বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

গাজায় প্রতিদিন ১৬০ শিশু নিহত হচ্ছে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিন গড়ে ১৬০ জন শিশু নিহত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই তথ্য সামনে এনেছে। এছাড়া গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্বিচারে চালানো ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজারে।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই প্রায় ৭ হাজার। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬০ শিশু নিহত হচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মঙ্গলবার জানিয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘের এক ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, ‘(ফিলিস্তিনি) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, গাজায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬০ শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে।’
এই পরিস্থিতিতে গাজার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাতে চলমান সংঘাতে মানবিক বিরতি কার্যকর করা ‘জরুরি প্রয়োজন’ বলে জানান লিন্ডমেয়ার।
তিনি বলেন, ‘গাজার হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, এবং যারা বেঁচে আছেন তারাও ট্রমা, নানা রোগ এবং খাবার ও পানির অভাবে ভুগছেন। বেঁচে থাকার জন্য এসব মানুষের পানি, জ্বালানি, খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার নিরাপদ সরবরাহ প্রয়োজন।’
লিন্ডমেয়ার বলেন, রসদ, কনভয় এবং মানবিক সহায়তা সরবরাহ প্রস্তুত রয়েছে। সবকিছু সেট আপ করা হয়েছে। কিন্তু যা নেই তা হলো- এগুলো নিয়ে গাজায় প্রবেশাধিকার এবং এটিই আমাদের প্রয়োজন। রোগীদের সুরক্ষা এবং হাসপাতালগুলো যেকোনও উপায়ে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।
গাজা উপত্যকার উত্তরের হাসপাতালগুলোর বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডব্লিউএইচও কেবলমাত্র ‘একবারই’ হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে।
গাজার হাসপাতালগুলোর নিচে হামাসের টানেলের কারণে সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে ইসরায়েল যে দাবি করেছে সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন: ‘ হাসপাতালের নিচে কী আছে তা আমরা যাচাই করতে পারি না। আমরা যা যাচাই করতে পারি তা হাসপাতালে এবং মাটির ওপরে যা আছে সেগুলো। হাসপাতালগুলোতে জরুরিভাবে চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।’

ভারতের আইটেক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে : রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন আইটেক অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএএবি) সঙ্গে মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (আইটেক) দিবস উদযাপনের জন্য একটি সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ভার্মা উল্লেখ করেন, ভারতের ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগীসমূহের একটি হিসেবে আইটেক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুবর্ণ জয়ন্তী স্কলারশিপের অধীনে প্রতি বছর আইটেকে বাংলাদেশের জন্য নিবেদিত ৫০০টি স্লট রয়েছে এবং সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি এন্টারপ্রাইজসমূহের জন্য বেশ কিছু চাহিদাভিত্তিক কর্মসূচি আছে যা বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো হয়ে থাকে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আইটেক অ্যালামনাইগণ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধনকে প্রদর্শন করে।
ভারত সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম আইটেক ভারতের উন্নয়ন সহায়ক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুবিধা প্রদান করছে।

প্রতি বছর, কৃষি, হিসাব, নিরীক্ষা, সুশাসন অনুশীলন, ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, সংসদীয় বিষয়, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, আইটি, ডেটা অ্যানালিটিক্স, রিমোট সেন্সিং, নবায়নযোগ্য শক্তি ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম সারির ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য আইটেক অংশীদার দেশসমূহকে ১০ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষণ স্লট দেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত, ৫ হাজারেরও বেশি তরুণ বাংলাদেশি প্রফেশনাল আইটেক কর্মসূচিসমূহের অধীনে ভারতে এই ধরনের কোর্স করেছেন।
আইটেক সহযোগিতার অধীনে বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম মূল্যবান অংশীদার। ২০২০-২১ সালে কোভিড অতিমারি পরবর্তী সময়ে, বিশেষ ই-আইটেকের অধীনে ভার্চুয়ালি বেশ কিছু কোর্সের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আইটেক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের জন্য সেরা ভারতীয় অনুশীলনসমূহ তুলে ধরে সুযোগ প্রদান করে। ফলস্বরূপ, বিশেষত কৃষি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে অসাধারণ অগ্রগতি সাধনকারী বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত সমানভাবে লাভবান হয়েছে।
বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের প্রায় ১৮০ জন আইটেক অ্যালামনাই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কয়েকজন বিশিষ্ট আইটেক অ্যালামনাই তাদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন। একটি ছোট সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সেই ছন্নছাড়া বার্সা, হেরেছে পিএসজিও

চ্যাম্পিয়নস লিগের গেল দুই মৌসুমেই ভরাডুবি হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার। দুইবারই ক্লাবটি বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়ায় সহজেই শেষ ষোলোতে ওঠার আশা করেছিলেন সমর্থকরা। তবে গতকাল ইউক্রেনিয়ান ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের কাছে হেরে গেছে বার্সা।
এই হারে পরের পর্বে ওঠার দৌড়ে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা।
গতকাল রাতে বার্সেলোনার মতো ধাক্কা খেয়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নস পিএসজিও। ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে ১-২ গোলে হেরেছে এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা। তবে প্রতিপক্ষকে গোলের মালা পরিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। গ্রিজমানরা ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিককে।
বার্সা হেরেছে যুদ্ধকালীন সময়ে শাখতারের অস্থায়ী ভেন্যু জার্মানির হোল্কস্পার্কস্তাদিওনে। বল দখলে দাপট দেখালেও আক্রমণভাগ হতাশ করে কাতালান সমর্থকদের। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষ গোলমুখে মাত্র একটি শট রাখতে পেরেছেন রবার্ট লেভানডস্কি, রাফিনিয়ারা। উল্টো দিকে, চার শটের একটিকে গোলে পরিণত করে জয় তুলে নেয় শাখতার। ম্যাচের ৪০ মিনিটে গোলটি করেন দানিলো সিকান। ফলে ১৫ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সার বিপক্ষে জয়ের খেদ মেটায় দলটি।
এদিকে, সান সিরোয় এসি মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের ৯ মিনিটেই লিড নেয় পিএসজি। মিলান স্ক্রিনিয়ানের গোলে এগিয়ে যায় ফরাসি ক্লাবটি। তবে ৩ মিনিট না যেতেই সেই গোল শোধ দেন রাফায়েল লিয়াও। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে অলিভিয়ের জিরুর করা গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে এসি মিলান।
ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে সেল্টিককে হেসেখেলেই উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাটলেটিকো। ৬ মিনিটে গোল দিয়ে বড় জয়ের সূচনাটা আঁতোয়ান গ্রিজমানের। ২৩ মিনিটে ডাইজেন মায়েদা লাল কার্ড দেখলে সেল্টিক ১০ জনের দলে পরিণত। সেই সুযোগটাই নেয় অ্যাটলেটিকো। একে একে করে আরও ৫ গোল। গ্রিজমানের আরও এক গোলের সঙ্গে আলভারো মোরাতার জোড়া এবং সামুয়েল লিনো ও সাউল নিগুয়েল স্কোরশিটে নাম তুললে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা।

হালান্ডের জোড়া গোলে নতুন ইতিহাস ম্যানসিটির

ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ওয়েস্ট হামের। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ইউরোপের যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল দলটি। গতকাল রাতে সেই ওয়েস্ট হামের সেই রেকর্ড ভেঙেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইয়াং বয়েজকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গড়লো টানা ১৮ ম্যাচ (১২ জয়, ৬ ড্র) অপরাজিত থাকার রেকর্ড।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে ঘরের মাঠ ইতিহাদে সুইস ক্লাব ইয়াং বয়েজকে আতিথেয়তা দেয় ম্যানচেস্টার সিটি। আর্লিং হালান্ড করেন জোড়া গোল। সিটির জার্সি গায়ে সবশেষ ৫ ম্যাচে এটি তার সপ্তম গোল। অপর গোলটি করেন ফিল ফোডেন।
সিটির হয়ে হালান্ডের প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে। ২৩ মিনিটে বাঁ পায়ের গোলে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। পরে ৫১ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। আগের দেখায়ও ইয়াং বয়েজের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। ফোডেনের গোলটি আসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে সার্বিয়ান ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রেডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে জার্মান ক্লাব রেড বুল লাইপজিগ। জাভি সিমন্স ও লইস ওপেন্দার গোলে এগিয়ে থাকা লাইপজিগ শেষদিকে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসে।

সাকিবের পরিবর্তে বিশ্বকাপ দলে বিজয়

ইনজুরির কারণে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়।
আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হয়েছে এনামুল হক বিজয়ের স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাকিবের বদলি হিসেবে বিজয়কে স্কোয়াডে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এশিয়া কাপেও বিজয় সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি হিসেবে। শেষ ম্যাচটিতে ভারতের বিপক্ষে একাদশে ছিলেন তিনি।
এর আগে, সাকিবের ইনজুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানের ইনিংস খেলার পথে বাম হাতের তর্জনি আঙুলে চোট পান সাকিব। পরে এক্স-রে করে দেখা যায় সেখানে চিড় আছে। এই কারণে ১১ নভেম্বর পুনেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারবেন না তিনি। এই ম্যাচের পর বাংলাদেশের বিশ্বকাপও শেষ হয়ে যাবে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বল ও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। বল হাতে দুই উইকেট তুলে নেয়ার পাশাপাশি জয়ের পথে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৬৫ বলে ৮২ রান। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আগে ৭ ম্যাচে সাকিব ব্যাট হাতে করেছিলেন ১৮৬ রান। বল হাতে তুলে নেন ৯ উইকেট। ইনজুরির কারণে তিনি একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে নাটকীয়তা

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট নিয়ে চলছে দারুণ নাটকীয়তা। মাত্রই গতকাল সোমবার দেশটির সরকার বিদ্যমান ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী নতুন কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির প্রধান করা হয়েছিল দেশটির বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে। সেই কমিটি গঠনের এক দিন যেতে না যেতেই দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ এই রায় দিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী রোশন রণসিঙ্গে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসিবি) সাত সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করেন গতকাল। রানাতুঙ্গাকে প্রধান করে ১৯৭৩ সালের ক্রীড়া আইনে ২৫ ধারা অনুসারে এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান ক্রীড়ামন্ত্রী।
তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান শাম্মি সিলভা মন্ত্রীর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আপিল করেন। সেই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ আজ পুরোনো ক্রিকেট বোর্ডকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আগামী দুই সপ্তাহ পুরোনো বোর্ডই বহাল থাকবে বলেও জানান আদালত।
এ প্রসঙ্গে আদালতের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পুরোনো বোর্ড পুনর্বহাল আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বহাল হবে। এর মধ্যেই এ বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ’
বিগত কয়েক মাস ধরেই শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী ও ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে লড়াই চলছে। আদালতের এই আদেশ এই লড়াইয়ের সর্বশেষ অবস্থা। ক্রীড়ামন্ত্রী একাধিকবার ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে হারার আগে ভারতের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে হারের পর পুরো বোর্ডকেই বরখাস্ত করেন।
এদিকে, মাত্র এক দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে আদালতের এই রায়ের পরপরই তাঁর কার্যালয় থেকে চলে যেতে বলা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রানাতুঙ্গা কোনো মন্তব্য করেননি।

বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসীদের নির্মূলে আমরা বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বাসে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না, তারা সন্ত্রাসী হয়ে গেছে। এটা রাষ্ট্রের ওপর আঘাত, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এদের প্রতিহত করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসীদের নির্মূলে আমরা বদ্ধপরিকর।
আজ মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘ধর্মান্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোর রাজনীতি এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ব্রিগেড ৭১।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী যে কায়দায় গাজায় হাসপাতালে আক্রমণ চালিয়েছে, একই কায়দায় পুলিশ হাসপাতালে আক্রমণ চালানো হয়েছে। রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্সে হামলা চালিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরা (বিএনপি) কী মানুষ? এরা কী রাজনৈতিক কর্মী? এদের নেতারা কী রাজনৈতিক দলের নেতা? এরা জঘন্য সন্ত্রাসী। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রের ওপর আঘাত।
এ ধরনের ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রতিহত করতে হবে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গাড়ি পোড়ানো কি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে? আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আমরা রাস্তায় পিকেটিং করতাম। বড়জোর রিকশার টায়ারের পাম ছেড়ে দিতাম, তার চেয়ে বেশি কিছু নয়। এখন কর্মসূচি ঘোষণা করে অনলাইনের মাধ্যমে। সেই কর্মসূচির মূল হচ্ছে অবরোধের নামে গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো। মানুষের উপর আক্রমণ করা। এরা দেশ-জাতি-সমাজের শত্রু। এজন্যই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। শেষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এই গ্রেফতার অব্যাহত থাকবে। আমরা এদের নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।
হাছান মাহমুদ বলেন, ২৮ তারিখে সমাবেশের নামে বিএনপি পুলিশ হত্যা করেছে, ৩২ জন সাংবাদিককে আহত করেছে। যারা এগুলোর মূল হোতা, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। আমরা জানি, তাদের কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তারা (বিএনপি) হিংস্র হায়েনার চেয়েও খারাপ। তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে লড়তে হবে। ১৯৭১ সালে যেভাবে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে, তেমনিভাবে এখন তাদেরও প্রতিরোধ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অভ্যুদয়ের পর থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। বিদেশি শক্তির সঙ্গে মিলে এরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে তাদের অপচেষ্টা কিছুটা সফল হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে আওয়ামী লীগ ২১ বছর এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার কাজে অনেকেটাই অগ্রসর হয়েছিলাম। ২০০১ সালে আবারও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে আতাত করে ক্ষমতায় আসে। দেশ আবার পিছিয়ে পড়ে। ২০০৮ সালে জনগণের ভোটে বিজয়ের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। সেই থেকে দেশ আজ পর্যন্ত দেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলছে।
ব্রিগেড ৭১-এর আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদারের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি (অব.) শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতিক, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকোট আব্দুন নূর দুলাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও ‘ব্রিগেড ৭১’ এর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন প্রমুখ।

আইসিসির অক্টোবর সেরার তালিকায় বাংলাদেশের নাহিদা

আইসিসির অক্টোবর মাসের সেরা নারী খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার নাহিদা আক্তার। আইসিসির ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কারের জন্য তার সঙ্গে আরও মনোনয়ন পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের এমিলিয়া কার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথুজ।
গেল মাসে ঘরের মাঠে বল হাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ করেছেন নাহিদা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে কিপটে বোলিংয়ে রেকর্ডও গড়েন। সিরিজ জয়ে রেখেছেন বড় অবদান। সিরিজ সেরা হওয়ার পর এবার তিনি জায়গা করে নিলেন মাস সেরার লড়াইয়ে।
চট্টগ্রামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা সিরিজে ৮ উইকেট নেন নাহিদা। প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারের কোটায় ৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে গড়েন টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। পরের দুই ম্যাচে আরও ৩ উইকেট দখল করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
এদিকে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ম্যাথুজ। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেন যথাক্রমে ৯৯*, ১৩২ ও ৭৯ রানের ইনিংস। বল হাতেও নেন ৩ উইকেট। পরে ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ২০ ও ২৩ রান।
নিউজিল্যান্ডের এমিলিয়া কার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সমানে আলো ছড়িয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরির সঙ্গে বল হাতেও নেন ২ উইকেট। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচে করেন যথাক্রমে অপরাজিত ৭০ ও ৬১ রান।

পুলিশের মনোবল ভাঙতেই কনস্টেবল পারভেজকে হত্যা : সিটিটিসি

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজধানীর নয়া পল্টনে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা ছিল, পুলিশের ওপর হামলার করে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া। প্রয়োজনে এক বা একাধিক পুলিশ সদস্যকে হত্যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল তারা। তারা চেয়েছিল যেন একটি নতুন ইস্যু সৃষ্টি হয়। এরই ভিত্তিতে সে দিন নয়া পল্টনে সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হক পারভেজকে হত্যা করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সোমবার (৬ নভেম্বর) রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকা থেকে পারভেজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমান উল্লাহ আমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি বিএনপির সমাবেশে পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় হামলায় প্রধান নেতৃত্বদানকারী।
আমান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আমান তার অনুসারীদের নিয়ে নয়া পল্টনে সমাবেশের মঞ্চের পাশে অবস্থান নেয়। মঞ্চে অবস্থিত বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা ছিল, পুলিশের ওপর হামলার মাধ্যমে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা পেয়ে হামলা করা হয় দাবি করে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘কাকরাইল মোড়ে বিএনপির কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করলে পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ওই সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশের ওপর হামলার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে নয়া পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের পাশে ভিক্টরি হোটেলের পাশের গলি দিয়ে ছাত্রদলের একটি বড় অংশ নিয়ে পুলিশের ওপরে হামলা করার জন্য অগ্রসর হয় আমান। সমাবেশ কেন্দ্রিক দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই তাদের জানা ছিল। সে দলবল নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে।’
তিনি বলেন, পল্টন টাওয়ারের সামনে এসে দলের একটি অংশ বক্স কালভার্ট রোডের পশ্চিম প্রান্তে বিজয় নগর পানির ট্যাংকের দিকে যায়। অপর অংশ আমানের নেতৃত্বে বক্স কালভার্ট রোডের আগের প্রান্তের দিকে অগ্রসর হয়। বক্স কালভার্ট রোডের পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। ওই পুলিশ সদস্যদের সাহায্য করার জন্য আগের প্রান্তে পুলিশ সদস্যরা বক্স কালভার্ট রোডের পশ্চিম দিকে আসে। এ সময় আমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় পশ্চিম দিকে আসা পুলিশ দলটির ওপর হামলা করা হয়।
জানমাল রক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকে এবং সর্বোচ্চ সহনশীলতার পরিচয় দেয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের এই অংশটি আমানের নেতৃত্বে পুলিশদের ওপরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ছাত্রদলের আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ বক্স কালভার্ট রোডের পূর্ব দিকে অবস্থিত ডিআর টাওয়ার ও আশেপাশের স্থাপনায় অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় আমানের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা পুলিশ সদস্যদের হামলা করার জন্য ক্রমাগত ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে পারভেজ রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। এ সময় হত্যার উদ্দেশে লাঠি দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করা হয় তাকে।
পারভেজের নিথর দেহের ওপর আঘাত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পারভেজ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকে। তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। বিক্ষোভকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তার নিথর দেহের ওপর বর্বরভাবে আঘাত করতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর আমান তার অনুসারীদের নিয়ে বক্স কালভার্ট রোডের পশ্চিম দিক দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অনশনে শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি

মানবাধিকারকর্মীকে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি অনশন করছেন।
সোমবার থেকে তিনি অনশন শুরু করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন ৫১ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি। কিন্তু গত সপ্তাহে মাথায় স্কার্ফ পরতে অস্বীকার করায় তাকে হাসপাতালে যেতে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট জানিয়েছে, ইরান সরকারের দুটি নীতির প্রতিবাদে সোমবার থেকে অনশন শুরু করেছেন কারাবন্দি নার্গিস মোহাম্মদি। প্রথমটি হচ্ছে অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসা সেবায় বিলম্ব ও অবহেলা করার সরকারি নীতি এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাধ্যতামূলক হিজাব আইন।
নার্গিস মোহাম্মদির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেছেন, নার্গিসের হৃদপিণ্ডে তিনটি ব্লক রয়েছে। তিনি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। এ অবস্থায় তিনি হিজাব পরতে না চাওয়ায় কারা কর্মকর্তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি। তাকে ওষুধ পর্যন্ত খেতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু লবণ, পানি ও চিনি খেয়ে বেঁচে আছেন নার্গিস।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নার্গিস মোহাম্মদীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য নারী বন্দিদের হিজাব পরতে বাধ্য করা অবশ্যই অমানবিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে জনপরিসরে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। আইনটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও এখনো তা বাতিল বা সংশোধন করেনি ইরানের কোনো সরকার।
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন নার্গিস মোহাম্মদি। দেশটিতে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।
২০১০ সাল থেকে কারাগারেই কাটছে নার্গিসের দিন। ৫১ বছর বয়সী নার্গিস এখন পর্যন্ত ১৩ বার গ্রেফতার হয়েছেন। পাঁচবার দোষী সাব্যস্ত হওয়া এই মানবাধিকারকর্মীকে ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারের’ দায়ে কারাভোগ করছেন।