বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করছেন আদিত্য

আশিকি ২ থেকে কলঙ্ক, লুডো অথবা দ্য নাইট ম্যানেজার, আদিত্য রায় কাপুরের অভিনয়ে বারবার মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকরা। তবে এবার আর অভিনেতা হিসেবে নয়, একদম নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ ঘটছে তার। আদিত্য রায় কাপুর এবার ধরা দিচ্ছেন গায়ক হিসেবে।

‘মেট্রো ইন দিনো’ ছবির জন্য প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ছবিটির গান ‘জামানা লাগে রে’ লঞ্চিংয়ে এসে এই ছবির মিউজিক কম্পোজার প্রীতম জানিয়েছেন যে আদিত্য রায় কাপুর এই ছবির জন্য গান গেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি রীতিমত এদিন অভিনেতার প্রশংসা করেন তাঁর গানের জন্য। জানিয়েছেন, মেট্রো ইন দিনো ছবিটির একাধিক গান গেয়েছেন আদিত্য।

এসময় প্রীতম বলেন, এই ছবিতে আদির ওপর যে গানগুলো রয়েছে সেগুলো ও নিজেই গেয়েছে।
ওর গানের গলা দারুণ।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রীতম এই খবর প্রকাশ্যে আনতেই ছবিটি এবং ছবিটির গান নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে আরও অনেক বেশি।

এদিন এই গানটির লঞ্চিং অনুষ্ঠানে এসে আদিত্য নিজেও তাঁর মতামত জানিয়েছেন। বলেছেন আসল ছবিটি তাঁর দারুণ পছন্দের, এই প্রজেক্টটিও খুবই বিশেষ তাঁর কাছে।

অভিনেতার কথায়, এটা আমার জন্য খুব স্পেশ্যাল। আমি আগের ছবিটির দারুণ বড় ফ্যান। ফলে এই ছবির অংশ হতে পেরে গর্বিত। অভিনেতা হিসেবে যখন গানগুলো শ্যুট করছি যেগুলোর কথা এত সুন্দর, এবং আপনাকে অভিনয় করতে হয় যে আপনি নিজেই গাইছেন সেগুলো বিষয়ে আলাদাই একটা গভীরতা এনে দেয়। আমি ১০ টা গানের জন্যই মুখিয়ে আছি।
সবগুলো এখনও শোনা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে সবগুলোই খুব সুন্দর হবে।

উল্লেখ্য, লাইফ ইন মেট্রো, লুডোর পর মেট্রো ইন দিনো হচ্ছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ কিস্তি। ভূষণ কুমার প্রযোজিত ছবিটি পরিচালনা করছেন অনুরাগ বসু।

জয়া আহসানের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বললেন নির্মাতা লাজুক

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকার গারো পাহাড়ে ও বিভিন্ন লোকেশনে চলছে নতুন সিনেমাটির দৃশ্যধারণ। যেখানে বন্য হাতির অনেক আনাগোনা রয়েছে। এমনকি শুটিংস্পটে হাতির আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। অভিনেতা সজল বলেন, ‘গত ৯ দিন ধরে এখানে শুটিং করছি।
এখানে প্রায় সময়ই বন্য হাতি আক্রমণ করে। গতকাল আমাদের সেটে প্রায় ৮-৯টা বন্য হাতি আক্রমণ করেছিল। সবাই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। পরে কোনোভাবে তাদের সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সেভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি আমাদের।’

এদিকে বনের ভেতরে এই শুটিং মোটেও ভালোভাবে নিচ্ছেন না দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি মনে করছেন, এই শুটিংয়ের ফলে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে সজল-বুবলির এই সিনেমার শুটিং বন্ধে বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে একটি সংবাদের ফটোকার্ড শেয়ার করে জয়া লিখেছেন, ‘এই আরেক উপদ্রব বনের ভেতর। বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মন চাইলেই লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন শুরু করা যায়?’

ক্ষুব্ধ জয়া প্রশ্ন তুলে আরো লেখেন, ‘মাইকের শব্দ, শুটিং টিমের বর্জ্য, গান-বাজনা এগুলো কি অ্যালাউ করা ঠিক হবে এ রকম একটা সেন্সিটিভ জায়গায়?’ জয়ার এই প্রশ্নের সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করেছেন। তারা বলছেন, বনের পরিবেশে শুটিং ইউনিটের নানা আয়োজন পশু-পাখিদের আতঙ্কিত করে তোলে।

জয়ার ওই পোস্টে নেটিজেনদের অনেকে সহমত পোষণ করেন।
কেউ মন্তব্যের ঘরে ‘শাপলা শালুক’ ছবির শুটিং টিমের বিরুদ্ধে কড়া আইনি নোটিশ পাঠানো হোক— দাবি করেন।

এদিকে জয়ার এই পোস্টকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন এর পরিচালক রাশেদা আক্তার লাজুক। লাজুক বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। অবাক হয়েছি। কেননা শুটিংয়ে হাতির আক্রমণ হয়েছে শুনে তিনি (জয়া আহসান) ফোন করে আমাদের একটা খবর নিতে পারতেন। এখানে বুবলি আছেন, আব্দুন নূর সজল আছেন। সজলের সঙ্গে তার অনেক কাজ হয়েছে। ওই জায়গা থেকেও খোঁজ নিতে পারতেন আমরা ঠিক আছি কি না। তা না করে উল্টো আমাদের শুটিং বন্ধের আহ্বান জানালেন! ওনার কাছে এ রকম আচরণ আশা করিনি।’

লাজুক জানান, তারা বনে শুটিং করছেন না। পার্শ্ববর্তী গ্রামে পেতেছেন ‘শাপলা শালুক’-এর সেট। ভুল তথ্যে দিশাহারা না হয়ে খোঁজ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘উনি (জয়া আহসান) লিখেছেন, আমরা বনের ভেতর শুটিং করেছি। এটা একেবারেই ভুল। আমরা গ্রামে শুটিং করছি। সিনেমাটির মাধ্যমে বাংলাদেশের সৌন্দর্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাইছি। সে জন্যই সুন্দর একটি গ্রাম বেছে নিয়েছি। আমরা বনে হাতির কাছে যাইনি। বরং হাতি আমাদের এখানে এসেছে। কেননা বনে খাদ্যসংকট দেখা দিলে হাতি গ্রামে আক্রমণ করে, সে রকমই হয়েছে। আর উনি না জেনে লিখে দিলেন, বনের ভেতর শুটিং করেছি। ওনার এই কথায় আমি, শবনম বুবলি, সজলসহ সবাই অবাক হয়েছি। এটা নিয়েই বলাবলি করছিলাম। আর একটা কথা, জয়া আহসান একাই শুধু অ্যানিমেল লাভার নন, পশু-পাখির প্রতি আমাদেরও ভালোবাসা আছে।’

পরিচালক মনে করছেন, জয়া দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনকে অসম্মান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুটিংয়ে কোনো বর্জ্য ফেলি না। শুধু আমরা না, আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের কেউ শুটিংয়ে বর্জ্য ফেলেন না। তার মানে কি উনি শুটিংয়ে বর্জ্য ফেলেন? বর্জ্য ফেলার কথা বলে উনি শুধু আমাদের অপমান করেননি, দেশের সংস্কৃতি চলচ্চিত্রাঙ্গনের সবাইকে অসম্মান ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।’

লাজুক মনে করছেন, জয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তার কথায়, ‘ওই পোস্টে তিনি বন বিভাগের কাছে ছবির শুটিং বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আমি মনে করি, তার এই পোস্ট অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেননা শুরু থেকেই ছবিটি আটকে দিতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। দুই বছর প্রজেক্টটি আটকে ছিল। সব চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমি ছবিটা করছি।’

এ ছবিতে সজল-বুবলি ছাড়াও অভিনয় করছেন সুমন আনোয়ার, আয়মান শিমলা, দিলরুবা দোয়েল, রফিকুল রুবেল, বাপ্পী প্রমুখ।

মেক্সিকোতে অপহরণের পর ৫ সংগীতশিল্পীকে খুন, গ্রেপ্তার ৯

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী রেইনোসা শহরে নিখোঁজ পাঁচ সংগীতশিল্পীকে অপহরণের পর হত্যা করেছে গালফ কার্টেলের সদস্যরা। মেক্সিকান কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

তামাউলিপাস রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ইরভিং বারিওস মোহিকা জানিয়েছেন, কুখ্যাত গালফ কার্টেলের ৯ সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়।

মোহিকা বলেন, ‘গ্রুপো ফিউজিটিভো’ নামে পরিচিত এই ব্যান্ডের সদস্যরা গত ২৫ মে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন। এরপরই তাদের পরিবার থেকে মুক্তিপণ দাবি করে অপরাধীরা।

মেক্সিকান আঞ্চলিক সংগীত পরিবেশন করা এই সংগীতশিল্পীদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তারা স্থানীয় পার্টি ও নাচের অনুষ্ঠানে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন।

সংগীতশিল্পীদের কি তাদের গানের জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি স্থানীয় সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত করছে মেক্সিকান পুলিশ।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গালফ কার্টেলকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেক্সিকো ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে মার্কিন দূতাবাস।
এতে রেইনোসাসহ একাধিক শহর পরিহার করতে বলা হয়, কারণ এসব এলাকায় ‘অপরাধ ও অপহরণের উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে।

আলাদা থাকছেন নুসরাত ও যশ

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন নুসরাত জাহান ও যশ দাশগুপ্ত। শোনা যাচ্ছে, তাদের সম্পর্ক নাকি অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেই চলেছেন তারা। তাদের সম্পর্ক তৈরির সময়ও হয়েছিল বিপুল আলোচনা।
তেমনই এখন যুগলের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে সরগরম টলিপাড়া। নায়ক-নায়িকার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকেই মিলেছিল আভাস। বড় ছেলেকে নিয়ে থাইল্যান্ড ঘুরতে যাওয়ার ছবি পোস্ট করেছিলেন যশ।

অন্যদিকে, নুসরত ঈশানকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গে।
সেখান থেকেই সন্দেহ আরো তীব্র হয়। তবে যশ-নুসরত চুপ। তারা একের পর এক ইনস্টাগ্রাম স্টোরি পোস্ট করে যাচ্ছেন। এরই মাঝে নতুন গুঞ্জন।
জানা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে এক বাড়িতে থাকছেন না তারা। কাজের জন্য নাকি একসঙ্গে সময় কাটানো। বাকি সময় তারা আলাদা আলাদাই থাকছেন। নায়কের প্রাক্তনকে কেন্দ্র করেই যত সমস্যার সূত্রপাত।

সেখান থেকেই তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছে।
যশ তার পুরনো আবাসনেই ফিরে গিয়েছেন। আর নুসরাত থাকছেন তার পাম এভিনিউয়ের বাড়িতে। কিছুদিন আগে এ প্রসঙ্গে অবশ্য যশ জানিয়েছিলেন, সবটাই রটনা। কিন্তু তাদের ঘনিষ্ঠসূত্র বলছে, কোনো কিছুই রটনা নয়। যশের মুম্বাইয়ে থাকাকালীন নায়কের পেছনে নাকি গুপ্তচরও লাগিয়েছিলেন নুসরাত। সেখান থেকেই সব সন্দেহের শুরু। একসঙ্গে থাকার জন্য নায়িকা নাকি বেশ কিছু শর্ত দিয়েছেন। তা নাকি যশ মানতে নারাজ।

মালয়েশিয়ায় সাত বাংলাদেশিসহ ৪৯ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার কাজাং এলাকায় অবৈধ ৯টি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৭ বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪৯ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। গতকাল (২৯ মে) আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের ৮৪ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তারা দেশটির কাজাং, সেলাঙ্গরের একটি অবৈধ শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৯ জনকে আটক করে কাগজপত্র যাচাই করে।
তাদের মধ্য থেকে অবৈধভাবে থাকার অপরাধে দেশটির ১২জনসহ ৬৭ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন মিয়ানমার, পাকিস্তানের ২ জন, ইন্দোনেশিয়া ৫ জন ও নেপাল, নাইজেরিয়া, চীন ও কম্বোডিয়া ১ জন করে রয়েছে।

আটককৃতদের দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ এর ধারা ৬(১)(c), ১৫(১)(c) এবং ইমিগ্রেশন রুলস ১৯৬৩ এর ৩৯(b) ধারা অনুযায়ী মামলা হবে।

ইসরায়েল সমর্থিত নতুন মার্কিন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান হামাসের

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। গোষ্ঠীটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রস্তাবটি হামাসের মূল দাবিগুলো পূরণ করেনি, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ও মানবিক সহায়তা পুনর্বহাল।

ইসরায়েল প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও, হামাস ‘অসন্তুষ্ট’

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবে ইসরায়েল সম্মতি দিয়েছে এবং এখন হামাসের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী হামাস দুই ধাপে ১০ জন জীবিত জিম্মি ও ১৮ জন মৃতদেহ ফিরিয়ে দেবে, বিনিময়ে ইসরায়েল ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি দেবে এবং কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেবে।

তবে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্রস্তাবে যুদ্ধ শেষ করার কোনো নিশ্চয়তা নেই, বরং আগের আলোচনার ধারাবাহিকতাও ভাঙা হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরো জানান, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে এবং শিগগিরই লিখিত প্রতিক্রিয়া দেবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে জিম্মিদের পরিবারকে জানান, তিনি উইটকফের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘হামাস শেষ জিম্মিকেও মুক্তি দেবে না আর আমরা গাজা ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না সবাইকে ফিরিয়ে আনা হয়।’ তার দপ্তর পরে জানায়, বৈঠকে এক সাংবাদিকের গোপনে রেকর্ডিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও নেতানিয়াহু প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন কি না সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি দেয়নি।

নেতানিয়াহু আগেও বলেছিলেন, ইসরায়েল কেবল তখনই যুদ্ধ শেষ করবে, যখন সব জিম্মি ফিরিয়ে আনা হবে, হামাস ধ্বংস বা নিরস্ত্র হবে এবং তাদের নেতাদের নির্বাসনে পাঠানো হবে।

এদিকে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৫৪ হাজার ২৪৯ জনের বেশি মানুষ, যার মধ্যে গত ১০ সপ্তাহেই নিহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার। বৃহস্পতিবার একদিনেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৪ জন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনা অভিযান ও স্থানত্যাগের নির্দেশে আরো ৬ লাখ মানুষ গাজায় পুনরায় উদ্বাস্তু হয়েছে। আইপিসি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটে রয়েছে এবং আসন্ন সময়ে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি যেটি ইসরায়েল অনুমোদন করেছে। আমরা আশা করছি, হামাসও সম্মত হবে, যাতে জিম্মিদের ঘরে ফেরানো যায়।’

তবে হামাস বলছে, যুদ্ধবিরতি কেবল তখনই বাস্তবসম্মত হবে যখন তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পূর্ণ অধিকার।

সূত্র : বিবিসি

আপিল আদালতের রায়ে ‘আপাতত বহাল’ ট্রাম্পের শুল্ক

এক দিন আগেই মার্কিন বাণিজ্য আদালত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কগুলোকে আইনি সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে রায় দিয়েছিল। তবে সেই রায়ের বিপরীতে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত ট্রাম্পের শুল্ক সাময়িকভাবে পুনর্বহাল করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আপিল আদালত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত করেছেন, তবে আগামী ৫ জুনের মধ্যে বাদীদের এবং ৯ জুনের মধ্যে প্রশাসনের কাছ থেকে জবাব চেয়েছেন আদালত।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে দায়ের করা জরুরি আবেদনে বলা হয়, এই শুল্ক স্থগিত হলে ‘জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
’

রায়ের পর হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, ‘আপনারা ধরে নিতে পারেন—আমরা যদি কোনো শুল্ক মামলায় হেরে যাই, তা-ও আমরা অন্য কোনো পথ খুঁজে বের করব।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের একটি ধারা ব্যবহার করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপের চিন্তা করছে। এ ব্যবস্থা বিভিন্ন দেশভিত্তিক নতুন শুল্কনীতিমালা তৈরির জন্য মার্কিন প্রশাসনকে পর্যাপ্ত সময় দেবে।

এই ধারা অনুসরণে প্রক্রিয়াটি হবে দীর্ঘ ও জটিল, তবে তা আইনি ভিত্তিকে আরো মজবুত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের চমকপ্রদ রায়ে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা কিছু শুল্ক আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন আইইইপিএ-এর আওতায় না পড়ায় তা আইনি সীমা লঙ্ঘন করেছে।

এই আইনটি সাধারণত জাতীয় জরুরি অবস্থায় নির্দিষ্ট দেশ বা সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।

মাত্র ছয় মাসেই চাকরি হারালেন এসি মিলান কোচ

ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলান তাদের প্রধান কোচ সার্জিও কনসেইকাওকে বরখাস্ত করেছে। মাত্র ছয় মাস আগে পাওলো ফনসেকার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১৮ মাসের চুক্তিতে ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ কোচ। তবে সিরি আ’তে অষ্টম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করায় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ হারায় মিলান, যার ফলে তাকে বিদায় জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

কনসেইকাওর অধীনে মিলান মৌসুমের শুরুতে ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতলেও পরবর্তী সময়ে কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে বোলোনিয়ার কাছে হেরে যায়।
পুরো মৌসুমজুড়ে দলটির পারফরম্যান্স হতাশাজনক হওয়ায় ক্লাবের শীর্ষ পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাবেক মিলান কোচ মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির আবারও সান সিরোতে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা চলছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্লাবটির কোচ ছিলেন তিনি এবং সেই সময়ে একাধিক ঘরোয়া ট্রফি জিতেছিলেন।

এসি মিলান এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ক্লাব ও কোচের যৌথ পথচলা আগামী মৌসুমে আর থাকছে না।
সার্জিও ও তার সহকারীদের ধন্যবাদ—তাদের নিষ্ঠা ও পেশাদারির জন্য। তিনি দলকে নিয়ে মিলানের ইতিহাসের ৫০তম ট্রফি জিতেছেন, আমরা তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।’

অন্যদিকে, এসি মিলানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলান এবার ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে জুলাই গ্রাফিতি উপহার দিলেন ড. ইউনূস

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবাকে জুলাই গ্রাফিতি বই ‘আর্ট অব ট্রিয়াম্ফ’ উপহার দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ শুক্রবার টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই উপহার তুলে দেন ড. ইউনূস।

ক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার কার্যালয়ে তাদের বেঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইশিবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড, শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের প্রচেষ্টা এবং জাতি গঠনের কর্মকাণ্ডে জাপানের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
জবাবে ড. ইউনূস জাপান সরকারকে বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে ধারাবাহিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

দুই দেশের নেতা একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান, যার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু, প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন, ব্যাটারিচালিত সাইকেল তৈরির কারখানা স্থাপন, তথ্য নিরাপত্তার পাইলট প্রকল্প চালু এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড)-এর সঙ্গে জমি চুক্তি, যা জাপানি বিনিয়োগে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) পারস্পরিক সুবিধাজনকভাবে সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ভারতে ৪ টন বিস্ফোরক লুট করল মাওবাদীরা, রাজ্যে আতঙ্ক

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের সুন্দরগড় জেলার এক নির্জন অঞ্চলে দুই ট্রাকভর্তি বিস্ফোরক লুট করেছে মাওবাদীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে, যার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বুধবার (২৮ মে) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের এক সশস্ত্র মাওবাদী দল ট্রাক দুটি আটক করে।
ট্রাকগুলো ইটমার কাছে একটি অস্ত্রাগার থেকে লাঙ্গালকাটা পাথর খাদানে বিস্ফোরক নিয়ে যাচ্ছিল। বন্দুকের মুখে চালকদের ট্রাক থামাতে বাধ্য করা হয় এবং একজন চালককে অল্প সময়ের জন্য অপহরণও করে তারা, তাকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মোট ৪ টন বিস্ফোরক লুট করেছে মাওবাদীরা।

ঘটনার পর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে।
পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ‘এখন পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’ ওড়িশার ওয়েস্ট রেঞ্জের উপ-পুলিশ প্রধান ব্রিজেশ রায় বলেছেন, এটি ছিল মাওবাদীদের দুঃসাহসিক একটি লুট। সশস্ত্র মাওবাদীরা গত ২৭ মে একটি বেসরকারি সংস্থায় নিয়ে যাওয়ার সময় দুই ট্রাক বিস্ফোরক লুট করতে সমর্থ হয়।
সেগুলোর মধ্যে ২০০টি বাক্সে গেলাটিন ছিল।
লুটের ঘটনার পর সেখানকার কে বালাং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এত বিস্ফোরক পরিবহনের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল কি না এখন সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর ওড়িশার স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। তবে এত বড় পরিমাণে বিস্ফোরক লুটের ঘটনা এই অঞ্চলে নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিস্ফোরকগুলো মাওবাদীরা তাদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করতে পারে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

সূত্র : এনডিটিভি