মঞ্চ ৭১-এর অনুষ্ঠান পণ্ড, শিক্ষক-মুক্তিযোদ্ধা হেনস্তা

SHARE

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) থেকে আটক হওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠনের গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে এক দল লোকের হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলছে, ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে উপস্থিত একদল ব্যক্তির বাধায় অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। গ্রেপ্তারদের ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম।

এর আগে গতকাল সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে তারা আসেননি। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১১টায় তা শুরু হয়।

আলোচনাসভায় প্রথমে বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা চলছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছেন।’

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল লোক মিলনায়তনে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা এক হও, লড়াই করো’—এসব স্লোগান দেয়।
এতে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। এ সময় অনেকে বের হয়ে গেলেও লতিফ সিদ্দিকীসহ প্রায় ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের কর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এ সময় লতিফ সিদ্দিকীকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল, ফ্যাসিবাদের দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। জবাবে লতিফ সিদ্দিকী জানান, তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর যুক্ত নন। পরে তারা লতিফ সিদ্দিকীকে আসন থেকে উঠিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পেছন থেকে তাকে ধাক্কা এবং টি-শার্ট ধরে টানাটানি করা হয়। এ সময় মিলনায়তনে ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি চেয়ার-টেবিল। আয়োজকদের একজনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। একজনের মুখে ঘুসি ও অন্যজনকে গলা চেপে ধরা হয়। এতে পুরো মিলনায়তনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন অতিথি দৌড়ে কক্ষের বাইরে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওই ব্যক্তিরা লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ ১৬ জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের দাবি, ‘এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছিল। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এমন কিছু আমরা মেনে নেব না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে ২০-২৫ জন এসে হট্টগোল করে আমাদের ঘিরে ফেলে। আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, মঞ্চ ৭১-এর সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ‘মঞ্চ ৭১’ প্ল্যাটফর্মটি সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীরপ্রতীক) ও আইনজীবী জেড আই খান পান্না এর সমন্বয় করছেন।