বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছবি মোবাইলে জুম করে বিপাকে বিজেপি

zoomকী বিড়ম্বনা! দু’বছর আগে ২০১২ সালে ভারতের কর্নাটক বিধানসভাতেই অধিবেশন চলাকালীন মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও দেখে ইস্তফা দিতে হয়েছিল তিন বিজেপি মন্ত্রী। আবার শিরোনামে সেই কর্নাটক বিধানসভাই। তবে এবার অশ্লীল ভিডিয়ো নয়, কর্নাটক বিধানসভায় এক বিজেপি বিধায়ক অধিবেশন চলাকালীন সোনিয়া-কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছবি জুম করে দেখছিলেন। ক্যামেরায় সেই ছবি ধরা পড়তেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিজেপি বিধায়ক প্রভু চহ্বনের কীর্তিতে বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।

বুধবার কর্নাটক বিধায়সভায় আখের দাম বৃদ্ধি নিয়ে একটি জরুরি বিতর্ক চলছিল। ফুটেজে দেখা যায় এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিতর্কে আদপেই মন ছিল না অউরাদের বিজেপি বিধায়ক প্রভু চহ্বনের। অনেকক্ষণ ধরেই নিজের স্মার্টফোনে মন দিয়ে নেট সার্ফিং করছিলেন। দেখা যায় ইন্টারনেটে আসলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নানা মুহূর্তের ছবি জুম করে দেখছিলেন প্রভু। বিজেপি-র জনপ্রতিনিধির ওই কীর্তির ফুটেজ প্রকাশিত হতেই দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

পর্নগেট কেলেঙ্কারির পর বিধানসভায় মোবাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করেছিলেন অনেক স্পিকার। কর্নাটক বিধানসভার স্পিকার কাগোডু থিম্মাপ্পা প্রভু চহ্বনের ব্যাপক সমালোচনা করে বলেন, ‘বিধানসভায় মোবাইলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবা হচ্ছে। সোমবার একটি বৈঠকের পরই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ তবে দলীয় বিধায়কের কীর্তিতে বিজেপি কী পদক্ষেপ করবে, তা এখনও জানা যায়নি।

ধরা পড়ে কী বলছেন প্রভু চহ্বন?

৪৪ বছরের ওই বিজেপি বিধায়কের দাবি, তিনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছবি ইচ্ছে করে দেখেননি।। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ফোনে আমার পরিবারের সঙ্গে মোদিজি ও রামদেবের ছবি দেখছিলাম। সেখানেই প্রিয়াঙ্কার ছবি।চোখে পড়ে। ছবির নীচি কী লেখা রয়েছে, তা পড়তেই আমি ছবিটি জুম করি।’

মাহিদুর ও চুটুর বিচার শুরুর নির্দেশ

tribunalমানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই সঙ্গে আগামী ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে সুচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করে দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়।

মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে গত ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান এ অভিযোগ দাখিল করেন। তাদেরকে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আটক দেখানোর জন্য (শ্যোন অ্যারেষ্ট) প্রসিকিউশনের আবেদন করেছিল। ওইদিন আজ ২৪ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়া এবং শ্যোন অ্যারেন্ট বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মাহিদুর ও চুটুর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত হত্যা ও গণহত্যার সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষি রয়েছেন ২৪ জন। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে তাদেরেকে হাজির করা হয়।

দল নিষিদ্ধের পক্ষে জামায়াত

jamat logoসরকারের কঠোর অবস্থানে চরম বেকায়দায় জামায়াত। যুদ্ধাপরাধে নেতাদের বিচার। দল নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা। জোট ও নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ। একাধিক ইস্যুতে জামায়াত যখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত, তখনই জনমনে আসছে নানান প্রশ্ন। দলের এই চরম দুর্দিনে কি চায় জামায়াত? সরকারের সঙ্গে সমঝোতা? সংঘাত। নাকি নিষিদ্ধ হওয়া? এত সব প্রশ্ন মানুষকে বিভ্রান্ত করলেও এর কোন জবাব মিলছে না। বিভিন্ন সময়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে সমঝোতার বিষয়টি উড়িয়ে দিলেও জামায়াত এ ব্যাপারে নীরব থাকছে। ফলে মন্ত্রীদের বক্তব্য সহজে কেউ বিশ্বাস করতে চাইছেন না।
বিরাজমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আন্দোলন ও দলে সংস্কার প্রস্তাবে বর্তমানে তাদের মধ্যে বিভক্তি থাকলেও সরকারের সমঝোতা প্রস্তাবে তারা রাজি নন। এতে যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধও করা হয় তাতে তাদের আপত্তি নেই। কারণ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন প্রায় ৯৯ ভাগ বয়সে তরুণ। বর্তমানে নেতৃত্বে আসা নতুন নেতাদের সবাই যুদ্ধাপরাধসহ বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের দায় নিতে চাইছেন না। নতুনরা চান কলঙ্কিত জামায়াতের বদলে নতুন দলের নেতৃত্ব। এ নিয়ে দলের ভেতরে চলছে তোলপাড়। এ কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রশমনে জামায়াত এখন ব্যস্ত। এমন অবস্থায় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা তো দূরের কথা, আলোচনারও সময় নেই বলে জামায়াত নেতারা জানান।
জামায়াতের কর্মপরিষদের একাধিক সদস্য জানান, বর্তমানে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষে আন্দোলন ও সংস্কার নিয়ে দলে মতবিরোধ এখন তুঙ্গে। এ কারণে বর্তমান কঠিন সময়ে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় জামায়াত। দলের ভেতরের মতবিরোধ সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের বিশাল অংশ যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে আন্দোলনের পক্ষপাতী নন। এ কারণে সম্প্রতি নেতাদের মুক্তির দাবিতে দেয়া কর্মসূচিতে শিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেননি। বিষয়টি হতাশ করেছে জামায়াতকে। কারণ জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান শীর্ষ নেতাদের মুক্তির আন্দোলনের পক্ষে থাকলেও দলের তরুণ নেতাদের মতবিরোধ তাদেরকে বেকায়দায় ফেলেছে।
সূত্র জানায়, জামায়াতের এমন দুরবস্থার পেছনে মূল কারণ সংস্কার দাবি মেনে না নেয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের ভরাডুবির পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী অভিযুক্তদের নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া, নতুন নামে দল গঠন করাসহ আরও কিছু কর্মপন্থা নিয়ে জামায়াতের তরুণ নেতারা সক্রিয় হন।
সূত্রমতে, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে দাবি আরও জোরদার হয়। তখন থেকেই জামায়াত দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটি ধারায় সিনিয়র নেতারা। তাদের বিরুদ্ধে দেশ স্বাধীনে বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। অপর ধারায় তরুণ নেতারা। তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব দানকারী বিশাল একটি অংশের সবাই ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে এসেছেন। তাই দলের বর্তমান অবস্থায় তারা দায় নিতে চাইছেন না। তারা মনে করছেন দলে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে এ দায় একান্তই তাদের। কারণ বর্তমানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রশিবির থেকে আসা অনেকেরই দেশের স্বাধীনতার সময় জন্ম হয়নি। যাদের জন্ম হয়েছে তাদের বয়স ছিল অল্প। তাই বর্তমান সময়ে এসে তারা যুদ্ধাপরাধের তকমা নিতে রাজি নন। এ জন্য দলের বিশাল এ অংশ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, লোকবল ও নেতৃত্ব সব দিক দিয়ে জামায়াত দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও বড় দল। কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধু যুদ্ধাপরাধের বদনামে দলটি বারবার পিছিয়ে পড়ছে। এখন দলকে এগিয়ে নিতে ও সর্বসাধারণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে তারা সংস্কার চান। এর বাস্তবায়ন একমাত্র নিষিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। এ জন্য তারা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যে নতুন দলের নামও ঠিক করে রেখেছেন তারা। জামায়াত নিষিদ্ধ হলে যাতে অল্প সময়ের মধ্যে নতুন দলের কার্যক্রম শুরু করা যায় তার সব প্রস্তুতি তাদের রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
‘সরকার-জামায়াত সমঝোতা হলে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে’ মন্তব্য করে জামায়াতের কর্মপরিষদের আরেক সদস্য জানান, জামায়াত একাধিকবার সরকারের সমঝোতা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। কারণ আদর্শের দিক দিয়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ একে অন্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি জানান, গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার যে একদম একা হয়ে গেছে জামায়াতকে দেয়া প্রস্তাবে তা আরও পরিষ্কার হয়েছে। জামায়াতের এই নেতা জানান, সরকার তাদেরকে বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে সমঝোতায় আসতে প্রস্তাব দেয়। তাতে বলা হয়েছিল, যেহেতু ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল সংবিধান রক্ষার তাই প্রতিদ্বন্দ্বী দল না পাওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে যেতে পারছেন না। এ ব্যাপারে জামায়াতের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে জামায়াত নেতারা বৈঠকে বসে এ নিয়ে আলোচনা করে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ জামায়াত মনে করে, এমন প্রস্তাবে রাজি হলে তাতে সরকারই বেশি লাভবান হবে।
তাদের মতে, একতরফা নির্বাচনের পর ঘরে-বাইরে সরকারের যে অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে তাতে ক্ষমতায় টিকে থাকা সরকারের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই সরকার চায় নির্বাচনে বিএনপিকে বাদ দিয়ে তাদের প্রয়োজন এমন একটি দল যারা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারবে না। এদিক দিয়ে সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতই উপযুক্ত দল। কারণ জামায়াত এ মুহূর্তে নির্বাচনে গেলে সরকার গঠনের মতো জনসমর্থন পাবে না। কিন্তু সংসদে বিরোধী দল হিসেবে যথাযথ ভূমিকার শক্তি সামর্থ্য তাদের রয়েছে- যা বৈধভাবে একটি সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকতে সহায়ক। এমন ধারণা থেকে জামায়াত তাতে সাড়া দেয়নি। তরুণ এই নেতা জানান, জামায়াত যদি সরকারের এই প্রস্তাবটি মেনে নিতো তবে নেতাদের ভাগ্য অন্যরকম হতো।
জামায়াতের কর্মপরিষদের এক সদস্য জানান, জামায়াতের নেতৃত্ব ধীরে ধীরে এখন নতুনদের হাতে চলে যাচ্ছে। আর কয়েক বছরের মধ্যেই এর পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই চলে আসবে। দলের বর্তমান তরুণ নেতারা এমনটি উপলব্ধি করতে পেরে এখন সংস্কারে উদ্যোগী হয়ে উঠছেন। তারা চান জামায়াত বিলুপ্ত করে নতুন দলের নেতৃত্বে আসতে। তাই এ মুহূর্তে তারা সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় নয়, দলের বিতর্কিত বিষয়গুলোর সুরাহার বিষয়ে অনড়।
তিনি জানান, তারা মনে করছেন সরকার নিজের প্রয়োজনেই জামায়াতকে জীবিত রাখবে। কারণ আওয়ামী লীগের রাজনীতিই হচ্ছে জামায়াত কেন্দ্রিক। এর প্রমাণ ২০১০ সালের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান কারণ বলেও তাদের ধারণা। তার মতে, সরকার যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ ও সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতি টানতে হবে। কারণ এরপর থেকে ঘরে-বাইরে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতির আর কিছু থাকবে না। সম্প্রতি অল্প দিনের ব্যবধানে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় সরকারের অস্থিরতার প্রমাণ মন্তব্য করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছর পর্যন্ত সরকার জনগণকে কোন অর্জন দেখাতে পারেনি। যতটুকু আছে তা হলো কাদের মোল্লার ফাঁসি। এর বাইরে জনসমক্ষে সরকারের কিছু বলার নেই। তাই সর্বশেষে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন জামায়াত নেতাদের রায় নিয়ে সরকার সরব হয়ে উঠেছে।
দলের অপর একটি সূত্র জানায়, বর্তমান অবস্থায় জামায়াত আন্দোলনের চেয়ে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব প্রশমনে ব্যস্ত। এ জন্য গা বাঁচাতে রাজপথের আন্দোলন থেকে তাদের কিছুটা দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০ দলীয় জোটের যে কোন কর্মসূচিতে গা বাঁচিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ বিগত সময়ে জোটের কর্মসূচি পালনে জামায়াত ও শিবির ছাড়া অন্য কোন দল মাঠে ছিল না। এ কারণে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে- যা দল ও জোটের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সূত্র মতে, জামায়াত মনে করে দেশে যদি নির্বাচন হয় আর তাতে ২০ দলীয় জোট যদি সরকারও গঠন করে তাতে জামায়াত খুব একটা লাভবান হবে না। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি এখনও জামায়াতের হয়নি। অন্যদিকে নির্বাচন হলে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে তাতে দু’একটি মন্ত্রিত্ব ছাড়া জামায়াতের বেশি কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিএনপি সব দিক দিয়ে লাভবান হবে। তাই জামায়াত চায় বর্তমান সময়ে বিএনপি শক্তি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করুক। তবে তাতে জামায়াতের সমর্থন থাকলেও নিজেদের প্রাণ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা জানান, চলমান আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরের দুই নেতা শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীর দ্বন্দ্ব আন্দোলনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নগর ছাত্রশিবিরের একটি সূত্র জানায়, এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের সাজার রায়কে ঘিরে নগরীতে জোরদার আন্দোলন করা যায়নি। তাই ছাত্রশিবিরের একটি অংশ শামসুল ইসলামের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষুব্ধ। ফলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিবির অংশ নেয়নি। এছাড়া, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর আন্দোলনে শিবির কর্মীদের প্রাণহানির ঘটনায়ও শিবির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দলের কিংবা ইসলামী আন্দোলনের জন্য এমন প্রাণহানি হলে কথা ছিল না। কিন্তু একজন ব্যক্তির জন্য এমন প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এখন থেকে দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের কোন কর্মসূচি ছাড়া জামায়াতের ডাকা কর্মসূচিতে শিবির অংশ নেবে না।
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতকে প্রথম সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে এর মধ্যে শর্ত ছিল সংস্কারের। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে তাদেরকে বাদ দিয়ে আমীর নির্বাচনের শর্ত দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দলের নির্বাহী সদস্য মীর কাসেম আলীকে আমীর হওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ সময় মীর কাসেম সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তরুণ নেতারা কাসেমের পক্ষে সায় দেন। এ নিয়ে রাজধানীর বিজয় নগরে একটি মিটিংও হয়েছিল। এতে দলের অপর নেতা মুজাহিদ ও নিজামীদের সঙ্গে মীর কাসেমের দূরত্ব তৈরি হয়। এই সংস্কার ইস্যুতে সে বছর ছাত্রশিবিরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভাঙন হয়। তখন সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির ৪২ জনের ২৬ জনই পদত্যাগ করেন।
কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিলে পরে সবাই মীর কাসেমের পক্ষ ত্যাগ করেন। এ ইস্যুতে মুজাহিদসহ নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য মীর কাসেমকে দল থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগী হন। বিভক্তি এড়াতে সে সময় নিজামী সতর্ক করেন মীর কাসেমকে। এ ঘটনার পর সে বছরের ২৯শে জুন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সরকার থেকে সংস্কার বিষয়ে মীর কাসেমকে চাপ প্রয়োগ করা হলে তিনি আরও সময় চান। এরপর দীর্ঘ চেষ্টায় দলের সিনিয়রদের বিপরীত অবস্থানে তিনি ব্যর্থ হলে দুই বছর পরে তাকেও আটক করা হয়।
এদিকে দলের তরুণ নেতাদের দাবির বিষয়ে জামায়াতের আরেক নেতা ভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। সংস্কারবিরোধী প্রবীণ এই নেতা জানান, যুদ্ধাপরাধের বিচারের অন্যতম লক্ষ্যই হলো জামায়াতকে ধ্বংস করা। ফলে সহিংসতা ও নাশকতার কোন বিকল্প নেই। তার মতে, বর্তমান সরকারকে এ প্রক্রিয়ায় উৎখাত করা গেলে জামায়াত আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, জামায়াতে দ্বিমত পোষণকারীদের স্থান নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের সামান্যতম প্রকাশ্য বিরোধিতায় বহিষ্কার অবধারিত। অন্যদিকে উদারপন্থিদের সংস্কার প্রস্তাবকেও তিনি দলের জন্য তাৎপর্যহীন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নতুনরা দল নিষিদ্ধ ও সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তাদের বিষয়ে প্রবীণদের সমর্থন নেই। তারপরও যদি তারা জামায়াতকে বাদ দিয়ে নতুন করে কিছু করেন তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না।
এদিকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জোটের সঙ্গেও জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে দলের আরেক নেতা জানিয়েছেন। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের পরেও বিএনপি তেমন সরব না হওয়ায় জোটের সঙ্গে জামায়াতের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির জামায়াতবিরোধী একটি গ্রুপ জামায়াতকে বয়কটের ব্যাপারে দলের অভ্যন্তরে চাপ অব্যাহত রেখেছে। দলের চেয়ারপারসনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন বা যে কোন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে এবার বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হলে খালেদা জিয়া জামায়াতবিরোধী অংশের নেতাদের ভর্ৎসনা করেন। খালেদা মনে করেন, দলের যে কোন কর্মসূচি সফলে জামায়াতের বিকল্প নেই। কারণ এর আগে জোটের মাসব্যাপী অবরোধ কর্মসূচিসহ বড় কর্মসূচিতে একমাত্র জামায়াত ও ছাত্রশিবির মাঠে ছিল। তাই সরকারবিরোধী যে কোন আন্দোলনে জামায়াত ছাড়া সফলতা সম্ভব নয় বলেও বৈঠকে খালেদা মন্তব্য করেন। এ জন্য বিএনপির স্বার্থে যে কোন ভাবে জামায়াতকে সঙ্গে রাখার পক্ষে তিনি তার অবস্থান জানিয়ে দেন।

উদ্ধার হলো ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকার

tankarঅবশেষে উদ্ধার হলো সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকারটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ‘খান জাহান আলী স্যালভেজ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে জয়মনি ঘোলার কাছে টেনে নিয়ে যায় উদ্ধারকারী জাহাজ।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যায়। ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় ট্যাংকারের মাস্টার মোকলেসুর রহমান (৫০) নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র।

(জাস্ট নিউজ/প্রতিনি

২০ বছর পর ঢাকায় ইন্দ্রাণী হালদার

indrani২০ বছর পর ঢাকায় আসলেন কলকাতার অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার। সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রদর্শনী দেখতেই তিনি ঢাকায় আসেন। কিন্তু প্রদর্শনী তো কলকাতা শহরেরও রোজ গোটা কয়েক হয়ে থাকে। তবে ঢাকায় তিনি শুধুমাত্র এক প্রদর্শনী দেখতে আসলেন কেন?

ইন্দ্রাণী বলছেন, হ্যাঁ শুধুমাত্র এটি দেখতেই এসেছি। এমনটাই কথা ছিল। ২০ বছর পর ঢাকায় এসেছি। আগের চেয়ে  শহরের চেহারা অনেকটাই পালটে গেছে। কথা দিয়েছিলাম পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন ‘বাদী বন্দার রূপকথা’র প্রদর্শনী উদ্বোধন করতেই আসব। নিজে চোখে এসে প্রদর্শনীটি দেখে যাব। কথা রেখেছি।

ইন্দ্রাণী আরও বলছেন, এটা একটা বিশ্বমানের কাজ। কত দর্শক শুনলাম টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন।

হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলনের অবসান!

honkonkহংকং শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে শুরু করেছে সেদেশের কর্তৃপক্ষ। গণতন্ত্রের দাবিতে ২ মাস ধরে হংকং কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থান করছিল আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্প ভেঙ্গে ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়ার কাজ শুরু করা হয়। তবে এখনো কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

অভিযান চলার সময় সবাইকে স্থান ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করে দেয়া হলেও এখনো অনেকেই ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে আন্দোলন শুরুর সময় সেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েও এখন সেই সংখ্যা মাত্র কয়েকশতে নেমে এসেছে।

হংকংয়ে গণতন্ত্রের দাবিতে এতোদিন ধরে যে আন্দোলন চলছিল এই অভিযানের মাধ্যমে সেটির অবসান হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৭ সালে হংকংয়ে নেতৃত্ব পুরোপুরি ভোটের মাধ্যমে হতে হবে। তবে চীন বলছে, সবাই ভোট দিতে পারবে, কিন্তু নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করবে একটি নির্দিষ্ট কমিটি।

কিন্তু সেই কমিটি বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রিত হবে বলে আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা করছে।

৩ ছাত্রী নিহতের ঘটনা বাসচালকসহ আরো গ্রেফতার ৩

bus acciরাজশাহী কলেজ বাসের সঙ্গে অপর বাসের সংঘর্ষে ৩ ছাত্রী নিহতের ঘটনায় এক চালকসহ আরো ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইসলাম পরিবহনের চালক আব্দুল বাতেন (৪৫), তার সহকারী ইমরান হোসেন (২৭) এবং কলেজ ছাত্রীদের বহনকারী লাকি পরিবহনের চালকের সহকারী ইজাবুল (৪৫)।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাসটার্মিনাল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে বাস দুর্ঘটনায় ছাত্রী নিহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাকি পরিবহনের চালক আব্দুল রাজ্জাককে (৪৫) নগরীর মেহেরচ-ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে বুধবার তিনি জামিনে মুক্তি পান।

প্রসঙ্গত, ৭ ডিসেম্বর রাজশাহীর কাটাখালীতে রাজশাহীগামী ইসলাম পরিবহনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে রাজশাহী কলেজের ৩ ছাত্রী নিহত এবং ১৩ জন আহত হন।

পরে পুলিশের এসআই বাকী বিল্লাহ মতিহার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে ২ বাসের চালক ও তাদের সহকারীদের মামলার আসামি করা হয়।

টুইটারে জনপ্রিয় রোনালদো

ronaldooঅ্যাথলেট হিসেবে মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটারে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সামাজিক সেই বলয়ে তিন কোটিরও বেশি (৩১.৬ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের। এরপর তালিকার দুই নম্বরে আছেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার কাকা। ২১.৫ মিলিয়ন অনুসারী সাবেক এসি মিলান কিংবদন্তির।

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় যে আলোচিত সেরা দশ অ্যাথলেটের মধ্যে নাম নেই বার্সেলোনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির। রোনালদো কাকার পর টেবিলের তিন নম্বরে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস। মিয়ামি হিটসের পক্ষে খেলা এই তারকার টুইটার অনুসারীর সংখ্যা ১৬.৬ মিলিয়ন।

এরপর তালিকার বাকি দশ অ্যাথলেট হলেন- বার্সেলোনার ব্রাজিল জাত ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। তালিকার চার নম্বরে থাকা সেলেসাও তারকার অনুসারী ১৫.৫ মিলিয়ন। পাঁচ নম্বরে থাকা রোনালদিনহোর অনুসারী সংখ্যা ১১.১ মিলিয়ন। টেবিলের বাকি পাঁচ তারকা হলেন- ইংল্যান্ডের ওয়েন রুনি, স্পেন ও বার্সেলোনার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে, কেভিন ডুরন্ট ও জাভি আলোনসো।

ক্লাব হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে আলোচিত নাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এরপর যথাক্রমে আর্সেনাল, লিভারপুল, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে গেল গ্রীষ্মে রিটুইট পাওয়া সবচেয়ে আলোচিত অ্যাথলেট হলেন লিভারপুলের ইতালিয়ান স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি। আজ্জুরি তারকা গেল বিশ্বকাপের সময় বলেছিলেন, আমরা যদি কোস্টারিকাকে হারাতে পারি তাহলে রানির গালে চুমু খেতে চাই আমি।’ ‘ব্যাড বয়ে’র এই টুইটে ১ লাখ ৭২ হাজার রিটুইট পড়েছিল।

বাবাকে হত্যা করা হয়েছে : সংবাদ সম্মেলনে কাদের মোল্লার ছেলের অভিযোগ

kader mollaমানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বড় ছেলে হাসান জামিল অভিযোগ করে বলেছেন, আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। কাদের মোল্লার মৃত্যুদ- কার্যকরের এক বছর উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের করে তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে হাসান জামিল বলেন, সরকার ফাঁসি কার্যকরের নামে বাবাকে হত্যা করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আবদুল কাদের মোল্লা যথেষ্ট আইনি সুযোগ পাননি। আমার বাবাকে হত্যার ৩৪৮ দিন পর আপিল বিভাগ থেকে দায়ের কার রিভিউ আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

তিনি বলেন, ওই রায়ে রিভিউ মেইনটেইনেবল বলে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন। অথচ বাবা তা জেনে যেতে পারলেন না।

সংবাদ সম্মেলনে কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইদুর রহমান, এডভোকেট রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৭০ কিমি এলাকাজুড়ে তেল, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

tankarশ্যালা নদীর আশপাশের নালা-খালগুলোতে ভাসছে তেল। বনের গাছের গায়ে তেলের কালো দাগ। বিস্তীর্ণ এলাকার যেদিকে চোখ যায় ফার্নেস অয়েলের ঘন কালো আস্তরণ।

শ্যালা নদীর শাখা-প্রশাখা ও অসংখ্য ছোট-বড় খালে ঘোলা পানির পরিবর্তে দেখা গেছে ঘনকালো ফার্নেস অয়েলের আস্তরণ। ট্যাংকার ডুবির পর তিনটি জোয়ারের ফলে প্রায় ৭০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে শ্যালা নদীর শাখা-প্রশাখা দিয়ে এ তেল প্রবেশ করেছে সুন্দরবনের গভীরে। যা জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

সরেজমিন বুধবার বিকেল নাগাদ সুন্দরবনের জয়মনি, বেলতলা, নন্দবালা, আন্ধারমানিক, মৃগমারী প্রভৃতি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। নদীতে তেলের আস্তরণের পাশাপাশি এর শাখা-প্রশাখায় এবং শাখা-প্রশাখা থেকে উৎপন্ন ছোট-বড় অসংখ্য খালে তেলের আস্তরণ দেখা গেছে।

ট্যাংকার ডুবির পরপরই তা থেকে ছড়িয়ে পড়ে তেল। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক কার্ত্তিক চন্দ্র সরকার বলেন, ট্যাংকার ডুবির পর তিনটি জোয়ার হয়েছে। এতে অন্তত ৭০ কিলোমিটার এলাকা তেল ছড়িয়ে  পড়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হুসাঈন চৌধুরী বলেন, বিশ্বে ইরাবতী ডলফিনের (শুশুক) সবচেয়ে বড় বিচরণক্ষেত্র সুন্দরবন। শ্যালা নদীসংলগ্ন এলাকা এ জলজ প্রাণির ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষিত। কিন্তু ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় মৃগমারী-নন্দবালা-আন্ধারমানিক ডলফিনের অভয়াশ্রম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এখান থেকে ডলফিনের বসতি সরে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পানিতে দ্রবীভূত অঙিজেনের মাত্রা কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ডলফিনসহ অন্য জলজ প্রাণী অঙিজেন সঙ্কটে পড়বে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হবে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় সুন্দরী গাছসহ জলজ সম্পদ।

স্থানীয় লুৎফার রহমান ও তপন কুমার বলেন, জীবিকার জন্য মাছ শিকার করি। কিন্তু মঙ্গলবার সামান্য মাছ শিকার করতে পারলেও বুধবার নদীর সর্বত্র কালো তেল থাকায় আর মাছ শিকার করা সম্ভব হয়নি। মরা কিছু মাছ জালে ভেসে উঠেছে। বিষাক্ত বলে তা আবার নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে জয়মনির ঘোল এলাকায় সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। এরও আগে ১২ সেপ্টেম্বর পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া এলাকায়ও ক্লিংকারবাহী আর একটি কার্গো ডুবে যায়।