শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে আওয়ামী লীগ : শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিল। যারাই নৌকায় ভোট দিয়েছিল তারাই নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে পাঁচ জেলার নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়েছিল। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে; এই প্রত্যয় নিয়েই সংগ্রাম করেছি। অনেক সংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের পার করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে, কারাগারে যেতে হয়েছে। তারপরও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ২১ বছর পরে ক্ষমতায় আসি। জনগণের সেবক হিসেবে যাত্রা শুরু করি। ৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল ৭৫-এর পরে বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ।
তিনি বলেন, আমরা খাদ্যসেবা নিশ্চিত করি, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিই, শিক্ষার ব্যবস্থা করি, বিনামূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থা করি। আমরা এ দেশের রাস্তাঘাট-পুল ব্রিজ নির্মাণের কাজ হাতে নিই, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করি। ১৬০০ থেকে ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করি। প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেব সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ, একটা বড় দেশ থেকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব ছিল, আমি বলেছিলাম এটা জনগণের সম্পদ আমি বিক্রি করতে পারি না। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কত মানুষকে হত্যা করেছে তার কোনো হিসাব নেই। আমাদের মা-বোনদের ওপর পাকিস্তানিরা যেভাবে নির্যাতন করেছে, সেভাবেই নির্যাতন করেছে। সেইসময় ফাহিমা, মহিমা, রুমা আত্মহত্যা করে নিজেদের ইজ্জত বাঁচান। এ রকম একটা তাণ্ডব শুধু নয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন বাংলাদেশ ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। পাঁচ বার দুর্নীতিতে তারা বিশ্বে এক নম্বর হয়েছিল। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বাংলা ভাই, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, আমাদের কত নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে তার হিসাব নেই। আমরা নিজেই বারবার তাদের হাতে আক্রমণের শিকার হয়েছি। তারপরও আমরা কিন্তু দমে যাইনি। বরং এগিয়ে গিয়েছি। আমি তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, এত বাধা বিপত্তি, অত্যাচার, নির্যাতন, সবকিছু সহ্য করে নেতাকর্মীরা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন।

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন রাশমিকা

রাশমিকা মান্দানা। দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘গীত গোবিন্দম’ এবং ‘কিরিক পার্টির’ মতো সিনেমাতে অভিনয় করে তার অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘অ্যনিম্যাল’ সিনেমা।
দক্ষিণী পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত সিনেমাটিতে রণবীর কাপুরের বিপরীতে দেখা গেছে রাশমিকাকে। সিনেমা বক্স অফিসে হিট। ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ৯০০ কোটির উপর ব্যবসা করে ফেলেছে এই সিনেমা। দক্ষিণী বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন গত কয়েক বছরে। গত কয়েক বছরে বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার তাগিদে পরিশ্রম করছেন রাশমিকা।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘গুডবাই’ সিনেমাতে কাজ করে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেছেন রাশমিকা। তার পরে জুটি বেঁধেছেন সিদ্ধার্থ মলহোত্রের সঙ্গে ‘মিশন মজনু’ সিনেমাতে। দুটোই ব্যর্থ বক্স অফিসে, তবে ‘অ্যানিম্যাল’–এর সাফল্য সব ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে গেল। এবার বলিউডে পায়ের তলার জমি শক্ত হতেই কি বিয়ে করছেন রাশমিকা। সমাজমাধ্যমে সরাসরি প্রেম নিবেদন করে বসলেন বিজয়কে!
নিজেদের প্রেম নিয়ে জনসমক্ষে কখনও মুখ খোলেননি বিজয় বা রাশমিকা কেউই। তবে তাদের চর্চিত প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অনুরাগীদের উৎসাহ এবং কৌতূহলে ভাটা পড়েনি। ‘গীত গোবিন্দম’ সিনেমার সেটে প্রথমে বন্ধুত্ব। তার পরে ‘ডিয়ার কমরেড’-এর সেটে নাকি একে অপরের প্রেমে পড়েন তারা। পরস্পরের পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গেও একাধিকবার দেখা গেছে বিজয় এবং রাশমিকাকে।
নিজেদের ‘ভালো বন্ধু’ তকমা দিয়েই এতদিন কাটিয়েছেন চর্চিত যুগল। তবে এবার আর রাখঢাক নয়, সমাজমাধ্যমের পাতায় অভিনেত্রী লেখেন, আমি শুধু এতটুকু বলব, আমার জীবনে আসার জন্য ধন্যবাদ।
যদিও অভিনেত্রী সরাসরি বিজয়ের নাম উল্লেখ করেননি পোস্টে। তবে রাশমিকার ইশারা কার দিকে, তা বুঝতে বাকি নেই। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কানাঘুষো গত কয়েক বছর ধরে নাকি একত্রবাস করছেন তারা। বিভিন্ন সময় তাদের দেওয়া ছবি তার প্রমাণ। এবার একধাপ এগিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন কি না! সময় বলবে।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারি

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। আজই পরীক্ষার সময়সূচি (রুটিন) প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। শেষ হবে ১২ মার্চ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল ২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার রুটিন। তবে তা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রণীত রুটিন ছিল না। সে সময় ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানও বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষা গত ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে মে মাসে শেষ হয়।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনায় জড়িতদের নাম পেয়েছি : হারুন

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনায় জড়িতদের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে ডিবি।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
এর আগে ১৯ ডিসেম্বর ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই আগুনে নিঃশেষ হয়ে যায় চারটি জীবন। নিহতদের মধ্যে এক মা ও তার শিশুসন্তান ছিল।
ঘটনার পর ছায়াতদন্ত শুরু করেছে র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে হরতাল-অবরোধের মধ্যে এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চারটি ট্রেনে আগুন দেওয়া এবং রেললাইন কেটে ফেলার একটি ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আর, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চারজনসহ মারা গেছেন পাঁচজন। রেললাইনে আরও ১৯টি অগ্নিসংযোগ এবং ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

জনগণ বিএনপির বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছে : কাদের

বিএনপির অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে দল আন্দোলনের আসর থেকে পালিয়ে গেছে সেই দল অসহযোগ আন্দোলন ডাকে। জনগণ ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অসহযোগ শুরু করেছে। তার প্রমাণ হচ্ছে হাট-বাজার সব খোলা।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে একথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা আন্দোলন থেকে পালিয়ে গেছে তারাই এখন অসহযোগের ডাক দিয়েছে। জনগণ বিএনপির ডাকে অসহযোগ করবে না। জনগণ বিএনপির বিরুদ্ধে অসহযোগ শুরু করেছে।
তারেক রহমানকে দেশে আসার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, জনগণ রিমোট কন্ট্রোল মানে না। সাহস থাকলে দেশে আসুন।
বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে ডামি নির্বাচন বলছে এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জের কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আসলে বিএনপি একটি ডামি দল। বাংলাদেশে প্রথম কিংস পার্টির নাম বিএনপি। তারাই তো ডামি দল। ভুঁইফোর, প্যাড সর্বস্ব, দুর্নীতিবাজদের নিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি বানিয়েছে। জন্মগতভাবে বিএনপি গণতন্ত্র হত্যাকারী নির্বাচনবিরোধী দল।
উল্লেখ্য গতকাল বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সেসময় বর্তমান সরকারকে এখন থেকে আর কোনো সহযোগিতা না করতে প্রশাসন ও দেশবাসীকে আহ্বান জানান তিনি।
অসহযোগে সরকারকে সকল প্রকার কর, খাজনা, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় বিএনপি। পাশাপাশি আগামী ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনের আহ্বানও জানায় দলটি।

লক্ষ্য অর্জনের আগে যুদ্ধবিরতি নয় : নেতানিয়াহু

গাজায় ১০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এরপরেই গাজায় পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এখন পর্যন্ত সেখানে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলার কারণে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সেখানে একদিকে লোকজন বাস্তূচ্যুত হয়ে পড়েছে অন্যদিকে খাবার, পানির মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের হাহাকার আরও তীব্র হচ্ছে। সেখানে যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাজা আগ্রাসনের জন্য যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার সবগুলো অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তেল আবিব যুদ্ধ বন্ধ করবে না।
হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্ত করে নেওয়ার জন্য যখন তেল আবিবের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ তুঙ্গে রয়েছে এবং গাজা উপত্যকায় একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করে বন্দিদের মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চলছে তখনই এমন বক্তব্য দিলেন নেতানিয়াহু।
গত ৭৫ দিন ধরে গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে তেল আবিবের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করেও সেখানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
নেতানিয়াহু বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, যেসব লক্ষ্যে গাজায় অভিযান চলছে তার একটি হচ্ছে হামাসকে নির্মূল করা। তিনি বলেন, আমাদের সব বন্দির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত গাজা যুদ্ধ বন্ধ হবে না। গাজা উপত্যকা থেকে কেউ যেন আর কোনোদিন ইসরায়েলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করাকেও গাজা আগ্রাসনের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।

বিশ্বে শিশুদের জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান’ গাজা : জাতিসংঘ

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখন্ড হচ্ছে শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান, কারণ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণ করে হাজার হাজার শিশুকে হতাহত করছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগীর চাপে পিষ্ট গাজার হাসপাতালগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আরও হাজার হাজার শিশু সংক্রামক রোগে ভুগছে এবং খাবার,পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এলডার মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা লাখ লাখ শিশুর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুঃস্বপ্নের সঙ্গে তুলনীয় মানবিক সংকটকে উপেক্ষা করছেন।’
সম্প্রতি গাজায় ২ সপ্তাহের সফর শেষে ফিরে এসে এলডার বলেন, ‘আমি ক্ষুব্ধ কারণ ইতোমধ্যে অনেক শিশু এক বা একাধিক অঙ্গ হারিয়েছে, এমন শিশুরাও চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসের হাসপাতালে বোমা হামলায় নিহত হচ্ছে। আমি ক্ষুব্ধ,কারণ কোথাও না কোথাও লুকিয়ে থাকার প্রচেষ্টায় আরও অনেক শিশু প্রতিদিন তাদের অঙ্গ হারাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ,কারণ অসংখ্য শিশু এমন কী তাদের নিহত মা,বাবা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য শোক প্রকাশ করার সুযোগও পাচ্ছে না।’
এলডার বলছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে অবস্থিত আল নাসের হাসপাতাল গত ৪৮ ঘণ্টায় ২ বার কামান হামলার শিকার হয়। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালগুলোতে অসংখ্য গুরুতর আহত শিশু ও নিরাপদ আশ্রয় প্রত্যাশী হাজার হাজার নারী-শিশু অবস্থান করছে। তাহলে শিশুরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কোথায় যাবে?
ইউনিসেফের মুখপাত্র বলেন, তারা হাসপাতালে নিরাপদ নয়। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ নয়। এবং অবশ্যই,তারা তথাকথিত নিরাপদ জোনেও নিরাপদ নয়।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত আছে। দখলদার দেশটির হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার। তাদের মধ্যে প্রায় আট হাজারেই শিশু। হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মস্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার। যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। গাজায় দুই মাস ধরে চলা ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় প্রায় ৫০ হাজার আহত হয়েছে।

অভিবাসন আইন কঠোরে একমত ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আশ্রয় ও অভিবাসনপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের কীভাবে সামলানো হবে, এ বিষয়ে আইনে সংস্কার আনতে মতৈক্যে পৌঁছেছে ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বুধবার জোটভুক্ত দেশ ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা এ ঐকমত্যে পৌঁছান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক চুক্তি‘ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই সংস্কারে ইইউর অভিবাসন-সংক্রান্ত আইন আরো কঠোর হবে। এতে অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই দ্রুত করা, সীমান্তে আটককেন্দ্র তৈরি এবং আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর মতো বিষয় রয়েছে। ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলোর ওপর চাপ কমানোর জন্য একটি প্রক্রিয়াও নতুন চুক্তিতে রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অধীনে কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশে স্থানান্তর করা হবে। যেসব দেশ আশ্রয়প্রার্থীদের নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের আর্থিক বা কাঠামোগত অবদান রাখতে হবে।
ইইউর বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্পেন আইন সংস্কারের দীর্ঘ এ আলোচনা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছে। বুধবার দেশটি বলেছে, আশ্রয় ও অভিবাসনবিষয়ক ইইউর নতুন চুক্তির পাঁচটি নথির বিষয়ে জোটের সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক মতৈক্য হয়েছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারিতিস স্কিনাস বলেন, এখানে আসতে বহু পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তবে আমরা পেরেছি। অভিবাসন নিয়ে অবশেষে কিছু একটা করছে ইউরোপ।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, অভিবাসন ইউরোপের অভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। আজকের সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে এক হয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার সুযোগ করে দেবে।

রোমানিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০৭ জন অভিবাসী আটক

অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রোমানিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশিসহ ১০৭ অভিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। এসব অভিবাসীরা বাংলাদেশ, সিরিয়া, মিশর, ইরাক, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের নাগরিক বলে জানিয়েছে তারা।
রোমানিয়ায় যাওয়া নিয়মিত ও অনিয়মিত অভিবাসীরা প্রায়ই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করেন। এর ফলে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে দেশটির পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বেশ কয়েকটি অভিযানে বিভিন্ন দেশের ১০৭ জন অভিবাসী হাঙ্গেরিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় রোমানিয়া বর্ডার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।
রোমানিয়া বর্ডার পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ১৫ ডিসেম্বর সকালে। ওইদিন নাদলাক সীমান্তে আসা একটি মিনিবাস থেকে বাংলাদেশ ও সিরিয়ার ২০ জন নাগরিককে আটক করে সীমান্ত পুলিশ ও শুল্ক কর্মকর্তারা।
একই দিন রাত ১০টায় দ্বিতীয় অভিযানে আরাদ অঞ্চলের নাদলাক-২ সীমান্ত পয়েন্টে আসা একটি গাড়ি থেকে বাংলাদেশ ও মিশরের আরও ২০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের সবাই বৈধ ভিসায় রোমানিয়ায় গিয়েছিলেন।
অন্য দুটি অভিযান পরিচালিত হয় ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন দুই দফায় নাদলাক-২ এবং টার্নু বর্ডার পুলিশ সেক্টরের সীমান্ত রক্ষীরা মোট ৬৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে।
বাংরোমানিয়ায় যাওয়া নিয়মিত ও অনিয়মিত অভিবাসীরা প্রায়ই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করেন। এর ফলে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে দেশটির পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বেশ কয়েকটি অভিযানে বিভিন্ন দেশের ১০৭ জন অভিবাসী হাঙ্গেরিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় রোমানিয়া বর্ডার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।
রোমানিয়া বর্ডার পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ১৫ ডিসেম্বর সকালে। ওইদিন নাদলাক সীমান্তে আসা একটি মিনিবাস থেকে বাংলাদেশ ও সিরিয়ার ২০ জন নাগরিককে আটক করে সীমান্ত পুলিশ ও শুল্ক কর্মকর্তারা।
একই দিন রাত ১০টায় দ্বিতীয় অভিযানে আরাদ অঞ্চলের নাদলাক-২ সীমান্ত পয়েন্টে আসা একটি গাড়ি থেকে বাংলাদেশ ও মিশরের আরও ২০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের সবাই বৈধ ভিসায় রোমানিয়ায় গিয়েছিলেন।
অন্য দুটি অভিযান পরিচালিত হয় ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন দুই দফায় নাদলাক-২ এবং টার্নু বর্ডার পুলিশ সেক্টরের সীমান্ত রক্ষীরা মোট ৬৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরছে আরও ১৪০ বাংলাদেশি

দূতাবাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বুধবার (২০ ডিসেম্বর) লিবিয়ার দারনা শহরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দেশে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ লিবিয়ার বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে (UZ222) তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বেনগাজীর বেনিনা বিমানবন্দরে বিদায় জানায়। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের মধ্যে ২৭ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
এর আগে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সহযোগিতার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার মহোদয়ের নেতৃত্বে দূতাবাসের টিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে আল-বাইদা এবং ৩১ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে দারনা শহর সফর করেন। সফরকালে রাষ্ট্রদূত আল-বাইদা ও দারনা শহরে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। ওই সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দেশে প্রেরণসহ তাদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়াও দূতাবাসের পক্ষ থেকে দারনা ও আল-বাইদা শহরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদেরকে জরুরি ওষুধসহ কয়েক দফায় ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তবে দারনা শহরে বন্যাকবলিত প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ বৈধ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের দেশে প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে দারনা শহরে ক্ষতিগ্রস্ত সকল প্রবাসীর তথ্য সংগ্রহপূর্বক তাদের অনুকূলে ট্র্যাভেল পারমিট (আউটপাস) ইস্যু করা হয়। পরবর্তীতে দূতাবাসের প্রচেষ্টায় আইওএমের নিকট তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর অনুকূলে বহির্গমন ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও দূতাবাসের পক্ষ থেকে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের পর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গত মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আইওএমের তত্ত্বাবধানে এসব বাংলাদেশিকে প্রাথমিকভাবে বেনগাজীতে স্থানান্তর করা হয়।
লিবিয়ায় বিপদগ্রস্তসহ বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভিবাসন অধিদপ্তর এবং আইওএমের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দূতাবাস। এরই ধারাবাহিকতায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ত্রিপলী ও বেনগাজীর ডিটেনশন সেন্টারে আটকসহ বিপদগ্রস্ত মোট ৯৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রেরণ করা হয়েছে।