বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের ঢল

সড়কের দুই পাশে পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন। পুরো রাত সড়কগুলো সরব ছিল মানুষের আনাগোনায়। ভোর থেকেই নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। বেলা বাড়তেই তা ছাড়িয়ে যায় লাখ। চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় জড়ো হন এসব মানুষ। এরপর বের হয় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জুলুস।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরীতে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার ছিল ৫২তম জশনে জুলুস। আজ সোমবার সকালে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে জশনে জুলুস বের হয়। এতে নগর ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।

৫২তম এই জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবের শাহ্। অতিথি শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্। এর আগে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। আয়োজক সংগঠন জানায়, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) এ জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেন।

জুলুস বিবিরহাট হয়ে মুরাদপুর, মুরাদপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড় ঘুরে দুপুরে জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখরিত ছিল নগরের সড়কগুলো। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ মোটরসাইকেলে আবার কেউ ট্রাক কিংবা পিকআপের ওপর চেপে জুলুসে অংশ নেয়।

জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়কে ভাসমান মেলা দেখা গেছে। এতে টুপি, মেসওয়াক, তসবিহ, ইসলামি বই, আতর, পতাকা, পাঞ্জাবি, পাজামা, জুতা বিক্রি হচ্ছে। জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য অনেকে শরবত, পানি, চকলেট, জিলাপি, খেজুর বিতরণ করেছেন।

জুলুস চলাকালে নগরে বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা কাজ করেছেন। নগরের বিবিরহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, হামজারবাগ, শুলকবহর, মির্জারপুল রোডসহ বিভিন্ন সড়কে বিভাজক বসিয়ে স্থাপনের মাধ্যমে ডাইভারশন করা হয়েছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, জুলুস চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগর পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাইভারশন দিয়ে সড়ক সচল ছিল। জুলুস শেষ হওয়ার পর সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩’র জুরি বোর্ড পুনর্গঠন, থাকছেন যারা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩’র জুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (চলচ্চিত্র) সভাপতি করে মোট ১৩ জন সদস্যকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই জুরি বোর্ড। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে সভাপতি হিসেবে আছেন অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান। বরাবরের মতোই মোট ২৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

জুরি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ, অভিনেত্রী অপি করিম, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জন, চিত্রগ্রাহক বরকত হোসেন, গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি।

এ ছাড়াও সদস্য হিসেবে জুরি বোর্ডে আরও রয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সভাপতি এস এম ইমরান হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাংবাদিক ওয়াহিদ সুজন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পুনর্গঠিত জুরি বোর্ডের কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণপূর্বক পুরস্কারের জন্য চলচ্চিত্র, শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম সুপারিশ করবে নতুন এই জুরি বোর্ড।

উল্লেখ্য, একই দিন ভিন্ন দুটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড পুনর্গঠিত করা হয়। দুই জায়গাতেই সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে।

ছুটির দিনেও সচল গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল

সরকারি ছুটির দিনেও সচল গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। চলছে উৎপাদন। কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। তবে অল্প কিছু কারখানায় ছুটি রয়েছে।

সময়মতো রফতানি আদেশ অনুযায়ী পণ্য পাঠাতে চায় উদ্যোক্তারা।কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কোন কোন কারখানায় উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। অনেক কারখানায় কাজে চাপ বেশি।

এজন্য, সরকারি ছুটির দিনেও শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ কারখানা চালু রাখা হয়েছে। অল্প সংখ্যক কারখানায় ছুটি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল অব্যাহত রেখেছে।

৭৫ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ঝড়ের কবলে চীন

চীনের বাণিজ্যিক অঞ্চল সাংহাইতে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বেবিনকা’। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ ঝড়টি আঘাত হানে। বেবিনকাকে বলা হচ্ছে ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিতে ঝড়টি আঘাত হেনেছে। এর আগে, ১৯৪৯ সালে টাইফুন ‘গ্লোরিয়া’ এমন তীব্র শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেবিনকার আঘাতে সাংহাই শহরে অন্তত আড়াই কোটি মানুষের বড় একটা অংশ বেশ দুর্ভোগে পড়েছেন। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মহানগর এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে। রোববার রাত থেকেই শহরটির দুটি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে শহরে বেশ কিছু রেলওয়ে সেবাও। এছাড়া টাইফুন বেবিনকার কারণে রিসোর্ট, পার্ক, চিড়িয়াখানাসহ বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচলও।

বেবিনকা এরই মধ্যে জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশ অতিক্রম করেছে। এটি এখন উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং জিয়াংসু, ঝেজিয়াং ও আনহুই প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাস সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছে চীনের আবহাওয়া অফিস।

উল্লেখ্য, গেল সপ্তাহে চীনের হাইনান প্রদেশে শক্তিশালীর দিক দিকে ক্যাটাগরি ৪ এর সুপার টাইফুন ‘ইয়াগি’ আঘাত হানার পর এবার সাংহাইতে টাইফুন আঘাত হানল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাংহাইতে সরাসরি শক্তিশালী টাইফুনের আঘাত হানা খুবই দুর্লভ বিষয়

জুলাই-আগস্টে মানবাধিকার লঙ্ঘন: তথ্য চেয়েছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এই সময়ে দীর্ঘ দেড় মাস উত্তাল ছিলো বাংলাদেশ। গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মাঝে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য তথ্য জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ দল। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগষ্ট ২০২৪ পর্যন্ত সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণে উদ্ভূত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছে।

এতে আরও বলা হয়, তদন্ত দল ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা, চিকিৎসা পেশাজীবী এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং তদন্তটি কোনও অপরাধ অনুসন্ধান বা আইনি তদন্ত নয়। এটি যেকোনও জাতীয় ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত। এই তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে গোপনীয়। তদন্ত চলাকালীন তদন্ত দলের সদস্যরা কোনও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। তারা সবাইকে তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলে পরিচালিত পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও উপাত্ত বিশ্লেষণের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের তদন্ত দলের প্রধান তাদের তদন্তের উল্লেখযোগ্য ফলাফল, উপসংহার ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

হাসিনার গাড়িচালকসহ মন্ত্রী-এমপিদের বেআইনিভাবে প্লট বরাদ্দ দিত রাজউক!

পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা আর সবার বাসস্থান নিশ্চিতে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্লট বরাদ্দ দেয় রাজউক। এসব প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মানতে হয় নির্দিষ্ট নীতিমালা। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্লট বরাদ্দের ক্ষমতা সংরক্ষিত থাকে সরকারের হাতে। আর এ নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িচালক, মন্ত্রী- এমপি, আমলাসহ নিজেদের পছন্দসই ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয় প্লট। রাজউক থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে পূর্বাচল, ঝিলমিলসহ চারটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই হাজার প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মধ্যে শুধু পূর্বাচলেই প্রায় এক হাজার প্লট বরাদ্দ দেয়া হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে।

সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দের কোনো এখতিয়ার নেই রাজউকের, এমনটি বলেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে বলেও দাবি রাজউকের।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন,
সরাকারের একটা বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। সেই বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দিতে পারে। সেটা প্লট বরাদ্দ বিধিমালাতেই রয়েছে। সেই এখতিয়ার কেবল সরকারের। এখানে রাজউক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পছন্দ করার কোনো এখতিয়ারই নেই।

এ ধরণের প্লট বরাদ্দে রাজউকের নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পছন্দসই ব্যক্তির নামে প্লট বরাদ্দ দেয়া নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহম্মদ খান বলেন,
রাজউকে সংরক্ষিত কোটা নামে একটা ব্যবস্থা আছে। এতে ১০ শতাংশ প্লট বরাদ্দ দেয়ার সুযোগ ছিল। এই কোটার অপব্যবহার হয়েছে। রাজউকের যে আইন সেটা হচ্ছে, ঢাকা শহরে আপনার কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট থাকলে এই ধরনের প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেয়ার বিধান নেই। পুরো বিষয়টাই তৈরি করা হয়েছিল, কাউকে খুশি করার জন্য।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বরাদ্দ হওয়া ২৮৫ প্লটের ১৪৯টিই বরাদ্দ পান তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি, দলীয় নেতাকর্মী ও উচ্চ পর্যায়ের আমলারা। ইতোমধ্যে পূর্বাচলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের নামে বরাদ্দ ৬০ কাঠা জমির বরাদ্দ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে বন্দুকধারীদের হামলায় কারবালা ফেরত ১৬ শিয়া নিহত

আফগানিস্তানে দাইকুন্ডি প্রদেশে দায়েশ খোরাসানের সাথে জড়িত সশস্ত্র ব্যক্তিরা শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের একটি সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের এ হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তালেবানের বরাত দিয়ে পাজওক আফগান নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে হামলাকারীরা ইরাকের কারবালা থেকে ফেরত তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানাতে আসা পরিবারের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। দায়কুন্দি ও ঘোর প্রদেশের সীমান্তবর্তী কারিয়ুদাল এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। আফগানিস্তানের জাতিগত সংখ্যালঘু শিয়ারা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

নৃশংস হামলার জন্য পরিচিত একটি কুখ্যাত গোষ্ঠী ‘দায়েশ খোরাসান’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর আগে, ২০২১ সালে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে, দায়েশ খোরাসানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে বলে দাবি তালেবান সরকারের। তবে, তা সত্ত্বেও এই গোষ্ঠীটি মসজিদ ও তালেবান নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার পূর্বের ইতিহাস রয়েছে।

রাতের আধারে ঢাকায় বাড়ছে সংঘাত, নিষ্ক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

রাত বাড়তেই অশান্ত হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। আধিপত্য বিস্তার, এলাকার নিয়ন্ত্রণ কিংবা তুচ্ছ ঘটনা থেকে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গ্রুপ। এতে, ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। রাতে ঢাকার জনমনে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। শুক্রবার রাতেও, নগরীর বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনায় একজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে রাজধানীর মুগদা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি, একপর্যায়ে বখাটেদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন মো. শাকিল নামের এক যুবক। পরে তাকে উদ্ধার করে বারোটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত হন সুজন ও সামস নামে আরও দুইজন।

একই সময়ে রাজধানীর বনশ্রীতে কাঁচাবাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে হামলা চালায় দুবৃত্ত্বরা। এতে গুরুতর আহত হন ৪-৫ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায় পুলিশ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার আগে বিষয়টি পুলিশকে জানালেও ব্যবস্থা নেয়নি তারা।

শুধু মুগদা বনশ্রী নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় না থাকায় হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় রিফাত হাওলাদার নামের এক তরুণকে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চুরিকাঘাত করা হয় তাকে। পুলিশের সাহায্য চাইলেও না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের।

এরআগে, রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী জনপদের মোড়ে দায়িত্বরত অবস্থায় আশরাফ আলী নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেলে।

ঢাকা মেডিকেলের তথ্য বলছে, শুক্রবার রাত ৮টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ৫৮ জন আহত ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। যার অধিকাংশ সংঘাত সহিংসতায় আহত। রাত বাড়ার সাথে সাথে এ ধরনের হামলার ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে জনমনে।

ওয়ার্ল্ডে প্রথমবারের মতো রোবোটিক ‘হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট’ করলো সৌদি আরব

ওয়ার্ল্ডে প্রথমবারের মতো রোবোটিক ‘হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট’ করা হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। দেশটির কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ১৬ বছরের এক কিশোরের শরীরে এই প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে আল আরাবিয়া এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির কার্ডিয়াক সার্জন ডা. ফেরাস খলিল আড়াই ঘণ্টার ওই অস্ত্রোপচারটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। রোগীর বুকে কোনো ধরনের ছিদ্র না করেই ওই হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই অস্ত্রোপচার নিয়ে সূক্ষ্ম পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোবোটিক হার্ট সার্জারিতে ন্যূনতম কাটা-ছেঁড়ার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ওপেন-হার্ট সার্জারির তুলনায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং সম্ভাব্য জটিলতাগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

গত বছর, কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে নন-অ্যালকোহলিক লিভার সিরোসিস (এনএএসএইচ) এবং হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা’য় (এইচসিসি) ভুগছেন এমন একজন ৬৬ বছর বয়সী সৌদি ব্যক্তির ওপর বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ রোবোটিক লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

তারপর থেকে, এরকম আরোও চারটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যার সবগুলোই সৌদি নাগরিকদের সাথে জড়িত। রোগীদের দীর্ঘ লাইনের মধ্যে তারাই প্রথম, যারা ভবিষ্যতে রোবোটিক লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট থেকে উপকৃত হবেন।

বদলি-পদোন্নতি নিয়েই ব্যস্ত পুলিশ কর্মকর্তারা

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকটা বিপর্যয়ের মধ্যে দেশের পুলিশি ব্যবস্থা। এক মাস পার হলেও পুলিশি ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনোযোগ বা কার্যক্রম মূলত বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন ঘিরে। এই ক্ষেত্রে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সাত-আটজন কর্মকর্তার একটি গ্রুপ অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই গ্রুপ বিগত সময়ে ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের তালিকা করছে। কে কোন থানার ওসি হবেন, কে কোন জেলার পুলিশ সুপার হবেন; রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে কারা যাবেন—সেটা ঠিক করছে এই গ্রুপ। এই ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব কম গুরুত্ব পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় পদোন্নতি পেয়েছেন, ঢাকায় চাকরি করছেন—এমন কর্মকর্তারাও ‘বঞ্চিত’ দাবি করছেন। আবার বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে শাস্তি পেয়েছেন এমন কর্মকর্তারাও একই দাবি করে সুবিধা নিচ্ছেন। এমন ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

একপর্যায়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘুষ লেনদেন না করার অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয় পুলিশ সদর দপ্তর। ৩১ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, একটি চক্র পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার আগেই ৬ আগস্ট রাতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ময়নুল ইসলামকে। এর পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশে বদলি-পদোন্নতি নিয়ে অন্তত ২২টি আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে চার শতাধিক বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে অন্তত ১৩ জনকে। চাকরি ফিরে পেয়েছেন পাঁচজন। এ ছাড়া ডিএমপি সদর দপ্তর আলাদা করে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্যকে পদায়ন করেছে।

অতীতে নানা অপরাধ বা অপেশাদার কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময়েও ‘বঞ্চিত’ ছিলেন; এমন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এখন প্রভাবশালী হয়ে ওঠায় উদ্বিগ্ন অনেকে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রমকে পুরোপুরি চালু করার কার্যক্রমের চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বেশি ব্যস্ত পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে। এখন পর্যন্ত যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তাতে অনেক পেশাদার কর্মকর্তা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; এর মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাও রয়েছেন।