শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টার ৫ নির্দেশনা

দেশের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনাগুলো দেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্দেশনাগুলো হলো—সরকারের মালিকানা রয়েছে, এমন মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিগুলোকে সরকারের শেয়ার কমিয়ে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, বেসরকারি খাতের দেশীয় বড় কম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজি রুখতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসে তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার করা, পুঁজিবাজারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের প্রত‍্যকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বড় ধরনের ঋণ প্রয়েজন, এমন ব‍্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব‍্যাংক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার থেক বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে আগ্রহী করে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ।

লুটপাটের মাধ্যমে শেয়ারবাজারকে বেসামাল করে দেওয়ার পেছনে গত কয়েক দশক ধরে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় না আনতে পারলে মানুষের আস্থা ফিরবে না জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শেয়ারবাজারকে যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা অকল্পনীয়।
আমাদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শেয়ারবাজারের প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এমন অবস্থায় ফেরাতে হবে যেন মানুষ আস্থা ফিরে পায়, এটা যেন লুটেরাদের আড্ডাখানায় পরিণত না হয়।’

বৈঠকে অন‍্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

এখনো টেস্ট ক্রিকেটে প্রয়োজন কোহলিকে, অভিমত লারার

কয়েক দিন আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রোহিত শর্মা। ভারতীয় অধিনায়কের অবসরের পর এবার শোনা যাচ্ছে দীর্ঘ সংস্করণের জার্সিটা তুলে রাখছেন বিরাট কোহলিও। ইতিমধ্যে নিজের ইচ্ছার কথা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করে বিসিসিআইয়ের এক সূত্র।

তবে বিসিসিআই এখনই কোহলিকে ছাড়তে চায় না বলে জানা গেছে।
ইংল্যান্ড সফরের পরে যেন সিদ্ধান্তটা নেন সে জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বিসিসিআইয়ের সেই সূত্র জানিয়েছেন। ফিরতি মত অবশ্য এখনো জানাননি ভারতীয় কিংবদন্তি।

কোহলির এমন সংবাদ শুনে মন খারাপ হয়েছে ব্রায়ান লারার। তাই ‘রান মেশিন’ খ্যাত ভারতীয় ব্যাটারের ফিরতি সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটে এখনো প্রয়োজন বিরাট কোহলিকে।
তাকে অবসর না নেওয়ার জন্য বোঝানো হবে।’

নিজের সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এমনটিই জানিয়েছেন লারা। ক্যারিয়ারের বাকি সময়েও ভালো করবে বলে আশাবাদী সাবেক বাঁহাতি ব্যাটার, ‘টেস্ট ক্রিকেটে প্রয়োজন বিরাটকে। তাকে বোঝানো হবে।
সে যেন এখনই টেস্ট থেকে অবসর না নেয়। টেস্ট ক্যারিয়ারে বাকি অংশে সে গড়ে ৬০ এর বেশি রান করবে।’

সর্বোচ্চ ৫০৫ রান করে আইপিএলে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও সম্প্রতি ক্রিকেটের আদি সংস্করণে ছন্দে নেই কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ টেস্টের হেরে যাওয়া সিরিজে যেমন ৯ ইনিংস ব্যাট করে রান করতে পেরেছেন মোটে ১৯০। এর মধ্যে একটা সেঞ্চুরি আছে তার।
এ ছাড়া ক্যারিয়ারেরও গোধূলিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাই হয়তো ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটার পারফরম্যান্স আরো খারাপ হওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় ক্রিকেটের ‘বরপুত্র’ লারা ও বিসিসিআইয়ের আহ্বানে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন কি না।

নতুন সংবিধান না হলে নতুন বাংলাদেশ বলা যাবে না : নাহিদ ইসলাম

এত বড় গণ-অভ্যুত্থানের পরও সংবিধান সংশোধনের মৌলিক বিষয়ে আমরা একমত হতে পারছি না, দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘নতুন সংবিধান তৈরি করতে না পারলে নতুন বাংলাদেশ বলা যাবে না।’

রবিবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংস্কারে নাগরিক উদ্যোগ, নাগরিক কোয়ালিশন ও সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোটের সাত প্রস্তাবের ওপর এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য গণপরিষদ প্রয়োজন।
সত্যিকারের মৌলিক পরিবর্তন চাইলে গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি না হলে অন্যান্য বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করে গণতান্ত্রিক ধারা সচল হবে না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এক ব্যক্তির ইচ্ছামাফিক সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এত বড় গণ-অভ্যুত্থানের পরও সংবিধান সংশোধনের মৌলিক বিষয়ে আমরা একমত হতে পারছি না, এটি দুঃখজনক।
’

তিনি বলেন, ‘৭৫-পরবর্তী ৭২-এর সংবিধান ফেলে দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু হতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। নতুন সংবিধান তৈরি করতে না পারলে নতুন বাংলাদেশ বলা যাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীব্যবস্থার বিলোপে শুধু সংবিধান নয়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংস্কারও করতে হবে এবং সংবিধানের মূলনীতি দলীয় মূলনীতির বাইরে বের করতে হবে।

৫৩ বছর পর পৃথিবীতে আছড়ে পড়ল সোভিয়েত মহাকাশযান ‘কসমস ৪৮২’

পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ৫৩ বছর আটকে থাকার পর সোভিয়েত যুগের মহাকাশযান ‘কসমস ৪৮২’ পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘ভেনেরা’ কর্মসূচির অধীনে ১৯৭২ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এই মহাকাশযানটি।

ভেনাস বা শুক্র গ্রহে অভিযানে পাঠানো এই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের পরই পৃথিবীর কক্ষপথে আটকে পড়ে, যা এত দিন পর পৃথিবীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্পেস সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ট্র্যাকিং (ইইউএসএসটি)।

মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে, মস্কো সময় শনিবার সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।

রুশ কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, মহাকাশযানটি জাকার্তার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের ওপর পড়েছে।

তবে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) তথ্য অনুযায়ী, এটি জার্মানির একটি রাডার স্টেশনের ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি সেখানে ধরা পড়েনি, ফলে অবস্থান নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে, বেশির ভাগ মহাকাশ বর্জ্য পৃথিবীতে আসার পথে পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও, কসমস ৪৮২-এর বিষয় কিছুটা ভিন্ন। এই মহাকাশযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এর গোলাকার ল্যান্ডার, যার ব্যাস প্রায় ১ মিটার এবং ওজন প্রায় ৪৯৫ কেজি।
শুক্র গ্রহের উচ্চতাপ ও কঠিন পরিবেশ সহ্য করার জন্য এটি টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মহাকাশযানটি হয়তো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ধ্বংস না হয়ে পৃথিবীতে এসে পড়েছে।

জাতিসংঘের মহাকাশচুক্তি অনুযায়ী, যদি এর কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, তবে তা রাশিয়ার মালিকানায় থাকবে।

তবে বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের ওপর এই ধ্বংসাবশেষ পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে এই মহাকাশযানটি অন্য অনেক উপগ্রহের তুলনায় বেশি নজর কেড়েছে, কারণ এটির পতন অনিয়ন্ত্রিত ছিল এবং টিকে থাকার সম্ভাবনা ছিল বেশি।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত মার্কিন স্পেস কমান্ড মহাকাশযানটির পতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তারা এখনো কক্ষপথ ও বায়ুমণ্ডলের তথ্য বিশ্লেষণ করছে।

তবে এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে মহাকাশ বর্জ্যের ভবিষ্যৎ সামনে আসছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে বর্তমানে স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১৪ হাজার ২৪০টি! যার বেশির ভাগই স্পেসএক্স-এর স্টারলিংক।

অ্যামাজন ও চীনের বেশ কয়েকটি প্রকল্প থেকে সামনে আরো হাজার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যা পৃথিবীর কক্ষপথকে আচ্ছাদিত করে ফেলবে মহাকাশ বর্জ্য দিয়ে।

ছোট এই স্যাটেলাইটগুলো আছড়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকলেও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানকে ফেলতে পারে ঝুঁকির মুখে।

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাল বিএনপি

জুলাই গণহত্যায় জড়িত অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিএনপি।

রবিবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে মাফিয়া আওয়ামী লীগের দেশ-বিদেশে কোথাও স্বীকৃতি নেই। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র মানে না, তাদের ডিএনএতে গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের আওতায় আনতে আইন সংশোধন এবং তাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞাকে বিএনপি সাধুবাদ জানায়।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ না দিলে সরকারকে আগামীতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের ২ দিনের টানা আন্দোলনের মুখে গতকাল আওয়ামী লীগ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রায় ৩ ঘণ্টা বৈঠকের পর আইন উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীতেও উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ শনিবার, ১০ মে ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেস-সহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, এর পাশাপাশি আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প

যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেরই শক্তিশালী এবং অটল নেতৃত্বের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’ খবর বিবিসির।

ট্রাম্প লিখেছেন, সঠিক সময়ে তিনি প্রজ্ঞা এবং সাহস দেখিয়েছিলেন এবং এই সংঘাত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কারণ এই সংঘাতের ফলে লাখ লাখ নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং বিশাল ক্ষতি হতে পারতো।

তিনি আরো বলেন, ‘আমেরিকা আপনাদের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পেরেছে বলে আমি গর্বিত।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির কথাও বলেছেন তার পোস্টে।

এর পাশাপাশি, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার কথাও বলেছেন তিনি।

ঢাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম চলবে না : ডিআইজি রেজাউল

নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম ঢাকা রেঞ্জে চলবে না। কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

আজ রবিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ডিআইজি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম ঢাকায় চলবে না।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কিংবা পতিত সরকারের (আওয়ামী লীগের) দোসররা জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে

থানাকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা করে তুলতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধী বা অধীনস্থ পুলিশের কোনো অপরাধ হলে, তা সরাসরি শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নিষিদ্ধ কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত- তাদের সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

বিগত সময়ে উচ্চাভিলাসী অপেশাদার কিছু কর্মকর্তা পুলিশকে জনতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
এখনও যদি কোন পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গণতান্ত্রিক বিশ্ব কখনো খুনি-দুর্নীতিগ্রস্ত আ. লীগের পাশে দাঁড়াবে না : প্রেসসচিব

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রতিক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক বিশ্ব এই নির্লজ্জ খুনি, গণতন্ত্রবিরোধী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত দলের পক্ষে কখনো কথা বলবে না বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ রবিবার বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে বিশ্বের কোনো দেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় তাতে দুঃখ প্রকাশ করবে।’

শফিকুল আলম বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরা দেখেছি, শুধু কোনো দলের কার্যক্রমই নয়, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও, যখন তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে বা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
’

প্রেসসচিব জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানি ও ইতালি নাৎসি এবং ফ্যাসিস্ট দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়া স্পেন ও বেলজিয়ামে কিছু দলকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিবেদন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এবং দলের কর্মী এবং সহযোগী সংগঠনগুলো মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধে অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, এই দলটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ব্যাপক ধ্বংস সাধন করেছে।

শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকরা ব্যাংকগুলো লুটে নিয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্বে এমন কোনো পক্ষ নেই, যারা নির্লজ্জ এই খুনি, গণতন্ত্রবিরোধী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত দলের পক্ষে কথা বলবে।

প্রেসসচিব বলেন, ‘সুতরাং আমরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো নেতিবাচক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আশা করি না।’

গেজেটের পরই আ. লীগের নিবন্ধন নিয়ে সিদ্ধান্ত : সিইসি

গেজেট প্রকাশের পরই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রবিবার (১১ মে) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

সিইসি বলেন, গেজেট প্রকাশ হলে আমরা নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসব। কমিশনের আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কারণ আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের স্পিরিট বুঝেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যদি কাল গেজেট হয় তাহলে কালই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার রাতে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়।

সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে। এই সংশোধনীর আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ‘উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হবে।’

আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।
এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।’

যুদ্ধবিরতির পর আইপিএল পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছে বিসিসিআই

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর আইপিএল পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে বিসিসিআই-এর কর্মকর্তা ও আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল আগামীকাল (আজ রবিবার) আলোচনা করে টুর্নামেন্ট পুনরায় শুরু সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা একটি উপযুক্ত সময়সূচি ঠিক করব যাতে বাকি ম্যাচগুলো সম্পন্ন করা যায়।
’

গত ৮ মে ধর্মশালায় পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচ চলাকালে (১০.১ ওভারে) সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় এবং আইপিএল এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ৫৭টি ম্যাচ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো ১২টি লিগ ও ৪টি প্লে-অফ ম্যাচ বাকি।

ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, দ্রুত টুর্নামেন্ট পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সব দলই তাদের বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ভারত সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে আইপিএল ১৫ মে নাগাদ পুনরায় শুরু হতে পারে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তাদের বিদেশি সদস্যদের ফিরিয়ে আনা। বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড় ও স্টাফ শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে ভারত ছেড়েছেন। বেশ কয়েকটি দল খেলোয়াড় ও স্টাফদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ভারতে ফেরার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
কিছু খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ, যারা এখনো ভ্রমণরত, তাদের সাময়িকভাবে যাত্রা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। একটি দল তাদের কোচিং স্টাফকে রবিবার ভারতে থেকে যেতে বলেছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আশাবাদী যে, মে মাসে টুর্নামেন্ট পুনরায় শুরু হলে বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড় ফিরে আসবেন। তবে, টুর্নামেন্ট যদি ২৫ মে (আইপিএল ফাইনালের নির্ধারিত তারিখ) এর পরেও চলে, তাহলে অনেক খেলোয়াড়ের বাইল্যাটারাল প্রতিশ্রুতি ও ১১ জুন লর্ডসে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের কারণে তাদের ফিরে আসার নিশ্চয়তা নেই।

চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালস ইতোমধ্যে প্লে-অফের দৌড় থেকে বাদ পড়লেও বাকি ৭টি দল এখনো টিকিট পাওয়ার লড়াই করছে।