শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশ

আগামী ৪ জুন পর্দা উঠবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে টাইগারদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল।
তুলনামূলক কঠিন গ্রুপেই পড়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দুই দল দক্ষিন আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডসও টি-টোয়েন্টিতে বেশ শক্তিশালী দল। তাই গ্রুপ পর্বেই বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।
প্রতি গ্রুপ থেকে ২টি করে দল পাবে সুপার এইটে যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যে সবচেয়ে বড় লড়াইটা হতে পারে। লঙ্কানদের হারাতে পারলে সুপার এইটের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তবে নেদারল্যান্ডস ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ হবে টাইগারদের জন্য।
দর্শকদের আবাসনের ও যাত্রার ব্যাপারটি মাথায় রেখে আগে থেকেই কয়েকটি দলের সুপার এইটের ভেন্যু চূড়ান্ত করে রেখেছে আইসিসি। বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ও গ্রুপ রানার-আপ হলে যুক্তরাষ্ট্রে সুপার এইটের ম্যাচগুলো খেলবে।
‘এ’ গ্রুপে পড়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। তাদের সঙ্গী আয়ারল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। ‘বি’ গ্রুপে দুই পড়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড ও ওমান। ‘সি’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, উগান্ডা ও পাপুয়া নিউগিনি।
এক নজরে কে কোন গ্রুপে-
গ্রুপ ‘এ’ : ভারত, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র।
গ্রুপ ‘বি’ : ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড, ওমান।
গ্রুপ ‘সি’ : নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, উগান্ডা, পাপুয়া নিউগি…
গ্রুপ ‘ডি’ : দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডস, নেপাল।

দেশকে আর কখনো পরাজিত শক্তির হাতে তুলে দেবেনা জনগণ : উপমন্ত্রী

আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা চালিয়েছেন প্রচার প্রচারণা। প্রার্থীরা ছুটে গেছেন জনগণের দারে দারে, চেয়েছেন ভোট। সারাদেশের মতো জাতীয় সংসদের ৯৭ বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) সংসদীয় আসনেও এর ব্যতিক্রম নয়। এই আসনে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের পাঁচজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার আব্দুল খালেকের পতœী বেগম হাবিবুন নাহার।
নির্বাচনী জনসভায় উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে পৃথিবীর মানচিত্রে ক্ষুদ্র বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। যারা এ দেখে জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসংযোগ করে, রেললাইনের ফিসপ্লেট তুলে এরা পরাজিত শক্তির দালাল, পরাজিত শক্তির দোসর। এদের বাংলাদেশর রাজনীতি করারই কোন অধিকার নেই। খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গি, দুর্নীতিবাজ এদের বাংলাদেশে কোন স্থান সাধারণ জনগণ দিবেনা।
তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে। জনগণ শান্তিতে বাস করবে। উন্নত জীবন পাবে এটাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে মানুষ সেবা পায়। এখন মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক অধিকার শেখ হাসিনা জনগণকে নিশ্চিত করেছে। আজ সারাবিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এই সম্মানটা দিতে পারে না আমাদের দেশের কিছু কুলাঙ্গার। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেমন ওই হানাদার বাহিনীর দোসর দোসর যারা ছিল, এরাই তাদের পেতাত্মা হয়ে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে এবং হত্যার পরিকল্পনায় লিপ্ত আছে।
তিনি আরও বলেন যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার নারী বান্ধব সরকার। শেখ হাসিনা দেশের নারীদের যত সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তা সারাবিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। শেখ হাসিনা নারীদের মাতৃত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। নারীদের অনাগত সন্তানের দায়িত্ব শেখ হাসিনা নিয়েছে।
আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলতে গেলে বলে শেষ করা সম্ভব নয়। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই অঞ্চলে মাত্র একটি ইটের রাস্তা ছিল। আমাদের বাগেরহাট-৩ আসনের প্রধান আয়ের উৎস মৎস্য ঘের। বিএনপি জামায়াতের ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষের মৎস্য ঘের দখল করে নিতো। সাধারণ মানুষ ঘেরের হারীর টাকা চাইতে গেলে তাদের হামলার শিকার হতে হত, অনেককে তারা খুনও করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসের জনপদকে শান্তির জনপদে রূপান্তরিত করেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা, বিএনপি ক্ষমতায় এসে মোংলা বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মৃতপ্রায় মোংলা বন্দর পুনরায় সচল করেছে। মোংলা বন্দরের পাশে ছিল কাঁশবন, শেখ হাসিনা সেই কাঁশবনকে ইপিজেডে রূপান্তরিত করেছে। আমাদের অঞ্চলের আট হাজারেরও বেশি নারী পুরুষ সেখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
দেশের মানুষ এখন সচেতন, মানুষ স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। তাই দেশকে আর কখনো পরাজিত শক্তির হাতে তুলে দেবেনা জনগণ। আগামী ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সারাদেশে শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে নৌকায় ভোট দিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রামপাল উপজেলার রামপাল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন কচির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জালাল উদ্দীন দুলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. ড. এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) মোতাহার রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জামিল হাসান জামু, ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসা. হোসনেয়ারা মিলি, ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ ফকির, তপন কুমার গোলদার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সেখ আব্দুস সবুর, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ মনির আহমেদ প্রিন্স, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ শরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্লা আ. রউফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খালিদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল মান্নান, ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানা পারভীন ময়না, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী গিয়াস উদ্দিন, শেখ মোহাম্মদ আলী, গাজী আক্তারুজ্জামান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান শেখসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী জনসভা শুরুর আগে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা স্লোগান নিয়ে হাজার হাজার মানুষ মাঠে প্রবেশ করে। এসময় নির্বাচনী জনসভার মাঠ সাধারণ মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ হয়। নৌকা প্রার্থীর জনসভায় ৭ থেকে ৮ হাজার নৌকার সমর্থক উপস্থিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটের আগের দিন ব্যালট যাবে ২৯৬৪ কেন্দ্রে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগের দিন, ২ হাজার ৯৬৪ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ভোটের দিন সকালে ৩৯ হাজার ৬১ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার যাবে। এবার সংসদ নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ৪২ হাজার ২৫টি।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।

ইসি জানায়, আগামী রোববার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারের অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ভোটগ্রহণের দিন সকালে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার প্রেরণের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য জেলা, উপকূলীয় এলাকা, দ্বীপ, চর অঞ্চল, নদী পরিবেষ্টিত দুর্গম এলাকা বিবেচনায় পরিশিষ্ট-ক তালিকায় বর্ণিত ২ হাজার ৯৬৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের পূর্বের দিন নির্বাচনী মালামালসহ ব্যালট পেপার প্রেরণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার প্রেরণের জন্য যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে-

>> ভোটগ্রহণের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট পেপার ব্যতীত নির্বাচনী মালামাল, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ভোটকেন্দ্রে গমন করবেন। তবে প্রিজাইডিং অফিসারের অনুপস্থিতিতে যে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে নিয়োগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, সেই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালটপেপার গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন।

>> ভোটগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সকাল ৬টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট হস্তান্তর করবেন।

>> ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার বিতরণের সময় যতদূর সম্ভব পর্যাপ্ত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের উপস্থিতিতে ব্যালট পেপার হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।

>> ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার পরিবহনের বিষয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।

এ অবস্থায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন আরও একটি সংস্থার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আগে বিতর্কে জড়িয়েছিল টেসলা এবং এক্স (সাবেক টুইটার), এবার আঙুল উঠলো স্পেসএক্সের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ, ইলন মাস্কের সমালোচনাকারী আট কর্মীকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেছিল রকেট ও স্যাটেলাইট নির্মাতা সংস্থাটি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি শ্রম সংস্থার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে স্পেসএক্সের নির্বাহীদের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন কর্মীরা। এতে কর্মস্থলের নানা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন তারা। ওই চিঠিতে ইলন মাস্ককে ‘বিভ্রান্তিকর এবং বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে ন্যাশনাল লেবর রিলেশনস বোর্ডের (এনএলআরবি) একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেছেন, কর্মস্থলে পরিবেশের উন্নতির জন্য সহকর্মীদের যৌথভাবে পরামর্শ দেওয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন। কিন্তু স্পেসএক্স কর্মীদের সেই অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খোলা চিঠির সঙ্গে জড়িতদের ছাঁটাই করার আগে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী কর্মীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, স্পেসএক্সে কাজের পরিবেশ ‘বিষাক্ত’ এবং সেখানে হয়রানি সহ্য করা হয়।

এনএলআরবির সাধারণ কাউন্সেল একজন প্রসিকিউটরের মতো কাজ করেন এবং সংগঠনের সভাপতি নিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের কাছে মামলা নিয়ে যান।

এখন স্পেসএক্স তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি না করলে একজন প্রশাসনিক বিচারকের মাধ্যমে মামলাটির শুনানি হবে। তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বোর্ডে এবং তারপর একটি ফেডারেল আপিল আদালতে আপিল করা যেতে পারে। আগামী ৫ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এনএলআরবি যদি দেখতে পায়, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে স্পেসএক্স শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে, তবে সেটি কর্মীদের পুনর্বহাল করা এবং পাওনা বেতন পরিশোধের আদেশ দিতে পারে।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন নয়।

গত বছরের অক্টোবরে এনএলআরবি অভিযোগ করেছিল, টুইটের জেরে এক কর্মীকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেছে এক্স। যদিও ওই ঘটনায় ভুল কিছু করার অভিযোগ অস্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাটি।

মাস্কের মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়িনির্মাতা টেসলাও বেশ কয়েকবার এনএলআরবির অভিযোগের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল, টেসলার কারখানাগুলোতে বর্ণবৈষম্য রয়েছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে টেসলা।

সূত্র: বিবিসি

নির্বাচনী প্রচার শেষ হচ্ছে কাল

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৮টায়। ওই সময়ের পর কোনো প্রার্থী জনসভা, পথসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। তবে চালাতে পারবেন নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর ৭৮ ধারায় নির্বাচনে প্রচারের সময়সীমা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় জনসভা আহ্বান, অন্য কারো জনসভায় অংশ নেওয়া যাবে না। এমনকি মিছিল, শোভাযাত্রা বা এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন বা অংশগ্রহণ কোনোটিই করা যাবে না।
তারা আরও বলেন, ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তার আগের ৪৮ ঘণ্টা হিসাবে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। ওই সময়ের পর ভোট চেয়ে মাইকিংও করা যাবে না।
এদিকে প্রচারের শেষদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। এদিকে, নওগাঁ-২ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ওই আসনের ভোট বাতিল করেছে ইসি।
প্রসঙ্গত, ১৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ওইদিন থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। এ নির্বাচনে ১৮ দিন প্রচারের সময় পেলেন প্রার্থীরা। ২৮টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে এক হাজার ৯৬৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই নির্বাচনে। ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানে ভয়াবহ বোমা হামলায় পুতিনের নিন্দা

ইরানের কেরমান শহরে ভয়াবহ বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (৩ জানুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সমবেত হওয়া ব্যক্তিদের ওপর এই বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে চিঠি লিখেছেন পুতিন। তাতে তিনি লিখেছেন, সমাধিস্থলে যাওয়া শান্তিপ্রিয় মানুষদের হত্যা করার মতো নিষ্ঠুর কাজ আর নেই।
এদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার উল হক কাকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, কেরমানে সন্ত্রাসী হামলায় অসংখ্য প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। পাকিস্তান এ ধরনের জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ও ইরানের পাশে রয়েছে।
ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীরাও। এটিকে ‘সন্ত্রাসী বোমা হামলা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, এই জঘন্য ঘটনা প্রমাণ করছে যারা বৈশ্বিক আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান, ফিলিস্তিন ও লেবাননের প্রতিরোধ বাহিনীর বিরুদ্ধে কাজ করা শক্তিগুলো তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে।
ইরানে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো আহত রয়েছেন ১৪১ জন। ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কাসেম সোলাইমানির চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালনকালে কেরমান প্রদেশে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ কেরমান প্রদেশের ‘শহীদ গুলজার’ কবরস্থানের দিকে যাওয়ার পথে ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রথম বিস্ফোরণটি হয় সোলাইমানির সমাধি থেকে ৭০০ মিটার দূরে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি সমাধি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
সোলাইমানির কবর জিয়ারতকারীদের পথে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরমানের গভর্নরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, এগুলো গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ছিল নাকি সন্ত্রাসী হামলা তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রথম বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরানে মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১০৩

রানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাশেম সোলাইমানির চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দেশটির দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় কেরমান শহরে কাশেম সোলাইমানির সমাধিস্থল থেকে কয়েকশ মিটার দূরের এই বিস্ফোরণে ১০৩ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার কাশেম সোলাইমানি নিহত হন। বুধবার ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, কাশেম সোলাইমানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শত শত মানুষ তার সমাধিস্থলের দিকে যাওয়ার সময় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে ১৭১ জন আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কেরমানের সাহেব আল-জামান মসজিদের কাছে সোলাইমানির কবর থেকে কয়েকশ মিটার দূরে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
কেরমানের ডেপুটি গভর্নর বিস্ফোরণের এই ঘটনাকে ‘‘সন্ত্রাসী হামলা’’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা সন্ত্রাসী হামলা।’’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিস্ফোরণের একাধিক ভিডিওতে বেশ কিছু মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন প্রথম বিস্ফোরণের কয়েক মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর দিয়েছে। কেরমান প্রদেশের স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘সন্ত্রাসী হামলার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে।’’
ইরানের জরুরি পরিষেবা সংস্থার মুখপাত্র বাবাক ইয়েকতাপারাস্ত বলেছেন, বিস্ফোরণে ১০৩ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ বলছে, সমাধিস্থলের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বেশ কয়েকটি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে।
ইরানের আরেক বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, জেনারেল কাশেম সোলাইমানির সমাধিস্থল থেকে ৭০০ মিটার দূরে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটেছে। এরপর দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটেছে সমাধিস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। বিস্ফোরণ স্থানের ভিডিও ফুটেজের সাথে তাসনিমের এই তথ্যের মিল আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণে কাশেম সোলাইমানির সমাধিস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

র‌্যাবের অভিযানে টাকলা হায়াতসহ ৯ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

সন্ত্রাসী গ্যাং ‘কবজি কাটা গ্রুপ’ এর অন্যতম মূলহোতা টাকলা হায়াতসহ ৯ সন্ত্রাসীকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-২।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রিক ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টায় তারা জড়িত ছিলেন।
এ ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিস্তারিত জানাবেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি জানাতে কূটনীতিকদের সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করতে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও মিশন প্রধান এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের পদ্মা হলরুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরিফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে বৈঠকে সে বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং বাংলাদেশে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধিকে অবহিত করা হবে।

নিউইয়র্কে মসজিদের বাইরে ইমামকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে স্থানীয় সময় বুধবার একটি মসজিদের বাইরে ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিউজার্সির পুলিশ ওই হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এমনকি কী কারণে ওই ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে নিহত ওই ইমামের নাম হাসান শরীফ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসান শরীফ ২০০৬ সাল থেকে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলেছেন জানিয়েছেন ইউনাইটেড স্টেটস ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র লিসা ফার্বস্টেইন।
ওই মুখপাত্র বলেন, আমরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। নিউয়ার্ক পাবলিক সেফটি ডিরেক্টর ফ্রিটজ ফ্রেজ এর আগে নিশ্চিত করেন যে, পুলিশের কাছে একটি ফোন কল আসে এবং তারা জানতে পারেন যে এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, হামলার শিকার ব্যক্তি একজন ইমাম এই তাকে মসজিদের বাইরে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইসরায়েল-হামাসের মধ্যকার সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষ এবং ইহুদি-বিরোধী হামলা বেড়ে গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মসজিদের থেকে ১০ ফুট দূরে পার্কিং লটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ইমামকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান। তার পেটে ও বাম হাতে গুলি লেগেছে।