বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার বিকল্প নেই : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার বিকল্প নেই। আর শিক্ষিত সমাজ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন আমাদের শিক্ষকরা। শিক্ষক স্মার্ট হলে শিক্ষার্থীরাও স্মার্ট হয়ে উঠবে।
আজ শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১২টায় নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও শিক্ষকের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি ভিত্তি হচ্ছে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নর, স্মার্ট সোসাইটি। স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিদীপ্ত ও উদ্ভাবনী। আর এর বাস্তবায়নের মূল কারিগর শিক্ষক শ্রেণি। শিক্ষক শ্রেণি স্মার্ট সিটিজেন তৈরিতে আরও বেশি সক্রিয় হবেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থারও উন্নয়ন হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানেও তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। এসময় তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লিটারেসি শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা দিয়েছেন। শিক্ষার জাতীয়করণে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দিচ্ছেন তিনি। মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা পেয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার বিকল্প নেই। আর শিক্ষিত সমাজ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন আমাদের শিক্ষকরা। শিক্ষক স্মার্ট হলে শিক্ষার্থীরাও স্মার্ট হয়ে উঠবে।
নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমতিয়াজ মোর্শেদের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ, রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিচালক মাহবুবুর রহমান, নওগাঁর জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান, নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মমতাজ হোসেন মন্ডল, নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বিপ্লব।
এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বরিয়া-নাকইল সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাতারে চরবৃত্তির অভিযোগে ৮ ভারতীয়র মৃত্যুদণ্ড

আট সাবেক নৌসেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে কাতারের একটি আদালত। কাতারের গোপন খবর তারা ইসরায়েলকে পাচার করত বলে অভিযোগ। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা কাতারের সঙ্গে কথা বলবে। ওই ব্যক্তিদের শাস্তি পরিবর্তনের আবেদনও জানানো হবে।
যে আট ভারতীয়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম ক্যাপ্টেন নভতেজ সিং গিল, ক্যাপ্টেন সৌরভ বশিষ্ঠ, কম্যান্ডার পুর্ণেন্দু তিওয়ারি, ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র কুমার বর্মা, কম্যান্ডার সুগুনাকার পাকালা, কম্যান্ডার সঞ্জীব গুপ্তা, কম্যান্ডার অমিত নাগপাল এবং সেলর রাগেশ।
কাতারের একটি বেসরকারি সংস্থা দাহরা গ্লোবাল টেকনোলজিস অ্যান্ড কনসালটিং সার্ভিসে কাজ করতেন তারা। সামরিক এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রশিক্ষণের কাজ করে এই সংস্থাটি। এই আট ব্যক্তি ওই সংস্থায় প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ করতেন।
গত বছর অগাস্ট মাসে খবর পাচার এবং চরবৃত্তির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বস্তুত, তাদের গ্রেপ্তারের পরেই কাতারে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, কাতারের বিচার ব্যবস্থায় ভারত হস্তক্ষেপ করবে না। সম্প্রতি কাতারের আদালত ওই ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তারপরেই ফের সরব হয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ‘কাতারের আদালতের রায় শুনে আমরা বিস্মিত। এখনো বিস্তারিত রায়ের কপি আমরা হাতে পাইনি। ওই আট ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কী কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
কাতারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথাও বলা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে। জানানো হয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ আছে, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য কাতার ভারতকে দেয়নি। ফলে কাতারের কাছে সেই তথ্য চেয়ে পাঠাতে পারে ভারত।
এদিকে এই ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন মহলে আলোড়ন উঠেছে। প্রবীণ রাজনীতিক এবং আইনজীবী কপিল সিবল একটি লম্বা বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা উচিত। এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া উচিত। কপিলও জানিয়েছেন, ওই আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী কী তা অস্পষ্ট। বিষয়গুলি দ্রুত জনসমক্ষে আসা উচিত। আর সে জন্যই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি।

গাজার কোথাও নিরাপদ নয় : জাতিসংঘ

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতারা হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে ‘মানবিক করিডোর এবং যুদ্ধবিরতি’ দাবি করে অবরুদ্ধ গাজায় আটকে থাকা বেসামরিক লোকদের জন্য ত্রাণ-সামগ্রী প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে গাজার ‘কোথাও নিরাপদ নয়’।
সংঘাত থেকে আঞ্চলিক ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ওয়াশিংটন সিরিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং অন্যদের ব্যবহার করে স্থাপনায় হামলা চালানোর পর সংঘাত না বাড়ানোর জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ৭ হাজার ৫০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক লোক। অব্যাহত ইরায়েলি বিমান হামলার বিধ্বস্ত গাজায় অবরুদ্ধ বেসামরিক নিরাপরাধ লোকদের সুরক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী ক্রমশ চাপ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার দিনের শেষের দিকে ইইউ নেতারা ‘মানবিক প্রয়োজনের জন্য মানবিক করিডোর এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতিসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে লোকদের কাছে অবিরত, দ্রুত, নিরাপদ বাধাহীন মানবিক সুবিধা এবং সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার ২৪ লাখ লোকের জন্য মাত্র ৭৪ ট্রাক খাদ্য, পানি এবং ওষুধ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব সাহায্যকে গোষ্ঠী গুলো অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে বর্ণনা করেছে।
সংঘাতের আগে জাতিসংঘের মতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক প্রবেশ করত।
ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে, হামাস ব্যবহার করতে পারে বলে কোনো জ্বালানি আমদানি করা যাবে না।
এ কারণে গাজার ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে ১২টি বন্ধ করতে বাধ্য করেছে এবং ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে তার কার্যক্রম কমাতে’ শুরু করেছে।
ইউএনআরডব্লিউর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, ‘জ্বালানি ছাড়া, কোনও মানবিক প্রতিক্রিয়া হবে না, অভাবগ্রস্ত লোকেদের কাছে কোনও সাহায্য পৌঁছনো যাবে না। হাসপাতালের জন্য কোনও বিদ্যুৎ নেই, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নেই এবং রুটির প্রাপ্যতা নেই।’
ওয়াশিংটনসহ মিত্রদের দৃঢ় সমর্থন নিয়ে ইসরায়েল তার হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং হামাসকে ৭ অক্টোবর ২২৪ বিদেশি ও ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
জিম্মিদের ভাগ্য ইসরায়েলের পরিকল্পিত স্থল অভিযানের জন্য একটি জটিল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামাসের সশস্ত্র শাখা বৃহস্পতিবার বলেছে, ইসরায়েলি বোমা হামলায় ‘প্রায় ৫০ ইসরায়েলি জিম্মি’ নিহত হয়েছে। এই দাবিটি এএফপি অবশ্য যাচাই করতে পারেনি।
চার জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে যারা এখনো জিম্মি রয়েছে তাদের আত্মীয়দের জন্য শোকের মাতম অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের নেতাকে সতর্ক করলেন বাইডেন

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষের মধ্যে মার্কিন সেনাদের উপর হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস এই কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বাইডেনকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরাসরি একটি বার্তা সম্প্রচার করা হয়েছে। যতদূর যেতে যাচ্ছি, আমি তত দূর যাবো।’ তবে কীভাবে এই বার্তা দেয়া হয়েছে তা বলতে অস্বীকার করেছেন কিরবি।
পরে বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ব্যবহৃত পূর্ব সিরিয়ার দুটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
পেন্টাগন বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর ওপর এই মাসে কমপক্ষে ১৬ বার হামলা হয়েছে। এ জন্য ‘ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী’কে দায়ী করা হয়েছে।
বাইডেন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি খামেনিকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যদি হামলা অব্যাহত থাকে তবে এর প্রতিক্রিয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে সঙ্গে নিয়ে বাইডেন বলেন, ‘আয়াতুল্লাহর প্রতি আমার সতর্কবার্তা ছিল তারা যদি ওই সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, আমরা জবাব দেব এবং তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইসরায়েলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই’।
এদিকে হামাসের হামলার পর গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিমান ও কামান হামলার বিষয়ে ইরান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, ‘আমি অকপটে আমেরিকান রাষ্ট্রনায়কদের এবং সামরিক বাহিনীকে বলছি যারা এখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে, আমি তাদের সতর্ক করছি। আমরা এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্প্রসারণ ও পরিধিকে স্বাগত জানাই না। তবে আমি সতর্ক করে দিচ্ছি যদি গাজায় গণহত্যা চলতেই থাকে, তারা এই আগুন থেকে রেহাই পাবে না।’
হামাস হামলার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছাকাছি দুটি বিমানবাহী রণতরী সরিয়ে নিয়ে এসেছে এবং বলেছে যে, এটি ইরান এবং তার মিত্রদের সংঘাতকে প্রসারিত করা থেকে বিরত করার একটি প্রচেষ্টা।
রোববার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও এই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত বাহিনীকে অবহিত করেছেন যেন তারা দ্রুততম সময়ে মোতায়েন হতে পারে।

পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তান ও ভারত সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রাতভর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এতে ভারতীয় অংশে বিএসএফ সদস্যসহ কয়েকজনের আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন ভারতের পাকিস্তান-সীমান্তবর্তী এলাকার বহু বাসিন্দা।
আজ শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এবং এনডিটিভি এ কথা জানিয়েছে।
দ্য ডন বলছে, ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের পাঞ্জাবের শিয়ালকোটের কাছে ওয়ার্কিং বাউন্ডারি বরাবর পাকিস্তানি পোস্টগুলোতে গুলিবর্ষণ করেছে বলে বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে। মূলত ওয়ার্কিং বাউন্ডারি হচ্ছে সীমান্তের সেই রেখা যার একদিকে থাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূমি অন্যদিকে বিরোধপূর্ণ এলাকা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) বা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা বিভিন্ন প্রতিবেদনে জাফরওয়াল সেক্টরে ভারতের সাথে সীমান্তের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভারী গোলাগুলি এবং কামানের গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের ওই সামরিক সূত্রের মতে, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় একটি ড্রোন পাকিস্তানি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার পর গোলাগুলি শুরু হয়। যদিও পাকিস্তানি বাহিনী গুলি করে ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করে। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী – দৃশ্যত অনুপ্রবেশের ওই ব্যর্থ প্রচেষ্টা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য – ওয়ার্কিং বাউন্ডারি বরাবর পাকিস্তানি পোস্টে নির্বিচারে গুলি চালায়।
সূত্র জানায়, পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় আগ্রাসনের ‘উপযুক্ত জবাব’ দিয়েছে।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে বেশ কিছু পাকিস্তানি ব্যবহারকারী রাতের শেষের দিকে সীমান্তে ভারী বন্দুক এবং কামানের গোলাগুলির শব্দ সম্বলিত ভিডিও পোস্ট করেছেন। কিন্তু এসব ভিডিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে ডন জানিয়েছে।
এদিকে ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে ভারতীয় পোস্ট ও আবাসিক এলাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গুলি চালাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, জম্মু ও কাশ্মির সীমান্তে আর্নিয়া সেক্টরে বিনা উস্কানিতে গুলি ও মর্টার ছোড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একজন সদস্য আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় মর্টার শেল আঘাত হানার পর কয়েক ডজন গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া পাকিস্তানি এই গুলিবর্ষণে এক বিএসএফ জওয়ানসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিএসএফ বলেছে, পাকিস্তান থেকে গুলি চালানোর ‘কঠোর জবাব’ দিয়েছে তারা। বিএসএফের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আর্নিয়া সেক্টরে বিএসএফ পোস্টে বিনা উস্কানিতে গুলি চালায় পাকিস্তান রেঞ্জার্স। তবে বিএসএফ সৈন্যরা ‘যথাযথভাবে প্রতিশোধ’ নিয়েছে।
রাতভর গোলাগুলির সময় কয়েকটি আবাসিক বাড়িতেও গোলা আঘাত হানে। গোলাগুলিতে অন্তত একটি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ব্যাপক গোলাগুলির পর অনেক গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলি : সন্দেহভাজনকে ধরতে দুই দিন ধরে অভিযান চলছে

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে গুলিতে ১৮ জনকে হত্যা এবং ১৩ জন আহত করার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরতে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলছে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত সেনাদের মধ্যে একজন।
পুলিশ বলছে, রবার্ট কার্ড নামের ওই ব্যক্তি সশস্ত্র এবং বিপদজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে বোডোইনে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এই বাড়িটি হামলাস্থল লিউয়িসটন থেকে ২০ মিনিটের গাড়ি চালানোর পথ। এর আগের দিন রাতে লিউয়িসটনে ওই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে তারা বেশ কয়েকটি গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় তাকে খুঁজছে।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি বড় আওয়াজ শোনা যায় এবং পুলিশ চেঁচিয়ে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলে।
মেগাফোনের মাধ্যমে এফবিআই এজেন্ট এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজনকে ‘হাত উপরে তুলে’ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বলে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ওই স্থান থেকে চলে যায়।
কিন্তু পুলিশ ওই অভিযান কেন চালিয়েছিল তার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। মেইনের জননিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘পুলিশ খুব স্বাভাবিকভাবেই কার্ডের অবস্থান জানতে এবং তাকে ধরতে সম্ভাব্য সব সূত্র খতিয়ে দেখে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে।’
পুলিশের কর্নেল বলেন, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার আগে আগে ছোট শহর লিউইসটনে একটি বোলিং খেলার স্থানে গুলির ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেখানে এক নারী এবং ছয়জন পুরুষ নিহত হয়।
এর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে কাছের শেমেনজিস বার এন্ড গ্রিল নামে একটি রেস্তোরাঁয় গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আরও আটজন ব্যক্তি নিহত হন।
আহত ১৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। যাদের মধ্যে তিন জন পরে মারা যান।
এর মধ্যে লিউইসটন এবং আশেপাশের আরো তিনটি শহরে বাসিন্দাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার সতর্কতা জারি করা হয়। স্কুল এবং স্থানীয় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। শুক্রবারও এগুলো বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার কয়েক জন মানুষ কুকুরকে হাটাতে বের হওয়া ছাড়া বেশির ভাগ বাসিন্দাই বাড়িতে থেকেছেন। রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মেইন রাজ্যের পুলিশকে অভিযানে সহায়তা করছে এফবিআই ও মার্কিন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুধু ঘটনাস্থল এবং মেইনের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারেই ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।
সেখানকার প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. জন অ্যালেক্সান্ডার এই হামলাকে এরকম ছোট একটি শহরের জন্য ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, হতাহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার আহ্বানে কমপক্ষে ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, বক্ষব্যাধী চিকিৎসক এবং সার্জন সাড়া দিয়েছেন।
মেইন অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য-জনিত সমস্যার কথা জানিয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে, ‘মেইনের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক স্থাপনায় গুলি চালানোর হুমকি এবং এ বিষয়ে সে আওয়াজ শুনতে পেতো।’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় অস্বাভাবিক আচরণ করার কারণে তাকে একটি মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা কেন্দ্রে গত গ্রীষ্মে ভর্তি করা হয়েছিল।

সে আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষক বলে এর আগে যে তথ্য সামনে এসেছিল তা অস্বীকার করেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ‘আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত উন্নত কোন কোর্সে তার অংশগ্রহণের কোন ইঙ্গিত নেই।’
মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস যিনি লিউইসটনের সাবেক বাসিন্দা তিনি এই ঘটনাকে তার রাজ্যের জন্য ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে তিনি ‘হতাহত এবং তাদের পরিবারের জন্য পূর্ণ ন্যায়বিচারের’ আশ্বাস দিয়েছেন।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এফবিআই এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিবেশী রাজ্যগুলোও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং তারা সতর্ক রয়েছে। সন্দেহভাজন আন্তঃরাজ্য সীমানা ধরে চলাচল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজনের বিষয়ে কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন রাজ্যের তুলনায় মেইনে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ডের হার রয়েছে। এই অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত লেখক যিনি একজন ভৌতিক কাহিনীর লেখক হিসেবে পরিচিত তিনি বলেন, তার বাড়ির কাছেই এই গুলির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের পোস্টে লিখেছেন, ‘স্বাধীনতার নামে এটা পাগলামি।’ তিনি অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তা আইন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে শেমেনজিস বার এন্ড গ্রিল রেস্তোরাঁ লেখে, ‘কোন কারণ ছাড়াই আপনার পৃথিবী সেকেন্ডের মধ্যে উল্টে যেতে পারে। আমরা এই সম্প্রদায়ের মহান কিছু মানুষকে হারিয়েছি। এটা আমরা কিভাবে মেনে নেব?’
জাস্ট-ইন-টাইম রিক্রিয়েশন- যেখানে প্রথম গুলির ঘটনা ঘটে তারা অনলাইনের এক পোস্টে বলেছে, ‘এর কোন কিছুই বাস্তব বলে মনে হচ্ছে না, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্যি… এটাকে সারিয়ে তোলার মতো বা এটিকে বদলে দেয়ার মতো কোন ভাষা নেই।’
নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে হোয়াইট হাউজ ও অন্য সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তিনি কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তা আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি আমেরিকান যারা সাম্প্রতিক এই হামলার শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে তাদের জন্য সবচেয়ে কম এটাই করতে পারি।’
বৃহস্পতিবার মেইনের সেনেটর সুসান কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ম্যাগাজিনের ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের হৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত। এই বর্বরোচিত হামলা যা ১৮টি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং আরো অনেক মানুষকে আহত করেছে- সেটি মেইন রাজ্যের এখনো পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবচেয়ে খারাপ গণগুলির ঘটনা।’
খবর বিবিসি

এক মাসে রিজার্ভ কমল ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ডলার

এক মাসে বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ কমলো ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর নাগাদ নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২ হাজার ৮৯ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার-বিপিএম৬)।
২৬ সেপ্টেম্বর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার (২ হাজার ১১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার-বিপিএম)। সেই হিসাবে কমেছে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত বিভিন্ন ধরনের তহবিল ও দায়-দেনাসহ দেশে মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে (দুই হাজার ৬৭০ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলার)।
২৬ সেপ্টেম্বর গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার (দুই হাজার ৭০৫ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ লাখ ডলার)। সেই হিসাবে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রস ও নিট রিজার্ভে গড়মিল রয়েছে। গ্রস রিজার্ভ কমেছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর নিট রিজার্ভ কমেছে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে গড়মিল ৯ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিষয়টি জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারো সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করা যায়নি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের শর্ত হিসেবে জুলাই মাস থেকে মোট রিজার্ভ থেকে গঠিত তহবিল বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভ ও গ্রস রিজার্ভের হিসাব শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা প্রতি সপ্তাহে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে নিট রিজার্ভ থেকে চলতি দায়-দেনা বাদ দিয়ে আরও একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ আরও প্রায় তিন বিলিয়ন কম।
আইএমএফের কয়েকটি শর্তের মধ্যে একটি হলো, আগামী ডিসেম্বরে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ দুই হাজার ৬৮০ ডলারে রাখা। তবে শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রাখতে পারবে না বলে আইএমএফকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফ শর্ত শিথিল করেছে। নতুন লক্ষ্যমাত্রা হলো, ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ হাজার কোটি ডলার নিট রিজার্ভ রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুল জনগণকে বিভ্রান্ত করার কথা বলেন : আইনমন্ত্রী

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিচারে রাতেও আদালত বসছে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মির্জা ফখরুলকে ভালো জানতাম। উনি অনেক কথাই জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলেন।

আজ শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
বিএনপির মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবেই বলেছেন আন্দোলন করতে পারেন- এটা রাজনৈতিক দলের অধিকার। আন্দোলন করবেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।
সকালে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে করে ঢাকা থেকে আখাউড়ায় আসেন আইমন্ত্রী। তিনি দিনভর দলীয় নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এ সময় আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পরে আইনমন্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দেন। সভাটি হচ্ছে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

বেলজিয়াম সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ২৫-২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বেলজিয়ামের ব্রাসেলস জাভেনটেম বিমানবন্দর থেকে ব্রাসেলস স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গুল শাহানা জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ২৪ অক্টোবর ব্রাসেলসে যান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফোরামের সাইডলাইনে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন। ২৫ অক্টোবর সকালে, তিনি ইসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইসি প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর, বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়।

ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি অনুদান চুক্তিও সই হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইসির মধ্যে একটি ১২ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি সই হয়। এছাড়া সফরে বাংলাদেশ সরকার এবং ইসি বাংলাদেশের সামাজিক খাতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর পাঁচটি ভিন্ন অনুদান চুক্তি সই হয়েছে।

শেখ হাসিনা একই দিন ২৫ অক্টোবর গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন এবং বক্তৃতা করেন। বিকেলে ইউরোপীয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. ওয়ার্নার হোয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসি কমিশনার ফর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট জেনেজ লেনারসিক এবং ইসি কমিশনার ফর ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপ জুটা উরপিলাইনেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সন্ধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে উরসুলা ভন ডের লেয়েনের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন।

২৬ অক্টোবর সকালে তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রুর সঙ্গে এবং লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গে দুটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের সমাপনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন।

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

কঠোর নিরাপত্তায় দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘ফ্রেশ নিউকিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছেছে। এ নিয়ে ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান এসে পৌঁছাল রূপপুরে।
আজ শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর সকালে সর্বশেষ ইউরেনিয়ামের চালান রূপপুরে পৌঁছায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। তিনি জানান, ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর ভোরে রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জ্বালানির প্রথম চালান। পরের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্বালানি নেওয়া হয় প্রকল্প এলাকায়। পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে পারমাণবিক ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
প্রথম চালানের এক সপ্তাহ পর গত ৬ অক্টোবর সকাল সোয়া ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান রাজধানী ঢাকা থেকে সফলভাবে ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছায়। এরপর ১৩ অক্টোবর একই পথে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান এবং গত ২০ অক্টোবর চতুর্থ চালান রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বৃহৎ প্রকল্প। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারের ব্যয় ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। আর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে পারে। দুটি ইউনিট চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথম ইউনিটের ভৌত এবং অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়ে গেছে ৯০ শতাংশের বেশি। আর দ্বিতীয় ইউনিটের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।