বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

আজ জলবায়ু সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন প্রধান উপদেষ্টা

আজ কপ-টোয়েন্টি নাইন জলবায়ু সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে-সেই বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে; সেটিও তুলে ধরবেন তিনি।

আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আজারবাইজানে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন তিনি। এর আগে, জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সফরসঙ্গীরা আজারবাইজানের রাজধানী বাকু’তে অবতরণ করেন। সম্মেলনে পৃথকভাবে কয়েক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সাথে মতবিনিময় করেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনের বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য দেবেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর এটি ড. ইউনূসের দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে, জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।

বিদ্যুৎ নিয়ে আদানির সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল চেয়ে রিট

বিদ্যুৎ নিয়ে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যারিস্টার এম কাইয়ুম জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে।

এর আগে, গত ৬ নভেম্বর বিদ্যুৎ নিয়ে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। নোটিশে অবিলম্বে অন্যায্য একতরফা চুক্তি পুনর্বিবেচনা অথবা পুরোটাই বাতিল চাওয়া হয়েছে।

তিনদিনের মধ্যে আদানিকে এই ঘটনায় চুক্তি পুনর্বিবেচনার কার্যক্রম শুরু না করলে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। নোটিশের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এ রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি ‘হত্যাযজ্ঞ’ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান সৌদি যুবরাজ সালমানের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতাদের এক যৌথ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি ‘হত্যাযজ্ঞ’ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বলেন, গাজা ও লেবাননবাসীর ওপর চালানো ইসরায়েলি ‘হত্যাযজ্ঞ’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম নিউ আরব এ তথ্য জানায়।

শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে “অবিলম্বে ফিলিস্তিন ও লেবাননে আমাদের ভাইদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে”।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘লেবাননের ও ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনি ভাইদের ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসনে দেড় লাখ মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছে, যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। আবারও এই গণহত্যা বন্ধের দাবি জানাই। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে তারা’।

আরব ইসলামিক সম্মেলনে সালমান আরও বলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা। উপত্যকাটিতে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরির জন্যও দায়ী করেন তেল আবিবকে। নেতানিয়াহু প্রশাসনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সালমান।

এছাড়াও, ইরানে ইসরায়েলি হামলারও নিন্দা জানান তিনি। ইরানি ভূখণ্ডে হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেন তেল আবিবকে। এদিকে, সম্মেলনে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধের ফলে তার দেশকে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি করেছে।

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৭

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে রাস্তায় গ্যাসের মেইন লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে শ্রমিকসহ সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের সোনাপুর লাভলী সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক জানান, দগ্ধদের মধ্যে দুইজন শঙ্কামুক্ত হলেও বাকি পাঁচজনকে অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দগ্ধরা হলেন-জয়, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সুলতান, রাজু, মিজান, রিপন ও মো. শাহজালাল।

স্বজনরা জানান, রাতে কাঁচপুরের সোনাপুর লাভলী সিনেমা হলের সামনে রাস্তার কল বসানোর কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। তখন সেখানে ঝালাইয়ের কাজ করতে গেলে পাশে গ্যাসের মেইন লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বেক্সিমকো ফার্মায় রিসিভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে রিসিভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে এর বাইরে বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে রিসিভার নিয়োগে কোনো বাধা থাকবে না বলেও আদেশে জানানো হয়।

মঙ্গলবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার রুল নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সোমবার (১১ নভেম্বর) শুনানির এ দিন ধার্য করেন আদালত। এদিন আদালতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও মুস্তাফিজুর রহমান খান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনীরুজ্জামান ও রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি রিট আবেদন করেন। ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশ দেন।

আদেশে বেক্সিমকো গ্রুপের সব সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য রিসিভার নিয়োগের পাশাপাশি ছয় মাসের জন্য গ্রুপটির সব সম্পত্তি সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করতে বলা হয়।

সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সালমান এফ রহমানের নেওয়া অর্থ আদায় করতে ও বিদেশে পাঠানো অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্বাচন অন্তবর্তী সরকারও চায়, তবে আগে সংস্কার: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

নির্বাচন অন্তবর্তী সরকারও চায়, তবে এর আগে সংস্কারকে গুরুত্ব দেযা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বলেন, গণ অভুত্থান নির্বাচনের জন্য হয়নি।

সোমবার (১১ নভেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এছাড়া তিনি বলেন, এই সরকারই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে কিনা তা বলা যাবে সুপারিশ জমা হওয়ার পর।

সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ডিসেম্বরে সংস্কার কমিশন সুপারিশ জমা দিবে। এর সরকারের তিনমাস হয়েছে মাত্র। রাজনৈতিক দলগুলোও এখনই এখন নির্বাচন চাচ্ছে বলে মনে হয় না।

এর আগে তিনি জানান, অবৈধভাবে শেখ মুজিব জনপ্রশাসন একাডেমির জন্য কক্সবাজারে ৭০০ একর বনভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রনালয় এই বরাদ্দ বাতিল করেছে।

‘ফাইনাল’ ম্যাচে বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা

শারজাহতে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিতে পারবে তো বাংলাদেশ? সেই উত্তর মেলাতেই তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। শারজায় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৮ রানে আফগানদের হারিয়ে সিরিজে ফেরে টাইগাররা। যেখানে নাজমুল শান্তর ব্যাটে ৭৬ রান আত্মবিশ্বাসের খোরাক হতে পারে দলের। সেই সাথে জাকের আলী আর নাসুম আহমেদের ইতিবাচক ব্যাটিং ছিল বড় প্রাপ্তি। নাসুমসহ বল হাতে দারুণ ভুমিকা ছিল তাসকিন-ফিজদের।

যদিও হাতের মুঠোতে থাকা ম্যাচ কীভাবে হারতে হয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ভালো শুরুর পরও ১২ রান তুলতেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছিল দল। সেখানে পরের ম্যাচে জয়, লজ্জা থেকে রক্ষা করে ফিল সিমন্সের দলকে।

সবশেষ ম্যাচে কুচকিতে টান পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল অধিনায়ক শান্তকে। আজকের ম্যাচ তিনি খেলতে পারবেন কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। আজই স্ক্যান করানোর কথা রয়েছে শান্তর। এরপরই টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষ লাউঞ্জ উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১১ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা এই লাউঞ্জের উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, আমাদের অভিবাসী শ্রমিকরা দেশ গড়ার কারিগর। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তারা বড় ভূমিকা পালন করেছিল। আমরা তাদের কাছে সবসময় কৃতজ্ঞ। আমরা বিশ্বাস করি এই লাউঞ্জ তাদের ভ্রমণকে সহজ করবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ধরনের প্রবাসী লাউঞ্জ এবারই প্রথম। এ লাউঞ্জে অভিবাসী কর্মীরা বিশ্রাম নিতে পারবে এবং ভর্তুকিযুক্ত খাবার খেতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আইন ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পতনের আগে যে ২ কারণে হাসিনার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল

ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালানোর আগে প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। অন্তত দু’টি বিষয় নিয়ে দেখা-সাক্ষাৎ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দুজনের মধ্যে।

জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ ও শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে বঙ্গভবন আর গণভবনের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছিল। রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলে দেশে ফেরার পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখা যায় চীন ও ভারত সফরের পর। সম্পর্কের অবনতি এমনটাই ঘটেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনের দিকে পা-ই বাড়াননি।

এই যখন অবস্থা, তখনই বিচারক নিয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। গণভবন বা আইন মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা দেখে প্রেসিডেন্ট বিরক্ত হন। ১৮ এপ্রিল ২০২৪ প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে সামগ্রিকতা নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া উল্লেখ রয়েছে। নিয়োগের পদ্ধতি স্পষ্ট না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে প্রথাগতভাবে নিয়োগ হয়ে আসছে। বিষয়টি লিখিত না থাকলেও আলোচনাক্রমে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করার নিয়ম চালু আছে। প্রেসিডেন্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এই নিয়ম ভঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বঙ্গভবনে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। সারসংক্ষেপ বহনকারী ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

এতে বিরক্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট পাল্টা একটি চিঠি পাঠান সই না করেই। এতে তিনি বলেন, যেভাবে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে তাতে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘আমি কিছুই জানি না, অথচ আমাকেই চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। প্রচলিত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্টকেই পুতুল বানানো হয়েছে। শুধুমাত্র আমার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম কেন? দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া উপেক্ষা করার কী অর্থ আছে’।

আইনমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করারও প্রয়োজন মনে করেননি। সবমিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ব্যথিত হন-এটাও উল্লেখ ছিল চিঠিতে। এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর দপ্তরে।

ওদিকে প্রচলিত শ্রম আইন নিয়েও ভিন্নমত দেখা দেয়। আলোচনা না করে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। এতে প্রেসিডেন্ট মনঃক্ষুণ্ন হন। এতে করেই বঙ্গভবন ও গণভবনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। সম্ভবত এসব কারণেই হাসিনা ৫ আগস্ট ক্ষমতা ও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনেও কোনো যোগাযোগ করেননি।

সূত্র: জনতার চোখ

রাশিয়ার বুকে ইউক্রেনের একযোগে ৩৪টি ড্রোন হামলা

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বড় ধরনের হামলা চালালো ইউক্রেন। রোববার (১০ নভেম্বর) একযোগে আঘাত হেনেছে কমপক্ষে ৩৪টি ড্রোন। টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলে অভিযান।

২০২২ সালে দু’দেশের যুদ্ধ শুরুর পর রুশ রাজধানী লক্ষ্য করে এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল বিমান ওঠানামা। পরিবর্তন করে দেয়া হয় অবতরণের অপেক্ষায় থাকা বিমানের রুট। সবচেয়ে বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে রামেনস্কো, কোলোমনা ও দোমোদেভো শহরে। রামেনস্কোয় চারটি ভবনে আগুন ধরে যায়।

গত সেপ্টেম্বরেও হামলার শিকার হয়েছিল অঞ্চলটি। ছয় অঞ্চলে অন্তত ৮৪টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে মস্কো। ইউক্রেনেও হয়েছে বড় ধরনের হামলা। কিয়েভ জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১৪৫টি ড্রোন ছুড়েছে মস্কো। এর মধ্যে ভূপাতিত করা হয়েছে অন্তত ৬২টি। ওডেসায় বিধ্বস্ত হয়েছে একাধিক ভবন।