বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ঘোষণা আদালতের

তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে জয়ী ঘোষণা করেছেন আদালত। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির জন্যও আদালত সরকারকে নির্দেশ দেন।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিন এ রায় দেন। বাদীর আইনজীবী মফিজুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ পেয়েছেন আদালত। এ জন্য বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে চসিকের মেয়র ঘোষণা করেছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আদেশও দিয়েছেন।

ছাত্র–জনতার বিক্ষোভে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আর কার্যালয়ে আসেননি। মেয়রকে অপসারণ করে ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এরপর আদালত থেকে আজ নতুন নির্দেশনা এল।

এদিকে রায় ঘোষণার পর বিএনপি নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাঁরা নানা স্লোগান দিয়ে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে স্বাগত জানান। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে নয়জনকে বিবাদী করে মামলাটি করেছিলেন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন।

মামলার নয়জন বিবাদী হলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা, সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা, মেয়র প্রার্থী আবুল মনসুর, এম এ মতিন, খোকন চৌধুরী, ওয়াহেদ মুরাদ ও জান্নাতুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী ফলাফল তথা ইভিএমের প্রিন্ট করা (ছাপা) কপি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। হাতে লেখা ফলাফল দেওয়া হয়। এতে বোঝা যায়, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। বিবাদীরা পরস্পরের যোগসাজশের মাধ্যমে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র ভোটারের উপস্থিতি না থাকলেও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী দেখানো হয়েছে।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। নির্বাচনে ভোট পড়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। ভোটের দিন হামলা, গোলাগুলি, প্রাণহানি ও ক্ষমতাসীনদের শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। এতে ভোটের উৎসব অনেকটা ম্লান হয়ে যায়। ভোট শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কোনো ভোটই হয়নি।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ে চট্টগ্রামসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হয়েছেন। যাঁরা আওয়ামী দুঃশাসনের আমলে ভোট দিতে পারেননি, এই রায়ে তাঁদেরও জয় হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের ফলাফল কী হতে পারে

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত গত কয়েক বছর না হলেও কয়েক মাস ধরে বাড়ছে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান আগ্রাসনে এটি আরও বেড়ে গেছে।

একসময় যা ধারণা করা হচ্ছিল, এখন সেটিই বাস্তব হয়ে উঠেছে। সেটি হলো হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। এটা কম বেদনার বিষয় নয়।

গত ১৩ দিনে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে নাটকীয়ভাবে। লেবাননের দক্ষিণে ও রাজধানী বৈরুতের অংশবিশেষে ইসরায়েল অতিসম্প্রতি যে বিমান হামলা শুরু করেছে, তার কয়েক দিন আগেই এক গুপ্তহত্যা পরিকল্পনা কার্যকর করে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। পরিকল্পনামতো হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত হাজার হাজার পেজার ও ওয়াকিটকির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করে বেশ কয়েকজনকে। তাতে আহত হন আরও কয়েক হাজার মানুষ। এর পর ঘটল দুই পক্ষের মধ্যে বিমান হামলা ও প্রতিশোধমূলক রকেট ছোড়ার ঘটনা।

লেবাননের দক্ষিণ থেকে লোকজনকে সরে যাওয়া, নইলে ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হওয়ার হুমকি দেওয়ার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল কয়েক বছরের মধ্যে লেবাননে আকাশপথে সবচেয়ে বড় অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে এক হাজার তিন শর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। অধিকাংশ হামলা চালানো হচ্ছে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে। হামলায় ইসরায়েল তার বিমানবাহিনীর বড় শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।

এ হামলা শুরুর চার দিন পর হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহ সংগঠনটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে এক বৈঠক করার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ৮৫ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ফেলে ইসরায়েল। এতে কয়েকটি ভবন মাটিতে মিশে যায়।

বড় রকমের এ ধাক্কা সত্ত্বেও বিভিন্ন ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে চলেছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েল যে সংকটের সম্মুখীন, এ বিমান হামলা চালিয়ে তা নিরসন করা যাবে না। এখনকার এ বাস্তব দৃশ্যের জন্য হিজবুল্লাহ অনেক বছর ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বেসরকারি সংগঠনটি লেবাননজুড়ে ছড়িয়ে রেখেছে নিজস্ব রকেটশক্তিকে। প্রশ্ন উঠতে পারে, হিজবুল্লাহর পরিকল্পনা কী?

সম্ভাব্য কয়েকটি দৃশ্য
ইসরায়েল লড়াইয়ে তার সুদক্ষ বিমান সেনাদের দেশটির উত্তরে মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে সক্রিয় করেছে নর্দান কমান্ডের রিজার্ভ সেনাদের। এর অর্থ ইসরায়েলের এ বার্তা পাঠানো যে হিজবুল্লাহকে মোকাবিলা করার বিষয়কে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে তারা।

কিন্তু ইসরায়েলের এ রণসজ্জা কি বাস্তবসম্মত? লড়াইয়ে তারা জিতবে কি? হিজবুল্লাহকেই বা কি তারা নিঃশেষ করতে পারবে?

জবাব হলো ইসরায়েলের সমরসজ্জা বাস্তবসম্মত নয়। আর তাদের জেতার বা হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার সম্ভাবনাও অনেকটা নেই। হিজবুল্লাহ লেবাননের সমাজের সঙ্গে মিশে আছে, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণে শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই সংগঠনটিকে শুধু আরও শক্তিশালীই করবে, কেননা এটিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার ধারণা অবাস্তব।

২০০৬ সালে ইসরায়েল ঘোষণা করেছিল, হিজবুল্লাহকে তারা শেষ করে দেবে। সেই বছর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। কিন্তু ইসরায়েলের ঘোষণা বাস্তবে ফলেনি। দেশটির সেনাদের দক্ষিণ লেবানন ছেড়ে চলে যেতে হয়। যুদ্ধে হিজবুল্লাহ জয়ী হওয়ার দাবি করে।

ওই ঘটনার এত বছর পর এখন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল আবার স্থল অভিযান শুরু করল। কিন্তু এবারও তার জন্য ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। ইসরায়েলের এ কর্মকাণ্ডের জন্য হিজবুল্লাহ বছরের পর বছর তাদের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ইসরায়েলের স্থল বাহিনীকে রুখতে এই যোদ্ধারা একদিকে যেমন সমন্বিত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, অন্যদিকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের।

আবার ইসরায়েলের এ অভিযান হিজবুল্লাহবিরোধীদের উসকানি ও লেবাননকে আবার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা করতে পারেন কেউ কেউ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সম্ভাবনাও খুব একটা নেই।

এদিকে এ অভিযান কি বাফার জোন (নিরপেক্ষ অঞ্চল) তৈরি করবে এবং হিজবুল্লাহকে সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দেবে? এটি হতে পারে। তবে এর সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল বিপর্যয়কর।

বাফার অঞ্চল
নিরপেক্ষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা শুনতে ভালো লাগলেও সীমান্তে এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগে ইসরায়েলের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনার সম্ভাবনাই খুব বেশি থাকবে।

বাফার অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে তেল আবিবকে তার স্থল বাহিনীর চলাচল নিজ স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর সংঘাত নিরপেক্ষ অঞ্চল এড়িয়ে লেবাননে ঢুকতে হলে ইসরায়েলি স্থল বাহিনীকে পার্বত্য ও পাথুরে পথ পাড়ি দেওয়ার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ট্যাংক ও অন্যান্য সমরযানকে সড়কপথে পরিচালিত করতে হবে। এটি ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর হঠাৎ আক্রমণ সহজতর করে তুলবে। হিজবুল্লাহর যে কৌশল ২০০৬ সালে হকচকিত করে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনীকে। অবশ্য ইসরায়েলি বাহিনী এখন অনেকটাই পরিপক্ব এবং আগের ভুল দ্বিতীয়বার করবে না তারা।

হিজবুল্লাহও ইতিমধ্যে কম শিক্ষা নেয়নি। সংগঠনটি এত বছরে তার বাহিনী আরও শক্তিশালী করেছে। ২০০৬ সালে ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় দক্ষিণ লেবাননে সংগঠনটির যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৫ হাজারের মতো। এ সংখ্যা বর্তমানে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার। সঙ্গে রয়েছে হাজার হাজার রিজার্ভ সদস্য। হিজবুল্লাহর বিশেষ বাহিনী ‘রাদওয়ান ফোর্সে’ রয়েছে ৩ হাজার যোদ্ধা। তাঁরা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তে লড়াই করার বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এ অঞ্চল তাঁদের কাছে হাতের উল্টো পিঠের মতোই চেনা।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ—দুই পক্ষই শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করতে নানা ধরনের প্রযুক্তি, নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করে। হিজবুল্লাহর আছে করনেট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ট্যাংকবিধ্বংসী অত্যাধুনিক অস্ত্রের সমৃদ্ধ ভান্ডার। ইসরায়েলের মারকাভা ট্যাংকের বিরুদ্ধে এটি তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

লেবাননে স্থল অভিযানের জেরে কোনো বাফার অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলেও ইসরায়েলকে সীমান্তে সেনা মোতায়েন রাখার পাশাপাশি জোরদার তল্লাশি, নজরদারি ও বিমানবাহিনীকে কাজে লাগানোর মতো পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে। এতে দেশটির স্থল বাহিনী রাস্তায় পেতে রাখা বোমা, স্নাইপার, হঠাৎ আক্রমণ ও রকেট হামলার মতো নিরবচ্ছিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে।

তা ছাড়া বাফার অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া বন্ধ করবে না হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কৌশলবিদেরা বাফার অঞ্চলের আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু লেবাননের যেকোনো স্থান থেকে ইসরায়েলের একেবারে ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর যথেষ্ট সক্ষমতা হিজবুল্লাহর রয়েছে।

বিপরীতে বাফার অঞ্চল যত বড় হবে, তত বেশি লেবাননী ইসরায়েলি দখলদারির আওতায় পড়বেন।

সার্বিকভাবে এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মুখে ঠেলে দেবে, যা টেনে নেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা দেশটির রয়েছে কি না, সন্দেহ আছে। সব মিলিয়ে ইসরায়েলের জন্য সামনে বিপর্যয়ই অপেক্ষা করছে।

গার্মেন্টসে ছড়ানো অস্থিরতায় উসকানি দিচ্ছে একটি গ্রুপ: শ্রম উপদেষ্টা

গার্মেন্টসে ছড়ানো অস্থিরতায় একটা গ্রুপ উস্কানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, সাভারে একজন নিহতের ঘটনায় শ্রমিকদের ভেতর থেকেই প্রথম কেউ গুলি ছুঁড়েছিলো। এরপরই সহিংস হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তার অভিযোগ, গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে, পাল্টা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয় পুলিশ।

পোশাক শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, নিহতের পরিবারকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

উপদেষ্টা বলেন, যেসব কারখানার মালিক বেতন দিচ্ছে না তাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হবে। চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই বকেয়া বেতন আদায় করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব পক্ষের সহযোগিতা দরকার বলেও মন্তব্য করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালাস পেলেন তারেক রহমান

নোয়াখালীর আদালতে জেলা যুবলীগের এক নেতার করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ রায় প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর লন্ডন বিএনপির এক অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার-পাকবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন তারেক রহমান। এ ঘটনায় একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক একরামুল হক বিপ্লব বাদী হয়ে নোয়াখালীর ৩ নম্বর আমলি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ মডেল থানার এসআই সিকদার মো. সাইফুল ইসলাম ও এসআই মো. জসিম উদ্দিন গত ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে তারেক রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তারেক রহমানের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া এ মামলা থেকে তারেক রহমানের খালাসে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মামলার বাদি তাকে হয়রানি করেছে। এ ঘটনায় মামলার বাদি একরামুল হক বিপ্লবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আড়াই দিনের টেস্ট হেরে ভারতে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে টানা দুই দিন খেলা পণ্ড হওয়ার পরও বাংলাদেশের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ভারত। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজটিতে আড়াই দিনও পার না করতে পেরে হোয়াইটওয়াশ হলো সফরকারী বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ১৪৬ রানে থামিয়ে দিয়েছিল ভারত। এতে তারা ৯৫ রানের লক্ষ্য পায়। লাঞ্চের পর সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

ওপেনার জয়সওয়াল ৪৫ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন। ৩৭ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন বিরাট কোহলি। যে তিনটি উইকেট পড়েছে ভারতের, তার দুটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যটি তাইজুল ইসলাম।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৩৩ রান করেছিল। বিপরীতে ৯ উইকেটে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত।

৫২ রানে পিছিয়ে থেকে সোমবার নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ২৬ রান তুলে দিন শেষ করেছিল তারা। আজ বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে যোগ করতে পেরেছে ১২০ রান।

যদিও শুরুর দিকে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছিল সফরকারীরা। ৩ উইকেটে ৯১ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছিল। কিন্তু সেখান থেকে ৫৫ রান যোগ করতে বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় শান্তরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০১ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন সাদমান ইসলাম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ বলে ৩৭ রান করেন মুশফিকুর রহিম।

ভারতের পক্ষে জাসপ্রিত বুমরাহ, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা ৩টি করে উইকেট নেন। অন্য উইকেটটি নেন আকাশ দ্বীপ।

এই ম্যাচের প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল মাত্র ৩৫ ওভার। বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন পুরোপুরি ভেস্তে যায়। এরপরও আড়াই দিনের কম আয়ুর ম্যাচটিতে জয় তুলে নিল ভারত।

সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় চেন্নাইয়ে। সেখানেও ২৮০ রানে জিতেছিল ভারত।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

লিখেছেন সম্পাদকঃ ইমারত হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কত দিন হবে, তা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। কেউ বলছে, দ্রুত নির্বাচন দেওয়া উচিত। কেউ বলছে, সংস্কার শেষ করার পরই নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে জনগণ আগের মতো অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না, পরিবর্তন চায় বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ড. ইউনূস ওই সাক্ষাৎকার দেন। সোমবার এ সাক্ষাৎকার প্রচার করে এনপিআর।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমরা পুরোনো স্টাইলে ফিরে যেতে চাই না। তাহলে এতো জীবন দেওয়ার মানে কী? এর কোনো মানে নেই। কারণ আমরা যা করেছি, সবকিছু ধ্বংস করেছি। তাই একটি নতুন দেশ নির্মাণ আমাদের শুরু করতে হবে।

আগস্টের শুরুতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ওই সময় ড. ইউনূস গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগদান করার প্রেক্ষিতে প্যারিসে আবস্থান করায় প্রায় ৫,০০০ মাইল দূর থেকে এসব ঘটনা দেখছিলেন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি তখন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশে সম্ভাব্য কারাবাসের ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন।

কিন্তু ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কয়েক ঘণ্টা পর ইউনূসের কাছে একটি ফোন কল আসে। তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। তিনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটিতে এনপিআর-এর মর্নিং এডিশনে বলেছিলেন, এটি ছিল ‘ঘটনার খুব অদ্ভুত পরিবর্তন’।

ড. ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা করার পর এনপিআর-এর মিশেল মার্টিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় বসেছিলেন।

মিশেল মার্টিন: গত গ্রীষ্মে যখন আমরা কথা বলেছিলাম আপনি দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন ছিলেন এবং এখন আপনি বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এসব কিছুই ঘটনার পালাবদল। নিজেকে এই অবস্থানে পেয়ে অবাক হচ্ছেন কি?

ড. ইউনূস: ঘটনার খুবই অদ্ভুত পালাবদল। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে আমি প্যারিসে ছিলাম, আমি দেখার চেষ্টা করছিলাম যে আমি ফিরে যাব কি-না, আমাকে গ্রেফতার করা হবে, কারণ তিনি আমার ওপর রাগান্বিত হবেন এবং আমাকে জেলে পাঠাবেন। তাই ভাবছিলাম ফিরতে দেরি করব। আর হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে একটা ফোন পেলাম যে তিনি (শেখ হাসিনা) এখন চলে গেছেন। আমরা চাই আপনি সরকার প্রধান হন। এটি একটি বড় চমক ছিল।

মার্টিন: আপনি যখন ফোনটি পেয়েছিলেন তখন আপনার মনে কী হয়েছিল?

ড. ইউনূস: দেশ পরিচালনায় আমার আদৌ যুক্ত হওয়া উচিত কি-না। এটা খুবই কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কিন্তু যখন ছাত্ররা আমাকে ডেকে ব্যাখ্যা করল যে পরিস্থিতি কী, অবশেষে আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, তোমরা এর জন্য জীবন দিয়েছ। তোমরা যদি জীবন দিতে পার, তবে আমি আমার সকল অন্যান্য বিবেচনা বাদ দিতে পারি। আমি তোমাদের সেবা করতে পারি। আমি এটা করব।’

মার্টিন: আপনি যখন বলেন যে আপনি জীবন দিয়েছেন আপনি অতিরঞ্জিত করেননি এবং এটি কোনেন রূপক নয়।

ড. ইউনূস: না, এটা কোনো রূপক নয়। মানুষ মারা যায়। প্রায় এক হাজার যুবক মারা গেল, বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে বুলেটে বুক পেতে দিলো। আক্ষরিক অর্থে যুবকরা এসে আত্মাহুতি দিয়েছে। তারা যখন বিক্ষোভে যোগ দিতে তাদের বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল, তারা তাদের বাবা-মাকে বিদায় জানাচ্ছিল। তারা তাদের ভাইবোনদের বিদায় বলছে; ‘আমি হয়তো ফিরে আসব না।’ এটাই সেই চেতনা যার মধ্যে পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে। এবং অবশেষে, এটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন কারণ পুরো জনতা তার বাড়ির দিকে আসছিল।

মার্টিন: একদিকে এসব বিক্ষোভ আন্দোলনে খুবই অজনপ্রিয় কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার প্রস্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল। সেইসব বিশৃঙ্খলতার প্রথম দিনগুলোতে, আহমদিয়া ও হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছিল। এ সব ঘটনার কিছু অংশ ছিল শেখ হাসিনার দলের প্রতি তাদের আনুগত্যের কারণে। এর কিছু ঘটনা কেবলমাত্র সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে মনে হয়েছে। সেসব ঘটনাও কমে গেছে। কিন্তু তারপর থেকে, আরও হামলা হয়েছে, এইবার সুফি মাজারে। আমাদের প্রতিবেদন অনুসারে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ২০ টিরও বেশি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, উত্তেজিত জনতার হাতে হত্যা হয়েছে। কেন এমন হচ্ছে?

ড. ইউনূস: জনগণ বিপ্লবের মেজাজে আছে। সুতরাং এটি একটি বিপ্লবী পরিস্থিতি। তাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে। তাই তারা এমন লোকদের খুঁজছে যারা তাদের সহকর্মীদের মৃত্যু ঘটিয়েছে। তাই জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলের অনুসারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল। আপনি যখন বলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে, সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় শেখ হসিনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সুতরাং আপনি পার্থক্য করতে পারবেন না যে, তারা শেখ হাসিনার অনুসারী হওয়ার কারণে তাদের ওপর হামলা হয়েছে নাকি তারা হিন্দু বলে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু তাদের ওপর হামলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু তারপর আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করি। আমি সবাইকে বলতে থাকি যে, আমাদের মতভেদ থাকতে পারে। এর মানে এই নয় যে, আমাদের একে অপরকে আক্রমণ করতে হবে।

মার্টিন: আপনি কি মনে করেন যে আপনি জনগণকে প্রতিশোধের পরিবর্তে সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করার পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন?

ড. ইউনূস: প্রতিশোধের সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ ছিল। কিন্তু তারপর স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে শুরু করে। তাই আমরা দেশ চালাচ্ছি। কিন্তু বিক্ষোভ আছে, প্রতিশোধমূলক বিক্ষোভ নয়। বেশিরভাগ বিক্ষোভ তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে, তাদের চাকরির দাবিতে, যাদেরকে সরকার আগে বরখাস্ত করেছিল। তাই তারা বলেছিল, অতীতের সরকার আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং আমরা বিনা কারণে আমাদের চাকরি হারিয়েছি। কারণ আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাই বঞ্চিতরা সবাই তাদের দাবি মেটানোর চেষ্টা করছে। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। দেখুন এগুলো আপনাদের ১৫ বছরের ক্ষোভ। আমরা ১৫ দিনের মধ্যে এটি সমাধান করতে পারি না। আমাদের কিছু সময় দিন যাতে আমরা ফিরে যেতে পারি। আপনারা একটি খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং আমাদের এটি এমনভাবে সমাধান করতে হবে যাতে এটি পদ্ধতিগতভাবে সম্পন্ন হয়।

মার্টিন: সময়ের কথা বলছি, সেনাবাহিনী আপনার পেছনে রয়েছে। সামরিক নেতারা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ১৮ মাস শাসন করতে হবে। বিরোধী দলগুলো তা চায় না। তারা নভেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল। আপনার যা করতে হবে তা করার জন্য কি ১৮ মাস যথেষ্ট সময় আছে?

ড. ইউনূস: জনগণ এই সংখ্যাগুলো বিবেচনা করছে না। কত মাস, কত বছর তাদের প্রয়োজন মনে হয়। কেউ কেউ বলে যে এটি দ্রুত করা উচিত, কারণ আপনি যদি দীর্ঘায়িত করেন আপনি অজনপ্রিয় হবেন এবং সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলেন যে না, আপনাকে সংস্কার শেষ করতে হবে। সুতরাং আপনি দীর্ঘ সময় ধরে থাকুন। কারণ আমরা সবকিছু ঠিক না করে বাংলাদেশ ২.০-এ যেতে চাই না। তাই এই নিয়ে বিতর্ক চলছে।

মার্টিন: আপনি জানেন, আপনি প্রায় সুশীল সমাজের মতো করে সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের কথা বলছেন।

ড. ইউনূস: সংস্করণ ২-এর অর্থ ঠিক এটাই। আমরা পুরনো স্টাইলে ফিরে যেতে চাই না। তাহলে এত জীবন দেওয়ার মানে কী? এর কোনো মানে নেই। কারণ আমরা যা করেছি, সবকিছু ধ্বংস করেছি। তাই একটি নতুন দেশ নির্মাণ আমাদের শুরু করতে হবে।

মার্টিন: আপনি জানেন, এটি চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু এটি উত্তেজনাপূর্ণ তাই না?

ড. ইউনূস: এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। আপনি নেতিবাচক দিক দেখছেন। আমি এটাকে খুবই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখি। আমি বলেছিলাম এই জাতি সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছে। এসব মানুষ, দেশ একটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ: আমাদের পরিবর্তন দরকার।

মার্টিন: আপনি ৮৪ বছর বয়সী। আমি জানি না যে, আপনি কখনো নিজেকে সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ভেবেছেন কি-না। আপনি কি মনে করেন যে, আপনি বাংলাদেশকে সেই দেশে পরিণত হতে দেখবেন যা আপনি আশা করেন, আপনার জীবদ্দশায়?

ড. ইউনূস: সব কিছু নয়। তবে আমি খুব খুশি হব, এটি হওয়ার পথে। প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক আছে। নীতি সঠিক। তরুণেরা বিশ্বকে পরিবর্তন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা দেশের মধ্যে এবং বিশ্বব্যাপী ভূমিকা পালন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বললে, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী। তবে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমি সবসময় তরুণদের গুরুত্ব দেই কারণ তারাই ভবিষ্যৎ গড়বে এবং যেভাবেই হোক তাদের নেতৃত্বের অবস্থানে থাকা উচিত। কারণ তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে এই গ্রহে থাকতে হবে। আপনি উল্লেখ করেছেন যে আমি ৮৪ বছর বয়সী। আমার সামনে দীর্ঘ সময় নেই, তাদের সামনে পুরো জীবন রয়েছে।

গুলিবিদ্ধ অভিনেতা গোবিন্দ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন

গুলিবিদ্ধ অভিনেতা গোবিন্দ। ভুলবশত তাঁর লাইসেন্স করা রিভলবার থেকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এদিন নিজের রিভলবার লক না থাকায় গুলি বের হয়ে লাগে তাঁর হাঁটুতে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৫ নাগাদ। এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অভিনেতা।

মুম্বাই পুলিশের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাবশত অভিনেতার পায়ে গুলি লাগে। ক্ষত কতটা গুরুতর তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে সঙ্গে সঙ্গেই বলিউডের ‘হিরো নম্বর ১’কে তাঁর বাড়ির কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু করে দেন চিকিৎসকেরা।

গোবিন্দর কাছে একটি লাইসেন্স করা বন্দুক আছে। এই বন্দুকটি তিনি তাঁর কাছেই রাখেন। এই বলিউড তারকা সকাল পাঁচটা নাগাদ নাকি শুটিংয়ের জন্য বের হচ্ছিলেন, তখন ঘটনাটি ঘটেছে।

গোবিন্দর ব্যবস্থাপক শশী সিনহা এএনআইকে বলেন, গোবিন্দ কলকাতায় যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। এ সময় উনি ওনার লাইসেন্স করা বন্দুক আলমারিতে রাখছিলেন। তখন বন্দুক ওনার হাত থেকে পিছলে পড়ে যায়, আর গুলি বের হয়ে সোজা পায়ে গিয়ে লাগে। চিকিৎসক গোবিন্দর পা থেকে গুলি বের করেছেন। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দর শরীর থেকে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। যন্ত্রণায় সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোবিন্দকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকদের এক বিশেষ দল তাঁর চিকিৎসা করছেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গোবিন্দর বন্দুকটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করবে জানিয়েছে পুলিশ।

গোবিন্দ অভিনেতা অরুণ ও অভিনেত্রী-গায়িকা নির্মলা দেবীর সন্তান। মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ‘ডিস্কো ডান্সার’ দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সে সময় ক্যাসেট চালিয়ে নাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাচের অনুশীলন করতেন। একসময় ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের সুযোগ। আশির দশকের মাঝামাঝি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় ছবি ‘ইলজাম’ ও ‘লাভ ৮৬’ মুক্তি পায়।

দুই ছবিই হিট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি গোবিন্দকে। ‘রাজা বাবু’, ‘কুলি নম্বর ১’, ‘হিরো নম্বর ১’, ‘সাজন চলে সসুরাল’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে নব্বই দশকের ব্যস্ত অভিনেতা। একসময় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন গোবিন্দ। তবে চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি শিব সেনা দলে যোগ দেন।

আজ থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ

অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্বনির্দেশনা অনুযায়ী দেশের কোনো সুপারশপে মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) থেকে পলিথিন ব্যাগ রাখা যাবে না। এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে পাট বা কাপড়ের ব্যাগ। ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ১০টি কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম শুরু হবে। দেশব্যাপী পলিথিন উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ পলিথিন শপিং ব্যাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় পলিথিন ব্যাগ বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।‌ ওই সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুপারশপে কোনো ধরনের পলিথিন বা পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ রাখা যাবে না। একইসঙ্গে ক্রেতাদের দেওয়া যাবে না।

সুপারশপের আউটলেটের ম্যানেজাররা জানান, তারা এরই মধ্যে শপের বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। তাদের যে টিস্যু ব্যাগ, জালি ব্যাগ ছিল সেগুলো সরিয়ে নিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পাটের তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। যার মূল্য ৬টাকা থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত। কাস্টমারদের সেগুলো কিনে নিতে হবে।

এর আগে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর বিধান অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০২ সালের ১ মার্চ সরকার বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সময় পরিবেশ অধিদপ্তর শর্তসাপেক্ষে সব রকমের পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি, মজুদ ও বিতরণ নিষিদ্ধ করে। ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে ৯৩১ টন পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। ৫২টি কারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরে ৮০ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১৮০৯৭

সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৯৭ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত এ বছরের সর্বোচ্চ।

আগস্টে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬ হাজার ৫২১ এবং মৃত্যু হয় ২৭ জনের; জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার ৬৬৯ এবং মৃত্যু হয় ১২ জনের। এ ছাড়া এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৯৩৮ জন।

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০৩ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় দৈনিক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত আগস্টের তুলনায় তিনগুণের বেশি এবং চলতি বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩ হাজার ৪৬২ ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৭৫৯ জন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭০৩ জন। এ বছর ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৭ হাজার ৪৩০ জন ঢাকার বাইরের রোগী। ঢাকার দুই মহানগর এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ৫০৮ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩০ হাজার ৯৩৮ জন, যাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৬৩ জনের মধ্যে ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ নারী এবং ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।

বাংলাদেশে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন, ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন ডেঙ্গু রোগ নিয়ে।

তেহরান সফরে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন

তেহরানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি ইরানে পৌঁছান। এক প্রতিবেদনে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস ও মেহের নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে রুশ প্রধানমন্ত্রী তেহরানে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

দুই পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে দু’দেশের সংবাদমাধ্যম। এছাড়াও পরিবহন, জ্বালানি এবং শিল্প খাতে যৌথ প্রকল্পগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হবে।