বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১৯ জনের পৃথিবী আঁধার, এক চোখ হারিয়েছেন ৩৮২ জন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ। কারও এক চোখ, কারও আবার দুচোখের দৃষ্টিই হারিয়েছেন। রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এখনও চিকিৎসা চলছে ৭৭ জনের। এ হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. খাইর আহমেদ চৌধুরী সময় সংবাদ বলেন, ভুক্তভোগীদের মধ্যে কারও কারও প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সেবা।

সম্প্রতি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নিভে গেছে ইবাত হোসেনের চোখের আলো। পরিবারের বড় ছেলের এমন করুণ পরিণতি কিছুতেই মানতে পরছেন না তার মা। কথা ছিলো পড়াশুনা শেষে পরিবারের হাল ধরবে ইবাত। কিন্তু ইবাত তো বটেই পুরো পরিবারের সামনেই এখন অন্ধকার।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই নরসিংদীতে পুলিশের ছোররা গুলিতে আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন ইবাত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নিয়ে আসতে হয় ঢাকায়। হাসপাতালের ছোট্ট একটি বিছানায় এখন এক সময়ের দূরন্ত ইবাত হোসেনের সময় কাটে শুয়ে-বসে।

এ হাসপাতালেই চোখে আঘাতপ্রাপ্ত বা গুলি নিয়ে আসতে হয়েছে দেড়শ’র বেশি শিক্ষার্থীকে। মরতুজা তাদেরই একজন। নোয়াখালীর দশম শ্রেণির এ শিক্ষার্থীরও হারাতে বসেছে দুই চোখ। আন্দোলনে মরতুজা বা ইবাতের মতো চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৭ জন। এরই মধ্যে সেবা নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজার খানেক মানুষ।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান খাতা থেকে জানা গেছে, ওই হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে দৃষ্টি হারিয়েছেন ১৯ জন। এক চোখ হারিয়েছেন ৩৮২ জন।

ভুক্তভোগী ও পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. খাইর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের শুরুর সময় পর্যন্ত যে হারে আহত মানুষ আসতে থাকে, তা সামলাতে রীতিমতো হিমিশিম খেতে হয় আমাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘চোখে-মুখে গুলিবিদ্ধ এত মানুষ এর আগে দেখেনি কখনও। এ হাসপাতাল তৈরি হওয়ার আগে কখনো এ ধরনের অবস্থা দেখেননি। চিকিৎসা চলবে বা ভবিষ্যতেও অপারেশনও দরকার হতে পারে তাদের। যার মধ্যে কিছু সংখ্যককে কর্নিয়া বদলাতেও হতে পারে।’

ভুক্তভোগীরা চান, তাদের এ অবদান যেন মনে রাখে-বাংলাদেশ! স্বজনরা বলছেন, দেশের জন্য নিজের চোখ হারিয়েছেন যারা তাদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিক সরকার। পাশাপাশি এ ত্যাগ যেন রচিত হয় ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে।

সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যেসব জেলায়

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি, অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার দেয়া আরেক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের তিন বিভাগে আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসও হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৭৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বাড়ানোর কাজেও এই ঋণ ব্যয় করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকেও সহায়তার আশ্বাস মিলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকভাবে বিশ্বব্যাংক থেকে ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৪৫ কোটি ডলার করা নিয়ে এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি এডিবি দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এই ঋণ দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোকে পুনর্মূলধন হিসেবে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাত সংস্কারে জোর দেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে। এরপর ১০টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। এর মধ্যে ৯টির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের হাতে। এসব ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নিয়েছে, যা আদায় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পর্ষদ পরিবর্তিত হওয়া ব্যাংকগুলো। তারল্য–সংকটে পড়ে এসব ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এই ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের বেতনও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

এ জন্য ব্যাংক খাত সংস্কারে কমিশন গঠনের পরিবর্তে দ্রুত তিনটি টাস্কফোর্স করার পরিকল্পনা করছে সরকার। কারণ, কমিশন গঠন করে সুপারিশ প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। এর পরিবর্তে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে শিগগিরই সংস্কার শুরু করতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। টাস্কফোর্সের মধ্যে একটি হবে, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত, আরেকটি বাংলাদেশ ব্যাংক শক্তিশালীকরণ বিষয়ে। অন্য টাস্কফোর্স হবে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা নিয়ে।

জানা গেছে, ব্যাংক খাত সংস্কারে টাস্কফোর্সগুলো যাতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য দেশি-বিদেশি সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান ও সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা–ও কম সুদের বিদেশি উৎস থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এতে সাড়া দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি ৪০ কোটি ডলার দিতে পারে, যার সুদের হার হবে ৬-৬.৫০ শতাংশের মধ্যে। একই রকম সুদে এডিবি থেকে ১৩০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। এডিবি প্রথম বছরে ৫০ কোটি ডলার, দ্বিতীয় বছরে ৫০ কোটি ডলার ও তৃতীয় বছরে ৩০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিতে পারে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের ঋণে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। আর এডিবির ঋণের অর্থও এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে অথবা এডিবির জন্য পৃথক প্রকল্প গঠন করা হতে পারে। এডিবি ঋণ দেবে বাজেট–সহায়তা হিসেবে। আইএমএফ থেকেও কারিগরি জ্ঞান নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ব্যাংক খাতের তদারকিতে যুক্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সামনে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। এসব ঋণ আগে থেকেই খেলাপি হয়ে ছিল, যা এত দিন গোপন করা হয়েছিল। পুরো সমস্যা চিহ্নিত হলেই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে সুবিধা হবে। ২০১৩ সালের আগে ব্যাংকিং আইন ও নীতি অনেকটা আন্তর্জাতিক মানে ছিল। এরপর ধীরে ধীরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নতজানু হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। এ জন্য পুরো খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে আসল পচন শুরু হয় ২০১৭ সালে। তখন একটি শিল্পগোষ্ঠীকে দেশের একটি বড় বেসরকারি ব্যাংক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে পরিস্থিতি অতটা খারাপ ছিল না। মূলত বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই আপসের পথে গেছে।

২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংককে ‘জামায়াতমুক্ত’ করার উদ্যোগ নেয়। তখন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে ব্যাংকটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির ঋণের অর্ধেকেই এস আলম গ্রুপ নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরে খেলাপি ঋণ নথিপত্রে যতটা বেড়েছে, তাতে আর্থিক খাতের ভয়ংকর চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন এই সময়ে শুধু ব্যাংক খাতেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসের শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। ফলে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা বদলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে ৬টি প্লট দেয় রাজউক

পরিকল্পিত শহর গড়তে পূর্বাচলকে বেছে নেয় রাজউক। আবেদনকারীদের মধ্যে লটারি করে প্লট বরাদ্দ দেয় সংস্থাটি। তবে সবার জন্যই একই পদ্ধতি নয়। সরকারি সিদ্ধান্তে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে প্লট বরাদ্দ দিতে আইনে একটি ধারা যোগ করা হয়। এই ধারা ব্যবহার করে নানা সময়ে যাকে-তাকে দেয়া হয়েছে পূর্বাচলের প্লট। এমনকি এই তালিকায় ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ৫ সদস্যও। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেয়া হয় দশ কাঠা করে মোট ছয়টি প্লট।

রাজউকের তৃতীয় মডিফেকেশন ম্যাপে সামাজিক অবকাঠামোর জন্য জায়গাটি বরাদ্দ ছিলো। তবে ২০১২ সালে চতুর্থ মডিফিকেশনে সেখানে প্লট তৈরি করা হয়। বালু নদীর পাড়ে পূর্বাচল প্রকল্পের ডিপ্লোমেটিক জোনের ২৭ নম্বর সেক্টরে ২০৩ নম্বর রোডের একটি প্লট শেখ হাসিনাকে বরাদ্দ দেয়া হয়। পাশেই শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির প্লট। পরের প্লটটি নেন শেখ রেহানা। পরের দু’টি প্লট শেখ হাসিনার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুুলের। সবশেষ প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয় শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে।

কাঠা প্রতি ৩ লাখ টাকা হিসেবে প্রতিটি প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৩০ লাখ টাকা। ৬০ কাঠার মোট মূল্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা। বরাদ্দ দেয়ার পরপরই প্রাচীর দিয়ে পুরো ৬০ কাঠা প্লটের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। এসবের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলো আনসার সদস্যরা। সরকার পতনের পর নিরাপত্তা উঠে গেলে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরের মূল ফটক ভেঙে ফেলে।

২০২২ সালের ৩ আগস্ট প্লটগুলোর বরাদ্দপত্র ইস্যু করে রাজউক। সেই সময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান ছিলেন আনিসুর রহমান। পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারের আদেশে হয়েছে বলে দাবি তার। তিনি বলেন, সরকারের চিঠি অনুযায়ী রাজউক কাজ করেছে। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে কোনো আদেশ দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে পূর্বাচলের প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, মাস্টারপ্ল্যান না মেনে প্লট করা হয়েছে। বিগত সরকারকে সুবিধা দিতেই এসব করা হয়েছে। এতে সবার যোগসাজশ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর আদিলুর রহমান জানান, ডিপ্লোম্যাটিক জোনে শেখ পরিবারের জন্য প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ম্যাপ দেখে বোঝা যায় এটি একটি সবুজ এলাকা ছিলো। এটিকে নষ্ট করে এই প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা দরকার।ব্যক্তিবিশেষের জন্য নগরায়ণের পরিকল্পনা পরিবর্তন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মূলত, রাজউকের ১৩/এ ধারায় পূর্বাচলে নানা সময়ে বিভিন্ন জনকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এই ধারাটিরই যথেচ্ছ ব্যবহার করে রাজউক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এভাবে প্লট বরাদ্দ বন্ধ হওয়া উচিৎ বলে মনে করে টিআইবি। টিআইবির পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, আমরা এই পুরো প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানাই। এ সময় রাজউকের ১৩/এ ধারা বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।

রাজউক জানায়, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ২৮৫ জনকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে ১৪৯টিই বরাদ্দ পান তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি, দলীয় নেতাকর্মী ও উচ্চ পর্যায়ের আমলারা। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) পূর্বাচলে শেখ হাসিনা পরিবারের নামে বরাদ্দ ৬০ কাঠা জমির বরাদ্দ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিটও করা হয়েছে।

প্যারাগুয়ের কাছে হেরে দিশেহারা ব্রাজিল

তারকাবহুল দল নিয়েও প্যারাগুয়ের কাছে হারের স্বাদ নিয়ে দিশেহারা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিজেদের মাঠে সফরকারীদের ১-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

প্যারাগুয়ের ঘরের মাঠে বেশ দাপটের সাথে ম্যাচ শুরু করে ব্রাজিল। তবে, ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কাঙ্খিত গোলের দেখা মেলেনি সেলেসাওদের।

উল্টো ২০ মিনিটে, গোল খেয়ে বসে ব্রাজিল। ডিয়েগো গোমেজের দুর্দান্ত এক গোলে লিড পেয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ব্রাজিল রক্ষণভাগের দূর্বলতা কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার শটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর কোন গোল না হলে হারের স্বাদ পায় সফরকারী ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্ড্রিক আর রদ্রিগোকে নিয়ে প্যারাগুয়ে বিপক্ষে আক্রমণভাগ সাজিয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ দোরিভাল। পুরো দলেই ছিল না তারকার অভাব। কিন্তু এরপরেও ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের কোন আক্রমণ সফল হতে দেয়নি প্যারাগুয়ের ডিফেন্স।

ভারতে পালানোর সময় সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি ও আ. লীগ নেতাসহ আটক ৫

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মেহেদী হাসান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজ মাহমুদ আয়নালসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, স্থলপথে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য এই চক্রের স্থানীয় এজেন্ট আকরামের সাথে যোগাযোগ করেন আয়নাল। তারা একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে মহেশপুর সীমান্তে যাওয়ার জন্য ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে জেলা শহরের প্রধান বাস স্ট্যান্ডে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে সেই প্রাইভেটকারটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মেহেদী হাসান চৌধুরী রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি ঢাকার আদাবর থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে আটক সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ থানার ওসি মো. শাহিন উদ্দিন বলেন, এছাড়াও আটকৃতদের মধ্যে মানিকগঞ্জের সৌমিত্র সরকার এবং একজন প্রাইভেটকার চালকও রয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে বিতর্কের সময় মঞ্চের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে বিতর্কের সময় মঞ্চের বাইরে চলে ব্যাপক বিক্ষোভ। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের নিন্দায় বিক্ষোভ করে শত শত মানুষ। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্ক শুরুর আগে থেকেই ন্যাশনাল কন্সটিটিউশন সেন্টারের বাইরে জড়ো হয় কয়েকশ’ আন্দোলনকারী। এ সময়, গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।

অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে শ্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে দেয়া হয়েছিলো ব্যারিকেড। তবে, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষুব্ধ জনতা এগিয়ে যেতে চাইলে সংঘর্ষের ঘটনা-ও ঘটে।

বিক্ষোভের সময়, অনেকে ধরপাকড়ের শিকার হয়। মার্কিন নির্বাচনের আট সপ্তাহ আগে বিতর্কে মুখোমুখি কমালা ও ট্রাম্প। ভোটের আগেই গাজা ইস্যুতে সমাধান চায় আন্দোলনকারীরা।

জোড়া গোল করে নিজের শততম ম্যাচ রাঙালেন কেইন

নেশন্স লিগে ইংল্যান্ডের হয়ে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন হ্যারি কেইন। বিশেষ উপলক্ষটা কী দারুণ ঢংয়েই না রাঙালেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার জোড়া গোলে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ববি চার্লটন ও ওয়েইন রুনির পর ইংল্যান্ডের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে শততম ম্যাচে গোল পেলেন কেইন। তবে ইংল্যান্ডের জার্সিতে ১০০তম ম্যাচে জোড়া গোল করা প্রথম খেলোয়াড় কেইনই।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিজেদের ঘরের মাঠ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফিনল্যান্ডকে আতিথ্য জানায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর আগে তারকা স্ট্রাইকার কেইনকে শত ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক সোনালি টুপি উপহার দেয় ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। কেইন পায়ে পরেছিলেন গোল্ডেন বুট!

মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচের ২১তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন কেইন। তবে তার শট দারুণ নৈপুণ্যে কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক লুকাশ রাদাস্তকি। দুই মিনিট পর হেডে জালে বল পাঠান কেইন; কিন্তু এবার সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন তিনি।

বিরতির আগে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। তবে এবারও সফল হতে পারেনি তারা; ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। গোল শূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন হ্যারি কেইন। অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের রক্ষণচেরা পাস ধরে প্রতিপক্ষের দুইজনের মধ্যে দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে ক্রসবার ঘেঁষে বল জালে পাঠান কেইন।

৭৬তম মিনিটে ফের জালে বল পাঠিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন কেইন। অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডকে বল বাড়িয়েই রাইট উইং ধরে ছুটে যান ননি মাদুয়েকে, দারুণ বোঝাপড়ায় সতীর্থের রক্ষণভেদী থ্রু পাস ধরে প্রথম ছোঁয়ায় বক্সে অধিনায়ককে খুঁজে নেন মাদুয়েকে। কেইনও প্রথম ছোঁয়ায় দারুণ শটে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান।

এবারের উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচই ২-০ গোলে জিতল কেইনের ইংল্যান্ড। অন্তর্বর্তী কোচ লি কার্সলির অধীনে খেলা প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। টানা দুই জয়ের পরও নেশনস লিগের দ্বিতীয় স্তরের ২ নম্বর গ্রুপে শীর্ষে নেই ইংল্যান্ড। কাল রাতেই আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়া গ্রিস ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে গোল ব্যবধানের হিসেবে।

বিদ্যুৎ বিক্রির পাওনা নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর বার্তা বাংলাদেশকে

বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপ। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির পাওনা বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে কোটিপতি গৌতম আদানির এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ওই প্রতিবেদনের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খন্ডের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ আদানির কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে আদানি গোষ্ঠী ‘টেকসই নয়’ বলে বর্ণনা করেছে।

বিদ্যুৎ কেনা বাবদ এই বকেয়া মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে ইকোনমিক টাইমস মনে করছে। গত মাসে শেখ হাসিনার সরকারকে হটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়। আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনাসহ শেখ হাসিনার আমলে করা বিভিন্ন ব্যয়বহুল অবকাঠামো চুক্তির সমালোচনা করেছে নতুন সরকার।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার বলেছে যে আর্থিক চাপ সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশে বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোম্পানিটি বলেছে, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং তাদের জানিয়েছি যে পরিস্থিতি আর টেকসই পর্যায়ে নেই। কারণ, আমরা একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি বজায় রাখছি, অন্যদিকে তেমনই আমাদের ঋণদাতা ও সরবরাহকারীদের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারও রয়েছে।’

অর্থ পরিশোধের এই দায় বাংলাদেশের সার্বিক জ্বালানিসংকটেরই একটি অংশ। বাংলাদেশের বিদ্যুৎসংক্রান্ত দায়ের পরিমাণ ৩৭০ কোটি ডলারে উঠেছে। জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, আদানি বাংলাদেশের কাছে ৮০ কোটি ডলার পায়, তার মধ্যে ৪৯ কোটি ২০ লাখ ডলার পরিশোধ বিলম্বিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বতী সরকার এখন বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঋণদাতার কাছে অর্থসাহায্য চাইছে। এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতি স্থিতিশীল করা।

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু একই সময়ে জ্বালানি–স্বল্পতায়ও ভুগছে। মূলত গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, সাবেক সরকারের নেওয়া খোলা দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ কেনার মতো পদক্ষেপ দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ও অদক্ষতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

আদানি অবশ্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। তবে ড. ইউনূসের প্রশাসন এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগের করা জ্বালানি চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র পুনরায় চালু করা এবং নিয়ন্ত্রণমূলক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বাংলাদেশ থেকে না সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদানির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে আমাদের গড্ডা কেন্দ্র ভারতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত নয়। তাই অন্য কোথাও এই বিদুৎ সরবরাহ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ সাশ্রয়ের জন্য একদিকে যেমন বিভিন্ন চুক্তির শর্ত নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে চায়, তেমনই ভারত ও চীনের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতেও আগ্রহী। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে ভবিষ্যতে অবকাঠামো খাতে যত চুক্তি হবে, তাতে অর্থ সাশ্রয় ও স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

এস আলমের লাখ কোটি টাকা ঋণ, ব্যাংকে জমা ২৬ হাজার কোটি

বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নামে কেবল ছয়টি ব্যাংকেই বিপুল অঙ্কের নগদ টাকার সন্ধান মিলেছে। এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। এস আলম, তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ভাই আবদুল্লাহ হাসানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এই টাকা ব্যাংকগুলোতে জমা আছে। এসব ব্যাংকের পাঁচটিই এস আলম গ্রুপের সরাসরি মালিকানায় অথবা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১৫–এর এক অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে এস আলম গ্রুপের এ বিপুল অর্থের সন্ধান মিলেছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ওই কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা ব্যাংকে জমা পুরো অর্থ কর বিভাগের আয়ত্তে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই কর অঞ্চল-১৫ এস আলম পরিবারের সদস্য ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছিল। সাধারণত ফাঁকি দেওয়া কর আদায় করার লক্ষ্যে হিসাব তলব করে থাকে কর বিভাগ।

কর অঞ্চল-১৫–এর তদন্ত দল সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে ছয়টি ব্যাংকে থাকা এস আলম গ্রুপের মালিকপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা ঢুকেছে (ডিপোজিট হয়েছে) বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। এর বেশির ভাগই ঋণের অর্থ হিসেবে জমা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে শুধু এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের একাধিক হিসাবেই ঢুকেছে ৮৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।

যে ছয়টি ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের বিপুল অঙ্কের টাকার সন্ধান মিলেছে, সেগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ও আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটি ব্যাংকই সরাসরি এস আলম গ্রুপের মালিকানায় ছিল। এ ছাড়া আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকও ছিল এই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। ছয়টি ব্যাংকের পর্ষদই বাতিল করে নতুন পর্ষদ গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান। ওই সরকারের আমলে যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে, তাদের অন্যতম ছিল এস আলম গ্রুপ। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ও রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে এস আলম ও তাঁর পরিবার গত এক দশকে ব্যাংক দখলসহ নানা ধরনের আর্থিক অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে নামে–বেনামে অর্থ বের করে তা পাচার করা হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এনবিআর এস আলম–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব তলব করে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, ডাক বিভাগের ৯১টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সব ব্যাংক হিসাব ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ওই ছয়টি ব্যাংক থেকে পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে, এস আলম পরিবারের সদস্য ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকগুলোতে জমা আছে (স্থিতি) ২৫ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। বাকি ব্যাংকের তথ্য যাচাই–বাছাই চলমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, বিগত সরকারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক লুটপাট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পর্ষদ লুটপাটে সহায়তা করেছে; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব ছিল। এই তিন পক্ষের মধ্যে অনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছিল। এস আলম গ্রুপ যখন ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছিল, তখন বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না। কারণ, সব পক্ষই সুবিধা পেত।

মোস্তফা কে মুজেরী আরও বলেন, কর ফাঁকির তদন্তের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপসহ জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস পাবে না।

এক কোম্পানিতে ৮৩,৭০৬ কোটি টাকা
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল লিমিটেড। এস আলম গ্রুপের এ প্রতিষ্ঠানের কারখানা চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবস্থিত। ২০০০ সালে এ কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২০ সাল থেকে অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে ছয় ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা একাধিক হিসাবে ঢুকেছে (ডিপোজিট) ৮৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। এর সিংহ ভাগই জমা হয় ঋণ হিসেবে। তবে প্রতিটি জমার পর কিছুদিনের মধ্যেই অর্থ তুলে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, অর্থ পাচারের কৌশল হিসেবে অনেক সময় এক হিসাব থেকে আরেক হিসাবেও অর্থ স্থানান্তর করেছে এস আলম গ্রুপ। ফলে একই অর্থ একাধিকবার গণনা করা হতে পারে।

তবে ছোট এই প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, এ ক্ষেত্রে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, এটির বার্ষিক টার্নওভার মাত্র ৪০০ কোটি টাকা। সব ব্যাংকের হিসাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হবে বলে একাধিক কর কর্মকর্তা জানান।

এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল লিমিটেডের নামে ছয়টি ব্যাংকে বর্তমানে মাত্র ৪ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা জমা আছে। এর মানে হলো বাকি টাকা বিভিন্ন সময়ে তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কর অঞ্চল-১৫–এর কমিশনার আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, কর ফাঁকিবাজদের কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কর অঞ্চল-১৫–এ থাকা এস আলম পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে কর নথির তথ্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে
গতকাল রোববার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের কারখানা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে শাহ আমানত সেতু পার হয়ে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা কালারপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিকলবাহা খালের পাশে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস কারখানার অবস্থান। কারখানার ভেতরে ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা জানান, কারখানার ভেতরে ঢোকা যাবে না। কারখানাটি চালু আছে কি না, জানতে চাইলে নিরাপত্তকর্মীরা বলেন, কারখানা সচল রয়েছে।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড মূলত ইস্পাতের পাত প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে। মূলত অপরিশোধিত ইস্পাতের কয়েল আমদানি করে পরিশোধিত ইস্পাতের পাত তৈরি করা হয় এ কারখানায়। পরিশোধিত ইস্পাতের পাত থেকে ঢেউটিনসহ হরেক রকমের পণ্য তৈরি হয়। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ১ লাখ ২০ হাজার টন। তবে কাঁচামাল আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর কারখানার সক্ষমতা অর্ধেকও ব্যবহার হয়নি।