বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

প্রেম পেল পূর্ণতা, বিয়ের মঞ্চে কাঁদলেন মেহজাবীন

দীর্ঘদিনের প্রেমিক আদনান আল রাজীবের সঙ্গেই অবশেষে বিয়ে সারলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গতকাল ঢাকার অদূরে একটি রিসোর্টে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে রবিবার একই ভেন্যুতে গায়েহলুদ হয় তাদের।

বিনোদন অঙ্গনে এই জুটির সম্পর্ক অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ থাকলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কখনো মুখ খোলেননি তারা।
অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হলো। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে আক্‌দ সম্পন্ন করেন তারা। আর গতকাল সম্পন্ন হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তাতে দেখা যায়, রাজীবকে জড়িয়ে ধরে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি মেহজাবীন।

ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মেহজাবীনের পরনে সাদা লেহেঙ্গা ও আদনানের পরনে খয়েরি শেরওয়ানি। বিয়ের মঞ্চে তাদের দুজনের উজ্জ্বল উপস্থিতি। এ সময় তাদের সামনে অতিথিরাও উপস্থিত।
আশপাশে সাদা ও গোলাপি ফুলে সেজে উঠেছে ওয়েডিং থিম। এ সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেহজাবীন ও রাজীব। দুজনে একে অপরের হাত ধরে অতিথিদের সঙ্গে হাসি বিনিময় করলেন এই তারকা যুগল। সঙ্গে অতিথি-দর্শকরাও খুব উচ্ছ্বসিত! তাদের বিশেষ এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে সবার হাতে হাতে ফোন। এমন সময় রাজীবকে কাছে টেনে গাল ছুঁয়ে দেন মেহজাবীন।
এরপর মেহজাবীনের দুটি হাত শক্ত করেই ধরেন রাজীব। এরপর একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন তারা।

দেখা যায়, রাজীবকে জড়িয়ে ধরার সঙ্গে প্রচণ্ড আপ্লুত হয়ে পড়েন মেহজাবীন। একপর্যায়ে মুখ চেপে কান্না শুরু করে দেন মেহজাবীন! অনেক চেষ্টা করেও যেন সেই আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। এ সময়ই রাজীব হাসি দিয়ে মেহজাবীনের গালে আদুরে স্পর্শ করলেন, মুছে দিলেন তার অশ্রুসিক্ত চোখ, আর সঙ্গে সঙ্গেই সে সময় হেসে দিলেন মেহজাবীনও।

মেহজাবীন-রাজীবের এমন মুহূর্ত দেখে তাদের অতিথিরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। আর ভিডিওটি ভাইরাল হতে আপ্লুত হয়ে পড়েন ভক্ত-অনুরাগীরাও।

২০১২ সালে প্রথম সাক্ষাৎ হয় মেহাজাবীন ও আদনান আল রাজীবের। এরপর প্রেম। তবে প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও গুঞ্জনটা ছিল বহুদিনের। কিছুদিন আগে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে অবশেষে বিয়ে সারলেন এ জনপ্রিয় জুটি। দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রেম অবশেষে পূর্ণতা পেল।

সামরিক কবরস্থানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তিন বাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শায়িত পিলখানায় শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁরা।

এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বিজিবির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি প্রথমবার জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হতে যাচ্ছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে সরকার প্রতিবছর ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।

দেশবন্ধু জর্জ হ্যারিসনের জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সংগীতজ্ঞ জর্জ হ্যারিসনের জন্মদিন আজ। ১৯৪৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যেসব অবাঙালি মহৎ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা রয়েছে, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। তার নামটি বাংলাদেশিদের কাছে শ্রদ্ধা, সম্মানে অনন্য উচ্চতায় আছে।
এর পেছনের কারণ ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ও অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর আয়োজক ছিলেন ভারতীয় সেতারবাদক ওস্তাদ রবিশঙ্কর ও তার বন্ধু বিটলসখ্যাত জর্জ হ্যারিসন।

এতে অংশ নিয়েছিলেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, জর্জ হ্যারিসন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল, ব্যাড ফিঙ্গার এবং রিঙ্গো রকস্টারের মতো তারকারা।
এই কনসার্ট সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের কথা। এই অনুষ্ঠানেই জর্জ হ্যারিসন পরিবেশন করেছিলেন বাংলাদেশকে নিয়ে লেখা তার ঐতিহাসিক গান ‘রিলিজ দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’।

কনসার্ট ও অন্য অনুষঙ্গ থেকে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ মার্কিন ডলার। এ সহায়তা জাতিসংঘের শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ব্যয় হয়।

বাংলাদেশি ভক্তদের ভালোবাসা জানালেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী

বর্তমানে বিনোদনপ্রেমী মানুষের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কনটেন্ট হলো সিরিজ। মার্কিন, ভারতীয় কিংবা কোরিয়ান সিরিজের জয়জয়কার সব জায়গায়। বিশেষ করে উপমহাদেশের দর্শকদের কাছে বরাবরই পছন্দের ছিল ভারতীয় সিরিজ। তবে বিগত কয়েক বছরে সিরিজের জগতে বেশ বড়সর উত্থান হয়েছে পাকিস্তানি সিরিজের।
উপমহাদেশের মধ্যে ছোট পর্দার জন্য অনুষ্ঠান তৈরিতে বেশ এগিয়ে পাকিস্তান। দেশটির বিনোদন ইন্ডাস্ট্রি মূলত টিকিয়ে রেখেছে টেলিভিশনের নাটক এবং সিরিয়ালগুলো।

পাকিস্তানি নাটক-সিরিয়াল দেশটির সীমানা পেরিয়ে এখন ভারতেও দারুণ জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও অনেক দর্শক অনলাইনে পাকিস্তানি এসব কনটেন্ট দেখেন।
বর্তমানে ইউটিউব ট্রেন্ডে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানি ওয়েব সিরিজ ‘মিম সে মুহাব্বাত’। যা পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এই ওয়েব সিরিজে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন দানানির মবিন। তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
তবে অভিনেত্রীর মনে বাংলাদেশি ভক্তদের জন্যও রয়েছে বিশেষ জায়গা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্টোরি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। যেখান উল্লেখ করেছেন যে, ‘অনেক অনেক ভালোবাসা বাংলাদেশি ভক্তদের জন্য।’ বাংলাদেশের সংবাদ স্টোরিতে শেয়ার করে মবিন লিখেছেন, ‘আমাদের সকল বাংলাদেশি ভক্তের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।’

‘মিম সে মুহাব্বাত’ ওয়েব সিরিজ যা প্রেম, ভাগ্য এবং আকস্মিক সাক্ষাতের গল্প বলে।
এটি সব বয়সের দর্শকদের জন্য একটি প্রেমের গল্প। মূল চরিত্রে রয়েছেন আহাদ রাজা মীর এবং দানানির মবিন। তারা একে অপরের থেকে খুব আলাদা, কিন্তু ভাগ্য তাদের একত্রিত করে। এমন গল্পে দুজনের রসায়ন মন জয় করেছে দর্শকদের।

আইসিসির পরোয়ানা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুকে জার্মানিতে আমন্ত্রণ মেৎসের

রক্ষণশীল দল সিডিইউ নেতা এবং জার্মান নির্বাচনে বিজয়ী ফ্রেডরিখ মেৎস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জার্মানিতে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাতে চান বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি এই নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় জার্মানির সম্ভাব্য চ্যান্সেলরের সঙ্গে তার ‘উষ্ণ কথোপকথন’ হয়েছে। ফ্রেডরিখ মেৎসের সাফল্যের জন্য নেতানিয়াহু অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘সম্ভাব্য চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রীকে (নেতানিয়াহু) ধন্যবাদ জানান এবং জানান যে, তিনি তাকে জার্মানিতে একটি সরকারি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন, যা প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কলঙ্কজনক সিদ্ধান্তের স্পষ্ট বিরোধিতা।’

সিডিইউ দলের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ডিপিএকে নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচনের পরে দুইজনের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। তবে কথোপকথনের সারমর্ম সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

দুই সপ্তাহ আগে ফ্রেডরিখ মেৎস জার্মান-ইহুদি সংবাদপত্র জুডিশে আলগেমাইনকে বলেছিলেন, নির্বাচনে জয়লাভের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানাবেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘আমার নেতৃত্বে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নির্বিঘ্নে জার্মানি ভ্রমণ করতে পারবেন।’

আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুতে তথ্য উপদেষ্টার শোক

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আবদুল্লাহ আল নোমান মঙ্গলবার সকাল ৬টায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল্লাহ আল নোমান। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ষাটের দশকের শুরুতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নোমান যোগ দেন ছাত্র ইউনিয়নে।

মেননপন্থী ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবন শেষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাত ধরে যোগ দেন শ্রমিক রাজনীতিতে। পূর্ববাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছিলেন।
ভাসানীপন্থী ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত হন।

১৯৭০ সালে তাকে ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে আবারও ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠনের পর ১৯৮১ সালে যোগ দেন দলটিতে।
চট্টগ্রামের রাউজান ও কোতোয়ালি আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্প-ম্যাখোঁর বৈঠক, দুই নেতার রয়েছে মতপার্থক্য

ইউক্রেনে যেকোনো শান্তি চুক্তি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়েই হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এই দুই নেতার বৈঠক হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ আরো বলেন, ‘এই শান্তি চুক্তিতে ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ হওয়া উচিত নয়, এর অর্থ গ্যারান্টি ছাড়া যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন শান্তি লঙ্ঘন করেছেন।’ ইউক্রেনে যেকোনো শান্তি চুক্তি করতে ‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’ থাকতে হবে।

তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ না করেই ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনে শান্তি নিশ্চিত করার খরচ এবং বোঝা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও দিতে হবে।
জবাবে ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপ ‘নিরাপত্তার বোঝা আরো ন্যায্যভাবে ভাগ করার’ প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে। রাশিয়ার আক্রমণের তৃতীয় বার্ষিকীতে আলোচনা আরো এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবারজুড়ে এই দুই নেতা উষ্ণ বাক্য বিনিময় করলেও, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এবং সংবাদ সম্মেলন করার সময় ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কিছু স্পষ্ট পার্থক্য ফুটে। যেকোনো শান্তি চুক্তিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ছিল পার্থক্যের ক্ষেত্র, যেমন যুদ্ধ শেষ করার পর সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপগুলো।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধবিরতি চান। তিনি আরো বলেন, একবার একমত হলে তিনি রাশিয়া সফরে যাবেন এবং রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন। তবে, ম্যাখোঁ যুদ্ধবিরতি এবং তারপরে একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির বিষয়ে আরো বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী ইউক্রেনকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত শান্তি চাই, কিন্তু আমরা এমন কোনো চুক্তি চাই না, যা দুর্বল।
’ তবে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ইউক্রেনে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা উচিত। যা রাশিয়া সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ম্যাখোঁ ওভাল অফিসে বলেন, তারা সামনের সারিতে থাকবে না। তারা কোনো সংঘাতের অংশ হবে না। শান্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করার জন্য তারা সেখানে থাকবে। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তা মেনে নেবেন। আমি বিশেষভাবে তাকে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছি। এতে তার কোনো সমস্যা নেই।’

ট্রাম্প এক মাস আগে ক্ষমতায় ফেরার পর ম্যাখোঁ হলেন প্রথম ইউরোপীয় নেতা, যিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করলেন। ম্যাখোঁর দাবি, এই আলোচনা একটি ঐক্যবদ্ধ নীতির প্রচেষ্টায় ‘মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।’ ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর মনোভাব এবং যুদ্ধ নিয়ে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগের মাঝে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমারও এই সপ্তাহের পরের দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসবেন।

সূত্র: বিবিসি

পেন্টাগন প্রধানের সঙ্গে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ওয়াশিংটনে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার পিট হেগসেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রিন্স খালিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি সরকারি সফরে আছেন। এই সফরের লক্ষ্য মার্কিন-সৌদি সম্পর্ক জোরদার করা।

তারা সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রিন্স খালিদ লিখেছেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

সৌদি মন্ত্রী আরো লিখেছেন, ‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেছি।’

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রিন্স খালিদের সরকারি সফরের উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা।
পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা।

বৈঠকের আগে হেগসেথকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইরানের আক্রমণ থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে আমেরিকা সাহায্য করবে কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমরা আজ আলোচনা করতে যাচ্ছি। ইরান এই অঞ্চলে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
সৌদি আরব একটি ভালো অংশীদার।’

কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, প্রিন্স খালিদের হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের সঙ্গে দিনের শেষের দিকে দেখা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-অ্যারাবিয়া

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দিল সরকার

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে প্রেষণে পদায়ন পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি একই অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আজ রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখার উপসচিব আবুল হায়াত মো. রফিক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে পদায়ন করা হয়।

গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর আবু নূর মো. শামসুজ্জামানকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদায়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
তার আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত ছিলেন।

কাল সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ‘ফলোআপ বৈঠক’

সৌদি আরবের রাজধানীতে মঙ্গলবার মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। এক সপ্তাহ আগেই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রিয়াদে যুগান্তকারী আলোচনার জন্য মিলিত হয়েছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র সোমবার বলেন, রিয়াদে মঙ্গলবার দুই পক্ষের বৈঠক হবে।
এটি গত সপ্তাহের বৈঠকের একটি ফলোআপ বৈঠক। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন স্তরের বৈঠক, তবে এটি এখনো অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত। উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নাম প্রকাশ না করেই তিনি এই তথ্য দেন।

এক সপ্তাহ আগে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে।
এই বৈঠকই সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি শীর্ষ সম্মেলনের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।

এ ছাড়া রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ‘পরামর্শমূলক একটি প্রক্রিয়া’ গড়ে তোলার ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আলোচক নিয়োগে সম্মত হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে মস্কোর আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক এটাই প্রথম। এই বৈঠকের আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে একটি টেলিফোন আলাপ হয়, যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে পশ্চিমাবিশ্বের আলাদা করে রাখার প্রচলিত কৌশলকে নস্যাৎ করে দেয়।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ‘আরো আত্মবিশ্বাসী’ বোধ করছেন। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমে কাছে পুতিনের সঙ্গে মাস শেষ হওয়ার আগেই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত।’

ট্রাম্প ইউরোপজুড়ে চমক সৃষ্টি করেন, যখন তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ফের শুরুর এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ও ইউক্রেনের অংশগ্রহণ ছাড়াই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ী থাকার বিষয়ে রাশিয়ার প্রচারিত বক্তব্যও পুনরাবৃত্তি করেছেন বলে মনে করা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি ‘ইউক্রেন ছাড়া ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা’ হওয়ার সম্ভাবনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
ট্রাম্প এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি খুব হতাশ। আমি শুনছি তারা নাকি রাগ করেছে যে তাদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আজ আমি শুনলাম, ‘ওহ, আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’ তুমি তিন বছর ধরে ওখানে আছো…এটা শুরুই করা উচিত হয়নি। তুমি আগেই একটা চুক্তি করতে পারতে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, এই যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা আমার আছে।’