বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

সুইডেনে উচ্চশিক্ষা: স্কলারশিপ, আছে আইইএলটিএসের বিকল্প, খণ্ডকালীন চাকরিতে ঘণ্টায় সাড়ে ৪০০০ টাকা

ইউরোপের অন্যতম দেশ সুইডেন বছরের পর বছর ধরে নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত আর্থসামাজিক অবস্থা নিশ্চিত করে আসছে। বিশ্বখ্যাত সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের এ আশ্রয়স্থলে ক্যারিয়ার গঠন হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে স্বপ্নতুল্য। চলুন, শেনজেনভুক্ত দেশ সুইডেনে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন পদ্ধতি, স্টুডেন্ট ভিসা, অধ্যয়ন খরচ এবং স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক—

কেন সুইডেন অন্যতম সেরা গন্তব্য—
সুইডিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম শেনজেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রধান ভাষা সুইডিশ হলেও স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের প্রতি ১০ জনের ৯ জনই সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলেন। পড়াশোনাসহ নিত্য জীবনযাত্রা এবং চাকরি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পছন্দের অন্যতম গন্তব্য সুইডেন।

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী পরিবেশগত দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিরাপদ দেশ সুইডেন। পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় দূষণমুক্ত দেশগুলোর তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা এই দেশটির দূষণ সূচক মাত্র ১৭ দশমিক ৭। এ ছাড়া বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভ্রমণবান্ধব দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে এই নর্ডিক দেশটি।

পড়াশোনার জন্য সুইডেন যাত্রার আরও একটি প্রধান কারণ হচ্ছে স্টুডেন্ট নোবেল নাইটক্যাপ। এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের একাডেমিক সুপারস্টারদের সন্নিবেশ ঘটে। এই ভূখণ্ডে নোবেল পুরস্কারকে কেন্দ্র করে চলে নানা আয়োজন। বিশেষ করে স্টকহোমে পুরো একটি সপ্তাহ উদ্‌যাপন করা হয় নোবেলকে ঘিরে।

শত শত স্টার্টআপ কোম্পানির স্বর্গরাজ্য সুইডেনকে বলা হয় ইউরোপের সিলিকন ভ্যালি। ক্যালিফোর্নিয়ার পর স্টকহোমই হচ্ছে দ্বিতীয় শহর, যেখানে সর্বাধিক সফল কোম্পানিগুলোর গোড়াপত্তন হয়েছে।

ইউরোপীয় দেশটির আরও যে বিষয়টি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে, তা হলো, কর্ম ও জীবনের মধ্যে এক আশ্চর্য ভারসাম্য। এখানে প্রতিটি চাকরিতেই রয়েছে যথেষ্ট শিথিলতা। প্রয়োজন অনুযায়ী শিফটিং এবং প্যাটার্নিটি বা ম্যাটার্নিটি লিভসহ বিভিন্ন উপলক্ষে সাময়িক ছুটির নীতি। এখানে মূলত কর্মীদের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা পাওয়ার জন্য তাদের চাপমুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পুরো দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ কর্মচারী খুব দীর্ঘ সময় ধরে বা ওভারটাইম কাজ করে।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনগুলো: কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, লুন্ড ইউনিভার্সিটি, উপসালা ইউনিভার্সিটি, স্টকহোম ইউনিভার্সিটি, চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব গোথেনবার্গ, ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, লিনকোপিং ইউনিভার্সিটি, উমিয়া ইউনিভার্সিটি ও হাল্মস্ট্যাড ইউনিভার্সিটি।

সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলো: প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসা ও অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, যোগাযোগ ও তথ্য, লাইফ সায়েন্সেস অ্যান্ড মেডিসিন, ডিজাইন অ্যান্ড আর্কিটেকচার।

আবেদনের উপায়—
সাধারণত ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে ভর্তির কার্যক্রম চালু করে সুইডিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ফল সেমিস্টার আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হয়। এই মৌসুমে আবেদনের জন্য সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রোগ্রাম চালু থাকে। আবেদন গ্রহণ অব্যাহত থাকে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে যে প্রোগ্রামগুলো বাদ পড়ে যায়, সেগুলোয় ভর্তির আবেদন নেওয়া হয় স্প্রিং সেমিস্টারে। এ মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে পরের বছরের আগস্ট পর্যন্ত।

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামার সেমিস্টারেও ভর্তি নেওয়া হয়। তাই উত্তম হচ্ছে প্রথমে বিষয় পছন্দ করে তার জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করে তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট চেক করা। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের ব্যাপারে ফল সেমিস্টারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কেননা আবেদনের জন্য যথেষ্ট বিকল্প কোর্স পাওয়ার সুযোগ তো আছেই! তা ছাড়া এ সময়ে আবেদন করা হলে অধ্যয়ন ফি প্রদান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রেরণ, রেসিডেন্স পার্মিটের আবেদন এবং আবাসন খোঁজার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে যেকোনো প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য একটি সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের (universityadmissions.se) মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হয়। এখানে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রামগুলোকে নির্বাচন করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করে রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আবেদনপ্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে প্রতিটি প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো জেনে নেওয়া উচিত।

আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—
* স্নাতক প্রোগ্রামে আবেদন করলে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার সনদ
* স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ৪ বা অনার্সসহ ৩ বছরের স্নাতক ডিগ্রির সনদ
* ইংরেজি ভাষা দক্ষতার স্কোর: আইইএলটিএস (একাডেমিক) মোট স্কোর ৬ দশমিক ৫ (কোনো বিভাগে ৫ দশমিক ৫–এর কম পাওয়া যাবে না) টোয়েফল ইন্টারনেটভিত্তিক স্কোর ২০ (০ থেকে ৩০ স্কেলে) এবং মোট স্কোর ৯০। শিক্ষার্থীর স্নাতকের ৪ বছর ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলে অথবা উচ্চমাধ্যমিকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে থাকলে আলাদা করে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের দরকার হবে না। এ ক্ষেত্রে মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন বা এমওআই প্রদর্শন করতে হবে।
* একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট
* সিভি বা পোর্টফোলিও
* স্টেটমেন্ট অব পার্পাস
* লেটার অব মোটিভেশন
* লেটার অব রিকমেন্ডেশন

আবেদন ফি পরিশোধের রশিদ: ৯০০ ক্রোনা বা ১০ হাজার ৫৫৭ টাকা (১ সুইডিশ ক্রোনা = ১১ দশমিক ৭৩ বাংলাদেশি টাকা)

ভিসার জন্য আবেদন পদ্ধতি—
দীর্ঘকালীন পড়াশোনার জন্য যেতে হলে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। এ পারমিটে অধ্যয়নের জন্য ৩ মাস বা ৯০ দিনের বেশি সুইডেনে বসবাস করার অনুমতি লাভ করা যায়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, এই পারমিট নিয়ে শেনজেনভুক্ত অন্যান্য দেশে ভ্রমণ করা যাবে না। তার জন্য আলাদাভাবে স্বল্পমেয়াদি (৩ মাসের কম সময়ের জন্য) ভিসার আবেদন করতে হবে।

সুইডেনে উচ্চশিক্ষার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদনের দ্রুততম ও সহজ উপায় হলো অনলাইনে আবেদন করা। এর জন্য https://www.migrationsverket.se/manageaccount/ -এই লিংকে অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হবে। অতঃপর আবেদনপ্রক্রিয়ার সময় জরুরি নথিপত্রের স্ক্যানকপি আপলোড করতে হবে।

ভিসার জন্য দরকারি নথিপত্র—
* পাসপোর্টের ডাটা পৃষ্ঠা (পাসপোর্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্তত ৩ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে এবং যেখানে কমপক্ষে দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকবে)
* সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
* সুইডিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইস্যুকৃত ভর্তির অফার লেটার (এখানে পূর্ণকালীন অধ্যয়নের সময়সীমা ন্যূনতম ৯০ দিন বা ৩ মাসের অধিক হতে হবে)
* সুইডেনে বসবাসের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ: প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০ হাজার ৩১৪ ক্রোনা (১ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮ টাকা)। নথি হিসেবে প্রার্থীর নিজের নামে থাকা সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে, যার ইস্যুর তারিখ ৪ মাসের খুব বেশি হওয়া যাবে না।
* শিক্ষার্থী যদি নিজে তার ব্যয়ভার বহন করেন তবে তার সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ প্রাসঙ্গিক নথি লাগবে। কর্মচারী হলে কর্মসংস্থানের প্রশংসাপত্র প্রয়োজন হবে। স্বনিযুক্ত হলে সুইডিশ কোম্পানির নিবন্ধন অফিস থেকে নিবন্ধন প্রশংসাপত্র এবং এফ-ট্যাক্স কার্ডের অনুলিপি জমা দিতে হবে।

কর্মসংস্থানের যে যের তথ্য থাকতে হবে, তা হলো:

* নিয়োগকর্তার নাম, যোগাযোগের বিবরণ ও কোম্পানির নিবন্ধন নম্বর
* বেতন
* চাকরির সময়কাল
* অন্য কেউ স্পন্সর করে থাকলে তার পক্ষ থেকে একটি স্পন্সরশিপ লেটার দিতে হবে। স্পন্সর বা গ্যারান্টরের নিকট থেকে তহবিল শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। স্পন্সর লেটারে থাকত হবে—
* স্পন্সর বা গ্যারান্টরের নাম
* তহবিলের প্রাপক তথা শিক্ষার্থীর নাম
* তহবিলের মোট পরিমাণ এবং প্রাপ্তির সময়। তহবিল কিস্তিতে স্থানান্তর করা হলে সেই কিস্তি সংখ্যা।
* স্পন্সরশিপের সুনির্দিষ্ট সময়কাল
* তহবিলের কোনো অংশ শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ
* স্পন্সর আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত তথ্যাবলি
* স্কলারশিপ পেয়ে থাকলে তার একটি প্রশংসাপত্র। এখানে উল্লেখ থাকবে—স্কলারশিপ প্রদানকারীর (ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান) নাম, স্কলারশিপ অর্জনকারী তথা শিক্ষার্থীর নাম, স্কলারশিপের সময়সীমা এবং সুইডেনে পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ হয়েছে তার স্বীকারক্তি, অর্থের মোট পরিমাণ, কখন এবং কি পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে তার বিস্তারিত, স্কলারশিপের কোন অংশটি শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে খরচ হবে।

স্টুডেন্ট লোন পেলে, তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং একটি প্রশংসাপত্র। এখানে উল্লেখ থাকবে—

* ঋণ প্রদানকারী বা প্রদানকারীদের নাম
* ঋণগ্রহীতা তথা ছাত্রছাত্রীর নাম
* ঋণের সময়সীমা
* শিক্ষার্থী কখন তা পরিশোধ করবেন
* ঋণের অর্থ অধ্যয়নের জন্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে (মাসিক বা মোট পরিমাণ)
* ঋণের কোনো পরিমাণটি দিয়ে ছাত্রছাত্রীর জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করা হবে
* পিএইচডির ক্ষেত্রে সুপারভাইজার অধ্যাপকের একটি প্রশংসাপত্র, যেখানে অধ্যয়নের পুরো সময় উল্লেখ থাকবে
* পুরো অধ্যয়নের সময়জুড়ে সুইডেনে যাতায়াত ও বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যবিমা: কমপক্ষে ৩০ হাজার ইউরো বা ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৫১ টাকা (১ ইউরো = ১৩৩ দশমিক ২৮ টাকা), যা যেকোনো শেনজেনভুক্ত দেশের জন্য প্রযোজ্য

রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন—
অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে দূতাবাসে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো রেসিডেন্স পারমিট কার্ড। এর জন্য দরকার হবে ছবি তোলার এবং আঙুলের ছাপ নেওয়ার। দূতাবাসে উপস্থিত হওয়ার আগে ambassaden.dhaka-visum@gov.se ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। ভিসাকেন্দ্রের ঠিকানা: সুইডেন দূতাবাস, বেস এজওয়াটার, ৬ষ্ঠ তলা, গুলশান ২, ঢাকা-১২১২

ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি
স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন ফি ১ হাজার ৫০০ ক্রোনা। বাংলাদেশের সুইডেন দূতাবাস ওয়েবসাইট অনুসারে, এই ফি ১৪ হাজার ৮০০ টাকা, যেটি জমা দিতে হবে ব্র্যাক ব্যাংকে সুইডেন দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্ট নাম্বার- ১৫০১২০৪৮৪০৫৪৫০০১।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় ও রেসিডেন্স পারমিট কার্ড সংগ্রহ
অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণের কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত তথ্য বা নথির প্রয়োজন হলে আরও সময় লাগতে পারে। তাই সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর অধ্যয়ন ফি পরিশোধের পরে যত দ্রুত সম্ভব রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করা উচিত। এতে ভিসার প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়, যার ফলাফল সেমিস্টারের ক্লাস শুরুর বেশ আগেই চলে আসতে পারে।

আবেদন যাচাই-বাছাই করে সুইডিশ অভিবাসন অধিদপ্তর কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত ই-মেইলের মাধ্যমে প্রার্থীকে জানাবে। অতঃপর সে অনুযায়ী পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।

সুইডেনে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ—
অধ্যয়ন এবং জীবনযাত্রার যাবতীয় খরচ মিলে সুইডেনের উচ্চশিক্ষায় যে বাজেট রাখতে হয় তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। বিষয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষে অধ্যয়ন ফি বাবদ খরচ হতে পারে প্রতিবছর ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩৬ থেকে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৪ টাকার সমতুল্য। তন্মধ্যে ব্যবসা ও স্থাপত্যের কোর্সে খরচ সবচেয়ে বেশি। অপর দিকে, সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক কোর্স ফি সর্বনিম্ন। এ দুয়ের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রোগ্রাম ও ন্যাচারাল সায়েন্স কোর্সের মূল্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ক্রোনা। এই পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৬৫৫ থেকে ১৭ লাখ ৯১৬ টাকার সমান।

নিত্যদিনের থাকা-খাওয়া ও চলাফেরার খরচ বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন রকম। বিশেষ করে স্টকহোম ও গোথেনবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়ভার সর্বাধিক। অন্যদিকে লুন্ড ও উপসালার মতো শহরগুলো মোটামুটি শিক্ষার্থীবান্ধব।

সব মিলিয়ে গড়পড়তায় যে বাজেট থাকে সেখানে বিপুল অংশজুড়ে থাকে আবাসন। মাসে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ ক্রোনা (২৯ হাজার ৩২৬ থেকে ৭৬ হাজার ২৪৮ টাকা)। ইউটিলিটির জন্য রাখতে হবে মাসে ১ হাজার ৩০০ ক্রোনা (১৫ হাজার ২৫০ টাকা)। খাবার ও প্রতি মাসের মুদির জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ক্রোনা (১৭ হাজার ৫৯৬ থেকে ২৯ হাজার ৩২৬ টাকা)। পরিবহনে ব্যয় হবে ১ হাজার ক্রোনা বা ১১ হাজার ৭৩০ টাকা।

সুইডেনে স্কলারশিপ—
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে রয়েছে পর্যাপ্ত স্কলারশিপের সুবিধা। এগুলোর মধ্যে কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭২ হাজার ক্রোনা পর্যন্ত।
* চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি স্কলারশিপের মূল্য ২৩ হাজার থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ক্রোনা
* লুন্ড ইউনিভার্সিটি গ্লোবাল প্রতিবছর ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার ক্রোনার স্কলারশিপ দিয়ে থাকে
* লিনকোপিং ইউনিভার্সিটি থেকে পাওয়া যায় বছরে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ২ হাজার ক্রোনা।
* সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনাল কার্যক্রম থেকে বরাদ্দ থাকে প্রতি মাসে ১২ হাজার ক্রোনা।
* উপসালা ইউনিভার্সিটি গ্লোবাল স্কলারশিপের আওতায় থাকে সেমিস্টারপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৭২ হাজার ৫০০ ক্রোনা।

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ মাসে ১৩ হাজার ক্রোনা দেয়। জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রকল্প ইরাস্মাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার ডিগ্রি থেকে প্রতি সেমিস্টারে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৫২ হাজার ক্রোনা।

খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ কেমন
সুইডেনে পড়াশোনার জন্য রেসিডেন্স পারমিট লাভের মাধ্যমে অধ্যয়নের পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের অনুমতিও পাওয়া যায়। আলাদা করে আর ওয়ার্ক পারমিটের দরকার পড়ে না। এমনকি অন্য দেশগুলোর মতো এখানে কাজের জন্য কোনো ধরাবাঁধা সময়সীমা নেই।

সুইডেনে খণ্ডকালীন চাকরি করে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ ক্রোনা (৪ হাজার ৬৯২ টাকা) পর্যন্ত আয় করা যায়। এই হারে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করে মাসিক ৩২ হাজার ক্রোনা পর্যন্ত উপার্জন করা যেতে পারে। শুধু নিত্যদিনের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার সামলানো নয়, এর মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, তা ছাড়া ভবিষ্যতে পূর্ণকালীন চাকরির জন্য নেটওয়ার্কিং-এও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই স্বল্পকালীন কাজগুলো।

ঘণ্টাপ্রতি গড় রেটের একটি তালিকা—
* লাইব্রেরি সহকারী: ১৬৫ ক্রোনা
* গ্রাহক সেবা প্রতিনিধি: ২০০ ক্রোনা
* গবেষণা সহকারী: ২০০ ক্রোনা
* ল্যাব টেকনিশিয়ান: ২৩৬ ক্রোনা
* রিসেপশনিস্ট: ১৬০ ক্রোনা
* ওয়েটার বা ওয়েট্রেস: ১৩০ ক্রোনা
* বিক্রয় সহকারী: ১৪৪ ক্রোনা
* আইটি সাপোর্ট: ২৫৩ ক্রোনা
* ফ্রিল্যান্স রাইটিং বা অনুবাদক: ২৪২ ক্রোনা
* আয়ের ক্ষেত্রে কর দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কেননা মাসিক আয়ের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কর দিতে হয়। তথ্যাসুত্র: ইউএনবি

বিটিএস তারকা আরএমের আরেক রেকর্ড

মার্কিন র‍্যাপার মেগান দ্য স্টালিয়নের সঙ্গে ‘নেভা প্লে’ শিরোনামে একটি গানে বিটিএস তারকা আরএমকে পাওয়া গেছে। ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গানটি শ্রোতাদের মাঝে সাড়া ফেলেছে।

এক প্রতিবেদনে ফোর্বস জানিয়েছে, ‘নেভা প্লে’ দিয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন আরএম। বিলবোর্ডের আর অ্যান্ড বি/হিপহপ ডিজিটাল গানের তালিকায় শীর্ষ রয়েছে ‘নেভা প্লে’।

এবারই প্রথম নয়, ২০২২ সালেও ‘ক্লোজার’ গান দিয়ে প্রথম কোনো কোরীয় শিল্পী হিসেবে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম কোনো কোরীয় শিল্পী, যার গান অ্যান্ড বি/হিপহপ ডিজিটাল তালিকার শীর্ষে উঠেছে।

গানের বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন আরএম। তাঁকে নিয়ে ‘আরএম: রাইট পিপল, রং পিপল’ মুক্তি পাচ্ছে। প্রামাণ্যচিত্রটি ২৯তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে।

ধূমপায়ীদের ফুসফুস স্বাভাবিকের তুলনায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দুর্বল

ফুসফুস আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্রটির প্রধান কাজ বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে চালিত করা এবং রক্তপ্রবাহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বাতাসে নিষ্কাশন করা। ফুসফুসের যেকোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণ রোগীকে শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা, এমনকি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

তাই ফুসফুসের যত্ন নেওয়া বা বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে এটিকে রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক। জেনে নিন কীভাবে ফুসফুসের যত্ন নিতে হবে:

অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ উজ্জীবিত করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে কোষের ধ্বংস প্রতিরোধ করে এবং ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে পুরো দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করে।

■ ধূমপান পরিহার করতে হবে। ধূমপায়ীদের ফুসফুসের কোষ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দুর্বল হয়ে থাকে বলে তাঁদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও সবার চেয়ে বেশি। ধূমপানসহ যেকোনো ধরনের তামাক ব্যবহার বর্জন করতে হবে।

■ ফুসফুসের সুস্থতায় সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সোডিয়াম, সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ। আদা, হলুদ, রঙিন শাকসবজি, তৈলাক্ত মাছ, ডিম, টক ফল, শর্ষে, আমলকী, আপেল, গাজর, বাদাম, কমলা, ব্রকলি, বাঁধাকপি, বাদাম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল আছে। এসব অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ উজ্জীবিত করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে কোষের ধ্বংস প্রতিরোধ করে এবং ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে পুরো দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে হবে, যা ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তির পাশাপাশি দেহকে টক্সিনমুক্ত করতে ও কোষ উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করবে।

■ ফুসফুস ভালো রাখতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। ব্যায়াম করলে দেহে প্রচুর অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং বারবার সম্প্রসারণ-প্রসারণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট জোর কদমে হাঁটা, প্রাণায়াম, বড় করে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়া ইত্যাদি ব্রিদিং এক্সারসাইজ (শ্বাসের ব্যায়াম) খুবই উপকারী। পাশাপাশি প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা নির্বিঘ্ন ঘুমও জরুরি।

■ ফুসফুসের রোগে বায়ুদূষণের প্রভাব অনেক। দূষিত বায়ুর নানা বিষাক্ত উপাদান ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ঘনবসতি বা অবস্থান শ্বাসতন্ত্র তথা ফুসফুসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে যথাসম্ভব মুক্ত রাখতে হবে। এ ছাড়া হাঁচি-কাশির সময় স্বাস্থ্যসম্মত শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।

■ ঝুঁকিপূর্ণ রোগী, বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যাঁদের কম, তাঁদের ফুসফুসের সংক্রমণ তথা মারাত্মক ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধক টিকা নেওয়া খুবই জরুরি। বর্তমানে বায়ুদূষণসহ অন্যান্য কারণে ছোট–বড় অনেকেই শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে ভুগছেন। দিন দিন বাড়ছে ফুসফুসের নানা রোগ। তাই আসুন, সবাই সচেতন হই, ফুসফুসের যত্ন নিই।

ডা. মো. খায়রুল আনাম: পরিচালক ও অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

শুধু ১৮৭ জন নন, আরও অনেক পুলিশ সদস্য আত্মগোপনে

আগস্টের ৫ তারিখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৮৭ জন সদস্য এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরের। তবে এর বাইরেও অনেক পুলিশ সদস্য নানা কৌশলে বা কারণ দেখিয়ে কর্মস্থলে এখনো অনুপস্থিত রয়েছেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্ষমতার দাপট দেখানোসহ নানা বিতর্কের জন্ম দেওয়া পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আর প্রকাশ্যে আসছেন না। তাঁদের কেউ কেউ কর্মস্থলে যোগ দিয়েই নানা কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। অনেকে আবার কাজে যোগ দেওয়ার পর ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। গত ৫ আগস্টের পর কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া পুলিশ সদর দপ্তরের করা ১৮৭ জনের তালিকায় তাঁদের নাম নেই। পুলিশের একাধিক সূত্র বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার দেশ ছাড়ার গুঞ্জন রয়েছে। আবার কেউ শিক্ষা ছুটি, কেউ অসুস্থতার কথা বলে কিংবা লিয়েন (অনুমোদন নিয়ে অন্যত্র চাকরি) নিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।

পুলিশের পক্ষ থেকে আত্মগোপনে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, যেসব পুলিশ সদস্য এখনো কাজে যোগ দেননি, লুকিয়ে আছেন, তাঁদের আর যোগ দিতে দেওয়া হবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিশ্চয়ই তাঁরা কোনো অপকর্মে জড়িত, এ কারণে কাজে যোগ দিচ্ছেন না। এমন পুলিশ সদস্যের সংখ্যা নগণ্য। তাঁদের বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামানসহ শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ২৩ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। অবসরে যাওয়ার আগে তাঁদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে ছিলেন।

গত জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলির ঘটনায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন মামলা হচ্ছে। এসব মামলায় পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন এবং এ কে এম শহীদুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি মশিউর রহমান, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচিত অন্তত সাত সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের অনুমতি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশের আট কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, ঢাকার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহিদুর রহমান, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী। অবশ্য গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়ার আগেই ২ সেপ্টেম্বর রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিবি পুলিশ কাফীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়া পুলিশ সদস্যের তালিকায় আরও আছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ওয়ারী জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম ও ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার তানজিল আহমেদ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উত্তরার সহকারী পুলিশ সুপার (চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার সাবেক ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম। রফিকুলকে ২২ সেপ্টেম্বর চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়।

ওই আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকায় পুলিশের কমপক্ষে ৯৯ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

আত্মগোপনে যাঁরা
কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া ১৮৭ সদস্যের যে তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর দিয়েছে, এর মধ্যে ডিআইজি থেকে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন ১৬ জন। পুলিশ পরিদর্শক আছেন ৫ জন, উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন ১৪ জন। অন্যদের মধ্যে এএসআই ৯ জন, নায়েক ৭ জন ও কনস্টেবল ১৩৬ জন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, কাজে যোগ না দেওয়া শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান (স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসরের আবেদন করেছেন), ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিবির সাবেক যুগ্ম কমিশনার খোন্দকার নুরুন্নবী ও সঞ্জিত কুমার রায়, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার উত্তম কুমার পাল এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার।

পুলিশ সুপার থেকে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আত্মগোপনে থাকা অন্য আট কর্মকর্তা হলেন আরপিএমপির উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, আরপিএমপির ডিবির উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম, ডিএমপির সাবেক এডিসি মো. রওশানুল হক, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মফিজুর রহমান ও মো. ইফতেখার মাহমুদ, আরপিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান ও মো. আল ইমরান হোসেন এবং সিরাজগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার জন রানা।

পরিদর্শক পদে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া কর্মকর্তারা হলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার সাবেক ওসি মো. মাহফুজার রহমান, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক খাদেমুল বাহার বিন আবেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সার্কেলের পরিদর্শক মো. ইউসুফ হাসান, ডিএমপির সাবেক পরিদর্শক জাকির হোসাইন ও ঢাকা জেলা পুলিশের পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

অনুপস্থিত বা আত্মগোপনে থাকা সদস্যদের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইনামুল হক গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত ১৮৭ জনের আর যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। কাজে যোগ দেওয়ার পর অফিস করছেন না, এমন সদস্যদের তালিকা করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে পুলিশ সদর দপ্তরের এই মুখপাত্র বলেন, এ–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো নেই। যাঁরা কাজে যোগ দিচ্ছেন না কিংবা যোগ দিয়ে কর্মস্থলে আসছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে, তা তদন্ত করা হবে।

রোহিঙ্গাদের জন্য ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য প্রায় ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা প্যাকেজ দেয়ার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মানবিক সহায়তা প্যাকেজের মধ্যে দেশটির উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি দিচ্ছে ১২৯ মিলিয়ন ডলার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রোহিঙ্গা-কেন্দ্রিক একটি অনুষ্ঠানে এই অর্থায়নের ঘোষণা দেন।

ইউএসএআইডির ১২৯ মিলিয়নের মধ্য থেকে ৭৮ মিলিয়ন ডলার আসবে মার্কিন সরকারের কৃষিপণ্য বিভাগ থেকে। এই বিভাগ দেশটির কৃষকদের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য কেনা, পরিবহন এবং বিতরণে সাহায্য করবে।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে মার্কিন সরকার। যার মধ্যে, বাংলাদেশে-ই দেয়া হয়েছে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়াও, বার্মা, বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের সংকট-পীড়িত সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। তবে, মানবিক সহায়তার জন্য অন্যান্য দাতাদেরকে সহায়তা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট।

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই অধিবেশনে অংশ নিতে আসা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ড. ইউনূস।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে একটি ইভেন্টের সাইডলাইনে এই দুই নেতা কথা বলেন। এসময় তারা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন।

এর আগে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে বৈঠক হয়। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠক করেছেন অধ্যাপক ইউনূস।

সেই সঙ্গে নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে এক মঞ্চে ছিলেন ড. ইউনূস।

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)’র অধিবেশনের ফাঁকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদর দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউনাইটেড ন্যাশনস জেনারেল এসেম্বলির ওয়েবসাইটে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে উভয় নেতা অভিবাসন নিয়ে আলোচনা করেছেন। একইসঙ্গে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি যেন বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার ও কাজের সুযোগ পায় সেই আহ্বানও জানিয়েছেন ড. ইউনূস। বিষয়টি ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম নিশ্চিত করেছেন।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথ অবলম্বন করেন, তাই ড. ইউনূস বৈধ বা আইনি উপায় খোঁজার কথা জানিয়েছেন। যাতে আরও বেশি বাংলাদেশি ইতালিতে গিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বাংলাদেশ সরকারকে ‘পূর্ণ সমর্থনের’ কথা জানিয়েছেন বাইডেন।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ গ্রেফতার

সাবেক এমপি ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকার গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাবের একটি দল।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশানে অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে সাবেক এমপি ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ গ্রেফতার হন।

জানা যায়, গত ৪ আগস্ট, নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা হয়। সেই ঘটনায় দায়েরকৃত ‘আক্রমণ ও হত্যা’ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে, ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তার বাবার গ্রেফতারের বিষয়টি জানান।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মিলিয়ে অন্তত ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নতুন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমর্থন অব্যাহত থাকবে: জো বাইডেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠক নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এতে বলা হয়, বৈঠকে বাইডেন বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি নিয়ে গতকালই হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গতকাল মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন। আর এই সম্পর্কের মূলে রয়েছে পারস্পরিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের মধ্যকার শক্তিশালী বন্ধন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই সরকারের মধ্যে আরও সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কারকাজের সময় দীর্ঘায়িত হবে: বদিউল আলম মজুমদার

ইমারত হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কারকাজের সময় দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন।

কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় শিশুকন্যা অ্যাডভোকেসি ফোরাম। আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল এডুকো বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, দেড় বছরের মধ্যে সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দেবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন সেনাপ্রধান। এই সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচন সম্ভব কি না?

জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা আমার জানার কথা নয়। আমার ধারণা, সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই এটা নির্ধারিত হবে। আমার এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই।’

পরে আরেকজন সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেন, এই সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্ভব কি না?

জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমি জানি না। আমি মনে করি যে এটা দীর্ঘায়িত হবে। রাজনৈতিক দল ও সরকারের মধ্যে সংলাপ হবে। একটা রোডম্যাপ তৈরি করে তার ভিত্তিতে বোধ হয় সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হবে।’

নির্বাচন কমিশনের সংস্কারও তো এই সময়ের মধ্যে করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপনারা কী কী সংস্কার করছেন—এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করেন।

জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সব নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে, নির্বাচনী ব্যবস্থার সব দিক নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করব এবং তার ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়ন করব। এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের নয়। ৯০ দিন আমাদের সময় দেওয়া হয়েছে।’

সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন ও জনপ্রশাসন সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

কমিশনগুলো অক্টোবরের মধ্যে কাজ শুরু করবে। আর কাজ শেষে তারা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা করছে সরকার। তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে। ১৯ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছয় সংস্কার কমিশনের প্রধানদের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।