শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

দক্ষিণ গাজায় আটকা পড়েছেন ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি

অবরুদ্ধ গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন। তাদের কাছে একদিকে যেমন নেই বিশুদ্ধ পানি তেমনি নেই স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তাছাড়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় শুক্রবার (১৪ জুন) অন্তত ২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জন।

গত ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ হাজার ২৬৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৫ হাজার ১০৩ জন।

সম্প্রতি গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যা এরই মধ্যে জাতিসংঘে পাস হয়েছে। কিন্তু এই প্রস্তাব কার্যকরের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ইসরায়েল ও হামাসের পক্ষ থেকে এখনো বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা থেকে হামাস উৎখাতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে হামাসের দাবি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার। ফলে জটিল হয়েছে পড়েছে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাইডেন বলেছেন, গাজায় খুব শিগগির যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। তবে তিনি এখনো আশা ছাড়েননি।

৩২ বলে ম্যাচ জিতে রেকর্ড গড়লো নিউজিল্যান্ড

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। প্রথম দুই ম্যাচ হারায় শেষ আটে ওঠা হল না আগের আট আসরে গ্রুপ পর্বের বাঁধা উতরাতে পারা কিউইদের। আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর আজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে উগান্ডার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল কেইন উইলিয়ামসনের দল। পুঁচকে উগান্ডাকে পেয়ে যেন গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার ঝাঁঝ মিটিয়েছেন কিউই ক্রিকেটাররা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে উগান্ডা আজ করতে পেরেছে কেবল ৪০ রান। বিশ্বকাপে সবথেকে কম দলীয় সংগ্রহের তালিকায় এটি আছে তিন নম্বরে। অবশ্য এ রেকর্ডের ১ নম্বরেও আছে উগান্ডাই। এবারের আসরে কদিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলটি আউট হয়েছিল ৩৯ রানে।

এদিকে ৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ একটি উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দলীয় ২৪ রানে ফিন অ্যালেন আউট হলেও ৩২ বলেই জয় তুলে নিতে পেরেছে কিউইরা।

১৫ বলে ২২ রান করে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ডেভন কনওয়ে। এদিকে ৩২ বলে ম্যাচটি জিতে নিয়ে একটি রেকর্ডও গড়েছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি বল হাতে রেখে জয়ের তালিকায় কিউইদের এই জয় আছে তালিকার তিনে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের সবথেকে বেশি হাতে রেখে জয়ও এখন এটি। এর আগের রেকর্ডটি ছিল কেনিয়ার বিপক্ষে। ২০০৭ সালে সেই ম্যাচটি কিউইরা জিতে নিয়েছিল ৭৪ বল হাতে রেখে।

আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফার ময়দান

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নারকীয় হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ায় শোকসন্তপ্ত পরিবেশে ও সৌদি আরবের গ্রীষ্মকালীন তাপদাহের মধ্যে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ জুন) পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ লাখেরও বেশি মুসুল্লি হজের এ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।

ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজের দিনে তারা ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতির মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে গুনাহ মাফের আকুল আবেদন করবেন। তাদের মুখে উচ্চারিত হবে ‘‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা, ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’’। অর্থাৎ ‘আমি উপস্থিত হয়েছি হে আল্লাহ। আমি উপস্থিত হয়েছি তোমার সমীপে। তোমার কোনো শরিক নেই। পুনরায় আমি উপস্থিত হয়েছি। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা ও সকল নিয়ামত শুধু তোমারই জন্য। সব সাম্রাজ্যও তোমার এবং তোমার কোনো শরিক নেই।’

সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে সমবেত মুসলমানরা আজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে যাবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এ ময়দানের চারদিকে হলুদ বোর্ড দিয়ে চিহ্নিত এলাকার ভেতরে অবস্থান করবেন। এখানেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তারা অসহনীয় গরম উপেক্ষা করে প্রায় সার্বক্ষণিক জিকিরে মশগুল রয়েছেন। তালবিয়া পড়ছেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় আল্লাহতায়ালার আনুগত্য প্রকাশ করছেন। তিন দিক থেকে পাহাড় পরিবেষ্টিত আরাফাত ময়দানে রয়েছে রহমতের পাহাড় (জাবালে রহমত)। দোয়া কবুলের স্থান হওয়ায় অনেকেই এ পাহাড়ে উঠে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

১৪শ বছরেরও বেশি সময় আগে এ ময়দানেই বিদায় হজের খুতবা দিয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ কারণে আরাফাত ময়দানে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার পর যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অসুস্থদের অনেকেই হুইলচেয়ারে করে এ ময়দানে আসেন।

আজ জোহরের নামাজের আগে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বরে দাঁড়িয়ে আরবি ভাষায় হজের খুতবা পাঠ করা হবে। এবার খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব ড. শেখ মাহের বিন হামাদ। হজের খুতবা বাংলাসহ প্রায় ১৪টি ভাষায় অনুবাদ করে শোনানোর প্রস্তুতি রয়েছে। খুতবার পর মসজিদে নামিরায় সমবেত মুসলমানরা এক আজান এবং দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন। কারোর অবস্থান দূরে থাকলে তিনি নিজের তাঁবুতে আলাদাভাবে আদায় করবেন জোহর এবং আসরের নামাজ।

সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছু সময় পরে হজযাত্রীরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাত ময়দান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মুজদালিফায় গিয়ে এশার নামাজের সময় একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর সেখানেই খোলা আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে রাত যাপন করবেন। এর আগে প্রতীকী শয়তানের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপের জন্য তারা সেখান থেকে পাথর সংগ্রহ করবেন। এর পরের দিন হজযাত্রীরা ফজরের নামাজ আদায়ের পর সূর্যোদয়ের আগে কিছু সময় অবশ্যই মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। এরপর তারা যাবেন মিনায়।

মিনার জামারায় (শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছোঁড়ার স্থান) বড় শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী সাতটি পাথর নিক্ষেপ শেষে পশু কোরবানি এবং রাসুলুল্লাহর (সা.) আদর্শ অনুসরণে পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের পর গোসল করবেন। নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে প্রায় এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল কাটবেন। এরপর হাজিরা সেলাইবিহীন ইহরাম খুলবেন। এরপর হাজিরা মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে সুবেহ সাদিকের পর থেকে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। কাবা শরিফের সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাতবার ‘সাই’ (দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার ফিরে যাবেন মিনায়, নিজেদের তাঁবুতে।

হজযাত্রীরা ১১ জিলহজ আবার জামারায় গিয়ে জোহরের নামাজের পর থেকে পর্যায়ক্রমে ছোট, মধ্যম ও বড় শয়তানকে সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। একইভাবে ১২ জিলহজ আবারও ছোট, মধ্যম ও বড় শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপের পর সন্ধ্যার আগে তারা মিনা ত্যাগ করবেন। ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময়ে কাবা শরিফকে ফরজ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

মেসি-মার্টিনেজের গোলে আর্জেন্টিনার বড় জয়

গত ম্যাচে পুরোটা সময় খেলেননি। তাতেই লিওনেল মেসির ফিটনেস নিয়ে কথা হয়েছিল ইকুয়েডরের বিপক্ষে ডেডলক ভাঙতে পারেননি দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় খেলেও। কিন্তু কোপা আমেরিকার ঠিক আগে ঠিকই নিজের চেনা ছন্দে ফিরে এলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। জোড়া গোলের সঙ্গে করেছেন অ্যাসিস্টও।

প্রতিপক্ষ অনেকটা পিছিয়ে থাকা দল গুয়াতেমালা। তাতে কি। একাদশে ফেরার দিনে মেসি কেমন করেন, সেটাই ছিল প্রশ্ন। গনজালো মন্তিয়েল , নাহুয়েল মলিনা আর এনজো ফার্নান্দেজের মত তারকাদের ফেরার মঞ্চ ছিল এই ম্যাচটিই। এমনকি জাতীয় দলে গোলখরায় থাকা লাউতারো মার্টিনেজের জন্যও এই ম্যাচও ছিল বিশেষ কিছু। মেসি মার্টিনেজের জোড়া গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা জয় পায় ৫-১ গোলে।

মেসির প্রথম একাদশে ফেরার ম্যাচে শুরু থেকেই পজেশন ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। গুয়াতেমালা আঁচ করেছিল এমন কিছু। শুরু থেকেই তাই তাদের মনোযোগ ছিল রক্ষণের দিকে। চকিত কাউন্টার অ্যাটাকে চমকে দেবে আর্জেন্টিনাকে। এটাই ছিল লক্ষ্য। তাতে ফল চলে আসে ম্যাচের ৪ মিনিটে।

গুয়াতেমালার প্রথম চেষ্টা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়ান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। তবে গুয়াতেমালার জমাট রক্ষণ আর্জেন্টিনাকে তেমন কোনো সুবিধা করতে দেয়নি। পাশাপাশি প্রতি-আক্রমণও কিছুটা ভয়ও ধরিয়ে দিয়েছিল।

১২ মিনিটের গোলটায় অবশ্য গুয়াতেমালা নিজেদেরই দায় দিবে। রক্ষণের ভুলে বক্সের ভেতর মেসির পায়ে বল তুলে দেন দলটির গোলরক্ষক। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান তিনি।

কাউন্টার অ্যাটাকে পিছিয়ে ছিল না যদিও শেষ পর্যন্ত পাওয়া হয়নি গোল। ৩৫ মিনিটের পর নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায় আর্জেন্টিনা। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে ‍গুয়াতেমালাকে ক্রমাগত কোণঠাসা করে দেয় লাতিন পরাশক্তিরা। যার ফলও আসে ৩৯ মিনিটে।

বক্সের ভেতর ভ্যালেন্টিন কার্বোনি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে পেনাল্টি শটটি নিজে না নিয়ে লাওতারো মার্তিনেজকে সুযোগ করে দেন মেসি। লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ালেও গোলের দেখা পেতে খানিকটা অপেক্ষাই করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ পর্যন্ত মেসি আর মার্টিনেজের সুবাদে আরেক গোল পায় আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মেসির কাছ থেকে পাওয়া বলে সহজ ফিনিশ করেন মার্টিনেজ।

৭৭ মিনিটে দেখা গেল মেসি এবং ডি মারিয়ার যুগলবন্দী। দারুণ এক ওয়ান টু ওয়ানে আনহেল দি মারিয়ার কাছ থেকে বল পান মেসি। চিরচেনা চিপে শটে বল জালে জড়ান এলএমটেন। ৪-১ গোলের জয়ও নিশ্চিত হয় সেই সুবাদে।

এমপি আনার হত্যা : আ. লীগ নেতা বাবুর দায় স্বীকার

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু।

আদালতে শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (১৪ জুন) আসামি বাবু স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এই মামলায় এর আগে শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে, গত ৯ জুন আদালত ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই মামলায় এর আগে শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

অভিবাসন আইন না মানায় হাঙ্গেরিকে জরিমানা ইইউর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আদালত হাঙ্গেরিকে ২০ কোটি ইউরো জরিমানা করেছে এবং ব্লকের আশ্রয় আইন মানতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং অভিবাসীদের অবৈধভাবে নির্বাসনের জন্য দৈনিক ১০ লাখ ইউরো জরিমানা করেছে।

ইউরোপীয় আদালত বলেছে, জরিমানা করার কারণ বুদাপেস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনগুলোকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে’। ২০২০ সালের এক রায়ে বলা হয়েছে আশ্রয় প্রার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক আইনগুলো মেনে চলতে হবে।

নজিরবিহীন এবং ব্যতিক্রমী গুরুতর লঙ্ঘন তাই আদালত হাঙ্গেরিকে ২০ কোটি ইউরো এবং বিলম্বের জন্য প্রতিদিন ১০ লাখ ইউরো জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেয়।’

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের অতি-ডানপন্থী ফিদেজ পার্টি দ্বারা শাসিত, যা গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত ইইউ নির্বাচনে দেশের শীর্ষে ছিল।

অরবান এবং তাকে সমর্থনকারী ভোটাররা হাঙ্গেরিতে আশ্রয় প্রার্থীদের অনুমতি দেওয়ার বিরোধিতা করে যদিও ইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইনগুলো সুরক্ষার জন্য পৃথকভাবে নিয়মগুলো অনুসরণ করতে বাধ্য হয়।

আদালত বলেছে,বুদাপেস্ট অভিবাসীদের আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয় চাওয়ার জন্য তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে রেখেছে এবং তাদের আবেদনের প্রক্রিয়া চলাকালীন হাঙ্গেরিতে থাকার অধিকারকে সমর্থন করছে না।

ফলস্বরূপ, আদালত হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জরিমানা করার জন্য ইউরোপীয় কমিশনের অনুরোধকে সমর্থন করে বলেছে, এটি এমন একটি পথ অনুসরণ করছে যা ‘সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংহতি এবং ন্যায্য দায়িত্ব ভাগ করার নীতিকে গুরুতরভাবে হ্রাস করে।’

ইইউ সদস্য দেশগুলোকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে কিভাবে তারা ২০২৬ সালে কার্যকর হওয়া নতুন আশ্রয় বিধি প্রয়োগ করবে।

এই নিয়মগুলো অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য ব্লকের সীমানাকে আরও কঠিন করে তুলবে, যারা আশ্রয় দাবি করার জন্য অযোগ্য বলে প্রমাণিত তাদের জন্য দ্রুত নির্বাসনসহ যাচাইকরণ পদ্ধতির মুখোমুখি হবে।

অভিবাসীদের ধরে রাখার জন্য নতুন সীমান্ত কেন্দ্র তৈরি করা হবে যখন তাদের আশ্রয়ের অনুরোধগুলো গঠন এবং অধ্যয়ন করা হবে।
নতুন নিয়মগুলোর জন্য ইইউ দেশগুলোকে ইতালি এবং গ্রিসের মতো ‘ফ্রন্টলাইন’ রাজ্যগুলো থেকে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করতে হবে বা পরিবর্তে চাপের দেশগুলিকে অর্থ বা অন্যান্য সংস্থান সরবরাহ করতে হবে।

হাঙ্গেরি নতুন নিয়মগুলোকে প্রতিহত করেছে, বিশেষত সেই শেষ বিন্দু, যুক্তি দিয়ে যে তার কট্টরপন্থী পদ্ধতিই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রক্ষা করে।

কুয়েতে নিহত ৪৫ শ্রমিকের লাশ পৌঁছেছে ভারতে

কুয়েতের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ ভারতীয় শ্রমিক। ভারতের বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে করে কুয়েত থেকে তাদের লাশ দেশে আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে লাশ নিয়ে সি-১৩০ জে বিমান কুয়েত থেকে যাত্রা করে বেলা ১১টায় কেরালার এর্নাকুলাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মৃতদের অধিকাংশই কেরালার বাসিন্দা হওয়ায় বিমানটি প্রথমে সেখানে নামে।

সকাল থেকেই মৃতদের পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন বিমানবন্দরে। বিমানে করে লাশ ফিরতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বিমানবন্দরজুড়ে।

অগ্নিকাণ্ডে ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৪৫ জনই ভারতীয়। দুজন ফিলিপিন্সের। আর দুটো দেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

নিহত ভারতীয় শ্রমিকদের ২৩ জনই হলেন কেরালার বাসিন্দা। তবে এদের মধ্যে সাতজন থাকতেন তামিলনাডুতে। উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশের তিনজন করে শ্রমিক মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উড়িষ্যার দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাবের একজন করে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার ভোরে কুয়েতের রাজধানী শহরের দক্ষিণে মাঙ্গাফ এলাকার একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। সেখানে মূলত ১৭৬ ভারতীয় শ্রমিক বাস করতেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আরব টাইমস জানায়, কর্তৃপক্ষের চালানো তদন্তে দেখা গেছে, কুয়েতের ছয়তলা ওই আবাসিক ভবনের নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীর কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এসব শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে দ্রুত ভারতীয়দের লাশ ফিরিয়ে আনতে কুয়েত যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। পরে কীর্তিবর্ধন সিং ফিরে আসেন।

জুনইে ঢাকায় আসতে চলেছেন নরন্দ্রে মোদি

কথা ছিল জুনের শেষে বা আগামী জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের নতুন সরকারের আমলে প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে ভারত সফরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু পরিকল্পনায় শেষ মুহূর্তে কিছু রদবদল এনে এখন ভাবা হচ্ছে, বরং নরেন্দ্র মোদিই জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে যেতে পারেন।

সেটা হলে প্রধানমন্ত্রিত্বের নতুন মেয়াদে এটা হবে নরেন্দ্র মোদির প্রথম কোনও দেশে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর।

এর একটা প্রধান কারণ হলো, তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শেখ হাসিনা সদ্যই দিল্লি ঘুরে গেলেন। যদিও এটাকে সৌজন্য সফর বলাই বেশি সমীচীন, তারপরও ঢাকা চাইছে এবার বরং নরেন্দ্র মোদিই ঢাকা আসুন।

তা ছাড়া শেষবার যে দ্বিপক্ষীয় সফর হয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে, তখন শেখ হাসিনাই দিল্লিতে এসেছিলেন। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বরেও জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে তিনি দিল্লিতে আসেন, যদিও সেটা ঠিক দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না।

কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী আসলে পরের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীরই বাংলাদেশ যাওয়ার কথা। যদিও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হাসিনা-মোদির আমলে প্রোটোকলের বাইরে গিয়েও বহু পদক্ষেপ নেওয়ার নজির আছে, এ ক্ষেত্রে কিন্তু ঢাকা চাইছে নরেন্দ্র মোদিই বরং বাংলাদেশে আসুন।

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার যে একান্ত বৈঠক হয়েছে, সেখানেই এই সফরের জন্য আমন্ত্রণপত্র তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছে।

তবে সেই প্রস্তাবিত সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি– যদিও জুনের শেষ দিকে কোনও একটা বা দুটো তারিখ নিয়েই ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী মোদি শেষবারের মতো বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন ২০২১ সালের মার্চে, যা ছিল সোয়া তিন বছর আগে। চলতি জুনে ঢাকায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর।

এর আগে গত মাসেই (মে) ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় মোহন কোয়াটরা ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার হাতে ভারত সফর করার আমন্ত্রণপত্র তুলে দিয়ে আসেন।

ভারতে তখন নির্বাচন চলছে পুরোদমে, নির্বাচনের মাঝপথে বা নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এভাবে কোনও বিদেশি নেতাকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা বিরল হলেও, শেখ হাসিনার জন্য তার ব্যতিক্রম ঘটাতেও ভারত দ্বিধা করেনি।

আর তার কারণও ছিল খুব সহজ, জুলাইয়ে শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত চীন সফরের আগেই যেন হাসিনা ভারতে ঘুরে যান এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বকে একটা বার্তা দেওয়া যায়, ভারতের দিক থেকে সেই তাগিদটা ছিল স্পষ্ট।

এখন যদি নরেন্দ্র মোদি সত্যিই চলতি জুনে বাংলাদেশ সফরে যান, তাহলে শেখ হাসিনার পরবর্তী ভারত সফর (যে আমন্ত্রণ তিনি ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন) বেশ কয়েক মাস অন্তত পিছিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শেখ হাসিনার চীন সফরের আগেই যে ভারত ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্তরে একটি দ্বিপক্ষীয় সফর সে ক্ষেত্রে হয়ে যাবে, তাতে কোনও ভুল নেই। শুধু দিল্লির বদলে বৈঠকগুলো হবে ঢাকায়, এই যা!

অবশেষে পণ্যবোঝাই জাহাজ গেল সেন্টমার্টিনে

চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেলসহ নানা ধরনের ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বার আউলিয়া নামে একটি জাহাজ।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি যাত্রা করে। জাহাজটিতে করে কিছুসংখ্যক যাত্রীও গেছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, দ্বীপের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটি পাঠানো হয়েছে। এটি বঙ্গোপসাগর দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে ঘোলারচর হয়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি কক্সবাজারে আটকা পড়া সেন্টমার্টিনের ২ শতাধিক বাসিন্দাও এ জাহাজে করে ফিরছেন।

বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এমভি বার আউলিয়া জাহাজে তোলা হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ভোজ্যপণ্য। একই সঙ্গে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারাও জড়ো হচ্ছেন নিজ এলাকায় ফেরার জন্য।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, কাঁচা শাক-সবজি সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। আজ এসব খাদ্যপণ্য নিয়ে যাচ্ছি।

জাহাজটির কক্সবাজারের ইনচার্জ হোসাইন ইসলাম জানান, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতকারী নৌযান লক্ষ্য গুলিবর্ষণের কারণে নৌযান বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্যপণ্য সংকট হচ্ছে। গত বুধবার প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জাহাজটি পণ্য নিয়ে দ্বীপে যাচ্ছে। এটি প্রশাসন যতদিন চলাচল করতে বলবেন ততদিন যাত্রা করবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দ্বীপটিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অবশেষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কক্সবাজার থেকে খাদ্যপণ্য নিয়ে জাহাজ আসছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আটকে পড়া বাসিন্দারাও ফিরছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩টি ট্রলারযোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় অন্তত তিন শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কুলে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কয়েকটি ডিঙি নৌকা করে তাদের কুলে আনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে কানাডা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে এই পরিস্থিতির পরিণতি মোকাবেলা করার জন্য কানাডাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে দেশটির ‘পলিসি হরাইজনস’ নামের কানাডা সরকারের দূরদর্শিতা নির্ণয় কেন্দ্র।

সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, কানাডিয়ান পলিসি হরাইজনস এর ‘দিগন্তের প্রতিবন্ধকতা’ শিরোনামের বসন্তকালীন প্রতিবেদনে ৩৭ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মতাদর্শগত পার্থক্য বাড়তে থাকে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয় তাহলে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করবে।

এ প্রতিবেদনের গবেষণায় আরও বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যান্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যেমন স্থানীয়ভাবে জৈবিক অস্ত্রের ব্যবহার ও দুর্ভিক্ষ।

এই প্রতিবেদন উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা পলিটিকো জানিয়েছে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ কানাডা আমাদের বাড়িতে সহিংস ঘটনা ঘটবে বলে আশঙ্কা করছে। এটা চিন্তার বিষয়, কানাডার রিপোর্ট চমকপ্রদ! এটা রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেটিক পার্টির কোনো কল্পনাপ্রসূত প্রতিবেদন নয়।

পলিটিকো জানিয়েছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধে ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনার গুঞ্জন শুরু হয় এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ফলে এই গুজব তীব্র হয়।