রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

পোপের পোশাকে নিজের ছবি দিলেন ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ ক্যাথলিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘পোপ’ হিসেবে কল্পনা করে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন ক্যাথলিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাথলিক কনফারেন্স।

ছবিটি শেয়ার করা হয়েছে হোয়াইট হাউজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে। ছবিটি এমন এক সময়ে সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন ক্যাথলিক বিশ্ব প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে শোকাহত এবং নতুন পোপ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
গত ২১ এপ্রিল মৃত্যু হয়েছে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে সবার নজর এখন ভ্যাটিকান সিটির দিকে। কে হবেন নতুন পোপ তা নিয়েই চলছে নানা জল্পনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত রঙিন ছবিতে দেখা যাচ্ছে। তার ডান তর্জনী আকাশের দিকে তাক করে, সাদা পোশাক, একটি সোনার ক্রুশবিদ্ধ দুল এবং মিটার টুপিসহ পোপের রাজকীয় প্রতীক পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। রসিকতা করে পরবর্তী পোপ হিসেবে নিজেকে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণের কয়েকদিন পর এমন ছবি সামনে এল।

এই ছবি দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাথলিক কনফারেন্স এক্সে লিখেছে, ‘এই ছবিতে কিছুই বুদ্ধিদীপ্ত বা রসিকতা নেই প্রেসিডেন্ট সাহেব।
আমরা আমাদের প্রিয় পোপ ফ্রান্সিসকে সদ্য বিদায় দিয়েছি। কার্ডিনালরা নতুন সেন্ট পিটার-এর উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন। আমাদের বিশ্বাস নিয়ে ব্যঙ্গ করবেন না।’

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি পোপ হতে চাই।’ সেই মন্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই এআই-ছবিটি পোস্ট করা হয়।
পরবর্তী পোপ হিসেবে কাকে দেখতে চান? ওয়াশিংটনে এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মজা করে বলেছেন, ‘আমিই চাইব পরবর্তী পোপ হতে। এটিই হবে আমার এক নম্বর পছন্দ’। এ কথা বলার পরই অবশ্য আসলে কে পোপের দায়িত্ব পেতে পারেন, সে বিষয়ে নিজের মতামত জানান ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আসলে আমার নির্দিষ্ট কোনো পছন্দ নেই। তবে আমাকে বলতেই হচ্ছে, আমাদের একজন কার্ডিনাল আছেন। তিনি খুব ভালো। দেখা যাক কী হয়’।

পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি নির্ধারণে ভ্যাটিকানে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে কনক্লেভ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যাটিকান মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি ট্রাম্পের পোস্ট সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

ইতালির বামপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘এই ছবি বিশ্বাসীদের অবমাননা করে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অপমান করে এবং প্রমাণ করে যে, ডানপন্থীদের এই নেতা সার্কাসে রসিকতা করতেই পছন্দ করেন।’

তবে হোয়াইট হাউজ এই সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন এবং সবসময় ক্যাথলিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।’

সূত্র : বিবিসি

নারীদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ছে : বাঁধন

জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। জুলাই বিপ্লবে সরকার পতন আন্দোলনে ব্যাপক সরব ছিলেন অভিনেত্রী। ছাত্র জনতার পক্ষে রাস্তায় নেমেছিলেন। তবে পট পরিবর্তনের পর অনেকটা নীরব ছিলেন অভিনেত্রী।
পাওয়া যায়নি তেমন খোঁজ। সম্প্রতি আড়াল ভেঙেছেন তিনি। আবারও সরব হয়েছেন। অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের সংস্পর্শে থাকছেন বাঁধন।

শনিবার (৩ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নতুন করে একটি পোস্ট করেছেন এ অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমি বসবাস করি, কিন্তু আমি সেখানে মরতে রাজি নই। আমি এমন পৃথিবী দেখতে চাই না যেখানে অধিকার নির্ধারিত হবে ক্ষমতায় এবং শর্তসাপেক্ষে হবে স্বাধীনতা। আমি এমন ভবিষ্যতে বিশ্বাসী যেখানে প্রতিটা মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে, পছন্দ থাকবে এবং থাকবে নিজেদের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার- যা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।
’

বাঁধনের এই পোস্টে ওঠে আসে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি। বাঁধনের এমন পোস্টের কারণ জানতে দেশের এক সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে। যে কথোপকথনে উঠে আসে বাঁধনের হতাশা ও আক্ষেপের কথা। বাঁধন জানান, এটা শুধু আজকের নয়, তার সব সময়ের উপলব্ধি। এমন সমাজেই বসবাস করে বড় হয়েছেন তিনি।
এ ধরনের পরিবারেই তার বেড়ে ওঠা। নিজের পরিবারকেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একটা অংশ বলে উল্লেখ করেন বাঁধন। এমনকী তার বাবার বিষয়েও অভিনেত্রীর মতামত একই।

নারীদের প্রতি সহিংসতা ও নারী অধিকার নিয়ে বৈষম্য প্রসঙ্গে রাষ্ট্রকেই দায়ী করলেন এ অভিনেত্রী। তার মতে, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়টা সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্রের উচিত, সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখানো। এরপর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা সম্পূরক। নারী সংস্কার কমিশনে যে প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগের সঙ্গে একমত রয়েছেন বলেও জানান বাঁধন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নারী বিদ্বেষ বাড়ছে জানিয়ে বাঁধন জানান, আমরা কোন সমাজব্যবস্থায় বাস করি, সেটার একটা প্রতিপলন এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। মানুষ কী চিন্তা করছে, প্রকাশ্যে বলতে না পেরে অনেকে ফেক আইডি দিয়ে ফেসবুকে লিখছে। মানুষের প্রতি বিদ্বেষ, বিশেষ করে নারীর প্রতি বিদ্বেষ সেটি প্রকাশ করছে। অভিনেত্রী জানান, সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকেও অনেকে বাজে ও কুৎসিত মন্তব্য করেন। তবে তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র হিসেবে এসব প্রমাণ হিসেবেই রেখে দিতে চান।
news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিশেষ সুবিধা না পেয়ে আটকে গেছে ২৪ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন

আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার কোনো শিথিলতা না দেখানোয় দেশের অধিকাংশ ব্যাংক ২০২৪ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারেনি। গত ৩০ এপ্রিল আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার নির্ধারিত সময় ছিল। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টির মধ্যে ২৪টি ব্যাংকের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি।

তালিকাভুক্ত নয় এ রকম ২৫টি ব্যাংকের মধ্যে বেশির ভাগের একই অবস্থা।
মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার প্রকৃত আর্থিক চিত্র দেখানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আরেক দিকে প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় নেওয়া ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারবে না– এমন কঠিন শর্ত দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিবরণী চূড়ান্ত করার সময় এক মাস বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এবার আর কোনো শিথিলতা দেখায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে, বার্ষিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার সময় অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়া হতো। এর ওপর আবার ডেফারেল সুবিধা তথা নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে বাড়তি সময় দেওয়া হতো।

এবার সব দিক দিয়ে কঠোরতার কারণে অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এসবের বিপরীতে প্রভিশন হিসাব করতে হচ্ছে।
পাশাপাশি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে নিয়মিত দেখানো খেলাপি ঋণের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে বলা হয়েছে। আবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য ব্যাংকে আটকে থাকা আমানতের বিপরীতেও প্রভিশন হিসাব করা হয়েছে। যে কারণে বেশিরভাগ ব্যাংক প্রভিশন রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ মার্চ এক নীতিমালায় জানায়, প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া ব্যাংক ২০২৪ সালের জন্য লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এই শর্ত থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে অনেক ব্যাংক।
কোনো কোনো ব্যাংক একবারে এত কঠোরতা না দেখানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফিরেছেন। আজ রবিবার থেকে তিনি অফিস করবেন। আজ আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

দেশে বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ৯টি এবং সরকারি ৯টি। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেবল রূপালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে তালিকাভুক্ত ৩৬টি। এসব ব্যাংকের মধ্যে ২৪টি কোনো না কোনো সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছে।

তবে গভর্নর দেশে না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে কিছুই জানায়নি। কেবল মৌখিকভাবে বলেছে, যথাসময়ে বিবরণী জমা হয়েছে হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে আইন লঙ্ঘনজনিত কোনো জরিমানা করা হবে না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংকের বাইরে বিবরণী চূড়ান্ত না হওয়া বেসরকারি ব্যাংকগুলো হলো– ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা, মার্কেন্টাইল, এনসিসি, ওয়ান, শাহ্‌জালাল ইসলামী, সাউথইস্ট, ইউসিবি, আল-আরাফাহ ইসলামী, স্ট্যান্ডার্ড, প্রিমিয়ার, এক্সিম, আইএফআইসি, এবি, ন্যাশনাল, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ও গ্লোবাল ইসলামী। নতুন প্রজন্মের ইউনিয়ন, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স, এনআরবি কমার্শিয়াল এবং এনআরবি ব্যাংক।

বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে ১২টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এবারও কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আর লভ্যাংশ দিয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক, সিটি, ইস্টার্ন, পূবালী, ডাচ্‌-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ট্রাস্ট, যমুনা, প্রাইম, উত্তরা ও মিডল্যান্ড ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে। মোট ঋণের যা ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় যা ২ লাখ ১৩১ কোটি টাকা বেশি। এখন হিসাব বিবরণী চূড়ান্ত করতে গিয়ে খেলাপি ঋণ আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গত ফেব্রুয়ারি মাসে জানিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে আগামীতে অনেক ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ‘পূর্ণ অধিকার’ দাবি ইরানের

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ইরানের পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে শনিবার মন্তব্য করেছেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পশ্চিমাবিশ্বের উদ্বেগের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাও স্থগিত হয়ে গেছে।

আরাঘচি এদিন এক্স প্ল্যাটফরমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে পরমাণু জ্বালানি প্রস্তুতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনার অধিকার রাখে। এনপিটির বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, অথচ তারা সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র প্রত্যাখ্যান করে।

চুক্তি অনুযায়ী, এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে তাদের পারমাণবিক মজুদ ঘোষণা করতে হয় এবং তা জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর তত্ত্বাবধানে রাখতে হয়। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো বহু দিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে, যদিও তেহরান বারবার বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি একান্তই বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

চলতি বছরের ১২ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসে, যা ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ। এই আলোচনার চতুর্থ দফা শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী ওমান।
দেশটি বলেছে, ‘লজিস্টিক কারণে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যেসব দেশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে, তারা সবাই পারমাণবিক অস্ত্রধারী। ইরানের উচিত এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা।’

ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার অনেক ঊর্ধ্বে, তবে অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মান ৯০ শতাংশের নিচে।

এর আগেও আরাঘচি বলেছিলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ইরানের জন্য অলোচনার বিষয় নয়।

এদিকে আইএইএপ্রধান রাফায়েল গ্রোসি বুধবার বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সহজেই গলিয়ে ফেলা বা ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।’ তবে গত মাসে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ইরানের জন্য একটি ‘লাল রেখা’।

এ ছাড়া রুবিও বলেছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদেরও।

তিনি আরো বলেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি তেহরানের সমর্থনও বন্ধ করা উচিত।
এই বিদ্রোহীদের হামলা ইসরায়েল ও লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করায় যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাহামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে।

তেহরান অবশ্য বলছে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ কেবল পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ঘিরেই হওয়া উচিত। তাদের আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা তারা মানে না।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য চুক্তিতে ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নও বন্ধ থাকতে হবে।’ আরাঘচি এর জবাবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা’ করার অভিযোগ করেন।

আয়ারল্যান্ডের কাছে জায়গা হারাল বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি দলের বার্ষিক র‍্যাংকিং হালনাগাদ করেছে আইসিসি। সেখানে বড় দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ। র‍্যাংকিংয়ের আয়ারল্যান্ডের নিচে নেমে গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

আইসিসি প্রকাশিত নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, বাংলাদেশ নারী দল এক ধাপ নিচে নেমে এখন ১০ নম্বরে রয়েছে।
তাদের পেছনে ফেলে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে আয়ারল্যান্ড। সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজে পরাজিত হলেও, আইরিশ নারীরা টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে এই র‍্যাংকিংয়ে।

আইসিসির র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটটি অবস্থান পূর্বের মতোই রয়েছে। এক নম্বরে অস্ট্রেলিয়া, দুই নম্বরে ইংল্যান্ড এবং তিন নম্বরে ভারত অবস্থান করছে।
চার নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান যথাক্রমে রয়েছে। এদিকে এশিয়ান দল থাইল্যান্ড দুই ধাপ এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে এসেছে, অর্থাৎ বাংলাদেশের পরেই তাদের অবস্থান।

বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার উন্নতিতে সহায়তা করে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা বাচ্চাদের শিক্ষার উন্নতিতে সহায়তা করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা টিমওয়ার্ক ও যুক্তি চর্চা, কথা বলার দক্ষতা ও সাহস বাড়ে এবং তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে তাদের পড়ালেখার আগ্রহ বাড়ে। এটা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।

শনিবার (৩ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ওপর অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। কোভিডে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনেক বাচ্চারা চলে গেছে। প্রাথমিকে যে কারিকুলাম চালু হয়েছে, সেটা অভিভাবকরা গ্রহণ করেননি। সামগ্রিক অবস্থা মিলে প্রাথমিক শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে।
আমরা চেষ্টা করছি মানের উন্নয়ন করতে। আশা করি, শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটলে প্রাথমিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাজীব কুমার সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেপি দেওয়ান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা প্রমুখ।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া শহরের টাউন হল মিলনায়তনে সদর উপজেলাধীন ২৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ হাজার গরিব, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিখনসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উচ্চশিক্ষা না নেওয়ার জন্য আফসোস করছেন সোনম

ছেলে বায়ু কাপুরের জন্মের পর আর অভিনয়ে দেখা যায়নি বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুরকে। ছেলেকে ঘিরেই তৈরি করেছিলেন নিজের জগৎ। এখন স্বামী, সংসার ও সন্তান এই তিন ‘স’-তেই নিজেকে আবদ্ধ রেখেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব তিনি।
নিজের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত থেকে শুরু করে বিশেষ দিনের ছবি, অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেন সোনম।

ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করানোর দিন এগিয়ে আসছে। আর তা নিয়েই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে অভিনেত্রীর কপালে। নিজে কলেজের গণ্ডি পেরোননি।
স্কুল পাস করেই অভিনয় জগতে পথ চলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ছেলের বেলায় কী করবেন মা সোনম!

উচ্চশিক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন সোনম কাপুর। সম্প্রতি ভোগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কোনো দিন কলেজে যাইনি। কিন্তু আমার স্বামী আনন্দ আহুজা, পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি, হোয়ার্টন থেকে পড়াশোনা করেছেন।
তাই কিছু ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ না করার জন্য আক্ষেপ হয়। কিন্তু বায়ুর ক্ষেত্রে এ রকম একেবারেই হতে দেব না। ওর মধ্যে এখন থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।’

স্বামীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোয়ার্টনে গিয়ে সোনম প্রথমবার সত্যিকারের ঈর্ষা অনুভব করেছিলেন বলেও জানান তিনি। বুঝতে পারেন কী অসাধারণ অভিজ্ঞতা মিস করেছেন তিনি।

অভিনেত্রী তার ছেলে বায়ুর জন্য সেরা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চান এবং এ জন্য সঞ্চয় করছেন। তিনি চান বায়ু বই পড়তে ভালোবাসুক, কারণ তার মতে, পড়াশোনা মানুষের মধ্যে সহানুভূতি গড়ে তোলে।

সেই সাক্ষাৎকারে সোনম আরও একটি মজার তথ্য শেয়ার করেন—তাদের ছেলে বায়ু তার মতো বাইরে যাওয়ার আগে বাতাসের মান (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স – AQI) পরীক্ষা করে। তিনি বলেন, AQI খারাপ থাকলে বায়ু ঘরের বাইরে যেতে চায় না, ঠিক তার মায়ের মতোই।

সোনম আরো বলেন, মা হওয়ার পর তার জীবনে নতুন করে বিস্ময় আর আদর্শবাদ ফিরে এসেছে। তিনি স্বীকার করেন, বায়ু জন্মের আগে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করতেন, কিন্তু মা হওয়ার পর সেই আদর্শবাদ ফিরে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই ওর (বায়ুর) জুতায় পা গলিয়ে হাঁটতে—দুই বছরের শিশু কী ভাবে চিন্তা করে, সেটা বুঝতে চাই—যাতে আমি আরো ভালো অভিভাবক হতে পারি।’

উল্লেখ্য, সোনম কাপুরকে সর্বশেষ দেখা গেছে ২০২৩ সালে, ‘ব্লাইন্ড’ সিনেমাতে। তিনি সম্প্রতি বলিউডে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

শাশুড়ির সঙ্গী হয়ে ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন জোবাইদা রহমান

চার মাস পরে আগামী ৫ মে লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান।

আগামী রবিবার (৪ মে) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারা। উড়োজাহাজটি পরদিন সোমবার (৫ মে) সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে।

এর আগে স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন ডা. জোবাইদা রহমান। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৭ বছর। একমাত্র কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছিলেন তিনি।

এদিকে দেশে ফেরার পর ডা. জোবাইদা রহমানের জন্য পুলিশের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান ও জোবাইদা রহমানের মা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একটি মামলা করে দুদক। এই মামলায় জোবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের ওই সাজা স্থগিত হয়।

জোবাইদা রহমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।
পরে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে মেডিসিনে এমএসসি করেন। তিনি চিকিৎসকদের সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ১৯৯৫ সালে চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে লন্ডনে যাওয়ার পর দ্বিতীয় মেয়াদে ছুটি বাড়ানোর পরেও ফেরত এসে চাকরিতে যোগ না দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত করেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জোবাইদা রহমানের জন্ম বাংলাদেশের সিলেট জেলায়। তিনি প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলীর মেয়ে।
মাহবুব আলী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের সময়েও তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী জোবাইদা রহমানের চাচা।

১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে জোবাইদা রহমানের বিয়ে হয়। ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। ২০০৮ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে তিনি স্বামী তারেক রহমানের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আসেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ৩ ভারতীয়র মৃত্যুদণ্ডাদেশ

মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে তিন ভারতীয় নাগরিককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত।

ইন্দোনেশিয়ার একটি শিপইয়ার্ডে কাজ করতেন রাজু মুথুকুমারন, সেলবাদুরাই দিনাকরণ ও গোবিন্দাসামী বিমলকন্দ নামের তিন ভারতীয় শ্রমিক। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘ক্রিস্টাল মেথ’ নামের এক বিশেষ মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। এরপর কঠোর মাদক আইনের আওতায় ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

এদিকে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভারতীয় নাগরিকের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ, ভারত সরকার যেন দ্রুত কূটনৈতিক স্তরে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে এবং সেখানে নিযুক্ত ভারতীয় কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন ভারতীয় নাগরিকের জন্য জরুরি আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির স্ত্রীদের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সচিন দত্ত এই নির্দেশ দেন।

আবেদনকারীরা জানান, ইন্দোনেশিয়ার আইনে রায় ঘোষণার সাত দিনের মধ্যেই আপিল করতে হয়।
তবে তারা রায়ের কপি হাতে পান ২৯ এপ্রিল। ফলে সময়ের অভাবে ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে তারা আপিল করতে পারছেন না।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে হাজির ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী এস পার্থসারথি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের অ্যাডভোকেট অশীষ দীক্ষিত।

মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে আগামী ৬ মে।

সিটি ছাড়ার পর কী করবেন জানালেন গার্দিওলা

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা জানিয়েছেন, সিটি থেকে তার বিদায়ের পর তিনি কোচিং থেকে কিছু সময় বিরতি নেবেন, তবে কখন অবসর নেবেন তা এখনও নিশ্চিত নন।

গার্দিওলা গত নভেম্বরে সিটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করেন। যার মাধ্যমে তার সিটিতে থাকা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। চুক্তি পূর্ণ হলে ৫৪ বছর বয়সী গার্দিওলা সিটির সঙ্গে ১১ বছর কাটাবেন।
এর আগে তিনি বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৪ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ম্যানেজার বলেন, ‘সিটির সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ হলে আমি থামব। আমি নিশ্চিত। আমি অবসর নেব কি না জানি না, তবে আমি কিছুদিন বিরতি নেব।
’

শুক্রবার স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গার্দিওলা আরো বলেছেন, ‘আমি বলিনি যে আমি এখনই চলে যাব বা এই মৌসুম শেষে বা চুক্তি শেষে চলে যাব। আমি বলেছি, এখানে আমার সময় শেষ হলে—সেটা এক, দুই, তিন, চার বা পাঁচ বছর পরই হোক—আমি বিরতি নেব। আমি অবসর নেব না, কিন্তু বিরতি নেব।’

গার্দিওলার অধীনে সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময় কাটছে।
তার দল গত ৯ বছরে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে, পাশাপাশি ২০২২-২৩ সালে ট্রেবল জেতার মধ্য দিয়ে ক্লাবের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এনে দিয়েছে।

এই মৌসুমে সিটি আগের মতো পারফর্ম করতে পারেনি এবং বাকি চার ম্যাচ নিয়ে তারা এখন টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে।

গার্দিওলা বলেন, ‘আমাকে কিভাবে স্মরণ করা হবে, আমি জানি না। লোকেরা যেভাবে চায়, সেভাবে স্মরণ করুক। সব কোচই জিততে চান, যাতে একটি স্মরণীয় কাজ থাকে।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ এবং সিটির ভক্তরা আমার দলগুলোর খেলা দেখে মজা পেয়েছে।’

‘আমাদের কখনই এই চিন্তা করে বাঁচা উচিত নয় যে আমাদেরকে স্মরণ করা হবে কিনা। আমরা মারা গেলে আমাদের পরিবার দুই-তিন দিন কাঁদে, তারপর সব শেষ—আপনি ভুলে যাবেন। কোচদের ক্যারিয়ারে ভালো-খারাপ দুটোই থাকে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালোদেরকে বেশি দিন স্মরণ করা হয়।’