বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদ ফ্রিজ করেছে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে থাকা সম্পত্তি ফ্রিজ করেছে দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। আলজাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটকে (আই-ইউনিট) এনসিএর একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিএ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সাইফুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অর্থপাচারের মামলা তদন্তাধীন।

এনসিএর একজন মুখপাত্র আই-ইউনিটকে দেওয়া বিবৃতিতে সম্পদ ফ্রিজের আদেশ নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে একটি চলমান আইনি তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিএ বেশ কিছু সম্পত্তির বিরুদ্ধে ফ্রিজিং অর্ডার জারি করেছে।’ এই আদেশের ফলে চৌধুরী তাঁর এসব সম্পদ বিক্রি করতে পারবেন না।

অনুসন্ধানে আই-ইউনিট নিশ্চিত করেছে, লন্ডনের অভিজাত সেন্ট জনস উড এলাকায় এক কোটি ১০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি এই ফ্রিজিং আদেশের আওতায় পড়ছে।
ওই বাড়িতেই আলজাজিরার ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর বৈশ্বিক সম্পদ সাম্রাজ্য, ব্যয়বহুল পোশাক ও বিলাসী জীবনযাত্রা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। আলজাজিরার সাংবাদিককে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সন্তানের মতো। উনি জানেন আমি এখানে ব্যবসা করি।’ তিনি নিজেকে শেখ হাসিনার ‘ঘনিষ্ঠ পারিবারিক আত্মীয়’ বলেও দাবি করেন।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে একজন নাগরিক বছরে মাত্র ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত দেশের বাইরে নিতে পারেন। কিন্তু আলজাজিরার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী লন্ডন, দুবাই ও নিউইয়র্কে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ কিনেছেন। এসব সম্পদের কোনোটিই বাংলাদেশে করদাতার বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর পর থেকেই দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লোপাটের অভিযোগে তাঁর সরকারের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন, যিনি হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়েছেন।

কারফিউ ভেঙে গণবিক্ষোভ উত্তাল লস অ্যাঞ্জেলেস

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে এসেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ৮টা থেকে কারফিউ শুরু হয়, কিন্তু তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পাঁচ দিনের বিক্ষোভে যেভাবে অস্থিরতা বেড়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় এই কারফিউ জারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। শহরটির মেয়র ক্যারেন ব্যাস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসে ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শহরজুড়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। আমি আগামীকাল নির্বাচিত নেতা ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। ধারণা করছি, কারফিউ কয়েক দিন চলবে।’

এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি শহরে।
এর মধ্যে নিউইয়র্ক ও টেক্সাসের একাধিক শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টেক্সাসেও মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়, অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক, টেক্সাসের একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কে বিক্ষোভ বেশির ভাগই শান্তিপূর্ণ।
তবে একাধিক গ্রেপ্তার উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

যে কারণে বিক্ষোভ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে নথিবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর যে প্রকল্প নিয়েছেন, সেখানে প্রথম বড় ধরনের বাধা এসেছে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে। গত পাঁচ দিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলাটি। যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি দপ্তর মতে, খোদ লস অ্যাঞ্জেলেস সিটিতেই বসবাস করেন প্রায় ৯ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
আবার শহরটিতে বৈধ-অবৈধ অভিবাসনের ব্যাপারটি বেশ গোলমেলে। কারণ লস অ্যাঞ্জেলেসে এমন বহু অভিবাসী পরিবার রয়েছে, যেখানে এক বাড়িতে বসবাসকারী লোকজনের কারো বৈধ নথি রয়েছে, আবার কারো নেই। গত ৬ জুন শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলি এলাকা প্যারামাউন্টে নথিবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করতে অভিযানে নামেন পুলিশ ও আইসিই সদস্যরা। তবে অভিযানের শুরুতেই তাঁরা ব্যাপক প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। প্যারামাউন্টের বাসিন্দারা তীব্র বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশ ও আইসিই সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, বোতল ও মলোটভ ককটেল বা প্যাট্রলবোমা ছুড়তে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পরের দিন পুলিশ ও আইসিই সদস্যদের সহায়তার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আধা সামরিক বাহিনী হাজার ন্যাশনাল গার্ডের দুই হাজার সদস্যকে মোতায়েনের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটার পরিবর্তে সংঘাত আরো বাড়তে থাকে। এই অবস্থায় ৯ জুন সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরো দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড এবং তাদের সঙ্গে ৭০০ মেরিন সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা গভর্নরের : ট্রাম্পের এমন সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। তিনি সেনা মোতায়েনকে ‘অপ্রয়োজনীয়, অবৈধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন। এক ভাষণে গভর্নর নিউজম বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের পক্ষে। আমাদের উচিত এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।’

হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) গত ১৫ বছরে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই সময়ে অন্তত হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের ১১ বছরের সময়কালে বেশির ভাগ দুর্নীতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ অডিট রিপোর্টে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার অপব্যয় এবং অবৈধ খরচের তথ্য উঠে এসেছে।
এর মধ্যে সরকারের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৩৭২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৭ টাকা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে খরচ করা হয়েছে ৫১৮ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯৮ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ১৩৪ খাতে এসব অনিয়ম করা হয়েছে। আজও সেই অডিট আপত্তির নিষ্পত্তি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবই ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সদস্যসচিব প্রতিষ্ঠানটির সচিব মো. ইসমাইল হোসেন। কমিটিকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামীম মোহাম্মদ আফজাল ২০০৯ সালের শুরুতে নিয়োগ পেয়ে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব খাতভুক্ত প্রথম শ্রেণির ১২টি পদে ৪৭ জনকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগে কোনো বিধি-বিধান মানা হয়নি।

তদন্তের বিষয়ে ইফার ডিজি আ. ছালাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটির সদস্যসচিব হজ টিমে সৌদি আরবে আছেন। হজ শেষে ফেরার পর তদন্ত শুরু হবে।
তাঁদের সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১২ সালের ওই নিয়োগের সুপারিশপত্রে সই করেননি কমিটির সদস্যসচিব, জনপ্রশাসন, অর্থ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তদের মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো এবং সর্বনিম্ন নম্বরপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ নম্বর দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের যোগ্যতা ছিল ছাত্রলীগের পরিচয়। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকেই আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ কমিটির প্রভাবশালী দুই সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও সামীম আফজালের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এই নিয়োগের সিলেকশন কমিটির কার্যবিবরণী ঘেঁটে পাওয়া গেছে নানা অনিয়ম, যা কালের কণ্ঠের কাছে সংরক্ষিত আছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজিকে সভাপতি, সচিবকে সদস্যসচিব ও বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের পাঁচজন সদস্য এবং তৎকালীন ডিজির অনুগত ছয় পরিচালক নিয়ে গঠিত হয় নিয়োগ কমিটি। এই কমিটির সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি। গোলাম মওলা নকশেবন্দী ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। বর্তমানে তিনি পলাতক।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ছিলেন গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্টের সহযোগী। তিনিও পলাতক। সিরাজউদ্দিন আহমেদ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। আওয়ামী লীগপন্থী সচিব আজিজুর রহমান মারা গেছেন। ডিজিসহ এই পাঁচজন নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগের সুপারিশপত্রে সই করেন। আবার বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের সভায় উপস্থিত থেকে তাঁরাই ওই সুপারিশ অনুমোদন করেন।

এ ব্যাপারে নিয়োগের সুপারিশপত্রে স্বাক্ষরকারী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন পরিচালক ডা. খিজির হায়াত খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই নিয়োগটি নিয়ম মেনে করা হয়নি। এ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক ছিল।’

এই নিয়োগ ছিল পুরোপুরি দলীয়। নিয়োগ পাওয়া সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। মশিউর রহমান ভূঁইয়া, তহমিনা ইয়াসমিন ও মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। রিজাউল করিম, সাখাওয়াত হোসেন, সাহাবুদ্দিন ও মহিউদ্দিন পাটোয়ারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা, মোস্তাফিজুর রহমান কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা এবং মশিউর রহমান (সমাজবিজ্ঞান প্রশিক্ষক) হাজী দানেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান, জাকের হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও জামাল উদ্দিনকে দলীয় পরিচয় ও সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে কমপক্ষে আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সহকারী পরিচালক সুজন আহমেদ চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, মনিরুজ্জামান, আশেকুর রহমান, সৈয়দ সাবিহা ইসলাম, তহমিনা ইয়াসমিন (মৌলভীবাজার জেলা কোটায় নিয়োগকৃত), ফাহমিদা বেগম (কক্সবাজার জেলা কোটায় নিয়োগকৃত) এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগকৃত শাহ আলম। এ ছাড়া সহকারী পরিচালক চাঁদপুরের আবদুল্লাহ আল মামুনকে গাজীপুর জেলা কোটায় চাকরি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম এ বারী বলেন, ‘এই নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষায় পেন্সিল দিয়ে নম্বর দেওয়া হয়, নম্বরপত্র ঘষামাজা করা হয়। অনেকের শিক্ষা সনদ ও অভিজ্ঞতার সনদ জাল। অনেককে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করা উচিত।’

জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ১৫ বছরে যাঁরা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মানুষকে হতাশ করবে। ইফার দুর্নীতি নিয়ে বহু প্রতিবেদনও হয়েছে, কিন্তু কার্যকর তদন্ত হয়নি। যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে এবং অডিটে ধরা পড়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

নিষ্পত্তি হয়নি অডিট আপত্তি : সাবেক ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের সময়ে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও পদোন্নতি, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ফেরত না দিয়ে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন, কেনাকাটায় অনিয়ম, অনুমোদন ছাড়া পেনশন ফান্ডে টাকা স্থানান্তরসহ ইফার বিভিন্ন কার্যক্রমে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালের ৮ জুলাই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ নিরীক্ষা দল গঠন করে সিভিল অডিট অধিদপ্তর। ৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই নিরীক্ষা চলে। অডিট অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম নিয়ামুল পারভেজের নেতৃত্বে এই টিমের অন্য সদস্যরা হলেন অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, অডিটর মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. ইমাম হোসেন।

এই টিম কর্তৃক এক মাসের নিরীক্ষায় ইফার বিভিন্ন প্রকল্পসহ ব্যয়ের অনেক খাতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়ে। ১৮৬ পৃষ্ঠার প্রাথমিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ১৩৪টি খাতে ২০০৯-২০১৮ অর্থবছরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ সময় তড়িঘড়ি করে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পের অব্যয়িত ৭৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—এমন খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আর্থিক বছরের শেষ দিনে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ৬৪ জেলায় অর্থ ছাড় করা হয় ৩১ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ২২০ টাকা, যা অনিয়ম। আর্থিক বছর শেষে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে না দেওয়ায় ক্ষতি ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৩ টাকা। গণশিক্ষা কেন্দ্রের জন্য পাঠ্যবই মুদ্রণে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৭ টাকা এবং কোরআনুল কারিম মুদ্রণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়ায় ১২ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৪১৭ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কার্যাদেশের পরিমাণের চেয়ে কম কোরআন শরিফ নেওয়ায় ক্ষতি হয়েছে তিন কোটি ৩২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। বোগদাদিয়া কায়দায় ক্ষতি এক কোটি টাকা। জিওবির বরাদ্দের অব্যয়িত টাকা জমা না দেওয়ায় ২২ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার ৫০৯ টাকা এবং সিপিটিইউয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ছাড়াই বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানকে ১৬ কোটি ৩০ লাখ ১০০ টাকা দেওয়া হয়।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন খাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫১৮ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। এসব খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ১৩৭ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ইফার পেনশন ফান্ডে ১৪১ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

ট্রাম্পকে নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়ে অনুতপ্ত ধনকুবের মাস্ক

ইলন মাস্ক সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক যে তলানিতে তারই ইঙ্গিত ছিল এগুলো। তবে সেসব মন্তব্যের জন্য এখন অনুশোচনা করছেন মাস্ক। নিজেই বিতর্ক উসকে দেওয়ার কয়েক দিন পর মাস্ক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
গতকাল বুধবার এক্স হ্যান্ডলে মাস্ক লিখেছেন, ‘গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে আমার কিছু পোস্টের জন্য আমি অনুতপ্ত। সেগুলো একটু বেশিই বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছিল।’

এই বিরোধের সূত্রপাত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ব্যয় বিল নিয়ে মাস্কের মন্তব্য থেকে। এই বিলটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভ্যন্তরীণ এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দু বলে বিবেচিত হয়েছিল।
মাস্ক এই বিলটিকে ‘ঘৃণ্য জঘন্য কাজ’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং এর সমর্থনকারী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধের আহবান জানিয়েছিলেন।

গত শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাস্ককে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি মাস্ক বর্তমান রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অর্থায়ন করেন, তবে তাঁকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি (ডিওজিই)’-এর প্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে মাস্কের প্রশংসা করেছিলেন। এই উপদেষ্টা সংস্থাটি ফেডারেল ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
সরকারি ব্যয়ের দিকনির্দেশনা নিয়ে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করে মাস্ক এই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

পদত্যাগ করার কয়েক দিনের মধ্যেই মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন আইন নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা শুরু করেন। তাঁর পোস্টগুলো তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ট্রাম্প মাস্কের বিরুদ্ধে ‘অকৃতজ্ঞতার’ অভিযোগ তোলেন। মাস্কের কম্পানিগুলোর সঙ্গে ফেডারেল চুক্তি পর্যালোচনা করার হুমকি দেন।
সূত্র : ব্লুমবার্গ

স্টার অব দ্য উইক : ফারহান আহমেদ জোভান

নাটকের পরীক্ষিত অভিনেতা তিনি। অথচ গত কয়েক দিনে তাঁর অভিনয় নিয়ে হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। ঈদের নাটক ‘আশিকি’তে সংগীতশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছেন ট্রলের শিকার। বিভিন্ন পেজ-গ্রুপে তাঁকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিপরীতে নাটকটি মুক্তির পর উঠে এসেছে ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে। দুই দিনে এর ভিউ ছাড়িয়েছে ৮৮ লাখ, যেন দাগ থেকেই দারুণ কিছু পেলেন জোভান।

‘তাণ্ডব’ প্রদর্শনীতে বাধা চুপ শাকিব

এবার ঈদে সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’। মুক্তির পর থেকে বক্স অফিসে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে ছবিটি। এরই মধ্যে জানা গেল, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’। বিষয়টি নিয়ে ছবির নির্মাতা রায়হান রাফী, প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, এমনকি শাকিব খানও কোনো মন্তব্য করেননি।
এ নিয়ে নির্মাতা আশফাক নিপুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার মধ্যরাতে ফেসবুকে তিনি একটি পোস্টও করেন। ‘তাণ্ডব’-এ শাকিবের সঙ্গে প্রথমবার জুটি হয়েছেন সাবিলা নূর।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েল

যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েল বুধবার (১১ জুন) লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার হোটেলে সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১১ জুন) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশে আর দিনের ভোট রাতে হবে না : অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো দিন দিনের ভোট রাতে হবে না। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি আপনাদের গোপন বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার। সেখানে গিয়ে আপনার যাকে ইচ্ছা, তাকে ভোট দিতে পারবেন।’

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ব্যাংকার্স ফোরাম অব শৈলকুপার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেনদের মতো কুলাঙ্গাররা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে ভোটের অধিকার হরণ নিশ্চিত করেছিলেন। বিচারাঙ্গনে আর কোনো মাফিয়া থাকবে না, আর কোনো চক্রের সিন্ডিকেট থাকবে না।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি। এ লড়াইয়ে অনেকটা সফলও হয়েছি।
আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করে গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন যে উন্নয়নের কাজ চলছে, তা আপনাদের করের টাকায়। এ উন্নয়ন কাজে যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়িত হন, তবে তাদের তথ্য দেবেন। চলমান উন্নয়ন কাজে কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
দুর্নীতি করলেই তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সপ্তাহব্যাপী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং বোর্ড অব ট্রেডের প্রেসিডেন্ট জনাথন রেনল্ডস।

আজ বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আর আগে লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে অবস্থিত রয়েল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এরও আগে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েলের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিকেলে চাথাম হাউসের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার সম্মানে সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়েছে।

চার দিনের সফরে অধ্যাপক ইউনূস মঙ্গলবার লন্ডনে পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরো শক্তিশালী করা।

মিতুলের দুঃখ প্রকাশ

গত পরশু সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলের হারের দিন ছন্দে ছিলেন না গোলরক্ষক মিতুল মারমা। খেলার তিন দিন আগে নিজের বড় ভাইকে হারানোর শোক নিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামে নেমেছিলেন ২১ বছরের এই গোলরক্ষক। হজম করা দুটি গোলেরই দায় অনেকটা তাঁর, যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মিতুল।