রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ক্ষমতার লোভে ইসলামের নামের বাক্স ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে ইসলামের নামের বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সে আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি।

এই দেশ একবার-দুইবার নয়, তামাম দুনিয়ায় দুর্নীতিতে পাঁচবার শীর্ষে উঠে এসেছে। যারা এতদিন দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের শাসনে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে। তাদের আমলেই দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হয়েছে এবং বিদেশি শক্তির তাবেদারি করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের রৌমারী উপজেলার সি জি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এদেশ নতুন করে স্বাধীন হওয়ার পর দেশ গঠনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামের পক্ষে একটি আলাদা বাক্স দেওয়ার দাবি আমরা জানিয়েছিলাম।

কিন্তু সেই পরিবেশ তৈরি হওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে ইসলামের নামের বাক্স ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আবার প্রচলিত সেই পুরোনো ব্যবস্থার কথাই বলছে। অথচ যদি প্রচলিত নিয়মেই দেশ সুন্দর হতো, তাহলে ৫৪ বছরে কেন তা হয়নি?’

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের নেতারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কথা বললেও কোন নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে- তা জাতি জানতে চায়। ‘আমরা ইসলামের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ইসলামী নিয়মনীতি ছাড়া প্রকৃত ইনসাফ সম্ভব নয়।’

ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, ‘ইসলাম, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে আমরা একসাথে পথচলা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেই স্বার্থ যখন বিলীন হয়ে গেল, তখন আমরা একা হয়ে গেলাম। তবে আমরা একা নই- আমাদের সঙ্গে আল্লাহ রয়েছেন।’

জনসভায় কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান হাফিজসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোটের মাঠে যে অভিনব কৌশলে প্রচারণায় নেমেছেন জারা

পোস্টার, উচ্চশব্দের মাইকিং ও শোডাউন ছাড়াই নির্বাচনী প্রচারণার এক নতুন মডেল তুলে ধরছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।

মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি ফেইসবুক পোস্টে তিনি ভোটের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

তিনি লেখেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যখন মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫০০০ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে বলতেন, ‘মা, আমি এসেছি কারণ আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে।’

কিংবা, ‘আমার মেয়ে থাকে আমেরিকায়, সে আমাকে ফোন করে বলেছে, বাবা, তাসনিম জারাকে সিগনেচারটা দিয়ে এসো। ও না হলে দাঁড়াতেই পারবে না।’ তখনই বুঝতে পারি, মানুষ আসলে রাজনীতির সাথে এখন কতটা সম্পৃক্ত। বুঝতে পারি আমাদের শক্তি হলো মানুষের আস্থা। ভাড়া করা মানুষ নিয়ে মিছিল বা কান ঝালাপালা করে দেয়া মাইকিং নয়।’

কিন্তু এই আস্থার রাজনীতি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না তাসনিম জারার জন্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শহরজুড়ে যখন তার ছড়াছড়ি, তখন জারা সিদ্ধান্ত নেন তিনি পোস্টার লাগাবেন না, উচ্চশব্দের মাইকিংও নয়।

তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম শহরজুড়ে পোস্টারের উৎসব। নির্বাচন কমিশন আগেই ঘোষণা করেছিল যে এ বছরের নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিষেধ।

কিন্তু প্রায় সকল প্রার্থী সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শহরটাকে পোস্টার দিয়ে মুড়িয়ে ফেললেন। আমি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলাম। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ‘পোস্টারের জঞ্জাল’ এবং ‘উচ্চশব্দের মাইকিং’ আমাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই আমি আমার টিমকে বলি যে, আমি পোস্টার টাঙ্গাব না, উচ্চ শব্দে মাইকিংও করব না।’

উদ্বিগ্ন হন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীর সরল প্রশ্ন-পোস্টার না থাকলে মানুষ কীভাবে জানবে তিনি নির্বাচন করছেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারে তার নতুন সংযোজন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’।

তিনি বলছেন, ‘আমরা ভাবতে থাকি, এসব দাপোট দেখানো কাজ না করেও নির্বাচনের মাঠে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়? একদম মূলে (Basic-এ) গিয়ে আমরা চিন্তা করলাম, মানুষ আসলে ভোট দেয় কেন? রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা কানের কাছে মাইক বাজলেই কি আপনি কাউকে ভোট দেবেন? সম্ভবত না।

বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। মানুষ ভোট দেয় ‘বিশ্বাস’ থেকে। আর এই বিশ্বাসটা তৈরি হয় যখন আপনার পরিচিত কেউ (আপনার বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মী) আপনাকে ফোন করে বলে, ‘দোস্ত, আমি ওনার ইশতেহার পড়েছি, মানুষটা সৎ। চলো এবার ওনাকে একটা সুযোগ দেই।’

এই ধরণের আন্তরিক কথোপকথন, হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী। আমাদের অনেক সমর্থক আছেন যারা হয়তো মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু মনেপ্রাণে চান রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসুক। তাদের জন্যই আমরা একটা পন্থা বের করার চিন্তা করি। সেখান থেকেই আসে আমাদের ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এর আইডিয়াটা।’

তার ভাষ্য এই ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এমন এক ক্যাম্পেইন মডেল, যেখানে স্লোগান বা শোডাউনের বদলে গুরুত্ব পাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ।

তিনি বিশ্বাস করেন যদি প্রমাণ করা যায় যে কোটি টাকা খরচ,ভাড়া করা লোকের শোডাউন আর শব্দদূষণ ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন আরও অনেকে যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই, কিন্তু আছে যোগ্যতা।

ঐক্যবদ্ধ না থাকলে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেবে: শামা ওবায়েদ

ঐক্যবদ্ধ না থাকলে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

তিনি বলেন, ভোটের মাঠে কাউকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রত্যেক নেতাকর্মী ও সমর্থককে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ফুকরা বাজার মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, সকাল সকাল ভোট দিতে যাবেন। আপনাদের এক একটি ভোট সুন্দর সালথা ও নগরকান্দা গড়ার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে বিভক্তি নয়, ঐক্যই হবে বিজয়ের মূল শক্তি।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের কাছে গিয়ে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে হবে।

উঠান বৈঠকে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কাওছার মাতুব্বরের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, জেলা যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নিজ ভূখণ্ড থেকে ইরানে ‘হামলা চালাতে দেবে না’ আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলা চালাতে দেওয়া হবে না।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি মার্কিন ‘নৌবহর’ উপসাগর অভিমুখে এগোচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ওয়াশিংটন ইরানকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী সামরিক কর্মকাণ্ডে তার আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে’।

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনার একটি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো ধরনের হামলার জন্য লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম পথ’।

অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে : আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের আগে ১৭ বছর যেভাবে এ দেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটা ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। ১৭ বছরের অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ মন্তব্য করেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের বোয়ালখালী আসনে প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তির জন্য বোয়ালখালীতে একটি মার্কায় সিল পড়বে, সেটি শাপলা-কলি মার্কা। আপনাদের একটা ভোটের মাধ্যামে এবার বাংলাদেশ দীর্ঘ কালীন মুক্তি-স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সুশাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দেব।

আসিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘৫ আগস্ট একদিনে পাঁচ শতাধিক শহীদের জীবনের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ তাড়াতে সফল হয়েছিলাম। ৫ আগস্ট যেমন মুক্তিকামী মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে তেমন আরেকটি দিন। এই দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন আমাদের আর রক্ত দিতে হবে না, আমাদের শুধু সিল দিতে হবে এবং একটি সিলের মাধ্যমেই আমরা সহস্র শহীদের রক্তের মাধ্যমে যা অর্জন করেছিলাম তা রক্ষা করতে পারব। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর, ঠিক ৫ আগস্টের আগে ১৭ বছর যেভাবে এদেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটি ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। আমরা দেখেছি কিভাবে গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি বাজার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আমরা যদি এই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের আর না দেখতে চাই তাহলে আমাদেরকে এবার রাজপথে নয়, এবার ব্যালটে বিপ্লব সাধন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যালট বিপ্লবের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শরিক ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এখন সময় ভোটারদের একত্রিত হওয়ার এবং জোটকে সাফল্যমণ্ডিত করার। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে ৩০০ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আপনারা তাদের এ জাতির মুক্তির প্রার্থী হিসেবে দেখবেন। কার কী মার্কা সেটা দেখার সময় নেই। আমরা শুধু দেখব কোন প্রার্থী, কোন জোট মুক্তি এনে দিতে পারবে। আমরা সবাই তাদেরকে ভোট দেব। আমাদের ভোটের মাধ্যমে এ প্রজন্ম এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বাধীনতা নিহিত থাকবে।’

কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসদস্য সচিব মনিরা শারমিনের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন শাগুপ্তা বুশরা মিসমা, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল হক, ফরহাদ সোহেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণের জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল হক, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ ও বান্দরবান আসনের প্রার্থী সুজাউদ্দিন প্রমুখ।

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি এবং আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক গেজেটে এ অধ্যাদশ জারি করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। যা পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠে।

উল্লেখিত প্রতিরোধ কাজে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন। এ জন্য সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে এটি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। তাই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি প্রদানে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। তখন জানা যায়, অধ্যাদেশ পরবর্তী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়ে আইনে পরিণত হবে।

ওই সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

আজ কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া সফর করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জেলা জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডা. শফিকুর রহমান আজ সকালে হেলিকপ্টারযোগে কুষ্টিয়া পৌঁছাবেন। তিনি পুলিশ লাইন্সের হেলিকপ্টার প্যাডে অবতরণ করে সরাসরি জনসভাস্থল কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে যাবেন। সকাল ৯টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আমিরে জামায়াত আনুমানিক সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হবেন। কুষ্টিয়ার কর্মসূচি শেষে তিনি পুনরায় হেলিকপ্টারযোগে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর জানান, সমাবেশ সফল করতে মঞ্চ নির্মাণ ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি যেন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান আজ একই দিনে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ—এই চারটি জেলা সফর করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দার, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনো পরিকল্পনা নাই, ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে দলটির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, আমাদের নীতি আছে। আমরা কি করবো, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করে বলেছি। অথচ আমরা যাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, তাদের কোনো পরিকল্পনা নাই। কিন্ত তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের টৈটং উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজ নৌকা নাই, আওয়ামী লীগ নাই। আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের কবর রচনা করেছে। আওয়ামী লীগ ও নৌকা এই দুইটাকে দাফন করে দিয়েছে শেখ হাসিনা নিজেই। আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির নাম বিএনপি। বিএনপি এবং ধানের শীষ বাংলাদেশকে ধারণ করে এদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করে। সুতরাং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি, উন্নয়নের অপর নাম বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, যারা ভারতের গোলামি করেছে, যারা মেইড-ইন ইন্ডিয়া; তারা ভারতে রপ্তানি হয়ে গেছে। বাকশালীরা এদেশের মানুষের উপরে অত্যাচার দুঃশাসন চালিয়েছে, তারা আজ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। যদি সমৃদ্ধি চান, অগ্রগতি চান, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ এদেশের মালিক হতে চান তাহলে ধানের শীষে ভোট দিন।

এসময় পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, টৈটং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জেড এম মুসলেম উদ্দিন, পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহছান উল্লাহ,উপজেলা মহিলাদলের সভানেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ঝিনু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাইমুর রহমান হৃদয়সহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দখলবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনে নিশ্চিত করা হবে এবং দখলবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে নতুন বাস টার্মিনাল মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো সন্ত্রাস ও দুর্নীতি। কারা এসব করেছে, কীভাবে করেছে এগুলো আপনারা সবই জানেন। পাশাপাশি মাদক বাণিজ্য এখানকার আরেকটি বড় সমস্যা। নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদকের ২০টা বড় স্পট আছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবার আগে এই স্পটগুলো উচ্ছেদ করবে। পাশাপাশি সন্ত্রাস আর র্নীতিকেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনে নিশ্চিত করা হবে এবং দখলবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

এসময় তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূরীকরণে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও হালাল উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তিনি বলেন, নদী ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, এই সমস্যা সমাধানে সারা দেশে জলাশয় সংস্কার করা হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হবে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলার ৫টি আসনের দলীয় ও জোটভুক্ত প্রার্থীরা।

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মীরা সবসময় দুর্যোগে, ভয়াবহ সংকটে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের মধ্যেও অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মহাখালী টিভি গেট এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন শেখ হাসিনা তার প্রবল প্রতাপ দিয়ে বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচির ভিত্তিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলো যে আমরা দলীয় বা এমনকি সামাজিক কোনো কাজও করতে পারতাম না—সামাজিক সেবামূলক কাজগুলোতেও পুলিশ এসে বাধা দিত তারপরও আমরা সেই কাজগুলো করে গেছি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত ১৫–১৬ বছরের অন্যায় শাসনামলের সময় করোনা, বন্যা কিংবা প্রচণ্ড শীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি কোনো বছরই আমাদের বাদ যায়নি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এখনো করছি। যদিও হাসিনার পতন হয়েছে, তবুও সমাজের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তির কেউ কখনো সরে যায়নি।

ড্যাবের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবও প্রতিবছর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিএনপি ও তার আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের একটাই উদ্দেশ্য বড় বড় কথা বা ফাঁকা বক্তৃতা নয়, কাউকে হেয় করা নয়, ভিডিও ভাইরাল করে চরিত্র হনন নয়। আমরা এসব কখনোই করি না।

রিজভী বলেন, আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখবেন কারা ভিডিও ভাইরাল করছে, কারা কুৎসা রটাচ্ছে, সেটা জনগণ বুঝে। বিএনপির ক্ষেত্রে এসব দেখবেন না। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এটাই জাতীয়তাবাদী শক্তির বড় বৈশিষ্ট্য। আমরা কারো প্রতি বিষোদ্গার করি না, কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাই না। আমরা বিশ্বাস করি—রাজনীতি মানেই সমাজসেবা, রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণ সাধন।

নির্বাচনি প্রচারণা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আপনারা দেখেছেন দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারণায় আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি মেনেই অংশ নিচ্ছেন। তিনি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী দুঃশাসনের প্রবল আক্রমণের মুখে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আইন করে তার কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তার বক্তব্য যেন দেশে প্রচার না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, তারপরও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নির্বাচনি বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলছেন—বিএনপি জনগণের ভোট পেলে কী করবে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন।

রিজভী বলেন, তিনি কাউকে আক্রমণ করছেন না, কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন না। অপপ্রচার ও বিষোদ্গার কারা করছে সেটা জনগণের অজানা নয়। এ সময়ের উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক সরকার মাহবুব শামীম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি ডা. আউয়াল, ড্যাব নেতা ডা. গালিব, ডা. আকাশ, ডা. লাবিদ, ডা. আফিফসহ নেতৃবৃন্দ।