শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

মে মাসের ২৪ দিনে রেমিট্যান্স ২.২৫ বিলিয়ন ডলার

মে মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২২৪ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স (প্রায় ২.২৫ বিলিয়ন ডলার) এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ ২৭ হাজার ৪০১ কোটি টাকা।

রবিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবরণী থেকে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স আসছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ১১৪২ কোটি টাকা।
মাসের বাকি দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে নতুন রেকর্ড হতে পারে। অর্থাৎ পুরো মাসে প্রবাসী আয় আসতে পারে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম ২৪ দিনে ২২৪ কোটি ৬০ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটির (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৭ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

১১০০-এর বেশি এজেন্ট শনাক্ত, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশনে’ সরকার

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

আজ রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানান তিনি।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লিখেছেন, ‘ইতোমধ্যেই জুয়ার সাথে জড়িত এক হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আপনার জানা মতে কোনো জুয়ার অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে থাকলে সেগুলো দ্রুত রিপোর্ট করুন।
’

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ। সরকার সাইবার স্পেসে জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুসারে জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলার সাথে জড়িত সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। এই আইন অনুসারে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোন পোর্টাল/অ্যাপস/ডিভাইস তৈরি/পরিচালনা করা, জুয়া খেলা, খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপনের সাথে জড়িত থাকাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘২১ এবং ২২ ধারা অনুযায়ী জুয়া খেলার জন্য কোন ফাইনানশিয়াল ট্রানজেকশন, জুয়া খেলা বিষয়ে কোন প্রতারণা বা জালিয়াতি করাকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জুয়া খেলা নিয়ে উৎসাহ প্রদান বা বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার কারণে বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের জুয়া খেলা নিয়ে কোনো বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো নাগরিক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব যদি মনে করেন তার অনুমতি ব্যতিরেকে জুয়া খেলার ওয়েবসাইট/পোর্টালে তার ছবি/ভিডিও ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

‘এই আইন প্রণয়নের পূর্বে যারা জুয়া খেলার সাথে বা জুয়া খেলার বিজ্ঞাপনের সাথে স্বেচ্ছায় জড়িত ছিলেন তাদেরকে অবিলম্বে এই কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। যারা পূর্বে জুয়ার কারণে প্রতারণার শিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত কম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
’

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলা সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার এবং এই অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তি/কম্পানির ব্যাপারে তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানানোর জন্য অনুরোধ করছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘জুয়া একটি সামাজিক ব্যাধি এবং সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার কারণে দেশে অসংখ্য ব্যক্তি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাই দেশের জনগণের কাছে সরকার সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা বন্ধ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সাহায্য প্রার্থনা করছে। সরকার ইতিমধ্যে ১,১০০ এর অধিক এজেন্ট শনাক্ত করেছেন এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এরূপ কার্যক্রমের সাথে যে সকল মোবাইল ফাইন্যান্সিং এজেন্ট, ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই আইন অনুসারে সর্বোচ্চ ১ (এক) কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।’

‘এই বিষয়ে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাইবারস্পেসে জুয়া খেলা, ফাইনানশিয়াল স্কাম, জুয়ার লেনদেনের (ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ) সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত সকল খেলোয়াড়, অপারেটর, মোবাইল ফাইনানশিয়াল সিস্টেম, এমএফএস এজেন্ট, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এ-ও লেখেন, ‘পাশাপাশি অনলাইন জুয়ায় জড়িত অভিনেতা অভিনেত্রী, খেলোয়াড়, বিজ্ঞাপন দাতা কম্পানি, মিডিয়া বায়ার, প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপন দাতা এবং বিজ্ঞাপন গ্রহীতা সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত মোবাইল ব্যাংকিং, রেগুলার ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেকোনো এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর কিংবা কোন ক্রিপ্টো ব্রোকার কিংবা হুন্ডির অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করুন- notify@ncsa.gov.bd।’

কেরালায় রাসায়নিকসহ জাহাজডুবি : পানিতে মিশলে যেসব ক্ষতির আশঙ্কা

ভারতের কেরালা উপকূলে ডুবে গিয়েছে লাইবেরিয়ার জাহাজ। জাহাজটির ২৪ জন নাবকিকেই উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু জাহাজে ছিল বিষাক্ত রাসায়নিকের কনটেইনার। কোস্ট গার্ডের আশঙ্কা, কনটেইনারে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক ক্যালসিয়াম কার্বাইড সমুদ্রের পানিতে মিশলে ক্ষতি হতে পারে সামুদ্রিক জীব ও মানুষের।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া জাহাজটির ট্যাংকারে রয়েছে টন টন তেল। সেই তেলও পানিতে মেশার সম্ভাবনা রয়েছে। দূষণ মোকাবেলার জন্য সক্ষম জাহাজ মোতায়েন করেছে ভারতীয় উপকূল রক্ষা বাহিনী।
তেল সমুদ্রে ছড়ালে তা ম্যাপিং করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমানও উড়ছে আকাশে।

অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, লাইবেরিয়ার জাহাজটিতে যে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ছিল, তা সমুদ্রে মিশলে কতটা ক্ষতি হতে পারে? ভারতীয় কোস্ট গার্ড সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, জাহাজটিতে ১৩টি ‘বিপজ্জনক’ বস্তুর কনটেইনার ছিল। তার মধ্যে ১২টিতে ছিল ক্যালসিয়াম কার্বাইড।

রংবিহীন কঠিন রাসায়নিক ক্যালসিয়াম কার্বাইডকে ক্যালসিয়াম অ্যাসিটাইলাইডও বলে।
ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বনের বিক্রিয়ায় এই রাসায়নিক তৈরি হয়। ফল পাকানোর কাজে ব্যবহার করা হয় এটি। এ ছাড়া এই ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। পানির সংস্পর্শে এলেই এই ক্যালসিয়াম কার্বাইড অ্যাসিটিলিন গ্যাস ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হয়।
অ্যাসিটিলিন গ্যাস নিজেও দাহ্য। সে কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি থেকেই যায়।

পানির সঙ্গে ক্যালসিয়াম কার্বাইড মিশলে যে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে, তা পানিরই অম্লত্ব বৃদ্ধি করে। জাহাজের কনটেইনার থেকে ওই রাসায়নিক পানিতে মিশলে সমু্দ্রের পানির পিএইচ মানের হেরফের হবে। এর ফল ভুগবে সামুদ্রিক জীবরা। তাদের স্বাস্থ্য, বংশবৃদ্ধিও প্রভাবিত হতে পারে। পানিতে অ্যাসিটিলিন গ্যাস মিশলে তার মান নষ্ট হয়। সেই পানি পান করলে বা চাষের কাজে ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। স্নায়ুরোগ পর্যন্ত হতে পারে।

এসব কারণেই সতর্কতা জারি করেছে কেরালা সরকার। মৎস্যজীবীদেরও নজর রাখতে বলেছে, পানিতে কোনো কনটেইনার ভাসছে কিনা দেখতে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। সমুদ্রে কিছু বস্তু ভেসে এলে তা ধরতে নিষেধ করেছে।

কোস্ট গার্ড সূত্র আরো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিট নাগাদ ভারতের কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠায় লাইবেরিয়ার ওই পণ্যবাহী জাহাজ। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। পরে রবিবার সকালে সেই জাহাজটি পুরোপুরি সমুদ্রে ডুবে যায়।

কোস্ট গার্ড তাদের এক্স হ্যান্ডলে জানায়, জাহাজে থাকা ২১ জনকে শনিবার উদ্ধার করেছে তারা। এরপর উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ সুজাতা ওই জাহাজ থেকে আরো তিন নাবিককে রবিবার উদ্ধার করেছে। জাহাজের ট্যাংকারে ছিল ৮৪.৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল ও ৩৬৭.১ মেট্রিক টন ফার্নেস তেল।

২০২৫ সালে শুধু শিল্প নয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে : বিটিএমএ সভাপতি

১৯৭১ সালে খুঁজে খুঁজে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে আর ২০২৫ সালে শুধু শিল্প নয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

আজ রবিবার গুলশান ক্লাবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

তিনি বলেন, ‘শিল্পে গ্যাস নেই, একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। কিন্তু উপদেষ্টারা মনে হয় উটপাখির মতো বালুর মধ্য মাথা গুঁজে আছেন, কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।
’

শিল্প বাঁচাতে না পারলে দেশে দুর্ভিক্ষ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষ হবে, মানুষ রাস্তায় নামবে।’

তিনি আরো বলেন, গ্যাস–সংকটে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। চলতি মূলধন সংকুচিত হয়েছে। আগামী ঈদে কারখানাগুলো বেতন–ভাতা দিতে পারবে কি না, সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআই), ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি), প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ) যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার বেড়ে গেছে। গ্যাসসংকটের কারণে ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদন হচ্ছে না কারখানায়। তিন মাস সুদ না দিলেই ঋণখেলাপি করছে ব্যাংক।
আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের ধমক দিচ্ছে সরকার।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে : তারেক রহমান

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (২৫ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে আবারও রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের তারিখ, সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির দাবি, আগামী ডিসেম্বরের ভেতরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বিএনপিসহ যারা একসঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছি, আমরা আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে-বিদেশে সম্মানিত দক্ষ এবং যোগ্য ব্যক্তিত্ব অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের নেতৃত্বে অবিলম্বে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, নিরপেক্ষ একটি জাতীয় নির্বাচন দেখতে পাবে। আজ এনপিপির এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পতিত পলাতক স্বৈরাচারের আমলে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নানা রকম দমনপীড়ন এবং ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে।
এনপিপিও সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি। আপনারা আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছেন। পতিত স্বৈরাচার আর কোনোভাবেই যেন ফিরতে না পারে, সেটাই হোক প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য দরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার।
সময়ের প্রয়োজনে সাংবিধানিক অথবা আইনগত সংস্কার এবং প্রায়োগিক সংস্কার, অর্থাৎ উভয় প্রকারের সংস্কারের বিকল্প নেই। অল্প কিংবা বেশি সংস্কার বলেও কিন্তু কিছু নেই। রাষ্ট্র এবং রাজনীতির জন্য সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমার কাছে মনে হয় পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে প্রায়োগিক সংস্কার বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদ, সরকার গঠিত হলে অবশ্যই সেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। এর মাধ্যমেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত থাকলে সরকারের পক্ষে ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করা সহজ হয় না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চরিত্র যা-ই হোক সরকারকে জবাবদিহিতে বাধ্য করা না গেলে ক্ষমতাসীন সরকার হয়তো নিজেদের অজান্তেই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। এই কারণেই হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করেই অবশ্যই নাগরিকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা জারি রাখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিককে অধিকারের দাবিতে সোচ্চার থাকতে হবে। দেশের জনগণ কিন্তু সরকারের করুণার পাত্র নয়। সরকার অবশ্যই জনগণের কথা শুনতে, জনগণের ন্যায্য দাবি মানতে বাধ্য। এখানে সরকারের মান-অভিমান বা রাগ-বিরাগের কোনো সুযোগ নেই।’

বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের বৈঠক

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশিদ বৈঠক করেছেন। রবিবার (২৫ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশে হাইকোয়ালিটি (উচ্চমান সম্পন্ন) নির্মাণসামগ্রী তৈরি করছে।
প্লাইউড, পাইপ, টাইলস ও উন্নতমানের গ্লাস তৈরির ফলে বাংলাদেশ এখন এসব পণ্যের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। মালদ্বীপ এসব পণ্য তাদের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করতে পারে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে মালদ্বীপের বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি দুদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ দেশে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে মালদ্বীপ ভূমিকা রাখতে পারে।
’ এ সময় তিনি মালদ্বীপে শ্রমিক পাঠানোর খরচ কমিয়ে আনার আহ্বান জানান।

মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশিদ বলেন, বাংলাদেশে ও মালদ্বীপের মধ্যে ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মালদ্বীপের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার ও মালদ্বীপ হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব আহমেদ মাইশান উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য আমরা গর্বিত : প্রীতি জিনতা

ভারতের পেহেলগামকাণ্ডে বেশ সরব হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। এবার ভারতীয় নিহত সেনাদের স্ত্রীদের জন্য বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। যে সেনারা নিহত হয়েছেন তাদের স্ত্রীদের কল্যাণের জন্য এক কোটি টাকা দান করলেন অভিনেত্রী।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদেন বলা হয়, আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের সিএসআর (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) কর্মসূচি হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রীতি।
শনিবার জয়পুরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে কথা বলেন প্রীতি।

প্রীতি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর সাহসী পরিবারের জন্য কিছু করতে পারা আমার কাছে সম্মানের ও দায়িত্বের। তাদের ত্যাগের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।
আমরা শুধু পরিবারের পাশে থাকতে পারি মাত্র।’

তার কথায়, ‘আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য খুবই গর্বিত। সেনার পরিবারের মানুষ আরো বেশি শক্তিশালী ও সাহসী হন। দেশের জন্য যে মায়েরা নিজের ছেলেদের দিয়ে দেন, তাদের দেখেছেন? সেই স্ত্রীদের দেখেছেন যারা কখনোই নিজের স্বামীর মুখের হাসি আর দেখতে পাবেন না?’

‘সেই সন্তানদের দিতে তাকান, যারা কখনো তাদের বাবাদের দেখতে পাবেন না।
এটাই তাদের বাস্তবতা যার পরিবর্তন হবে না কোনো দিনই। তাদের জন্য তাই অনেক শুভ কামনা।’

অভিনেত্রী নিজেও সেনা পরিবারের মেয়ে। কিছুদিন আগেও একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি তো সেনা পরিবারের মেয়ে। তাই এসব ঘটনা আমার মনকে তীব্র ভাবে আঘাত করে।
তাই রক্ত ঝরলে আমি চুপ থাকতে পারি না।’

পরিবর্তনের মিছিল নিয়ে ছুটছেন হাসনাত

চট্টগ্রামের ১০টি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) জেলার আওতাধীন বিপ্লব উদ্যান, কর্ণফুলী (মইজ্জ্যারটেক), আনোয়ারা (চাতুরী চৌমুহনী), বাঁশখালী (উপজেলা চত্বর), সাতকানিয়া (কেরানীহাট), লোহাগড়া (আমিরাবাদ), দোহাজারী (পৌরসভা), চন্দনাইশ (পৌরসভা), পটিয়া (কলেজ গেইট মোড়) ও বোয়ালখালীতে (গোমদন্ডি,ফুলতল) এসব পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে এসব পথসভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, সংগঠক, আরমান হোসাইন ও আজিজুর রহমান রিজভী।

রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জনতার ভালোবাসা আর বিশ্বাসকে শক্তি করে, এগিয়ে চলেছি পরিবর্তনের মিছিল নিয়ে। নয় কোনো স্বপ্ন বিক্রি—আমি চাই বাস্তব উন্নয়ন, গড়ে তুলব আগামীর বাংলাদেশ!’

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বৈঠক করেছেন।

রবিবার (২৫ মে) বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতি বিকেল ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় প্রবেশ করেন। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যমুনা ত্যাগ করেন।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় প্রবেশ করেছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। দুই দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রথম দফার বৈঠকে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদ, নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্যসচিব মজিবুর রহমান ভূঁইয়া (মঞ্জু), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাবেক আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান উপদেষ্টার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ৯ নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তারা হলেন ইসলামী বক্তা সাদিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসাইন রাজী।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মহার্ঘ-রেশন-সচিবালয় ভাতা নিয়ে যেসব তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

আগামী এক বা দুই সপ্তাহ আছে বাজেট ঘোষণার। সেখানে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে কত শতাংশ মহার্ঘ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি।

এদিকে নিবর্তনমূলক কালো আইন বাতিল করাসহ কর্মচারীদের রেশন ও সচিবালয় ভাতা চালুর দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। আজ রবিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ চলছে।

সচিবালয়ে রেশন-ভাতা নিয়ে ওই সাক্ষাৎকারে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা চেষ্টা করব। তবে সচিবালয় ভাতা, মহার্ঘ ভাতা একসঙ্গে ডাবল হয়ে যাবে।
সচিবালয় ভাতা দেওয়া হলে বাইরে যারা সরকারি চাকরি করছে, তারাও বলবে আমাদের ভাতা দেওয়া হলো না কেন। আসলে বাইরেও আমাদের অনেক অফিসার আছে। সচিবালয় ভাতা না দেওয়ার এটি একটি কারণ।

তিনি আরো বলেন, আবার রেশন ভাতাও চাচ্ছে চাকরিজীবীরা।
তাদের (চাকরিজীবী) যৌক্তিকতা হচ্ছে, রেশন সুবিধা পুলিশ ও বিজিবি পায়, আমরা কেন পাব না। আসল কথা হচ্ছে, এসব বাহিনী যুগ যুগ ধরে রেশন পাচ্ছে। আর তাদের ডিউটি কোনো স্বাভাবিক নয়। পুলিশ যখন ডিউটি করে দুপুর ২টার খাবার বিকেল ৪টায় খায়, রাত ১২টায় ডিউটি শেষ করে এক রুমে ৬ জন ঘুমায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গেলে সেটি দেখা যায়।
ওদের খাওয়াদাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। ফ্যামিলির সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এসব মানবিক কারণে তাদের এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা আরো বলেন, তবে সচিবালয়ের লোকজনও ভুক্তভোগী। আমরা সব দিতে পারব কি না দেখছি। আমরা দেখছি মহার্ঘ ভাতা আছে, সেটির ব্যাপারে কিছু করা যায় কি না। সব সমহারে দিতে গেলে বহু অর্থের প্রয়োজন। এখন কর্মচারীদের রেশন দাবি বিবেচনায় আছে। তবে তারা যেভাবে চাচ্ছে, সেভাবে হবে না।