বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

ভারতে বিমান বিধ্বস্ত : নিহত অন্তত ৩০, অনেকেই আটকা

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহমেদাবাদ থেকে বৃহস্পতিবার উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমানে ২৪২ জন আরোহী ছিল। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটির গন্তব্য ছিল ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের দক্ষিণে অবস্থিত গ্যাটউইক বিমানবন্দর। পুলিশ জানিয়েছে, বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, যে ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি চিকিৎসকদের হোস্টেল। তারা ইতিমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা পরিষ্কার করেছে।
বাকি অংশও দ্রুত পরিষ্কার করা হবে।

ভারতের সিএনএন নিউজ-১৮ টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, বিমানটি রাজ্য পরিচালিত বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ডাইনিং এরিয়ার ওপর বিধ্বস্ত হয়, যেখানে বেশ কয়েকজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। চ্যানেলটি একটি ভিডিও দেখিয়েছে, যেখানে বিমানটির একটি অংশকে ভবনের ওপর আটকে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরো অনেকে ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছে।
একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১টি শিশু ও দুটি নবজাতক ছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য মতে, যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ ও একজন কানাডীয়।

বিমান ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, যা এখন পর্যন্ত অন্যতম আধুনিক যাত্রীবাহী বিমান। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার পর এটি ড্রিমলাইনারের প্রথম দুর্ঘটনা।

এয়ার ইন্ডিয়া এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, ‘বর্তমানে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি এবং যথাসময়ে আপডেট জানানো হবে।
আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।’

শত শত গ্রেপ্তারের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্বস্তিকর শান্ত পরিবেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে বুধবার রাত থেকে এক অস্বস্তিকর শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে আরো বিক্ষোভের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর।

লস অ্যাঞ্জেলেসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩০ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ১৫৭ জনকে হামলা ও বাধা দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের হত্যাচেষ্টার অভিযুক্ত একজনও রয়েছেন। দুটি পৃথক ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের দিকে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপের জন্য ফেডারেল প্রসিকিউটররা এখন পর্যন্ত দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন।
এ ছাড়া অস্থিরতা দমনে মোট চার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সেনা ও ৭০০ মেরিন মোতায়েন করা হয়েছে।

৩০ জন আঞ্চলিক মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস। চলমান বিক্ষোভের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানকে দায়ী করেছেন তিনি। তার মতে, এই অভিযান ‘ভয়’ ও ‘আতঙ্ক’ সৃষ্টি করে বাসিন্দাদের ‘উত্তেজিত’ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও সব কিছু শান্তিপূর্ণ ছিল। শুক্রবার অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হতে শুরু করে।’

মেয়র কারেন বাস উল্লেখ করেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ‘স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলে ফেডারেল সরকার কতদূর যেতে পারে, সেটা দৃশ্যমান করা হচ্ছে’। এর আগেও তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, অভিবাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার থেকে বুধবার রাতভর তারা ‘গণগ্রেপ্তার’ করেছে। একাধিক বিবৃতিতে শহরের পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে বিক্ষোভ বন্ধ না করার জন্য ২০৩ জন, কারফিউ লঙ্ঘনের জন্য ১৭ জন, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার জন্য তিনজন ও পুলিশ সদস্যদের ওপর মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের জন্য একজন রয়েছেন। সংঘর্ষে দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে—এমন দাবি করে মঙ্গলবার শহরের কেন্দ্রস্থলের তুলনামূলক ছোট একটি এলাকায় রাতারাতি কারফিউ ঘোষণা করেন মেয়র কারেন বাস। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউ কার্যকর হওয়ার পর শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ, রাবার বুলেট ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মঙ্গলবারের কারফিউ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কারেন বাস বলেন, তিনি ‘ভাঙচুর বন্ধ করতে, লুটপাট বন্ধ করতে’ চান। শহরটি ‘বিপর্যয়ের এক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রায় এক বর্গমাইল এলাকা এই কারফিউর আদেশে প্রভাবিত হয়েছে। পুলিশপ্রধান জিম ম্যাকডোনেল বলেন, ‘বিক্ষোভ ও সহিংসতার কিছু চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, এটি শহরব্যাপী একটি সংকট, আসলে তা নয়।’

হোয়াইট হাউসে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, কারফিউ ‘কিছুটা সাহায্য করেছে’।

অন্যদিকে বিক্ষোভ থামানোর পাশাপাশি অব্যাহত রাখা হয়েছে অভিবাসন অভিযান। লস অ্যাঞ্জেলেসে মোতায়েন করা ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, তাদের কেবল বিক্ষোভকারীদের আটকের ক্ষমতা রয়েছে।

মোতায়ন করা বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী মেজর জেনারেল স্কট শেরম্যান বুধবার বলেন, ‘ফেডারেল কর্মীদের সুরক্ষার জন্যই তাদেরকে কঠোরভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে কর্মীরা তাদের কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে এবং তাদের ফেডারেল মিশন ঠিকভাবে শেষ করার জন্য সুরক্ষা পায়।’

শেরম্যান মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অভিবাসন অভিযানে এজেন্টদের সঙ্গে থাকার জন্য প্রায় ৫০০ ন্যাশনাল গার্ড সেনাকে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সেনা ইতিমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেককে সাময়িকভাবে আটক করেছে।

তিনি বলেন, পুলিশ যতক্ষণ না তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই সেনাদের আটক রাখার অনুমতি রয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা মোতায়েনের পর স্টেট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ আরো তীব্র হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এখন শহরটিকে ‘মুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের ওপর ‘আক্রমণ’ করার অভিযোগ তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।

এ সপ্তাহের শুরুতে সেনা পাঠানোর সময় নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বিদেশি শত্রু দিয়ে শহরটি দখল করা’ থেকে রোধ করার জন্যই এই পদক্ষেপ। গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্টের প্রতি পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ‘তিনি আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির পথই বেছে নিয়েছেন; তিনি আরো শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন।’

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর, যাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে, তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এরপর অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ ছড়াবে।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করে সিনেটের শুনানিতে বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা পাঠানো ‘আইনি ও সাংবিধানিক’।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশ কয়েকটি শহরেও মঙ্গলবার ‘বিশৃঙ্খল’ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জর্জিয়ার আটলান্টায় বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ। সেখানে শত শত মানুষের একটি বিক্ষোভ থেকে পুলিশের ওপর আতশবাজি ছোঁড়া হয়েছিল।

এ ছাড়া নিউইয়র্কের পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে, লোয়ার ম্যানহাটনে মিছিল করার সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করলে কয়েক ডজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন সমাবেশের পরিকল্পনা করায় সান আন্তোনিওতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা পাঠিয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট।

ভারতে বিমান বিধ্বস্ত : ‘জরুরি সংকেত’ পাঠিয়েছিলেন পাইলট

গুজরাটের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছু মুহূর্ত পরই বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী ফ্লাইট এআই১৭১। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলটরা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত জরুরি সংকেত বা বিপদ সংকেত ‘মেডে’ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এসিটি) থেকে সেই সংকেতের কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)।

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, বিমানবন্দরটি বর্তমানে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে, আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের রানওয়ে ২৩ থেকে উড্ডয়ন করে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি। বিমানে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন — এর মধ্যে ২ জন পাইলট, ১০ জন কেবিন ক্রু এবং ২৩০ জন যাত্রী। এ ছাড়া যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ডিজিসিএ জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই পাইলটরা জীবন ঝুঁকির সংকেত ‘মেডে’ পাঠান, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি সংকেত।
তবে সেই সংকেতে এটিসি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী

একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হচ্ছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থিত বলে জানা গেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্লাইট এআই১৭১, যা আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক যাচ্ছিল, আজ ১২ জুন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। আমরা বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছি এবং যথাসম্ভব দ্রুত পরবর্তী আপডেট দেবো।’

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির শঙ্কা প্রবল। দমকল বাহিনী ও জরুরি পরিষেবা কর্মীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার ও বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার অপেক্ষায় শান্তও

আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাড়তে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শান্ত। এ সময় তিনি সফর ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন, যার মধ্যে ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে গড়ে ওঠা প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসি ইভেন্ট এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা একাধিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই উপহার দিয়েছে।
দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে বাড়তি আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চোখে পড়ার মতো, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘হোক না—ভালোই হবে যদি হয়,’ বলে হেসে ওঠেন তিনি। তার কথায় স্পষ্ট, মাঠের লড়াই যত জমে উঠবে, ততই বাড়বে দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মনোযোগ।

এক মাসব্যাপী এই সফরে বাংলাদেশ দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে।
দু’দলের বর্তমান ফর্ম ও অতীত ইতিহাস বিবেচনায় এই সিরিজ হতে যাচ্ছে উত্তেজনায় ঠাসা। আবার টেস্ট দুটি হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।

ভারত কখনো বাংলাদেশের উন্নয়ন সহ্য করে না : এটিএম আজহার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, যারা ভারতের তোষামোদি করবে তাদের দ্বারা দেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারত কখনো বাংলাদেশের উন্নয়নকে সহ্য করে না।

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদ পুনর্মিলনী ও কারামুক্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত শুকরানা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আজ এ কথা বলেন।

এটিএম আজহার বলেন, দেশের জন্য, ইসলামের জন্য, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার কারণে বারবার আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন নেমে এসেছে।
কিন্তু আল্লাহর সহায়তা, জনগণের ভালোবাসা ও দোয়া আমাদের দৃঢ় রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বানিয়ে তাকে বিনাদোষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সকলের ভালোবাসায় মুক্তি পেয়েছি। মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার এতদিন জনগণকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। দ্রুত সে অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে শিষ্টাচার বজায় রাখা ও গঠনমূলক সমালোচনার রাজনীতি করতে হবে। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, আমি আপনাদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
আমার কাছে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সকল ধর্ম-বর্ণ ও দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমার কাছে সমান। মহান আল্লাহ আমাকে নতুন করে জীবন দিয়েছেন। আমি সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের খেদমত করে যেতে চাই।

তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির এস. এম. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল হালিম, রংপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, এটিএম আযম খান, মজলিশে শূরা সদস্য, নীলফামারী জেলা জামায়াত আমির মাওলানা আব্দুর সাত্তার, তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ যুব বিভাগ, ছাত্রশিবির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।

ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ কেটে ফেলা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ ক্রমান্বয়ে কেটে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ইন্সপেকশনে দিয়ে দিয়েছি। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনিগাছের চারাও পাওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের মাধখলা এলাকায় তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামার পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, এই জায়গাটা (তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামার) যেন কোনোভাবেই পতিত অবস্থায় না থাকে, এগুলো দেখা দরকার। তাদের রিসার্চ আছে। অনেক জায়গায় তারা (কর্মকর্তারা) খুব ভালো করছে। তাদের রিসার্চ অবশ্যই ভালো।
তুলা উৎপাদন ও বীজ দুটোতেই ভালো করতে হবে।

তুলা চাষকে কৃষকের জন্য লাভজনক করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার এটাকে (তুলা) কৃষি পণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কৃষকরা ওইটাই চাইবে যেখানে তার প্রফিট (লাভ) হয়। তুলাকে যদি আপনি (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) কৃষকের জন্য লাভজনক করতে পারেন, তাহলে সে চাষ করবে।
তা নাহলে (চাষ) করবে না।

এ সময় অন্যান্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান, হাইওয়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. যাবের সাদেক, গাজীপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে উপদেষ্টা সালনা হাইওয়ে থানা উপস্থিতি পরিদর্শন করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যায় শীর্ষ ১০ ক্লাব

বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অন্যতম বড় সূচক। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্লেষণভিত্তিক সংস্থা ‘ফুটবল অবজাভেটরি’ প্রকাশ করেছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ফলোয়ারসম্পন্ন ৩০টি ফুটবল ক্লাবের তালিকা।

এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে স্পেনের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। ফলোয়ারের দিক থেকে তারা বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তাই এই দুই ক্লাবের ফ্যানবেইস গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রোনালদো ও মেসির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উপস্থিতি ফুটবলের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করেছে। তারা যেসব ক্লাবে খেলেছেন, সেসব ক্লাবের অনুসারীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে তাদের উপস্থিতির কারণে।

তালিকায় ইউরোপের অন্য বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচে জায়গা পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটি।

নিচে ১০টি দলের তালিকা দেওয়া হলো :
ক্রমিক নম্বর ক্লাব মোট অনুসারী সর্বাধিক অনুসারীর প্ল্যাটফর্ম
১. রিয়াল মাদ্রিদ ৪৭৩.৩ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম (১৭৫.৮ মিলিয়ন)
২. বার্সেলোনা ৪২৭.৪ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম (১৪১.৬ মিলিয়ন)
৩. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২৩৩.৬ মিলিয়ন ফেসবুক (৮৫.১ মিলিয়ন)
৪. পিএসজি ১৯৯.৪ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম (৬৪.৪ মিলিয়ন)
৫. ম্যানচেস্টার সিটি ১৭৯.৫ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম (৫৬.১ মিলিয়ন)
৬. জুভেন্টাস ১৭৪.৯ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম (৬০ মিলিয়ন)
৭. লিভারপুল ১৬৬.৭ মিলিয়ন ফেসবুক (৫১.৭ মিলিয়ন)
৮. চেলসি ১৫২.৯ মিলিয়ন ফেসবুক (৫৬.৫ মিলিয়ন)
৯. বায়ার্ন মিউনিখ ১৪৯.১ মিলিয়ন ফেসবুক (৬২.৭ মিলিয়ন)
১০. আর্সেনাল ১১৪.১ মিলিয়ন ফেসবুক (৪৫.৮ মিলিয়ন)

ভারতে উড্ডয়নের পরপরই ২৪২ আরোহীসহ বিমান বিধ্বস্ত

গুজরাটের আহমেদাবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেলে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন বলে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে। গুজরাট স্টেট পুলিশ কন্ট্রোল রুম সূত্রে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে মেঘানিনগর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এয়ার ইন্ডিয়া এক প্রাথমিক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফ্লাইট এআই১৭১ আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক যাচ্ছিল। বিমানটি আজ ১২ জুন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
আমরা বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতোমধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার স্থান থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা কিছু লোককে হাসপাতালে নিতে দেখেছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন বা প্রাণহানি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উড্ডয়নের সময়। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাতটি দমকল ইঞ্জিন এবং এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশও এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। জনসাধারণকে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

সূত্র : এনডিটিভি, ই টিভি ভারত

যেভাবে টিকে গেল নেতানিয়াহুর জোট সরকার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট সরকার বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট ভাঙার বিরোধীদলীয় একটি প্রস্তাব থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই প্রস্তাব পাস হলে আগাম নির্বাচনের পথ খুলে যেত।

জোট সরকারে থাকা ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল চায়, অতি-গোঁড়া বা কট্টরপন্থী ধর্মীয় ইহুদি সেমিনারি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। তবে নেসেটের অনেক সদস্য এই ছাড় বাতিলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
ইসরায়েলে বহুদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অতি-গোঁড়া ইহুদি শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি।

কনেসেটের (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) ১২০ জন সদস্যের মধ্যে ৬১ জন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, আর ৫৩ জন ভোট দেন পক্ষে। বিরোধীরা এই বিল উত্থাপন করেছিল একটি উদ্দেশ্যে—নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষুব্ধ আল্ট্রা-অর্থোডক্স (কট্টরপন্থী ধর্মীয়) দলগুলোর সমর্থনে সরকার ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন নিশ্চিত করা।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকারকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী সরকারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এতে শাস এবং ইউনাইটেড টোরা জুডাইয়াম নামের দুটি অতি গোঁড়া ইহুদি দল রয়েছে। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিষয় নিয়ে এই দল দুটি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব সমর্থনের হুমকি দিয়েছিল।

ইসরায়েলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও, স্বাধীনতার সময়কালে গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যারা পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে, বিশেষ করে ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নে নিযুক্ত, তাদের জন্য এক ধরনের অব্যাহতি কার্যকর রয়েছে। তবে এই ছাড় থাকা উচিত কি না, তা বহুদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়।
গাজা যুদ্ধ চলাকালে (যা প্রায় ২০ মাস ধরে চলছে) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত জনবল প্রয়োজন হওয়ায় এই বিতর্ক আরো তীব্রতর হয়েছে।

নেতানিয়াহু তার লিকুদ পার্টির ভেতর থেকেও চাপের মুখে রয়েছেন আল্ট্রা-অর্থোডক্স যুবকদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা ও যারা দায়িত্ব এড়িয়ে যায় তাদের জন্য শাস্তির বিধান করার জন্য। কিন্তু শাসের মতো দল এই ধরনের যেকোনো আইনকে তাদের রেড লাইন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং তারা স্থায়ী অব্যাহতির আইনি নিশ্চয়তা দাবি করছে।

বৃহস্পতিবারের ভোটের আগেই ইসরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছিল, নেতানিয়াহুর জোটের কর্মকর্তারা আল্ট্রা-অর্থোডক্স নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন সমঝোতা খুঁজে পেতে। এই আলোচনার জন্য সময় বের করতে নেতানিয়াহুর দল কনেসেটের এজেন্ডা নানা বিল দিয়ে পূর্ণ করে দেয়, যাতে ভাঙন বিলের ভোটে বিলম্ব হয়।

চরম-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বুধবার পার্লামেন্টে বলেন, ‘যুদ্ধ চলাকালীন সরকার পতন ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইতিহাস ক্ষমা করবে না যদি কেউ রাষ্ট্রকে এই সময়ে নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেয়। আল্ট্রা-অর্থোডক্সদের সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণ জাতীয় ও নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন।’

নেতানিয়াহুর সরকার গঠিত হয়েছে লিকুদ, চরম-ডানপন্থী দল ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর জোটে। এই দলগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার মানেই সরকারের পতন। এখন আপাতত সেই পতন ঠেকানো গেলেও, ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে বিরোধ আরো বাড়লে ভবিষ্যতে নেতানিয়াহুর সরকার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যদিও বিরোধী জোট মূলত মধ্যপন্থী ও বামঘেঁষা দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত, তথাপি সরকারকে সমর্থন দেওয়া ধর্মীয় দলগুলো এর আগে হুমকি দিয়েছিল তারা এই প্রস্তাব সমর্থন করতে পারে। তাদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় ইহুদি অতি-গোঁড়া যুবকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ অতি-গোঁড়া আইনপ্রণেতা প্রস্তাবটি সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার ফলে বিরোধীরা ছয় মাসের মধ্যে আরেকটি অনুরূপ বিল আনতে পারবে না।

বুধবার বিরোধী নেতারা বলেছিলেন, পার্লামেন্টে বিল তোলার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে এবং তা সব বিরোধী দলের জন্য বাধ্যতামূলক। তারা আরো জানান, সরকার পতনের লক্ষ্যে সব আইন প্রণয়নের কাজ আপাতত বন্ধ রাখবে বিরোধী দলগুলো।

সূত্র : আল আরাবিয়া

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিয়ে ‘চিন্তা করাও বোকামি’: শান্ত

লর্ডসের ঐতিহাসিক মঞ্চে যখন অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চলছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) জমজমাট ফাইনাল, তখন প্রশ্ন উঠছে—এই আসরে বাংলাদেশ কবে খেলবে এমন ফাইনাল? টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য স্বপ্নের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাস্তবতাকে। তার মতে, এ মুহূর্তে ফাইনাল নিয়ে চিন্তা করাটা হবে ‘বোকামি’।

শ্রীলঙ্কা সিরিজ সামনে রেখে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনেক বড় স্বপ্ন। এই মুহূর্তে সেটা দেখা বোকামি হবে।
ছোট ছোট ভাবে যদি আমরা এগুতে পারি তাহলে খুব ভালো।’

গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে (২০২৩-২৫) সাত নম্বরে থেকে শেষ করে বাংলাদেশ, যেখানে ১২ ম্যাচে ৪ জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল টাইগাররা। এই চার জয়ের মধ্যে তিনটিই এসেছে আবার বিদেশের মাটিতে। এর আগের চক্রে জয় ছিল মাত্র একটি।
এ থেকেই শান্ত খুঁজে পাচ্ছেন উন্নতির ইঙ্গিত।

শান্ত সেই উন্নতির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চান আপাতত, ‘আপনি যদি দেখেন গত চক্রের আগের চক্রে আমরা কেবল এক ম্যাচ জিতেছিলাম। গত চক্রে আমরা চারটা ম্যাচ জিতেছি। আমাদের একটু উন্নতি হয়েছে।
লক্ষ্য থাকবে কীভাবে এই চক্রে আরো ২-৩টা বেশি ম্যাচ জিততে পারি। এভাবে ছোট ছোট চিন্তা করে এগুলে একটা সময় গিয়ে হয়ত বাংলাদেশও ফাইনাল খেলবে। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য গত বছরের থেকে কীভাবে ভালো ফল করতে পারি।’

আগামী ১৭ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্ট দিয়ে নতুন চক্র শুরু করবে বাংলাদেশ। এ চক্রেও ১২টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।
এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি, ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি ও এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে আরো দুটি টেস্ট। তবে ২০২৫ সালে মাত্র দুটি টেস্ট রয়েছে বাংলাদেশের, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবারের সিরিজই মূল আকর্ষণ।

শান্ত জানালেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এবার পয়েন্ট তালিকায় চার কিংবা পাঁচ নম্বরে থাকা। সেটাই হবে বাস্তবিক উন্নতির প্রমাণ।’