বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

শান্তি চাইলে বিএনপির মতো অপশক্তিকে রুখতে হবে: নসরুল হামিদ

শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন চাইলে বিএনপি-জামায়াতের অপশক্তিকে রুখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নে উঠান বৈঠকের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

নসরুল হামিদ বলেন, বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের মধ্যদিয়ে পুনরায় ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করেছে। সন্ত্রাস করে কখনো মানুষের মন জয় করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি জনভিত্তিহীন দল বলেই তারা ভুয়া বাইডেনের উপদেষ্টা সাজিয়ে পার্টি অফিসে মিটিং করিয়েছে, পুলিশ হত্যা করেছে, বাসে আগুন দিয়েছে এবং জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনসমর্থন থাকলে এমন মিথ্যা আশ্রয় বিএনপিকে নিতে হতো না। বিএনপি ধোঁকাবাজের দল। এই এলাকায় যারা বিগত দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান-মেম্বার ছিলেন তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসের লালনকারী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে কেরানীগঞ্জের উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে সব থেকে বড় কথা রাজনৈতিকভাবে কোনো সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এই ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি দিয়েছে।

উন্নয়নের বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শুভাঢ্যা খাল খনন বাস্তবায়ন করাই হবে অন্যতম প্রধান কর্তব্য। এই এলাকায় শিল্পকলকারখানা এবং বসতবাড়িতে গ্যাসের যে সমস্যা রয়েছে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

উঠান বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম.ই. মামুন প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার নৌবাহিনী প্রধান নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তির নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। এর ফলে তিনিই হচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম নারী প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ পদের দায়িত্ব সামলাবেন লিসা।

সম্প্রতি চিফস অব নেভাল স্টাফ নিয়োগের বিষয়ে মার্কিন সিনেটে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিসার পক্ষে ৯৫টি ও বিপক্ষে একটি ভোট পড়ে।

নৌবাহিনীতে ৩৮ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে লিসার। তিনি প্রায় সব পর্যায়ে কমান্ডার ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ নৌবহর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন নৌসেনাদের সাবেক প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন লিসা। তিনিই দ্বিতীয় নারী, যাকে ফোর স্টার অ্যাডমিরাল করা হয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত জুলাই মাসে লিসাকে নৌবাহিনীর প্রধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ও সেনাবাহিনীর আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি আটকে গিয়েছিল।

রিপাবলিকান সেনেটর টমি টিউবারভিলের আপত্তির জন্যই এতদিন তা থেমে ছিল। গর্ভপাতের ক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের ভ্রমণ নীতি নিয়ে আপত্তি ছিল টমির।

গত বছর মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। তারা জানিয়ে দেয়, গর্ভপাত হলো সাংবাধানিক অধিকার। তাই সেনা সদস্যরা কোনো রাজ্যের বাইরে গিয়ে গর্ভপাত করাতে পারবেন। পেন্টাগন তার খরচ দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যেই গর্ভপাতের বিষয়ে কড়াকড়ি রয়েছে। পেন্টাগনের মত ছিল, কোনো সেনা সদস্যকে কোনো রাজ্যে কাজের জন্য থাকতে হতে পারে। কিন্তু অন্য রাজ্যে গিয়ে গর্ভপাত করানোর অধিকার তার রয়েছে।

হিজবুল্লাহর কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে রাশিয়া

ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কাছে উন্নত প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে রাশিয়া। রুশ প্যারামিলিটারি সংস্থা ওয়াগনার গ্রুপের মাধ্যমে সিরিয়া থেকে হিজবুল্লাহর হাতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মধ্যে লেবানিজ গোষ্ঠীটির কাছে এসএ-২২ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেনি ওয়াশিংটন। তবে ওয়াগনার ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার আলাপ-আলোচনা পর্যবেক্ষণ করছে তারা। উন্নত প্রযুক্তির এই চালান গুরুতর উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেছেন, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যে তথ্য দিয়েছে, তা উদ্বেগজনক। আমরা জানি, ইসরায়েলে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় হামাসের নিন্দা করতে অস্বীকার করেছে রাশিয়া এবং সম্প্রতি মস্কোয় হামাস কর্মকর্তাদের আতিথেয়তা করেছে তারা। রাশিয়া ইউক্রেনে ক্রমাগত নৃশংসতা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এটি ঘটেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ওয়াগনার গ্রুপ। দেশটিতে হিজবুল্লাহর উপস্থিতিও রয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের দমনে সিরীয় সরকারকে সাহায্য করছে লেবানিজ গোষ্ঠীটি।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, অতীতে সিরিয়াকে রুশ এসএ-২২ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েছিল রাশিয়া। এখন সেটি যদি হিজবুল্লাহর হাতে যায়, তাহলে এতে নিশ্চিত আসাদ সরকারের সমর্থন থাকবে।

কোচিং স্টাফ-নির্বাচকদের জরুরি জবাবদিহিতা চাইলো লঙ্কান বোর্ড

বিশ্বকাপের এবারের আসরে ব্যর্থ দলগুলোর তালিকায় নাম আছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কারও। ৭ ম্যাচ খেলে তারা মাত্র দুটিতে জিতেছে। সেমিফাইনালের স্বপ্ন এরইমধ্যে শেষ।

এতটুক পর্যন্ত হয়তো মানার মতোই ছিল। কিন্তু গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভারতের বিপক্ষে লঙ্কানরা যে ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখালো, সেটি কিছুতেই মানার মতো নয়।

ভারতের ৩৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫৫ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। যা কিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসেই কোনো দলের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।

এমন লজ্জার পর লঙ্কানদের পুরো কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচক প্যানেলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। দলের পারফরম্যান্সে গভীর উদ্বেগ এবং হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি জরুরিভাবে এই ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছে এসএলসি।

এক বিবৃতিতে এসএলসি বলেছে, বিশ্বকাপ একটি মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্ট এবং শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের পারফরম্যান্স জাতি এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের জন্য অত্যন্ত গর্বের উৎস। তবে সাম্প্রতিক সামগ্রিক পারফরম্যান্স এবং অপ্রত্যাশিত পরাজয় দলের প্রস্তুতি, কৌশল এবং পারফরম্যান্স নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেছে, এসএলসি কখনও দল গঠনে হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু বোর্ড দৃঢ়ভাবে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধান করার গুরুত্বে বিশ্বাস করে। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পেছনের কারণগুলো বোঝা এবং উন্নতির জন্য ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পুরো কোচিং স্টাফদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৫৭

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা সিটির ৩৫৫ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরে এক হাজার দুইজন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ২৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৩ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৬ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৩৮০ জন। এরমধ্যে ঢাকা সিটির ৮২০ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরের ৫৬০জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ জুন মাস থেকে শুরু হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর মে মাস থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৮১ জন।

বিএনপি-জামায়াত দেশে আবারও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াত দেশে আবারও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে দাবি করে যেখানে তাদের পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারও ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই আগুন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসীদের হাতেনাতে ধরে আগুনে ফেলে দিন।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সহিংসতার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন নিরীহ পুলিশ, তার কী অপরাধ ছিল। তারা শুধু এখনই না, ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালেও একই ঘটনা ঘটিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, আগুনে পুড়িয়েছে। গাড়ি-ঘোড়া সবই পুড়িয়েছে। হাজার হাজার গাছ কেটে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। যখন জনগণ প্রতিরোধ করেছে তারা থেমেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজও বলব, অগ্নিসন্ত্রাসী যেখানেই থাকুক, এভাবে যারা আগুন দেবে তাদের সাথে সাথে প্রতিরোধ করতে হবে। কারও ওপর নির্ভর না করে জনগণকে এই প্রতিরোধ করতে হবে।’
এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘটিত হয়ে আগুন সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান দলীয় প্রধান। তিনি বলেন, আগুন সন্ত্রাসীদের হাতেনাতে ধরে আগুনে ফেলে দিন। যে হাতে আগুন দিতে আসবে সে হাত পুড়িয়ে দিন। যে যেমন তার সঙ্গে তেমন করতে হয়। যেমন কুকুর তেমন মুগুর।
অগ্নিসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু ঢাকা শহর নয়, সারাদেশে কোন এলাকায় কত বিএনপি আছে, কারা এসব কাজ করছে তালিকা করুন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কোনো মুরব্বি নেই। আমাদের আছে দেশের জনগণ। তাদের নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আগামী নির্বাচনে দল যার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।
বিএনপি নির্বাচন চায় না, তারা বানচাল করতে চায় দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি কাকে নিয়ে নির্বাচন করবে। বিএনপি নির্বাচন করলে তাদের নেতা কে? কাকে প্রধানমন্ত্রী করবে? কাকে দিয়ে মন্ত্রিসভা করবে? বিএনপি চেয়ারপারসন, সে তো এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। আর এখন তো অসুস্থ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা (বিএনপি) জানে নির্বাচন করলে কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তো মাত্র ২৯টা সিট পেয়েছিল। এখন তাদের অপকর্মের জন্য মানুষ আরও বিমুখ।
জেল হত্যা দিবসের আলোচনায় সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল আমাদের জাতীয় চার নেতাকে। কারাগার সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গা, এই কারাগারই ঢুকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড চালায়। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন মায়া বীরবিক্রম, সিমিন হোসেন রিমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা ২৮ অক্টোবরের দায় এড়াতে পারেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, গত ২৮ অক্টোবরের অরাজক পরিস্থিতির জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতারা দায় এড়াতে পারেন না। তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তে তারা যদি নির্দোষ হয়, তারা খালাস পাবেন। আর না হলে তাদের নামে চার্জশিট হবে।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
এরআগে সকালে বনানী কবরস্থানে জাতীয় চার নেতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অপকর্ম করতে তারা (বিএনপি) আবারও অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির কিছু ভাড়া করা লোক, ট্রেনিংপ্রাপ্ত দুষ্কৃতকারী আছে, যাদের দিয়ে বাস পোড়াবে, বাসে আগুন দেবে, ভাঙচুর করবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ২৮ অক্টোবর যারা সহিংসতা করেছে, যারা অপকর্মের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আটক করা কি অপরাধ? অপরাধ করলে বিচার হবে না?

অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর মৃত্যুর ঘটনায় রাফি আটক

বহুল আলোচিত জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী হুমায়রা হিমুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ওরফে রাফিকে আটক করেছে র‍্যাব। র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হিমুর মৃত্যুর পর থেকে রাফি পলাতক ছিলেন। তাকে খুঁজছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অভিনেত্রীকে। সেখান থেকে হিমুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাফি নামের এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। কয়েক দিন ধরে হুমায়রা হিমুর সঙ্গে রাফির ঝগড়া-বিবাদও চলছিল। হাসপাতালে হিমুকে ফেলে রাফি পালিয়েছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) জ্যোতির্ময় সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিজ কক্ষে ফ্যান লাগানোর হ্যাঙ্গারে নাইলনের রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুকে পাওয়া যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ’
তিনি আরও বলেন, ‘তার মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। ’

৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে নির্বাচন

বেশ কিছুদিন আগেই পাকিস্তানে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা টালবাহানার নির্বাচন পিছিয়েছে। অবশেষে ৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হলো।
দেশের রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গত ৯ অগাস্ট থেকে পাকিস্তানে কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা। কারণ, ওই দিন পার্লামেন্টের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। সাধারণত, শেষ সরকারের সময়সীমা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন করতে হয়। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন জনগণনার রিপোর্ট এসেছে। তার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন বা কেন্দ্রগুলির সীমানা পরিবর্তিত হবে। তার জন্য সময় প্রয়োজন। সে কারণেই নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে ফেব্রুয়ারিতে নিয়ে যাওয়া হলো। সর্বসম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচন কেন হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও এবিষয়ে একটি মামলা চলার সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাষ্ট্রপতি এবং নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন, বৈঠক করে একটি চূড়ান্ত দিন ঘোষণা করতে। শুক্রবার পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত তাদের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তারই ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন দিন ঘোষণা করে।

শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক সাফল্য প্রশংসনীয়: টাইম ম্যাগাজিন

বিশ্বের দীর্ঘতম নারী সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। ইসলামপন্থী ও হস্তক্ষেপকারী শাসন দমন করার কৃতিত্ব তার। মার্গারেট থ্যাচার বা ইন্দিরা গান্ধীর চেয়েও বেশি নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনা আগামী জানুয়ারিতে ব্যালট বাক্সে নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়াতে বদ্ধপরিকর।
বিশ্বের প্রভাবশালী টাইম ম্যাগাজিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।ম্যাগাজিনটির প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনটির নাম ‘শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক সাফল্য প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।
গতকাল ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পর পুনরায় ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা বিশ্বের দীর্ঘতম নারী সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। ইসলামপন্থী ও হস্তক্ষেপকারী শাসন দমন করার কৃতিত্ব তার। মার্গারেট থ্যাচার বা ইন্দিরা গান্ধীর চেয়েও বেশি নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনা আগামী জানুয়ারিতে ব্যালট বাক্সে নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়াতে বদ্ধপরিকর। গত সেপ্টেম্বরে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমার জনগণ আমার সাথে আছে এবং তারাই আমার মূল শক্তি।
গত কয়েক বছর ধরে শেখ হাসিনা যে ১৯টি হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থকরা নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। পুলিশের গাড়ি এবং বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো এবারও নির্বাচন বর্জনের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
সমালোচকদের মতে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে মোড় নিয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির দু’বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী। তিনি গুরুতর অসুস্থ। আর বিএনপি নেতাকর্মীরাও অনেক মামলার আসামি। এসব ঘটনাকে অনেকেই ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিযোগ করেন।সমালোচকরা বলছেন, এ অবস্থায় আসন্ন জানুয়ারি মাসের নির্বাচন শেখ হাসিনার জয়কে ত্বরান্বিত করবে। সর্বশেষ গত দু’টি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
সম্প্রতি প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সমর্থকরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী। পুলিশের যানবাহন ও পাবলিক বাসে আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়। বিএনপি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আসন্ন নির্বাচনও বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি- নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তবে তাদের এ আহ্বানের নজির থাকলেও ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য হলো- সংবিধান সংশোধনের পর এই সুযোগ নেই। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে যেখানে তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগসহ সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে শাসক দল। যখনই আমরা আওয়াজ তুলি তারা তখনই আমাদের নিপীড়ন করে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সদস্যের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবদান সবচেয়ে বেশি। দেশটি নিয়মিতভাবে ইন্দো মার্কিন-প্যাসিফিক কমান্ডের সাথে অনুশীলনে যোগ দিয়ে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস। এমনকি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির শীর্ষ দেশও আমেরিকা। ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো উন্নয়নশীল বিশ্বের কয়েকজন নেতাদের একজন শেখ হাসিনা, যিনি নিজেকে পশ্চিমাদের জন্য দরকারি প্রমাণ করেছেন। প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয়ও দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্বৈরাচারের’ দিকে বাংলাদেশের মোড নেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজন গণতন্ত্র সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আর গত মে মাসে নির্বাচনকে দুর্বল করতে ভূমিকা রাখতে পারে এমন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর জবাবে শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্রকে বিদায় দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ তার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশে কোনো পক্ষকে সমর্থন করে না। এ ব্যাপারে তারা সতর্ক।
চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিটি প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যখন মরিয়া ঠিক তখন বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট কঠোর নীতি অবলম্বন করছে। এ ব্যাপারে উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে তার গণতন্ত্র-প্রচার নীতির জন্য বাংলাদেশকে একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্রে পরিণত করেছে বলে মনে হচ্ছে। এর বড় ঝুঁকি হলো- এ ধরনের সকল চাপের বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটবে। সরকারকে ক্ষমতায় থাকার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্ররোচিত করবে।’
শেখ হাসিনার টানা চতুর্থ মেয়াদ বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করবে, তা একটি মেরুকরণমূলক প্রশ্ন। বেশিরভাগ আমেরিকান দেশটিকে কেবল তাদের তৈরি পোশাকে সেলাই করা লেবেল থেকে জানে। তবে এটি একটি বাস্তব যে মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনও দেশের চেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্যদের একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু এখানে আছে। সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ হলেও, ১৯৮৮ সালে সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মে পরিণত করেছিলেন।
শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক সাফল্য প্রশংসনীয়। ২০০৬ সালে ৭১ বিলিয়ন ডলার জিডিপি থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রফতানিকারক হয়ে উঠেছে। যা ভারতের পরে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক সূচকগুলো উন্নত হয়েছে। ৭১ শতাংশ মেয়েরা আজ প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। স্যামসাংয়ের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীন থেকে সাপ্লাই চেইন সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশ হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমরা অনেক দূর এগিয়েও গেছি’।
বাংলাদেশও জলবায়ু সংকটের প্রথম সারিতে রয়েছে। আগে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত এই দেশটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু পানিই হাজার বছর ধরে এখানকার জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। অভ্যন্তরীণ থেকে হিমালয় পর্বতমালা থেকে প্রতি বছর ১৬৫ ট্রিলিয়ন গ্যালন বরফ বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। নিয়মিত সাইক্লোন-বন্যায় বছরে প্রায় ১৬৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। শেখ হাসিনা জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি পেতে চাই না, উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’
বাংলাদেশের রাজনীতির রক্তস্নাত ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে পরিবারের ১৭ জন সাথে নিহত হন। অন্যদিকে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। যিনিও একটি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। এই দু’রাজনৈতিক দল একে অপরকে তাদের ভূমিকা ছোট করে দেখে। বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা কখনোই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। খালেদা জিয়া সামরিক স্বৈরশাসকের মতো শাসন করেছিলেন’। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সমর্থকরা অগ্নিসন্ত্রাস করে যে সহিংসতা সৃষ্টি করেছিল, তাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বিপরীতে, বিএনপি সরকারের দমন-পীড়নের সমালোচনা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায়শই রাস্তায় সহিংসতায় জড়ায়। এটা সব বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সত্য।’
সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান (মাঝে) বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (বামে) এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা (ডানে) রাষ্ট্রপতি ভবনে হাবিবুর রহমানের শপথ গ্রহণের সময়।
শেখ হাসিনা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং আইডি কার্ড ও বায়োমেট্রিক তথ্যের সাথে যুক্ত নিবন্ধন কাগজপত্র প্রবর্তনের কথা উল্লেখ করে অবাধ নির্বাচনের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার রক্তে গণতন্ত্র আছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাবার হত্যার পর শেখ হাসিনা ও তার বোন পশ্চিম জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়, তখন তাকে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ সমর্থক তাকে স্বাগত জানায়। পরবর্তী বছরগুলো নির্বাচন এবং সামরিক শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন করেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সংগ্রাম ছিল, ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার। এটাই ছিল আমাদের স্লোগান’।
কিন্তু চার দশকের মধ্যে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে এবং আজ বাংলাদেশের বিরোধীরা অভিযোগ করছে যে- তারা গ্রেপ্তার, আক্রমণ বা আইনি চ্যালেঞ্জের ভয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু নির্বাচনের দিনই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি পুরো প্রক্রিয়া।’ ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে প্রতিটি নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষমতা রদবদল হয়েছে। ঢাকার এক রিকশাচালক টাইমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘তার দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা (৩.৫০ ডলার) তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের রান্নার তেল ও মসুর ডালের খরচ বহন করতে পারছে না। শেখ হাসিনা একটি মহান পরিবার থেকে এসেছেন, কিন্তু তিনি আজ আমাদের সাহায্য করতে পারছেন না।’
শেখ হাসিনার জন্য বিপদজনক বিষয় হলো, যদি তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, তাহলে তিনি সম্ভবত একই ধরনের দমনমূলক প্রতিশোধের মুখোমুখি হবেন। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ থিংক ট্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও টকশোর উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবাই খুব ভয় পাচ্ছে। তাদের নিরাপদ প্রস্থানের পথ নেই।’ বাংলাদেশের নিপীড়নমূলক দৃশ্যপট মূলত ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের ঘটনার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বোমা, পিস্তল, অ্যাসল্ট রাইফেল ও চাপাতি নিয়ে পাঁচজন ব্যক্তি ঢাকার গুলশান জেলার হলি বেকারিতে প্রবেশ করে। ‘আল্লাহু আকবর’ (আরবি ভাষায় ‘আল্লাহ মহান’) বলে চিৎকার করে তারা প্রধানত বিদেশি নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আতঙ্কিত কর্মীরা ছাদ পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় অনেকে টেবিলের নিচে লুকিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর তারা কোরআন তেলাওয়াত করতে না পারা যে কোনো জিম্মিকে নির্যাতন করে হত্যা করে। অবশেষে যখন পুলিশের অভিযানের মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘয়, তখন মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক – প্রধানত স্থানীয়, ইতালীয় এবং জাপানি – পাঁচজন সন্ত্রাসী এবং দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। আহত হন আরও ৫০ জন। গত ১২ মাসে হিন্দু শিক্ষাবিদ এবং ধর্মনিরপেক্ষ লেখক ও ব্লগারদের লক্ষ্য করে ৩০টিরও বেশি সহিংস হামলা চালানো হয়েছে। ভয়ের পরিবেশ এতটাই বিস্তৃত হয়ে ওঠে যে, অনেক রেস্তোঁরায় বিদেশিদের নিষিদ্ধ করে। যাতে তারা আরেকটি টার্গেটে পরিণত না হয়। আজ, যে রাস্তায় এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল সেখানে কেবল বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ এবং একটি মেডিকেল ক্লিনিক রয়েছে। তবুও সহিংসতার সেই স্মৃতি আজও মনে করিয়ে দেয়।
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইসলামীকরণ শুরু করে। তার বিএনপি আজ আরও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সাথে জোটবদ্ধ রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে আসছে। উইলসন সেন্টারের কুগেলম্যান বলেন, ‘ঢাকা বিরোধী দলের ইসলামপন্থী উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত হিসেবে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রয়োজনীতাকে ব্যবহার করেছে। সন্ত্রাসবাদ আজ কারণ হিসেবে বিবেচিত। বিএনপির সাম্প্রতিক সমাবেশে পুলিশের কর্মকাণ্ডকে ‘উস্কানিমূলক’ আখ্যায়িত করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। যা প্রতিশোধের দিকে পরিচালিত করেছে।’
কিন্তু রাস্তায় শুধু পাথর আর লাঠিই নয়; বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শেখ হাসিনার কথিত শত্রুদের টার্গেট করেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা অনুসন্ধানকারী দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীকে নেতিবাচক অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত আগস্টে বারাক ওবামাসহ বিশ্বের ১৭০ জনেরও বেশি নেতা ও নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশের ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ক্রমাগত বিচারিক হয়রানি’ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ ১৭৪টি অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়ে গেছে। কক্সবাজারের সমুদ্রতীরবর্তী থেকে এক ঘণ্টা দক্ষিণে চলুন দেখবেন- প্লাস্টিকের চাদরে আচ্ছাদিত বাঁশের কুঁড়েঘর। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী পশ্চিম মিয়ানমারে সরকারি গণহত্যা থেকে পালিয়ে এসেছে। সেখানে আনুমানিক ২৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গাঙ্গুলি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়ার অর্থ -আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অন্যান্য মানবাধিকার উদ্বেগ উত্থাপন করতে অনিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু আজ, নির্বাচনের ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পশ্চিমা চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী শরণার্থী শরিফ হুসেইন বলেন, ‘এখন আমাদের জনগণের ওপর ফিরে আসার জন্য আরও বেশি চাপ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মরব বা যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা শুধু আমাদের জনগণকে তাদের ভূমি থেকে সরিয়ে দিতে চায়।’
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেন, ‘ছয় বছর ধরে আমি ও আমার বোন শরণার্থী হিসেবে দেশের বাইরে ছিলাম, তাই আমরা তাদের দুঃখ ও বেদনা বুঝতে পারি।’ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থা যারা এখানে (রোহিঙ্গাদের) সমর্থন করছে তারাও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একই কাজ করতে পারে।
আয়তন ও ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ ভারত, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখেছে। বিশেষ করে স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে। যেখানে রুশ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজকে আশ্রয় দিচ্ছে। ঝুঁকি হচ্ছে, অত্যধিক চাপ ঢাকাকে ওয়াশিংটন থেকে দূরে এবং মস্কো ও বেইজিংয়ের কাছাকাছি ঠেলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ইউক্রেন থেকে রাশিয়াকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তিনি পরিষ্কার জানান, ‘কিছু ইস্যুতে আমরা রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেইনি। এরপর আরও কিছু ইস্যুতে আমরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার।’
এটি এমন একটি পদ্ধতি যা ঢাকাকে খোলাখুলিভাবে উভয় পক্ষের বিরোধী না দেখানোর সিদ্ধান্ত। গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ রাশিয়ার প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা সফর করেন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রোসাটম ঢাকার ৯০ মাইল পশ্চিমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ এই প্ল্যান্টের জন্য রাশিয়ান ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের সবাইকে থামতে হবে। পুতিনকে থামাতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত যুদ্ধে উস্কানি না দেওয়া এবং অর্থ সরবরাহ বন্ধ করা। তাদের উচিত সেই টাকা শিশুদের দেওয়া।’
বাংলাদেশের নতুন সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা আবারও আত্মরক্ষামূলক মনোভাব পোষণ করে বলেন, আপনি যা কিছু করেন, কিছু মানুষ সবসময় এর বিরোধিতা করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি শুধু আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাকে উৎখাত করা এত সহজ নয়। আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত।’