সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

কঙ্গোয় স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে নিহত ১৫

image_81340_0গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসায় একটি ফুটবল ম্যাচে পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন আরো ২০ জন। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিনসাসার ফুটবল দল এএসভি ক্লাব দেশটির লুবুমবাসি অঞ্চলের দল টট পুসা মুজাম্বি দলের কাছে ০-১ গোলে হেরে গেলে স্থানীয় দর্শক উত্তেজিত হয়ে পড়ে। উত্তেজিত দর্শককে নিয়ন্ত্রণে আনতে জনাকীর্ণ স্টেডিয়ামটিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে তাড়াহুড়ো করে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

কিনশাসার স্থানীয়মন্ত্রী ইমানুয়েল আকুয়েতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ম্যাচ শেষে উত্তেজিত সমর্থকরা চারজন পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

কঙ্গোয় জনসমাগম অনুষ্ঠানগুলোতে প্রায়ই পদদলনের ঘটনা ঘটে। গত মাসে জনপ্রিয় কঙ্গোলিজ গায়ক কিং ক্রেস্টার এমিনিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ায় অবসরের ঘোষণা দিলেন কোল

image_81295_0ইংলিশ বস রয় হজসনের বিবেচনায় বিশ্বকাপের দলে থাকতে না পারায় রোববার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন চেলসির লেফট ব্যাক এ্যাশলে কোল।

নিজের টুইটারে ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ডিফেন্ডার অনেকটা আবেগের বশেই বলেছেন, ‘আমার সাথে রয়ের টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি জানিয়েছেন এবারের ইংল্যান্ড দলে তরুনদেরই প্রাধান্য দেয়া হবে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমরা অসাধারণ একজন ম্যানেজার ও দল পেয়েছি। আমি তাদের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করছি। আমি একজন সত্যিকারের সমর্থক হিসেবে তাদেরকে সমর্থন করে যাব। সবকিছুর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

ইংল্যান্ডের হয়ে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার ১০৭টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। মূলত এবারের মৌসুমে চেলসির হয়ে মূল একাদশে নিয়মিত ভাবে সুযোগ পাননি কোল শুধুমাত্র পারফরমেন্সের কারনে। তার জায়গায় ব্লুজদের হয়ে মাঠে নেমেছেন স্প্যানিশ সিজার আজপিলিকুয়েটা। আর এটাই তার ইংল্যান্ডের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবার পিছনে কাজ করেছে। তার বাদ পড়ায় একটি বিষয় অন্তত নিশ্চিত হয়েছে লেফট ব্যাকে এভারটনের লেইটন বেইনেসের অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত। সোমবারই আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ২৩ সদস্যের ইংল্যান্ড দল ঘোষনা করতে যাচ্ছেন হজসন। এছাড়া সাউথহ্যাম্পটনের তরুন লিউক শ’র ডাক পাওয়ারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কোল নিজেও বেইনেস এবং শ’র প্রশংসা করে বলেছেন চলতি মৌসুমে এই দুজনেই নিজেদের প্রমান করেছে এবং তারা দেশের ভবিষ্যত।

রোববার চেলসির হয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন কোল। কার্ডিফের বিপক্ষে ম্যাচটিতে চেলসি ২-১ গোলের জয় পায়। এই হারের আগেই অবশ্য রেলিগেশন নিশ্চিত করেছিল কার্ডিফ সিটি।

আলবানিয়ার বিপক্ষে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটেছিল সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার কোলের। তারপর থেকেই তিনি নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। গত মার্চেই হজসন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্রাজিলের জন্য তার বিবেচিত স্কোয়াডে পারফরমেন্সকেই প্রাধান্য দেয়া হবে। তখন থেকেই কোলের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এখন ধারনা করা হচ্ছে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ১৮ বছর বয়সী শ ক্যারিয়ারের প্রথম বড় কোন টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছেন। দুই মাস আগে ডেনমার্কের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে শ’য়ের অভিষেক হয় এবং সেই ম্যাচেই বদলী হিসেবে খেলতে নেমে ৪৫ মিনিটেই তিনি হজসনের সুনজড়ে পড়েন। ঐ ম্যাচের পরেই হজসন বলেছিলেন যারাই আজ তার খেলা দেখেছে তারা কেউই তাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দিতে পারবে না। সে যে পজিশনে খেলে সেখানে তাকে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

আট বছর আগে আর্সেনাল থেকে চেলসিতে নাম লেখানো কোল গত সপ্তাহে ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লীগের শেষ ম্যাচের পরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তখনই ক্লাবে তার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। চেলসি ম্যানেজার হোসে মরিনহো যদিও তাকে স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সূত্রমতে জানা গেছে বেশ কিছু ইউরোপীয়ান ক্লাবসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্লাব তাকে দলে নেবার আগ্রহ দেখিয়েছে।
আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হওয়া এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষ হিসেবে গ্র“প পর্বে ইতালি, উরুগুয়ে এবং কোস্টা রিকার মোকাবেলা করবে।

গুম-খুনের নেতৃত্বে খালেদা: হাসান মাহমুদ

image_80191_0আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, “বেগম জিয়া আগামীকাল নাকি নারায়ণগঞ্জ যাবেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ কে সতর্ক থাকতে বলবো। যিনি নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছেন তার হাতে রক্তের দাগ। তিনি পেট্রল বোমা মেরে শত শত মানুষ মেরেছেন।”

সোমবার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত ‘পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার স্মরণ সভা’য় তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) নিরাপত্তার অজুাতে ২২ বার আদালতে যাননি। তার নিরাপত্তার স্বার্থে আলিয়া মাদরাসা মাঠে তার বিচার হবে। এখন বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে জেলায় জেলায় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন। অজুহাত দিচ্ছেন হত্যা-গুমের। আপনি (খালেদা) তো হত্যা-গুমের নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “র্যা বের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। নৈতিক স্খলনের জন্য পুরো বাহিনীকে যারা বিলুপ্তির পরামর্শ দেন তাদেরও মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তারও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক কিনা।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “এর মধ্যে একটি দূরভিসন্ধি আছে। এটা হলো, বাংলাদেশে যাতে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য তিনি র্যা ব বিলুপ্তির কথা বলেন। কারণ তারা জঙ্গিবাদের লালন করেন।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অনেকগুলো হত্যাকাণ্ড সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। এমনকি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডও। পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে। তাই বলে কি বেগম জিয়া পুলিশও বিলুপ্তি কথা বলবেন? জঙ্গিবাদ নিমূলে র্যা ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরকারের সঙ্গে র্যা বেরও সফলতা আছে।”

জেলায় জেলায় বিক্ষোভের নামে বিএনপি যদি আবারো কোনো বিশৃঙ্খলা করলে এর দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাছান মাহমুদ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনীতি শুরু হয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের মাহফুজ বাবুকে অপহরণ করা হয়। তার লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখান থেকে জেয়াউর রহমান ও তার দলের হত্যা-গুমের রাজনীতি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ২১ হাজার আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যা করা হয়েছে। যারা পেট্রল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তারা এখন হত্যা-গুমের রাজনীতির বিরুদ্ধে বলে। তাদের কথা শুনে মানুষ হাসে।আমাদের লজ্জা হয়। নারায়ণগঞ্জের হত্যাগুমের সঙ্গে বিএনপি জড়িত। এরা সবাই আওয়ামী পরিবারের মানুষ।”

সংগঠনের উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু একাডেমীর আরেক উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাস, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুণ চৌধুরী।

ইঞ্জিনিয়ার জব্বারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

image_81314_0পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের আবেদন গ্রহণ করে আজ এ আদেশ দেয়।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপনের পর তাকে গ্রেফতারের আদেশ প্রার্থনা করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশন টিমের সদস্য জাহিদ ইমাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মামলায় আগামী ২ জুন পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

জব্বারের বিরুদ্ধে গতকাল ট্রাইব্যুনালের রেজিষ্টারের মাধ্যমে ৫টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল ও জাহিদ ইমাম। এর আগে জব্বারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তরকরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন ২৯ এপ্রিল দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। তার বিরুদ্ধে সাক্ষী করা হয়েছে ৪৬ জনকে। এর মধ্যে ৪০ জন ঘটনার এবং ৬ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী ।
জব্বারের বিরুদ্ধে আনীত পাঁচ অভিযোগের মধ্যে ১ম অভিযোগে বলা হয়েছে, জব্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ফুলঝড়িতে দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে। এছাড়া নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে।

২য় অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময়সে ফুলঝুড়িতে সে একজনকে হত্যা এবং ৩৬০টি বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে। ৩য় অভিযোগে বলা হয়েছে, নলিতে সে ১১ জনকে গণহত্যা ছাড়াও ৬০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে। ৪ নং অভিযোগে বলা হয়েছে, ফুলঝড়িতে প্রায় দুইশত নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে জব্বার। ৫ম অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জব্বার আঙ্গুলকাটা এবং মঠবাড়ীয়া থেকে ৩৭ জনকে আটক, মালামাল লুণ্ঠন, অপহরণ, নির্যাতন, ১৫ জনকে গুরুতর জখম এবং ২২ জনকে হত্যা করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. হেলাল উদ্দিন গত ২৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জব্বারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ৯৯ পৃষ্ঠার তদন্তের মূল প্রতিবেদনসহ সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণ সমৃদ্ধ ৮টি ভলিয়্যমে আরো ১ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন রয়েছে।

তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য সানাউল হক বলেন, আব্দুল জব্বারের শ্বশুর ছিল স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতা। আর জব্বার ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর সহযোগী মঠবাড়ীয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। বর্তমানে তার বয়স আনুমানিক ৮০ বছর।

তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে-জানতে পেরে এ আসামী বিদেশে পালিয়ে গেছে। সে আমেরিকার ফ্লোরিডায় রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। সেখানে আগে থেকেই তার ছেলে মেয়ে থাকে।

সানাউল হক বলেন, শ্বশুরের হাত ধরেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা ও মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ সংঘটিত করে সে। এলাকায় রাজাকার বাহিনী সংগঠিত করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয় জব্বার। তার নির্দেশেই মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, মেধাবী ছাত্র ও হিন্দুদের হত্যাসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠিত হয়। জব্বার সুন্দরবন উপকূল এলাকার রাজাকারদেও নেতা ছিল।

জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ১৯৮৬ সালে পিরোজপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় জব্বার। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য হয়। ১৯৯১ সালের পর বিএনপিতে যোগ দেয় সে। পরে আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসে জব্বার।

প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

7685c3ce527ef008474d19f07927ca4d20131119প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নদী শাসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি তাদেরকে নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহ অক্ষুণ্ন, নাব্যতার উন্নয়ন এবং বাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণে আরো সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী শাসন, খাদ্য উৎপাদনের জন্য সেচ এবং মাছের চাষ করার জন্য নদী শাসন প্রয়োজন। তবে কোন অবস্থাতেই নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহকে ব্যহত করা যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের উদ্দশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে সারাদেশে বিদ্যমান স্লুইস গেটগুলোর প্রয়োজনীয়তার ওপর সমীক্ষা পরিচালনার এবং বর্তমান সরকারের নদী ড্রেজিং ও নদী শাসন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সংগে আপোষ-আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন নদ-নদীর পানি বনটন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। তিনি বলেন, এরই সূত্র ধরে বাংলাদেশ ও ভারত একটি ফলপ্রসু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আন্তরিক ছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির কারণে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়নি। যা ছিল দুঃখজনক ঘটনা। তবে আমি আশাবাদি, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধার হবে’।
এ অঞ্চলের অভিন্ন নদ-নদীর পানি সম্পদের ব্যবস্থাপনার সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ উদ্যোগে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সূচনা বক্তৃতা করেন। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বীর প্রতিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ, পানি সম্পদ সচিব ডঃ জাফর আহমেদ খান এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রিহ্যাবের কারণে ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে: গৃহায়ণমন্ত্রী

image_81160_0রিহ্যাবের কারণে গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এ কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকার ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে বলেও জানান তিনি।

রোবাবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে রিহ্যাব নেতাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে একথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “রিহ্যাবের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের নির্মিত ফ্ল্যাট কিনতে পারছেন না। তারা ক্ষেত্র বিশেষে ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বর্গফুট প্রতি মূল্য নির্ধারণ করছেন।”

রিহ্যাব সভাপতি মোকাররম হোসেন বলেন, “ঢাকা শহরের উত্তরা ও কামরাঙ্গীর চরে মালয়েশীয় সরকারের সাহায্যে ২২ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ না করিয়ে তা রিহ্যাবের মাধ্যমে করানো সম্ভব। কারণ দেশী প্রতিষ্ঠান দিয়ে দিয়ে কাজ করালে বিষয়টি আরো ভালো হবে। রিহ্যাব বর্তমানে দেশেই আন্তর্জাতিকমানের ভবন নির্মাণ করছে।”

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, “সরকারি অনেক জমি রয়েছে যা বেহাত হয়ে যাচ্ছে। দেশে এখনো অনেক জমি রয়েছে যেখানে রিহ্যাব জনসাধারণের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করতে পারবে। এ জন্য তাদের দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “পূর্বাচলে ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে। এখানে কাজ করার জন্য রিহ্যাবকে বলা হয়েছে।” এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন তিনি।

রিহ্যাব নেতারা জানান, তাদের বিভিন্ন প্রকল্প পাসের জন্য রাজউকসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক সময় লাগে।

এজন্য তারা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা, অবিকৃত প্রায় ২২ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য সহজ শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ছয় ভাগে নামিয়ে আনারও দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে আর পিছিয়ে নেই : খাদ্যমন্ত্রী

kamrul_1খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আর তথ্য প্রযুক্তিতে পিছিয়ে নেই। বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ করার ফলে দেশ আজ তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ৪ দলীয় জোট সরকার বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে অসম্মতি জ্ঞাপন করে বিদেশীদের বলেছিলেন, এদেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি বুঝতেন যে তথ্য-প্রযুক্তি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেয়া যায় না, তাহলে এ ভুল তিনি করতেন না।
তিনি রোববার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্যামা প্রসাদ ব্যাপারী, কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ প্রমূখ।

আজ সারাদেশে ৬৭টি উপজেলায় তথ্য প্রযুক্তির মেলা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ফলে সারাদেশের মানুষ এ বিষয়ে উপকার পাচ্ছে। তিনি বলেন, আগামীতে দেশের সকল বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদে ফাইবার ক্যাবল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের উদেশ্যে বলেন, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন। আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তাদের জানাতে হবে। সরকারের নানা কার্যক্রম বাস্তবয়নের ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ডিজিটাল মেলায় ৩০টি স্টল অংশ নেয়। উদ্বোধন শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘রানা প্লাজায় আহত ৭৭৭ জনকে চাকরি দেয়ার তথ্য বানোয়াট’

image_81190_0বিজিএমইএ’র মাধ্যমে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত ৭৭৭ জন শ্রমিককে চাকরি দেয়ার তথ্যকে সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে অভিযোগ করেছেন রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকরা।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রানা প্লাজা গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে আহত শ্রমিকরা এসব কথা বলেন। ‘আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুসারে ক্ষতিপূরণ নিরাপদ কর্মস্থল ও ক্ষতিপূরণ আইন যুগোপযোগী করাসহ ছয় দফা দাবিতে’ এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলামের কড়া সমালোচনা করে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, “আতিকুল ইসলাম শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। আহত কোনো শ্রমিক বিজিএমইএ’র সহযোগিতায় চাকরি পেয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি আমরা খুঁজে পাইনি।”

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, “যারা গুম-খুন করে তাদের শক্তি এখন অনেক বেশি। সরকারই তাদেরকে মদদ দিচ্ছে। এই সরকার রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কখনই দেবে না। এটা আদায় করতে হলে গণজাগরণ মঞ্চের মতো সব শ্রমিককে একত্রিত হতে হবে।”

তিনি বলেন, “বায়ার, বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তশালীরা রানা প্লাজায় নিহত-আহতদের জন্য কত টাকার সহায়তা দিয়েছেন তার সুস্পষ্ট তথ্য জনসম্মুখে এখনো প্রকাশ করেনি সরকার। শ্রমিকদের এসব ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে শ্রমিকরা জানতে চায়।”

‘সরকারকে শ্রমিক বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “গার্মেন্ট মালিকদের এক হাজার ৮১০ কোটি টাকা উৎস কর মওকুফ করে দিয়েছে সরকার। অথচ বিজিএমইএ রানা প্লাজা বাবাদ ব্যয় করলেন মাত্র ১৪ কোটি টাকা। এতে বুঝা যাচ্ছে মালিকরা শ্রমিকদের শুধু শোষণ নয়, মৃত্যুর পর তাদের লাশ নিয়েও ব্যবসা করে।”

প্রবীণ এই শ্রমিক নেতা বলেন, “বিজিএমইএ ও সরকার বলছে শ্রমিকদের সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু কাকে, কোথায়, কি পরিমাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে শ্রমিকরা কিছুই জানে না। এসব বিষয়ে খুব শিগগিরই তালিকা প্রকাশ করে দেশবাসীকে জানাতে হবে।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইমদাদুল ইসলাম বলেন, “বিজিএমইএ ও সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তারা বলেছেন আহত শ্রমিকদের চাকরি দেয়া হয়েছে। কিন্তু চাকরি পেয়েছে এমন কোনো শ্রমিকের খবর আমরা এখনো পাইনি।”

তিনি বলেন, “বিজেএমইএ’র হায়দার নামে একজন কর্মকর্তা আমাদের বলেছেন, তোমরা হাত-পা কেটে আস, সেগুলো দেখিয়ে তোমাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আমরা আহত হওয়ার পরও তিনি বলছেন শরীরে কোনো অঙ্গ কেটে দেখাতে। তার এই জঘন্য পরামর্শ কি ইঙ্গিত বহন করে তা সরকারের কাছে জানতে চাই।”

রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় পঙ্গু নিলুফা বেগম বলেন, “বিজিএমইএ ও সরকার নিহত ও আহত শ্রমিকদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের এত টাকা গেল কোথায়? কেন সরকার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করছেন না? এসব টাকা তো সরকারের তহবিল থেকে খরচ হবে না। বিভিন্ন বায়ার ও বিভিন্ন সংগঠন এসব টাকা দিয়েছে। তাহলে তারা আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে গড়িমসি করছে কেন?”

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এক বছর চিকিৎসা নেয়ার পর ডাক্তাররা এখন বলছে আমার ডান পা কেটে ফেলতে হবে। এই পা-কে আর সুস্থ করা যাবে না। বাকী জীবন ধুকে ধুকে মরতে হবে আমাকে। শুধু আমি নয় আমার মতো শত শত শ্রমিককে এভাবেই পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে।”

মানববন্ধনে আহত শ্রমিক ও আয়োজক সংগঠনের নেতারা উপস্তিত ছিলেন।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন খালেদা

image_77759_0শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সোমবার রাত সাড়ে আটটায় তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানটি হবে।

একথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

দশ মাসে হিলি স্থলবন্দরে রফতানি আয় ১৯ লাখ ডলার

image_80977_0গত দশ মাসে হিলি স্থলবন্দরে রফতানি খাতে আয় হয়েছে ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৯ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশী টাকায় ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকার সমান। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে বলে হিলি কাস্টমস সুত্রে জানা গেছে।

ভারতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশের সময়-সীমা বাড়ানোসহ রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ ও বন্দরের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো গেলে রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন, হিলি স্থলবন্দর মূলত আমদানি নির্ভর হলেও এ বন্দর দিয়ে কিছু পণ্য রফতানিও হয়ে থাকে। আগের তুলনায় এখানে দিনদিন বাড়ছে ভারতে পণ্য রফতানির পরিমাণ।

এ বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি হয় তার বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্যই ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে। বর্তমানে বন্দরটি দিয়ে চিটাগুড়, তুষের তেল বা রাইস ব্রান ওয়েল, ঝুট কাপর এবং প্লাস্টিকের ঝুড়ি ভারতে রফতানি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমস সহকারী কমিশনার শাকিল খন্দকার বলেন, বন্দরের রাস্তা-ঘাট সম্প্রসাণসহ বন্দরের অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হলে এই বন্দরে রফতানির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

বন্দরের রফতানিকারক শ্যামল কুমার দাস বলেন, পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশের যে সময় সীমা রয়েছে তা আরো বাড়ানো দরকার।

তিনি জানান, রাস্তা সম্প্রসারণ না হওয়ায় প্রায় যানজটের কবলে পড়তে হয় রফতানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক গুলোকে। ফলে ট্রাক প্রতি দিনে দুই হাজার টাকা বিলম্ব ফি দিতে হয়। এতে সময় ও খরচ বাড়ছে।

রফতানির ক্ষেত্রে পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশের সময় সীমা বাড়ানো, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ ও বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এই বন্দর দিয়ে রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।