বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সারজিসসহ তিনজনের রিট

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, এলডিপিসহ ১১টি দলকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে রিটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলমসহ তিনজন আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেছেন। অপর দুজন হলেন মো. আবুল হাসনাত ও মো. হাসিবুল ইসলাম।

দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে অপর একটি রিটও করেছেন তাঁরা। রিটের ওপর আগামীকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে।

১১টি দলের বিষয়ে করা রিটে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), গণতন্ত্রী দল, মার্ক্সিস্ট-লেলিনিস্ট (বড়ুয়া) ও সোসিওলিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, নির্বিচারে মানুষ হত্যা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা, বেআইনি প্রক্রিয়ায় অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

১১টি দলের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দলগুলোকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।

দুটি রিট করার কথা জানিয়ে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্রে নারী বনাম পুরুষ প্রার্থী নিয়ে ভোটাররা আসলে কী ভাবছেন

আর এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট। শেষ সময়ে জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে পুরুষদের সমর্থন বেশি। পোলস্টাররা বলছেন, নারীরা বলেছেন, তাঁরা কমলা হ্যারিসকে পছন্দ করেন। যাঁরা জনমত জরিপ করেন, তাঁরা পোলস্টার নামে পরিচিত।

রাজনীতিতে এই লৈঙ্গিক ব্যবধান এক দশক ধরে চলা সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলে এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে।

কমলা প্রথম কোনো অশ্বেতাঙ্গ নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তিনি দ্বিতীয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা অবশ্য সব সময় নিজের পরিচয় নিয়ে কথা না বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চালান।

গত মাসে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘দেখুন, জাতি এবং লিঙ্গনির্বিশেষে সব আমেরিকানের জন্য এই মুহূর্তে এই দায়িত্ব পালনে আমি সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বলে আমার বিশ্বাস। এ কারণেই আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’

তবে কমলার সব চেষ্টা সত্ত্বেও প্রার্থীদের লৈঙ্গিক পরিচয় এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উল্লেখ করার মতো বিষয় হয়ে উঠেছে।

আমেরিকায় এবার নতুন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। সেটা হলো ‘ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট’। কোনো সন্দেহ নেই যে অনেক ভোটার বিষয়টি পছন্দ করেছেন। কেউ কেউ এই নতুনত্বে কিছুটা বিচলিত হয়েছেন।

এ নিয়ে কমলার নির্বাচনী শিবির থেকে কখনো খোলাখুলি কথা বলা হয়নি। তবে একজন কর্মকর্তা বিবিসির প্রতিনিধির কাছে সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, ভোটারদের মনে লৈঙ্গিক বিভেদের বিষয়টি রয়ে গেছে। এই মনোভাবের কারণে অনেকে প্রেসিডেন্ট পদে নারীকে ভোট দেওয়ায় নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

এই ২০২৪ সালে এসেও কিছু মানুষ একজন পোলস্টারকে বলেছেন, একজন নারী ওভাল অফিসের জন্য যোগ্য বলে তাঁদের মনে হয় না।

ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন কৌশলবিদ ভোটারদের এই মানসিকতা বুঝতে পারার একটি উপায়ও বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন ভোটাররা পোলস্টারদের বলেন, কমলা ‘প্রস্তুত’ নন বা সঠিক ‘ব্যক্তিত্ব’ নন কিংবা ‘এটা কেমন হবে’, তখন বুঝে নিতে হবে সমস্যা হলো কমলা একজন নারী।

ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির অবশ্য লৈঙ্গিক বৈষম্যের বিষয়টি মানতে নারাজ। বরং এ সপ্তাহে তারা বলেছে, ‘কমলা দুর্বল, অসৎ এবং বিপজ্জনকরকম উদার। এসব কারণেই আমেরিকার জনগণ ৫ নভেম্বর ভোটের দিন তাঁকে বাতিল করবেন।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির বিশেষ প্রতিনিধি কেটি কাই বলেছেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান লানজা তাঁকে খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন। খুদে বার্তায় বলা হয়, ‘ট্রাম্প জিতবে বলেই আমার মনে হচ্ছে। লৈঙ্গিক বৈষম্যের কারণে আমরা এগিয়ে আছি।’

সর্বশেষ একজন নারী যেবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, সেবার তাঁর লৈঙ্গিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আট বছর আগে প্রথম কোনো নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। সেবার তাঁর শিবিরের স্লোগান হয়ে উঠেছিল, ‘আমি তাঁর সঙ্গে আছি।’

২০১৬ সালের পর নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বদল এসেছে। ২০১৭ সালে হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলনের ফলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। ওই আন্দোলনের ফলে পেশাজীবী নারীদের নিয়ে আলোচনার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। মি টু আন্দোলনের ফলে হয়তো কমলার মতো একজন প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়া সহজ হয়েছে।

কিন্তু বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়ের অগ্রগতিতে এ ধরনে বড় পদক্ষেপকে কেউ কেউ একধাপ পিছিয়ে যাওয়া বলে ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষ করে তরুণদের কাছে। তাঁদের মনে হচ্ছে তাঁরা পেছনে পড়ে থাকছেন। অথবা এসব পরিবর্তন রক্ষণশীল আমেরিকানদের জন্য শুধু বিরক্তির কারণ হয়েছে। তাঁরা পুরোনো লৈঙ্গিক বৈষম্যের ধারণা নিয়ে রয়েছেন।

সিবিএস নিউজের জনমত জরিপেও নির্বাচনে লৈঙ্গিক বৈষম্য থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। গতকাল রোববার ওই জরিপের ফলাফল প্রকাশ পায়।

সিবিএসের জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে লৈঙ্গিক সমতার প্রচারে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে বিশেষ করে পুরুষেরা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ট্রাম্পের সমর্থক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আর বেশির ভাগ নারী বলেছেন, ওই সব উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তাঁরা সম্ভবত কমলাকে সমর্থন দেবেন। নারীদের তুলনায় খুব কম পুরুষ মনে করেন, কমলা শক্তিশালী নেতা হতে পারবেন। বরং অধিকাংশ পুরুষ মনে করেন, ট্রাম্প একজন শক্তিশালী নেতা হয়ে উঠবেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক জরিপ বলছে, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ১৪ শতাংশ। আর নারী ভোটারদের কমলার প্রতি সমর্থন ১২ শতাংশ। এই নির্বাচনের ফল এখন কোন দিকে যাবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন পুরুষ ও নারী ভোটাররাই।

শেখ হাসিনার সহযোগীরা সরিয়েছেন ১৭ বিলিয়ন ডলার, এস আলম একাই ১০ বিলিয়ন: গভর্নর

ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা তাঁর শাসনামলে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংক খাত থেকে ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সরিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহসান মনসুর বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা দপ্তরের সাবেক কিছু কর্মকর্তা শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক দখল করতে সহায়তা করেছেন। তিনি জানান, এসব ব্যাংক দখল করে আনুমানিক ২ লাখ কোটি টাকা (১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার) বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন শেয়ারধারীদের ঋণ দেওয়া ও আমদানির অতিরিক্ত খরচ দেখানোর মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘যেকোনো বৈশ্বিক মানদণ্ডে এটি সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ব্যাপক ব্যাংক ডাকাতি। এই মাত্রায় (ব্যাংক ডাকাতি) অন্য কোথাও হয়নি। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে জড়িতরা (ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহীদের) মাথায় বন্দুক না ঠেকালে এটা হতে পারত না।’

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডিজিএফআইয়ের সহায়তায় কয়েকটি ব্যাংক দখল করার পর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর সহযোগীরা ‘অন্তত’ ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ‘বের করে নিয়েছেন’। তাঁর মতে, ‘তাঁরা প্রতিদিনই নিজেদের জন্য ঋণ অনুমোদন করেছেন।’

সাইফুল আলমের পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন এমানুয়েল আরকুহার্ট অ্যান্ড সুলিভান একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে এস আলম গ্রুপ জানিয়েছে, গভর্নরের অভিযোগের ‘কোনো সত্যতা নেই’। এতে বলা হয়, ‘এস আলম গ্রুপ ও বাংলাদেশের আরও কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের সমন্বিত প্রচারণা এমনকি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার মৌলিক নীতির প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।’

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর মন্তব্যের জন্য তাদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এবং ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেখ হাসিনা দুই দশক ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু তাঁর শাসনামলে ভোট কারচুপি, বিরোধীদের কারাগারে পাঠানো ও নির্যাতন করা এবং ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আগস্টে তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকার অর্থ উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেয়।

আহসান এইচ মনসুর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একজন সাবেক কর্মকর্তা। গত মাসে তিনি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন যে শেখ হাসিনার সহযোগীদের বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। ব্যাংক খাত নিয়ে তাঁর সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংকের পরিচালকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।

গভর্নর বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন কিছু সদস্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ‘তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে’ এবং এরপর হোটেলের মতো জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর ‘অস্ত্রের মুখে’ তাঁদেরকে তাঁদের শেয়ার ‘মি. এস আলমের কাছে’ বিক্রির জন্য এবং তাঁদেরকে পরিচালকের পদ ছাড়তে বলেন। তাঁর কথায়, ‘একের পর এক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তাঁরা এটা করেছে।’

একটি ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, জোর করে ব্যাংক দখলের প্রক্রিয়ায় তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ২০১৩ সালে ‘তৎকালীন সরকারের সঙ্গে জড়িত লোকেরা’ তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পরামর্শমতো পরিচালক নিয়োগ এবং ব্যাংকের একজন বিদেশি পরিচালকের হোটেল রুমে ‘সরকারি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের’ দ্বারা তল্লাশি চালানো।

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ২০১৭ সালে তিনি যখন ব্যাংকের পর্ষদ সভায় যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এরপর পুরো একটি দিন তাঁকে আটকে রেখে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘তাঁরা ব্যাংকের জাল কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন। আমাকে শেষ পর্যন্ত একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল।’

গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোহাম্মদ আবদুল মান্নানকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

গত দশকে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকিং ব্যবসায় নাম লিখিয়েছে। গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সাতটি ব্যাংকে তাদের ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ’ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।

আহসান এইচ মনসুর তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে দখল করা হয়েছিল এমন প্রায় ১২টি ব্যাংকের অবস্থা নিরীক্ষা করার পর বাংলাদেশ চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেশে ও দেশের বাইরের আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই।’

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এসব ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকগুলোর শেয়ার ‘ভালো মানের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের’ কাছে বিক্রি করে সেগুলোকে পুনঃ অর্থায়নের জন্য কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খারাপ হয়ে পড়া সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন করারও পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, লোপাট হওয়া ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা দেশ থেকে যে অর্থ দুবাই, সিঙ্গাপুর বা অন্যান্য স্থানে পাচার করে নিজেদের আয়ত্তে রেখেছেন, তা উদ্ধারের চেষ্টায় আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।

৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে ব্যারিস্টার সুমন

যুবদল নেতা ও সহকারী বাবুর্চি হৃদয় মিয়াকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২১ দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকার মিরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২২ অক্টোবর আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই হৃদয় জুমার নামাজ আদায় করে মিরপুর-১০ নম্বরে সমাবেশে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ককটেল বোমা নিক্ষেপ ও গুলিও চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়। তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর ১০ নম্বর হাতিয়াইন ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। এ ঘটনায় তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।

বছরের পর বছর ঘুরেও মিলছে না লাইসেন্স, ৬ লাখ চালক ভোগান্তিতে

টাকা জমা দেওয়া আছে। পরীক্ষাও শেষ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাজ বাকি শুধু একটি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে গ্রাহককে দেওয়া। এই সাধারণ কাজটিই করতে পারছে না সরকারি এই সংস্থা। ফলে সোয়া ছয় লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। কারও কারও অপেক্ষা তিন বছরের।

মানুষের এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আমলে। অভিযোগ রয়েছে, তখন পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার চেষ্টার কারণে জটিলতা তৈরি হয়। সেই থেকে ভুগছেন মানুষ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সরকার ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্টকার্ড ব্যবস্থাই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার বদলে দেওয়া হবে সাধারণ মানের প্লাস্টিকের পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) কার্ড।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, পিভিসি কার্ড দেওয়া হবে নতুন আবেদনকারীদের। পুরোনো আবেদনকারীদের আগের কার্ডই দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে কবে তাঁরা কার্ড পাবেন, সেই নিশ্চয়তা নেই।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহসানুল হক বলেন, পুরোনো ঠিকাদার কার্ড এনেছেন বলে জানিয়েছেন। ধীরে ধীরে জটিলতা কেটে যাবে। তিনি বলেন, পিভিসি কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য দ্রুত প্রিন্ট করা যায়। এতে মানুষের ভোগান্তি কমবে। তবে এই কার্ডেও কিউআর কোড থাকবে, যা দিয়ে পথে লাইসেন্সের সঠিকতা যাচাই করা যাবে।

স্মার্টকার্ড যথাসময়ে দিতে না পেরে বিআরটিএ গ্রাহককে একটি কাগুজে লাইসেন্স দিচ্ছে। সেটা দেখালে ট্রাফিক পুলিশ আইনি ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকে। অবশ্য সবচেয়ে ভোগান্তিতে আছেন লাইসেন্স নিয়ে বিদেশে কর্মী হিসেবে যেতে আগ্রহীরা। কারণ, স্মার্টকার্ড ছাড়া তাঁরা বিদেশ যেতে পারছেন না।

সৌদি আরবের ভিসা নিয়ে বসে আছেন কুমিল্লার আবদুল মতিন। তিনি বলেন, তাঁর লাইসেন্সটি সংশোধন করা দরকার। এ জন্য দালালের মাধ্যমে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, কার্ডটি প্রিন্টিংয়ের (ছাপা) অপেক্ষায়। এভাবে দুই মাস কেটে গেছে। লাইসেন্স পেলেই দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেবেন।

সূত্র বলছে, এখন অল্প অল্প কার্ড এনে প্রভাবশালী আমলা ও বিদেশগামীদের দেওয়া হয়। এ জন্য বিআরটিএর চেয়ারম্যানের দপ্তরে ভিসা দেখিয়ে তালিকাভুক্ত হতে হয় বিদেশগামীদের। তবে এই তথ্য অনেকেই জানেন না। যাঁরা জানেন, তাঁদের বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া মাদ্রাজ প্রিন্টার্সের স্থানীয় কর্মী ও বিআরটিএর কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটা ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সংকটের সুযোগ নিয়ে বাড়তি টাকা নিয়ে কিছু কিছু লাইসেন্স প্রিন্ট করছে।

ঢাকার পল্টনের একটি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক ফুজায়েল আহমেদ বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেওয়া অনেকেই লাইসেন্সের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। কেউ কেউ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন।

রিয়াল মাদ্রিদের জালে বার্সেলোনার এক হালি

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলো রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু বার্সেলোনার অফ সাইড ফাঁদে পড়লো প্রত্যেকটা।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন রিয়াল পাত্তাই পেলো না। আক্রমণ-রক্ষণ সবখানেই দাপট দেখালো বার্সা। ২ মিনিটে ২ গোল দিয়ে বার্সাকে চালকের আসনে বসালেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। এরপর লামিনে ইয়ামেল ও রাফিনহার গোলে রিয়ালের জালে এক হালি গোল পূর্ণ করে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

আজ লা লিগার ম্যাচে রিয়ালের ঘরের মাঠে বার্নাব্যুতে ৪-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। জোড়া গোল করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বার্সার পোলিশ স্ট্রাইকার লেভানডোভস্কি।

এদিন প্রথমার্ধে লড়াই ছিল বার্সেলোনার হাইলাইন ডিফেন্স আর রিয়ালের তারকায় ঠাসা আক্রমণভাগ। যেখানে পুরোদমে সফল কাতালান ক্লাবটি। একাধিকবার অফসাইডের ফাঁদে পড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা।

বিরতি থেকে ফিরেও শুরুতে রিয়ালই আক্রমণে দাপট দেখাচ্ছিল। কিন্তু চিত্রনাট্য ঘুরে যায় স্রেফ ২ মিনিটের ব্যবধানে। ৫৪ ও ৫৬তম মিনিটে দুই গোল করেন লেভানডোভস্কি।

এরপর আর বার্সেলোনার কাছে পাত্তাই পায়নি রিয়াল। ৮৪তম মিনিটের মধ্যে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৪-০। এর মধ্যে একটি করে গোল করেন ইয়ামেল ও রাফিনহা।

মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৯, আহত ৬

মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয় জন। গতকাল শনিবার (২৬ অক্টোবর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির জাকাতেকাস অঞ্চলের একটি হাইওয়েতে বাস বিধ্বস্তের ঘটনায় এই প্রাণহানি হয়। যাত্রীবাহী বাসটির সাথে একটি ট্রেইলার ট্রাক্টরের সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাসটি হাইওয়ে থেকে বেশ খানিকটা নিচে পড়ে যায়। কয়েকটি মরদেহ গিরিখাদে গিয়ে পড়ে।

এসব মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী। এর আগে প্রথমে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছিল জাকাতেকাসের গভর্ণর অফিস। পরে, প্রকাশ করা হয় সংশোধিত সংখ্যা।

মোহাম্মদপুরের সব হাউজিংয়ে বসছে সেনাক্যাম্প

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে আজ রোববার থেকে প্রতিটি হাউজিংয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প বসাবে সেনাবাহিনী। এসব ক্যাম্প থেকে ঐ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করবেন সেনাসদস্যরা।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে বছিলায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ২৩ ইস্ট বেঙ্গলের উপ-অধিনায়ক মেজর নাজিম আহমেদ।

এর আগে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে নেমে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী। অভিযানে মোহাম্মদপুরের একটি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় মুলহোতা আসলামকে আটক করা হয়। এছাড়াও ঢাকা উদ্যান এলাকায় পথচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহসহ আরও নানা অপরাধ দমনে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সেনাবাহিনী জানায়, যৌথবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৮টি আগ্নেয়ান্ত্র, ২৬২ রাউন্ড গুলি, মাদক ও একটি গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর নাজিম আহমেদ বলেন, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার থেকে বিভিন্ন হাউজিং এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প করা হবে। দু-তিনটি হাউজিং এলাকার মধ্যে একটি করে এমন অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হবে যেখান থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।

মোহাম্মদপুরে ২৭-২৮টি কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে উল্লেখ করে মেজর নাজিম বলেন, এরমধ্যে জেনেভা ক্যাম্পেই প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ রয়েছে। যাদের আটক করেছি, তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জন গডফাদার বা লিডারকে আমরা ধরেছি। এদের সবাই চাঁদাবাজি, ডাকাতি করতেন। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ তাদের দ্বারা ভুক্তভোগী।

সেনাবাহিনীর এ অভিযানের সঙ্গে র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা ছিলেন এবং গ্রেফতারদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা।

৯ মাসে ২৬৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে রোমানিয়া

২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে মোট ৯১৬ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ‘ডিপোর্ট’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে রোমানিয়া। এই অভিবাসীদের মধ্যে ২৬৮ জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন দপ্তর।

এক ইমেইলে অভিবাসীভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টসকে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির জেনারেল ইনস্পেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই)-এর জনসংযোগ বিভাগ।

আইজিআই জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯১৬ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অনিয়মিত উপায়ে রোমানিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করে শেঙেন জোনে প্রবেশের চেষ্টা করে রোমানিয়া সীমান্ত পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন।

এছাড়াও অনিয়মিত উপায়ে দেশটিতে অবস্থান ও কাজে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান থেকেও অনেককে আটক করা হয়েছিল।

অভিবাসীদের মধ্যে একটি অংশকে স্বেচ্ছায় ১৫ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগের নোটিশ দেয়া হয়েছিল। এই আইনি নোটিশ না মানায় সংশ্লিষ্টদের জোরপূর্বক তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বুখারেস্ট কর্তৃপক্ষ।

শীর্ষে দক্ষিণ এশিয়া
রোমানিয়া থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোদের মধ্যে শীর্ষে আছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৮ জন বাংলাদেশের, শ্রীলঙ্কার ১০৫ জন, নেপালের ১৪৮ জন, পাকিস্তানের ৮৯ জন এবং ভারতের ৪৮ জন।

এছাড়া মিশরের ২৯ জন, মলদোভার ২৫ জন, তুরস্কের ২২ জন, ভিয়েতনামের ২২ জন, মরক্কোর ২০ জন এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে জেনারেল ইনস্পেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই)।

বছরের প্রথম নয় মাসে সংগঠিত এসব ‘ডিপোর্ট’ কার্যক্রম কয়েক ধাপে সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যেসব অভিবাসীদের কাছে আটকের সময় কোনো পাসপোর্ট বা নথি পাওয়া যায় না তাদের ক্ষেত্রে স্বীকৃত রাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলার অফিসের সহায়তায় বিশেষ অনুমতি পত্র নিয়ে রোমানিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়।

অনিয়মিত অভিবাসীদের অনেকেই শেঙেন সীমান্তে প্রবেশের সময় তাদের সাথে থাকা সব নথিপত্র ফেলে দেন।

রোমানিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করা ও দেশটিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের যাবতীয় আইনি কাঠামো একটি বিশেষ অধ্যাদেশ বা ওইউজির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই অধ্যাদেশের ১৯৪/২০০২ ধারার সংশোধিত বিধান অনুযায়ী বিদেশিদের প্রবেশ, থাকার অধিকার এবং বাধ্যবাধকতাগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়।

চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে ইউরোপের অবাধ চলাচলের শেঙেন জোনে আংশিক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রোমানিয়া। যার ফলে শেঙেন প্রবিধান মেনে চলতে আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মালিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ

সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের লামাকাজি এম এ খান সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে সুনামগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন সুনামগঞ্জের সকল গণপরিবহন মালিক শ্রমিকরা।

কর্মবিরতির কারণে বুধবার (২৩ অক্টোবর) জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ।

এর আগে, গত সোমবার (২১ অক্টোবর) পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এই কর্মবিরতির ঘোষণা করেন ।

পরিবহণ সংগঠনের নেতারা জানান, সিলেট লামাকাজি এম এ খান সেতুতে গত ৪০ বছর ধরে টোল আদায় করা হচ্ছে। মাত্র সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে দীর্ঘ ৪০ বছরে হাজার কোটি টাকা আদায় হলেও টোল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না পরিবহন শ্রমিকরা।

৫ আগস্টের পর থেকে বন্ধ হওয়া এই টুল পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি বন্ধ না হলে ২৭ আগস্ট থেকে বিভাগীয় কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।