শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

মিয়ানমারের সংঘাত নিয়ে বিশেষ বৈঠক আসিয়ানের

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ নিয়ে দুটি বিশেষ বৈঠক করবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ান । আগামী সপ্তাহে তাদের শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ বৈঠকগুলো হবে। জোটের মহাসচিব কাও কিম হাউর্ন বুধবার (২১ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন। মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে দীর্ঘদিন চেষ্টা চালাচ্ছে আসিয়ান। এ দুটি বৈঠক সেগুলোরই অংশ।

২০২১ সালে অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক এ অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। চলমান এ যুদ্ধে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ওই বছর আসিয়ান জোট শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। যেটিতে সহিংসতা বন্ধ এবং আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর না হওয়ায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেওয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কাও কিম হাউর্ন বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বৈঠক দুটির ব্যাপারে বলেছেন, “এটি (বৈঠকগুলো) একটি নতুন বিষয় যা বিশেষভাবে মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে হবে। এতে অন্য কিছু থাকবে না। বৈঠকগুলো হবে মালয়েশিয়ায়।”

তবে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে অথবা কী প্রস্তাব দেওয়া হবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি কাও কিম হাউর্ন।

দুটি বৈঠকের প্রথমটি হবে আসিয়ানের সাবেক, বর্তমান ও পরবর্তী সভাপতি দেশগুলোর মধ্যে। সেগুলো হলো মালয়েশিয়া, লাওস এবং ফিলিপাইন। অপরদিকে দ্বিতীয় বৈঠকটি হবে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে।

২০২১ সালের সেনাবাহিনীর সামরিক অভ্যুত্থানের আগে মিয়ানমারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই অভ্যুত্থানের প্রভাবে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে সবকিছু বিনষ্ট হয়। এছাড়া সামরিক বাহিনী সাধারণ মানুষ ও বিদ্রোহীদের ওপর বর্বর হামলা চালানো শুরু করে। তবে দেশটির সামরিক জান্তার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে।

‘আমরা সবাই খুবই অধৈয্যশীল’

মিয়ানমারে এতদিন ধরে সংঘাত চললেও আসিয়ান কেন কিছু করতে পারেনি। এমন প্রশ্ন করলে কাও কিম হাউর্ন বলেন, “যদি কেউ এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় তাহলে এটি সঠিক হবে না। আমরা এ ব্যাপারে কাজ করছি। কিন্তু বিষয়টি সমাধানে সময় লাগতে পারে। দেখুন, বিষয় হলো আমরা খুবই অধৈর্য্যশীল।”

গত মার্চে মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ওই সময় সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও হামলা পাল্টা হামলা চলতে থাকে। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় বিমানবাহিনীর বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণের তথ্যও পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে আসিয়ানের মহাসচিব বলেন, কারা যুদ্ধবিরতি আগে লঙ্ঘন করেছে সেটি স্পষ্ট নয়।

এদিকে আসিয়ান-এর ১১তম সদস্য হিসেবে পূর্ব তিমুরকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সদস্য হতে যেসব মানদণ্ড প্রয়োজন সেগুলোর কিছু পূর্ব তিমুর পূরণ করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন কাও কিম হাউর্ন।

সূত্র: রয়টার্স

ভারতে মাঝআকাশে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে বিমান

ভারতের ইন্ডিগোর একটি বিমান মাঝআকাশে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়েছিল। ফ্লাইট ৬ই ২১৪২ বিমানটি বুধবার (২১ মে) রাজধানী দিল্লি থেকে কাশ্মিরের শ্রীনগরে যাচ্ছিল। তখনই হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে পড়ে যায় এটি। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বিমানটির সামনের অংশ (নাক) ধসে গেছে।

শ্রীনগর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।

পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, পাইলট ও ক্রুরা সাধারণ প্রটোকল অনুসরণ করেন এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। এরপর আতঙ্কিত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয় বলেও জানিয়েছে তারা। বিমানটি আপাতত গ্রাউন্ডে রাখা হয়েছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ শেষে আবারও আকাশে উড়বে।

ওয়াইস মাকবুল নামে এক যাত্রী মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “আমি বিমানে ছিলাম এবং বাড়িতে যাচ্ছিলাম। এটি ছিল সাক্ষাৎ মৃত্যুর অভিজ্ঞতা। বিমানের নাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের সময় সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং মানুষ চিৎকার করছিল। সবাই ভয় পেয়ে যায়।

এক্সে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের ভেতর আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীরা চিৎকার করছেন। এ সময় অনেকে সৃষ্টিকর্তার নাম জোরে জোরে উচ্চারণ করছিলেন। যিনি ভিডিও করেছেন তার চেহারাতেও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরে হওয়া উচিত: সেনাপ্রধান

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে।

বুধবার (২২ মে) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনেক কর্মকর্তা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, “রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে। যা করার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, পলিটিক্যাল কনসেনসাসের (রাজনৈতিক ঐকমত্য) মাধ্যমে সেটা হতে হবে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়েও কথা বলেছেন সেনাপ্রধান। এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এখানে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”

এ সময় তিনি মব ভায়োলেন্স নিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনী এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ জনতার নামে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা আর সহ্য করা হবে না।

সংস্কার প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কী সংস্কার হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি।

সামনে ঈদুল আজহা। মানুষ যেন নিরাপদে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারে, সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে বলেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত হবে না, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। সহযোগিতা করে যাব।

ইউরোপা লিগ জিতে ১৭ বছরের ট্রফিখরা কাটালো টটেনহ্যাম

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কোনো ট্রফি নেই, সবশেষ ২০০৮ সালে কারাবো কাপের শিরোপা জিতেছিলো টটেনহ্যাম। এরপর কত কোচ এলেন, কত খেলোয়াড় খেললেন, কিন্তু টটেনহ্যামের দুর্দিন যাচ্ছিলো না। কিংবদন্তি হ্যারি কেন তো শূন্য হাতেই বায়ার্ন মিউনিখে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি এবার বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা জিতে ট্রফিখরা কাটিয়েছেন, টটেনহ্যাম কাটালো ইউরোপা লিগ জিতে।

টটেনহ্যামের পাশাপাশি ট্রফিখরা কেটেছে সন হিয়ং মিনেরও। টটেনহ্যাম-ক্যারিয়ারে তো বটেই, এটা সনের ক্লাব ক্যারিয়ারেই প্রথম শিরোপা। এর আগে কারাবো কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রানার্সআপ হয়েছিলেন তিনি।

বুধবার (২১ মে) ইউরোপা লিগের ফাইনালে টটেনহ্যাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে তাদের।

ইউনাইটেডের হৃদয়ভাঙা বহুমূল্য একমাত্র গোলটি করেছেন ব্রেনান জনসন।

পারফরম্যান্সে টটেনহ্যাম ও ইউনাইটেডের এবারের লিগের যাত্রা ভুলে যাওয়ার মতো। টেবিলে ইউনাইটেড ১৬ ও টটেনহ্যাম ১৭ নম্বরে রয়েছে। তাদের পরের তিনটি দলই রেলিগেশন জোনের। লিগের বাজে দুই দল হলেও ইউরোপা লিগের ফাইনাল বিধায় ম্যাচের আগে উত্তাপ ছিলো।

বিলবাওয়ের মাঠে প্রথমার্ধের কিছু আগে জয়সূচক গোলটি পায় টটেনহ্যাম। পেপ সারের ক্রসে বল আসে ইউনাইটেড গোলরক্ষক আন্দ্রে উনানার একেবারে সামনে। সেখানেই অবস্থান করছিলেন ইউনাইটেডের দুই ডিফেন্ডার। তাদের ফাঁকি দিয়ে জনসনের আলতো ছোঁয়ায় বল পোস্ট ঘেঁষে জালে প্রবেশ করে।

৬৮ মিনিটে টটেনহ্যাম নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচে। ফার্নান্দেজের ফ্রি কিকে রাসমুস হইলুন্দ হেড দিয়ে গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন। গোললাইনের উপর থেকে দলকে বিপদমুক্ত করেন মিকি ফন ডি।

ম্যাচের শেষভাগে টটেনহ্যাম রক্ষণপ্রাচীর তৈরি করে রেখেছে। আর ইউনাইটেড একের পর এক আক্রমণ করেছে। কিন্তু গোলের দেখা আর মেলেনি। ট্রফিখরার মৌসুম শেষ করলেন স্পোর্টিং লিসবন থেকে দায়িত্ব নিয়ে আসা রুবেন আমোরিম।

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ জিতলো আরব আমিরাত

সিরিজটিতে প্রথমে দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিলো, পরে ম্যাচসংখ্যা একটি বাড়ে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২৭ রানে জয় পায়। দ্বিতীয় ম্যাচে বহু নাটকীয়তার পর স্বাগতিক দল ২ উইকেট জিতে যায়। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর বিপক্ষে এটা তাদের দ্বিতীয় সিরিজ জয়, প্রথমটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২১ সালে।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৬৩ রানের লক্ষ্য দিয়ে ১৪ রানে আরব আমিরাতের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছিলো বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলাম তুলে নেন সফরকারীদের সেরা ব্যাটার মুহাম্মদ ওয়াসিমের উইকেট। ৬ বলে ৯ রান করে ফেরেন দলপতি। মুহাম্মদ জোহাইব ব্যক্তিগত ২৯ ও রাহুল চোপড়া ১৩ রান করে মাঠ ছাড়েন। ততক্ষণে ১০ ওভারে ৭৯ রান করে ফেলে তারা।

এরপর আলিশান শারাফু ও আসিফ খানের ব্যাটে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। ৫ বল হাতে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া শারাফু ৪৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৬৮ রান অপরাজিত থাকেন। আসিফ খান ২৬ বলে ৫ ছয়ে করেন ৪১।

এর আগে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরও হাসান মাহমুদের ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের ১৮ বলে ৪০ রানের ইনিংস সত্ত্বেও পাওয়ারপ্লের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলটি ৮৪ রানে পৌঁছতে হারায় আরও ৪ উইকেট।

জাকের আলী শেষদিকে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। ৪১ রানের ইনিংসে দলকে ১২৮ রানে রেখে আউট হন তিনি। এরপর শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের দারুণ ক্যামিওতে বাংলাদেশ ১৬২ করতে সক্ষম হয়। আরব আমিরাতের হয়ে হায়দার আলী নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পান মতিউল্লাহ খান ও সাঘির খান।

কানের লাল গালিচায় নজর কাড়লেন জাহ্নবী

কান সাগরের তীরে এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে বহু তারকাকেই দেখা গেছে। অন্যান্য অনেক তারকার মতো লাল গালিচায় নজর কেড়েছেন জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর মাথায় ঘোমটা দেওয়া সাজ ঘিরে হৈচৈ সমাজমাধ্যমে। তাঁর সাজ নাকি মনে করিয়ে দিয়েছে তার মা, অভিনেত্রী শ্রীদেবীর কথা।

‘কুনজরে’ বিশ্বাস করেন শ্রীদেবী-কন্যা। তাই কান-এ যাওয়ার আগে ‘কুনজর’ এড়ানোর কথা ভুলে যাননি অভিনেত্রী। তাই ‘টোটকা’ নিয়েই লাল গালিচায় হেঁটেছেন জাহ্নবী।

এদিন জাহ্নবীর পরনে ছিল তরুণ তাহিলিয়ানির তৈরি পোশাক।
ধূসর-গোলাপি রঙের বেনারসি টিস্যু কাপড়ে ছিল ধাতব চাকচিক্য। গলায় মুক্তার মালা। কিন্তু তার সাজের সব থেকে আকর্ষণীয় বিষয়টি ছিল ঘোমটায়। ঘাগরা ও করসেটের মতো পোশাক পেঁচিয়ে ছিল একটি ওড়না।
তারই মাঝের অংশ ঘাড়ের কাছে করা খোঁপা ঘিরে ছিল ঘোমটা— যেন একেবার ভারতীয় বধূটি। তবে এর মাঝেও জাহ্নবীর অনুরাগীদের চোখ পড়ে তাঁর হাতের কালো সুতোর দিকে।

‘কুনজর’ এড়াতেই নাকি এই ‘টোটকা’র ব্যবহার করেছেন জাহ্নবী। ‘কুনজর’ এড়াতে অনেকেই পায়ে ও হাতে এ ধরনের কালো সুতো বেঁধে থাকেন। সেই একই কাজ করেছেন জাহ্নবীও।
এই বিষয়টিও মনে ধরেছে তাঁর অনুরাগীদের।

২০ মে সন্ধ্যায় নিজের ছবি ‘হোমবাউন্ড’-এর সহ-অভিনেতা ঈশান খট্টর, বিশাল জেঠওয়াকে পাশে নিয়ে লাল গালিচায় দেখা গিয়েছিল জাহ্নবীকে। সঙ্গে ছিলেন ছবির পরিচালক নীরজ ঘেওয়ান এবং প্রযোজক কর্ণ জোহরও।

ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধে নীতিমালা করা হচ্ছে : পরিবেশ উপদেষ্টা

পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শিল্পে বিনা মূল্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন প্রথা বন্ধ করার নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই নীতিমালা অনুসারে শিল্পে বিনা মূল্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের প্রথা বন্ধ হবে।

আজ বুধবার রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্বব্যাংকের ২০৩০ ওয়াটার রিসোর্সেস গ্রুপ এবং পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো), পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, এখন একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়েছে, যারা গার্মেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশনসহ বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করবে কীভাবে পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, পুনর্ব্যবহার বাড়ানো যায় এবং দূষিত পানি সরাসরি নদীতে ফেলা বন্ধ করা যায়।

তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। যেমন অনলাইন মনিটরিং চালু করা। ভূগর্ভস্থ পানির অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলন বন্ধে এই কর্মপরিকল্পনা শিগগিরই শুরু হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি ‘শিল্পখাতে পানি ব্যবহারের নীতিমালা’ খসড়া প্রস্তুত করেছে,এই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এখন ভূগর্ভস্থ পানিকে করপোরেট সেক্টর ফ্রি রিসোর্স হিসেবে নিচ্ছে।
সেটা আর চলতে পারে না। পানি সীমাহীন নয়, আর জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে বিনা মূল্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন চলতে পারে না।

পানি সম্পদ উপদেষ্টা আরো বলেন, পানি পুনঃব্যবহারের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন এবং প্ল্যাটফরম সৃষ্টি একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ।

রিজওয়ানা বলেন, ‘আমরা ভূগর্ভস্থ পানি এবং ভূউপরিস্থ পানির অভাবে ভুগছি।
ঢাকা একটি শহর, যার সাতটি নদী আছে চারপাশে। পৃথিবীতে কয়টি রাজধানী শহর আছে, যাদের সাতটি নদী ঘিরে রেখেছে? অথচ এই শহরের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে হলে, মেঘনা পর্যন্ত যেতে হয়। প্রতিবছর দেখা যায় নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মৃত মাছ ভেসে ওঠে দূষণের মাত্রা অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার কারণে। একদিকে শুনবেন কেউ নদী দখল করে দূষণ করছে ‘উন্নয়ন’ এর নামে, আর অন্যদিকে মানুষ নিরাপদ ও পরিষ্কার পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। যেখানে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি হয়তো ২০০০ শ্রমিককে চাকরি দিচ্ছে, সেই একই কারখানা নদী দূষণ করে হয়তো কয়েকটি গ্রামের মানুষকে জীবিকা থেকে বঞ্চিত করছে।
এভাবে কোনো উন্নয়ন হতে পারেনা। এইখানেই আমাদেরকে টেকসই উন্নয়নের কথা চিন্তা করতে হবে।

কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কেমি কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খাঁন। কনফারেন্সে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংস্থার প্রধানগণ, সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, বেসরকারি খাত, টেক্সটাইল ও চামড়া কারখানা, ২০টিরও অধিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড, বর্জ্য পানি পরিশোধন প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানি, নাগরিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩৫০ জন অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করেন।

পানি নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে খসড়া শিল্পখাতে পানি ব্যবস্থাপনা নীতিমালাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পানির প্রাপ্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, এ কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য হল পানি পুনঃব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে কাঠামো প্রণয়নে সরকারি খাত, কারখানা, ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী এবং শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি ন্যাশনাল এলায়েন্স ফর রিইউজ এন্ড রিসাইকেল(এফরআর) প্রতিষ্ঠা।

এ প্লাটফর্মের অন্যতম লক্ষ্য হলো পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সকল অংশীজনকে একত্রিত করে জ্ঞান এবং সম্পদের সমন্বয়পূর্বক পানি পুনঃব্যবহারের যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা প্রদান।

পানি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘পানি মানেই জীবন’। এই সহজ সত্যটি আমাদের সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তবুও, বাস্তবতা হলো আমাদের অমূল্য পানি সম্পদ আজ সংকটাপন্ন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব একত্রে আমাদের পানির ঘাটতি ও দূষণকে দেশের সবচেয়ে জটিল হুমকি গুলোর মধ্যে অন্যতম হুমকি হিসাবে পরিণত করেছে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, আমাদের নীতিমালা ও পদক্ষেপসমূহ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানি সম্পদ সংরক্ষণের প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। আমরা শিল্প বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য থেকে পানি দূষণ রোধে ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স প্রনয়ণ, ব্লু নেটওয়ার্কসহ অনেক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছি। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন,এরই ধারাবাহিকতায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ডব্লিউএ আর পিও), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব ব্যাংকের ২০৩০ ওয়াটার রিসোর্সেস গ্রুপকে পানি নিরাপত্তার সমস্যার সমাধানে সব স্টেকহোল্ডারদের একত্রে নিয়ে আসার এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

উপদেষ্টা বলেন, আশা করি এই প্লাটফর্ম, সরকারি-বেসরকারি এবং সুশীল সমাজের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে সহযোগিতা ও অংশীদারির সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, পানি নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করতে সক্রিয়ভাবে এ প্ল্যাটফরম ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড.শেখ আব্দুর রশীদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন পানিসম্পদ সচিব নাজমুল আহসান।

কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা রোধে কাজ করবে চসিক

কোরবানির চামড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা রোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার (২১ মে) নগরের টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সমন্বয় সভায় মেয়র এ ঘোষণা দেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোরবানি হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেউ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া নগরে ঢুকিয়ে চামড়ার দাম কমানোর অপকৌশল অবলম্বন করে।
এভাবে দাম পড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দেখা যায় অনেক চামড়া অবিক্রিত রয়ে যায়। ওই চামড়ার কারণে পরিবেশ দূষিত হয়ে মানুষ কষ্ট পায়। এই অপচর্চা ঠেকাতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে ভূমিকা রাখতে হবে।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, কোরবানির দিন নগর দ্রুততম সময়ে পরিচ্ছন্ন করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি কর্মীদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যাতে কোরবানির বর্জ্য বা চামড়া পরিবেশের ক্ষতি না করতে পারে।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ, চামড়া ব্যবসায়ীবৃন্দ, জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিসিকসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার বিষয়ে যা বললেন ট্রাম্পপুত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র বুধবার বলেছেন, তিনি ‘হয়তো কোনো একদিন’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প জুনিয়র কাতারের রাজধানী দোহার ব্লুমবার্গ কাতার ইকোনমিক ফোরামে এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় তাকে তিনি বাবার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না জিজ্ঞাসা করা হলে প্রথমে হেসে ফেলেন তিনি।
এরপর বলেন, ‘এটা একেবারে অসম্ভব নয়।’

ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, ‘এই প্রশ্ন শুনে সম্মানিত বোধ করছি এবং এটা জেনে ভালো লাগছে যে কিছু মানুষ এতে খুশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনি কখনোই জানেন না ভবিষ্যতে কী হয়।’

৪৭ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই পরিবার নিয়ন্ত্রিত রিয়েল এস্টেট কম্পানিটি বিলাসবহুল আবাসন খাতে কাজ করে। পাশাপাশি ট্রাম্প জুনিয়র তার বাবার ডানপন্থী ম্যাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন) রাজনৈতিক দর্শনের প্রবল সমর্থক।

চলতি বছরের মার্চ মাসে বামপন্থী সংবাদমাধ্যম মিডিয়েট জানিয়েছিল, ট্রাম্প জুনিয়র ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা’ করছেন। তবে তখন তিনি তা অস্বীকার করেন।
তবে বুধবারের ফোরামে ট্রাম্প জুনিয়র আর সে সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, ‘জানি না…হয়তো কোনো একদিন, যদি এই দায়িত্বের ডাক আসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার বাবা রিপাবলিকান পার্টিকে আমূল বদলে দিয়েছেন। এখন এটা আমেরিকা ফার্স্ট পার্টি, চাইলে আপনি একে ম্যাগা পার্টিও বলতে পারেন।’

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ট্রাম্পের দুই বড় ছেলে—ডোনাল্ড জুনিয়র ও এরিক।
যদিও ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবু তিনি ট্রাস্টের মাধ্যমে কম্পানিতে নিজের মালিকানা ধরে রেখেছেন।

২৮ মে প্রথমবার বাংলাদেশের আম যাবে চীনে

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

বুধবার (২১ মে) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘চীনে আম রফতানির মধ্যে দিয়ে কৃষি রফতানিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। আগামী ২৮ মে প্রথমবারের মতো সেদেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে। এবার আনুমানিক ৫০ টন আম চীনে রফতানি হবে। পর্যায়ক্রমে এর পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি।’

আমের পাশাপাশি কাঁঠাল ও অন্যান্য ফল রফতানির জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান এমদাদ উল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘চীনসহ অন্যান্য দেশে রফতানির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনার মাধ্যমে আম চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় কৃষি উৎপাদনকে টেকসই ও যুগোপযোগী করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। ২০৫০ সাল পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চয়তা দিতে এ পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে।’

দেশের কৃষিকে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে কৃষি সচিব বলেন, ‘এ লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানের সেবা সমূহ একটি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) আওতায় আনা হবে। দেশের প্রতিটি ভূমি মৌজাকে ডাটাবেজের আওতায় এনে সার, বীজ, বালাইনাশক, সেচ, ফসল বৈচিত্র্য, আবহাওয়া, রোগবালাই কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সন্নিবেশিত একটি মোবাইল অ্যাপস ‘খামারি’ চালু করা হচ্ছে। এ অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষক তার জমিতে কোন মৌসুমে কী ফসল চাষ করতে হবে, এর পরিচর্যা থেকে শুরু করে ফসল উঠানো পর্যন্ত সকল তথ্য ও সেবা পাবে।’

দেশের শিক্ষিত নারী ও তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান।