বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঘাটতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে আসলেও কোনো ঘাটতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ১২ অক্টোবরের স্থিতির ভিত্তিতে দেশে বর্তমানে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২১ হাজার ১১৬ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আমাদানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ রেমিট্যান্সের পরিমাণ হ্রাস ইত্যাদি কারণে বর্তমানে বৈদেশিক মদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় কমে আসলেও কোনো ঘাটতি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।’
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধজনিত আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলা করে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের সন্তোষজনক স্থিতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

কাল সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন ।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (ফ্লাইট নম্বর ৫৮৫) একটি বিমানযোগে তার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।
এর আগে গতকাল সকালে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ‘মেডিকেল বোর্ড’ রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
সার্জারি-পরবর্তী রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা ও শারীরিক সুস্থতার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে চিকিৎসকরা বিমান ভ্রমণে মতো দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডাক্তার কফিদিস থিওডোরোস এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
গত ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।
রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণও সঙ্গে রয়েছেন। বিমানবন্দরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবেন।

ব্রাসেলস সফরে বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার তার ব্রাসেলস সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই সফরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল গেটওয়ের আওতায় বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সংযোগ, শিক্ষা ও গবেষণা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিনিয়োগের সুযোগের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সফরের মাধ্যমে আমি আশাবাদী যে বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।’
ইইউর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগ দিতে ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তার সফরের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো-
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ অপরাহ্ণ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক প্রথমবারের মত আয়োজিত গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য আমি ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর ২০২৩ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস সফর করি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের আমন্ত্রণে আমি এই ফোরামে যোগ দেই। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় তথ্যমন্ত্রী, আমার বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ আমার সফরসঙ্গী ছিলেন।
সফরের প্রথম দিন ২৫ অক্টোবর সকালে আমার হোটেল স্যুইটে ইউরোপীয় কমিশনের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় ট্রেড কমিশনার মি. Valdis Dombrovskis-এর সঙ্গে আমার বৈঠক হয়।
বৈঠকে আমরা বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করি এবং আগামীতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করি।
আমি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের Everything But Arms-এর আওতায় বাণিজ্য সুবিধা প্রদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানাই।
কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অবরোধ ও পাল্টা অবরোধের কারণে অর্থনৈতিক অভিঘাত বিবেচনায় নিয়ে আমি বাংলাদেশসহ অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে খউঈ উত্তরণ-পরবর্তী ৩ বছরের পরিবর্তে ৬ বছরের জন্য বাণিজ্য সুবিধা ২০৩২ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাই। একইসঙ্গে পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশকে GSP+ বাণিজ্য সুবিধা প্রদানেরও অনুরোধ জানাই।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বিশেষ করে বিনিয়োগ সুবিধা তুলে ধরে আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই।
ইউরোপীয় ট্রেড কমিশনার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধার বিষয়ে আরও আলোচনার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
এরপর ইউরোপীয় কমিশন কার্যালয়ে কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen-এর সঙ্গে আমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়।
বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Global Gateway Forum-এ অংশগ্রহণের জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে আমরা বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ৫০ বছরেরে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার ঘোষণা দেই এবং এ লক্ষ্যে শীঘ্রই দুপক্ষের মধ্যে Partnership and Cooperation Agreement-এর আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের Everything But Arms-এর আওতায় বাণিজ্য সুবিধার অবদান তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক, নিরাপদ অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বহুমুখী সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া Global Gateway-এর আওতায় দুপক্ষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কানেকটিভিটিসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকার, European Investment Bank এবং ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৪৭৭ মিলিয়ন ইউরোর কয়েকটি ঋণ সহায়তা এবং অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, European Investment Bank-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং আমি উপস্থিত ছিলাম।
চুক্তিগুলির মধ্যে ছিল European Investment Bank-এর সঙ্গে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোর ঋণ সহায়তা চুক্তি, ইউরোপিয়ান কমিশনের সঙ্গে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা অনুদান এবং ১২ মিলিয়ন ইউরোর সবুজ জ্বালানি বিষয়ক অনুদান চুক্তি। এসবের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার এবং ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে বাংলাদেশের সামাজিক খাতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর পাঁচটি আলাদা অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এবং আমি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করি।
বিকেলে আমি Global Gateay -এর Opening Plenary Session-এ বক্তব্য দেই। আমি আমার বক্তৃতায় বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরি। Global Gateay উদ্যোগটি সারাবিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও টেকসই বিনিয়োগের একটি সেতুবন্ধ হয়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি।
পাশাপাশি, আমি বাংলাদেশের মত দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি মসৃণ রাখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।
আমি বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের নেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সে অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই।
একই দিন বিকেলে European Investment Bankএর প্রেসিডেন্ট Dr. Werner Hoyer আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতকালে আমি বাংলাদেশের নদী খনন, পানিসম্পদ রক্ষা, ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে সেচকার্য, রেল ও অন্যান্য কানেকটিভিটি, বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন ও গবেষণার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস ও চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই।
এরপর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মিজ Nicola Beer আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আমরা বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত দ্রুত অবসানের ব্যাপারে একমত হই এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করি।
বিকেলে ইউরোপীয় কমিশনের Commissioner for Crisis Management Janey Lenarčič-এর সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। বৈঠককালে তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আরও ১০.৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানের ঘোষণা দেন। আমি রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই। এ ছাড়া, ইউরোপিয়ান কমিশনের Commissioner for International Partnerships Jutta Urpilainen আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিন সন্ধ্যায় আমি Global Gateway Forum-এ অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের সম্মানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত একটি নৈশভোজে অংশগ্রহণ করি।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৬ অক্টোবর সকালে আমি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী Alexander De Croo-এর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের EBA বাণিজ্য সুবিধার অবদান তুলে ধরি। কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক অভিঘাত বিবেচনায় চলমান বাণিজ্য সুবিধা আমাদেও এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী ৩ বছরের পরিবর্তে ৬ বছরের জন্য অব্যাহত রাখার বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ জানাই।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন, আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্রিন হাইড্রোজেন, পায়রা বন্দরের কাছে জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ রি-সাইক্লিং অবকাঠামো নির্মাণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি।
এছাড়া আমি বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রবর্তিত Universal Pension Scheme-এর অধিকতর উন্নয়নে বেলজিয়ামের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আহ্বান জানালে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী Xavier Bettel-এর সঙ্গে আমার হোটেল স্যুইটে দ্বিপাক্ষিক হয়। বৈঠকে আমি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে লুক্সেমবার্গের উন্নয়ন সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
তাঁকেও আমি বাংলাদেশের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাণিজ্য সুবিধা ২০২৯-এর পরিবর্তে ২০৩২ পর্যন্ত বর্ধিত করার জন্য সহযোগিতা চাই।
এ ছাড়া আমি আমাদের আইসিটি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে লুক্সেমবার্গের বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-লুক্সেমবার্গ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগসমূহ চিহ্নিত করার জন্য লুক্সেমবার্গ থেকে বাংলাদেশে একটি বাণিজ্য মিশন পাঠানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে শিগগিরই একটি বিমান চলাচল চুক্তি সাক্ষরিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরপর আমি Global Gateway Forum-Gi Closing Plenary Session-এ অংশগ্রহণ করি। এদিন বিকালে আমি বেলজিয়ামে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করি। এ ছাড়া এ সফরকালে EURONEWS Ges POLITICO আমার সাক্ষাতকার গ্রহণ করে।
আমি ২৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ব্রাসেলস থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই এবং ২৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাই।
ব্রাসেলস-এ আমার এ সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশিদারিত্ব এ সফরকালে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। Global Gateway-এর আওতায় বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কানেকটিভিটি, শিক্ষা ও গবেষণা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদনে বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
আমার এ সফরের মাধ্যমে বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ আরও বিস্তৃতি লাভ করবে বলে আমি আশাবাদী।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’
খবর বাসস

কাল চালু হচ্ছে দেশীয় মুদ্রার কার্ড ‘টাকা পে’

আন্তর্জাতিক কার্ডের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ডলার সাশ্রয়ে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে মুদ্রার কার্ড ‘টাকা পে’।
আগামীকাল বুধবার (১ নভেম্বর) কার্ডটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ‘টাকা পে’ চালু হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকের সহযোগিতায় কার্ডটি ইস্যু করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্র্যাক।
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ’ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে একই সেবা দেবে ‘টাকা পে’। প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য এটি চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পরে টাকা-রুপি কার্ড চালু করা হবে। যা দিয়ে গ্রাহক ভারতে লেনদেন করতে পারবে।
ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে টাকার ইলেক্ট্রনিক স্থানান্তর করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের জন্য ব্র্যান্ডেড পেমেন্ট প্রসেসিং পরিষেবা দেয়। দেশীয় কার্ড ‘টাকা পে’ একই সেবা দেবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এমন নিজস্ব কার্ড আছে, সেগুলো হলো— ভারতের কার্ড ‘রুপে’, পাকিস্তানের ‘পাকপে’, শ্রীলংকার ‘লংকাপে’ ও সৌদি আরবে আছে ‘মাদা’।
এর আগে গত ২ জুন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল ডেবিট কার্ড প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ভিসা, মাস্টার বা বাইরের কোম্পানিগুলোর ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড আছে। আমাদের নিজস্ব কোনো কার্ড ছিল না। এর ইউজার ছিল রেস্ট্রিকটেড। যে ফি দেওয়া হয় এটা অনেকটা বাইরে চলে যায়। আমরা ন্যাশনাল ডেবিট কার্ড তৈরি করছি। সব ব্যাংক ও ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন এক কার্ড ব্যবহার করবে। এটার প্রচলন হলে আমরা মনে করি টাকার পরিবর্তে এই কার্ডের ব্যবহার বেড়ে যাবে।’
গভর্নর জানান, এ কার্ড থাকলে গ্রাহকেরা বাংলাদেশে এটিকে ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। যেকোনো কেনাকাটা করতে পারবেন। আবার যখন ভারতে যাবেন, তখনো এ কার্ড দিয়েই ভ্রমণ কোটায় ১২ হাজার ডলার খরচ করতে পারবেন।

জনগণের ধিক্কার ছাড়া বিএনপির আর কিছুই জুটবে না : প্রধানমন্ত্রী

২৮ অক্টোবরের বিএনপির মহাসমাবেশের প্রেক্ষাপটে জনগণের ধিক্কার ছাড়া দলটির আর কিছুই জুটবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যে সন্ত্রাসী এবং বিএনপি যে একটা সন্ত্রাসী দল সেটাই তারা ২৮ অক্টোবর পুনরায় প্রমাণ করলো।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগদান উপলক্ষে সম্প্রতি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তিনদিনের সরকারি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘মাঝখানে তারা (বিএনপি) কিছুটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছিল। আমাদের সরকার তাদের কোনো বাধাও দেয়নি। তাদের ওপর একটি শর্ত ছিল তারা যেন অগ্নিসন্ত্রাস-ভাঙচুর, এগুলো না করে। তারা যখন সুস্থ রাজনৈতিক কর্মসূচি করছিল, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও ধীরে ধীরে অর্জন করতে শুরু করেছিল। কিন্তু ২৮ তারিখে তাদের যেই ঘটনা, বিএনপির যে সমস্ত ঘটনা ঘটালো, বিশেষ করে মাটিতে ফেলে পুলিশকে যেভাবে কোপালো, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, এই ঘটনার পরে জনগণের ধিক্কার ছাড়া, বিএনপির আর কিছু জুটবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়েছে, সেখানেও পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। আজকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনির ওপর যেভাবে হামলা করছে, এখানে হাসপাতালে বোমা হামলা করল, নারী শিশুদের অত্যাচার করেছে, তাদের সবকিছু বন্ধ করে রেখে দিয়েছে, আমি তফাত কিছু দেখতে পারছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে নিজেরাই পালালো, পালিয়ে গিয়ে এখন আবার অবরোধের ডাক। কীসের অবরোধ? কার জন্য অবরোধ? যখন সারা বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রশংসা করছে তখন তাদের কাজ হলো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। বাংলাদেশের এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, দেখাবে বাংলাদেশে কিছু হয়নি। তাদের হামলা শিকার একদিকে পুলিশ, আর হচ্ছে সাংবাদিক। এদের ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। সেগুলো কারা করেছে, তাদের নাম ডাক….। তারতো প্রকাশ্যে করেছে। শুধু তাই নয়, গতকালকে তারা লালমনিরহাটে আমাদের যুবলীগের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এভাবে হত্যা করা আর মানুষের সম্পদ নষ্ট করা, আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করাই তাদের চরিত্র। হঠাৎ কেন সাংবাদিকদের তারা চড়াও হলো? সাংবাদিকরা তাদের পক্ষে ভালো ভালো নিউজ দিচ্ছিল। টকশোতে ভালো ভালো কথা। বরং সরকারের দোষটাই সাংবাদিকরা বেশি দেখে। তাহলে তাদের রাগটা কেন সাংবাদিকদের ওপর হলো? সেটাই বুঝতে পারলাম না।

খুনিদের সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই উঠে না : প্রধানমন্ত্রী

আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় গণভবনে সাম্প্রতিক বেলজিয়াম সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের উপলক্ষে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে কিনা- এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, খুনিদের সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই উঠে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ করবো। বিরোধী দল কে? সংসদীয় পদ্ধতিতে বিরোধী দলের সংজ্ঞা আছে। সংসদে যাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে, তারাই প্রকৃত বিরোধী দল। এর বাইরে বিরোধী দল গণ্য হয় না, আমেরিকাতেও হয় না। তাহলে কার সঙ্গে সংলাপ করবো? খুনিদের সঙ্গে কীসের সংলাপ?
বেলজিয়ামে তিন দিনের সফরের বিষয়ে জানাতে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য দেন। এতে বেলজিয়ামের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
এ সময় একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে চান—মঙ্গলবার পিটার হাস নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সংলাপের কথা জোর দিয়ে বলেছেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনিদের সঙ্গে কীসের সংলাপ? বরং সে (পিটার হাস) বসে ডিনার খাক, সে সংলাপ করুক। আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এটা বাংলাদেশের মানুষও চাইবে না। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াতকে ঘৃণা করে। যেটুকু সুযোগ পেয়েছিল, আমরা করে দিয়েছিলাম সুযোগ, সেটাও হারিয়েছে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘যখন উপনির্বাচনে হিরো আলমকে কেউ মেরেছিল, তার বিচার দাবি করেছিল। এখন যখন পুলিশকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, তখন কেন বিচারের দাবি করে না। যারা সাংবাদিকদের সুরক্ষার কথা বলে, আজকে যখন এত সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হল, তারা চুপ কেন?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের তো মেরেছেই, এই পুলিশকে পিটিয়ে মারলো। ওগুলো মানুষের জাত নাকি? ট্রাম্প সাহেবের সঙ্গে বাইডেন সংলাপ করছে? ট্রাম্প বাইডেনের সংলাপের দিন আমরাও সংলাপ করবো। তাদের সব কর্মকাণ্ড রেকর্ড করা আছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, একটা কথা বলবো নির্বাচন হবে এবং যথা সময়ে হবে। কে চোখ রাঙালো আর কে চোখ বেকালো ওটা নিয়ে আমরা পরোয়া করি না। কারণ অনেক সংগ্রাম করে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা তো সময় পেয়েছি মাত্র ১৪ বছর। শুধু যে রাজধানীর উন্নয়ন হয়েছে তা কিন্তু নয়। আপনারা ঢাকার বাইরে ঘুরে আসুন। দেখবেন কতো উন্নয়ন হয়েছে। কারণ আমরা পরিবর্তনটা তৃণমূল থেকে করেছি। কারণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি আমার তৃণমূলের মানুষের।
আগামী নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ আছে কি না, এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো চাপ নেই যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে, এটা মাথায় রাখতে হবে। কে কি চাপ দিলো, না দিলো এটাতে কিছু আসে যায় না।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, মাঝখানে কিছুদিন বিএনপি রাজনৈতিকভাবে কর্মসূচি করছিল এবং আপনারা নিশ্চয়ই বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছিলেন আমাদের সরকার কিছু তাদের কোনো বাধা দেয়নি। তাদের ওপর একটা শর্ত ছিল, তারা অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুর করবে না।
তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) যখন সুষ্ঠুভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করছিল তাতে কিন্তু মানুষের একটু আস্থা-বিশ্বাসও তারা ধীরে ধীরে অর্জন করতে শুরু করেছিল। কিন্তু ২৮ তারিখে বিএনপি যেসব ঘটনা ঘটালো, বিশেষ করে যেভাবে পুলিশকে হত্যা করেছে, মাটিতে ফেলে যেভাবে কোপালো, সাংবাদিকদের যেভাবে পেটালো, এ ঘটনার পর জনগণের ধিক্কার ছাড়া বিএনপির আর কিছুই জুটবে না।
শুধু তাই না, হাসপাতালে ঢুকেও তারা হামলা করেছে। সেখানেও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনে হাসপাতালে হামলা করছে, নারী-শিশুদের হত্যা করছে, এর সঙ্গে তো বিএনপির হামলার কোনো তফাৎ দেখি না।
এর আগে, গত ২৫-২৬ অক্টোবর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে’ যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী। ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ২৪ অক্টোবর ব্রাসেলসে যান। ২৭ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি।

ইরাকে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে সশস্ত্র ড্রোন হামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার অন্তত দুটি সশস্ত্র ড্রোন মার্কিন এই সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিটি আল-আনবার গভর্নরেটে অবস্থিত। এই বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সৈন্যরাও রয়েছে। গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রত্যেকদিনই এই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো।
ইরাকের একাধিক সূত্র বলেছে, মঙ্গলবার সকালের দিকে আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর আগে, রোববার এই গোষ্ঠী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। সোমবারও চারটি কাতিউশা রকেট ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে নিক্ষেপ করা হয়। েেসামবারের হামলায় ঘাঁটিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইরাক এবং সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সৈন্যদের ওপর কমপক্ষে ২০ বার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ইরাকের আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি এবং সিরিয়ায় আল-তানফ ঘাঁটিতে দুটি হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ২১ সদস্য আহত হয়েছেন।
খবর রয়টার্স, আলজাজিরা

আমরা আবারও ক্ষমতায় আসব : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি, আমরা আবারও ক্ষমতায় আসব। কারণ, আমরা উন্নয়ন করি, ধ্বংসাত্মক কাজ করি না।
আজ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর ভরসা করে আবারও সরকার ক্ষমতায় আসবে। কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে নেই আওয়ামী লীগ। কাজেই দেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে এবং আমরা আবারও ক্ষমতায় আসব।
একনেক সভায় মোট ৩৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫২ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২১ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা এবং ২৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। একনেক সভায় মোট ৪৬টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেন। বাকি প্রকল্পগুলো পরবর্তী একনেক সভায় উত্থাপনের জন্য বলেছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার।

বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার বেলিংহাম

প্যারিসে সোমবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা ফুটবলারদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ব্যালন ডি’অর। রেকর্ড অষ্টম শিরোপা জয় করে লিওনেল মেসি ছিলেন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু প্রতি বছর অনুর্ধ্ব ২১ বছর বয়সী বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার কোপা ট্রফি কে পাচ্ছেন তা নিয়েও আগ্রহের কমতি থাকে না। এবার সেই পুরস্কার জয় করে বিশ^ ফুটবলে নিজেকে আরও একবার সামনে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহাম।
২০ বছর বয়সী এই উইঙ্গার রিয়ালের ক্যারিয়ারের শুরুতেই একের পর এক নজড়কাড়া পারফরমেন্সে নিজেকে প্রমান করে চলেছেন। শনিবার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে তিনি জোড়া গোল করেছেন। এনিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে ১৩ ম্যাচে তিনি ১৩ গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
যদিও কোপা ট্রফি তার গত বছরের পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে বেলিংহাম গত মৌসুমে ৪২ ম্যাচে ১৪ গোল করেছিলেন। বুন্দেসলিগায় তার ক্লাব দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। একইসাথে কাতার বিশ^কাপে ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে বেলিংহাম সহযোগিতা করেছেন।
কাল কোপা ট্রফি জয়ের পর তরুণ এই ইংলিশম্যান বলেছেন, ‘ডর্টমুন্ড সারা বছর আমাকে যে সুযোগ দিয়েছেন তাতে আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে গত বছর আমি তাদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আমি মনে করি ক্লাব আমার উপর যে দায়িত্ব দিয়েছিল তা পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। দারুন একটি বছর কাটানোর জন্য আমি সন্তুষ্ট।’
এবারের মৌসুমে রিয়াল ও ইংল্যান্ডের হয়ে ভাল কিছু অর্জণ করাই বেলিংহামের মূল লক্ষ্য। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড ও মাদ্রিদের হয়ে সবকিছু জেতার চেষ্টা করাই আমার লক্ষ্য। এই মুহূর্তে আমি যা পেয়েছি তার প্রতিদান দেয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘ডিসেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা’

তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক (বিজিএমইএ) সমিতির সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড নভেম্বরের মধ্যেই নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করবে। সরকার নতুন যে বেতনকাঠামো ঘোষণা করবে, আমরা পোশাক শিল্পের সব উদ্যোক্তা সেটিই মেনে নেব, শিল্পে যত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন। নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
আজ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিজিএমইএ সমিতি।
ফারুক হাসান বলেন, শিল্পের আকাশে যখন অনিশ্চয়তার কালোমেঘের ঘনঘটা, তখন পোশাকখাতের শ্রমিক ভাইবোনদের জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্য, পোশাকখাতে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গঠিত নূনতম মজুরি বোর্ড বর্তমানে নূনতম মজুরি পর্যালোচনার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি নূনতম মজুরি বোর্ড নভেম্বরের মধ্যেই নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করবে এবং সরকার নতুন সে বেতনকাঠামো ঘোষণা করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পোশাক শিল্পের সব উদ্যোক্তা সেটিই মেনে নেব, শিল্পে যত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন। নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে সমব্যাথী। সেইসঙ্গে এটিও উপলব্ধি করেছি, শিল্প যতো সমস্যাতেই থাকুক না কেন, পোশাক পরিবারের সদস্য, প্রতিটি শ্রমিক ভাইবোনদের সাধ্য অনুযায়ী ভালো রাখা আমাদের উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, গত কয়েকদিন ধরে বহিরাগতদের উষ্কানিতে কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। কারখানা ভাঙচুর করছেন, ফলশ্রুতিতে অনেক উদ্যোক্তা বাধ্য হচ্ছেন, কারখানা বন্ধ করে দিতে, যা একান্তভাবে অনভিপ্রেত।
ফারুক হাসান বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, বহিরাগতদের উস্কানির কারণে পোশাক কারখানার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু লেদার কারখানা, ক্যামিকেলের গোডাউন, ফ্যারিন্স এর গো-ডাউন, দোকানপাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, গত ৫ বছরে আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে অনেক পরিশ্রম করে শিল্পের রূপান্তর ঘটিয়েছি। আমাদের পোশাক শিল্প এখন বিশ্বের রোল মডেল।
প্রসঙ্গত, নুনতম বেতন কাঠামো ২৩ হাজার টাকার করার দাবিতে আন্দোলন করছে পোশাক শ্রমিকরা। আজ তাদের আন্দোলনের অষ্টম দিন।আজও গাজীপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্ট শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি কারখানা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।