সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

দ্য আর্চিজের নাম বুকে সেঁটে মেয়ের ছবির প্রিমিয়ারে শাহরুখ

প্রতি বছরই কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী মঞ্চ আলোকিত করেন তিনি। তবে এবার কিফে গরহাজির থাকলেন শাহরুখ খান। কেন? কারণ আজ তাঁর হৃদয়ের টুকরো মেয়ের জীবনের অন্যতম খাস দিন! জোয়া আখতারের ‘দ্য আর্চিজ’-এর সুহানা পা রাখছেন বলিউডে। সেই ছবির তারকাখচিত প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হল এদিন।
বুধবার রাতে গোটা বলিউড কার্যত একজোট হল শাহরুখ কন্যা আর বচ্চনের নাতির ডেবিউ ছবির প্রিমিয়ার শো দেখতে। এদিন রেড হট গাউনে দ্যুতি ছড়ালেন শাহরুখ তনয়া। মেয়ের ছবির প্রিমিয়ারে অল ব্ল্যাক লুকে হাজির শাহরুখ-গৌরী-আব্রাম। সুহানার দাদা আরিয়ানের পরনে ছিল কালো জিনস, টিশার্ট আর মেটে রঙা লেদার জ্যাকেট।
এদিন সবার নজর কাড়ল শাহরুখের টি-শার্ট, হাতে বড়বড় হরফে রয়েছে মেয়ের ছবির লোগো। দ্য আর্চিজের নাম বুকে সেঁটে ছবির প্রিমিয়ারে বুক ফুলিয়ে হাঁটলেন শাহরুখ। তিন দশক আগে এই দিনটা পেরিয়ে এসেছেন তিনি। মেয়ের অন্দরের অনুভূতিটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন। ‘শাহরুখ কন্যা’ হওয়ার চাপ থেকে মেয়েকে বাঁচতে টিপস দিতেও ভুলছেন না। এই ছবিতে আর্চিজের লেডি লাভ ভেরোনিকার চরিত্রে রয়েছন সুহানা।

এদিন শক্ত করে মেয়ের কাঁধ ধরে রাখলেন শাহরুখ। সাহস জোগালেন সাফল্যের পথে এগিয়ে চলার। সুপারস্টার শাহরুখ এদিন বাবা হিসাবে মন কাড়লেন নেটিজেনদের।
এই ছবিতে সুহানার নায়ক অর্থাৎ জোয়ার আর্চি বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দা। অগস্ত্যর সাপোর্টে এদিন দেখা মিলল গোটা বচ্চন পরিবারের। ঐশ্বর্য-অভিষেকের ডিভোর্স নিয়ে রীতিমতো হইচই সোশ্যালে। সেই বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এদিন অগস্ত্যর পাশে তাঁর মামিমা।বচ্চনের নাতির ডেবিউ ছবির প্রিমিয়ারে পৌঁছেছিলেন রেখাও।
এছাড়াও দেখা মিলল করণ জোহর, ববি দেওল, রণবীর কাপুর, নীতু কাপুর, রণবীর সিংরাদের। শাহরুখের ঘনিষ্ঠ দুই বান্ধবী জুহি চাওলা ও কাজলও পৌঁছেছিলেন দ্য আর্চিজের প্রিমিয়ারে।
জোয়া আখতারের এই ছবির সঙ্গে অভিনয়ের দুনিয়ায় পা দিচ্ছেন আরও এক স্টার কিড, শ্রীদেবী-বনি কাপুরের ছোট মেয়ে খুশি কাপুর। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে ৭ই ডিসেম্বর মুক্তি পাবে ‘দ্য আর্চিজ কমিকস’ অবলম্বনে তৈরি এই ছবি। ‘দ্য আর্চিজ’ গ্যাং-এ সুহানা,অগস্ত্য ও খুশির সঙ্গে থাকছেন মিহির অহুজা, যুবরাজ মেন্দা এবং বেদং রায়না। ‘দ্য আর্চিজ’ প্রযোজনার দায়িত্বে থাকছে জোয়া আখতার ও রীমা কাগতির ‘টাইগার বেবি ফিল্মস’।

টিসিবির জন্য ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার

রোমানিয়া থেকে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে প্রায় ১৫৫ টাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে বিক্রির লক্ষ্যে এ তেল কেনা হবে।
এর আগে ভারত থেকে প্রায় একই দামে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেলা কেনা হয়। ভারতের গ্রিন নেশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারসের কাছে থেকে এ সয়াবিন তেল কেনার পর এবার রোমানিয়ার অ্যালোনাইট মেডিটাইম অ্যান্ড ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড অ্যান্ড মার্ক এক্সিম লিমিটেড থেকে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আজ বুধবার (৬ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।
তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল রোমানিয়ার অ্যালোনাইট মেডিটাইম অ্যান্ড ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড অ্যান্ড মার্ক এক্সিম লিমিটেডের কাছ থেকে কেনার অনুমোন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২৮৩ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৪ টাকা ৬২ পয়সা।
এর আগে গত ২২ আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ভারতের গ্রিন নেশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারসের কাছ থেকে কেনার অনুমোন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ১৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের খরচ ধরা হয় ১৫৪ টাকা ৬০ পয়সা।
তার আগে গত ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টিসিবির জন্য ৩৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সয়াবিন তেল এবং মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭৭ কোটি ১৪ লাখ ৫০ টাকার তেল এবং ২৬৭ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকার মসুর ডাল ছিল।
টিসিবির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এমএস রয় ট্রেডার্ডের কাছ থেকে ৬০ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে ৭৭ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১১ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডলা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ১০০ টাকা কেজি দরে এ ডাল কিনতে মোট খরচ ধরা হয় ১১০ কোটি টাকা। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিকেজি ১০২ টাকা ১৩ পয়সা হারে এ মসুর ডাল কিনতে মোট খরচ ধরা হয় ৯৭ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ভয়ংকর ক্ষুধা সংকটের মুখে গাজা : জাতিসংঘ

ফের লড়াই শুরু হওয়ায় গাজা ভয়ংকর ক্ষুধা সংকটে পড়তে পারে বলে জানালো জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম।
সাত দিন ধরে যুদ্ধবিরতি ছিল। তখন গাজায় কিছু ত্রাণসামগ্রী ঢুকেছে। তা বিতরণ করার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডাব্লিউএফপি) জানিয়েছে, দুঃখের বিষয় হলো, এই বিষয়ে যতটা এগোনো জরুরি ছিল, তা হয়নি।
তারা জানিয়েছে, নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার ফলে ত্রাণ বিতরণ করা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে কর্মীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এর ফলে বেসামরিক সাধারণ মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। গাজায় ২০ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার সম্বল হলো এই ত্রাণের খাদ্যশস্য।
ডাব্লিউপিএফ বলেছে, আমাদের কর্মীদের জন্য গাজা ভূখণ্ডে নিরাপদ, বাধাহীন ও দীর্ঘকালীন যাতায়াতের ব্যবস্থা চাই। তাহলেই তারা মানুষের কাছে জীবনদায়ী ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারবে। একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী শান্তি হলেই এই মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। ডাব্লিউপিএফ তাই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি চায় এবং সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধান চায়।
যারা মুক্তি পেয়েছেন এবং যারা এখনো হামাসের হাতে বন্দি, তাদের ও তাদের পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। গত দুই মাসের মধ্যে এটাই প্রথম বৈঠক। এই বৈঠকে যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, আমি এমন কাহিনী শুনেছি, যাতে আমার মন ভেঙে গেছে। আমি ক্ষুধা ও তৃষ্ণার, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের কাহিনী শুনেছি। যৌন নির্যাতন ও ভয়ংকর ধর্ষণের কথাও শুনেছি। মুক্তি পাওয়া পণবন্দিরা এই কাহিনী শুনিয়েছেন।
ইসরায়েলের মিডিয়া জানিয়েছে, এই বৈঠকে যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল এবং শেষের দিকে প্রায় অর্ধেক মানুষ বৈঠক ছেড়ে চলে যান।
দানি মিরানের মেয়ে এখনো হামাসের হাতে বন্দি। তিনি ইসরায়েলের টেলিভিশনে বলেছেন, আমি বৈঠকে কী হয়েছে তা বিস্তারে বলব না। শুধু এইটুকু জানাব, পুরোটা ছিল কুৎসিত, অপমানকর এবং অগোছালো।
তিনি বলেছেন, সরকার দাবি করছে, তারাই সবকিছু করেছে। কিন্তু হামাস নেতা ইহাইয়াল সিনওয়ার আসলে আমাদের মানুষদের ফেরত দিয়েছেন। যখন সরকার দাবি করছে, তাদের নির্দেশে সবকিছু হয়েছে, তখন আমরা রাগ সামলাতে পারিনি। ওরা একটাও নির্দেশ দিতে পারেনি।
জেনিফারের পার্টনার অ্যান্ড্রে এখনো বন্দি। তিনি জানিয়েছেন, বৈঠক ছিল রীতিমতো উত্তেজক। অনেকেই সেখানে চিৎকার করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল আক্রমণ করে হামাস ভয়ংকর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। বিশ্ব এটাকে উপেক্ষা করতে পারে না। সব সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ীদের এই যৌন নির্যাতনের নিন্দা করতে হবে।

নির্বাচনের পর শ্রম আইন সংশোধন : আইনমন্ত্রী

নির্বাচনের পর নতুন সংসদ অধিবেশনে শ্রম আইনের ত্রুটি সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শ্রম আইন যখন সংসদে পাস হয়, পাস করার আগে এটি যখন সংসদে যায়, তখন একটা ত্রুটি ছিল। দেখা গেছে, এটা অন্য কোনো ত্রুটি নয়, এটা টাইপিংয়ের ত্রুটি। সেটি হচ্ছে, এক জায়গায় শ্রমিকদের সঙ্গে যদি মালিকরা বেআইনি আচরণ করেন, তাহলে তাদের জন্য একটি সাজার কথা আইনের মধ্যে আছে। সেটি একটু মিসপ্লেস হয়ে গিয়েছিল। যেটা ২৯৪ ধারার সঙ্গে এক হওয়ার কথা ছিল, সেটি সেরকম না হয়ে, অন্যরকম হয়েছে।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, গত সংসদে অনেকগুলো বিল খুব তাড়াতাড়ি পাস হয়েছিল। সে কারণে এ ভুলটা পরে ধরা পড়েছে। যে কারণে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে জিনিসটা রাষ্ট্রপতির কাছে সইয়ের জন্য গেছে, তখন এটা যেহেতু পরিলক্ষিত হয়েছে যে, শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে যেতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ভুলের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
তখন আইন অনুসারে বিলটিতে সই না করে আবার জাতীয় সংসদে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, যেহেতু এটি সংসদে পাস হয়ে গেছে এবং এই জায়গাটুকু সংশোধন করতে হবে। আইনটি সংশোধনের জন্য আবার সংসদে যেতে হবে।
আনিসুল হক বলেন, তার মানে হচ্ছে, যেহেতু এখন তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে এবং বর্তমান সংসদের আর অধিবেশন হবে না, সেহেতু নির্বাচনের পর যে নতুন সংসদ বসবে, সেখানে এটা উপস্থাপন করা হবে। পরে ভুল সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকার যখন দেখতে পেল যে, শ্রমিকদের যে অধিকার দেওয়া হয়েছিল তাতে কিছু ত্রুটি হয়ে গেছে এবং সেটি শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করবে, এজন্য সরকার এটা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি তার আইনি বিচারে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন এটা জাতীয় সংসদে পাঠানোর জন্য যেটা করা হবে, সেটি হচ্ছে আবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, আইনটিতে মালিকদের কিছু আচরণের বিষয়ে ব্যাখ্যা করে দেওয়া আছে। বলা আছে, মালিক কোনো বেআইনি লকআউট শুরু করলে কিংবা চালিয়ে গেলে, অথবা তা এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করলে তিনি ছয়মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন, এই সাজাটা ছিল পাঁচ হাজার টাকা, কিন্তু এটা ২০ হাজার টাকা করেছি। এখানেই ত্রুটিটা হয়ে গেছে। এই ত্রুটি যখন শ্রম মন্ত্রণালয় ধরতে পেরেছে, তখন এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতি এটিকে ফেরত দিয়েছেন।

খুলনা-যশোর-মোংলা রুটে চলবে ৩ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন : রেলমন্ত্রী

যাত্রী সুবিধার কথা বিবেচনা করে খুলনা-যশোর-মোংলা রুটে তিন জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আগে গত ২ নভেম্বর খুলনা-মোংলা নতুন সেকশন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পথে আগামী এক জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
আজ বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রেল ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
তিনি বলেন, খুলনা-যশোর-মোংলা রুটে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। এ পথে কমিউটার ট্রেন চালানো হবে। ট্রেনগুলোর নম্বর হবে ১১৩-১১৮। এর মধ্যে খুলনা-যশোর পথে একজোড়া এবং যশোর-মোংলা পথে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করবে।
খুলনা থেকে ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টায়, যশোর পৌঁছাবে সকাল ৭টা ১০মিনিটে, যশোর থেকে ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে এবং খুলনা পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে। মোংলা থেকে ট্রেন ছাড়বে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে, ট্রেনটি যশোর স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে, সেখান থেকে ১টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন ছেড়ে মোংলা পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে।
অন্যদিকে মোংলা থেকে ট্রেন ছাড়বে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে, যশোর পৌঁছাবে বিকেল ৭টা ১০ মিনিটে, যশোর থেকে বিকেল ৭টা ৪০ মিনিটে ট্রেন ছেড়ে খুলনা পৌঁছাবে রাত ৯টায়।
যশোর থেকে মোংলা পর্যন্ত এ ট্রেনের ভাড়া ধরা হয়েছে, শোভন সাধারণ ১২৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৫০ টাকা ও প্রথম শ্রেণির সিট ২০০ টাকা।

নির্বাচন অস্থিতিশীল করার জন্য একটি পক্ষ সচেষ্ট থাকে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নির্বাচন অস্থিতিশীল করার জন্য সবসময়ই একটি পক্ষ সচেষ্ট থাকে। তা যেন না হয়, এ জন্যই নির্বাচন কমিশন থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৫২ বছর’ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর অন্তরালে বিপত্তি ঘটানোর, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য একটি পক্ষ অনেক পন্থা অবলম্বন করে। সে ধরনের কোনো ঘটনা যাতে কেউ না ঘটাতে পারে এজন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যারা আছেন তারা অত্যন্ত দক্ষ। প্রতিনিয়তই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা আটক করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময়ই তাদের চিহ্নিত করে আসছি, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাদের বেশির ভাগই এখন জেলখানায়, নাহয় দেশত্যাগ করেছে। বিদেশে যারা আত্মগোপন করেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি। এরই মধ্যে কয়েকজনকে আনাও হয়েছে।
সীমান্তে অস্থিরতা নিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, সীমান্তে হত্যার সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এ নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়েও মিটিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, সীমান্তে নন লিথ্যাল অস্ত্র ব্যবহার করার।
নির্বাচন উপলক্ষে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী সব সময়ই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজ করছে। যাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী প্রণয় কুমার ভার্মা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমিরেটাস অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলবে আরেক জোড়া নতুন ট্রেন

ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে আরেক জোড়া নতুন ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এ ট্রেনের রেক তৈরি করা হবে কোরিয়ান কোচ দিয়ে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি শুরু করতে পারে।
আজ বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, পর্যটকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে সদ্য আমদানি করা কোরিয়ান কোচ দিয়ে আরেক জোড়া ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করা যেতে পারে।
নতুন এ ট্রেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তিনটি। নামগুলো হলো পালংকি এক্সপ্রেস, তরঙ্গ এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। নতুন এ ট্রেনের নাম্বার হবে ৮১৫ এবং ৮১৬। ট্রেনটি ৩২টি বগির ওপর ১৬টি কোচ নিয়ে চলবে। ট্রেনের আসন সংখ্যা হবে ৭৮০টি। রোববার থাকবে ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি (৮১৫) কক্সবাজার থেকে ছাড়বে রাত ৮টায়। চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে এবং ছাড়বে ১১টা ১৫ মিনিটে। ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে ও ছাড়বে ৩টা ৫৩ মিনিটে এবং ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৪টায়।
অন্যদিকে ৮১৬ নাম্বার ট্রেনটি ঢাকা ছাড়বে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে। বিমানবন্দর স্টেশন পৌঁছাবে ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে ও ছাড়বে ৬টা ৪৩ মিনিটে, চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ও ছাড়বে ১১টা ৪০ মিনিটে এবং কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ৩টায়।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ১৬ হাজার

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হাজার ২৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশু সাত হাজার ১১২ জন। নারী রয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫ জন।
এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছে ৪৩ হাজার ৬১৬ জন। সেইসঙ্গে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১৫ লাখের বেশি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে ২৮৬ জন মেডিক্যাল পরিষেবা কর্মী। যাদের মধ্যে চিকিৎসকও আছেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা ৮১ জনে পৌঁছেছে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে এ যুদ্ধ গত ২৪ নভেম্বর প্রথমবারের মতো চারদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। দুই ধাপে তা তিন দিন বাড়ানো হয়। তবে গত শুক্রবার সকালে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের তুমুল লড়াই শুরু হয়েছে।

জাহাজ চলাচল বন্ধ, সেন্টমার্টিনে শতাধিক পর্যটক আট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপটিতে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী।
তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। তবে সেন্টমার্টিনে কত সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করছেন তা জানা নেই।
এদিকে জাহাজ মালিকদের সংগঠন স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, মঙ্গলবার তিনটি জাহাজে করে ৭ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিনে যান। তার মধ্যে শতাধিক পর্যটক ফেরেননি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। তখন সেন্টমার্টিনে থাকা পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।
এর আগে, ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ এর কারণে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।

উখিয়া ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত ৪ রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ৮টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ ব্লক জি/৬ এর মো. শফিকের ছেলে আনোয়ার সাদেক (১৭), ক্যাম্প-১৫ ব্লক জি/৩ এর কামাল উদ্দিনের ছেলে জয়নাল উদ্দিন (২৭), ক্যাম্প-১ ইস্ট ব্লক-জি/১২ এর মনি উল্লাহর ছেলে ইমাম হোসেন (৩০) ও ক্যাম্প-১৭ এর আবুল বশরের ছেলে আবুল কাসেম (৩০)।
গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসাইন।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলির ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য এসব মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ এর জি/৩ ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) বাহিনীর প্রায় ৩০-৪০ জনের জড়ো হয়। এ সময় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি হয়। এই দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হন।
খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুই গ্রুপের সদস্যরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
একই সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৭ এর সি/৭৭ ব্লকে আরসার ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল আবুল কাসেম নামে এক রোহিঙ্গাকে আরএসওর সোর্স সন্দেহে গুলি করে হত্যা করে।