট উগো চাভেসপন্থী শাসনব্যবস্থার ভেতরে কার্যক্রম কীভাবে চলে, চিন্তাভাবনা কীরকম হয়, সে সম্পর্কে সামান্য ধারণা দিয়ে যায়। ওয়াশিংটন মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসকরা কীভাবে দ্রুত বয়ান বা ন্যারেটিভ নির্মাণের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, সেটাই এই ভিডিওতে বোঝা যায় বলে লিখেছে দ্য গার্ডিয়ান।

এই ভিডিওটা এমন সময়ে সামনে এল, যখন আগে থেকেই একটা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব চালু আছে যে, মাদুরোর ওপর হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের দূতদের সঙ্গে রদ্রিগেসসহ মাদুরোর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের যোগাযোগ হয়েছিল।

ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরো-পরবর্তী প্রশাসনের অবশিষ্ট নেতারা আশঙ্কা করছিলেন, তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা হতে পারে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের রাজনৈতিক আন্দোলন যেন ভেতর থেকে ভেঙে না পড়ে, সে চেষ্টাও করছিলেন। ইনফ্লুয়েন্সারদের উদ্দেশে ফোনে রদ্রিগেস বলেন, ‘আমি শুধু একটাই জিনিস চাই— ঐক্য।’

তাঁকে স্পিকারফোনে দেওয়ার আগে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ফ্রেদি নানিয়েস চেষ্টা করেছিলেন রদ্রিগেসের পক্ষে কিছু বলার। তিনি বলেন, রদ্রিগেসকে নিয়ে ‘গুজব, কানাঘুষা, ষড়যন্ত্র আর বদনামের চেষ্টা’ বন্ধ করতে হবে। নানিয়েস দাবি করেন, রদ্রিগেসই একমাত্র ভরসা, যাঁর মাধ্যমে ‘প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব’— এবং একই সঙ্গে ‘নতুনভাবে আরও শক্তি জোগাড় করে শুরু করা যাবে।’

স্পিকারফোনে ছয় মিনিট কথা বলেন রদ্রিগেস। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে হওয়াটা খুব কষ্টের ছিল।’ এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কথা বলেন। রদ্রিগেসের ভাষায়, ‘ওরা যখন প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করল, তখন প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি শুরু হয়। দিয়োসদাদো (কাবেইয়ো, মাদুরো প্রশাসনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), হোর্খে (রদ্রিগেস, দেলচি রদ্রিগেসের ভাই ও কংগ্রেশনাল প্রেসিডেন্ট) আর আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল, এর মধ্যেই জবাব দিতে বলল। নইলে আমাদের হত্যা করবে বলে জানিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, শুরুতে মার্কিন সেনারা জানিয়েছিল, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ নয়, হত্যা করা হয়েছে। রদ্রিগেসের দাবি, তখন তিনি, তাঁর ভাই ও কাবেইয়ো উত্তর দেন— তাঁরাও একই পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত।

রদ্রিগেস বলেন, ‘আজও আমরা সেই অবস্থানেই আছি। কারণ হুমকি আর ব্ল্যাকমেইল থামেনি। তাই আমাদের ধৈর্য ধরে, কৌশলগতভাবে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।’ এ সময় তিনি তিনটি লক্ষ্য উল্লেখ করেন— শান্তি বজায় রাখা, জিম্মিদের উদ্ধার করা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখা।

ভিডিওটি সম্ভবত একটি ভিডিও কনফারেন্স প্ল্যাটফর্মে ধারণ করা হয়েছিল। বেশির ভাগ ইনফ্লুয়েন্সার ঘরে উপস্থিত ছিলেন, কেউ কেউ অনলাইনে যুক্ত হন। ভিডিওটি কীভাবে ফাঁস হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা বা যুক্তরাষ্ট্র— কোনো সরকারই মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানাচ্ছে দ্য গার্ডিয়ান।

রদ্রিগেস এরপর আর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে তাঁকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার কথা কখনো বলেননি। বরং এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। বুধবার রদ্রিগেস বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো ভয় ছাড়াই আমাদের মধ্যকার মতপার্থক্য ও ঝামেলাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি, এবং সেটা কূটনীতির মাধ্যমেই।’

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, পূর্বসূরি মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে রদ্রিগেস খুব সতর্কভাবে ভারসাম্য রেখে চলছেন। দেশের ভেতরে তিনি কঠোর ভাষায় কথা বলছেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন— ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিতা লোপেস মায়া বলেন, আদৌ কোনো মৃত্যুর হুমকি ছিল কি না— তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তাঁর মতে, ‘এটা হয়তো রদ্রিগেজের বানানো এক ধরনের বয়ান, যাতে সমর্থকদের একত্রিত রাখা যায়। কারণ সবাই জানে, ভেতরের সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোকে এত সহজে সরানো সম্ভব হয়নি।

বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রী নানিয়েস তথাকথিত ‘কট্টরপন্থীদের’ বিষয়ে ইনফ্লুয়েন্সারদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এরা বলবে —দেশ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, বিপ্লব ধ্বংস করা হচ্ছে, ‘চাভিসমো’র সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। নানিয়েস আরও দাবি করেন, আজ যা কিছু ঘটছে, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণসহ তার সবটুকুই নাকি মাদুরোরই পরিকল্পনার অংশ ছিল! তিনি বলেন, ‘এটা কোনো ছাড়, উপহার দেওয়া বা পরাজয় মেনে নেওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে তেল বিক্রি করা সব সময়ই আমাদের পরিকল্পনায় ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক ধরনের দ্বিমুখী ভাষা ব্যবহার করে চলেছে। একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কড়া বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের সব দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে। মার্গারিতা লোপেস মায়ার ভাষায়, ‘সরকার আসলে দরকষাকষি করছে— নিজেদের কীভাবে বাঁচানো যায় তা নিয়ে।’

ভিডিও ফাঁস হওয়ার কয়েক দিন পরই মন্ত্রিসভা রদবদলে ফ্রেদি নানিয়েসকে পরিবেশমন্ত্রী করা হয়। তাঁর উত্তরসূরি, লেখক মিগেল আংখেল পেরেস পিরেলা দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। এই অ্যাকাউন্টের উদ্দেশ্য বলা হয়— ‘ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার সত্য তুলে ধরা।’ অনেকেই এটিকে আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখছেন যে, মাদুরো না থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও, ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থার চরিত্র বদলায়নি। এখনো দমন–পীড়ন চলছে, শত শত রাজনৈতিক বন্দী আছে, নতুন নির্বাচনের কোনো সময়সূচিও নেই।

লোপেস মায়া বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি পথ আছে। একটি হলো— দেশকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে নিয়ে যাওয়া। আরেকটি হলো— যেটা চাভেসপন্থীরা করে চলেছে: যুক্তরাষ্ট্রের কথা মেনে চলা, তার মাধ্যমে আরও সময়ক্ষেপণ করা, যাতে কিছু অর্থনৈতিক ছাড় দিয়ে হলেও কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখা যায়।’

‘ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রপ্তানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি?’: সালাহউদ্দিন আহমদ

‘ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রপ্তানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি? আওয়ামী লীগ এক সময় রাজনৈতিক দল ছিল, এখন মাফিয়া পার্টি।’ এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রপ্তানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি? আওয়ামী লীগ এক সময় রাজনৈতিক দল ছিল, এখন মাফিয়া পার্টি।

শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা দেশ নিয়ে পরিকল্পনা না দিয়ে শুধুই জান্নাতের কথা বলে, তারা মানুষের ইমান নষ্ট করছে। এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে এমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে যেদেশে আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ ফিরবে না।

তিনি বলেন, গরিব মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়নের পক্ষের দল বিএনপি।

প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে মানিকপুর-সুরাজপুর ইউনিয়নে পথসভা করেন এবং বড়ইতলীসহ দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের গণসংযোগ করেন।

এ সময় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, দলীয় নেতাকর্মী সহ সমর্থকরা তার সঙ্গে ছিলেন।

আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। এ উপলক্ষে কোকোর কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।

আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকো বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। পরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম কবর জিয়ারত করবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো। ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিত্সা নিতে সপরিবারে ব্যাঙ্ককে যান তিনি। পরে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রথমবার ওয়েব ফিল্মে অপু বিশ্বাস, শুটিং নেপালে

বিরতি কাটিয়ে আবারও কাজের ব্যস্ততায় ফিরছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। কিছুদিন আগে নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়ে পর্দায় ফেরার কথা জানান দেন তিনি। এরই মধ্যে আব্দুন নূর সজলের সঙ্গে জুটি হয়ে ‘দুর্বার’ নামে একটি থ্রিলার সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন অপু।

এর পাশাপাশি এবার খবর, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিষেক হতে যাচ্ছে অপু বিশ্বাসের।
প্রথমবারের মতো তিনি অভিনয় করতে যাচ্ছেন একটি ওয়েব ফিল্মে। থ্রিলার ঘরানার এই ওয়েব ফিল্মটির নাম ‘শিকার’। এটি পরিচালনা করবেন ‘জ্বীন ৩’-এর নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান।

কালের কণ্ঠকে পরিচালক জানিয়েছেন, এটি থ্রিলার ঘরানার একটি ওয়েব ফিল্ম।
এর মাধ্যমে অপু দি প্রথমবার ওয়েবে কাজ করতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরও সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, এই ওয়েব ফিল্মে অপু বিশ্বাসের বিপরীতে দেখা যাবে পলাশ নামের এক নবাগত অভিনয়শিল্পীকে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চে নেপালে শুরু হবে শুটিং।

পরিচালক জানান, পুরো টিম নিয়ে ৮ মার্চ নেপালের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘শিকার’ ওয়েব ফিল্মে অপু বিশ্বাস ছাড়াও অভিনয় করবেন বড়দা মিঠু, ইমরান হাসোসহ আরো অনেকে। শুটিং শেষ হলে ঈদের পর দেশীয় একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি : সালাহউদ্দিন

বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুরাজপুর-মানিকপুরে গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। যারা ভারতের পক্ষে তারা ভারতে পালিয়েছে।
আরেকটি শক্তি বিদেশিদের গোলামি করে বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান সবার একই পরিণতি হবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে স্বাধীনভাবে মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এ নেতা।

সারা দেশে ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ২ দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা ভোগ করবেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবশ্যিকভাবে যোগদান বা রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের সই করা আদেশে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ২৭৮

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ৭ দিনে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। ১৬-২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীন ইউনিটসমূহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করে।

আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং চোরাকারবারিরা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের ৮২২টি গোলাবারুদ, ৭টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।

দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।