মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভতি ১০৯৪ জন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন ঢাকার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা সিটির ২৫৩ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরে ৮৪১ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৭৯২ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩ লাখ ৯১ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৫৭৭ জন। এরমধ্যে ঢাকা সিটির ৯১৮ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরের ৬৫৯ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ জুন মাস থেকে শুরু হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর মে মাস থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আসামি ইনোসেন্ট, অপরাধী হলে চোখ দেখেই বুঝতাম : হাইকোর্ট

কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে করা মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আট সপ্তাহ পর ওই শিক্ষার্থীকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
জামিন মঞ্জুর করার সময় আদালত বলেন, দেখে মনে হয় শিশুশিক্ষার্থী সহজ-সরল, ইনোসেন্ট। সে রকম হলে (অপহরণকারী) আমরা চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারতাম।
বুধবার (২২ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।
আদালতে শিক্ষার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সোহেল ও অ্যাডভোকেট কাজী আমজাদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কেএম মাসুদ রুমী।
আদালত প্রথমে ছয় সপ্তাহের জামিন দিতে চেয়েছিলেন। তখন বলা হয়, সামনে তার বার্ষিক পরীক্ষা। পরে আদালত তার আট সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আদালত বলেন, তোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলাম যেখানে, সেখান থেকে সরলে কেন? তখন শিক্ষার্থী কোনো শব্দ করেনি। এরই এক পর্যায়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নথি দাখিল করেন আইনজীবী। নথি দেখে আইনজীবীকে আদালত প্রশ্ন করেন, আগে কেন এই নথি জমা দেননি? এটা ঠিক করেননি। এখন এটা কোথায় পেলেন? কখনো এমন কাজ করবেন না। আদালতের কাছে কোনো তথ্য গোপন করবেন না।
এরপর আদালতের পেছনে থাকা তার বাবা ও চাচাকে ডেকে সামনে নিয়ে আসেন বিচারক। হাইকোর্ট বলেন, আমরা এ ছেলের সাথে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলে জানতে পেরেছি, সে সত্যিকার কোনো দোষ করেনি। এখানে বলা হয়েছে, উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে ভিকটিমকে সিগারেট, গাঁজা ইত্যাদি সেবন করানো হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি বা অনেক সময় দেখা যায় ভিকটিমকে নিয়ে ছবি তুলে পাঠিয়েছে, রাস্তায় ইভটিজিং করেছে, কিন্তু বলা হয়েছে, তাকে রাস্তা থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে। এর আগে তার দুলাভাইকেও এভাবে তুলে নিয়েছিল। সকালে তুলে নিয়ে গেছে, সন্ধ্যার পর রাস্তার ওপর ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। কখন কোথায় এবং কীভাবে মেইন রাস্তার ওপরে নামিয়ে দিয়েছে।
আদালত বলেন, এসব দেখে এবং ছেলের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, সে ইনোসেন্ট ছেলে। সে রকম কিছু হলে আমরা চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারতাম। অপরাধীদের কথা থাকে অন্যরকম।
কিশোরকে আদালত প্রশ্ন করেন, তোমার বাবা এলাকায় ঘুরে ঘুরে হাঁস-মুরগি বিক্রি করেন। তুমি ভালো ছেলে। লেখাপড়া করতে চাও? জবাবে শিক্ষার্থী বলে, হুম। তখন উপদেশ দিয়ে হাইকোর্ট বলেন, তোমার সামনে অনেক সুযোগ। পড়ালেখা করে বড় হতে হবে। তোমাদের মতো ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে। আশা করি তুমিও লেখাপড়া শিখবে। লেখাপড়া শিখে যদি বড় অফিসার হও, আমরা বেঁচে থাকি, আশা করি তুমি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসবে।
আদালত বলেন, আমরা তোমার জন্য দোয়া করি। তুমি কোনো টেনশন নিয়ো না। এটা কোনো ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে।
গত ১২ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অষ্টম শ্রেণির ওই কিশোর ও তার সহপাঠীদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন এক মেয়ে শিক্ষার্থীর মা। মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করা হয়। মামলায় আগাম জামিন নিতে আদালতে এসেছিল কিশোর। ওই কিশোরের বাবা আমির হোসেন ফেরি করে হাঁস-মুরগি বিক্রি করেন। এক রুমের বাসায় স্ত্রী ছেলেমেয়েসহ পাঁচজন বসবাস করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে ওই শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীর বাবা ও চাচার বক্তব্য শোনেন আদালত। প্রাথমিকভাবে আদালতের কাছে মনে হয়েছিল, ওই কিশোর শিক্ষার্থী অপরাধী। পুরো শুনানিকালে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখেন আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশে বিচারিক আদালত থেকে মেয়ে সহপাঠীর জবানবন্দি আনা হয়।
সেই জবানবন্দি পড়ে হাইকোর্ট জানান, কিশোর শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে বলে তাদের কাছে মনে হয়নি। যে ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়েছে। পরে পরীক্ষার্থী বিবেচনা করে ওই কিশোরকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে ওই কিশোরের উদ্দেশে আদালত বলেন, তুমি চাইলে বড় পুলিশ অফিসার হতে পারবে। তোমার বাবা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মুরগি বিক্রি করেন, কত কষ্ট করে টাকা উপার্জন করেন। বাবা-মায়ের কথা মতো চলতে হবে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে।

১৩ ঘণ্টা পর সিলেটের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

১৩ ঘণ্টা পর সিলেটের সাথে ঢাকা-চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের রাদগাঁওয়ে তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুত ওয়াগন দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
বুধবার (২২ নভেম্বর) রাত ৮টায় বাহুবল উপজেলার রাদগাঁও এলাকায় সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের দুটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
রাত আড়াইটায় আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দীর্ঘ ১৩ ঘন্টা চেষ্টা পর বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বগিগুলি উদ্ধার করে। পরে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং সিলেটের সাথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

‘এক ইঞ্চি জায়গাও উচ্চগতির ইন্টারনেটের আওতার বাইরে থাকবে না’

দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযুক্তির আওতার বাইরে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য দেশের প্রতিটি মানুষকে ইন্টারনেট সংযুক্তির আওতায় আনতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট সংযুক্তি অপরিহার্য। লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযুক্তির আওতার বাইরে থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সব নাগরিককে ক্ষমতায়িত করতে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৬ সালে দেশে প্রতি এমবিপিএস ইন্টানেটের দাম ছিল ৭৮ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে তা ২৭ হাজার টাকা এবং বর্তমানে তা ৬০ টাকায় নেমেছে। সেসময় দেশে মাত্র সাড়ে ৭ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ৪১০০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টু-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করেন। তার হাত ধরেই ২০১৩ সালে থ্রি-জি, ২০১৮ সালে ফোর-জি এবং ২০২১ সালে ফাইভ-জির যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আবদুস সালাম, অ্যামটবের জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) মোহাম্মদ জুলফিকার প্রমুখ।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিচারে সরকার হস্তক্ষেপ করছে না: আইনমন্ত্রী

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিচার কার্যক্রমে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। এই ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয় না।’

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোনো মামলার বিচার কার্যক্রমে কোনো হস্তক্ষেপ নেই। এর বেশি কিছু বলবো না, কারণ সব মামলাই বিচারাধীন। আমি কোনো বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করি না।’

অনেকে অভিযোগ করে বলছেন সরকারের চাপে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জামিন হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এই ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয় না। এর থেকে আর বেশি কিছু বলতে চাই না। তার কারণ এখনতো এগুলো সাবজ্যুডিস ম্যাটার, আপনারা জানেন সাবজ্যুডিস ম্যাটারে আমি কখনো কোনো কথা বলি না।’

একজন মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামির জামিন জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি এবং দেখেছি। আশা করি এটার ব্যাপারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোন বিষয়ে কথা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরু। এই কারণে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ কি না জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি আইনমন্ত্রী।

বিধি বহির্ভূত পদোন্নতি: ডিএসইর দুই কর্মকর্তার পদাবনতি

অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রায় এক বছর পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রভাবশালী দুই কর্মকর্তার পদাবনতি করা হয়েছে।

দুই কর্মকর্তা হলেন- সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. ছামিউল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আসাদুর রহমান। এ দুজনকে জেনারেল ম্যানেজার পদে অবনতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নজিরবিহীন এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ দুই কর্মকর্তার পদ অবনমন করে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এম সাইফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত দুইটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (২২ নভেম্বর) বিএসইসি থেকে নির্দেশনা দেওয়ার পর ওই দিনই ডিএসই বোর্ডসভা করে এ দুই কর্মকর্তাকে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে আগের পদে ফেরানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএইর অর্গানোগ্রামে না থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছামিউল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আসাদুর রহমানকে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার পদে পদোন্নতি দেয় ডিএসইর বোর্ড। সামিউল ইসলাম ডিএসইর মার্কেট ডেভলপমেন্ট এবং আসাদুর রহমান কোম্পানি সচিব এবং এইচ আর ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী অর্গানোগ্রামে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার পদ না থাকলেও নতুন পদ সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

বিষয়টিকে বিধি-বহির্ভূত ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে চিঠি দেয় বিএসইসি। সাতদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘন করে ডিএসই তার কতিপয় কর্মকর্তাকে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার পদে পদোন্নতি দিয়েছে। যেসব কর্মকর্তাকে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার পদে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়েছে, তাদের পদ অবনমন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

পাশাপাশি চিঠিতে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার পদে পদোন্নতি ও পদায়নপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া যাবতীয় বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদি অবিলম্বে বন্ধকরণ এবং আর্থিক সুবিধাদি আদায় করে ডিএসইর হিসেবে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিএসইসির এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইর দুই কর্মকর্তাকে পদ অবনমন করা হয়েছে। ডিএইর দুই কর্মকর্তাকে জেনারেল ম্যানেজার পদে বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি মোহাম্মদ আসাদুর রহমানকে কোম্পানি সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।

নিজেদের কার্যালয়ের তালা খোলার মানুষও খুঁজে পাচ্ছে না বিএনপি

বিএনপি বলেছিল তাদের জোটের সঙ্গীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সঙ্গীরাই তাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বুধবার মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বে কয়েকটা দল তাদের জোট থেকে বের হয়ে গেছে। নয়াপল্টনের কার্যালয়ে তালা সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ লাগায়নি। বিএনপি নিজেদের লাগানো তালা নিজেরাই খোলার জন্য একজন মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না। যে দল নিজেদের কার্যালয়ের তালা খোলার জন্য একজন মানুষ পর্যন্ত খুঁজে পায় না, তাদের মুখে দুর্বার আন্দোলনের ঘোষণায় লোকজন হাসছে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাঙ্গুনিয়া সদরের অ্যাডভোকেট নুরুচ্ছফা তালুকদার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক এম. ইসকান্দর মিয়া তালুকদার।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসরায়েল ১৪ হাজার মানুষ মেরে ফেলেছে, তার মধ্যে সাড়ে ৯ হাজার শিশু এবং নারী। ইহুদিরা কিংবা ইসরায়েলিদের যারা মদত দেয় তারা রাগ করবে বলে বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি, একটি কথাও বলেনি। তাদের ওপর আল্লাহর আরশের গজব নাজিল হয়েছে। অথচ গাজায় শিশু ও নারীদের হত্যার বিরুদ্ধে তেলআবিবে স্বয়ং ইহুদিরাই প্রতিবাদ জানিয়েছে, মিছিল করেছে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন। আমি প্রতিদিন দল ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য অনেক অপচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে সেটি অভাবনীয়। বিএনপি এখন ইঁদুরের ন্যায় গর্তে ঢুকে গেছে। গর্ত থেকে উপরের দিকে উঁকি দিয়ে কদিন পরপর কর্মসূচি দেয়। তাদের কর্মসূচি কী? গাড়ি পোড়ানো, মানুষ পোড়ানো এবং স্কুলে আগুন দেওয়া। তাই তাদের সঙ্গে এখন আর মানুষ নেই।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পানির নিচ দিয়ে এভাবে টানেল নেই, কক্সবাজারেও ট্রেন গেছে। আজ থেকে ১৩৩ বছর আগে কক্সবাজারে ট্রেন নেওয়ার জন্য সমীক্ষা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেটি বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতু দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ওপারে গিয়ে বক্তব্য দেন দেশে কিছুই হয়নি। একইভাবে বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে কিংবা ট্রেনে চড়ে কক্সবাজারে যাবেন তারাও। তবে তাদের উচিৎ হবে তওবা করে টানেল ও ট্রেনে চড়া।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সদস্য সচিব এস এম আবুল ফজল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার রশীদ আহমদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি এম হারুণ উর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ শফিউল আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চিশতি, পৌর মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, মুহাম্মদ আালী শাহ, ইদ্রিস আজগর, বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, আকতার হোসেন খান, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার প্রমুখ।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত : কাদের

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৭২ আসনের নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে তেজগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সেতুমন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ও রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন তা বলেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সেতুমন্ত্রী বলেন, ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর সব নাম একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ৩০ তারিখ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগেই নাম প্রকাশ করা হবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচনকে গ্রহণ করেছে। যে কারণে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ দৃশ্যমান।
এর আগে সকাল ১০টায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।
দুই বিভাগে ৭২টি আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের পদপ্রার্থীরা ৭১১টি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৪০৯টি এবং রংপুর বিভাগে ৩০২টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে।
আওয়ামী লীগ গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চারদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৩০০ আসনের জন্য ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। এতে দেখা যায় প্রতিটি আসনের বিপরীতে ১১টি করে ফরম বিক্রি হয়েছে।
প্রতিটি ফরম ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বিক্রি করে আওয়ামী লীগ মোট ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় করেছে।

গাজায় নিহত শিশুর সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গত দেড় মাসের অভিযানে নিহত শিশুদের সংখ্যা ৬ হাজার এবং নারীদের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মোট নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৪ হাজার ৫৩২ জনে।
এই নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৩৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই আহতদের মধ্যেও নারী ও শিশুদের হার ৭৫ শতাংশের ঊর্ধ্বে।
সাধারণ ফিরিস্তিনিরা ছাড়াও গত দেড় মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ২০৫ জন ডাক্তার-নার্স-চিকিৎক, ২৫ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং ৬৪ জন সাংবাদিক।
বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে গাজার প্রশাসনিক কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর গত দেড় মাসের গোলা বর্ষণে উপত্যকার ৪৫টি বাসভবন ১০২টি সরকারি ভবন, ২৬৬টি স্কুল এবং ৮৫টি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার বাসভবন, ১৭৪টি মসজিদ এবং ৩টি গির্জা।
এছাড়া গাজার ২৬টি হাসাপাতাল এবং ৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে প্রশাসনিক কার্যালয়।
গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরায়েলে প্রবেশ করে নির্বিচারে সামরিক-বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করে তারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।

ইসরায়েলি হামলা, একই পরিবারের অর্ধশতাধিক নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় একই পরিবারের অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকি জানিয়েছেন, বুধবার সকালে গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলার ঘটনায় নিহত ৫২ জন একই পরিবারের সদস্য।
তিনি বলেন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে কাদুরা পরিবারের ৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে নিহতদের নামের তালিকা রয়েছে। ওই পরিবারের দাদা থেকে শুরু করে তাদের নাতি-নাতনি সবাই নিহত হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সে সময় দুই শতাধিক মানুষকে জিম্মি হিসেবে অপহরণ করা হয় এবং ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এরপরেই গাজায় পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় হামলা চলছেই। সেখানে ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ সংগঠনের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের বেইত ইয়াহুন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হন তারা। শিয়া ইসলামি সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।