শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৯

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে একটি রাশিয়ান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় পাঁচ শিশুসহ আরও ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকো।

বুধবার (১২ জুন) একটি আবাসিক ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম রয়টার্স।

ইউক্রেনের সামরিক কমান্ড টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হামলায় একটি প্রশাসনিক ভবন এবং একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান ক্লিমেনকো।

নিজের শহরে হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘প্রতিদিন এবং প্রতি ঘণ্টায়, রাশিয়ান সন্ত্রাস প্রমাণ করে যে ইউক্রেনকে তার অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে বিমান প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা উচিত।’

জেলেনস্কির শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, একজনকে স্ট্রেচারে করে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কংক্রিটের একটি ব্লক উত্তোলন করেছে।

আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি : ডোনাল্ড লু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৩ মে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের কিছু অংশ আলাদা করে পূর্ব তিমুরের মতো একটি ‘খ্রিষ্টান’ জাতি-রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত চলছে। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি যদি বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য একটি দেশকে অনুমতি দিতেন তবে গত জানুয়ারিতে তাকে ঝামেলামুক্ত পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অফারটি এসেছে একজন সাদা মানুষের কাছ থেকে।… আমি যদি একটি নির্দিষ্ট দেশকে বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দিতাম, তাহলে আমার কোনো সমস্যা হতো না।’

এই বিষয়টিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের আরও নানা বিষয়ে ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। লিখিত সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্র কি কখনও বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে?

জবাবে ডোনাল্ড লু লিখেছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি। নির্বাচনের সময় আমাদের অগ্রাধিকার ছিল শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করা।

গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফর করেন লু। এ সফরে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সম্পর্কের মাঝে আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনা ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা পেছনে নয়, সামনের দিকে তাকাতে চাই।”

সেই সঙ্গে তিনি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটমেন্টের ব্যাপারটিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

ডনাল্ড লু’র সফরের পরপরই গত ২০ মে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ৭০৩১ (সি) ধারার অধীনে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে “পাবলিক ডেজিগনেশন” (একধরনের নিষেধাজ্ঞা) ঘোষণা করে।

ডোনাল্ড লু তার এবারের সফরে বাংলাদেশের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, যারা ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করেছিল তাদের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা না করায় বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েন। এসব বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে ডোনাল্ড লু’র এই লিখিত সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

সাক্ষাৎকারে লু তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের অর্জন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, নারী অধিকার ও উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটমেন্টসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

তিনি তার এবারের সফরে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা না করা ও বাংলাদেশে নির্বাচন ইস্যুতে ও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিষয়ে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের “নমনীয়” নীতির সমালোচনার ব্যাপারেও তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

প্রশ্ন করা হয়, আপনার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে, আপনি বলেছেন যে বাংলাদেশে গত ৭ জানুয়ারিতে হয়ে যাওয়া সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয় ও এ দেশে গণতান্ত্রিক ধারা উৎসাহিত হয়– এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কিছু উদ্যোগের কারণে দু’দেশের সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে এখন আর পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের মাঝে আস্থার জায়গাটি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও কাজ করার কথা বলেছেন।

এটি কি বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত, যেখানে আপনারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্র সুরক্ষা ও প্রসারের বদলে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে বেশি মনোযোগ দিতে চান?

জবাবে ডোনাল্ড লু বলেন, আমার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় আমি যেমনটি বলেছিলাম, আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি, পেছনে নয়।

আমরা বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে আমাদের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হবে। নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় আমরা আমাদের অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দু’দেশের মধ্যে নিজেদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে একসাথে কাজ করে যাবার ব্যাপারে আশাবাদী।

(সেইসঙ্গে) বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন আমাদের জন্য একটি অগ্রাধিকার। আমরা সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সমর্থন করে যাব এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখব।

নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্তকারী সহিংসতার নিন্দায় আমরা সোচ্চার ছিলাম এবং আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার ঘটনাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যভাবে তদন্ত করতে এবং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যও অনুরোধ করেছি। এই বিষয়গুলো নিয়ে (সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে) আমাদের যোগাযোগ চালু থাকবে।

জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ইস্যুতে, যার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও রয়েছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি “নমনীয়” ভূমিকা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। আপনি এ সমালোচনার ব্যাপারে কী বলবেন?

উত্তরে ডোনাল্ড লু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে সমর্থন করে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো নির্বাচনকালে আমরা নিয়মিত বাংলাদেশের সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার কাজে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে তাদেরকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্তকারী সহিংসতার নিন্দায় আমরা সোচ্চার ছিলাম এবং আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার ঘটনাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যভাবে তদন্ত করতে এবং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যও অনুরোধ করেছি। এই বিষয়গুলি নিয়ে (সংশ্লিষ্টদের সাথে) আমাদের যোগাযোগ চালু থাকবে।

আরেকটি প্রশ্ন ছিল, আপনার সাম্প্রতিক সফরে আপনি সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেও নির্বাচন বয়কটকারী বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করেননি। আপনার সাম্প্রতিক সফরে কেন বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা না করার সিদ্ধান্ত নিলেন?

জবাবে লু বলেন, এটা প্রাক-নির্বাচনের সময় নয়, তাই এবারের সফরে আমি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করিনি। এটা সত্য যে গত বছর নির্বাচনের আগে আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকের সুযোগ পেয়েছিলাম। এটা প্রাক-নির্বাচনের সময় নয়, তাই এবারের সফরে আমি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করিনি।

এবার ঢাকায় থাকাকালীন আমার সৌভাগ্য হয়েছে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার। (এর মধ্যে ছিলেন) সুশীল সমাজের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাথেও আমি দেখা করেছি, যারা আমাকে বোলিং এবং ব্যাটিং সম্পর্কে দু’একটি ব্যাপার শিখিয়েছে।

আরেকটি প্রশ্ন ছিল, আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সাথে একসাথে কাজ করার জন্য আপনার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াইয়েরই একটি অংশ? আপনি কি (দুর্নীতিসংক্রান্ত) এই ইস্যুগুলো সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা করার সদিচ্ছা নিয়ে সন্তুষ্ট?

এর উত্তরে ডোনাল্ড লু বলেন, আমি যখন আলবেনিয়া এবং কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রদূত ছিলাম, আমরা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশান) দিয়েছিলাম। এটি তখনকার (আলবেনীয়) সরকারের কাছে জনপ্রিয় ছিল না, কিন্তু এখন সেই নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাবেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সবাই কারাগারে। সারা বিশ্বের সমাজ দুর্নীতির বিচার দেখতে আগ্রহী।

আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ২০ মে, আমরা ৭০৩১ (সি) ধারার অধীনে সাবেক জেনারেল আজিজ আহমেদের উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে “পাবলিক ডেজিগনেশন” ( একধরনের নিষেধাজ্ঞা) ঘোষণা করি। দুর্নীতির এ অভিযোগগুলোর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিবৃতি দিয়েছেন, আমরা এ ব্যাপারটি স্বাগত জানাই।

আমি আশা করি, আমরা বাংলাদেশের জনগণের সাথে মিলে সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাব।

অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য হাইপ্রোফাইল বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপরও দুর্নীতি সম্পর্কিত এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি দেখতে পাবো? জানতে চায় ভয়েস অব আমেরিকা।

ডোনাল্ড লু জানান, যখন আমাদের কাছে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে, তখন আমরা সারা বিশ্বেই নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা বিধিনিষেধের আকারে প্রকাশ্যে পদক্ষেপ নিই। আমাদের আইনগুলি আমাদেরকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা তাদের দুর্নীতির অর্থের গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট। আমি আশা করি, আমরা বাংলাদেশের জনগণের সাথে মিলে সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাব।

প্রশ্ন করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরীক্ষণের জন্য আপনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিনামূল্যে স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? আপনার মতে, দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোন ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?

ডনাল্ড লু জানান, মে মাসে ঢাকা সফরের সময় প্রচণ্ড গরমে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আমি নিজেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করেছি। জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ক্লিন এনার্জি ক্যাপাসিটি গড়ে তোলা, কৃষি ও বিদ্যুতের মতো খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে পরিবেশ সংরক্ষণের দিকে মনোনিবেশ করছি। (এ বিষয়ে) বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল।

একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, যা স্বাধীন এবং উন্মুক্ত, সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাপারে এমন একটা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে।

প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে? এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো কী?

উত্তরে লু বলেন, একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, যা স্বাধীন এবং উন্মুক্ত, সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাপারে এমন একটা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে। একটি গতিশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তাকে এ অঞ্চলের বাণিজ্য প্রসারের একটা সেতু এবং এই অঞ্চলে সমৃদ্ধির নোঙ্গর হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

আমরা এই অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উন্নয়নে আমাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের সাথে কাজ করার দিকে মনোনিবেশ করছি। এ ইস্যুগুলোসহ অন্য ইস্যুগুলোর সমন্বয়, আমাদের উভয় দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

রাদারফোর্ড ঝড়ে লড়াকু সংগ্রহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের

টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ত্রিনিদাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৩০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ক্যারিবিয়ানরা। সেখান থেকে শেরফান রাদারফোর্ডের ঝড়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজিই দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রাদারফোর্ডের ৩৯ বলে ৬৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অথচ ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড বোলারদের সামনে ধুঁকছিল ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। জনসন চার্লসকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। নিকোলাস পুরান পাল্টা আক্রমণ করলেও ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি। ০ রানে সাজঘরে ফেরেন রস্টন চেজও। এরপর ব্র্যান্ডন কিং ৯ এবং রভম্যান পাওয়েল ১ রানে ফিরলে ভীষণ চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই চাপ আরও বাড়ে আকিল হোসেইন ১৫ রান করে বিদায় নিলে।

এরপর কিউই বোলারদের সামনে একাই লড়েন রাদারফোর্ড। তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে এনে দেন লড়াকু একটা পুঁজি। শেষদিকে, আন্দ্রে রাসেল ১৪ এবং ১৩ রান করেন রোমারিও শেফার্ড।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন বোল্ট। দুটি করে উইকেট যাত টিম সাউদি এবং লকি ফার্গুসনের পকেটে

১৬ বছরে ১৪ লাখ মাদক কারবারি গ্রেফতার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৬ বছরে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ মামলার বিপরীতে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৫২৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

বুধবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী লিখিত প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংসদে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও উদ্বেগজনক হারে তরুণ সমাজে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদক সমস্যার কবলে পড়েছে মূলত ভৌগলিক কারণে। আমাদের দেশে অবৈধ মাদক প্রবেশ করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। বর্তমান সময়ের আলোচিত মাদক ইয়াবার অনুপ্রবেশ ঘটে মায়ানমার থেকে। ভারত থেকে আমাদের দেশে গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন ও ইনজেক্টিং ড্রাগ অনুপ্রবেশ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স” বাস্তবায়নে সকল সংস্থা বদ্ধপরিকর। দেশের তরুণ সমাজ ও তারুণ্যের শক্তিকে মাদক ও নেশার হাত হতে রক্ষার জন্য মাদক নির্মূলে সরকার গত ১৫ বছরে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেইজন্য মাদকাসক্ত সনাক্তকরণের লক্ষ্যে ‘ডোপ টেন্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদকাসক সনাক্তকরণের লক্ষ্যে ‘ডোপ টেস্ট’ করা হচ্ছে। এই ‘ডোপ টেস্ট’ চালুর ফলে তরুণ সমাজ মাদক গ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে।

মাদকদ্রব্য গ্রহণে জনসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক ৮৩ হাজার ৪১৭টি মাদকবিরোধী সভা/সেমিনার/ওয়ার্কসপ এবং ১৩৭টি স্থানে মাদকবিরোধী শর্ট ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। একইসাথে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দিদের মাঝে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা আয়োজন হয়েছে ৯৭১টি এবং ৫৫ হাজার ৮৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সভা আয়োজন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদকগ্রহণ বন্ধে ৫ হাজার ৮৩ জন শিক্ষককে মেন্টর হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী ৩১ হাজার ৮০টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ৪৬৫টি কিয়স্ক স্থাপন করা হয়েছে। মাদকবিরোধী ১০৪টি টকশো প্রচার করা হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়ায় ৫৪৩টি এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ৫১০টি মাদকবিরোধী বিজ্ঞাপন/টিভি স্ক্রল প্রচার করা হয়েছে।

মানবদেহে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সংবলিত স্টিকার বিতরণ ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৮২টি, ৬৪ লাখ ১৭ হাজার ১৭টি মাদকবিরোধী লিফলেট; ১২ হাজার ৫৭৫টি এক্রেলিক পিভিসি বোর্ড, ১ লাখ টি মাস্ক, ৩৫ হাজার ৮১৬টি খাতা, ৬৪ হাজার ১৫১টি কলম, ২০ হাজার ৭০টি টি-শার্ট, ২০ হাজার ৭৫টি ক্যাপ, ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৩টি জ্যামিতি বক্স, ৭ লাখ ২৮ হাজার স্কেল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ অফিসসমূহে বিতরণ করা হয়েছে।

ইউক্রেনে নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পাঠাবে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনে আরেকটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে।

পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহের শুরুতে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার আবেদন করার পর এমন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের সিদ্ধান্তের খবর এলো।

জেলেনস্কি সম্প্রতি পূর্ব খারকিভ অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য আরো অনেক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেখানে রাশিয়া সম্প্রতি নতুন করে আগ্রাসন চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার বার্লিনে এক পুনর্গঠন সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা হল আকাশে তাদের আধিপত্য। রাশিয়া বিমানের সাহায্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা হামলা চালাচ্ছে। আর এটি তাদের সৈন্যদের স্থলভাগে অগ্রসর হতে সাহায্য করছে।

তবে কবে নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
খবর এএফপি

শান্তি সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্ব শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। শান্তি সূচকের এ তালিকায় ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম।

মঙ্গলবার (১২ জুন) প্রকাশিত হয়েছে গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৪-এর প্রতিবেদন। এই তালিকা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকনমিক্স অ্যান্ড পিস’ নামের একটি সংস্থা। তারা জানিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, সামরিকীকরণ এবং চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেশগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে , দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৪-এর রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২ দশমিক ১২৬ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৩তম স্থানে একটি মাঝারি মানের শান্তির দেশ বলে চিহ্নিত হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সূচকে যে দেশের স্কোর পয়েন্ট যত কম সেই দেশ তত বেশি শান্তিপূর্ণ। তারা বিশ্ব শান্তি সূচক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উৎস থেকে ২৩টি গুণগত এবং পরিমাণগত সূচক ব্যবহার করেছে। সেইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মাত্রা, চলমান অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের পরিধি এবং সামরিকীকরণের মাত্রা এই তিনটি ক্ষেত্রে শান্তি পরিস্থিতি পরিমাপ করেছে।

চলমান অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৫১৫, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৩২২ এবং সামরিকীকরণ ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫০৬ স্কোর পেয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবথেকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভুটান। বিশ্ব শান্তি সূচকে ২০১১ সাল থেকে এই অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান। বিশ্বে সব থেকে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় ২১তম স্থানে আছে এই দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটানের পরেই আছে নেপাল। বিশ্ব সূচকে নেপাল ৮১তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ এবং বিশ্বে ১১০তম স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে ভারত। বিশ্বে ভারতের অবস্থান ১১৬তম। শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় পাকিস্তান ১৪০তম এবং আফগানিস্তান ১৬০তম স্থানে আছে।

অনেক বড় জায়গা থেকে তদবির হচ্ছে : এমপি আনারের মেয়ে

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক বড় জায়গা থেকে তদবির হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বুধবার (১২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান তিনি।

আনারকন্যা ডরিন বলেন, অনেক বড় জায়গা থেকে তদবির হচ্ছে। তদবিরের চাপে তদন্ত প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সঠিক বিচার চাই। সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছে- আইন, বিচার সব নিজস্ব গতিতেই চলবে। অপরাধীরা পার পাবে না।

চাঞ্চল্যকর আনার হত্যাকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে আটক করার পরদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসব কথা বললেন আনারের বড় মেয়ে ডরিন।

এদিকে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যে কোনো সময় ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান নিহত সংসদ সদস্যের কন্যা। এজন্য সেদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ কেজি সোনাসহ যাত্রী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ কেজি ১১১ গ্রাম সোনাসহ ১ যাত্রীকে আটক করেছে।

আজ বুধবার আব্দুর রহমান সোহাগ নামের দুবাই থেকে আসা ওই যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল এলাকা অতিক্রম করার সময় চ্যালেঞ্জ করে আটক করে এনএসআই।

জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউএসবাংলার একটি ফ্লাইটে আসা আটক ব্যক্তি তার কাছে শুল্ক প্রদানকৃত ১১৬ গ্রাম ওজনের ০১ টি স্বর্ণবার ও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ব্যতীত অন্য কোনো সোনা নেই বলে জানান। যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরবর্তী সময়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আর্চওয়ের মাধ্যমে দেহ তল্লাশি করানো হলে তার রেক্টামে সোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। অতপর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এনএসআই সদস্যদের উপস্থিতিতে বর্ণিত যাত্রীকে ওয়াশরুমে নিয়ে তার রেক্টাম থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো প্রায় ৩১৬ গ্রাম ওজনের ০৬ টি (১৮৯৬ গ্রাম) ডিম্বাকৃতির সোনা পিণ্ড উদ্ধার করে। ১১৬ গ্রাম ওজনের সোনার বার ও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ১৮৯৫ গ্রাম পেস্ট গোল্ডসহ যাত্রীর কাছে থেকে মোট ২ কেজি ১১১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ১০ টাকা।

উদ্ধার হওয়া সোনাসহ আটক যাত্রী বর্তমানে কাস্টমসের হেফাজতে রয়েছেন। আরও সোনার উপস্থিতি আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কাস্টমসের পক্ষ থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হবে এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া চলমান।

ঈদে যানজট এড়াতে ডিএমপি’র ২২ নির্দেশনা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও যানজট এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

২২ দফা ট্রাফিক নির্দেশনা–

১. ঢাকা মহানগরীতে দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের বাইরে সড়কে বাস রেখে বা থামিয়ে যাত্রী ওঠানো যাবে না। যাত্রীরা টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবস্থায় বাসের আসন গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট বাসের প্রতিনিধিদের এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

২. আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসগুলো টার্মিনাল সংলগ্ন প্রধান সড়কের অংশ দখল করে দাঁড়াবে না।

৩. ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন থেকে নিবৃত থাকতে হবে।

8. আন্তঃজেলা পরিবহনের যাত্রীরা বা গমন প্রত্যাশীদের প্রধান সড়কে এসে অপেক্ষা বা দাঁড়িয়ে না থেকে টার্মিনালের ভেতরে অবস্থান করার জন্য আহ্বান করা হলো।

৫. দূরপাল্লার ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন বা অননুমোদিত রুটে কোনো বাস চলাচল করবে না। বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলবেন এবং কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবেন।

৬. বাসের ভেতরে যাত্রীদের অপরিচিত কারো কাছ থেকে কিছু না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

৭. সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা অবশ্যই যানবাহনে টিকিট বহন করবেন।

৮. আন্তঃজেলা ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন যেমন– বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, তেজগাঁও, কমলাপুর ইত্যাদি স্টেশনে এবং স্টেশন থেকে যাত্রী সাধারণ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সচেষ্ট থাকবে।

৯. ঈদ উপলক্ষ্যে লঞ্চ টার্মিনালকেন্দ্রিক যেন কোনো যানজট সৃষ্টি না হয়, সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

১০. যাত্রীদের মালামাল নিজ হেফাজতে সাবধানে রাখবেন।

১১. কোনো যানবাহনেই ছাদের ওপর যাত্রী বহন করা যাবে না।

১২. যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে বাসের চালকরা এমন কোনো অসম প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন না যেন সড়কের শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটে ও জীবনহানির সম্ভাবনা থাকে।

১৩. টার্মিনালে বাস ও লঞ্চ কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন করতে হবে।

১৪. মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা যেন সর্বদা হেলমেট পরিধান করে ও গতিসীমা মেনে চলাচল করে, সে বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশ নিশ্চিত করবে।

১৫. অনেক সময় টার্মিনাল বা আশপাশের ফাঁকা জায়গায় খালি ট্রাক বা পিকআপে যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে দূরপাল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার প্রয়াস চালানো হয়। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ এ বিষয়ে অতীতেও সোচ্চার ছিল এবং সব সময় থাকবে।

১৬. ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত লাভের আশায় ইন্টারসিটি গণপরিবহনগুলো রুট পারমিটবিহীন বা অনুমোদনবিহীন যেন ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরে যত্রতত্র না চলে সে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে মালিক/শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত আছে।

১৭. এ ঈদে ঢাকা থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ঢাকায় নিয়মিত জনসাধারণের আসা-যাওয়া চলমান থাকে। এজন্য মহানগরীর প্রবেশ ও বের হওয়ার স্থানগুলোতে যেন কোনো যানজট তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে এমন প্রতিটি স্থানে হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ডিএমপি ট্রাফিক পুলিশের শক্ত যৌথ প্রচেষ্টা থাকবে।

১৮. পশুবাহী গাড়িগুলো অবশ্যই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অনুমোদিত হাটের ভেতর লোড-আনলোড করতে হবে। কোনোক্রমেই হাটের বাইরে অথবা রাস্তায় লোড-আনলোড করা যাবে না।

১৯. গরুর হাটকেন্দ্রিক সুষ্ঠু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন, হাট ইজারাদার, পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

২০. কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয়।

২১. বাস টার্মিনাল ও গরুর হাট কেন্দ্রিক সার্ভিল্যান্স টিম গঠন থাকবে।

২২. ঈদুল আজহার সাত দিন আগে থেকে গরুর হাটকেন্দ্রিক সার্বক্ষণিক ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং প্রয়োজনে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে।

ঈদ উপলক্ষ্যে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জনসাধারণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।

এমপি আনার হত্যা মামলা তদন্তে কোনো চাপ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে তদবির বা কোনো চাপ নেই। সঠিক পথেই তদন্ত আগাচ্ছে। বুধবার (১২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আনারের মেয়ে বাবা হত্যার বিচার তিনি চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তদন্তে কেউ যাতে পার পেয়ে না যায় তিনি সেই অনুরোধ করেছেন। এই হত্যার তদন্তে কোনো তদবির বা চাপ নেই। কে চাপ দিবে? তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে সেভাবেই বিচার প্রক্রিয়া আগাবে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ভুল করলে তা তদন্তে চলে আসবে। তিনি আইজিপি থাকার সময় মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। সুতরাং দায় নেয়ার প্রশ্নেই আসে না।

মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিন যাবার পথে মিয়ানমার থেকে গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। সে দেশের পুলিশ অস্বীকার করেছে। মিয়ানমারে যুদ্ধ চলায়, কার গুলি এসেছে বোঝা কঠিন। তবে সেন্টমার্টিনের সাথে যোগাযোগ ও পণ্য পাঠানোর সবকিছুই ঠিক আছে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। কোন সমস্যা হবে না।

এর আগে দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। এসময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক বড় জায়গা থেকে তদবির হচ্ছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, অনেক বড় জায়গা থেকে তদবির হচ্ছে। তদবিরের চাপে যাতে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়। মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সঠিক বিচার চাই। সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছে- আইন, বিচার সব নিজস্ব গতিতেই চলবে। অপরাধীরা পার পাবে না।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যাকে আটক করা হয়েছে, সে আমাদের প্রতিপক্ষ না। সে বাবার শত্রু না। কে তাকে ধরাচ্ছে? তিনটি ফোন একদিনে হারিয়ে যাচ্ছে, টাকার লেনদেন হচ্ছে- এই বিষয়গুলো সন্দেহজনক। কে এই টাকার যোগানদাতা?