বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

সাজা শেষে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ২২ বাংলাদেশি

সাজা শেষে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ২২ বাংলাদেশি। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে তাদের দেশে ফেরত পাঠায় ইমিগ্রেশন বিভাগ।

শনিবার রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন প্রবিধান ১৯৬৩-এর পাশাপাশি অন্যান্য এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি আইনের অধীনে বিভিন্ন অপরাধে সাজা শেষে তাদের নিজ দেশের দূতাবাস থেকে নাগরিকত্ব যাচাই পাস পাওয়ার পর ফেরত পাঠানো হয়।

বাংলাদেশি ছাড়াও একই ক্যাম্প থেকে ভারতের ৩০, ইন্দোনেশিয়ার ২৫, নেপালের ২০ , পাকিস্তানের ১১, শ্রীলঙ্কার ৮, থাই ৫ এবং ফিলিপিনের ৪ নাগরিককেও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে তারা যেন ফের মালয়েশিয়ায়া প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তাদেরকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হয়েছে।

এর আগে কয়েক ধাপে, একই ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশিসহ ৪৩৩ জন অভিবাসীকে ফেরত পাঠায় অভিবাসন বিভাগ।

আজ বিঘ্নিত হতে পারে ৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট সেবা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনে সংযুক্ত সব সার্কিটের ব্যান্ডউইডথ সেবা আজ শনিবার রাত থেকে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্‌ল সিস্টেমের ‘লাইটনিং ফিল্টার’ স্থাপনের কাজের জন্য এই সেবা বন্ধ রাখা হবে।

এই সময়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সাবমেরিন কেব্‌লের সার্কিটগুলো যথারীতি চালু থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে আগামীকাল রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হতে পারে।

গত শুক্রবার বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌লস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ওই চার ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলার কারণে গ্রাহকেরা ধীরগতির ইন্টারনেট পেতে পারেন। ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

গ্রাহকদের সাময়িক ওই অসুবিধার জন্য বিএসসিপিএলসি কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ঢাকার ভেতরে কাশফুলের রাজ্যে

শরতের হালকা হাওয়া আর ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ির কাশফুলের সাদা গালিচা যেন প্রকৃতির সঙ্গে মিশে একাকার। কনক্রিটের শহর থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনকে প্রকৃতির কাছে সমর্পণ করার এ এক অনন্য সুযোগ।

এক বৃহস্পতিবার বিকেলে, আমরা বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, শরতের শুভ্র কাশফুল দেখতে দিয়াবাড়ি যাবো। দিয়াবাড়িতে পৌঁছানোর পর প্রথমেই চোখে পড়ে বিশাল মাঠজুড়ে মাথা উঁচু করে দোল খাওয়া কাশফুল।

সাদা ফুলগুলো যেন একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, কে বেশি মুগ্ধ করবে আমাদের। আকাশে তখন সাদা মেঘের আনাগোনা আর নিচে কাশফুলের মেলা। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি যেন আমাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

বন্ধুরা মিলে কাশফুলের মাঝে হাঁটতে লাগলাম, একেক করে সবাই যেন প্রকৃতির এই সৌন্দর্যে হারিয়ে গেলাম। হাসি-ঠাট্টা, গল্প, আর কাশফুলের মাঝে ছবি তোলার উন্মাদনায় মেতে উঠেছিলাম।

দিয়াবাড়ির কাশফুলের নাচন শহরের বুকে কিছুটা হলেও শৈশবকে ফিরিয়ে দিল। শহরের জীবনযাত্রায় এই ধরনের সময় আর মেলে না, কিন্তু সেই বিকেলটা যেন আমাদেরকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিল।

শুধু কাশফুল নয়, দিয়াবাড়ির পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও উপযুক্ত। ঢাকার ভেতরেই কাশফুলের এই রাজ্য সত্যিই মনোরম। একই সঙ্গে আশপাশের খাবারের দোকান পর্যটকদের সেখানে বেশি সময় কাটাতে বাধ্য করবে!

এই ভ্রমণ কেবল একটি ছোট্ট সফর ছিল না, এটি আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে। ঢাকার মতো যান্ত্রিক শহরে দিয়াবাড়ির মতো একটি স্থান সত্যিই একখণ্ড প্রশান্তি, যেখানে শরতের নরম বাতাসে কাশফুলের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে থাকবে অনেকদিন।

এই সফর আমাদেরকে শহরের ব্যস্ততার মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করার একটি দুর্লভ সুযোগ দিয়েছে। দিনের শেষে সূর্যের সোনালি আলো যখন কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে মিশে যায়, তখন চারপাশের দৃশ্যটা যেন আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।

গোধূলিবেলায় আকাশের সোনালি আভা কাশফুলের শুভ্রতা ও শীতল বাতাসের সঙ্গে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছিল। কাশফুলের মাঝে বসে আমরা সূর্যাস্তের সেই মুহূর্তগুলো গভীরভাবে উপভোগ করছিলাম, যেন প্রকৃতি আর আমাদের মাঝে কোনো দূরত্ব নেই।

সন্ধ্যার পর যখন হালকা অন্ধকার নামছিল, তখন কাশফুলের সাদা রং যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। এই গোধূলি মুহূর্তগুলো আমাদের বন্ধুত্বকে আরও স্মৃতিময় করে তুললো। আমরা সবাই মিলে কাশফুলের মাঝে বসে গল্প করতে করতে অনুভব করলাম, কত সহজে সময় কেটে যায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে।

দিয়াবাড়িতে এই শরতের বিকেল আমাদের জীবনে এক আনন্দের দিন হয়ে থাকবে, যেখানে বন্ধুত্ব, দুষ্টামি, এবং প্রকৃতির স্নিগ্ধতা একসাথে মিশে ছিল।

এনবিআরের সফলতা শুধু ভ্রমণ কর আদায়ে

সদ্য বিদায়ী ২০২৩–২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একমাত্র ভ্রমণ করেই সাফল্যের দেখা পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের মধ্যেই (জুলাই–এপ্রিল) ভ্রমণ কর আদায়ের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে সংস্থাটি। আর জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে এই খাত থেকে আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা।

ভ্রমণ কর আদায়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের পরিশ্রম করতে হয় না বললেই চলে। কারণ, বিভিন্ন এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির সময়ই তারা ভ্রমণ কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দেয়। স্থলপথের ভ্রমণ করও কর কর্মকর্তারা আদায় করেন না; সেটি হয় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে।
এনবিআর এখন পর্যন্ত বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসের রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, সংস্থাটি এ সময়ে সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে। গত অর্থবছরে সংস্থাটির রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাস শেষে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে প্রায় সাড়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর এখন পর্যন্ত জুন মাসের আদায়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তাই অর্থবছর শেষে মোট কত রাজস্ব আদায় হয়েছে, সেই তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনবিআরের গত ১১ মাসের সার্বিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত অর্থবছরে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে গত মে মাসে। ওই মাসে সংস্থাটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। জুন মাসেও যদি এ রকম রাজস্ব আদায় হয়, তারপরও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে রাজস্ব আদায়ে।

আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট), আবগারি শুল্ক, লেনদেন কর, আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ মোটাদাগে রাজস্ব আদায় করে থাকে এনবিআর। এর মধ্যে একমাত্র ভ্রমণ করেই এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে সংস্থাটি। অন্যান্য খাত থেকে গত ১১ মাসে আদায়ের যে চিত্র, তাতে অর্থবছর শেষে এসব খাতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ প্রায় অসম্ভব বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

ভ্রমণ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কারণ সম্পর্কে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত অর্থবছরে এ খাতে কর বাড়ানো হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে গত অর্থবছরে নতুন করে ভ্রমণ কর আরোপ করা হয়। করহার বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করারোপের ফলে এ খাত থেকে আদায় বেড়েছে। এ ছাড়া দেশের মানুষের ভ্রমণ যত বাড়ে, এ খাত থেকে এনবিআরের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিনা পরিশ্রমে রাজস্ব আদায়ও তত বাড়ে। কারণ, এই খাত থেকে কর আদায় একেবারেই সহজ। যেমন আকাশপথে দেশে ও দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভ্রমণদাতাদের কাছ থেকে বিমান সংস্থাগুলোই টিকিট বিক্রির সময় কর কেটে রাখে এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। আর স্থলপথে বিদেশ ভ্রমণের বেলায় ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কর আদায় করে থাকে। এ কাজ হয় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে।

বিদায়ী ২০২৩–২৪ অর্থবছরে আকাশপথে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি ২০০ টাকা করে ভ্রমণ কর আরোপ করা হয়। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও করের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের বেলায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকায় ভ্রমণ কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। আকাশপথ ছাড়া স্থল ও সমুদ্রপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কর বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা গত অর্থবছরের আগে ছিল ৫০০ টাকা।

গত অর্থবছরের ১১ মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ খাত থেকে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ কর আদায় হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে, যা পরিমাণে ২০৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৭ কোটি টাকা আদায় হয় পরের মাস ডিসেম্বরে। আর সর্বনিম্ন ১০৬ কোটি টাকা আদায় হয় অর্থবছরের প্রথম মাসে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত নভেম্বর–ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তাই এ সময়ে মানুষ দেশে–বিদেশে বেশি ভ্রমণ করে। ফলে ভ্রমণ করের আদায় বাড়ে।

১৩৪ দিন ফোন ছাড়া ভ্রমণ

প্রতীকী ছবি

ডিজিটাল এই যুগে, স্মার্টফোন যেখানে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে, সেখানে ফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট ছাড়া ১/২ দিন নয়, পুরো ১৩৪ দিন কাটিয়েছেন চীনের পিএইচডি শিক্ষার্থী ইয়াং হাও।

ফোন ছাড়া জীবন কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তা দেখতেই দুটি ক্যামেরা নিয়ে চীন ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছিলেন ইয়াং।

ইয়াং গত বছরের নভেম্বরে শানসি প্রদেশে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে ছয় মাসের জন্য ভ্রমণে বেরিয়ে যান। তিনি এ সময় ২৪টি প্রদেশ ও অঞ্চল ভ্রমণ করেন।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ইয়াং তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ বাড়িতেই রেখে যান। সঙ্গে নেন শুধু দুটি ক্যামেরা, যেগুলো ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায় না। নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ক্যামেরাবন্দী করতেই তিনি সেগুলো সঙ্গে নেন।

ইয়াং বলেন, ‘মুঠোফোনকে আমার নিজের ডিজিটাল অঙ্গ মনে হয়। এটি ছাড়া আমরা অনেক কিছুই করতে পারি না। তাই আমি দেখতে চেয়েছিলাম, যদি ইন্টারনেটে প্রবেশের কোনো রকম সুযোগ না থাকে, তাহলে কেমন হবে। টানা কয়েক মাস ধরে এমনটা হলে অভিজ্ঞতা ঠিক কেমন হবে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, চীনে প্রযুক্তি ছাড়া পথ চলতে গেলে অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। সাধারণ কোনো কাজও ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন হোটেলে কক্ষ আগাম ভাড়া করা বা ট্যাক্সি ভাড়া করা।

ইয়াং বলেন, ‘আমি কোনো ফোন ব্যবহার করছি না, এটা শুনে বেশির ভাগ মানুষই অবাক হয়ে যেতেন। কেউ কেউ সন্দেহের গলায় জিজ্ঞেস করতেন, আমি খারাপ কিছু করছি কি না। কেউ কেউ এটাও ভাবতেন যে আমি বিশেষ কোনো কাজ করছি। বাকিরা মনে করতেন, মুঠোফোন ছাড়া জীবনযাপন দারুণ মজার কিছু।’

তবে নানা রকম উদ্ভট সংকটের মুখে পড়লেও ফোনবিহীন জীবনে অবাক করা কিছু সুবিধা খুঁজে পেয়েছেন ইয়াং। মুঠোফোনে ক্রমাগত নানা নোটিফিকেশনের ‘পিং’ শব্দ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া জীবনে প্রথমবার তিনি কোনো কাজে অধিক মনোনিবেশ করতে পেরেছেন, নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছেন আরও অর্থবহ সাধনায়।

বই পড়ে, লেখালেখি করে এবং নানা বিষয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করে ইয়াং সময় কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা ও আনন্দ অর্জন আমাকে বিস্মিত করেছে। এটা জীবনের দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

ইয়াং বলেন, ‘আমার নিজেকে প্রাচীন যুগের মানুষ মনে হয়েছে, সময় পরিভ্রমণ করে যে আধুনিক যুগে এসেছে।’

নিজের পিএইচডি গবেষণার জন্যই ইয়াং এ কাজ করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে তাঁর। রাস্তায় চলতে চলতে যেসব ভিডিও ও ছবি তিনি তুলেছেন, সেগুলো দিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরির পরিকল্পনাও আছে তাঁর।

গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় বিশ্বকে বাংলাদেশ পাশে চায়

ছবিঃ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

লিখেছেন সম্পাদকঃ ইমারত হোসেন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। টেকসই সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন ও সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় বিশ্বকে পাশে চায় বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৯তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে এ ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তিনি বাংলায় ভাষণ দেন।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। তিনি পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ, বাংলাদেশ নিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রারম্ভিক পদক্ষেপ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি রাষ্ট্র হিসেবে দ্বিপক্ষীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের দায়িত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমকালীন নানা বিষয় তুলে ধরে ভবিষ্যতের পৃথিবীর কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান
পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

ড. ইউনূস বলেন, ছাত্র ও যুবসমাজের আন্দোলন প্রথম দিকে মূলত ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। পর্যায়ক্রমে তা গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

ছাত্র-জনতার অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি এসেছে বলে উল্লেখ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত, যা বাংলাদেশকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে।

ড. ইউনূস বলেন, এই গণ-আন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল। তিনি বলেন, ‘বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল আমাদের তরুণেরা। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার হয়েছিল আমাদের তরুণীরা। স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা নিঃশঙ্কচিত্তে উৎসর্গ করেছিল তাদের জীবন। শত শত মানুষ চিরতরে হারিয়েছে তাদের দৃষ্টিশক্তি। আমাদের মায়েরা, দিনমজুরেরা ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল রাজপথে। জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানামতে আট শর বেশি জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘উদারনীতি, বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর মানুষের গভীর বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে আমাদের গণমানুষ যুদ্ধ করেছিল, সেই মূল্যবোধকে বহু বছর পর আমাদের “জেনারেশন জি” (প্রজন্ম জি) নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। এ রকমটি আমরা দেখেছিলাম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়েও। বাংলাদেশের এই অভ্যুত্থান আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক বিপ্লবকালে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিনতম সময়ে জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী আরও একবার শান্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকার প্রমাণ করেছে বলে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে শান্তি রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দুতে মানবাধিকারকে স্থান দেওয়ার ফলে।’

ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে অবদানকারী চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছে। এসব মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ১৬৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। যেকোনো অবস্থায় নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা একইভাবে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন বলে ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন।

ন্যায়, নীতি ও নৈতিকতা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল
ড. ইউনূস বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেখতে পায় কীভাবে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, কীভাবে রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মম দলীয়করণের আবর্তে বন্দী করে রাখা হয়েছিল, কীভাবে জনগণের অর্থসম্পদকে নিদারুণভাবে লুটপাট করা হয়েছিল, কীভাবে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সব ব্যবসা-বাণিজ্যকে অন্যায়ভাবে নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে দেশের সম্পদ অবাধে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এককথায়, কীভাবে প্রত্যেকটি পর্যায়ে ন্যায়, নীতি ও নৈতিকতা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অতীতের ভুলগুলোকে সংশোধন করে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য।’

সুশাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য
ড. ইউনূস বাংলাদেশের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা মানুষের মৌলিক অধিকারকে সমুন্নত ও সুরক্ষিত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে, ভয়ভীতি ছাড়া সমাবেশ করবে, তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ এবং সাইবার ডোমেইনসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুসংহতকরণেও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল পর্যায়ে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই আমাদের অভীষ্ট।’

সরকারের পদক্ষেপ
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ভাষণে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার গণ-আন্দোলনকালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধান এবং এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পরামর্শ দিতে একটি তথ্যানুসন্ধান দল বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য ড. ইউনূস তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বলেন, ‘আমরা গুম প্রতিরোধে যে আন্তর্জাতিক সনদ রয়েছে, তাতে যোগদান করেছি। বাংলাদেশে বিগত দেড় দশকে যেসব গুমের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিশন এ মুহূর্তে কাজ করছে।’

মানুষের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং নির্মম অতীত যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সুনির্দিষ্ট খাতে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই লক্ষ্যে বিদ্যমান নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সংস্কারের জন্যও পৃথক কমিশনসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশি ব্যবসা বা বিনিয়োগ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর।

গণতান্ত্রিক উত্তরণে সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসব সংস্কার যেন টেকসই হয়, তা দীর্ঘ মেয়াদে নিশ্চিত করতে এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সমতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশের অভিপ্রায় বাস্তবায়নে ড. ইউনূস বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা ব্যাপকতর ও গভীরতর করার আহ্বান জানান।

ভাষণে ড. ইউনূস অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে সম্পদের পাচার বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ জন্য তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পাচার হয়ে যাওয়া সম্পদ ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলেন।

তিন শূন্য ধারণা
বৈশ্বিক পরিসরে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি সুসংহতকরণে যুগপৎভাবে কাজ করার তাগিদ দেন ড. ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেন বিশ্ব সম্প্রদায় এখন কার্বনমুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলতে মনোযোগী হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ‘তিন শূন্য’র লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তাব দেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ অর্জন করতে পারি। যেখানে পৃথিবীর প্রত্যেক তরুণ-তরুণী চাকরিপ্রার্থী না হয়ে বরং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবে। তারা যেন সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজ নিজ সৃজনশীলতার বিকাশ করতে পারে, যেখানে একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ সামাজিক সুফল, অর্থনৈতিক মুনাফা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতার মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য আনতে মনোযোগী হতে পারে, যেখানে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি ভোগবাদী জীবনধারা থেকে উত্তরণ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সৃজনশীল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সময়ে তাই প্রয়োজন উন্নত ও উন্নয়নশীল সকল দেশ ও বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন মূল্যবোধ এবং নতুন একতা। সামগ্রিকভাবে এই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ ব্যবস্থা, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সরকারসমূহ, সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি অংশীজন (এনজিওসমূহ) এবং দাতব্য সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে একসঙ্গে। তিনি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে অভিযোজনের জন্য ব্যাপক বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকট
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের জন্য প্রথাগত ও অপ্রথাগত উভয় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন করার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘটিত হওয়া ব্যাপকভিত্তিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

ফিলিস্তিনে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গুরুত্ব পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর উদ্বেগ এবং নিন্দা সত্ত্বেও গাজায় গণহত্যা থামছে না। ফিলিস্তিনের বিদ্যমান বাস্তবতা কেবল আরব কিংবা মুসলমানদের জন্যই উদ্বেগজনক নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির জন্যই উদ্বেগের। একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেক ফিলিস্তিনির জীবন অমূল্য। ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ হচ্ছে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়বদ্ধ করতে হবে।

ড. ইউনূস বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর চলমান নৃশংসতা, বিশেষত নারী ও শিশুদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যে নিষ্ঠুরতা বিশ্ব দেখছে, তা থেকে নিস্তারের জন্য বাংলাদেশ অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি আনতে পারবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবাইকে এর বাস্তবায়নের জন্য এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

আড়াই বছর ধরে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব সর্বব্যাপী। এমনকি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। আমরা তাই উভয় পক্ষকেই সংলাপে বসে বিরোধ নিরসনের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

ড. ইউনূস জানান, বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পক্ষভুক্ত, সেগুলো প্রতিপালনে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিশ্বকাঠামোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান অব্যাহত থাকবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী
ড. ইউনূস বলেন, ‘এ বছর আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করছি। গত ৫০ বছর ছিল আমাদের জন্য একটি পারস্পরিক শিক্ষণীয়, সম্মিলিত যাত্রা। সীমিত উপায়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, ন্যায়, সমতা, মানবাধিকার, সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে আসছে। আমাদের সমন্বিত প্রয়াস সত্যিকার অর্থে একটি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’

সংস্কারে বাংলাদেশকে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

ইমারত হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এই সহায়তার ঘোষণা দেন। প্রধান উপদেষ্টার এক্সে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাসস জানায়, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু অজয় বাঙ্গা বলেন, বিশ্বব্যাংকের দেওয়া ঋণের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ কোটি ডলার হবে নতুন ঋণ এবং আরও ১৫০ কোটি ডলার বিদ্যমান কর্মসূচি থেকে পুনর্ব্যবহার করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জানান, বিশ্বব্যাংক ডিজিটালাইজেশন, তারল্যসংকট উত্তরণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং পরিবহন খাতের সংস্কারে সহায়তার জন্য এই ঋণ দেবে।

আলোচনার সময় ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ঋণ কর্মসূচিতে উদ্ভাবন আনার আহ্বান জানান। ড. ইউনূস বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠনের এটি একটি বড় সুযোগ।’

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি খাতের সহযোগিতা এবং নেপাল ও ভুটানে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ কীভাবে ভারত, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করা যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

তাঁদের আলোচনার সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

ইস্টার্ণ ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, সিজিপিএ ৩ হলে আবেদন

বেসরকারি খাতের ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই ব্যাংকে প্রায়োরিটি ব্যাংকিং, রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং বিভাগে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

বিভাগ: প্রায়োরিটি ব্যাংকিং, রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং

পদের নাম: রিলেশনশিপ অফিসার, রিলেশনশিপ ম্যানেজার

পদসংখ্যা: উল্লেখ নেই

যোগ্যতা: বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক পাস। সিজিপিএ ৪.০০–এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে কমপক্ষে দুই বছর থেকে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

কর্মস্থল: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ

বেতন গ্রেড: অফিসার ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের বেতন গ্রেডে বেতন দেওয়া হবে।

বিভাগ: রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং

পদের নাম: রিলেশনশিপ অফিসার, রিলেশনশিপ ম্যানেজার
পদসংখ্যা: উল্লেখ নেই

যোগ্যতা: বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক পাস। সিজিপিএ ৪.০০–এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে কমপক্ষে দুই বছর থেকে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থান

আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের ইবিএলের ওয়েবসাইটের এই লিংক (https://ebl.bdjobs.com/) থেকে নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেনে Apply Now-এ ক্লিক করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়

৫ অক্টোবর, ২০২৪।

সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের বিশেষ ফজিলত

পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা বাকারা। এ সুরার শেষ দুটি আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল, কোরআনের কোন সুরা সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান? তিনি বললেন, সুরা ইখলাস। এরপর ব্যক্তিটি আবার প্রশ্ন করলেন, কোরআনের কোন আয়াতটি মর্যাদাবান? তিনি বললেন, আয়াতুল কুরসি।

এরপর লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নবী, আপনি কোন আয়াতটি পছন্দ করেন, যাতে আপনার উম্মত লাভবান হবে। নবীজি (সা.) বললেন, সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত।

কখন অবতীর্ণ হলো

সহিহ্ মুসলিম শরিফ এ দুটি আয়াতের ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, ‘এ দুটি আয়াত রাসুল (সা.)-কে মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে আসমানে দান করা হয়েছে।’

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তিনটি জিনিস দান করা হয়: ১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, ৩. উম্মতদের মধ্যে যারা শিরক করে না, তাদের কবিরা গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ।’ (মুসলিম, তাফসিরে মাজহারি)

হে আল্লাহর নবী, আপনি কোন আয়াতটি পছন্দ করেন, যাতে আপনার উম্মত লাভবান হবে। নবীজি (সা.) বললেন, সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত।

আয়াত দুটো উচ্চারণ

আমানার রাসুলু বিমা উনঝিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মুমিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিমমির রুসুলিহি। ওয়া কালু সামিনা ওয়া আতানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা-লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত-রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসিনা আও আখতানা-রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং ক্বাবলিনা- রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহি-ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা- আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৮৫-২৮৬)

এ দুটি আয়াতের অর্থ হলো, ‘তার প্রতিপালকের কাছ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে রাসুল তার ওপর বিশ্বাস করে আর বিশ্বাসীরাও। তারা সকলেই বিশ্বাস করে আল্লাহয়, তাঁর ফেরেশতাগণে, তাঁর কিতাবগুলোয় ও তাঁর রাসুলদের ওপর (এবং তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনি ও মানি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই, আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব।’ আল্লাহ্ কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার দেন না। ভালো ও মন্দ যে যা উপার্জন করবে তা তারই। (তোমরা প্রার্থনা করো,) হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে অপরাধী কোরো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে যে ভারী দায়িত্ব দিয়েছিলে আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব দিয়ো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এমন ভার আমাদের ওপর দিয়ো না যা বইবার শক্তি আমাদের নেই। আর আমাদের পাপ মোচন করো, আর আমাদেরকে ক্ষমা করো, আর আমাদের ওপর দয়া করো, তুমি আমাদের অভিভাবক। অতএব অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদের জয়যুক্ত করো।’ (সূত্র: কোরানশরিফ: সরল বঙ্গানুবাদ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রথমা প্রকাশন, ২০২০)

ফেসবুক ও গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে অন্য ওয়েবসাইটে লগইন করা কি নিরাপদ

ফেসবুক বা গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে সরাসরি লগইন করা যায়। ফলে সেই ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশের জন্য আলাদা করে অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড লিখতে হয় না। আলাদা করে ই-মেইল বা পাসওয়ার্ড লেখার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই নিজেদের ফেসবুক ও গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে অন্য সাইটে লগইন করে থাকেন। সিঙ্গেল সাইন ইন বা এসএসও নামের এ পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পেলেও তা নিরাপদ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।

যেভাবে কাজ করে এসএসও পদ্ধতি

সাধারণত এসএসও পদ্ধতিতে গুগল ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য বেশি ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পর সেটি ফেসবুক বা গুগলের মতো প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবহারকারীর নাম, ই–মেইল ঠিকানা, ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। তবে কখনো কখনো ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, জন্মদিন, বয়স, আগ্রহের বিষয়সহ অবস্থানের তথ্যও সংগ্রহ করে। ফলে এসএসও পদ্ধতিতে লগইন করলে অন্য সাইটগুলো কোন কোন তথ্য সংগ্রহ করছে, তা ব্যবহারকারী জানতে পারেন না। শুধু তা–ই নয়, ফেসবুক ও গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা তথ্য কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনও দেখিয়ে থাকে ওয়েবসাইট ও অ্যাপগুলো।

ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি ও সাইবার হামলার আশঙ্কা

এসএসও পদ্ধতি ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীদের ফেসবুক ও গুগল অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্য গোপনে সংগ্রহ করে বিক্রি করে দিতে পারে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপ। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাও চালানো যায়। ফলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়। শুধু তা–ই নয়, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা যদি কোনো একটি ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্টের দখল নিতে পারে তবে খুব সহজেই ব্যবহারকারীদের অন্য অ্যাকাউন্টগুলোও হ্যাক করা যায়। ফলে এসএসও পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনো অনলাইন সেবার অ্যাকাউন্ট চালু করা সহজ হলেও এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: হাউ স্টাফ ওয়ার্কস