বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

নিজেকে মারতে ‘পেশাদার খুনি’ ভাড়া করেছিলেন জোলি!

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বিশ্বজোড়া খ্যাতি তার। হলিউডে নারীকেন্দ্রিক সিনেমাকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছেন তিনি। দিয়েছেন একের পর এক হিট সিনেমা।
তবে অভিনয় জীবন শুরুর আগে সময়টা একেবারেই মসৃণ ছিল না এ তারকার। ডুবে ছিলেন প্রচণ্ড হতাশায়। এমনকী আত্মহত্যারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

একসময় নিজের জীবনের ইতি টানতে নিজেই ভাড়া করেছিলেন একজন ‘কিলার’! জোলির বয়স যখন প্রায় ১৯ বছর, তখন তিনি গভীর মানসিক সংকটে ভুগছিলেন।
তার জীবন এতটাই হতাশাময় হয়ে উঠেছিল যে, তিনি নিজে আত্মহত্যা করার সাহস পাচ্ছিলেন না। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তিনি এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেন– একজন পেশাদার খুনী ভাড়া করার। জোলি সেই সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ভেবেছিলেন যদি কেউ তাকে খুন করে, তাহলে তার মৃত্যুর দায়ভার তার নিজের উপর থাকবে না এবং এতে তার পরিবারও কম কষ্ট পাবে। তিনি একজন পেশাদারকে খুঁজে বের করেছিলেন এবং তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করার অনুরোধ করেছিলেন।

তবে, সেই কিলারের কাজ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। জোলি বলেছিলেন যে, সেই ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে তার উপর নজর রেখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করেছিলেন যে, জোলিকে হত্যা করা সঠিক হবে না। এরপরই জোলি ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন এবং জীবনকে নতুন করে দেখতে শেখেন।

এই ঘটনা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সময়কে তুলে ধরে।
তার এই স্বীকারোক্তি কেবল তার সাহসী ব্যক্তিত্বেরই প্রমাণ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য এবং বিষণ্ণতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার গুরুত্বও তুলে ধরে। আজ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি একজন সফল অভিনেত্রী, পরিচালক এবং সমাজকর্মী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার জীবন সংগ্রামের এই গল্প অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

বর্তমানে ছয় সন্তানের মা অ্যাঞ্জেলিনা। মা হিসেবেই নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল ও শরণার্থী শিবিরে কাজ করেছেন। নারী অধিকার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পক্ষে বারবার সোচ্চার হয়েছেন।

চতুর্থ দিনে বিক্ষোভ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় চলমান বিক্ষোভের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য আসা পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার আরো এক ধাপ বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার থেকে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরুর পরই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী বিতাড়নের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় শত শত বিক্ষোভকারী লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে জড়ো হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে। সেখানে আটক রয়েছে বহু অভিবাসী।
জাতীয় রক্ষী বাহিনী মানব প্রাচীর তৈরি করে ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ‘লেস লেথাল’ বা কম প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এলএপিডি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের দিকে বস্তু নিক্ষেপ শুরু করলে তারা এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পায়। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় পুলিশ জানায়, ‘লেস লেথাল মিউনিশন ব্যথা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
’

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকার জাতীয় রক্ষী ও মেরিন সেনা মোতায়েন ঠেকাতে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং রাজ্য সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

অতীতে মার্কিন মেরিন সেনারা শুধুমাত্র বড় দুর্যোগের সময়—যেমন হারিকেন ক্যাটরিনা ও ৯/১১ হামলার পরে—দেশের অভ্যন্তরে মোতায়েন হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ১৮০৭ সালের ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেনি, যা সেনাদের সরাসরি আইন প্রয়োগকারী হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

পেন্টাগন সোমবার নিশ্চিত করে, লস অ্যাঞ্জেলেসে ২০০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের উপস্থিতি বাড়িয়ে ৪০০০ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর কোনো উপায় দেখছিলাম না। সহিংসতা যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত।’

এ ছাড়া ট্রাম্প তার সীমান্ত নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম হোম্যানের প্রস্তাবে সমর্থন দেন, যেখানে বলা হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমকে তার প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা উচিত। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হলে তাই করতাম। দারুণ প্রস্তাব।’

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি পদক্ষেপ।

চতুর্থ দিনের বিক্ষোভে উত্তেজনা

চার দিন ধরে চলা বিক্ষোভে কিছু যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সেলফ-ড্রাইভিং ওয়েমো গাড়িও ছিল। শনিবার ও রবিবার সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং পাঁচটি পুলিশ ঘোড়া আহত হয়েছে বলে এলএপিডি জানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্রি দেম অল’ স্লোগানে ফেডারেল আটক কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। মেক্সিকো ও হন্ডুরাস থেকে আগত অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া মারজিতা সেরাতো (৪২) বলেন, ‘এটা শুধু অভিবাসীদের ব্যাপার নয়—এটা প্রত্যেক আমেরিকানের ব্যাপার, যারা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়।’

বিক্ষোভে কিছু অংশগ্রহণকারী এক ট্রাম্প সমর্থককে ঘুষি মারে ও ডিম ছুঁড়ে মারে। কেউ কেউ গাড়ি থেকে ফেডারেল ভবনে পেইন্টবলও ছোড়ে। একইদিনে আরো অন্তত ৯টি শহরে বিক্ষোভ হয়—এর মধ্যে নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া ও সান ফ্রান্সিসকো রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাটিক শহরগুলোকে দোষারোপ করেছে, যারা নাকি অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প প্রতিদিন কমপক্ষে তিন হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ১৯৯২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে রডনি কিং কাণ্ডে দাঙ্গার সময় সর্বশেষ ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছিল, যেখানে ৫০ জনের বেশি নিহত হয় এবং এক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদ্রোহ, বিদ্রোহের আশঙ্কা, কিংবা আইন প্রয়োগে অক্ষমতা দেখা দিলে প্রেসিডেন্ট জাতীয় রক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে পারেন।

সূত্র : রয়টার্স

বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে এবার লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুই দেশের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার ল্যাঞ্চেস্টার হাউসের এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। অন্যদিকে, চীনের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করছেন উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। খবর আলজাজিরার

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দুই দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এ কারণে দুই দেশের মধ্যে নতুন এই বাণিজ্য আলোচনা কী ফল বয়ে আনে; সেদিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।

বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চীনের বিরল খনিজ রপ্তানির বিষয়টির পাশাপাশি কম্পিউটার চিপসহ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে চীনের অভিগম্যতার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন সাময়িকভাবে বাণিজ্যশুল্ক স্থগিত করতে সম্মত হয়। এর পর থেকেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে এই চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর লন্ডনে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন দফায় এই বৈঠক হচ্ছে। তবে ওই ফোনালাপে দুই নেতা পরস্পরের দেশে সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলাপকে ট্রাম্প ‘খুবই ভালো আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

গত মে মাসে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আলোচনায় শুল্ক কমায় অগ্রগতি হলেও চীনের খনিজ সম্পদ ও চুম্বক রপ্তানির বিষয়টিতে কোনো সুরাহা হয়নি।
সে কারণে সোমবারের বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য স্থান পাচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য সফর ঘিরে সরব লন্ডন

চার দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে আসছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস। সফরকালে বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি রাজা চার্লসের হাত থেকে গ্রহণ করবেন ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নেবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ১৩ জুন বৈঠকের গুঞ্জন থাকলেও গতকাল পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে নির্বাচন ঘোষণা না করায় ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো আগ্রহ নেই তারেক রহমানের। যদিও গতকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম বিএনপির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রচার করছে যে, আগামী ১৩ জুন একটি হোটেলে এই সাক্ষাৎ হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।
লন্ডনের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে প্রধান উপদেষ্টা ও তারেক রহমানের সাক্ষাতের বিষয়টি।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরকে ঘিরে ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি খুবই সরব, চলছে নানা আলোচনা-বিতর্ক। কারণ শুরুতেই, যুক্তরাজ্যে ড. ইউনূসের আগমনকে সামনে রেখে আয়োজিত নাগরিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানটি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল করেছে হাইকমিশন ও ড. ইউনূসের শুভানুধ্যায়ীগণ। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তুমুল বাধার মুখে পড়ার ভয়ে আপাতত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, উক্ত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান মাত্র ২০০ জন অতিথি নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ড. ইউনূস আসার পর ১০ থেকে ১৫ জনকে নিয়ে স্বল্প পরিসরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

লন্ডন সময় সকাল ৭টায় লন্ডনের যে হোটেলে তিনি উঠবেন, সেখানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী জড়ো হতে শুরু করেছেন বিক্ষোভ করতে।

ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। আগামী ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।
দেশের সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি নিয়ে চর্চা হচ্ছে গত কিছুদিন। কিন্তু কিংস ফাউন্ডেশনের প্রদত্ত এই অ্যাওয়ার্ডসের জন্য ২০২৫ সালের মনোনীতদের তালিকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রশ্নটি তুলেছেন অনেকেই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য কিংস ফাউন্ডেশন এই বছরের পুরস্কারের জন্য ২৫ জন মনোনীত ব্যক্তির নাম ঘোষণা করেছে। গত ২১ মের পর এই তালিকাটি আর আপডেট বা হালনাগাদ করা হয়নি।

দ্য কিংস ফাউন্ডেশনের চূড়ান্ত মনোনয়নের পর নতুন করে কেন ড. ইউনূসকে এই সম্মাননার জন্য বিবেচনা করা হলো আর তিনি যদি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়ে থাকেন, তবে তালিকায় এখন পর্যন্ত কেন তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলো না? কিংস ফাউন্ডেশনের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার এমন ‘খামখেয়ালিপনা’ নিয়ে রহস্য তৈরি হতেই পারে। প্রশ্ন উঠেছে, কবে, কখন এবং কিভাবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত এবং মনোনীত হলেন।

বিদেশি একটা সংবাদমাধ্যম বলছে, গত এপ্রিলে আর্থনা সামিটে অংশগ্রহণ করতে কাতার সফর করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই সফরে তিনি কিং চার্লস ফাউন্ডেশনের সিইও ক্রিস্টিনা মুরিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমটি প্রশ্ন তুলেছে সেদিন মধ্যাহ্নভোজের সভায় কি ইউনূসের নাম পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল? সংবাদ থেকে আমরা জানতে পারি, ওই ভোজসভায় স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। আর এই বৈঠকেই বাংলাদেশে স্টারলিংকসের বাণিজ্যিক উদ্বোধনের ক্ষেত্রে জটিলতাগুলো সমাধান করা হয়েছিল এবং ইলন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থাকে আন্তরিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য সব পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, হয়তো বা কিংস ফাউন্ডেশনের সিও ক্রিস্টিনা মুরিনের সঙ্গে ইউনূসের সাক্ষাতের সময়ের নতুন করে হারমনি অ্যাওয়ার্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার নাম সংযোজন করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, দোহায় গৃহীত এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কি আয়োজকদের সঠিকভাবে জানানো হয়নি? আর যদি জানানো হয়ে থাকে, তাহলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দোহা বৈঠকের পর তো অনেক সময় পাওয়া গেছে, তবু কেন কিংস ফাউন্ডেশন পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আজ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করেনি? তাই ঠিক কোন প্রক্রিয়া বা সত্যিকার অর্থেই তিনি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন কি না এই বিতর্ক মানুষের মুখে মুখে। এমনকি চ্যাথাম হাউসের আলোচনায় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি প্রতিষ্ঠানটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশন তালিকা যাচাই-বাচাই করে শুধু এক পক্ষের মানুষকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিফর্ম বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন ড. ইউনূসকে স্বাগত জানিয়ে একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বার্তা তারা পাঠ করবেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। যারা আয়োজনের ডাক দিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা বিতর্ক আছে কমিউনিটিতে, তাদের একজন ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এক সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। একজন বিএনপির, অনেকেই জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

বিএনপি পক্ষে-বিপক্ষে কোনো বক্তব্য দেয়নি বা অবস্থান নেয়নি। তবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ চার দিনের সফরসূচিকে ঘিরে উদ্যোগ নিয়েছে বিক্ষোভ সমাবেশের। টিউলিপ সিদ্দিকের চায়ের দাওয়াত, আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ, রিফর্ম বাংলাদেশের স্বাগত জানানো— সব কিছু মিলে প্রধান উপদেষ্টার সফর ঘিরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

২৯ বছরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পুরান

বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটার নিকোলাস পুরান মাত্র ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর এই বাঁহাতি ব্যাটার ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৬৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তবে বিভিন্ন বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরান।

ইতোমধ্যে চলমান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ব্যস্ত সূচির পর, আসন্ন গ্রীষ্মে তিনি মেজর লীগ ক্রিকেট (এমএলসি) এবং দ্য হান্ড্রেড-এ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

পুরানের বিদায় নিয়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা নিকোলাসের কৃতিত্বকে সম্মান জানাই এবং মাঠে ও মাঠের বাইরে তার অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনে তার নতুন যাত্রার জন্য শুভকামনা রইলো।’

যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলার উদাহরণ নতুন নয় — সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার হেনরিখ ক্লাসেনও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পুরান শেষবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে খেলেছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এছাড়া ২০২৩ সালের জুলাই মাসের পর থেকে ওডিআই খেলেননি তিনি। তবে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে কখনোই অংশ নেননি এই তারকা খেলোয়াড়।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৬ ম্যাচ খেলে রেকর্ড ২,২৭৫ রান করেছেন পুরান।

এই নিয়ে সীমিত সংস্করণের এই ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে গত দশ দিনে বিদায় নিলেন তিন তারকা ক্রিকেটার। পুরানের পাশাপাশি অবসর নিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হেনরিখ ক্লাসেন।

ইসরায়েলের আগ্রাসনে পুড়ছে গাজা, এক দিনে নিহত ৬০

গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। ব্যাপক হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি বিমান হামলায় তিনজন চিকিৎসাকর্মী নিহত হন। একই ঘটনায় দুইজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং আরো অনেকে আহত হন।
আল-রাশিদ বা আল-সাহিলি স্ট্রিটের নাবুলসি জংশনের কাছে আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশে ইসরায়েলি হামলায় আরো আহতের খবর পাওয়া গেছে। শহরের উত্তরে আস-সাফতাওয়ি এলাকায় গোলাবর্ষণে আবারও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রাফাহর শাকুশ ও আল-আলম এলাকায় একটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে ১৩ জন ত্রাণপ্রত্যাশী নিহত হন। একই এলাকায় অন্য একটি বিমান হামলায় আরো তিনজন প্রাণ হারান।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা প্রদানকারী জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ জানিয়েছে, গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার বর্তমানে চরম বিপদের মধ্যে আছে। গত তিন মাস ধরে ইসরায়েল নিরাপদ ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘আমরা অসম্ভব কিছু চাইছি না। আমাদের কাজ করতে দিন—মানুষকে সাহায্য করুন এবং তাদের মর্যাদা বজায় রাখুন।
’

ইসরায়েল ইউএনআরডাব্লিউএ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকে গাজায় কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করেছে, যার ফলে খাদ্য, পানি ও ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুধু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ কিছু ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে পারলেও, সেখানে পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিতরণের আশঙ্কা উঠেছে।

হামাস ‘ম্যাডলিন’ নামক একটি ত্রাণবাহী জাহাজে হস্তক্ষেপ না করতে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে এবং জাহাজে থাকা কর্মীদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক মানবিক সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি ত্রাণ প্রবেশে বাধা চলতেই থাকে, তবে গাজায় শিগগিরই দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। লুটপাট, বিশৃঙ্খলা এবং ইসরায়েলি বাধার কারণে দুই মিলিয়ন গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ সরবরাহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইউএনআরডাব্লিউএ জানিয়েছে, মার্চের ২ তারিখ থেকে ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর এপ্রিল পর্যন্ত কোনো সাহায্য পৌঁছায়নি। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা না থাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে।

ডেঙ্গুতে আরো ২৮ জন আক্রান্ত

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ১৮ এবং ঢাকায় বাইরে চট্টগ্রামে ১০ জন ভর্তি হয়েছে। তবে একই সময়ে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৩ জন।

করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি সতর্কতা

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনার নতুন সাব-ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরিত সতর্ক বার্তায় বলা হয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন সাব-ভেরিয়েন্ট, বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ. ৭, এক্সএফজি, জেএন-১ এবং এনবি ১.৮.১ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারত এবং অন্যান্য সংক্রামক দেশে ভ্রমণকারী নাগরিকদের জন্য দেশের সব স্থল, নৌ, বিমানবন্দরের আইএইচআর ডেস্কে নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবেলায় কিছু কার্যক্রম নিতে হবে।

দেশে প্রবেশের পথের জন্য নির্দেশনা—

১. দেশের বিভিন্ন স্থল/নৌ/ বিমানবন্দরগুলোতে আইএইচআর (IHR-2005) স্বাস্থ্য ডেস্কসমূহে সতর্ক থাকা, হেলথ স্ক্রিনিং এবং সার্ভেইল্যান্স জোরদার করুন।

২. দেশের পয়েন্টস অব এন্ট্রিসমূহে থার্মাল স্কান্যার/ডিজিটাল হেন্ড হেল্ড থার্মোমিটারের মাধ্যমে নন টাচ টেকনিকে তাপমাত্রা নির্ণয় করুন।

৩. চিকিৎসাকাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মাস্ক, গ্লাভস এবং রোগ প্রতিরোধী পোশাক মজুত রাখুন (পিপিই)।

৪. ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোগ প্রতিরোধ নির্দেশনাগুলো প্রচার করুন।

৫. জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ভারত ও অন্যান্য আক্রান্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

সবার জন্য সাধারণ পরামর্শ

১. সাতবার প্রয়োজনমতো সাবান দিয়ে হাত ধোবেন (অন্তত ২৩ সেকেন্ড)।

২. নাক-মুখ ঢাকায় জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকতে হবে

৪. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না

৫. হাঁচি-কাশির সময় বাহু/টিস্যু/ কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখুন।

সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়

১. অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, মারাত্মক অসুস্থ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

২. রোগীর নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।

৩. প্রয়োজন হলে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন (০১৪০১-১৯৬২৯৩)

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুই দিন করোনায় সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।

দেশে আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম বলেছেন, দেশে আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত রাজনীতির ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ‘প্রতিবন্ধক’ হিসেবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনো কিছুতে অন্ধ বিশ্বাস না করে সমালোচনামূলক বিচার-বুদ্ধি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

স্থানীয় কোনো অপশক্তিকেই ফেরাউন, নমরুদ বা শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি শক্তিশালী ভাবার কারণ নেই। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে না দাঁড়ালে পুরনো দমনমূলক ব্যবস্থা আবারো ফিরে আসবে।

আজ সোমবার (৯ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) মিলনায়তনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ঠাকুরগাঁও চিরন্তন’ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, আপনাদের কাছে একটা আহ্বান, অনুগ্রহ করে কাউকে এত বড় মনে করবেন না, এত শক্তিশালী মনে করবেন না যে সে ফেরাউন বা নমরুদ বা হাসিনার চেয়ে এই মুহূর্তে আপনাদের ঠাকুরগাঁয় শক্তিশালী। সো যেকোনো অন্যায়, অপকর্ম এগুলো আমাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। সবার খারাপ আমলনামাগুলো মানুষের সামনে প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের ঠাকুরগাঁওয়ের কথাই চিন্তা করেন। আপনাদের ঠাকুরগাঁওয়ে এখনও চাঁদাবাজি হয়, দখলদারিত্ব হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার হয়, ব্যাপক মাত্রায় মামলা বাণিজ্যও হয়। মামলা দেয়ার আগে ফোন দিয়ে বলে যে নাম না দিতে চাইলে টাকা দেন। নাম দিয়ে দেওয়ার পরে বলে নাম কাটানোর জন্য টাকা দেন।
এরপরে যখন নাম কাটানো হয় না, তখন বলে জামিন নেওয়ার জন্য টাকা দেন। এই চক্রটা পুরো বাংলাদেশেই চলছে। সো এই চক্রটা এই মুহূর্তে কিন্তু আওয়ামী লীগের কেউ করছে না। তাহলে কেউ না কেউ করছে। তাহলে যারা করছে, আমি যদি তাদেরকে এস্টাবলিশ হতে দেই, সে শেখ হাসিনার চেয়ে, সে বা তিনি বা তারা শেখ হাসিনার চেয়ে এই মুহূর্তে বেশি শক্তিশালী না।
শেখ হাসিনা তার সময়ে যত শক্তিশালী ছিল, তার চেয়ে শক্তিশালী না। কিন্তু আমরা যদি আমাদের জায়গা থেকে ভয়েসটা রেইজ না করি, সেটা শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে ক্ষেত্রে না, পুরো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, এই সিস্টেমগুলো রি-এস্টাবলিশ হবে।

ঠাকুরগাঁও চিরন্তনের সভাপতি সুজন আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শহীদুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন।

‘বাংলাদেশকে নিয়ে ভীত নই, আমরাও চ্যালেঞ্জিং দল’

ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ, বিশ্বাস হাভিয়ের কাবরেরা। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিতে তিন পয়েন্ট পকেটে পুরার কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। বাংলাদেশের কোচ-অধিনায়ক যাদের বিপক্ষে জিততে চাচ্ছে তারা অবশ্য ছেড়ে কথা বলছেন না।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে যেমন এক রকম হুংকারই দিলেন সিঙ্গাপুরের কোচ সুতোমু ওগুরা।
বাংলাদেশকে ভয় পাচ্ছেন না তারা। সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কোচ আরো জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ঘুরতে আসেননি তারা।

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ নিয়ে সুতোমু বলেছেন, ‘ম্যাচ ঘিরে সবার মনোযোগ দেখে বুঝতে পারছি, বাংলাদেশ ভালো দল। আমাদের প্রস্তুতিও ভালো।
শুধু আগামীকালের ম্যাচ নয়, এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত এই ম্যাচেই আমাদের মূল মনোযোগ। বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে তাদের নিয়ে ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমরাও চ্যালেঞ্জিং দল।

জয়ের বিষয়ে সরাসরি না বললেও ইঙ্গিতে তিন পয়েন্টকেই বুঝিয়েছেন সুতোমু। সিঙ্গাপুরের কোচ বলেছেন, ‘দেড় বছর হচ্ছে সিঙ্গাপুরের দায়িত্বে আছি। বাংলাদেশে খেলে গেছে আমাদের অধিনায়ক হারিস হারুন। মালদ্বীপের বিপক্ষে পাওয়া জয়ে আমাদের প্রস্তুতি পুরোপুরি হয়েছে কিনা, তা বলতে পারব না। কারণ, আমার কাছে অ্যাওয়ে ম্যাচ কঠিন।
আশা করি, এখানে আমরা টুরিস্ট হব না। বাংলাদেশকে ভয় পাব না। ভালো একটা ম্যাচ খেলার চেষ্টা করব আমরা।’

হামজা চৌধুরী, ফাহমিদুল ইসলাম ও সোমিত সোমদের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ায় স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করেছেন সুতোমু। জাপানি কোচ বলেছেন, ‘হামজাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। শুনেছি বাংলাদেশ দলে কজন প্রবাসী খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে। কানাডা, ইতালি থেকে এসেছে। অবশ্যই তাদের আগমন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। স্থানীয় খেলোয়াড়রাও তাদের পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হবে।’