মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

সেরাটা শেষের জন্য জমিয়ে রেখেছিলাম : কামিন্স

বিশ্বকাপ জুড়ে দাপটের সঙ্গে প্রতিটি ম্যাচ জয়ে অপ্রতিরোধ্য ভারত ফাইনালে পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। টানা দশ জয়ে ফাইনালে আসা দলটি ঘরের মাঠে আহমেদাবাদে ১ লক্ষ ৩২ হাজার সমর্থকদের সামনে বিশ্বকাপ জয়ের হুংকার দিয়েছিল। তবে ক্রিকেট বিশ্বের সকল বিশ্লেষক থেকে ধরে ভক্তদের শিরোপা জয়ের ‘ফেবারিট’ তকমা পাওয়া ভারতকে নিজেদের জাত চিনিয়ে ৬ উইকেটের জয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল অস্ট্রেলিয়া।
আসর জুড়েই এবার দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিল ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। তবে ভারতের সেই শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ ই কার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে স্বাগতিকদের হয়নি বড় লক্ষ্য গড়া। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্কদের তোপে ভারত গুটিয়ে গেছে ২৪০ রানেই। আর লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেলেও ট্রাভিস হেডের বিধ্বংসী শতকে ৪২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো অজিরা।
অথচ এই অস্ট্রেলিয়ারই টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল বড় দুই হার দিয়ে। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হার, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জুটে ১৩৪ রানের বিশাল এক পরাজয়। সাবেক বিশ্বিচ্যাম্পিয়নদের এমন পরাজয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়তো সেমিফাইনালেই যেতে পারবে না কামিন্সরা। কিন্তু সমালোচকদের সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে অজিরা।
তৃতীয় ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা সাত জয়ে সেমি নিশ্চিতের পর ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে অজিরা হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এরপর শিরোপা জয়ের ম্যাচে টানা দশ ম্যাচ অপরাজিত থাকা ভারতের বিরুদ্ধে দাপুটে এক জয়। এভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারায় দারুণ খুশি অধিনায়ক কামিন্স। শিরোপা জয়ের পর গতকাল তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেরাটা শেষের জন্যই জমা রেখেছিলাম। বড় ম্যাচগুলোতে কয়েকজনই ভালো অবদান রাখল, যেটা আমাদের এগিয়ে দিল।’
প্রথম দুই ম্যাচে হারায় পর কীভাবে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে অজি এই অধিনায়ক বলেন, ‘বলেছিলাম আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং বিশ্বকাপ জিততে হবে। আর সেটার জন্য অপেক্ষা করার সময় নাই। আমাদের সাহসী হতে হবে, এখান থেকেই সেটা শুরু করতে হবে।’
টস জয়ের পর ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তে কাল দারুণ কাজে এসেছে। এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে কামিন্স বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বেশির ভাগই আগে ব্যাট করেছি। আজ মনে হয়েছে রান তাড়া করলেই ভালো হবে। পরে ব্যাটিং সহজ হবে।’

কবি সুফিয়া কামালের জীবনী চর্চায় নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কবি বেগম সুফিয়া কামালের জীবনী চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। আজ কবি বেগম সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কবি বেগম সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়।
শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।
শেখ হাসিনা বলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ে তাঁর নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।
তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল ছিলেন একদিকে আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, মমতাময়ী মা, অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তাঁর আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাঁকে জনগণের ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শরু হয়, তখনও তাঁর সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।
কবির ভাষায়-
“তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর
আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।
শস্য-শ্যামল এই মাটি মা’র অঙ্গ পুষ্ট করে
আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে। ”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

ভারতকে কাঁদিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ

আগ্রাসী ইনিংসে গ্যালারি উত্তাল করা রোহিত শর্মার ক্যাচটা ধরে যখন ট্রেভিস হেড মোতেরায় নামিয়েছেন পিন পতন নীরবতা। ধারাভাষ্য কক্ষে ইয়ান স্মিথ বলে উঠলেন, ‘এটাই টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে’। তখন ১০ ওভারে ভারতের রান ৮০। ভারতের পুঁজি কম হওয়ার পেছনে রোহিতের এই আউট পরে হয়েছে বড় প্রভাবক। তবে হেড আসল কাজ করেছেন ব্যাটিংয়েই। ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কেঁপে উঠা দলকে টেনে চ্যাম্পিয়ন বানাতে বাঁহাতি ওপেনার খেললেন ঠান্ডা মাথায় খেললেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। চরম হতাশার মাঝেও এক পর্যায়ে ভারতীয় দর্শকরা দাঁড়িয়ে তালি দিলেন তাকে।
আহমেদাবাদ শহর লোকে লোকারণ্য! আয়োজক ভারত ফাইনালে ওঠায় এমনটা হবারই ছিল। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম যে জন সমুদ্রে রূপ নেবে এটা অনুমেয়ই ছিল। সকাল থেকে আসা ভারতীয় দর্শকে পুরো গ্যালারিতে ছিল নীলের সমুদ্র। সেখানে হলুদ জার্সি খুঁজে পাওয়াটা একটু দুষ্করই বটে। তবুও কয়েকজন যে ছিল না তা বলার সুযোগ নেই। গ্যালারি এমন একপাক্ষিক হবে সেটা আগে থেকেই জানতেন প্যাট কামিন্স। ম্যাচের আগের দিন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বলেছিলেন, এমন ভরা গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দেয়ার চেয়ে তৃপ্তির কিছু নেই। বিশ্বকাপ জুড়ে দাপটের সঙ্গে প্রতিটি ম্যাচ জয়ে অপ্রতিরোধ্য ভারত ফাইনালে পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। টানা দশ জয়ে ফাইনালে আসা দলটি ঘরের মাঠে আহমেদাবাদে ১ লক্ষ ৩২ হাজার সমর্থকদের সামনে বিশ্বকাপ জয়ের হুংকার দিয়েছিল। তবে ক্রিকেট বিশ্বের সকল বিশ্লেষক থেকে ধরে ভক্তদের শিরোপা জয়ের ‘ফেবারিট’ তকমা পাওয়া ভারতকে নিজেদের জাত চিনিয়ে ৭ উইকেটের জয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকদের দেওয়া ২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেলেও ট্রাভিস হেডের বিধ্বংসী শতকে ৪২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো অজিরা।

ভারতের ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শককেও নীরব বানিয়ে ফেলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন কামিন্স। টস জিতে একটু পেরেছিলেনও বটে। অস্ট্রেলিয়া যখন টস জিতল তখন পুরো গ্যালারি যেন নীরব হয়ে গিয়েছিল। তবে ভারত ব্যাটিংয়ে নামতেই বদলে গেল চিত্র। রোহিত শর্মার আক্রমণাত্বক ব্যাটিং পুরো গ্যালারিকে আবারও জাগিয়ে তুলে। তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি ভারতীয় দর্শকদের। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ভারত। বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের হাফ সেঞ্চুরি খানিকটা স্বস্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত আক্ষেপে মোড়ানো ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা থামে মাত্র ২৪০ রানে। লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না অস্ট্রেলিয়ার জন্য।
তবুও শুরু থেকেই আক্রমণ করায় মনোযোগী ছিল তারা। সেটা করতে গিয়ে পঞ্চাশের আগেই তিন উইকেট নেই অজিদের। তখন যেন ২৪০ রানই অনেক মনে হচ্ছিল তাদের জন্য। তবে সেটা মনে হওয়ার আগেই দূরে ঠেলে দিয়েছেন ট্রাভিস হেড। দল চাপে থাকলেও ভারতীয় বোলারদের বিপক্ষে বাঁহাতি এই ওপেনার ছিলেন দুর্দান্ত। হেডকে যথার্থ সঙ্গ দিয়েছেন মার্নাস ল্যাবুশেন। সময় যত বেড়েছে হেডের আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ের প্রতাপ ততই বেড়েছে। তাতে করে পাত্তা পায়নি স্বাগতিকরা। হেডের সেঞ্চুরি এবং ল্যাবুশেনের হাফ সেঞ্চুরিতে ভারতকে স্তব্ধ করে নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল অস্ট্রেলিয়া। কামিন্সের দলের কাছে ৬ উইকেটে হেরে তৃতীয় শিরোপা হাতছাড়া করল ভারত।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ওয়ার্নারের ক্যাচ যায় স্লিপ অঞ্চলে। তবে সেখানে থাকা বিরাট কোহলি ও শুভমান গিলের ভুলে সেটি বাউন্ডারি হয়ে যায়। সেই ওভারেই আরো দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৫ রান তুলে দুই অজি ওপেনার। ২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ১৫ রান তুলে উড়ন্ত সূচনার ইঙ্গিত দেয় ট্রেভিস হেড ও ওয়ার্নার। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ শামির বলে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার ওয়ার্নার।
শামির বলে ডাউন উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৩ বলে ৭ রান করে ফিরেন ওয়ার্নার। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন মিচেল মার্শ।
তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে জাস্প্রিত বুমরার বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন মার্শ। এরপর ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি স্টিভেন স্মিথ। বুমরার সপ্তম ওভারে লেগ বি ফোরের ফাঁদে পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। দলীয় ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারানো অজিরা চতুর্থ উইকেট জুটিতে ম্যাচে ফিরে।

ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেন মিলে ইনিংসের ২০ তম ওভারে দলীয় শতরান পূরণ করেন। এরপর ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ওপেনার ট্রাভিস হেড। লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটীয় শট খেলে স্বাগতিকদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন হেড।
ধারাবাহিক আক্রমণে ৯৫ বলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের শতক তুলে অনন্য এক কীর্তি গড়েন অজি এই ওপেনার। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার কেউই শতকের দেখা পায়নি। তবে ১৬ বছর অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে মনে করিয়ে দিয়ে ম্যাচ জয়ী এক শতক হাঁকান হেড।
অজি এই বাঁহাতি ওপেনারের শতকেই ইনিংসের ৩৪তম ওভারে ভারতীয়দের কাঁদিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভীত গড়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। শেষদিকে শতকের পূরণের পর আরো মারমুখী হন হেড। ১২০ বলে ১৩৭ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে অজিদের শিরোপা নিশ্চিত করে শেষদিকে মাঠ ছাড়েন তিনি। হেডের শতকে ৪২ বল হাতে রেখেই ৪৩তম ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতল অজিরা।
এর আগে, টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন রোহিত শর্মা। তবে ভারতের অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে পারেননি শুভমান গিল। মিচেল স্টার্কের শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে সামনের পায়ের উপর ভর করে পুল করতে গিয়ে অ্যাডাম জাম্পার হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। গিলের ব্যাট থেকে এসেছে ৪ রান। গিল ফিরলেও রানের চাকা সচল রাখেন কোহলি এবং রোহিত। ইনিংসের অষ্টম ওভারে এসে প্রথমবার আক্রমণে স্পিনার হিসেবে ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে আসেন প্যাট কামিন্স।

প্রথম ওভারে সাফল্য না পেলেও নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট এনে দেন ম্যাক্সওয়েল। ডানহাতি এই অফ স্পিনারের পরের ওভারে টানা দুই বলে ছক্কা এবং চার মারেন রোহিত। পরের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে আবারও উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক। তবে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় ফিরে যেতে হয় হেডের দুর্দান্ত ক্যাচে। দারুণ ব্যাটিং করা রোহিতের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ বলে ৪৭ রান। চারে নেমে দ্রুতই ফিরে গেছেন শ্রেয়াস আইয়ার।
কামিন্সের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন ৪ রান করে। মাত্র ৫ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারানোর পর থেমে যায় ভারতের রান তোলার গতি। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন রাহুল এবং কোহলি। বাউন্ডারি না পেলেও নিয়মিত সিঙ্গেল নিতে থাকেন তারা দুজন। এদিকে ৫৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। এদিকে ৯৭ বল পর বাউন্ডারির দেখা পেয়েছে ভারত।

হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি কোহলি। ৬৩ বলে ৫৪ রান করা কোহলিকে থামিয়েছেন কামিন্স। তাকে বোল্ড করেন অজি অধিনায়ক। এরপর রাহুলকে সঙ্গ দিতে আসেন রবীন্দ্র জাদেজা। তবে এই জুটিকে থিতু হতে দেননি জশ হ্যাজেলউড। ৯ রান করা জাদেজাকে তিনি উইকেটের পেছনে জশ ইংলিসের ক্যাচ বানিয়েছেন।
রাহুল হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পর ৬৬ রান করে ফিরেছেন। তাকে আউট করে স্টার্ক। এই অজি পেসারের গুড লেন্থের বলে রিভার্স শট খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এরপর মোহাম্মদ শামিকেও আউট করেছেন স্টার্ক। খানিক বাদে অ্যাডাম জাম্পার শিকার হয়ে জসপ্রিত বুমরাহ এলবিডব্লিউ হলে ভারতের ইনিংস আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। ভারতের শেষ ভরসা সূর্যকুমার যাদব আউট হন মাত্র ১৮ রান করে। ফলে আড়াইশ রানের কোটা পার হতে পারেনি ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত- ২৪০/১০ (৫০ ওভার) (রোহিত ৪৭, গিল ৪, কোহলি ৫৪, রাহুল ৬৬; স্টার্ক ৩/৫৫)
অস্ট্রেলিয়া- ২৪১/৬ (৪৩ ওভার) (ওয়ার্নার ৭, মার্শ ১৫, হেড ১৩৭, ল্যাবুশেন ৫৮*)

১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা

দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। ফলে ব্যাংকগুলো নিয়মিত ঋণপত্র (আমদানি-এলসি) খুলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে বেশি দামে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার কেনার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এতে কিছুটা হলেও বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।
রোববার (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি নভেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১১৮ কোটি ৭৭ হাজার ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৩ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১১ টাকা ধরে)। সে হিসেবে দৈনিক আসছে ৬ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ১৭ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অ‌ক্টোব‌রে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে কমেছিল। ডলার সংকটের কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয়ে বড় হোঁচট খায়। ওই মাসে গত সাড়ে ৩ বছর বা ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় আসে বাংলাদেশে, যা পরিমাণে ১৩৪ কোটি ডলার। এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ১০৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চের পর থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে সংকট আরও প্রকট হয়। পরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন-অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এর ওপর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় তারা সভা করে ডলারের রেট নির্ধারণ করে আসছে।
সবশেষ ব্যাংকগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কেনার ক্ষেত্রে ডলারের ঘোষিত দাম ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজকে আন্তঃব্যাংকে ডলার লেনদেন হচ্ছে ১১১ টাকা। তবে কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনে চাইলে ব্যাংকের নিজস্ব প্রণোদনাসহ সর্বোচ্চ দাম হবে ১১৬ টাকা। তবে আমদানিকারকদের কাছে ব্যাংকগুলোকে ১১১ টাকায় বিক্রি করতে হবে; এর বেশি নেওয়া যাবে না।

নতুন ডেটা সেন্টার চালু করলো ডিএসই

অটোমেটেড ও নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ডেটা সেন্টার চালু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এটি ১০৬ র্যাক সম্বলিত অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার বলে রোববার ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারটি এরই মধ্যে এএনএসআই/টিআইএ-৯৪২, রেটেড-৩ (ডিজাইন এবং কন্সট্রাকশন) আন্তর্জাতিকমানের সনদ অর্জন করেছে। রেটেড-৩ ডেটা সেন্টারে পাওয়ার, কুলিং এবং অন্যান্য সিস্টেমগুলোকে অফলাইনে না নিয়ে এটিকে আপডেট এবং চলমান রাখার জন্য একাধিক পথ রয়েছে। যার ফলে, অ্যাপ্লিকেশন কার্যক্রম ব্যাহত না করে পরিকল্পনার ভিত্তিতে সরঞ্জাম/যন্ত্রপাতিগুলো সরানো/প্রতিস্থাপন/রক্ষণাবেক্ষণ করা যেতে পারে।

গত ১২ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে নতুন ডেটা সেন্টার থেকে ট্রেডিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, চালুর পর থেকেই নতুন ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে ট্রেডিং কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যা ডিএসই’র আরও একটি বড় অর্জন।

ডিএসই থেকে বলা হচ্ছে, নতুন ডেটা সেন্টারে আধুনিক প্রযুক্তির সার্ভার, নেটওয়ার্ক যন্ত্রাংশ, স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে। এ অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার চালু করার মাধ্যমে ডিএসই বিনিয়োগকারী এবং সব স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করেছে।

নতুন ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে লেনদেন শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, পরিচালক রুবাবা দৌলা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নতুন ডেটা সেন্টার চালু প্রসঙ্গে ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজ যে ডেটা সেন্টার চালু করা হলো এটি আন্তর্জাতিকমানের স্টেট অব দ্য আর্ট ডেটা সেন্টার। এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ডেটা সেন্টার চালুর মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিজিটালাইজেশনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। যার মাধ্যমে ডিএসই’র আইসিটি আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশে পদার্পন করলো।

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, নতুন ডেটা সেন্টার চালুর মাধ্যমে সাফল্যের আরও একটি মাইলফলক অর্জন করেছে ডিএসই। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মতিঝিল থেকে নিকুঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে ডিএসই’র ডেটা সেন্টার। এতে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রগতি আরও বৃদ্ধি পেল। ডেটা সেন্টার প্রবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশ করা ছাড়াও, ডিএসই’র ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম হবে আরও সুরক্ষিত। এর ফলে লেনদেনের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে একটি উন্নত ও আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে।

চাঁদপুরে পর্যটনের বড় অংশ হচ্ছে আধুনিক নৌ বন্দর: দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, চাঁদপুরে পর্যটনের যে পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তার একটি বড় অংশ হচ্ছে আধুনিক নৌ বন্দর। চাঁদপুরে দিনে ঢাকা থেকে সরাসরি এসে ভ্রমণ শেষে রাতে ফিরে যাওয়া যায়। এছাড়া নদীপথের যাত্রা অনেক নিরাপদ ও আরামদায়ক। এজন্য চাঁদপুরকে আমরা যতটা ভালো করতে পারি, সে উদ্যোগ রয়েছে।

রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, চাঁদপুর শহরের সড়কগুলো প্রশস্তকরণের জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। যদিও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পুরাতন সড়ক খুবই সরু। এ কারণে সড়ক প্রশস্তকরণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে দীপু মনি জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।

অতিরিক্ত জেলা (সার্বিক) প্রশাসক বশির আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায়, সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্লাহ প্রমূখ।

পশ্চিম তীরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি বাইডেনের

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকারী ‌চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একই সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানেও জোর দিয়েছেন তিনি।

গত ৭ অক্টোবর থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতীস্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। অব্যাহত হামলার পরই বাইডেনের কাছ থেকে এমন ঘোষণা এলো।

ওয়াশিংটন পোস্টে এক নিবন্ধে বাইডেন লেখেন, এটা খুবই পরিষ্কার যে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিরাপত্তা সংকটের অবসান একমাত্র একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে সম্ভব।

বাইডেন আরও লেখেন, আমি ইসরায়েলের নেতাদের জোর দিয়ে বলেছি, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরমপন্থি সহিংসতা বন্ধ করতেই হবে এবং যারা সহিংসতা চালাচ্ছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম তীরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকারী চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারিসহ নিজস্ব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রাতভর ইসরায়েলের বিমান হামলায় আরও দুই সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের প্রেস ফ্রিডম গ্রুপ এমএডিএ আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সারি মানসুর এবং হাসুনেহ সেলিম। সে সময়ই তারা হামলায় নিহত হন।

দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪২ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৯ জন ফিলিস্তিনি, চারজন ইসরায়েলি ও একজন লেবাননের নাগরিক।

দেশের উন্নয়ন দর্শনের মূল কারিগর বঙ্গবন্ধু : আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, দেশের উন্নয়ন দর্শনের মূল কারিগর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৯তম অধিবেশনে প্রথম বাংলায় ভাষণে বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সকল নেতৃত্বের প্রতি সকল সম্পদ, কারিগরি জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সবার জন্য সঠিক ও সমান ব্যবহার এবং প্রয়োগের মাধ্যমে মানবিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করার ওপর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আজ আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি (আইডিয়া) ফ্লোরে এটুআইয়ের উদ্যোগে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অংশীজনদের সাথে প্রয়োজনীয় উপদেশ, পরামর্শ, সুপারিশ, লিখিত ও মৌখিক প্রস্তাব প্রদান শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই দর্শন অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে দক্ষ মানবসম্পদ, সবার জন্য সুলভম্লূ্েয ইন্টারনেট, প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়া এবং আইসিটি শিল্পের বিকাশ ঘটানো এ ৪টি মূল লক্ষ্যেকে সামনে রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ও সহনশীল, সমাজ হবে উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই। পরে প্রতিমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে উপস্থিত অংশীজনদের প্রয়োজনীয় উপদেশ, পরামর্শ, সুপারিশ, লিখিত ও মৌখিক প্রস্তাব প্রদানের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, এসপায়ার টু ইনোভেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া প্রমুখ।

দল মনোনয়ন দিলে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে : তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে এলাকার জনগণ দলমত নির্বিশেষে আমাকে নির্বাচিত করবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে আজ রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মনোনয়ন ফরম কেনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত তিনবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এবারও যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি জনগণের জন্য আবারও কাজ করার সুযোগ পাব।
ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, আমি সারা বছরই আমার নির্বাচনী এলাকায় যাই, সব মানুষের পাশে থেকেছি। সারা বছর এত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও আমি নির্বাচনী এলাকায় প্রতি সপ্তাহে গিয়েছি। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সব মানুষের জন্য কাজ করেছি। দলের ঊর্ধ্বে উঠে, দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি আশা করি দল মত নির্বিশেষে সবাই আমাকে নির্বাচিত করবে।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা জানেন একটি দল নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন বর্জন যে কেউ করতে পারে। কিন্তু প্রতিহত করার অধিকার কারও নেই। নির্বাচনে প্রতিহত করার ঘোষণার মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তারাই ঘোষণা দিয়ে সারা দেশে আগুন সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আগুন সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

নির্বাচনে কেউ না এলে অপেক্ষা করা হবে না : শাহরিয়ার আলম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ আশা করে নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু কেউ যদি অংশগ্রহণ না করে, তবে তাদের জন্য অপেক্ষা করা হবে না।

আজ রোববার (১৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র ও নির্বাচন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক শ্যামল দত্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র একটি লম্বা যাত্রা এবং এই যাত্রায় সহযাত্রীদের মধ্যে মিল না থাকে, তবে বেশি দূর যাওয়া যায় না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এডিটরস গিল্ডের প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল বাবু বলেন, বাংলাদেশে প্রধান দল দুটি। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় এক দল যদি নির্বাচন বর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সত্যি যে, কিছু সংসদ সদস্য ভালো করছেন না।