মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

নির্বাচনের জন্য আইনগতভাবে উপযুক্ত বাবর

অস্ত্র মামলার ১৭ বছরের কারাদণ্ড থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে আদালত বলেছেন, অস্ত্র উদ্ধার, আটক এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার পুরো বিষয়টি ছিল কারসাজি। আর এই কারসাজির প্রধান ভিকটিম (ভুক্তোভোগী) হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে বাবরের আপিল মঞ্জুর করে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেন।
হাইকোর্টে বাবরের আপিলের শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সুলতানা আক্তার রুবী।

রায়ের পর আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ের মধ্য দিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে আর কোনো সাজা থাকল না।
নির্বাচন থেকে শুরু করে সব কিছুর জন্য তিনি এখন আইনগতভাবে উপযুক্ত। আমরা আশা করব, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে তিনি পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।’

মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় এই মামলা হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর তার বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছিল।
যেদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তার সাত দিন পর মামলা করা হয়েছে।’

হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, এই মামলাটি করার যে প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়াটিই ছিল অবৈধ। এ জন্য মামলার প্রক্রিয়াটিই অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আর যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাবরকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেইসব সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, একজনের সাক্ষ্যের সেঙ্গে আরেকজনের সাক্ষ্যের কোনো মিল নেই। এগুলোর সবই ছিল এক-এগার সরকারের কারসাজি।
এই কারসাজির প্রধানতম ভিকটিম (ভুক্তভোগী) ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর।’ এই মামলায় বাবরের আটকাদেশকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন বলেও জানান আইনজীবী শিশির মনির।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ২৭ মে যৌথ বাহিনী লুৎফুজ্জামান বাবরকে বাসা থেকে আটক করে। পরদিন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের ৭ দিন পর, অর্থাৎ ৩ জুন বাবরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ও ১৯ (চ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন গুলশান থানার এস আই হেলাল উদ্দিন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের দিন রাত সাড়ে ৯টায় যৌথ বাহিনী ও গুলশান থানা পুলিশ বাবরের বাসায় তল্লাশি চালায়। ওই তল্লাশি অভিযানে রিভলভার, পিস্তল, রাইফেল ও শটগান জব্দ করা হয়। এসব অস্ত্রের লাইসেন্সের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তার স্ত্রী ৩টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেখালেও রিভলবারেরটি দেখাতে পারেননি। এর ২০ দিন পর ২০০৭ সালের ২৩ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা বাবরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগ গঠনের পর বিচার শুরু হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৯ বাবরকে অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(চ) ধারায় ৭ বছর সর্বমোট ১৭ বছরের সাজা ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালেই হাইকোর্টে আপিল করেন বাবর, যার ওপর শুনানি শেষে খালাসের রায় দিলেন উচ্চ আদালত।

গত বছর ১ ডিসেম্বর ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে বাবরকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা তেকেও তাঁকে খালাস দেওয়া হয়। এই মামলাতেও তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আর দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় অস্ত্র আইনের আরেক মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। এই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

কাজ না করেই কুসিক ঠিকাদারের বিল উত্তোলন, দুদকের অভিযান

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগে’ তার কার্যক্রমের সকল ফাইল তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বুুধবার (১৯ মার্চ) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মাসুম আলীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত দল কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কাজের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে এসব তথ্য অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালনা করেন। টিমের অপর দুই সদস্য হলেন, কুমিল্লা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) সহকারী পরিচালক মো. তারিকুর রহমান ও কনস্টেবল মামুনুর রশিদ।

এদিকে, দুদুকের অভিযানের খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষের সামনে হাজির হলে কক্ষের দরজার বন্ধ দেওয়া হয়।
পরে প্রায় ৪০মিনিট পর গণমাধ্যম কর্মীদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুল আলম।

কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স এলাকার ব্যবসায়ী এনএস গ্যালারির স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম সাবেক এমপি বাহারের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত ছিলেন। এমপি বাহার সাইফুল ইসলামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন টেন্ডার ভাগিয়ে কাজ করাতেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মাসুম আলী জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা কার্যালয় নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত দল তথ্য অনুসন্ধানে এসেছি।
আমরা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাগজপত্রগুলো চেয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করছি।

তিনি আরো জানান, ২২-২৩ অর্থবছরে সাইফুল ইসলাম ১০ টির মত টেন্ডার পেয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্যমান ৫৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ২৩-২৪ অর্থবছরে তিনি টেন্ডার পেয়েছেন ২১টির মত অনেক ১৭২ কোটি টাকা।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল তিনি কাজ নিজে না করে বা অন্যকে দিয়ে করিয়ে বিল উত্তোলন করেছেন। আমরা যে আইডিগুলো পেয়েছি সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন ঢাকা অফিসে পাঠাবো। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে পরবর্তী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম সে অনুযায়ী নেওয়া হবে। গণমাধ্যম কমীদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ইজিবিতে করা হয় কোন নথি পরিবর্তন সিস্টেম নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার শামছুল আলম জানান, দুদক আমাদের কাছে যেসব তথ্য চেয়েছেন আমরা সেসব তথ্য দিয়েছি।
সকল তথ্য ও প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে রয়েছে তারা যা যা চান সকল তথ্যই পাবেন। দুদকের কার্যক্রম নিয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন তারা। আলোচনাকালে সেনাপ্রধান তার সাম্প্রতিক সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়ন ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সেনাপ্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও প্রধান উপদেষ্টাকে জানান সেনাপ্রধান।

এ ছাড়া সদ্য সমাপ্ত বিবিধ বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের সুবিচার নিশ্চিতকরণ বিষয়ে উচ্চপদস্থ পর্ষদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং নানা কারণে চাকরিচ্যুত জেসিও ও অন্যান্য পদবির সেনা সদস্যদের চলমান উচ্চপদস্থ পর্ষদের অগ্রগতির বিষয়ে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

জাগপার নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ : হাইকোর্ট

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৯ মার্চ) নিবন্ধন বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে জাগপার পক্ষে শুনানি করেন দলটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাসমিয়া প্রধান নিজেই শুনানি করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে বলে জানান তাসমিয়া।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে জাগপাকে নিবন্ধন দিলেও ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দলটির নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। নিবন্ধন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে পরে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানির পর নিবন্ধন বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল দেন।
চূড়ান্ত শুনানির পর সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিলেন উচ্চ আদালত।

পুলিশের কল্যাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা পুলিশের কল্যাণে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, কর্ম সম্পাদনের ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা পুলিশকে শ্রেণিভুক্ত করে যাদের কর্মদক্ষতা অপেক্ষাকৃত কম, তাদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ১৭ মার্চ একটি সভায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা।
সেদিন অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা তাদের সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে জানান। এসব সমস্যা সমাধানে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে আজ সভা হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা তৃণমূল পর্যায়ে যে সব পুলিশ কাজ করেন তাদের কল্যাণে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনাগুলো হলো– ঝুঁকি ভাতার প্রচলিত সিলিং তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা।
পুলিশের জন্য নতুন ৩৬৪টি পিকআপ এবং ১৪০টি প্রিজনার ভ্যান কেনার উদ্যোগ নেওয়া। পুলিশের চলমান নির্মাণ প্রকল্পের যেগুলোর কাজ ৭০ শতাংশের নিচে সম্পাদিত হয়ে আছে সেগুলোতে অর্থ ছাড় করা। ভাড়াকৃত ভবনে অবস্থিত ৬৫টি থানার জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ ছাড় করা।

পুলিশের এসআই ও এএসআই র‍্যাংকের মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণের বিষয়টি বিবেচনা করা।

নতুন দায়িত্ব পেলেন নওশাবা

দেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ কাজী নওশাবা আহমেদ আরো একটি নতুন দায়িত্ব পেলেন। প্রাণিকল্যাণ, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার দূত হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী। এখন থেকে বন্য প্রাণীর অধিকার সংরক্ষণে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করবেন নওশাবা।

অভিনয়ের পাশাপাশি দেশের নানা ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ।
শুধু তা-ই নয়, পশু-প্রাণীদের প্রতিও সহানুভূতিশীল তিনি। তারই অংশ হিসেবে সর্বশেষ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যা করার ঘটনাতেও সোচ্চার ছিলেন এই অভিনেত্রী। নতুন খবর হলো, প্রাণিকল্যাণ, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় একটি প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার দূত হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৭ মার্চ) ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের (ডিইএসসিএফ) ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, ‘অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী কাজী নওশাবা আহমেদ আমাদের সংস্থার সঙ্গে ‘অ্যাম্বাসাডর ফর ওয়াইল্ডলাইফ’ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। প্রাণিকল্যাণ, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার সংবেদনশীলতা সবারই জানা।’

ফেসবুক পেজটিতে আরও বলা হয়, ‘এই যাত্রায় আমরা তার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করব। তার হাত ধরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেব বন্য প্রাণীর প্রতি ইতিবাচকতার ধারণা।

এ প্রসঙ্গে কাজী নওশাবা আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো প্রাণের প্রতি আমার সহমর্মিতা আছে। ডিইএসসিএফ বন্য প্রাণী নিয়ে কাজ করে বলে আমি ওদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। শৈশব থেকেই আমি প্রাণের প্রতি সদয়। এখনো দেখা যাচ্ছে, কত বন্য হাতি মারা যাচ্ছে, হাতিদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, অকারণে মানুষ সাপ মেরে ফেলছে, এসব আমাকে পীড়া দেয়। বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে আমি আওয়াজ তুলেছি।
প্রাণীর জীবন রক্ষা করতে মানুষের মধ্যে আমি সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চাই। সংস্থাটি অনেক দিন ধরে আমাকে অনুসরণ করতো। তারা আমাকে তাদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালে আমি সাড়া দিয়েছি। আশা করি সামনে আরো ভালো কাজ করব।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পীকল্যাণ ট্রাস্ট ও চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। দায়িত্বের মাঝে অভিনয়ও সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ নুহাশ হুমায়ুনের ওয়েব সিরিজ ‘২ষ’-এর নতুন পর্ব ‘অন্তরা’য় দেখা গেছে তাকে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পুলিশকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক আলোচনাসভায় প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, কর্ম সম্পাদনের ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা পুলিশকে শ্রেণীভুক্ত করে যাদের কর্মদক্ষতা অপেক্ষাকৃত কম, তাদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

গত ১৭ মার্চ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সভায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা। সেদিন অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা তাদের সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে জানান। এসব সমস্যা সমাধানে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে আজ সভা হয়।

আলোচনাসভায় প্রধান উপদেষ্টা তৃণমূল পর্যায়ে যেসব পুলিশ কাজ করে তাদের কল্যাণে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনাগুলো হলো ঝুঁকি ভাতার প্রচলিত সিলিং তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। পুলিশের জন্য নতুন ৩৬৪টি পিকআপ এবং ১৪০টি প্রিজনার ভ্যান কেনার উদ্যোগ নেওয়া। পুলিশের চলমান নির্মাণ প্রকল্পের যেগুলোর কাজ ৭০ শতাংশের নিচে সম্পাদিত হয়ে আছে সেগুলোতে অর্থ ছাড় করা। ভাড়াকৃত ভবনে অবস্থিত ৬৫টি থানার জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ ছাড় করা।

পুলিশের এসআই ও এএসআই র‍্যাংকের মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণের বিষয়টি বিবেচনা করা।

জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সহায়তায় ২০ লাখ ইউরো দেবে ইইউ

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ৮ হাজার জনকে সহায়তা দিতে একটি প্রকল্প চালু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি বুধবার (১৯ মার্চ) চালু হয়েছে। এতে সহায়তা করবে বাংলাদেশ সরকার।

‘দ্য পাথওয়েজ টু হিলিং : এ সারভাইভার সেন্ট্রেড অ্যাপ্রোচ টু অ্যাড্রেস ভায়োলেন্স অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনস’ প্রকল্পে ২০ লাখ ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে ইইউ।
২০২৬ সালের আগস্টের আগ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের শারীরিক, মানসিক উন্নতি ও সুস্থতার জন্য এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সামাজিক সংহতি জোরদার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে এই অর্থ খরচ করা হবে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যত দিন এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে, তত দিন এটা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া যারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হবে, তাদের সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করা হবে। আক্রান্তদের ঔষধজাত পণ্য, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া উপার্জন খাতেও বৈচিত্র্য আনতে সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাস।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

গত বছরের অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র, শ্রমিক, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারসহ অন্যদের এই সহায়তা দেওয়া হবে। ইইউ দূতাবাস জানিয়েছে, ‘সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সহায়তায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এটি অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

আরসা প্রধানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে অবগত নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ থেকে মায়ানমারের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু জুনুনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‍্যাব। তবে আরসা প্রধানকে গ্রেপ্তারের ইস্যুতে কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখনও আসেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বিষয়টি পুলিশকে দেখার কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

আজ বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

সোমবার দিবাগত রাতে আরসার পাঁচ সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরদিন দুই মামলায় তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরসার প্রধান গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আরসা প্রধান গ্রেপ্তার ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের সাথে যোগাযোগ করেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এখনো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

অভিনয়ে পা রাখলেন পঙ্কজকন্যা

বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি। নিজের অভিনয় গুণে জায়গা করে নিয়েছেন মুম্বাইয়ের শোবিজ অঙ্গনে। একসময় হোটেলে কাজ করা পঙ্কজ এখন বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম। এবার তার মেয়েও বাবার পথেই হাঁটলেন।
পা রাখলেন শোবিজ অঙ্গনে।

পঙ্কজ ত্রিপাঠি ও তাঁর স্ত্রী মৃদুলা ত্রিপাঠির মেয়ে আশি ত্রিপাঠি বিনোদন জগতে আত্মপ্রকাশ করলেন। মিউজিক ভিডিও ‘রং ডারো’-এর মাধ্যমে অভিনয়ের দুনিয়ায় পা রাখলেন আশি। মেয়ের নতুন পথচলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পঙ্কজ।
অভিনেতার মতে, তার মেয়ে বরাবরই পারফর্মিং আর্টসের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।

আশির প্রথম মিউজিক ভিডিও দেখে আবেগাপ্লুত পঙ্কজ বলেন, ‘ওকে পর্দায় দেখা আমাদের জন্য সত্যিই বিশেষ ও গর্বের মুহূর্ত। আশি ছোট থেকেই পারফর্মিং আর্টসের প্রতি অনুরাগী ছিল, তাই ওকে প্রথম কাজেই এত স্বাভাবিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে দেখে ভালো লাগছে। যদিও এটা ওর প্রথম কাজ, তবে ভবিষ্যতে ও কতদূর এগোয়, তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।

পঙ্কজের স্ত্রী মৃদুলা ত্রিপাঠিও মেয়ের কাজ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি চাইছিলাম আশি এমন কিছু করুক, যা তার শিল্পীসত্তার সঙ্গে মানানসই হয়। ‘রং ডারো’র মতো প্রাণবন্ত একটি প্রকল্পের অংশ হতে পেরে ও খুব আনন্দিত। পর্দায় ওর অভিব্যক্তি ও আবেগকে জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখা আমাদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি।”

বর্তমানে মুম্বইয়ের এক কলেজে পড়াশোনা করছেন আশি।
অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকায় বাবার পথ অনুসরণ করেই ক্যামেরার সামনে আসার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। সংগীত পরিচালক অভিনব ও কৌশিক যখন তার অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তখন মৃদুলা বিষয়টি পঙ্কজকে জানান। অভিনেতাও মেয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

‘রং ডারো’ মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ করেছে ‘জার পিকচার্স’। এখানে আশিকে একজন মডেলের ভূমিকায় দেখা যায়, যেখানে তিনি এক চিত্রশিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। তার অভিব্যক্তি ও গতি ছবির তুলির টানকেও সুরের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। মৈনাক ভট্টাচার্য ও সঞ্জনা রামনারায়ণের কণ্ঠে গাওয়া এই গানে সুর দিয়েছেন অভিনব ও কৌশিক। ইতিমধ্যেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া ও অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।