সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে আটক কানাডা ক্রিকেট অধিনায়ক

বার্বাডোজ বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন কানাডা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিকোলাস কার্টন। এর পর থেকে তিনি পুলিশি হেফাজতেই আছেন।

কানাডা ক্রিকেট দল কদিন আগে নামিবিয়া সফর শেষে কানাডায় ফিরছিলেন। ওই সময় অধিনায়ক কার্টন এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে গিয়েছিলেন জন্মভূমি বার্বাডোজে।
বার্বাডোজের গ্র্যান্টলি অ্যাডামস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ।

তাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া নিয়ে রিপোর্টের পর, ক্রিকেট কানাডা বলেছে যে তারা ‘এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। বোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ক্রিকেট কানাডা জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিকোলাস কার্টনকে নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং তার আটক সম্পর্কে অবগত হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
ক্রিকেট কানাডা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ব্যাপারে আরো বিশদ তথ্য পাওয়া গেলে জানানো হবে।’

২৬ বছর বয়সী ব্যাটিং অলরাউন্ডার কার্টনকে গ্রেপ্তারের পেছনে গুরুতর অভিযোগের খবর জানিয়েছে জ্যামাইকার দৈনিক ‘দ্য গ্লিনার’। বিমানবন্দরে জব্দ করা ২০ পাউন্ড (৯ কেজির বেশি) গাঁজা সরবরাহের সঙ্গে নাকি কার্টনের সংশ্লিষ্টতা আছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি পুলিশকে এ ব্যাপারে সহায়তা করবেন।

দুঃসময়ে ক্রিকেট কানাডা কার্টনের পাশে থাকবে বলেও জানিয়েছে, ‘ক্রিকেট কানাডা তাদের দলের প্রত্যেককে অকুণ্ঠ সমর্থন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা আমাদের দেশের গর্ব এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে চলছে।’

এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম নর্থ আমেরিকা কাপ। যেখানে বাহামাস, বারমুডা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে কানাডা।

কানাডা ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, আমরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। খেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সততা এবং দায়িত্বশীলতার মান বজায় রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আগামী ১৮ এপ্রিল কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে শুরু হতে যাওয়া নর্থ আমেরিকা কাপের প্রস্তুতি নিয়ে সম্পূর্ণ মনোযোগী।’

কানাডার হয়ে ২১টি ওডিআই ও ২৮টি টি-টোযেন্টি খেলেছেন কার্টন। ওয়ানডেতে ৫১৪ রান এবং টি-টোযেন্টিতে ৬২৭ রান করেছেন। কানাডায় আসার আগে, তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ এবং বার্বাডোসের হয়ে খেলেছেন।

দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দেশটির সাংবিধানিক আদালত এই রায় দেয়। এই রায়ের অর্থ এখন দেশটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। খবর সিএনএনের।

ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট ইওলকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর শুক্রবার আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এখন তার অপসারণ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং তাকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ত্যাগ করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত গত বছরের শেষের দিকে সামরিক আইন ঘোষণার জন্য অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণের রায় দিয়েছে।

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইউন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করেন।
সে সময় তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রবিরোধী এবং উত্তর কোরিয়ার শক্তি সরকারে অনুপ্রবেশ করেছে।

কিন্তু দেশের জাতীয় পরিষদ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পাঠানো ঊর্ধ্বতন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তখনকার প্রেসিডেন্ট ইউন তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিবিদদের আটক করতে এবং তার সামরিক শাসনের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সংসদকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে, ৬৪ বছর বয়সী ইউন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এখনো ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি। তিনি জানুয়ারির ১৫ তারিখে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হন, যদিও মার্চ মাসে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতেও নেই প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান

দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন মার্ক চাপম্যান। কিন্তু ১৩২ রানের ইনিংসটির মুহূর্তটা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটার। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি।

সেই চোটের কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে পারেননি চাপম্যান।
তাকে ছাড়াও অবশ্য টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা। আগামীকাল যখন পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করতে নামবে নিউজিল্যান্ড তখন প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ানকে পাবেন না উইল ইয়ং-ড্যারিল মিচেলরা।

পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় তৃতীয় ওয়ানডে থেকেও ছিটকে গেছেন চাপম্যান। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে যে ৩০ বছর বয়সী ব্যাটারকে পাওয়া যাচ্ছে তা আজ নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
তার পরিবর্তে ডাকা হয়েছে টিম সেইফার্টকে। এতে করে দীর্ঘ ৬ বছরের বেশি সময় পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন সেইফার্ট। টি-টোয়েন্টির নিয়মিত মুখ হলেও ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৩টি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে সিরিজসেরা হয়েছিলেন তিনি। ২০৭.৫০ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২৪৯ রান। এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই তাকে আবারো ওয়ানডে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।

থাইল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা থাইল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সকালের নাশতা করেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে অধ্যাপক ইউনূস বর্তমানে ব্যাঙ্ককে অবস্থান করছেন।
২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাঙ্ককে বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ ছাড়া বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে চলেছে।

জনশূন্য পেঙ্গুইনের দ্বীপেও শুল্ক বসালেন ট্রাম্প!

অ্যান্টার্কটিকার কাছে বরফে ঢাকা, জনশূন্য আগ্নেয়গিরিময় দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে শুধু পেঙ্গুইনদের বাস। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপ থেকে রক্ষা পায়নি এসব দ্বীপ। এসব দ্বীপের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন তিনি।
খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপির।

অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী ভূখণ্ড হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম প্রত্যন্ত অঞ্চল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে নৌকায় সেখানে পৌঁছতে দুই সপ্তাহ লাগে। ধারণা করা হয়, একেবারে জনশূন্য এই দ্বীপে প্রায় এক দশক আগে শেষবার মানুষের পা পড়েছিল।
তবু যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নতুন শুল্কের তালিকায় ‘দেশ’ হিসেবে জায়গা পেয়েছে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ। এর পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো জায়গা নিরাপদ নয়।’

হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের বাইরের আরো কিছু অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের তালিকায় আলাদা করে স্থান পেয়েছে, যেগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।

অস্ট্রেলিয়ার এসব দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সরাসরি স্বায়ত্তশাসিত নয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিশেষ প্রশাসনিক সম্পর্ক রয়েছে।
শুল্ক তালিকায় থাকা অন্য দ্বীপের মধ্যে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ, ক্রিসমাস দ্বীপ ও নরফোক দ্বীপও রয়েছে।

মাস্কের সরকারি পদ ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছিলেন যে ধনকুবের ইলন মাস্ক সরকারি দায়িত্ব থেকে শিগগির সরে দাঁড়াবেন। গত বুধবার পলিটিকো এবং সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ এসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তবে হোয়াইট হাউস এই খবর নাকচ করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই ‘বিশেষ’ খবরকে আবর্জনা বলে মন্তব্য করেছেন।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মূলত ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমাতে বিভাগটি চালু করা হয়েছে। মাস্কের কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীদের মতবিরোধ আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে পলিটিকোর প্রতিবেদনকে ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ইলন মাস্ক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়ই প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ডিওজিইতে তার অবিশ্বাস্য কাজ শেষ হলে মাস্ক একজন বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে সরকারি পরিষেবা থেকে প্রস্থান করবেন।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মাস্ক কোনো একসময় তার কম্পানিতে ফিরে যাবেন

তিনি বলেন, আমি মনে করি তিনি (মাস্ক) বিস্ময়কর। তবে একটি বড় কম্পানি পরিচালনার কাজ করতে হয় তাঁকে। কোনো একসময় তিনি সেখানে ফিরে যাবেন।
’ সূত্র : ডয়চে ভেলে

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছবি তুললেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছবি তুললেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাঙ্ককের একটি হোটেলে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশ ভোজে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছবি তোলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা আজ ব্যাঙ্কক পৌঁছেন।

২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাঙ্ককে বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে আগামীকাল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ডিজঅ্যাবল ক্রিকেটারদের খেলানোর সময় এসেছে কি না প্রশ্ন আকমলের

ঘরের মাঠের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির হতাশা ঘোচাতে নিউজিল্যান্ড সফরে যায় পাকিস্তান। কিন্তু সাদা বলের দুই সংস্করণের সিরিজেই বাজেভাবে পরাজয় দেখেছে তারা। এমন হারের পর স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনা হচ্ছে ক্রিকেটারসহ কোচিং প্যানেলের। বাদ যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে সর্বশেষ দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও হতাশা উপহার দিয়েছেন বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের এমন বাজে ফলের ক্ষোভ পিসিবির সভাপতি মহসিন নাকভির ওপর ঝেড়েছেন কামরান আকমল। পাকিস্তানের সাবেক উইকটেরক্ষক-ব্যাটার জানিয়েছেন, সম্মান থাকতেই নাকভির পদত্যাগ করা উচিত।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এমনটিই জানিয়েছেন আকমল। পাকিস্তানের হয়ে তিন সংস্করণ মিলেয়ে আড়াই শর ওপরে ম্যাচ সাবেক ওপেনার বলেছেন, ‘এটা বিব্রতকর। পিসিবি সভাপতির ভাবা উচিত যে যদি তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। নিজের সুনাম নষ্ট করবেন না।
যদি পদত্যাগ করতে না চান তাহলে বর্তমান দলের উন্নতি করান।’

বিশ্ব ক্রিকেটে সব সময় পাকিস্তানের বোলারা দাপট দেখালেও গত কয়েক বছর ধরে তা পারছে না। এশিয়ার মাঠে বোলারদের জন্য কিছু নেই বলে যারা অজুহাত দেখান তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তাই দিয়েছেন আকমল। পাকিস্তানের বিপক্ষে শারীরিকভাবে অক্ষম ক্রিকেটারদের খেলানোর সময় এসেছে কি না, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তানি বোলাররা যদি এমন উইকেটেও বোলিং করতে না পারে, তাহলে কোথায় পারবে? তাদের দাবি, এশিয়ার মাঠে বোলারদের জন্য কিছু নেই। কিন্তু যে মাঠে থাকে সেখানেও তারা কিছু করতে পারে না।
এখন কি আমাদের বিপক্ষে ডিজঅ্যাবল ক্রিকেটারদের খেলানো উচিত? কোথায় বোলিং করতে হবে আমরা জানি না। এর অর্থ হলো অবশ্যই পরিবর্তন করা উচিত।’

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাইল্যান্ডের দুই মন্ত্রীর সাক্ষাৎ

থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রী বরাভুত সিল্পা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ণ সিন্ধুপ্রাই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাঙ্ককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেন।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য দেন।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা আজ ব্যাঙ্কক পৌঁছান।

২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে আগামীকাল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

ট্রাম্পের শুল্কারোপ ১০০ বছরে বিশ্ববাণিজ্যে বৃহত্তম পরিবর্তন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক হবে। এটি প্রতিফলিত হবে মার্কিন শুল্ক আয়ের গ্রাফের রেখায়, যা এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি—এমনকি বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের উচ্চমাত্রার রক্ষণশীল বাণিজ্যনীতির সময়ও না। এটি প্রকাশ পাবে রাতারাতি শেয়ারবাজারের পতনে, বিশেষ করে এশিয়ায়।
তবে এই পরিবর্তনের প্রকৃত মূল্যায়ন করা যাবে দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে।

মূলত এটি একটি সর্বজনীন শুল্ক, যা শুক্রবার রাতে কার্যকর হতে যাওয়া সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ হারে প্রযোজ্য। এর পাশাপাশি ‘সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের’ জন্য তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক ধার্য করা হবে।

এ ছাড়া এশীয় দেশগুলোর ওপর শুল্কের প্রভাব হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এটি হাজারো প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও সম্ভবত দেশগুলোর পুরো ব্যাবসায়িক মডেল ভেঙে দেবে। বিশ্বের বৃহত্তম কম্পানিগুলোর তৈরি সরবরাহ শৃঙ্খল কিছুক্ষণের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এর অনিবার্য প্রভাব হবে উৎপাদন কার্যক্রম চীনের দিকে সরিয়ে নেওয়া।

তাহলে কি এটি শুধুই একটি বড় কৌশলগত দর-কষাকষি? মার্কিন প্রশাসন তাদের পরিকল্পিত কর হ্রাসের জন্য এই শুল্ক রাজস্ব ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
দ্রুত কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এটি কোনো দর-কষাকষি নয়, এটি একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা।’

নতুন শুল্কনীতির কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পাল্টা শুল্ক’ কাঠামো মূলত যেকোনো দেশকে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দণ্ডিত করছে, যদি সেই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত রাখে, অর্থাৎ আমদানির তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি করে। এমনকি কোনো উদ্বৃত্ত না থাকলেও ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই সিদ্ধান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ করে।
প্রথমত, মার্কিন নীতির লক্ষ্য হলো তাদের বাণিজ্য ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনা। এটি বিশ্ববাণিজ্যের প্রবাহকে সম্পূর্ণ নতুন পথে প্রবাহিত করবে এবং এশিয়াকে বিশেষভাবে শাস্তিমূলক অবস্থানে ফেলবে। দ্বিতীয়ত, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন সম্ভব হয়নি বা কার্যকর হয়নি।

একটি সুস্থ বাণিজ্য ব্যবস্থায় ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত সাধারণ বিষয়, যেখানে দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন দক্ষতা অনুযায়ী বিশেষায়িত হয়ে থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বাণিজ্যিক ভারসাম্যের মৌলিক যুক্তি সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে। কিন্তু কারখানা স্থানান্তর করতে অনেক বছর লাগবে। এশিয়ার ওপর আরোপিত ৩০-৪০ শতাংশ শুল্কের ফলে পোশাক, খেলনা ও ইলেকট্রনিকসের দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী হবে?
কিছু ইউরোপীয় ভোক্তা পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধা পেতে পারে। তবে যখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছে, তখন অন্য বৃহৎ অর্থনীতিগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে পারে।

টেসলার বিক্রির পতন থেকে বোঝা যায়, এটি শুধু সরকারের প্রতিক্রিয়ার বিষয় নয়; বরং ভোক্তারাও এর জবাব দিতে পারেন। এটি হতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক নতুন ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ।

ইউরোপ সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারা আর মার্কিন ব্র্যান্ডের ভোক্তাপণ্য কিনবে না, যা এত দিন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া এই শুল্কবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। ফলাফল হিসেবে বিশ্বব্যাপী একটি বিশৃঙ্খল বাণিজ্যযুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষণটি লিখেছেন বিবিসির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম