শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

সাড়ে ৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে জিতে চতুর্থ রাউন্ডে জোকোভিচ

ফ্রেঞ্চ ওপেনে ১৫ বছরে সবচেয়ে বাজে হারের মুখে ছিলেন নোভাক জোকোভিচ। ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের মহাকাব্যিক সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছেন।

তৃতীয় রাউন্ডে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ীর প্রতিপক্ষ ছিলেন তার চেয়ে ১৫ বছরের ছোট ইতালির লরেঞ্জো মুসেত্তির। একই প্রতিপক্ষ জোকোভিচকে ২০২১ সালের টুর্নামেন্টেও ভোগান্তিতে ফেলেছিল। সেবার দুই সেটের লিড নিয়েও ছিটকে যায় ইনজুরিতে। এদিন র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরকে আবার পেয়ে যেন তুমুল চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসেন মুসেত্তি। প্রথম সেটে তুমুল লড়াই হলেও তাকে ৭-৫ গেমে হারান জোকোভিচ। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় সার্বিয়ান তারকাকে। এই সেটের লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। ৩৭ বছর বয়সী জোকোভিচ অবশ্য এবার প্রতিরোধ সামলাতে পারেননি। সেখানে জয় নিশ্চিত হয়েছে মুসেত্তির। পরের সেটও ২-৬ গেমে হেরে গেলে জোকোভিচের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়। তখন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই তারকা ৬-৩, ৬-০ গেমে ম্যাচ জিতে চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন।

তুমুল লড়াইয়ের জন্ম দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন জোকোভিচ। রজার ফেদেরারের ৩৬৯টি গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচ জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে এখন তার প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার ফ্রান্সিসকো সেরুন্দোলো।

মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর প্রতিপক্ষ মুসেত্তিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘মুসেত্তিকে অভিনন্দন জানাতেই হবে। এটা লজ্জার যে একজনকে হারতেই হয়। কিন্তু সে অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ উপহার দিয়েছে। জয়ের খুব খুব কাছে ছিল সে।’

সলঙ্গা বিদ্রোহকে জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি দিতে হাইকোর্টের রুল

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবসকে জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ রোববার (২ জুন) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাবু।

এর আগে ২৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন জনস্বার্থে এ রিট করেন।

১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে রায়গঞ্জ থানার সলঙ্গা হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন-আন্দোলনের কর্মীসহ সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন। ব্রিটিশ শাসন আমলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। এ আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপথ হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসত।

১৯২২ সালে ২৭ জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশেষ নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে বিলেতি পণ্য কেনা-বেচা বন্ধ করে দেন। স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরএন দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহুকুমা প্রশাসক এসকে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীওয়ালা পুলিশ। সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপল্লী স্বদেশী কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও করে গ্রেফতার করে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুর রশীদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

বিরলে শ্রেষ্ঠ ভোটার কামবালাকে ঘর বানিয়ে দিলেন নৌপ্রতিমন্ত্রী

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রেষ্ঠ ভোটার ৯২ বছর বয়সী ভোটার কামবালা। প্রধানমন্ত্রীর সকল গৃহহীন মানষদের ঘর করে দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কামবালাকেও ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে এবং যা হস্তান্তর করে অনেক তৃপ্তি অনুভব হচ্ছে। কামবালা জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে শুধু ভোটার নয় প্রার্থীর কাছেও ভোট চেয়েছেন। ভোট নাগরিকের জন্য কত বড় অধিকার, তা কামবালা তার কর্মের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে। তাঁর কছে আমাদের অনেক শেখার রয়েছে।

আজ রোববার সকালে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের গোদাবাড়ী গ্রামে কামবালা নিবাস হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বহ্নি শিখা আশা, বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মাওলা শাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ত রায়, যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আজাদ মনি, ধর্মপুর ইউনিয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র রায় প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে করলে আরও গ্রহণযোগ্য হবে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন যদি ধাপে ধাপে আয়োজন করা যায়, তাহলে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হবে। এতে নির্বাচনের আয়োজন করতেও সহজ হবে।

আজ রোববার (২ জুন) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আমরা টিআইবিকে বলেছি, জাতীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে করা যায় কি না, সে ব্যাপারে জনমত গড়ে তুলতে। কারণ, ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করতে পারলে নির্বাচনকে আরও বেশি সুষ্ঠু করা যাবে। কারণ, তখন আরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা যাবে। আরও বেশি পোলিং এজেন্ট মোতায়েন করা সম্ভব হবে। নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে কখনো নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করা সম্ভব নয়। এটি করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের সাথে বৈঠকে বসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিনিধি দল।

এতে টিআইবির পক্ষ থেকে নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ মোট ৫ জন অংশ নেন। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব:), নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা, নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান, নির্বাচন কমিশন সচিব শফিউল আজিম অংশ নেন।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় সার্বিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ওষুধপত্র, স্যালাইনসহ হাসপাতালে সার্বিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হলে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজ রোববার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জেনেভা ও লন্ডন ট্যুর নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত। শিগগিরই এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, যে প্রকল্প জনগণের উপকারে আসবে না, আগামী বাজেটে সেই প্রকল্প না রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ২০ জেলায় ক্ষতি ৬৮৮০ কোটি টাকা

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে দেশের ২০ জেলায় ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। তিনি বলেন, ২০টি জেলার হিসাব পেয়েছি। ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আজ রোববার (২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমালের সার্বিক বিষয় নিয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২৬ মে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানে। এর প্রভাবে উপকূলীয় বেশকিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। যার ফলে এসব এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়। এ ছাড়া ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। বেশকিছু রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা গত কয়েকদিন থেকেই দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। সরকারের সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্যোগপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এখন দুর্যোগ পরবর্তী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানার পরদিন আমি ব্যক্তিগতভাবে উপকূলীয় জেলার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে স্থানীয়দের খোঁজখবর নিয়েছি।

মো. মহিববুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ১৯ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ত্রাণকার্যে নগদ পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ৯ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন, গো- খাদ্যের জন্য দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং শিশু খাদ্য কেনার জন্য দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভাগ, দপ্তর-সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামী লীগের এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দুর্গতদের পাশে দাড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খুলনার কয়রা, ভোলার চরফ্যাশন এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও জরুরি সেরা পৌঁছানো নিশ্চিত করেছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল এলাকা পরিদর্শনের জন্য পটুয়াখালীর কলাপাড়া পরিদর্শন করেন এবং ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের সাহায্যে সিলেট জেলায় ২০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৫০০ মে. টন চাল, ১০ লাখ টাকার গো-খাদ্য এবং ১০ লাখ টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য এবং ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে দিনাজপুর জেলায় ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ এবং ৩ লাখ টাকার শুকনো ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে।

মো. মহিববুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সবকিছু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সংস্থা তাদের আওতাধীন বিষয়াদির ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাপ করে তা পুনর্র্নিমাণ বা সংস্কার অথবা মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হলে পদত্যাগের হুমকি ইসরায়েলি দুই মন্ত্রীর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব খোলাসা করেছেন তাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজি হলে ইসরায়েলের দুই উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রী ক্ষমতাসীন জোট ছাড়ার ও ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিস এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন যে, হামাসকে ধ্বংস করার আগে যেকোনো চুক্তি ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী।

তবে পাল্টা অবস্থান ইসরায়েলের বিরোধী জোটের। যুদ্ধ বিরোধী এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করলে বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিড ক্ষমতাসীন নেতানিয়াহু সরকারকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই জোর দিয়ে বলেছিলেন, যে হামাসের শাসন ও সামরিক ক্ষমতা ধ্বংস না করা এবং সব জিম্মিকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যাবে না তারা।

বাইডেনের যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবটি ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে শুরু হবে। যেখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজার জনবহুল এলাকা থেকে প্রত্যাহার করবে। চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে সব জিম্মিদের মুক্তি, স্থায়ী শত্রুতার অবসান এবং ব্যাপকভাবে গাজা পুনর্র্নিমাণ পরিকল্পনা।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই প্রস্তাবের পর শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিস জানান তিনি নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে, হামাসকে ধ্বংস করা এবং সমস্ত জিম্মিকে ফিরিয়ে না এনে প্রস্তাবিত রূপরেখায় যদি নেতানিয়াহু রাজি হন তাহলে সরকারের এই প্রক্রিয়ার অংশ হবেন না তিনি।

প্রায় একই মনোভাব প্রকাশ করে বেন-গভির বলেন, এই চুক্তির অর্থ হলো যুদ্ধের সমাপ্তি এবং হামাসকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে সরে আসা। তিনি এই চুক্তিকে অপরিণামদর্শী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি মানে সন্ত্রাসবাদের বিজয়, যা ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হওয়ার বদলে ‘সরকার ভেঙে দেওয়ার’ কথা বলেন।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংসদে একটি ছোটখাটো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আছে। বেন-গভিরের ওটজমা ইয়েহুডিত (ইহুদি শক্তি) পার্টির ছয়টি আসন রয়েছে। আর স্মোট্রিসের ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টির রয়েছে মাত্র সাতটি আসন। তারা ক্ষমতায় থাকতে জোটবদ্ধ হিসেবে সংসদে রয়েছে।

অপর দিকে ইসরায়েলের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী রাজনীতিবিদদের একজন ইয়ার ল্যাপিড। এই সংকটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে তার সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার দল ইয়েশ আতিদ ২৪টি আসন নিয়ে সংসদে রয়েছে। রাজনীতিতে যাদের ভবিষ্যতও বেশ ভালো।

তিনি বলেছেন, ‘বেন-গভির এবং স্মোট্রিস সরকার ছেড়ে দিলে জিম্মি চুক্তির জন্য নেতানিয়াহুর জন্য আমাদের সমর্থন আছে।’

বাইডেনের দেয়া প্রস্তাবে ইসরায়েলি সরকারকে রাজি হওয়ার আহবান জানিয়ে তেল আবিবে কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশ করে। তারা এ সময় নেতানিয়াহুর পদত্যাগও দাবি করেছে। এসময় বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তখন কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতি মিশর কাতার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থ্যতাকারীরা ইসরায়েল ও হামাস উভয়কেই বাইডেনের দেয়া যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আহবান জানিয়েছে।

তারা বলছেন, গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি ও বন্দিদের মুক্তির জন্য চলমান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসাবে তারা জো বাইডেনের রূপরেখার মূল বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত করতে হামাস এবং ইসরায়েল উভয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও এই যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবনার প্রতি তার সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, ‘হামাস যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তার সরকার গাজায় বিপুল পরিমাণ সহয়তা পাঠাতে পারবে।’

এর আগে হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ বিবিসিকে বলেছিলেন, ইসরায়েল যদি রাজি থাকে তাহলে তারা এই চুক্তিতে যাবে।

তবে শনিবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে যে, যুদ্ধ শেষ করতে ইসরায়েল যে নীতি গ্রহণ করেছিল তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

হামাসের সামরিক ও শাসন ক্ষমতার ধ্বংস, সমস্ত জিম্মিকে মুক্ত করা এবং গাজা যাতে আর তাদের জন্য হুমকি না হয় তা নিশ্চিত করতেই যুদ্ধ নীতি গ্রহণ করেছিল ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার আগে ইসরায়েল ‘এই শর্ত পূরণের জন্য জোর দিতে থাকবে।’

অন্যদিকে মিসর সীমান্তে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে রাফাহতে শনিবারও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তরে গাজা শহরেও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৩৬ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং প্রায় ২৫২ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস।
খবর বিবিসি

কেবল এশিয়ায় নিরাপত্তা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ হতে পারে : অস্টিন

ওয়াশিংটনের কাছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অগ্রাধিকার রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘কেবল এশিয়ায় নিরাপত্তা থাকলেই’ যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ হতে পারে।

চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডং জুনের সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর সিঙ্গাপুরে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা সম্মেলনে লয়েড এ কথা বলেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে ব্যারোমিটার হিসেবে কাজ করা সাংগ্রি-লা সংলাপে অস্টিন আরও বলেছেন, এশিয়ায় নিরাপত্তা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ হতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তার উপস্থিতি বজায় রাখছে।

তিনি বলেন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহাসিক সংঘাত সত্ত্বেও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল আমাদের কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে বিশেষ করে ফিলিপাইনের সঙ্গে জোট ও অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করতে ইচ্ছুক। কারণ, ম্যানিলা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও প্রভাব মোকাবেলা করতে চায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত স্বশাসিত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তের শপথ গ্রহণের পর চীন এর আশেপাশে সামরিক মহড়া চালানোর এক সপ্তাহ পর চলতি বছরের সাংগ্রি-লায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হলো।

বাস্তবিক পক্ষে অস্টিন শুক্রবার ডংয়ের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করেন। এটি ছিল গত ১৮ মাসের মধ্যে দুই প্রতিরক্ষা প্রধানের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বৈঠকে উভয়ে আবারও সামরিক সংলাপের আশা ব্যক্ত করেন।

অস্টিন বলেছেন, আগামী মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সামরিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করবে। এদিকে বেইজিং দুই দেশের মধ্যকার স্থিতিশীল নিরাপত্তা সম্পর্কের প্রশংসা করেছে।

কিন্তু অস্টিন তার শনিবারের বক্তব্যে চীনকে খোঁচা মেরে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার নতুন যুগের কথা তুলে ধরে বলেছেন, এটি কোন একটি দেশের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়া নয় কিংবা গুন্ডামি অথবা জবরদস্তিও নয়।

তিনি বলেন, এটি একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সম্মিলন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীন পছন্দের বিষয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। তাই চুক্তির মিত্র ফিলিপাইন এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার মূল কেন্দ্র। কারণ, চীনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের যে কোনো সংঘাতে ফিলিপাইনের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এমপি আনার হত্যার মূল মামলা ভারতে, তদন্তও ভারতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এমপি আনার হত্যার মূল মামলা ভারতে হয়েছে এবং মূল তদন্তও ভারতে হবে। তবে তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

আজ শনিবার (১ জুন) দুপুর দেড়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) ছাত্রলীগ কর্তৃক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মূল হত্যাকাণ্ড যেহেতু ভারতে হয়েছে, সেহেতু মূল মামলাও ভারতে হয়েছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দী বিনিময় চুক্তি আছে। তাই ভারতই এ হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত করবে। আমাদের দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হলে আমাদের পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করত। তারা যদি আমাদের সম্পৃক্ত করে তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন নেপালে পালিয়ে গেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে আর আমরা বসে থাকবো এমন হতে পারে না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং সহযোগিতাকারী সবাইকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। নেপালে একজন পালিয়ে গেছে। তবে সে কোথায় আছে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত হচ্ছে, তাকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ অন্যায় করে তাহলে তার শাস্তি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী হবে। তার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি অন্যায় করেছেন না কি নির্দোষ, তিনি কি কর ফাঁকি দিয়েছেন না কি অন্যভাবে অর্থ সম্পদ গড়েছেন, সেটা তদন্ত শেষ হলে সে অনুযায়ী তার বিচার করা হবে।

তদন্ত চলমান অবস্থায় একজন আইজিপি বিদেশ চলে যেতে পারেন কি না, জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সে এখনো দেশে আছে নাকি বিদেশ চলে গেছে এটা আমি জানি না।

আইজিপির এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, না, এটা ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের পুলিশ বাহিনী অনেক কষ্ট করে। জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন, কোভিডসহ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করেছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় প্রতিষ্ঠান নেয় না।

জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি : পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের জলবায়ু কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ৮৭৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০৫০ সালের মধ্যে অভিযোজনের জন্য ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নের জন্য ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা (এমসিপিপি) এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর জন্য চিহ্নিত অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য ৪৭১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য সরকার বাংলাদেশ জলবায়ু উন্নয়ন অংশীদারিত্ব গঠন করেছে।

সাবের হোসেন চৌধুরী আজ শনিবার সাভারের ব্রাক সিডিএমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স এক্সেস অ্যান্ড মোবিলাইজেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিন দিন ব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সাবের চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি পরিবেশগত বিষয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং উন্নয়নমূলক বিষয়, যা আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ আমাদের নি¤œ-কার্বন, জলবায়ু-সহনশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমাদের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার কার্যকর করার জন্য আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

সাবের চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করার নৈতিক এবং আইনগত দায়িত্ব রয়েছে। আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো সম্মান করতে এবং পূর্বানুমেয়, পর্যাপ্ত এবং প্রবেশযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের সবুজ বন্ড, জলবায়ু বীমা এবং পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়নের উৎসগুলোও খুঁজে বের করতে হবে।

প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহ করতে রূপান্তরমূলক কর্ম বাস্তবায়ন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভালো, নিরাপদ এবং টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, সুইডেনের দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতার উপ-প্রধান নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রোম, ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার এবং উন্নয়ন পরিচালক ম্যাট ক্যানেল, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি স্টেফান লিলারও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সিভিল সোসাইটির প্রধান অংশীদারদের একত্রিত করেছিল। যারা বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধির এবং এর কার্যকর ব্যবহারের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।