বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

সুনামগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের শীমের খাল নামক সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতরা হলেন- পরিবারের প্রধান এমারুল (৫০), তার স্ত্রী পলি আক্তার এবং তাদের ৪ সন্তান পলাশ, ফরহাদ, ফাতেমা বেগম ও ওমর ফারুক।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে। তবে কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। আমরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দলকে নিয়ে তদন্ত করছি কীভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

নিজের ক্যারিয়ার উন্নয়নে যা করতে পারেন

নিজেকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। স্ব-উন্নয়নে মনোযোগী হলে ভবিষ্যতে ব্যক্তি ও কর্মজীবনে ইতিবাচক ফলাফল আসে। অনেকে দ্রুত সময়ে ক্যারিয়ারের উন্নতি করতে পারেন। কারণ তারা জানেন, প্রতিযোগিতা সব সময়ই থাকে। তাই তারা সফল হওয়ার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং জীবনে সফলতা লাভ করেন।

ব্যক্তিগত উন্নয়ন কেন প্রয়োজন?

সময়কে ব্যক্তিগত উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারলে পেশাগত দিক দিয়ে আপনি অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং, এডভ্যান্স ইংলিশ, যোগাযোগের মতো প্রয়োজনীয় কোর্স আপনাকে পেশাগত জীবনে অনেকের থেকে এগিয়ে রাখবে। কীভাবে আত্মউন্নয়ন করা যায় তা নিয়েই নিবন্ধ প্রকাশ করেছে ‘ইনটেড এডিটোরিয়াল টিম’।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে আত্মউন্নয়ন করবেন।

নিয়মিত পাঠাভ্যাস

শেখার জন্য নিয়মিত পড়া সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা। নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে আপনি যে কৌশলগত জ্ঞান অর্জন করবেন তা কর্মজীবনে আপনাকে এগিয়ে রাখবে। পেশা সংশ্লিষ্ট বইয়ের পাশাপাশি পড়া যেতে পারে অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক বই। যা ব্যক্তির অন্তর্দৃষ্টির বিকাশ ঘটায়। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য- ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের রচিত প্রবন্ধ পড়া যেতে পারে। চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন পড়ার জন্য সময় বের করা এবং সেটিকে অভ্যাসে পরিণত করা।

নতুন শখ তৈরি

পরিবার ও কর্মজীবনের পাশাপাশি নিজের জন্য একটু সময় বের করা জরুরি। একঘেয়েমি কাটাতে, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য তৈরির জন্য একটি বা দুটি শখ থাকা অপরিহার্য। খেলাধুলা, কারুশিল্প কিংবা নতুন ভাষা শেখায় কিছুটা সময় বের করে নিজেকে দিতে হবে। নিজেকে দেওয়া সময়টুকু কীভাবে কাটাবেন তা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নতুন কিছু শেখা বা নিজেকে সময় দেওয়া আত্মউন্নয়নে একটি বিশেষ দিক।

প্রশিক্ষণ গ্রহণ

স্বীয় চেষ্টায় নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ বা কোনো ক্লাসের যোগদান অভিজ্ঞতার কাঠামো যোগ করতে পারে। পাঠ্যক্রম বহির্ভূত পাঠ বা কোম্পানি-স্পন্সর প্রশিক্ষণ সেশনের জন্য সাইন আপ করলে একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্যে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন সম্ভব। দেখা যাবে আপনার এই অর্জিত দক্ষতা পরবর্তী কর্মজীবনে কোনো এক সময় কাজে লেগেও যেতে পারে।

চাহিদা ও দক্ষতার সমন্বয়

পেশাজীবনে অগ্রসর হওয়ার দিকে মনোনিবেশ করলে উন্নত অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট দক্ষতাগুলো শনাক্ত করে রপ্ত করে নিলে নিজেকে উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। দক্ষতার দিকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। যা আপনাকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সহায়তা করবে। যে পেশায় কর্মরত, তার ওপর আরও দক্ষতা অর্জন করতে সমসাময়িক প্রকাশনা পড়া, ট্রেনিং গ্রহণ, দক্ষতা অর্জন অনেকের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।

নতুন সময়সূচী তৈরি

নতুন সময়সূচী তৈরি করে আপনি কীভাবে আপনার সময় ব্যবহার করেন সে সম্পর্কে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া যেতে পারে। আপনি যেভাবে আপনার দিন কাটাচ্ছেন তা পুনর্বিবেচনা করে এবং সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো চিহ্নিত করতে পারেন। এতে করে সময়কে সর্বাধিক ফলপ্রসূ করার জন্য নতুন উপায়গুলো শনাক্ত করতে সহায়তা হবে। যেমন নতুন কিছু শেখা বা বাড়তি দক্ষতা উন্নতির করার জন্য সময় আলাদা করতে, পুরো সপ্তাহে এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা যেতে পারে। এই বাড়তি এক ঘণ্টা কতটুকু ফল দেয় তা লিখে রাখা যেতে পারে।

শরীরচর্চার জন্য সময় বরাদ্দ

নিয়মিত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, কর্মক্ষেত্রে ও এর বাইরে একটি উন্নত মানের জীবনযাত্রায় অবদান রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম মন শিথিল করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন নির্দিষ্ট সময়ে শরীরচর্চা করা উচিত। জিম, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, ইয়োগার মধ্য থেকে পছন্দমাফিক ধরন বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রক্রিয়াটিকে আনন্দদায়ক করতে কাউকে ওয়ার্কআউট পার্টনার বানিয়ে নিলে ভালো। প্রতিবার যখন একটি ওয়ার্কআউট সম্পন্ন করবেন তখন নিজেকে উৎসাহিত করুন।

লক্ষ্য নির্ধারণ

একটি সাধারণ দিনে কয়েকটি ছোট লক্ষ্য থাকতে পারে। যেমন সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো, একটি প্রকল্প শেষ করা, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া, একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা পর্যন্ত সবকিছু এর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যও থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আগামী ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান সেটি নির্ধারণ করুন এবং লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে করণীয় কাজগুলো নির্ধারণ করে মাঠে নেমে পড়ুন।

মানসিকতায় পরিবর্তন আনা

নিজের চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। মানসিকতায় পরিবর্তন আসলে, আপনি আগে যা ভেবেছিলেন তারচেয়ে বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আপনার আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আপনি কী নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং কী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না তা জানা থাকলে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহজ হবে।

পরামর্শদাতা খুঁজুন

যখন পথ দেখানোর জন্য একজন গাইড থাকবে, তখন স্ব-উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা করা আরও ফলপ্রসূ হবে। পেশাদার অনুপ্রেরণা বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। একজন পরামর্শদাতা সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে।

চমৎকার নেতৃত্বের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন পেশাদার হতে পারে আপনার মেন্টর। এমন একজন পরামর্শদাতাকে নির্বাচন করা প্রয়োজন, যিনি লক্ষ্যগুলো সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারেন।

বরিশালের গুঠিয়া মসজিদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ সবাই

মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন

বরিশালের গুঠিয়ায় অবস্থিত বায়তুল আমান জামে মসজিদ, রাতের আলোকসজ্জায় যেন অন্য এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। দিনের আলোতে যেমন এর সাদা মার্বেল ও কারুকাজ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তেমনই রাতে আলোর ঝলকানি এই মসজিদকে আরও মোহনীয় করে তোলে। চারপাশের এলাকা সম্পূর্ণ আলোকিত হয়ে ওঠে, যার প্রতিফলন পুকুরের পানিতে সৃষ্টি করে এক অপরূপ দৃশ্য।

রাতে মসজিদের চারপাশে থাকা উজ্জ্বল আলো যখন এর মসজিদটির মিনার, গম্বুজ ও প্রবেশপথকে আলোকিত করে, তখন এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের জন্ম হয়। বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে যখন আলো ও চাঁদের আলো মিলেমিশে যায়, তখন মসজিদের সৌন্দর্য এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছায়।

মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে থাকা বাগানগুলোও আলোকিত হয় মসজিদের আলোয়। যা রাতে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে। পুকুরের মাঝ বরাবর তাকালে মনে হবে, এক স্বপ্নময় জগতে প্রবেশ করেছেন। মসজিদের দৃষ্টিনন্দন এই আলোকসজ্জা নামাজিদের ও দূর থেকে আগত দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্তি দেয়।

নামাজের সময় বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রবেশ করলে যেন একটি অন্যরকম অনুভূতি ছুঁয়ে যায়। মসজিদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, চারপাশের আলো ও মিনারের উঁচ্চতা আধ্যাত্মিক এক আবহ সৃষ্টি করে। যখন মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে নামাজে দাঁড়ায়, তাদের মধ্যে অদ্ভুত এক সম্প্রীতি লক্ষ্য করা যায়। সবার হৃদয়ে একটাই উদ্দেশ্য, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।

প্রস্তুতি হিসেবে যখন সিজদায় মাথা নত করা হয়, তখন মনে হয় সব দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ মুছে যাচ্ছে। ফজরের নামাজের সময় আলোর প্রথম রশ্মি যখন মসজিদের দেয়ালে পড়ে, তখন মনে হবে যেন সৃষ্টির প্রতি নতুন করে চোখ খুলছে।

নামাজের প্রতিটি রাকাতে ধ্যানের গভীরতায়, মুসল্লিরা এক মানসিক শান্তি অনুভব করেন। নামাজ শেষে আল্লাহর রহমত লাভের আশা নিয়ে যখন মুসল্লিরা বের হন, তখন হৃদয়ে আলোর এক নতুন প্রভা জাগ্রত হয়।

অনেক ভ্রমণপিপাসুরা রাতে মসজিদটির অনন্য আলোকসজ্জা দেখতে আসেন। ইলেকট্রিক লাইটগুলোর সজ্জা মসজিদের প্রতিটি অংশকে আলাদা করে তুলে ধরে। এটি শুধু ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা নয় বরং একটি স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন ও সৌন্দর্যপিপাসুদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাতের নীরব পরিবেশে, যখন আলোর খেলা মসজিদের গঠনশৈলীতে ছাপ ফেলে, তখন যেন প্রতিটি অংশ জীবন্ত হয়ে ওঠে। রাতের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ জন্ম দেয় এক অনন্য অভিজ্ঞতার।

পতেঙ্গায় তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণে নিহত ১, নিখোঁজ ২

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাংলার জ্যোতি নামে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২ জন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিহত ও নিখোঁজ ২ জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

জানা গেছে, জাহাজের মধ্যে পুড়ে ঝুলে ছিল তার মরদেহ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এর আগে, সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে ইস্টার্ন রিফাইনারির ডলফিন জেটিতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে তা জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা মেলেনি এখনো।

জাহাজে থাকা শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ করে ঝাঁকুনি দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এটির মাত্রা এত তীব্র ছিলো যে জাহাজের বিভিন্ন অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আগুন লাগার পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে ছড়িয়ে যায়। এতে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলার জ্যোতি ট্যাংকার জাহাজটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন পুরোনো জাহাজ।১৯৮৭ সালে ডেনমার্কে নির্মিত এই অয়েল ট্যাংকারটি শিপিং করপোরেশনের বহরে যুক্ত হয় দুবছর পর।

কানাডা থেকে ফিরেই আটক সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর

কানাডা থেকে দেশে ফিরেই আটক হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। আজ সোমবার সকালে তাঁকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, আজ ভোরে দেশে ফেরেন সুলতান মনসুর। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সুলতান মনসুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন সুলতান মনসুর।

২০০১ সালের নির্বাচনে সুলতান মনসুর দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ এম এম শাহীনের কাছে হেরে যান।

এক-এগারোর সময় দলের সঙ্গে সুলতান মনসুরের দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সুলতান মনসুর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। গত নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি।

সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করেছেন আদালত।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাজার বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শর্তে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যান তিনি। এসময় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হকের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।

পরে আদালত তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করেন। ফলে জেলে যেতে হচ্ছে না সাপ্তাহিক ‘যায় যায় দিন’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শফিক রেহমানকে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এক বছর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে শফিক রেহমানের সাজা।

এর আগে, ২০১৫ সালে ৩ আগস্ট পল্টন মডেল থানায় এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গণত্রাণে উত্তোলিত টাকা ব্যয় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সমন্বয়কদের

দক্ষিণাঞ্চলের পর এবার ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি থেকে উত্তোলিত টাকার উদ্বৃত্তের একটি অংশ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন সমন্বায়ক আব্দুল কাদের।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানান তিনি।

বার্তায় আবদুল কাদের বলেন, রংপুর বিভাগের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চূড়ান্ত করেছি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো এবং ভারি খাবার, চাল-ডাল, তেল সামগ্রী রয়েছে। সেগুলা ডিস্ট্রিবিউশন করার ক্ষেত্রে ছাত্র প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয় করে কাজ করবে। ঢাকার রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ছাত্র প্রতিনিধি গঠিত হবে।

এই সমন্বায়ক আরও জানান, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু হবে এবং প্রয়োজনে পূর্বে উত্তোলিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুনর্বাসন ফান্ডের একটা অংশ দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম কন্টিনিউ করা হবে এবং বাকি অংশ পরবর্তীতে পূর্বাঞ্চলের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাব বাদ: হাইকোর্ট

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চ পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

আজ সকালে সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দিতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন তিন সদস্যের একটি টাস্কফোর্সকে এ ঘটনা তদন্ত করতে বলা হয়েছিল।

এর আগে রোববার সাগর-রুনি হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়োগ করেন মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলী রোমান।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে এ সাংবাদিক দম্পতি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।

দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। সেই থেকে প্রায় ১২ বছরে ১১১ বার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।

ভারতের ভিসা দেওয়া নিয়ে নতুন বার্তা বাংলাদেশিদের জন্য

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে আপৎকালীন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া আপাতত বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্য কোনো ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে দেশটি। রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশিদের আপাতত চিকিৎসা এবং জরুরি প্রয়োজনে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। যখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তখন পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু হবে এবং ভিসা প্রদানও স্বাভাবিক হবে।

এর আগে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে ভারতীয় ভিসা পরিষেবা। পরে ভারতীয় দূতাবাসের বহু কর্মীকে ফিরিয়ে নেয় দেশটি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় কাজ শুরু হলেও মিলছে না ভিসা পরিষেবা।

ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভিসা সেন্টার খুলছে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনায়। তবে এখনই সকলে ভিসা পাবেন না। কেবলমাত্র যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চান, তাদেরই জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া হবে অগ্রাধিকার।

৬টি অবিশ্বাস্য উপকার পাবেন প্রতিদিন বিটরুট খেলে

বিটরুট যেন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ‘জিপ ফাইল’। এতে পাবেন ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন বি২) ও পটাশিয়াম, যা হাড় ও পেশিকে রাখে সুস্থ–সবল। এ ছাড়া এতে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিংক, আয়োডিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি। ফাইবার বা আঁশ ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট তো আছেই। এত কিছুর কারণেই বিটরুটকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। মোটকথা বিটরুট খেলে অনেক উপকার। এর মধ্যে ছয়টি বিশেষ উপকারিতার কথা জেনে রাখুন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
বিটরুটে পাবেন নাইট্রেট। এই নাইট্রেট আমাদের দেহে ঢুকে পরিণত হয় নাইট্রিক অক্সাইডে। জানেন নিশ্চয়ই, রক্তচাপ ঠিক রাখতে এর ভূমিকা দারুণ। নাইট্রিক অক্সাইডের প্রভাবে আমাদের রক্তনালি ঠিকঠাক থাকে। ফলে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক দুই ধরনের রক্তচাপ থাকে নিয়ন্ত্রণে। বিটরুট শরীরের রক্তপ্রবাহ আরও ভালো করে। ফলে আমাদের হৃৎপিণ্ড হয় শক্তিশালী এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি যায় কমে।

ওজন কমায়
১০০ গ্রাম সেদ্ধ বিটে পাবেন ৪৪ ক্যালরি, ১ দশমিক ৭ গ্রাম প্রোটিন, ০ দশমিক ২ গ্রাম ফ্যাট ও ২ গ্রাম ফাইবার। সেদ্ধ বিটরুট খেলে পাবেন প্রচুর পুষ্টি, কিন্তু এতে ক্যালরি থাকবে কম। অর্থাৎ পুষ্টি ঠিকঠাকমতো পাবেন আর ওজনও বাড়বে না।

শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়
যাঁরা অ্যাথলেট বা নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম করেন, তাঁরা বিটরুটের জুস খেতে পারেন নিয়মিত। অ্যাথলেটদের প্রচুর শক্তির দরকার। বিটে থাকা নাইট্রেট শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদক মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর এতে শারীরিক কর্মক্ষমতাও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটের জুস শরীরের সহনশীলতা ও কার্ডিওরেসপিরেটরি (শ্বাসপ্রশ্বাসে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস উভয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত) কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ব্যায়ামের সময় শরীরে অক্সিজেন ব্যবহারের যে প্রক্রিয়া, তা আরও গতিশীল করে।

প্রদাহ কমায়
বেশির ভাগ রোগবালাইয়ের মূল কারণ প্রদাহ। শরীরের রোজকার নানা ছোটখাটো সমস্যা সেরে না উঠলে মারাত্মক প্রদাহের রূপ ধারণ করে। আর বিটরুট অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহরোধী গুণে ভরপুর। বিটের দারুণ গাঢ় রঙের নেপথ্যে আছে ‘বিটালেইন’ নামের রঞ্জক উপাদানটি। নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ বিটালেইনে থাকে প্রদাহরোধী উপাদান। ফলে প্রদাহ থেকে দূর থাকতে চাইলে বিটরুট খান।

অন্ত্র সুস্থ ও সবল রাখে
ভালো হজম ও সুস্থ লিভারের জন্য দরকার ফাইবার বা আঁশ। যা বিটরুটে পাবেন প্রচুর পরিমাণে। বিটরুট শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়। যার ফলে আপনি থাকবেন নীরোগ। আমাদের শরীরে সুগার বা শর্করার মাত্রা কমবেশি হলে কী সমস্যা হতে পারে, তা তো সবার জানা আছে। বিটরুটের রস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য যা জরুরি দরকার। রোজকার জীবনে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় আমাদের, তাই প্রচুর শক্তিও দরকার। বিটরুট খেলে শরীরে সারা দিন শক্তি স্থিতিশীল থাকে।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক দুর্বল হতে থাকে। বিটরুট মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। ফলে বেড়ে যায় স্মৃতিশক্তি। অর্থাৎ বিটরুট মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতেও দারুণ কার্যকর।

সূত্র: দ্য হেলদি